বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

রাশিয়াই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে: ট্রাম্প

তিন বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। মস্কোকে চেপে ধরতে জো বাইডেনের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েও তাদের কাবু করতে পারেনি। শিল্পসমৃদ্ধ দনবাসের বেশিরভাগ অংশসহ ইউক্রেনের যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মানচিত্রের প্রায় ২০ শতাংশ এখনো মস্কোর নিয়ন্ত্রণে।

ফ্লোরিডায় সৌদি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার ‘সুবিধাজনক অবস্থার’ কথা জানান।
ট্রাম্প মনে করেন, ইউক্রেনের ‘বিপুল পরিমাণ ভূখণ্ড’ এরই মধ্যে দখলে নিয়ে নেওয়ায় যুদ্ধের অবসানে যেকোনো শান্তি আলোচনায় রাশিয়াই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

ট্রাম্প স্থানীয় সময় গত বুধবার এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে বিবিসিকে বলেন, রাশিয়া প্রায় তিন বছর আগে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল সেটার অবসান দেখতে চাইছে বলেই তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, রাশিয়া যুদ্ধের শেষ দেখতে আগ্রহী; আমি সত্যিই মনে করি। আমার মনে হয় তারা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।
কারণ তারা বিপুল পরিমাণ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে। তাস তাদের হাতে।’

রাশিয়া সত্যিই শান্তি চায়, এমনটা বিশ্বাস করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, করি।’

এর আগে ফ্লোরিডার সম্মেলনে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে একই দিনে দ্বিতীয়বার ‘স্বৈরাচার’ অ্যাখ্যা দেন।
এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি ইউক্রেনের ‘কৌতুক অভিনেতা’ প্রেসিডেন্টকে ‘স্বৈরাচার’ তকমা দেওয়ার পাশাপাশি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন।

বিচারের মুখে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন

রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে চলমান ফৌজদারি মামলার প্রথম শুনানিতে হাজির হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। গতকাল বৃহস্পতিবার সিউলের একটি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। দেশটির ইতিহাসে প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি মামলায় বিচারের মুখোমুখি হলেন ইউন। খবর রয়টার্সের।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করে একটি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ইউনকে গত ৩ ডিসেম্বর অভিযুক্ত করেন সরকারি কৌঁসুলিরা। সিউল ডিটেনশন সেন্টার থেকে বিচার মন্ত্রণালয়ের গাড়িবহরে করে ইউনকে আদালতে আনা হয়।

আদালতের বাইরে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশের বেশ কিছু গাড়ি মোতায়েন ছিল। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
তবে ইউনের আইনজীবীরা বলেছেন, রেকর্ড পর্যালোচনার জন্য তাদের আরো সময় প্রয়োজন।

এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সামরিক আইনের ডিক্রির জন্য ইউনের বেশ কয়েক বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এই ঘটনায় এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে অভিশংসিত করা হয়েছে এবং জড়িত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে বলেন, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে।
ওই দিন ইউন ও আদালত চূড়ান্ত মতামত দেবেন।

কাশ প্যাটেলই এফবিআই প্রধান

সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক কাশ প্যাটেলকেই ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছেন মার্কিন সিনেটররা।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সিনেটে ৫১ ভোটের মধ্যে ৪৯টিই গেছে কাশ প্যাটেলের পক্ষে। দুই রিপাবলিকান সুসান কলিনস ও লিসা মুরকোস্কি তার বিপক্ষে ভোট দেন।

এর মধ্য দিয়ে প্যাটেলের এফবিআই প্রধান হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ঘনিষ্ঠ সমর্থক কাশ প্যাটেলকে এফবিআই প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে, গত ৩০ নভেম্বর এফবিআই প্রধান হিসেবে প্যাটেলের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্যাটেল (৪৪) যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক, উভয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ফেডারেল পাবলিক ডিফেন্ডার ও ফেডারেল কৌঁসুলি হিসেবেও কাজ করেছেন।

এফবিআইয়ের পরিচালকরা যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগ পান।

সূত্র : বিবিসি

বৈষম্যবিরোধী আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ উন্মুক্ত কনসার্ট স্থগিত

তবে হঠাৎ করেই একদিন আগে কেন আলোচিত এ কনসার্টটি স্থগিত করা হলো সে বিষয়টি দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজকদের একজন জানিয়েছেন নিরাপত্তা ইস্যুতে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠ, আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকরা জানান, নিরাপত্তার কারণে কনসার্টটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে কখন কনসার্টটি হবে তা নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়, ‘এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত কনসার্ট হতে যাচ্ছে। কনসার্ট ভেন্যুতে কয়েক লাখ মানুষ একসঙ্গে নিরাপদে গান শুনতে পারবে।

