মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

মালাউইর নির্বাচনে সাবেক বিরোধী দল বিজয়ী

২০ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল পুনঃ নিরীক্ষণের পর অবশেষে সাবেক বিরোধী দল বিজয়ী ঘোষিত হয়েছে।বিজয়ী ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রধান পিতর মুথারিকা।

ইতোপূর্বে ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি জয়সে বানদার প্রতিবাদের পর প্রমাণিত হয়েছিল, নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যার চেয়ে অধিক সংখ্যক ভোট পড়েছে। এরপরimage_93626_0 নির্বাচন কমিশন ভোট পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত নেয়।পুনঃগণনায় মোট ভোটের ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট মুথারিকার ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির পক্ষে আসে।দেশটির বাণিজ্যিক কেন্দ্রীয় শহর ব্লানতাইরের ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মুথারিকার সমর্থকেরা।নির্বাচনে ২য় সর্বোচ্চ জনসমর্থন পেয়েছে মালাউই কংগ্রেস পার্টি। তাদের অর্জন ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।সাবেক রাষ্ট্রপতি জয়সে বানদা ২০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট অর্জন করে ৩য় সর্বোচ্চ সমর্থন লাভ করেছেন।ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রধান, ৭৪ বছর বয়স্ক পিতর মুথারিকার ভাই বিঙ্গু ওয়া মুথারিকা মালাউই’র সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

খড়গহস্ত হতে চলেছে ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রশাসন শুক্রবার আবারও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ প্রতি আরও খড়গহস্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ক্রমশ জোরালোভাবে যুক্ত হচ্ছে রুশ শক্তি।

ইউক্রেনের নির্বাচিত ভাবি রাষ্ট্রপতি পেত্রো প্রোশেঙ্কো বৃহস্পতিবার ইউক্রেনীয় সেনা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায়image_93631_0
জড়িতদের শাস্তি দেয়ার শপথ নিয়েছেন।ঐ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় এক জেনারেলসহ ১৪জন সামরিক অফিসার নিহত হন।
বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো কোভাল শুক্রবার আরও বহুবারের মতো আবারও জানান, রাশিয়া পূর্বাঞ্চলে ‘বিশেষ অভিযান’ চালাচ্ছে। এবং ইউক্রেনের সামরিক অভিযান ঐ সীমান্ত এলাকাগুলোয় ‘শান্তি ফিরে না আসা’ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
পূর্বে রুশপন্থীদের সহায়তায় মূল রুশ সশস্ত্র কর্মীরা যুক্ত কিনা তা নিয়ে ঢাক ঢাক গুড় গুড় থাকলেও এবার প্রকাশ্যে রুশপন্থীদের সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছেন রুশ সশস্ত্র কর্মীরা।
এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, একসময় রাশিয়া কর্তৃক নির্যাতিত হলেও বর্তমানে রুশপন্থী প্রশাসনের আওতাধীন চেচনিয়ার সশস্ত্র ‘তরুণেরা’ রুশপন্থীদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে।
আবারও পর্যবেক্ষক দল অপহরণ
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদি’ অধ্যুষিত অঞ্চলে আবারও ইউরোপীয় সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি এন্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ-এর চার সদস্য বিশিষ্ট এক পর্যবেক্ষক দলকে অপহরণ করেছে রুশপন্থীরা।প্রতিষ্ঠানটি জানায় এবারের পর্যবেক্ষকেরা ছিলেন ভিয়েনা ভিত্তিক।

থাইল্যান্ডে ১৫ মাসের শুদ্ধি অভিযান ঘোষণা

থাইল্যান্ডের সামরিক জান্তা দেশটিতে ১৫ মাসের শুদ্ধি অভিযান ঘোষণা করেছে। এরপরই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। গার্ডিয়ান।থাই সামরিক বাহিনীর প্রধান প্রেয়াথ চ্যানওচা শুক্রবার এ ঘোষণা দেন।বক্তব্য দানকালে সামরিক শাসনের সমর্থন করে তিনি বলেন, দশকব্যপী পরিব্যাপ্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন করে শান্তিময় সাম্রাজ্য পুনঃস্থাপনে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রয়োজন আছে।   image_93629_0

