সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

দীপিকা এবার আমিরের

dmকেরিয়ারের সাত বছরেই হিটের বন্যা। শাহরুখ, অক্ষয়, ফারহান, রনবীর, সৈফের সকলের সঙ্গেই কাজ করা হয়ে গেলেন বাকি ছিলেন বলিউডের দুই খান বাহাদুর। এই বছর সেই ইচ্ছাও পূর্ণ হতে চলেছে দীপিকা পাডুকোনের। এই বছরেই আমিরের বিপরীতে দেখা যাবে দীপিকাকে। ফারহান আখতার ও রাকেশ সিধওয়ানির যৌথ প্রযোজনা সংস্থা এক্সেল এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত ছবির শুটিং শুরু হবে জুলাই, অগাস্ট মাসে।

এর আগেই দীপিকা জানিয়েছিলেন সালমান, হৃতিকের সঙ্গেও কাজ করতে চান তিনি। দীপিকা বলেন, “প্রতিবছরই আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় আমি এবার কার সঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করি আগামী দু`এক বছরের মধ্যে আমি আমির, সালমান ও হৃতিকের সঙ্গেও কাজ করতে পারব।”

শোনা যাচ্ছে সালমানের বিপরীতে সুরজ বরজাতিয়ার আগামী ছবির জন্যও ইতিমধ্যে ডেট দিয়েছেন দীপিকা।

রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭ ভাগ

exগত অর্থবছরের প্রথমার্ধের চেয়ে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এই সময়ে মোট আয় হয়েছে এক হাজার ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। এটি এক হাজার ৪২৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রপ্তানির হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতাল-অবরোধের মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১৯.৯৬ শতাংশ। এই সময়ে মোট রপ্তানি আয় এক হাজার ১৯৩ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যা ৯৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা (এক ডলার=৮০ টাকা হিসাবে)। পোশাকশিল্পের এই রপ্তানি আলোচ্য সময়ে এক হাজার ১২৭ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৯৬ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এই শিল্পের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২১, চার মাসে ১৮ দশমিক ৯৬ ও পাঁচ মাসে ২০ দশমিক ৭৪ শতাংশ ছিল।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাকশিল্প থেকেই সর্বোচ্চ এক হাজার ১৯৩ কোটি ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে ওভেন পোশাক থেকে সর্বোচ্চ ৫৯৮ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে নিট পোশাক খাত থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯৪ কোটি ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

এদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়লেও পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় গত কয়েক মাসের মতোই নিম্নমুখী আছে। আলোচ্য সময়ে এই খাত থেকে ৪১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ দশমিক ৩৭ ও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। এর মধ্যে কাঁচা পাট পাঁচ কোটি ৯০ লাখ, পাটের সুতা ২৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার ও পাটের ব্যাগে আট কোটি ৬১ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

এ ছাড়া হিমায়িত খাদ্যে ৩৭ কোটি ৭৪ লাখ, হোম টেক্সটাইলে ৩৫ কোটি, কৃষিজাত পণ্যে ২৬ কোটি, চামড়ায় ২৩ কোটি ৯৪ লাখ, চামড়াজাত পণ্যে নয় কোটি ৪৯ লাখ, প্লাস্টিক পণ্যে তিন কোটি, টেরিটাওয়ালে তিন কোটি ৮০ লাখ, প্রকৌশলপণ্যে ১৭ কোটি, বাইসাইকেলে চার কোটি, পাদুকায় ২৮ কোটি ও সিরামিক পণ্যে দুই কোটি ৪৩ লাখ ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। –

জয় হো বয়কটের আহ্বান আলীগড়ের ছাত্র সংগঠনের

jaiউত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরে মর্মান্তিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরও সেই রাজ্যটিতে একটি জমকালো স্টেজ শোতে পারফর্ম করায় একটি ছাত্র সংগঠন অভিনেতা সালমান খানের ‘জয় হো’ চলচ্চিত্রটি বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছে।