‘তাদের সামনে দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড গান পরিবেশন করবে। আমরা দেশীয় শিল্পীদের নিয়ে কনসার্টের লাইনআপ সাজিয়েছি; যারা আন্দোলনের সময় নিজেদের ক্যারিয়ারের চিন্তা না করে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।’

প্রসঙ্গত, এই কনসার্টে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গান গাওয়ার কথা ছিল নগর বাউল জেমস। আরও গান শোনানোর কথা ছিল ব্যান্ড চিরকুট, আর্টসেল, সোনার বাংলা সার্কাস, বেঙ্গল সিম্ফনি, বাংলা ফাইভ, ক্রিপটিক ফেইট, কুঁড়েঘর, কাকতাল, সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানসহ অনেকে।

শিশুরা মরছিল, জেলেনস্কি তখন ফটোশ্যুট করেছিল— বললেন ইলন মাস্ক

জেলেনস্কি ও তার স্ত্রীর ২০২২ সালের ২৬ জুলাই ‘ভগ ম্যাগাজিনে’ প্রকাশিত ছবি ও সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের সংবাদের স্ক্রিনশট নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন মাস্ক। এতে তিনি বলেছেন, যুদ্ধে যখন শিশুরা মারা যাচ্ছিল তখন জেলেনস্কি তার স্ত্রীকে নিয়ে ভগের ম্যাগাজিনে মডেল হয়ে ফটোশ্যুট করেছিলেন। ডেইলি মেইল ওই সময় জেলেনস্কির সমালোচনা করে তাদের শিরোনাম করেছিল, “রিড দ্য রুম, জেলেনস্কি ও তার স্ত্রী সবাইকে অবাক করেছেন, বিখ্যাত ফটোগ্রাফার অ্যানি ল্যাবিউইৎজের জন্য ভগের হয়ে ছবি তুলে। যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে।” সংবাদটি শেয়ার করে ইলন মাস্ক বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক্সে লিখেছেন, “শিশুরা যখন যুদ্ধের সম্মুখভাবে পরিখায় থেকে মারা যাচ্ছে, তখন জেলেনস্কি এই কাজ করেছিলেন।”

জেলেনস্কিকে স্বৈরাচার বলা ছাড়াও তাকে নিয়ে যা-তা কথা বলেছেন ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ‘কৌতুক অভিনেতা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, “সফল কৌতুক অভিনেতা, ভলোদিমির জেলেনস্কি, ভাবুন যুক্তরাষ্ট্র ৩৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে একটি যুদ্ধে যুক্ত হয়েছে, যেটি কখনো জেতা যাবে না। যেটি কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। এটি এমন যুদ্ধ যা জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ট্রাম্পকে’ ছাড়া কখনো সমাধান করতে পারবে না।”

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, “আমি ইউক্রেনকে ভালোবাসি, কিন্তু জেলেনস্কি (ইউক্রেনের) ক্ষেত্রে ভয়াবহ কাজ করেছেন। তার দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। লাখ লাখ মানুষ অপ্রয়োজনে মারা গেছে। আর এই মৃত্যু অব্যাহত আছে।”

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এতে দ্বিমত করেছেন জেলেনস্কি। সঙ্গে করেছেন সমালোচনা। এরপরই জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বিষেদাগার শুরু করলেন ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক।

হিনার মেডিক্যাল রিপোর্ট পোস্ট করে যা বললেন রোজলিন

এবার রোজলিন খান এমন কিছু বিষয় তুলে ধরলেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হিনার মেডিক্যাল রিপোর্ট শেয়ার করেছেন রোজলিন। যা নিয়ে চলছে নেটিজেনদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

রোজলিন তার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে হিনার কিছু রিপোর্ট তুলে ধরেছেন। যা ভাইরাল হয়েছে মুহূর্তে। রোজলিন পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার কাছে আরও কিছু সমর্থনকারী নথি রয়েছে, যা একটি হাসপাতালের অফিসিয়াল স্ট্যাম্প সহ একটি উৎস থেকে আমাকে প্রদান করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে বুঝতে যে সেলিব্রিটিরা আলোচনায় থাকার জন্য যেকোনো কিছু ব্যবহার করতে পারেন।’

‘আমি দুঃখিত যে এই ক্ষেত্রে ক্যান্সারের স্টেজ ৩ বলে উল্লেখ করা অতিরঞ্জিত বলে মনে হচ্ছে, যা শুধুমাত্র বেশি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বলা হয়েছে। যদি বলা হতো এটি স্টেজ ২ ক্যান্সার, তাহলেও আমরা একই সম্মান দিতাম। কারণ আমাদের কাছে ক্যান্সার যেকোনো স্টেজেই ক্যান্সার।’