থাই রাজা ভূমিবল আদুলযাদেজের সমর্থন লাভের পর প্রথমবারের মতো টেলিভিশন গণমাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থিত হন প্রেয়াথ। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগকে উপেক্ষা করেন বলে জানান।

সেইসঙ্গে ৬ কোটি ৭ লাখ মানুষের দেশটিতে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দেয়ার জন্যে ১৫ মাস সময় চেয়ে নেন।

তিনি বলেন, তার শাসনামলের প্রথম ৩ মাস শুধুমাত্র একটি বহুধাবিভক্ত জাতির পুনর্মিলনের জন্যে উৎসর্গীত হবে।

শাসনের ৩য় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে থাইল্যান্ডে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিগত ২২ মে থাইল্যান্ডের ১৯তম সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেয়াথ চ্যান ওচা ক্ষমতা লাভ করেন।

উল্লেখ্য ১৯১৪ সালে উপমহাদেশের তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোতে প্রতিষ্ঠিত মার্শাল ল’ আজও স্বাধীন দেশগুলো (যেমন: থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত ইত্যাদি) নিজেদের স্বার্থে অপরিবর্তিত রেখেছে।

মার্শাল ল’ আইন প্রতিষ্ঠার ঠিক ১০০ বছরের মাথায় এই প্রাক্তন ব্রিটিশ উপনিবেশে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হলো।

আরডি মিল্কের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান রংপুরের মিঠাপুকুরের বলদিপুকুরে অবস্থিত রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড (আরডি মিল্ক) ২০১৩ সালের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এছাড়াও আরও পাঁচটি নতুন পণ্য বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।image_83886_0

বৃহস্পতিবার আরডি মিল্কের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই ঘোষণা দেন আরডি মিল্কের চেয়ারম্যান শিল্পপতি এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, “২০০৫ সালে যাত্রা করে ২০০৬ সাল থেকে উৎপাদন শুরু  করার পর এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি রংপুর অঞ্চলের ২৫ হাজার গাভী পালনকারী পরিবারের লক্ষাধিক মানুষের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও সরাসরি পাঁচশ’ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে যা এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছে।”

প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার মার্কেটের সঙ্গে জড়িত এবং সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির ৩০ হাজার শেয়ার হোল্ডার রয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ কবির, পরিচালক আব্দুল আউয়াল, স্বাধীন পরিচলক মো. রেজাউল করিম ও আহমেদ হোসাইন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

জিএসপির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি না হলেও ইমেজ বাড়াবে’

আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ আবারো জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, “জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে তারা আমাদের ১৬টি শর্ত দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো শর্ত বাস্তবায়ন করেছি। কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ। সেগুলোও বাস্তবায়নাধীন।”image_83893_0

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে রঞ্জন সেন রচিত ‘মার্কিন জিএসপি অর্থনীতি না রাজনীতি’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতি ও অর্থনীতি একই সূত্রে গাথা। অনেক দেশই আমাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এ সুবিধা বাতিল করেছে। কিন্তু তারা সাব সাহারা দেশগুলোকে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। সেব দেশগুলোকে জিএসপি সুবিধা দিলেও তাদের চেয়ে উন্নত শিল্প বাংলাদেশে থাকা সত্ত্বেও তা বাংলাদেশকে তা দেয়া হয়নি।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “জিএসেপি সুবিধা পুনর্বহালে মার্কিন শর্ত বাস্তবায়নের রিপোর্ট গত ১৫ এপ্রিল পাঠানো হয়েছে। আমেরিকা এই মুহূর্তে কোনো দেশকেই জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না। আবার জিএসপি দেয়া শুরু হলে আশা করছি, তারা আমাদের বিষয়ে বিবেচনা করবে।”

তোফায়েল আহমেদ বলেন, “আমেরিকায় আমরা কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা পাই। এর মধ্যে গার্মেন্টস শিল্প নেই। তবে জিএসপিতে অর্থনৈতিক গুরুত্ব খুব বেশি না হলেও এটার রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। কারণ এটা সারা বিশ্বের কাছে আমাদের ইমেজ বহন করে।”

