বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬

ডিএমপির অভিযানে রাজধানীতে মাদকসহ গ্রেফতার ৩

পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযানে ৩১ হাজার পিস নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ওষুধ টাপেন্টাডল ও আরেক অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ।

আজ বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে একথা জানান লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. জসীম উদ্দিন।

গ্রেফতাররা হলেন সুমন চন্দ্র দত্ত (৪৫), শাহ পরান (২১) ও নাসিবুর রহমান ওরফে নাছিব (৪৬)।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাতে বাবুবাজার চেকপোস্টে একটি গাড়ি তল্লাশি করে দুটি বক্সের ভেতরে দেশে আমদানি নিষিদ্ধ, ব্যথানাশক ও হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৩১ হাজার পিস টাপেন্টাডল ওষুধ পাওয়া গেছে। এসময় একজন যাত্রী ও চালককে আটক করা হয়েছে। এসব ওষুধ ভারত থেকে বিভিন্ন অবৈধ পথে দেশে আসে বলে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।

এদিকে, সূত্রাপুর থানা এলাকায় আরেক চেকপোস্টে একজন পথচারীর ব্যাগ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। নাসিবুর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুলাইয়ে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত টাপেন্টাডল ওষুধকে মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। মাদকসেবীরা ওই জাতীয় ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করায় একে ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলে যুক্ত করা হয়।

মোস্তাফিজের পেসে কাঁপছে আফগানরা

বোলিংয়ে এসেই সফলতা পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বোলিংয়ে কাঁপছে আফগানিস্তান। নিজের প্রথম ওভারে রহমতকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় ওভারে আরও দুটি উইকেট নিলেন মোস্তাফিজ। শিকার করেন একে একে সেদিকউল্লাহ আতাল ও আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া আফগানিস্তানের শুরুটা ভাল হয়নি। তাসকিন আহমেদ ফেরান রহমানউল্লাহ গুরবাজকে।

১৫ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৫৭ রান তুলেছে আফগানিস্তান। হাসমতুল্লাহ শহিদি ২০ বলে ১২ রান ও গুলবদিন নাইব ২২ বলে ১৪ রানে অপারিজত রয়েছে।

উল্লেখ্য, দুদলের ১৬বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য এগিয়ে বাংলাদেশ। তাদের ১০ জয়ের বিপরীতে আফগানিস্তান জিতেছে ৬ ম্যাচে। যেখানে ঘরের মাঠে তিন সিরিজ খেলে আফগানদের হারিয়েছে দুটিতেই। তবে ২০২৩ সালে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছিলো টাইগারদের। এর আগে এই মাঠে ৬ ম্যাচ খেলে জয় নেই একটিতেও। এমনকি টি-২০ ম্যাচ খেলেও জয়ের স্বাদ পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

সংস্কারে তহবিলের অভাব হবে না, প্রধান উপদেষ্টাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় বহিঃসম্পর্ক পরিষদের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি।

বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে তেজগাঁও কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে আন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংস্কার উদ্যোগ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রস্তুত বলে জানান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

পাম্পালোনি বলেন, সংস্কারের জন্য তহবিলের কোনো অভাব হবে না এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয়া হবে। এসময় ড. ইউনূস জানান, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে তার সরকার বদ্ধপরিকর।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ভেলকিই দেখলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজা করে লিখছিলেন, ‘বয় অর গার্ল’? শেষ পর্যন্ত গার্ল হলো না। বয়-ই করলেন বাজিমাত। নির্বাচনে ২৭৭ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প এ যাত্রায় যাকে হারিয়েছেন, সেই ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের অবশ্য এ লড়াইয়ে নামারই কথা ছিল না। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনই প্রার্থী হবার সবকিছু চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠ ছেড়ে দিয়ে তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে সমর্থন জানান প্রার্থী হিসেবে। বলা যায়, মাত্র ১০০ দিন আগে ট্রাম্পের বিপক্ষে লড়াইয়ের দৌঁড়ে নেমেছিলেন কমালা। শেষ পর্যন্ত রেসে পিছিয়ে পড়লেন। আর আবারও ইতিহাস গড়ে হোয়াইট হাউজে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে অবশ্য ট্রাম্প আগেভাগেই জয়ের বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন। উইসকনসিন রাজ্যের ফল নিজের বাক্সে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান। বলেন, ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা। আমি প্রতি নাগরিকের জন্য লড়ব। আপনার এবং আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাব। আমার প্রতিটা দিন হবে আপনাদের জন্য। আমার শরীরে শেষ নিশ্বাস থাকা পর্যন্ত মার্কিন শিশু ও নাগরিকদের জন্য কাজ করব, যেটা তারা প্রত্যাশা করে।