এরপর বলেন, ‘হিনা খানের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যে তার দ্রুত সুস্থতা এসেছে, কারণ তার চিকিৎসা সহজ ছিল। কিন্তু একজন ক্যান্সার রোগী বা সারভাইভার দ্বারা ভুল তথ্য প্রদান করা সত্যিই স্টেজ ৩ ট্রিপল নেগেটিভ ক্যান্সারে ভুগছেন এমন রোগীদের জন্য অবমাননাকর। অন্তত এখন তো প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

‘আমি আপনার ট্র্যাজেডির জন্য সত্যিই দুঃখিত। আপনি একজন সুযোগসন্ধানী। আপনার টার্গেটেড থেরাপি চালিয়ে যান, শারীরিকভাবে সুস্থ হোন এবং আমি আশা করি আপনার মনের ক্যান্সারও সেরে যাবে।’

অভিনেত্রীর এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা আলোচনা। সত্যিই কি স্টেজ ২ ক্যান্সারে আক্রান্ত হিনা? এ নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে প্রশ্ন উঠছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর হিনা নিজেই তার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে সকলকে জানিয়েছিলেন যে তিনি স্টেজ থ্রি স্তন ক্যান্সারে ভুগছেন। তবে এখন রোজলিনের পোস্টে কারও কারও মনে প্রশ্নও জাগছে বলা চলে।

গণতান্ত্রিক শক্তিকে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকতে হবে : তারেক রহমান

গণতন্ত্রকে যাতে আর কেউ কঠিন শৃঙ্খলে বন্দি করতে না পারে সে জন্য স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শক্তিকে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় একটি অধ্যায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি এই দিনে সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা।
এই দিনেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের এই মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে রচিত হয়েছে আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রথম সোপান। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। বায়ান্ন সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত পথ ধরেই এ দেশের সব গণতান্ত্রিক এবং স্বাধিকারের সংগ্রাম তীব্র হয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা।
জনগণ শৃঙ্খলমুক্ত হয়, ফিরে পায় একটি স্বাধীন ভূখণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হলেও নতুন করে নানাভাবে আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালানোর ষড়যন্ত্র করে আসছে মহলবিশেষের তাবেদারির জন্য, যাতে আমরা বিশ্বসমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি। কিন্তু এ দেশের মানুষ সব সময় স্বৈরাচার এবং দেশি-বিদেশি কুচক্রীদের অদম্য সাহসে প্রতিহত করে এসেছে। এ দেশের মানুষকে যাতে আটকে রাখতে না পারে এ জন্য ন্যায়বিচার, মানবিক সাম্য তথা প্রকৃত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও চিরস্থায়ী করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
গণতন্ত্রকে যাতে আর কেউ কঠিন শৃঙ্খলে বন্দি করতে না পারে সে জন্য স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শক্তিকে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে একুশের অম্লান চেতনা আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শিকড় অনুসন্ধান তথা আত্ম অন্বেষায় ভাষাচেতনার স্ফূরণ ঘটে। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয়তাবাদ ও ঐক্যের অনুভূতি জাগ্রত করে। আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় গোটা বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন আয়োজিত কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।’

বাণীতে বায়ান্নর ভাষাশহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তারেক রহমান। ভাষাসৈনিকদের শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের পরিবারের সুখ, শান্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার হেরে গেলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা এসেছি একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে দিতে। অন্তর্বর্তী সরকার হেরে গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। গণতন্ত্র শুধু হারাবে না, মানুষ তার মৌলিক অধিকার হারিয়ে ফেলবে। তাদের কণ্ঠরুদ্ধ হবে।
’

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর সিলভার ক্যাসেল মিলনায়তনে ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা এসেছি ইতিহাসের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করতে। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার যে সংগ্রাম, সে সংগ্রামের ফসল হিসেবে। আমরা এসেছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ তাঁদের রক্তের দায় থেকে বাংলাদেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উপহার দিতে।
একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে দিতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশ বাদী পুলিশ।’

অ্যাটর্নি জেনারেল পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একজন আসামিকে ফরোয়ার্ড করলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করুন।
এফআরআইয়ে নাম না থাকতে পারে, কিন্তু তাকে কী কারণে গ্রেপ্তার করলেন সেটার পেছনের কারণটা কী, সে কিভাবে অপরাধে অংশগ্রহণ করেছে; এ কথাগুলো থাকলে বিচার বিভাগে জুডিসপ্রিডেন্সে অনেক সহজ হবে।’

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রহমান, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহানুল আলম, বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ ও রেঞ্জ ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান, জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান।

এ ছাড়া কর্মশালায় ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচারক, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

একুশে পদক পেলেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ জামান

একুশে পদক পেয়েছেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, লেখক ও অনুবাদক এবং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ইংলিশ অ্যান্ড মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক নিয়াজ জামান।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই পদক দেওয়া হয়।