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের জিএসপি স্থগিত করার বিষয় রাজনৈতিক না অর্থনৈতিক কারণে হয়েছে, তার উত্তর পাওয়া বেশ কঠিন। যেসব শর্ত আমেরিকা দিয়েছে তার প্রায় সবকটিই পূরণ হয়েছে। আশা করবো, বাকিগুলোও পূরণ করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।”

আমেরিকা শিগগিরই বাংলাদেশকে জিএসপি ফেরত দেবে বলে আশা করেন বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেন, “জিএসপি পুনরুদ্ধারে আমেরিকা যেসব শর্ত দিয়েছে, তার প্রায় সবগুলো বর্তমান সরকার পূরন করেছে। জিএসপি বাংলাদেশের ইমেজ বাড়াবে বলে আশা করছি।”

শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র বলেন, “আমেরিকা জিএসপি প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শ্রমিক সমাজ কখনোই সমর্থন করেনি। প্রত্যাহার কখনোই সমাধান হয় না। বাস্তবতার সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের মিল নেই। তার অভিযোগ, শ্রম আইন যদি মালিকরা ঠিকভাবে অনুসরণ করতেন, তাহলে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আমেরিকায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদুত হুমায়ূন কবীর, অর্থনীতিবিদ আহসান মঞ্জুর প্রমুখ।

সুবহানের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন

কাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপররাধের মামলায় আটক জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সপ্তম সাক্ষী জাহানারা বেগমের জেরা শেষ হয়েছে।image_83868_0

পরে এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করে কার্যক্রম মুলতুবি করে ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষ সাক্ষীকে জেরা করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম সাক্ষী জাহানারা বেগমকে জেরা করেন। আজ তিনি সপ্তম সাক্ষীকে জেরা করেন। অষ্টম সাক্ষীকে জেরার জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।

গত ৭ এপ্রিল এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

গত ২৭ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ স্ব:প্রণোদিত হয়ে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করেন।

এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর আটক আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ নয়টি অভিযোগে ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১।

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে ৮৬ পৃষ্ঠার ওই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেন প্রসিকিউশন।

২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশ থেকে সুবহানকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

আমাদের মুখোশ নেই, মুখ আছে: ইফেতাখারুজ্জামান

দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্যের জবাবে টিআইবির নির্বাহি পরিচালক ড. ইফেতাখারুজ্জামান বলেছেন, “আমি তার বক্তব্যে বিব্রত হয়েছি। তিনি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তাতে তিনি নিজেই নিজেকে ব্রত করেছেন। সরকারের অনুমোদনের বাইরে টিআইবি কোনো অর্থ গ্রহণ করতে পারে না, ব্যয়ও করতে পারে না। আমাদের কোনো মুখোশ নেই, মুখ আছে।”image_83884_0

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল অবকাশে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল: বাস্তবায়নের অগ্রগতি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে একথা বলেন ইফেতাখারুজ্জামান।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদক কমিশনার রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়। মামলা দায়ের এবং প্রত্যাহারও হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। এছাড়া দুদকের তদন্তেও হস্তক্ষেপ রয়েছে সরকারের।

বুধবার দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু টিআইবির সমালোচনা করে বলেন, “টিআইবি বিদেশ থেকে টাকা এনে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে তথাকথিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের এসব কাজের স্বচ্ছতা কি? সময় আসবে টিআইবির মুখোশ উন্মোচন করা হবে।”

জনসম্পৃক্ত আন্দোলন করতে পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দেব: কামরুল

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, “আপনারা (বিএনপি) যদি আন্দোলনে জনগনকে একবার একত্রিত করতে পারেন তাহলে আমরা ক্ষমতা থেকে সরে যাব। এমন কি আমরা রাজনীতি থেকেও থেকে অবসর নেব।”image_83885_0