২০১৭ সালে নির্বাচিত হবার পর বিরতি দিয়ে ২০২৪-এ আবারও প্রেসিডেন্ট হলেন ট্রাম্প। তার আগে আর একজনের এমন রেকর্ড রয়েছে। ১৮৮৪ ও ১৮৯২ সালে তার মতো বিরতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রোভার ক্লেভল্যান্ড।

নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা: কোন পথে এগুচ্ছে বিএনপি

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৭ নভেম্বর হচ্ছে এই সরকারের তিন মাস। কিন্তু এখনো ‘কচ্ছপ গতিতে’ চলছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার অথবা নিষ্পত্তির কার্যক্রম। এতে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।

আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেশ কয়েকটি মামলার নিষ্পতি হলেও এখনো প্রায় দেড় লাখ মামলা রয়েছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা এসব মামলাকে মিথ্যা ও গায়েবি বলে দাবি করে আসছে বিএনপি। পটপরিবর্তন হলেও এখনো এসব রাজনৈতিক মামলায় নিয়মিত আদালতের এক বারান্দা থেকে আরেক বারান্দায় ছুটতে হচ্ছে তাদের। আগের মতো গ্রেফতার আতঙ্ক না থাকলেও মামলার ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। বিশেষ করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার অথবা নিষ্পত্তি চান নেতাকর্মীরা। অন্যথায় তারা এ নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবেন। বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

এদিকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর দুই স্তরের কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে বলা হয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এ দুই কমিটি কাজ করবে। রাজনৈতিক হয়রানি মামলা প্রত্যাহারের জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও নেতারা বলছেন, মামলা প্রত্যাহারের কার্যকরী তেমন কোনো উদ্যোগ দেখছেন না তারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা দেখছি কী হয়। তারপর আমরা আমাদের ব্যবস্থা নেব। বাংলাদেশের মানুষ এত নির্যাতনের পরেও যাদের (বিএনপি নেতাকর্মী) সবচেয়ে বেশি অবদান তাদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনার বিষয় হতে পারে, এটা তো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যারা শেখ হাসিনার পতনের জন্য ১৫ বছর লড়ে সবকিছু ত্যাগ করে আজকের এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, তাদের মামলা এখনো যায়নি (নিষ্পতি) কেন? এটা স্বাভাবিকভাবে সবারই প্রশ্ন। সুতরাং এ বিষয়ে ব্যবস্থা যদি শিগগিরই করা না হয়, তাহলে যারা শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছে তারা তো আর বসে থাকবে না।’

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অসংখ্য মামলা দায়ের করেছিল। প্রত্যেকটা মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমরা পত্রিকায় দেখেছি সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না। আমরা আইনগতভাবে প্রত্যেকটা পদক্ষেপই নিচ্ছি। তারেক রহমানের নির্দেশনা হচ্ছে তিনি দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান, সিআরপিসির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনিভাবেই তিনি তার মামলাগুলো মোকাবিলা করবেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি তার মামলার ফয়সালা চান। তবে যদি রাষ্ট্র কখনো মনে করেন যে, তারেক রহমানের মামলাগুলো উঠানো উচিত, সে ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চান তার রাজনৈতিক কর্মীদের সর্বশেষ মামলাটাও যেন তার আগে প্রত্যাহার হয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে ওনার বক্তব্য-কোনোক্রমেই ওনার মামলা নিয়ে এই অবস্থায় কোনো ধরনের প্রত্যাহারের আলোচনা হোক-সেটি তিনি চান না।

তারেক রহমান কবে নাগাদ দেশে আসতে পারেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কায়সার কামাল বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) বাংলাদেশের নাগরিক। এক-এগারোর সময় তৎকালীন সরকার, আর্মি কেয়ারটেকার সরকার ওনাকে কাস্টোডিয়াল টর্চার করেন। যে টর্চারের কারণে তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওনার দেশে আসাটা একান্তই ওনার পারিপার্শ্বিক সবকিছু বিবেচনা করে, চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি মনে করি মামলার বিষয়গুলো ওনার আসা না আসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত নেই। তবে যেহেতু উনি আসবেন, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে যে, উনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে আসুক। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট যদি চিন্তা করেন তাহলে তারেক রহমানের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের মাঠে দরকার। দেশে আসার ব্যাপারে তিনি যথাসময়ে চিন্তাভাবনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

বিএনপি নেতারা জানান, বিএনপিসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সবার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার না হলে কখনোই একটা নিরপেক্ষ অবস্থা তৈরি হবে না। অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এসব রাজনৈতিক মামলা। স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