ভারতের সমাজবাদী পার্টির প্রধান মুলায়ম সিং যাদবের গ্রামে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘সায়ফেই মহোৎসবে’ যোগ দেবার জন্য সালমান আর মাধুরী দীক্ষিতের কঠোর সমালোচনা করেছে ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড হারমনি (ওয়াইআইপিএইচ) নামের ছাত্র সংগঠনটি।

 

ছাত্র সংগঠনটির তরফ থেকে জানান হয়, যেখানে মুজাফফরনগর দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উত্তর প্রদেশ সরকার তেমন কিছুই করেনি সেখানে অভিনেতাটির এমন একটি উৎসবে যোগ দেয়াটা দুঃখজনক। পাশাপাশি ওয়াইআইপিএইচ জেএন মেডিকেল কলেজকে সালমানের ২৫ লাখ রুপি অনুদান দেবার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

 

ওয়াইআইপিএইচ-এর নেতা জসিম মোহাম্মদ বলেছেন এই বছর ‘সায়ফেই মহোৎসবে’ আয়োজন করা উচিত হয়নি মুলায়ম সিং যাদবের আর ‘মানবিক মূল্যবোধের প্রতি কিছুটা হলেও সহমর্মিতা প্রদর্শন’ করে সালমান খান আর মাধুরী দীক্ষিতেরও এই উৎসবে যোগ দেয়া ঠিক হয়নি।

 

তিনি জানিয়েছেন ওয়াইআইপিএইচ ‘জয় হো’ চলচ্চিত্রটি বয়কট করবে এবং তারা অন্যদেরও তাদের সিদ্ধান্ত অনুসরণের আহ্বান জানান।

কেজরিওয়ালের দুর্নীতিবিরোধী কৌশলে দিল্লিতে ব্যাপক সাড়া

karদিল্লির মূখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের দুর্নীতি বিরোধী সর্বশেষ কৌশল রাজ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাজ্যে দুর্নীতি কমাতে দুর্নীতির চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা আহবান জানিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর দিল্লিবাসীকে দলে দলে ক্যামেরার দোকানে ভির করতে দেখা গেছে।  ক্যামেরার জন্য পরিচিত রাজ্যের পালিকা বাজারে ভির রাতারাতি দ্বিগুণ বেড়েছে। রীতিমতো ক্যামেরা বিক্রির ধুম পড়ে গেছে। এতে বেজায় খুশি দোকানিরাও।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করার অঙ্গীকার করে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন কেজরিওয়াল ও তাঁর দল আম আদমি পার্টি।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই কেজরিওয়াল দিল্লির জনতাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতিবাজদের হাতেনাতে ধরতে সরকারকে সহায়তা করতে হবে। তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতিবাজদের ধরিয়ে দিতে পারলে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এর পর থেকে পড়ে গেছে এই ক্যামেরা কেনার ধুম।

বিক্রেতারা জানান, বাজারে নানা ধরনের গোপন ক্যামেরা পাওয়া যায়। অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মানের ওপর ভিত্তি করে এসব গোপন ক্যামেরার দাম ৪০০ থেকে ৩০ হাজার রুপি পর্যন্ত হয়।

তবে ক্রেতাদের কাছে কলম, বোতাম, চাবির রিং, পেন ড্রাইভ এমনকি রোদ চশমার ভেতর লুকানো গোপন ক্যামেরার কদরই বেশি। এগুলোর দামও মোটামুটি নাগালের ভেতর। ভারতীয় মুদ্রায় ৪০০ থেকে পাঁচ হাজার রুপির মধ্যে এসব ক্যামেরা কেনা যায়।

পালিকা বাজারের ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রেতা শচীন দত্ত জানান, কিছুদিন আগে দিনে গড়ে ১৫ থেকে ২০টির মতো গোপন ক্যামেরা বিক্রি হতো। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর এখন দিনে প্রায় ৪০টির মতো গোপন ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে। ছেলে-বুড়ো সব বয়েসের মানুষ এসব ক্যামেরা কিনছেন বলে জানান তিনি।

