বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

যে ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসা সহজ, যেগুলোর কঠিন

ক্যান্সার এমন একটি জটিল রোগ যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে শরীরের কোনো অংশে কোষের অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াকে ক্যান্সার বলা হয়। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল বলছেন, ক্যান্সার কতটা দ্রুত ছড়াবে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। এটি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে তা কোন স্টেজে ধরা পড়ছে তার পাশাপাশি এর লক্ষণ কতটা ধরা পড়ে এর ওপরেও নির্ভর করে।

যেসব ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশ্বব্যাপী অনেক উন্নতি হয়েছে সেগুলোতেও সেরে ওঠার হারটা বেশি থাকে।

ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা এনএইচএস, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এবং চিকিৎসকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এমন কয়েক ধরনের ক্যান্সার সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক যা অধিক প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে কিংবা তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী ।

যেসব ক্যান্সার সারানো তুলনামূলক সহজ
ড. কল্লোলের মতে, যে কোনো ক্যান্সারই শনাক্ত করতে বেশি দেরি হয়ে গেলে সেটা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। কিছু ক্যান্সার খুব বেশি দ্রুত বিস্তার হতে থাকলেও আগে শনাক্ত সম্ভব হলে চিকিৎসা সহজতর হয়, আর কিছু ক্যান্সার ধীরগতিতে ছড়ালেও শনাক্ত হতে বেশি দেরি হয়ে গেলে চিকিৎসা কঠিন হয়।

বিশ্বে দুইশর বেশি ধরনের ক্যান্সার রয়েছে যার চিকিৎসা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন ব্রেন বা ব্লাড ক্যান্সারের বেশ কিছু ধরন থাকে যেগুলো চিকিৎসায় অনেকটাই ভালোভাবে সারানো যায়।

ব্রেস্ট ক্যান্সার
বিশ্বব্যাপী যে ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেটি স্তন ক্যন্সার। এর চিকিৎসায়ও যথেষ্ট অগ্রগতিও হয়েছে।

আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী ব্রেস্ট ক্যান্সার তিন গ্রেড বা ধরনের হয়ে থাকে যার মধ্যে গ্রেড ওয়ান বা লো গ্রেড সাধারণত ধীরগতিতে বাড়ে। ক্যান্সার কোষ কী হারে, কীভাবে এবং কতটা দ্রুততার সঙ্গে বাড়ে তার ওপর এ গ্রেডগুলো নির্ভর করে। এটি ক্যান্সারের চারটি স্টেজ বা পর্যায়ের অংশ নয়।

এর লক্ষণগুলো মধ্যে স্তনে শক্ত অংশ, নিপল থেকে তরল বের হওয়া, এবং স্তনে পরিবর্তন দেখা যায়। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সের নারীদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়।

স্তনের চামড়া, গড়ন বা ভেতরের দিকে যে কোনো অস্বাভাবিক অবস্থা মনে হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ। সাধারণত এই ধরনের ক্যান্সার অন্য ধরনের চেয়ে বেশি দেখা গেলেও স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বেশ কম থাকে। তবে বেশি দেরি করে চতুর্থ পর্যায়ে চলে গেলে চিকিৎসাটাও তুলনামূলক জটিল হয় বলছিলেন ড. কল্লোল।

প্রোস্টেট ক্যান্সার
প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত ধীরে বাড়ে, বিশেষ করে বৃদ্ধ পুরুষদের ক্ষেত্রে। এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী কোনো লক্ষণ বা চিকিৎসা ছাড়াই রোগী যুগ যুগ কাটিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় এর তেমন চিকিৎসার প্রয়োজনও হয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নির্মূলও সম্ভব।

তবে অনেক সময় চিকিৎসকরা পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসা নির্ধারণ করেন কারণ চিকিৎসায় ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা যৌন সক্ষমতায় প্রভাব, এবং প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসা বেছে নেওয়া হয়।