নেতারা আরও জানান, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্র্বর্তী সরকারের কার্যক্রম অনেকটা ধীরগতির। এতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বিগত ১৭ বছরে বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দল ও মতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিতেই অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের দেড় মাস পর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব কমিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মামলার তথ্য সংগ্রহ করবে। এর পর আইন মন্ত্রণালয় সেসব মামলা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আন্দোলনের ফসল হিসাবে সবাই স্বাধীনতা পেলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা এর ব্যতিক্রম। মামলার ফাঁদে আটকে পড়ে আছেন তারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল বলেন, তার বিরুদ্ধে এখনো ১৬০টি মামলা রয়েছে, এর মধ্যে ৫টি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সবগুলো মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, যার কোনো ভিত্তি নেই। এখনো আদালতের বারান্দায় প্রায় প্রতিদিনই ঘুরতে হচ্ছে, যা দুঃখজনক। আইনজীবী ও বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের পর গত ৫ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩ মামলায় ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৪৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুধু গত বছরের ২৮ অক্টোবর থেকে তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে ১ হাজার ৬৪৫ মামলায় প্রায় ৭০ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে পাইকারি গ্রেফতারের পাশাপাশি গণহারে মামলার সাজা দেওয়া শুরু হয়। ওই সময় প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন ঢাকার বিভিন্ন আদালত। বিএনপি ও আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যমতে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে এখনো অন্তত ৯০টি মামলা চলমান রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নামে প্রায় ৫০টি, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০টি, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ৫০টি মামলা রয়েছে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ৩৫৭টি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ১৮০টির বেশি, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে ৪ শতাধিক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ৬০টি মামলা রয়েছে। প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর ৩১৫টি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর ২২৬টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে রয়েছে ২১২টি মামলা। একইচিত্র বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ও জেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও।

খালেদা জিয়ার মামলা : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলা তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০০৭-২০০৮ সালের জরুরি অবস্থায় ৪টি মামলা হলেও বাকিগুলো পরবর্তী সরকারের আমলে। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ২০১৫ সালে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে সাজা হয়েছিল খালেদা জিয়ার, যা ৬ আগস্ট দণ্ড মওকুফ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর এখন পর্যন্ত ২১টি মামলা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালাস পান। এখনো ১৬ মামলা রয়েছে। এর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলমান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি মামলার আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আরও রয়েছে-ঋণখেলাপির একটি মামলা, গুলশানে বোমা হামলার অভিযোগে মামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে ২ মামলা, ‘মিথ্যা’ জন্মদিন পালনের মামলা বর্তমানে পেন্ডিং রয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ খুলনা, পঞ্চগড় ও কুমিল্লায় এখনো ৭টি মামলা।

তারেক রহমানের মামলা : বিএনপি ও আইনজীবীদের দেওয়া তথ্যমতে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে ঢাকাসহ সারা দেশে ৮২টির বেশি মামলা হয়েছে। তবে মামলার পরিসংখ্যান যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে এক-এগারো সরকারের সময়ে ১৭টি। যার অধিকাংশ মামলা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত আছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে ৬৫টির বেশি মামলা হয়। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় ১২টি মামলা খালাস ও প্রত্যাহারের তথ্য পেয়েছে যুগান্তর। এছাড়া একটি মামলা বাদী তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে চারটি মামলায় সাজা দেওয়া হয়। যার মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অভিযোগে মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের অভিযোগ, এসব মামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারেক রহমানের নাম ছিল না, আওয়ামী লীগ সরকার ষড়যন্ত্র করে তার নাম দিয়েছে।

খুনিদের গ্রেফতারে ৩ দিনের আলটিমেটাম, অন্যথায় ঘেরাও

সিলেটের গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৭ শহিদের খুনিদের গ্রেফতারে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে গণ অধিকার পরিষদ। অন্যথায় থানা ঘেরাও করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়। সোমবার রাতে উপজেলার পৌর শহরের চৌমূহনীতে উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ গণসমাবেশ থেকে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। উপজেলার ৭ শহিদদের খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শহিদ ক্বারী কামরুল আহমদের বাবা রফিক উদ্দিন বলেন, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

শহিদ তাজ উদ্দিনের মামা আব্দুল মতিন এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তাজ উদ্দিনের অবুঝ দুই সন্তান তাদের পিতাকে খুঁজছে। আব্বা আব্বা করে সব সময় ডাকাডাকি করছে। কি দোষ তার যে তাকে গুলি করে হত্যা করা হল।