বৃহস্পতিবার জাতীয় পেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে দেশরত্ন (সেবক) পরিষদের আয়োজিত ‘দেশের চলমান রাজনীতি ও আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মুন্সিগঞ্জে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে কামরুল ইসলাম বলেন, “সেনাবাহিনী, র্যা ব, রাজনৈতিকদের মধ্য কিছু খারাপ লোক থাকতে পারে। তাই বলে সব বিলুপ্তি করা যায় না। র্যা ব বিলুপ্ত করা কোনো সুস্থ মানুষের কথা হতে পারে না।”

তিনি আরো বলেন, “জিয়াউর রহমানকে যখন সেনাবাহিনী হত্যা করলো তখন তো কেউ বললেন না সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করতে হবে। আসলে খালেদা জিয়ার সমস্ত শরীরে পচন ধরেছে। মাথা খারাপ হয়ে গেছে।”
নারায়নগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনায় আওয়ামী লীগ দায় নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেই দায়ী হোক তাদের সবাইকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে। তদন্ত অগ্রসর হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। এর দায় আওয়ামী লীগ নেবে না। এদের বিচার হবেই হবে। কিন্তু এসব মামলার তদন্তের কাজে বাধা দিতে বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।”

‘চাইলে যে কোনো জায়গায় জনসভা করতে পারেন’ ফকরুলে এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এতে চ্যালেঞ্জ দেয়ার কিছু নেই। আইন অনুযায়ী আপনারা অবশ্যই জনসভা করতে পারেন। তবে জনসভার নামে উসকানি দিলে, গোলমাল করলে, নিয়মের বাইরে কাজ করলে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেবেই।”

সংগঠনের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার প্রমুখ।

নাইকি-অ্যাডিডাসের বিশ্বকাপ লড়াই

বিশ্বের সবচেয়ে বিপণনযোগ্য ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্দো সহ বিশ্বের সেরা দশ ফুটবলারের মধ্যে ছ’জন এক সংস্থার দখলে৷ আর এক সংস্থার হাতে লিও মেসি সহ আর দুই ফুটবলার৷ আরও একটি সংস্থা, যাদের দখলে রেখেছে মাত্র এক জন সুপারস্টার ফুটবলার৷ মারিও বালোতেলি৷image_83852_0

এই লড়াই মাঠের নয়, মাঠের বাইরের৷ নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা— বিশ্বকাপের বাজারে তিন ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্ত্ততকারী সংস্থার মধ্যেও চলছে তুল্যমূল্য লড়াই৷ নাইকির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার যখন রোনাল্দো, তখন অ্যাডিডাসের মেসি৷ পুমার বালোতেলি৷

আর দেশের স্পনসরশিপের লড়াই? গতবার বিশ্বকাপে আটটা দেশের স্পনসর ছিল নাইকির দখলে৷ এবার তা বেড়ে দশে৷ ব্রাজিল, নেদারল্যন্ডস, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, গ্রিস ও অস্ট্রেলিয়া৷ আর অ্যাডিডাসের প্রাপ্তি? গত বিশ্বকাপে তাদের দখলে ছিল দশটি টিম৷ এবার গতবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন, আর্জেন্তিনা, জার্মানি সহ কলম্বিয়া, মেক্সিকো, জাপান, রাশিয়া ও নাইজেরিয়া— এই আটটি দেশ৷ আর পুমার হাতে ইতালি, উরুগুয়ে, ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট, চিলি, সুইৎজারল্যান্ড ও ঘানার মতো সাতটি দেশ৷

তিন সংস্থা নয়, বিশ্ব বাজারে আসলে লড়াই নাইকি আর অ্যাডিডাসের৷ বিশ্বের সেরা প্লেয়ার দখলে রাখা মানে, বিপণনের বাজারে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা৷ সেই কাজটা করে রেখেছে নাইকি৷ ব্যালন ডি’ওর জেতা রোনাল্দো একাই পাল্টে দিয়েছেন নাইকির ব্যবসায়ী লাভ৷ রোনাল্দোর জার্সিই সারা বছরে বিকিয়েছে প্রায় কুড়ি লাখ৷ সেখানেও পিছিয়ে মেসি৷

ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রচার থেকে শুরু করে বিপণনের জগত্, সর্বত্রই এগিয়ে নাইকি৷ জার্মানির সোয়েনস্টাইগার, উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেস, ব্রাজিলের দানি আলবেসদের নিয়ে সদ্য প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ফুটবল বিশ্বে৷ কিন্ত্ত অ্যাডিডাসের চিফ এক্সিকিউটিভ হারবার্ট হেইনার সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, ‘ফুটবলই আমাদের একমাত্র ডিএনএ৷ আমাদের একটাই লক্ষ্য, ফুটবল বিশ্বে এক নম্বর হওয়া৷’ কিন্ত্ত হিসেব বলছে, নাইকি এ বার সব দিক থেকেই অ্যাডিডাসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে৷ এতদিন বিশ্ব ফুটবলে অ্যাডিডাসের বুট ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়৷ সেটাতেও কিছুটা হলেও থাবা বসিয়েছে নাইকি৷

বিশ্ব ফুটবলের প্রথম দশে থাকা সুপারস্টার ফুটবলারের তালিকায় মারিও বালোতেলি একমাত্র পুমার হাতে৷ কেন? বালোতেলি নিজেই বলেছেন, ‘প্রথম যখন পুমার বুট দেখি, মনে হয়েছিল, ওরা কী পাগল? কিন্ত্ত যখন বুঝতে পারি, ওরা তা নয়, তখনই পুমার সঙ্গে জুড়ে যাই৷ ওরা আর সবার থেকে আলাদা৷’

বালোতেলির খোলাখুলি মন্তব্যের পর কতটা বাজার চড়ছে পুমার? নাহ্, নাইকি-অ্যাডিডাসের সঙ্গে সে ভাবে লড়াইয়ে নেই তারা৷ যেমন চুলচেরা লড়াইয়ে অ্যাডিডাসের থেকে আবার অনেকটাই এগিয়ে নাইকি৷- ওয়েবসাইট।

ইংল্যান্ডের সাফল্যের ফর্মুলা দিলেন স্টিফেন হকিং

৪৮ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটাতে দলের সঙ্গে মনোবিদ রাখার ওপর জোর দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড ম্যানেজার রয় হজসন। এবার বিশ্বকাপ জেতার জন্য এই ব্রক্ষ্মাণ্ডের শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের গবেষণার অঙ্কও ঢুকে পড়ল হজসনের নোটবুকে!image_83843_0

প্রফেসর হকিং গত ৪৮ বছরে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স গত এক মাসে পর্যালোচনা করে হজসনকে এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ জিততে হলে বেশ কিছু ফ্যাক্টরকে এখন থেকেই গুরুত্ব দিয়ে রপ্ত করে নিক রুনিদের ‘থ্রি লায়ন্স’ ব্রিগেড। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাফল্যের জন্য হকিংয়ের প্রেসক্রিপশন, ৪-৪-২ নয়, ব্রাজিলের মাটিতে রুনিদের ফর্মেশন হোক ৪-৩-৩। জার্সির রং হোক লাল। আর বিশ্বকাপে ইংরেজদের ‘ব্যথা’ পেনাল্টির সময় তা মারতে দেওয়া হোক কোনো সোনালি চুলের ফুটবলারকে। সঙ্গে সতর্কবার্তা, “বেলোহরাইজন্তের মাঠে কোস্তারিকার বিরুদ্ধে ফুটবল যুদ্ধ সহজ হলেও, মানাউসে ইতালি ম্যাচ কিন্তু সহজ হবে না।”

এখানেই শেষ নয়, প্রফেসর হকিং আরও জানিয়েছেন, আমাজনের রেন ফরেস্ট অঞ্চলের উষ্ণতা বিশ্বকাপের সময় পাঁচ ডিগ্রি বেড়ে গেলেই ইংল্যান্ডের ব্রাজিল থেকে কাপ হাতে হিথরোতে ফেরার সম্ভাবনা কমে যাবে ৫৯ শতাংশ। আর কম উচ্চতায় দুপুর তিনটে থেকে পাঁচটার মধ্যে খেলা শুরু হলে লাভ ইংল্যান্ডেরই বলে মনে করেন তিনি।