ড. কল্লোল বলছেন, আর বাংলাদেশে এর চিকিৎসা খুব বেশি হয় না কারণ রোগীরা সাধারণত দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান যখন কি না খুব বেশি চিকিৎসার সুযোগ থাকে না। তবুও এর বৃদ্ধি ধীরগতির হওয়ায় এটি সেরকম দ্রুত ভয়ানক অবস্থা সৃষ্টি করে না।

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ কম থাকলেও প্রস্রাবের সমস্যাকে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। যেমন বেশি টয়লেট যাওয়ার প্রবণতা, মূত্র নির্গমনে চাপ এবং মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি না হওয়ার মতো অনুভূতি। এটি যেমন ধীরগতিতে বাড়ে তেমন প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা গেলে সুস্থ হওয়ার হার অনেক বেশি।

কোলন এবং রেকটাম
কোলন ক্যান্সার বৃহদন্ত্রের ক্যান্সার নামেও পরিচিত। আর রেকটাম হচ্ছে মলদ্বার। এই দুই ধরনের ক্যান্সার সমস্যার হলেও এর চিকিৎসা তুলনামূলক বেশি প্রচলিত বলে উল্লেখ করেন ড. কল্লোল।

তিনি বলছেন, কোলন ক্যান্সার অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয় পলিপ থেকে যেটা কেটে ফেললেই সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়ে যায়। কারণ পলিপটাই আস্তে আসে পাঁচ-সাত বছর, দশ বছর পার হয়ে ক্যান্সারে রূপান্তর হয়। সেক্ষেত্রে দুই তিন বছর পর পর কোলনস্কপি করানো ভালো বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া এই ক্যান্সার হয়ে গেলে বেশ কিছু লক্ষণ থাকে। যেমন মলের ধরনে পরিবর্তন, মলের সঙ্গে রক্ত, বা এমনিতে রক্ত, মলত্যাগ করার পরও অস্বস্তি, পেট ব্যথা, ওজন কমা, দুর্বলতা এমন অনেক বিষয় রয়েছে। এর কোনোটা তিন সপ্তাহ বা তার বেশি হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে বলছে এনএইচএস।

পাকস্থলীর ক্যান্সার
চিকিৎসা করে পাকস্থলীর ক্যান্সারও প্রাথমিক পর্যায়ে সারানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সাফল্য পাওয়া গেছে। যদিও এর লক্ষণ ধরতে পারাটা অনেক সময় কঠিন হয়।

এক্ষেত্রে এনএইচএস যে লক্ষণ উল্লেখ করছে এর মধ্যে রয়েছে বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটি, খাবার গেলার সমস্যা, শরীর খারাপ লাগা, হজমে সমস্যা, খাবার অল্প খেয়ে পেট ভরে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, পেটের উপরের দিকে ব্যথা বা দলার মতো বোধ হওয়া, হঠাৎ ওজন কমা এমন বিষয়। তিন সপ্তাহের বেশি লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়।

যেসব ক্যান্সার মারাত্মক হয়ে ওঠে

কিছু ক্যান্সার বেশি প্রাণঘাতি হয় কারণ এর লক্ষণগুলো সেভাবে প্রকতভাবে সামনে আসে না, যখন আসে ততক্ষণে বেশ দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, ফুসফুস অথবা অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের রোগীরা সাধারণত তাদের কাছে আসেন বেশ দেরিতে কারণ লক্ষণগুলো বুঝে উঠতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়।

অগ্নাশয়ের ক্যান্সার
অগ্নাশয় বা প্যানক্রিয়াসের অবস্থান পাকস্থলির ঠিক নিচ দিকে থাকে। এটি খাবার হজম বা ইনসুলিনের মতো হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এর লক্ষণ হিসেবে এনএইচএস উল্লেখ করছে চোখ বা ত্বক হলুদ বর্ণ ধারণ, ত্বক চুলকানি ভাব, মলমূত্রের রঙ পরিবরতন, ক্ষুধামন্দা, দুর্বল বোধ করা, কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া, জ্বর ওঠা, ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, হজমে সমস্যা, পেটের উপরের দিকে ব্যথা যেটা খাওয়ার সময় বা শুলে বেড়ে যায় ও সামনে ঝুঁকলে কম মনে হয়।