শহিদ মিনহাজ উদ্দিনের বড় ভাই সাইদ আলম, বলেন আমার ভাই নিহত হওয়ার পর থানায় মামলা করেছি। অথচ পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করছেনা। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। এটা রহস্যজনক। আমি আসামিদের গ্রেফতারের দাবি করছি।

শহিদ নাজমুল ইসলামের ভাই সাইফুল আলম বলেন, আমার ভাইয়ের কোনো অপরাধ ছিলনা। তার অপরাধ সে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছিল। এজন্য তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লা আল মামুন সুজন, শহিদদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, শহিদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার দাবি জানান।

জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদ চৌধুরী মাজেদ ৭২ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, এ সময়ের মধ্যে পুলিশ যদি খুনিদের গ্রেফতার না করে, তাহলে থানা ঘেরাও করা হবে।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রহমতে এলাহী লস্কর নায়িম। যুব অধিকার উপজেলা শাখার সভাপতি রেজাউল ইসলামের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন- গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন সুজন, যুব অধিকার পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি শামিম আহমদ অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইমরান হোসাইন, ছাত্র অধিকার পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদ চৌধুরী মাজেদ, ছাত্র অধিকার পরিষদ মহানগর শাখার সভাপতি এবি আল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাকের, প্রচার, প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাঈম ও রিয়াজুল ইসলাম।

‘অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করতে না পারলে টেস্ট ছাড়বেন রোহিত’

ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে কি দুটোই থাকবে নাকি একটি? এই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক কৃঞ্চমাচারি শ্রীকান্ত।

অস্ট্রেলিয়াতেও রোহিতের রানখরা না কাটলে তিনি টেস্ট ছাড়তে পারেন বলে মনে করেন শ্রীকান্ত। কোহলিও রানখরা কাটাতে না পারলে? শ্রীকান্ত মনে করেন, ক্রিকেটের কুলীন এ সংস্করণ থেকে কোহলির সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা একটু আগেভাগে হয়ে যায়। অর্থাৎ সময়টা এখনো আসেনি।

শ্রীকান্ত বলেন, রোহিত শর্মা ভালো করতে না পারলে আমার মনে হয়, সে নিজেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবে। শুধু ওয়ানডে খেলবে। টি–টোয়েন্টি তো আগেই ছেড়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, তার বয়স বাড়ছে, কমছে না।

রোহিতকে নিয়ে শ্রীকান্ত তার ইউটিউব শোতে বলেছেন, ‘১০০ ভাগ। আপনাকে আগেই ভেবে রাখতে হবে (ভারত যদি অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করতে না পারে)। রোহিত শর্মা ভালো করতে না পারলে আমার মনে হয়, সে নিজেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবে। শুধু ওয়ানডে খেলবে। টি–টোয়েন্টি তো আগেই ছেড়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, তার বয়স বাড়ছে, কমছে না।’

তবে রোহিত যে টেস্টে রানে ফেরা নিয়ে ভাবছেন, তার একটি ইঙ্গিতও ধরতে পেরেছেন ৬৪ বছর বয়সী শ্রীকান্ত। মুম্বাইয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট হারের পর রোহিত ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক হিসেবে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। এটাকেই ইঙ্গিত বলে মনে করে শ্রীকান্তের ভাষ্য, ‘রোহিত শর্মার অন্তত কলিজা আছে। গোটা সিরিজে বাজে অধিনায়কত্ব ও খারাপ খেলার ব্যাপারটি স্বীকার করে নেওয়ার জন্য তাকে টুপি খোলা অভিনন্দন। এটা অসাধারণ। কোনো খেলোয়াড়ের ছন্দে ফেরার এটা প্রথম ধাপ। ভুল স্বীকার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণও। সে সবার সামনে এটা স্বীকার করেছে এবং তার অর্থ হলো ছন্দে ফেরার পথেই আছে। আমি এটাই মনে করি।’

কোহলিকে নিয়ে শ্রীকান্ত বলেছেন, ‘আমার মতে, বিরাট কোহলি অস্ট্রেলিয়ায় (রানে ফেরা) শুরু করবে। অস্ট্রেলিয়াই তার জায়গা এবং আমার মতে, এটাই তার শক্তি। কোহলিকে নিয়ে এখন এসব (টেস্ট ছাড়া) কথা একটু আগেভাগেই হয়ে যায়। আমি এটা মানব না। বিরাট কোহলির হাতে অনেক সময় আছে।’

পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে ভারত। ২২ নভেম্বর পার্থে শুরু হবে প্রথম টেস্ট।