ইংরেজদের জার্সির রং প্রসঙ্গেও হকিং-এর মন্তব্য, “লাল জার্সি পরে খেললে ইংল্যান্ডের জেতার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ বেশি। কারণ লাল রং সব সময়ই আগ্রাসী মনোভাব, আত্মবিশ্বাস, ম্যাচে আধিপত্য বাড়ায় ইংরেজদের।”

গবেষণায় রেফারিং প্রসঙ্গও বাদ দেননি হকিং। তার কথায়, “ইউরোপের রেফারিরা ইংল্যান্ডের ম্যাচ পরিচালনা করলে ইংল্যান্ডের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ। সেখানে অন্য মহাদেশের রেফারিদের হাতে রুনিদের জয়ভাগ্য খুলেছে মাত্র ৩৮ শতাংশ ক্ষেত্রে।” কেন? হকিংয়ের মন্তব্য, “ইউরোপের রেফারিরা ইংলিশ ফুটবলের প্রতি সহানুভূতিশীল।”

ইংল্যান্ডের বেটিং ফার্ম প্যাডি পাওয়ারের জন্য করা এই গবেষণায় ফুটবলারদের স্ত্রী এবং বান্ধবী নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার প্রসঙ্গও রেখেছেন দুনিয়াখ্যাত এই পদার্থ বিজ্ঞানী। তার মতে, “ফুটবলাররা বৌ না বান্ধবী কাকে নিয়ে থাকছে সেটা ফলাফলের ওপর কোনো প্রভাবই ফেলে না।”

আর যে যন্ত্রণা এড়াতে হজসন রুনিদের প্রথম দিন থেকেই অনুশীলনে পেনাল্টি মারার দিকে জোর দিয়েছেন তা আরও নিখুঁত করার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীর টিপস, “গতিই আসল কথা। সঙ্গে মেশাতে হবে প্লেসমেন্ট। তিন স্টেপ দৌড়ে পোস্টের উপরদিকে ডান বা বাঁ দিকের কোণ বরাবর মারলে বল গোলে ঢুকবেই।” সঙ্গে আরও বলেন, “কালো চুলের ফুটবলারের বদলে সোনালি চুল বা চকচকে টাকওয়ালা ফুটবলাররাই পেনাল্টি ভালো মারে। তাই ওদের সুযোগ দিলেই ভাল।” আর টাইব্রেকারের সময় ইংরেজ গোলকিপার জো হার্টের জন্য হকিংয়ের গবেষণালব্ধ মতামত, “পেনাল্টির সময় যে গোলকিপার দু’দিকেই সমান দক্ষতায় ঝাঁপাতে পারে, সে অন্য গোলকিপারদের চেয়ে ১৮ শতাংশ এগিয়ে থাকে।”

তবে এত কিছুর পরেও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতবে কি না তা নিয়ে ঝেড়ে কাশেননি প্রফেসর হকিং। নিজের ঢংয়েই বলেছেন, “ব্রাজিলকে উপেক্ষা করা যাবে না কোনো মতেই। দেখা গিয়েছে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আয়োজক দেশ। তা ছাড়া পেলের দেশ ঘরের মাঠে মনস্তাত্ত্বিক এবং পরিবেশগত সুবিধা পাবেই।” নিজের সমর্থন প্রসঙ্গে রসিকতার সঙ্গেই বলেছেন, “আমি তো চাইব ইংল্যান্ড রিও থেকে ট্রফিটা লন্ডনে নিয়ে আসুক। তবে আমার টিপসগুলো ছুড়ে ফেলে দেওয়া উচিত হবে না। যতই হোক আমি অক্টোপাস পলের চেয়ে কিছুটা হলেও বেশি শিক্ষিত।”

বিশ্বকাপের সময় হকিংয়ের টিপস হজসন না ইংল্যান্ডের বেটিং সিন্ডিকেট, কাদের কাজে লাগে এখন সেটাই দেখার।– সংবাদ সংস্থা।