ফুসফুসের ক্যান্সার
ফুসফুসের ক্যান্সার ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়া গুরুতর ধরনের ক্যান্সার। ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী স্তন ও প্রস্টেট ক্যান্সারের পর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফুসফুসের ক্যান্সার।

এটির বিস্তার দ্রুত হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। এর মাঝেও বেশ কিছু লক্ষণ থাকে বলে উল্লেখ করছে এনএইচএস। যেমন অবিরাম কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত, ক্রমাগত শ্বাসকষ্ট, কারণ ছাড়া ক্লান্তি ও ওজন কমা, শ্বাস বা কাশির সময় ব্যথা বা ব্যথা ভাব।

ইসোফেগাস বা খাদ্যনালীর ক্যান্সার
খাদ্যনালী দিয়ে খাবার সাধারণত পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছায়।

ড. কল্লোল বলছেন, খাদ্যনালী ক্যান্সারে খুব বেশি লক্ষণ বুঝা যায় না, যেমন রোগী প্রথম লক্ষণ নিয়ে আসেন যে খাবার গিলতে কষ্ট হচ্ছে, এটা শুনলে বুঝা যায় এটি বেশ অ্যাডভানসড পর্যায়ে চলে গেছে।

এর আগে তেমন ভালো লাগছে না, অথবা খাবার খেলে গ্যাস বা অ্যাসিডিটি হওয়া মতো বোধ হচ্ছে সেগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। এজন্য এই ধরনের ক্যান্সার বেশি খারাপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এনএইচএস বলছে গিলতে সমস্যা, ওজন কমা, তিন সপ্তাহের বেশি বুক জ্বালাপোড়া, অকারণে ওজন কমা এমন লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হেলাফেলা করা যাবে না।

ওভারিয়ান ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার
নারীর প্রজননের সাথে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ডিম্বাশয়। এটিকে নীরব ঘাতক হিসেবে দেখা হয় কারণ চিকিৎসকদের মতে- এই ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গ প্রায় লক্ষ্যই করা যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা হয় না।

তবে পরিবারে এই ধরনের ক্যান্সারের প্রবণতা থেকে থাকলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এছাড়া যে লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয় তার একটি হলো- ক্ষুধামন্দা।

এর বাইরে পেট ব্যথা, যোনীপথে রক্তক্ষরণ, মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, এমন কোনও লক্ষণ দুই সপ্তাহ বা এর বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

জবিতেও পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও (জবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখা।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) এ দাবিতে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশে মেধার গুরুত্ব দিয়ে একটি প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে ২০১৮ সাল থেকে বৈষম্য তথা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। যা ২০২৪ সালে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং শত শত শিক্ষার্থীর জীবনের বিনিময়ে, অঙ্গহানির বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।

কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর রক্তের বিনিময়ে যে দ্বিতীয় বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেখানেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা এখনও বিদ্যমান, যা ২৪-এর বিপ্লবের চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী।

স্মারকলিপিতে বলা হয়- আমরা আশা করি, উপাচার্য মহোদয় এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে পোষ্য কোটা বাতিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

স্মারকলিপি দিতে যাওয়া শিক্ষার্থী রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, পোষ্য কোটা অন্যান্য ভয়ানক কোটার মধ্যে একটা। যে কোটা বাতিলের জন্য এত বড় আন্দোলন, এতগুলো প্রাণ ঝরেছে, যেখানে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা বলি, সেই কোটা কেন থাকবে? কোটা মানেই অযোগ্যদের টেনে এনে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া। আমরা এটা কখনও হতে দেব না। এই পোষ্য কোটার জন্য মেধাবীরা বঞ্চিত হয়। এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো মেধাবী বঞ্চিত হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার নির্দেশনায় দেখা যায়, পোষ্য কোটার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্রতি বিভাগে ২ জনের অধিক নয়। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে সর্বোচ্চ ২ জন পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। সেই হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিভাগে দুজন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি হতে পারবেন।

কুমিল্লায় নির্বাচনি আমেজ, মাঠ গোছাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত

কুমিল্লায় দেদার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। প্রতিদিনই রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সামাজিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, ওয়াজ মাহফিলসহ নানা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এ দুটি শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। এতে দলগুলোর অভ্যন্তরে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ দুটি দলই তাদের নির্বাচনি মাঠ প্রস্তুত করছে। এ ছাড়া মাঠের আধিপত্য, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই।

তাই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই নির্বাচনমুখী হচ্ছে প্রধান এ দুটি রাজনৈতিক দল। এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা না পেলেও বিএনপি-জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠ গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লায় ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ছাড়া পুরোদমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে সব রাজনৈতিক দল।

সচেতন মহলের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদার মনোভাবের ফলে মুক্ত গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ পাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। এতে গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। জেলায় রাজনৈতিক মাঠে তৎপরতায় শীর্ষে বিএনপি জামায়াত। দুটি দলই তাদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত করতে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা না পেলেও বিএনপি-জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন পুরোদমে মাঠে কাজ করছেন। এতে রাজনীতির মাঠে বাড়তি আমেজ সৃষ্টি হচ্ছে। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনেই বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা টার্গেট নিয়ে কাজ করছেন। এ দুটি দলই পৃথক কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলার অধিকাংশ আসনে বিএনপির সমান্তরাল (পেরালাল) প্রার্থীরা কৌশলে গ্রুপিং দ্বন্দ্বে জড়িত থাকলেও জামায়াতের কর্মকাণ্ড ভিন্ন। জামায়াতের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। সূক্ষ্ম পরিকল্পনা নিয়ে তারা সামাজিক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়ার মিশন পরিচালনা করছেন।

এদিকে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আসনভিত্তিক মাঠে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও দলীয় কঠোর বার্তার কারণে প্রকাশ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িত হচ্ছেন না। সব মিলিয়ে নির্বাচনি মিশনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে জেলার বিএনপি জামায়াত।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, বিএনপি উদার গণতান্ত্রিক দল। আমরা জনগণের ভোটাধিকার এবং স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা জনসাধারণের আস্থা অর্জনে কাজ করছি। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী দল। ঘুরেফিরে নির্বাচনের দিকেই যাবে আমাদের ট্রেন-এটাই বাস্তবতা।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সি বলেন, অনেক বছর পর মুক্ত আবহে রাজনীতি করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা অনেকটাই প্রাণবন্ত। জেলার প্রতিটি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও এখন সবাই দল গোছাতে ব্যস্ত। তাছাড়া দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে চলতে হচ্ছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহিদ বলেন, আমরা মানুষের কল্যাণের রাজনীতি করি। অনেক বছর পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা একটা দানবীয় ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছি। এখন আমরা আমূল সংস্কারে কাজ করছি। বিশেষ করে দল গোছানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করছি। নির্বাচন এলে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব।

ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী এ রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

রিটে ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬ এর ২৯ ধারা মোতাবেক ভারতীয় সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) সহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী বলেন, ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা, রিপাবলিক বাংলাসহ সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভারতীয় চ্যানেলে বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিরোধী বিভিন্ন অনুষ্ঠান অবাধ সম্প্রচারের ফলে যুব সমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন। তারা কোনো আইন মানছে না। এসব কারণে ভারতীয় সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চাওয়া হয়েছে।

বেনামে শেয়ার কিনে ব্যাংক দখল ঠেকানোর উদ্যোগ, নীতিমালা প্রণয়ন

ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তাদের বেনামে শেয়ার কিনে বা ধারণ করে ব্যাংক দখল ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামেই শেয়ার কেনা হতো বা ধারণ করা হোক না করে শেয়ারধারীকে শেয়ারের প্রকৃত মালিকের তথ্য জানাতে হবে।

শেয়ারের প্রকৃত মালিকই শেয়ারের মূল সুবিধাভোগী হিসাবে বিবেচিত হবেন। শেয়ারের ধারণকারী ও প্রকৃত মালিকদের তথ্য এখন থেকে প্রতি তিন মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব তথ্য নিয়ে একটি তথ্যভান্ডার গড়ে তুলবে। যার আলোকে শেয়ারের সুবিধাভোগীকে জরুরি প্রয়োজনে শনাক্ত করা যায়।

এ বিষয়ে রোববার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ নীতিমালা আগামী বছরের মার্চ প্রান্তিক থেকে কার্যকর হবে।

সূত্র জানায়, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপ নামে বেনামে শেয়ার কিনে নয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক দখল করে সেগুলোকে নজিরবিহীন লুটপাট করা হয়েছে। লুটপাটের কারণে এসব ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এখন গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। বেনামে শেয়ার কিনে ব্যাংক দখল বা জালজালিয়াতি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো একক ব্যক্তি, পরিবার বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। ব্যাংকের পরিচালক হতে হলে একক নামে কমপক্ষে কোনো ব্যক্তির ২ শতাংশ ধারণ করতে হবে। কোনো একক ব্যক্তির নামে কোনো ব্যাংকের ২ শতাংশের বেশি শেয়ারধারকের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। তিন মাস পরপর এসব তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এসব তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি ডাটাবেইজড গড়ে তুলবে। আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের নামে উলে্লখযোগ্য শেয়ার ধারণ করলে সে বিষয়েও তথ্য দিতে হবে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের মূল মালিকসহ সুবিধাভোগীদের নাম দিতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়, এখন থেকে যে কোনোভাবে ২ শতাংশ বা তার বেশি পরিমাণ শেয়ারধারক ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসাবে বিবেচিত হবে। ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের নামে ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের সুবিধাভোগীও এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত হবে। ঘোষিত শেয়ারধারণের কাঠামো স্বচ্ছ বা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শেয়ারহোল্ডারের উপযুক্ত তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো অসংগতি পেলে আইনগত ব্যবস্থা এবং মালিকানার কাঠামো পরিবর্তনেরও নির্দেশ দিতে পারবে।

নীতিমালায় বলা হয়, সে আলোকে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানার বিষয়ে ‘ইউবিও ডেটাবেইজ’ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে একটি প্রান্তিক চলমান অবস্থায় মালিকানা পরিবর্তন হলে তাত্ক্ষণিকভাবে সে তথ্য জানাতে হবে। কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে তার শেয়ার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিমালা প্রতিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আগামী সভায় বিস্তারিত উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনলে বা ওই শেয়ার দিয়ে ব্যাংকের পরিচালক হলে ঘটনা ধরা পড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই শেয়ার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

এতে বলা হয়, কোনো ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে অস্বচ্ছতা থাকলে ব্যাংকটির প্রকৃত অবস্থার মূল্যায়ন, মূলধনের আসল চিত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তুলে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকের আর্থিক সুস্থতা এবং ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এ ধরনের প্রবণতা বড় বাধা। এ অবস্থায় ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে নতুন নীতিমালায়।

নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারকদের বিষয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তথ্যভান্ডারের তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করা হবে। প্রতিটি ব্যাংকেও তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের বিষয়ে একটি নির্দষ্টি তথ্যভান্ডার থাকতে হবে। এ তথ্যের সঠিকতার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শেয়ার বিভাগের প্রধান এবং কোম্পানি সচিব দায়বদ্ধ থাকবেন। এ সংক্রান্ত কোনো ভুয়া তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দিলে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে শাসি্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিয়ে জটিলতায় মোশাররফ করিম

দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। নাটক, সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্ট- সব মাধ্যমেই রয়েছে তার সরব উপস্থিতি।

কিছুদিন আগেই তার অভিনীত ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ নামে তিন পর্বের একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তি পায় তার। যেখানে এ অভিনেতাকে তিনটি ভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে। এরকমই নতুন চরিত্রে নতুন গল্পে প্রতিনিয়ত হাজির হচ্ছেন এ অভিনেতা।

তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন নতুন আরও একটি ধারাবাহিক নাটকে। এটির নাম ‘শাদী মোবারক’। আহমেদ শাহাবুদ্দিনের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন শামীম জামান। পরিচালনার পাশাপাশি নাটকটিতে অভিনয়ও করছেন নির্মাতা।

ইতোমধ্যেই ঢাকার অদূরে পুবাইলে নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন মোশাররফ করিম।

তিনি বলেন, এ নাটকে সাধারণ মানুষের গল্প ফুটে উঠেছে। বলা যায় সামাজিক একটি গল্প। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, পরিবারের বড় ভাই বিয়ে না করলে ছোট ভাইদেরও বিয়ে হয় না। রীতি অনুযায়ী আগে বড়দের বিয়ে করতে হবে। এটাই কিন্তু যুগ যুগ ধরে চলছে। এ নাটকেও এমনটাই দেখা যাবে। কোনো এক কারণে বড় ভাইয়ের বিয়ে হচ্ছে না, তাই ছোট দুই ভাইও বিয়ে করতে পারছে না। এটা নিয়েই পরিবার ও গ্রামে নানা ঘটনা ও বিভ্রান্তি চলতে থাকে।

নাটকটিতে তিন ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন যথারীতি বড় ভাই শামীম জামান, মেজো ভাই মোশাররফ করিম ও ছোট ভাইয়ের চরিত্রে আ খ ম হাসান। ব্যক্তিজীবনে তিন বন্ধু দীর্ঘদিন পর আবারও একসঙ্গে এক নাটকে কাজ করছেন।

এ নাটক প্রসঙ্গে শামীম জামান বলেন, গ্রামীন সহজ সরল মানুষের গল্প এটি। কিন্তু লুকিয়ে আছে কিছু লোকায়িত সংস্কৃতি। আমার বিশ্বাস দর্শকরা ধারাবাহিকটি দেখে বিনোদিত হবেন।

এতে বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন রেবেনা করিম জুঁই, সমাপ্তি, মিম চেৌধুরী, লাবণ্য লিজা, রিজমিন সেতু, জয়রাজসহ অনেকেই। শিগগিরই মাছরাঙা টিভিতে ধারাবাহিকটির প্রচার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

হঠাৎ কেন বিশ্বজুড়ে ধর্মঘটে অ্যামাজন কর্মীরা

ব্ল্যাক ফ্রাইডে উপলক্ষ্যে অ্যামাজন কর্মীরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ধর্মঘট পালন করছে। শ্রমিক অধিকার সংস্থা ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়ন এ প্রতিবাদ আন্দোলনকে ‘মেক অ্যামাজন পে’ নামে আখ্যায়িত করেছে। এ কর্মসূচি ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মঘটের পাশাপাশি ২০টিরও বেশি দেশে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শ্রমিক নিপীড়ন, পরিবেশ দূষণ এবং গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি। বিক্ষোভকারীরা অ্যামাজনের কাছ থেকে বেতন বৃদ্ধি, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অনুমতির দাবি জানাচ্ছে।

অ্যামাজন তাদের বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের ‘অপপ্রচারকারী’ আখ্যায়িত করেছে।

তারা দাবি করেছে, তাদের কর্মপরিবেশ আধুনিক এবং নিরাপদ। কোম্পানি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ১.৫ মিলিয়নের বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর গুদাম দুর্ঘটনার ৫০ শতাংশ অ্যামাজনের কর্মক্ষেত্রে ঘটেছে।

‘মেক অ্যামাজন পে’ আন্দোলন ২০২০ সালে শুরু হয়। এটির লক্ষ্য হলো অ্যামাজনকে তার কর্মচারী, পরিবেশ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ করতে বাধ্য করা। ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়ন এবং প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবারের ধর্মঘটে ৩০টির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের দলগুলো অংশ নিয়েছে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হারাতে শক্তিশালী দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এবার দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরাও। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হারাতে টেস্টের চেয়ে আরও শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেই দলটির অধিনায়ক শাই হোপ। এছাড়াও টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন জাস্টিন গ্রিভস।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানদের শেষ সিরিজের দল থেকে স্কোয়াডে দুটি পরিবর্তন এনেছে ক্যারিবীয়রা। হায়ডেন ওয়ালশ জুনিয়র ও জুয়েল অ্যান্ড্রুর জায়গা নিয়েছেন আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পুরস্কার পেয়েছেন গ্রিভস।

স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো ডাকা হয়েছে আমির জাঙ্গুকে। এখন পর্যন্ত অভিষেকের স্বাদ না পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আছেন দুর্দান্ত ছন্দে। জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি তার। ২৭ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক ব্যাটার আমির জাঙ্গু এখন পর্যন্ত ৪৯টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন। সর্বশেষ ৫ ইনিংসের মধ্যে তিন ম্যাচেই তিনি হাঁকিয়েছেন অর্ধশতক। আছে ১টি শতরানের ইনিংস।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হবে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সফরকারী বাংলাদেশের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সেন্ট কিটস ও নেভিস এর রাজধানী বাসেটারে সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে ১০ ও ১২ ডিসেম্বর। প্রতিটি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড:

শাই হোপ (অধিনায়ক), ব্রেন্ডন কিং (সহ-অধিনায়ক), কিসি কার্টি, রস্টন চেজ, ম্যাথু ফোর্ড, জাস্টিন গ্রিভস, শিমরন হেটমেয়ার, আমির জাঙ্গু, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, এভিন লুইস, গুদাকেশ মোতি, শেরফানে রাদারফোর্ড, জায়ডেন সিলস ও রোমারিও শেফার্ড

বসুন্ধরার চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দের আদেশ

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ তাঁর পরিবারের আট সদস্যের বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গত ২১ নভেম্বর এ আদেশ দেন।

সম্পদ জব্দের আদেশের তালিকায় নাম থাকা অন্যরা হলেন আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম, তাঁদের তিন ছেলে সায়েম সোবহান আনভীর, সাফিয়াত সোবহান ও সাফওয়ান সোবহান এবং তিন পুত্রবধূ সাবরিনা সোবহান, সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান ও ইয়াশা সোবহান। দুদক আদালতকে এই আটজনের প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ, সম্পদ কেনা ও ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য জানিয়েছে। এর বাইরে বিদেশে সম্পদ কেনা, বিনিয়োগ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর টাকার পরিমাণ দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

দুদক বলছে, আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের কেউ বিদেশে টাকা পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেননি।

সম্পদ জব্দের আদেশের তালিকায় নাম থাকা অন্যরা হলেন আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম, তাঁদের তিন ছেলে সায়েম সোবহান আনভীর, সাফিয়াত সোবহান ও সাফওয়ান সোবহান এবং তিন পুত্রবধূ সাবরিনা সোবহান, সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান ও ইয়াশা সোবহান।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম গতকাল সোমবার বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানসহ তাঁর পরিবারের আট সদস্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে বিদেশে তাঁদের নামে যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে, তার তালিকা আদালতের কাছে তুলে ধরে তা জব্দ ও অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়। আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

মীর আহমেদ আলী সালাম আরও বলেন, বিদেশে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সংস্থাকে আদালতের আদেশ দেখাতে হয়। ঢাকার আদালতের এ আদেশ পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে সহায়তা করবে।

দুদক আদালতকে এই আটজনের প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ, সম্পদ কেনা ও ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য জানিয়েছে। এর বাইরে বিদেশে সম্পদ কেনা, বিনিয়োগ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর টাকার পরিমাণ দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

আদালত আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের আটজনের সম্পদ জব্দের আদেশের অনুলিপি সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্লোভাকিয়া, সাইপ্রাস, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠাতে বলেছেন। পাশাপাশি একই অনুলিপি দিতে বলেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ)।

আদালতে জমা দেওয়া দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে জানা গেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের মালিকানাধীন কোম্পানির নামে বিপুল পরিমাণে ব্যাংকঋণ নিয়েছেন। সেই ঋণের একাংশ বিদেশে পাচার করে সেখানে সম্পত্তি কেনা হয়েছে এবং বিনিয়োগ করা হয়েছে।

দুদক বলেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর ৩০ লাখ ইউরো (বর্তমান মূল্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে স্লোভাকিয়ার নাগরিকত্ব নেন। তাঁর স্ত্রী ইয়াশা সোবহান ২০ লাখ ইউরোর (২৫ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব নেন সাইপ্রাসের। আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম আড়াই লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় তিন কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব নেন ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে।

আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের আট সদস্য বিভিন্ন দেশের ১৯টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটি আরও বলেছে, সাফওয়ান সোবহান ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়া ফেরদৌসী সোবহান সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবিব ব্যাংক ও সাইপ্রাসের ইউরো ব্যাংকে হিসাব খুলে অবৈধ অর্থ লেনদেন করেন।

দুদক বলেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর ৩০ লাখ ইউরো (বর্তমান মূল্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে স্লোভাকিয়ার নাগরিকত্ব নেন। তাঁর স্ত্রী ইয়াশা সোবহান ২০ লাখ ইউরোর (২৫ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব নেন সাইপ্রাসের।

ঢাকার আদালত গত ২১ অক্টোবর আহমেদ আকবর সোবহানসহ তাঁর পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। ৬ অক্টোবর তাঁদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সহকারী হাইকমিশনে হামলা: রাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারেও মিছিল–সমাবেশ হয়েছে। ক্যাম্পাসের হল থেকে বের হওয়া এই মিছিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভিসি চত্বরে যায়, সেখানে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মিছিলে স্লোগান ছিল ‘টু জিরো টু ফোর, আগ্রাসন নো মোর’, ‘ভারতীয় দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’।

রাত আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন থেকে প্রথমে মিছিল বের করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই মিছিল রাজু ভাস্কর্যের সামনে যায়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এরপর রাত ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই সমাবেশে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল।

তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। ভারত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কাছে দেশের মানুষ বিপদগ্রস্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদের লড়াইকে আজ ধর্মীয় লড়াই বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি সুনির্দিষ্ট মতাদর্শের লোকেরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে এটা ধর্মীয় সংঘাত। তাদের উদ্দেশ্য এখানে অখণ্ড ভারত নামে একটা আজগুবি জিনিস কায়েম করা। এটা ইতিহাসে কখনও ছিল না। আমরা একত্র হয়ে আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ রুখে দেবো।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী আশরেফা খাতুন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই দিল্লির দালালি করে গেছে। বছরের পর বছর সীমান্ত হত্যা হয়েছে, কখনো চোখে চোখ রেখে বিচার চাইতে পারেনি। এখন নতুন বাংলাদেশ, বাংলাদেশে দিল্লির আধিপত্য আর বিস্তার করতে দেয়া হবে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশের শেষের দিকে জগন্নাথ হল থেকে একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসে সংহতি জানান।

জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী সর্বমিত্র বলেন, এখানে কোনো ভারতীয় এজেন্ট থাকবে না, পাকিস্তানের এজেন্ট থাকবে না। ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের পর আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভারতের চক্রান্ত বাংলাদেশকে বিব্রত করছে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।