শাকিবের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে মুখ খুললেন পূজা

চিত্রনায়ক শাকিব খান ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে বিয়ে করেছিলেন। এখন তারা আলাদা পথে হাঁটছেন। তবে এর বাইরে পূজা চেরির সঙ্গেও প্রেমের গুঞ্জন ওঠে শাকিবের। কিছুদিন আগে ঢালি পাড়ায় শোনা যায়, পূজার সঙ্গে প্রেম করছেন শাকিব খান। এক সিনেমায় কাজ করতে গিয়েই নাকি একে অপরের প্রেমে পড়েন তারা।

যদিও সেসময় পূজা জানান, শাকিবের সঙ্গে তার কোনো প্রেম নেই। দুজন এক সিনেমায় কাজ করেছেন বলেই তাদের নিয়ে এই গুঞ্জন ছড়িয়েছে। ফের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন পূজা।

এই চিত্রনায়িকা বলেন, গুঞ্জন সব সময়ই গুঞ্জনই। কিছুদিন পর আবার দেখা যায় সে সবই মিথ্যা। সত্যতা কখনো আসলে চাপিয়ে রাখা যায় না। যতই আমরা একটা সত্যকে মিথ্যা বলার চেষ্টা করি না কেন সত্য সব সময় সত্যই থেকেই যায়। এক সময় ঠিকই সত্যিটা বেরিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, গুঞ্জনটা যদি সত্যই হতো তাহলে এতদিনে সেটা বেরিয়ে আসতো। যেহেতু বের হচ্ছে না তাহলে বুঝতে হবে সেটা গুঞ্জনই ছিল। শোবিজে কাজ করতে গেলে এ রকম গুঞ্জন বা কন্ট্রোভার্সি থাকবেই। এটা খুবই স্বাভাবিক।

অনেকেই ধারণা করেন, শাকিবের সঙ্গে ‘গলুই’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রেম হয় পূজার। সেসময় এমনো শোনা যায়, সেই প্রেমের কারণে নাকি বুবলীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে পূজার। যদিও এখন পর্যন্ত এসবের জোরালেো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কমালার ইতিহাস নাকি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা কে হতে চলেছেন, তা জানতে বাকি নেই খুব বেশি সময়। মঙ্গলবারের (৫ নভেম্বর) নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে পুরো বিশ্ব। জরিপের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিস কিংবা রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প কারও জন্যই সুনিশ্চিত জয়ের কোনো বার্তা নেই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস স্পষ্ট।

তাই এখন প্রশ্ন কমালা নাকি ট্রাম্প, কে হাসবেন শেষ হাসি? প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস রচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে; নাকি হবে পুরনো ঘটনারই পুনরাবৃত্তি? এমন সব প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। তবে জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও আলোচনা চলছে ইলেক্টোরাল ভোট নিয়ে।

এর আগে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে জনমত জরিপগুলোয় বলা হয়েছিল, নির্বাচনে ট্রাম্পকে হারিয়ে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস রচনা করবেন হিলারি ক্লিনটন। নির্বাচনে পপুলার ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে ৩০ লাখ ভোটে এগিয়েও ছিলেন হিলারি। কিন্তু ইলেক্টোরাল কলেজের নিয়মে নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প।

তাই এবারও আলোচনা চলছে, এই ইলেক্টোরাল ভোট নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি প্রদেশ মিলিয়ে ৫৩৮ জন ইলেক্টর রয়েছেন। ক্ষমতায় যেতে প্রয়োজন ২৭০ ভোট। তাই ইলেক্টোরাল কলেজের মারপ্যাঁচকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে এই নির্বাচনেও।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটার গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিকে। এর পাশাপাশি অভিবাসন এবং গণতন্ত্রের প্রতি হুমকিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন ১৪ শতাংশ মার্কিনি। আর গর্ভপাত এবং স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিয়েছেন ৭ ও ৬ শতাংশ ভোটার।

পেঁয়াজ আমদানিতে কর-শুল্কে ছাড় দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

আমদানি বাড়ার পরও পেঁয়াজের দাম চড়ছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার শুল্ক-করে আরও ছাড় দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। আমদানিতে থাকা বিদ্যমান ৫ শতাংশ শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। ৩১ অক্টোবর রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো চিঠিতে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমে আসছে। বন্যার কারণে আগাম জাতের মুড়িকাটা জাত আসতে সময় লাগবে। সে জন্য বাজার অনেকটা আমদানিনির্ভর।

এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ আমদানিতে থাকা ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে এনবিআর, যা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে, দেশে প্রতিদিনই বিভিন্ন বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে। এরপরও দাম কমেনি। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, ফলে দাম বেড়ে যায়। সেজন্য আমদানি বাড়াতে হয়।

বর্তমানে প্রতি কেজি ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে। ভারতীয় জাত বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায়।