মামলা খারিজের আবেদন দেবযানীর

debjaniভারতে ফিরে শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে দেবযানী খোবরাগাড়ে জানালেন, মার্কিন ঘটনা নিয়ে তার পক্ষে জবাব দেবে ভারত সরকার। সেই সঙ্গে মামলা খারিজের জন্যে মার্কিন আদালতে আবেদনেও জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
এক পরিচারিকাকে নিয়ে সমস্যার জেরে নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি কনসাল দেবযানীকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন পুলিশ। এঘটনায় বড় ধরনের টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও আমেরিকা।
নয়াদিল্লি জানায়, দেবযানী জাতিসংঘে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যুক্ত। সুতরাং তার পূর্ণ কূটনৈতিক রক্ষাকবচ আছে। দেবযানীকে গ্রেপ্তারের অধিকার মার্কিন পুলিশের নেই।
অবশেষে বৃহস্পতিবার দেবযানীকে জি-১ ভিসা দেয় আমেরিকা। ফলে, পূর্ণ কূটনৈতিক রক্ষাকবচ পান তিনি। কিন্তু সেই সঙ্গে দেবযানীর রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার জন্যও ভারতের কাছে আবেদন জানায় ওয়াশিংটন। পরে তড়িঘড়ি দেবযানীকে ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওবামা প্রশাসন। ক্ষুব্ধ ভারত নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের ডিরেক্টর পদমর্যাদার এক অফিসারকে ‘বহিষ্কার’করে। শুক্রবার রাতে ভারতে ফেরেন দেবযানী।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসে এক প্রশ্নের উত্তরে দেবযানী বলেন, “কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ। এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। যা বলার ভারত সরকার ও আমার কৌঁসুলি বলবেন।”
শনিবার নিউ ইয়র্কের আদালতে একটি চার পৃষ্ঠার আবেদন পেশ করেন দেবযানী। আবেদনে তিনি জানান, দেবযানী পূর্ণ কূটনৈতিক রক্ষাকবচ পেয়েছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেয়া হোক।
দেবযানী কাণ্ড যে ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে বড় ধাক্কা তা মেনে নিয়েছেন মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এ এক কঠিন সময়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কার্নির মতে, ভারত ও আমেরিকার বন্ধুত্বের অনেক দিক রয়েছে। একটি ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনায় তা নষ্ট হবে না।
মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, পুরো বিষয়টির উপরে নজর রেখেছেন স্বয়ং ওবামা। তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনার জন্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন জন কেরি।
এই পরিস্থিতিতে দেবযানীর বিরুদ্ধে মামলা খারিজের উপরেই জোর দিচ্ছে ভারত।
সালমান খুরশিদ বলেছেন, “দেবযানী কোনও অন্যায় করেননি। দু’পক্ষের মত নিয়েই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।”

সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

sahoবাংলাদেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের বয়কটের মধ্যে ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেন কেউ কেউ।
এর মধ্যেই দেশটির প্রভাবশালী সংবাদপত্র টেলিগ্রাফে শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে  যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা ইউকেএইড পুনর্বিবেচনা করছে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ জনগণের যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইউকেএইড উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করে।
আর ‘সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে’ বিশ্বব্যাপী যুক্তরাজ্যের চালু করা প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আমরা তালেবান হবো: পার্থ

partoবাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি’র চেয়াম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, “৫ই জানুয়ারী নির্বাচনে লাগামহীন ভাবে কারচুপি হয়েছে। আমরা এতদিন আন্দোলন করেছি ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে ভোটাধিকারের কোন সর্ম্পক নেই। জনগণ এ নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে। জনগণ যাদের প্রত্যাখান করে তারা বেশিদিন টিকতে পারেনা। আপনারা যদি দেশকে আফগানিস্তান বানান তবে আমরাও তালেবান হবো।”
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন এবং বিবিসি বাংলার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের ৫৫ তম পর্বে প্যানেল বক্তব্যে পার্থ এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।
বিএনপি কি ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বড় রকমের রাজনৈতিক ভুল করেছে? দর্শকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্যানেল সদস্য আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং নীলফামারি-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তো তারা জয়ী হয়েছিলেন। তাই তারা নির্বাচনে আসতে পারতো। তা না করে তারা সহিংস আন্দোলন করেছে। এখানে আন্দোলনকারী নেতারা রাস্তায় নেই। তবে কিছু সন্ত্রাসীদের দিয়ে সহিংস আন্দোলন করে সাধারণ মানুষদেরকে হত্যা করছে।
বেসরকারী সংগঠন নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, আওয়ামী লীগের উচিত ছিল বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসা দরকার ছিল। এই বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান বলেন, বিএনপি সহ ১৮ দল পলিটিক্যাল পার্টির মতো ব্যবহার করেনি। তারা ভালো ভাবেই কেয়ার টেকারের অর্থই বুঝাতে পারেনি।
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজীর খুবই বিরল কেন এমন এক প্রশ্ন এক দর্শক করলে খুশী কবির উত্তরে বলেন, অত্যাচার-হামলার ঘটনার সুরাহা হয় না আর। যারা দায়িত্বে থাকেন কোন কারণে তারা অন্য বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার এ বিচারের ব্যাপারেও খুব একটা সিরিয়াস না। রামুর ঘটনার সাথে তো তাদের অধিকাংশরাই জড়িত ছিলো। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা স্বার্থ-সিদ্ধির বা ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করে।

মন্ত্রিসভায় থাকছে যেসব নতুন মুখ

natrদশম জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করছে আওয়ামী লীগ। আজ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় শপথ নিবে নতুন মন্ত্রিসভা। বঙ্গভবনে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজারো অতিথি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে খালেদা জিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী, পরে মন্ত্রীরা শপথ নিবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শপথ নিবেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা অনুমোদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নয়া মন্ত্রিসভায় কমপক্ষে ২৭ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ২ জন উপমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা আপাতত ৫০-এর মধ্যে সীমিত থাকতে পারে।
এদিকে মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন- এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগদলীয় এমপিদের আগ্রহ বেশি। এ নিয়ে বেশ টেনশনে রয়েছেন সর্বদলীয় সরকার গঠনের আগে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও। সবাই উদগ্রীব হয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সর্বশেষ খবর রাখছেন। তবে নতুন এই মন্ত্রিসভা নতুন মুখ থাকছেন কে কে তা নিয়েও চলছে বেশ আগ্রহ।
জানা গেছে, নীলফামারী-২ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান নূর, জামালপুর-৩ আসনের এমপি মির্জা আজম, চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম,রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহরিয়ার আলম, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন, গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সিমিন হোসেন রিমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, খুলনা-৫ আসনের এমপি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ঢাকা-৩ আসনের এমপি নসরুল হামিদ বিপু, নাটোর-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক থাকছেন নয়া এই মন্ত্রিসভায়।
এছাড়া শেরপুর-১ আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক, নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ইমাজউদ্দিন প্রামানিক, বান্দরবানের বীর বাহাদুর উশৈ সিং, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের এমপি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, গাজীপুর-১ আসনের এমপি আ ক ম মোজাম্মেল হক, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি সৈয়দ মহসিন আলী, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এমপি ছায়েদুল হকও থাকছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এমএ মান্নান, পাবনা-৪ আসনের এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, মাগুরা-২ আসনের এমপি বীরেন শিকদার, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, ভোলা-৪ আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি আরিফ খান জয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ দফায় না হলেও পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী হতে পারেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। প্রধান বিরোধীদল বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩২টি, জাতীয় পার্টি ৩৩ টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ছয়টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) পাঁচটি, জাতীয় পার্টি  (জেপি) একটি, বিএনএফ একটি, তরিকত ফেডারেশন একটি এবং স্বতন্ত্র ১৩টি আসন পায়।
রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে নির্বাচন হয়নি আটটি আসনে। ৮ জানুয়ারি নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর পরদিনই নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। নির্বাচনী আইন সংক্রান্ত জটিলতায় যশোর- ১ ও ২ আসনের সাংসদদের নাম গেজেটে না থাকায় তারা শপথ নিতে পারেননি। এছাড়া ওইদিন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ পাঁচজন শপথ নেননি। পরে ১১ জানুয়ারি এরশাদ, নাসিম ওসমানসহ কয়েকজন শপথ নেন।

এমপিদের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

দশম জাতীয় সংসদের নব-নির্বাচিত ২৯০ সংসদ সদস্যের (এমপি) প্রজ্ঞাপণ প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার সকালে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
রিটে একই সাথে মন্ত্রিপরিষদ গঠন এবং তাদের শপথের ওপরও স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার শপথ, প্রস্তুত বঙ্গভবন

asনতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবন। ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠান করার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার তা সেরে ফেলেছে বঙ্গভবন। এই শপথের মধ্যে দিয়েই তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।
রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীরা শপথ নেবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বণ্টন রোববারই হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দায়িত্বও এদিনই বণ্টন করবেন সরকারপ্রধান।
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলেই গত নভেম্বরে গঠিত ২৯ সদস্যের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব শেষ হবে। যারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ছিলেন, মন্ত্রিসভার শপথের আগেই তাদের অব্যাহতি দেয়া হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী নতুন করে উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন।
এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রধান দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে শপথের প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। শপথ অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এক হাজারের মতো অতিথিকে। তাদের দাওয়াতপত্র পাঠানোর কাজ চলছে শনিবার থেকেই।
বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও অতিথিদের জন্য দরবার হলে সাজানো হয়েছে আটশর বেশি চেয়ার। সামনের সারির চেয়ারগুলোতে যারা বসবেন তাদের নামের ট্যাগ ইতোমধ্যে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। শপথ শেষে অতিথি ও নতুন মন্ত্রীদের জন্য থাকছে চা চক্রের ব্যবস্থা । তার আয়োজন পাশের মাঠে হবে।
আগের সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সামনের সারিতে কোনো চেয়ারে তার নাম দেখেননি বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
দশম সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসাবে ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের নামের গেজেট জারি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, তার দলের সদস্যরা মন্ত্রিসভাতেও থাকবেন, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য এখনো আসেনি।
প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি সেই তালিকা অনুমোদনও করেছেন। মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথের আমন্ত্রণ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করা হচ্ছে শনিবার থেকেই।
ওই তালিকায় কাদের নাম আছে আর আগের সরকারে থাকা কারা বাদ পড়ছেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। বলা হচ্ছে, মন্ত্রীসভার আকার হবে মাঝারি।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মন্ত্র্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে এবার মন্ত্রিসভার আকার ৫০ জনের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। অবশ্য শনিবার ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “নতুন সরকার যে ধরনের আকৃতি হয় সে ধরনেরই হবে। এবার দু’একজন উপমন্ত্রী থাকবেন।”
২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে প্রায় ৫০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ওই সরকারে না থাকলেও শেখ হাসিনার ১৯৯৬ সালের সরকারে উপমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফেরে। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেন হাসিনা।
বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট হয়, যাতে ২৩১টি আসনে জয়ী হয়ে  আবারো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ।
দশম সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর গত ৫ জানুয়ারি ভোটে নির্বাচিত হন ১৩৯ জন। বাকি আটটি আসনে পুনর্ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি। ২৯০ আসনের গেজেট প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণ করেন দশম সংসদের সদস্যরা।