একুশে পদক বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান, যা ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।

অধ্যাপক নিয়াজ জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন ১৯৬৩ সালে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলি ক্রস কলেজে। এরপর তিনি কাজ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
১৯৭২ সালে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে, যেখানে তিনি কাজ করেছেন ২০১৩ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত। ২০০৬ সাল থেকে তিনি আইইউবির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি, লেখালেখিতেও অধ্যাপক নিয়াজ জামান রেখেছেন সমান দক্ষতার ছাপ। লিখেছেন তিনটি উপন্যাস, তিনটি ছোটগল্পের বই এবং সাতটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
তাঁর আ ডিভাইডেড লেগাসি : দা পার্টিশান ইন সিলেক্টেড নভেলস অফ ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, অ্যান্ড বাংলাদেশ গ্রন্থটি ন্যাশনাল আর্কাইভস অ্যাওয়ার্ড এবং আতোয়ার হুসেন পুরস্কার পায়।

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প নিয়েও তার কাজ প্রশংসিত হয়েছে। দা আর্ট অফ কাঁথা এমব্রয়ডারি এবং টেক্সটাইলস ফ্রম বেঙ্গল: আ শেয়ার্ড লেগাসি গ্রন্থে উঠে এসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পের গল্প।

অনুবাদেও তার রয়েছে সমান দক্ষতা। কাজী নজরুল ইসলামের বাঁধন হারা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন।
সম্পাদক হিসেবেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংকলন নিয়ে কাজ করেছেন, এর মধ্যে ১৯৭১ অ্যান্ড আফটার: সিলেক্টেড স্টোরিস এবং দা ডিমনেস: বেস্ট বাংলাদেশি স্টোরিস ১৯৭১-২০২১ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ড. নিয়াজ জামান পেয়েছেন বাংলা একাডেমি অনুবাদ পুরস্কার (২০১৬), আনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (২০১৩), আমেরিকান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ডসহ (২০১৭) নানা সম্মাননা।

প্রথম পাতাল মেট্রো রেলের সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ৮০ কিলোমিটার

এমআরটি লাইন-১ বালাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রো রেলের পাতালে সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টা ৮০ কিলোমিটার। আর উড়াল মেট্রো ট্রেনের সর্বোচ্চ পরিচালন গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার হবে। পাতাল মেট্রো রেলে প্রতিদিন ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিড ডেভেলপমেন্ট (লাইন-১)-এর প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল কাশেম ভূঞা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি একমুখী মেট্রো ট্রেন প্রতিবারে ১২টি স্টেশনে থেমে ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত, ৯টি স্টেশনে থেমে ২০ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত এবং ১৬টি স্টেশনে থেমে ৩৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে কমলাপুর থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত যাতায়াত করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশনের দূরত্ব ১৮.৯৩ কিলোমিটার। যাতায়াতে মোট সময় লাগবে ৩৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড। স্টেশনে যাত্রাবিরতি সময় ৩০ সেকেন্ড থেকে ৪৫ সেকেন্ড।
দুই স্টেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকে প্রতি ঘণ্টায় ৯৯ কিলোমিটার। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি করা না হলে পরিকল্পনা করা মেট্রো রেলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। ঐকিক নিয়মে মেট্রো রেলের গতিবেগ হিসাব যুক্তিযুক্ত নয়।

এতে আরো বলা হয়, এমআরটি লাইন-১ এর বিমানবন্দর রুটের পাশাপাশি টানেল মাটির উপরিভাগ থেকে কম-বেশি ১০ মিটার থেকে ১৩ মিটার গভীরতায় নির্মাণ করা হবে।
তবে কমলাপুর হতে রামপুরা পর্যন্ত এলাকায় সড়কের প্রশস্থতা কম থাকায় উপর-নিচ পদ্ধতিতে মাটির উপরিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩৪ মিটার গভীরতায় টানেল নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া কুড়িল থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত উড়াল অংশের উচ্চতা রোড লেভেল থেকে রেল লেভেলের উচ্চতা ১৪.১ মিটার থেকে ১৮.৩ মিটার রাখা হয়েছে।

প্রতিটি মেট্রো ট্রেনে সর্বোচ্চ ৩০৮৮ জন যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা রয়েছে এবং সর্বনিম্ন ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ফ্রিকোয়েন্সিতে মেট্রো ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এমআরটি লাইন-১ এর পাতাল মেট্রো ট্রেনের সর্বোচ্চ পরিচালন গতি ৮০ কিলোমিটার/ঘণ্টা এবং উড়াল মেট্রো ট্রেনের সর্বোচ্চ পরিচালন গতি ১০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা। এতে অল্প সময়ে বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।
ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার কম হবে। ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সাশ্রয় করা কর্মঘণ্টা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে।