বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না : আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। এ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে।’

চলমান যুদ্ধের কারণে ওই নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তারাই ‘যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ’ করবে।

রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’

এ মন্তব্যের দৃশ্যত প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলা চালানো হবে। এ ছাড়া আমরা এমন কিছু সহজে ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।
তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে—তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করি যেন এমনটা না ঘটে!’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতের পর মঙ্গলবার সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল’-এর (অপরিশোধিত তেল) দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

তবে দামের এই পতনের পরও চলমান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে’।

এদিকে, তেলের দামের পতনের কারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এশিয়ার অনেক দেশই উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার দেশগুলোর শেয়ারবাজারে বড় চাপ তৈরি হয়েছিল।

সৌদিতে নিতেন ইয়াবা, আনতেন সোনা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়।

গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) রাতে উপপরিচালক শামীম আহম্মেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম সাইদুল ইসলাম (৩১)। তার বাড়ি ঢাকার দোহার এলাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রেইডিং টিম বিমানবন্দর থানাধীন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ২য় তলার সি-২ বোর্ডিং ব্রিজ স্ক্যানিং মেশিনের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে। ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট নং-BS381-এর একজন যাত্রী বোর্ডিং ব্রিজের ০৫ নম্বর স্ক্যানিং মেশিন অতিক্রম করার সময় তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির ব্যাগ তল্লাশি করে কার্বন এবং স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো পলিথিন প্যাকেটে লুকানো অবস্থায় মোট ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত সাইদুল ইসলাম জানান, সালাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি এই প্যাকেটটি তাকে দিয়েছেন।
এই ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো সৌদি আরবে অবস্থানরত নুরুল আমীনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।

আটক সাইদুল আরো স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে ইয়াবা সৌদি আরবে নিয়ে যায় এবং বিনিময়ে সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ চোরাচালান করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

​হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শিবনাথ কুমার সাহা বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় এই বিষয়ে একটি মামলাটি করেছেন।

কিউবা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখল’ হতে পারে : ডোনাল্ড ট্রাম্প

কিউবার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে দেশটিতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখলের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৯ মার্চ) ফ্লোরিডার ডোরালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সংকট নিরসনে কাজ করছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (রুবিও) বিষয়টি দেখছেন। এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখল হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।
সত্যি বলতে তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ তাদের (কিউবা) কোনো শক্তি নেই, কোনো অর্থ নেই।’

এদিকে কিউবা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনার খবর অস্বীকার করেছে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল গুইলারমো রদ্রিগেজের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ চলছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি হাভানা।

অন্যদিকে মায়ামিতে বসবাসরত কিউবান নির্বাসিতরা ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তারা কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবসান এবং সরকারের পতনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স

আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, পাবেন ৩৭৫৬৭ জন

নারীপ্রধান পরিবারের নামে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে একেকজন সুবিধাভোগী প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের শুভ উদ্বোধন করবেন।

পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পাইলটিং পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার (Household) তথ্য যাচাইয়ে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানা গেছে।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। স্পর্শবিহীন (Contactless) চিপ সম্বলিত এই কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও NFC (Near Field Communication) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

একটি পরিবারের ৫ জন সদস্যের জন্য ১টি ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। তবে যৌথ/একান্নবর্তী পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা ৫ এর অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড প্রদান করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রাপ্ত হবেন এবং পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্হানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন- যদিও একটি রাজনৈতিক মহল নারীদের খাটো করে দেখে ও ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এলজিইডি কর্তৃক নির্বাচিত ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ২০২৬ অনুষ্ঠানে’ এমন মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগের কল্যানের জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্রথম ঢাকায় নেমে যে প্ল্যানের কথা বলেছিলেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আশা, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেও শিগগিরই ইতিবাচকভাবে সব ঘুরে দাঁড়াবে। এসময় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ৯ জন নারীকে সম্মাননা দেয়া হয়।

নেত্রকোণায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিলকখালি খাল খননের উদ্বোধন

জেলার সদর উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক তিলকখালি খালের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের কৃষ্ণাখালি এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের’ আওতায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ঐতিহাসিক খালটি পুনরায় খনন করা হচ্ছে।

উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, মনিরুজ্জামান দুদু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান বাসসকে জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক এ তিলকখালি খালের খনন কাজ চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ খালটি পুনরায় খননের ফলে এ এলাকার কৃষিজমি নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে।

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সচেতনতামূলক প্রচারণার দাবি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন বন্ধ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ. আই. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে ১ কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রা করবেন। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলায় প্রায় ৪ কোটি মানুষের যাতায়াত হবে। কিন্তু এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরিবহন করার মতো মানসম্মত গণপরিবহন দেশে পর্যাপ্ত নেই। ফলে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন।

এ অবস্থায় ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনসাধারণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ লক্ষ্যে সরকারের প্রতি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ছাত্র-যুবদের সম্পৃক্ত করে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, টেলিভিশন ও বিটিআরসির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করা এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরিবহন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা।

এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, সিটি সার্ভিস বাস মহাসড়কে চলাচল রোধে আইন প্রয়োগ, সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং রাতের বাসে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার ও সাইন-মার্কিং স্থাপন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি, ঈদে ঘরমুখী ও ফিরতি যাত্রা উভয় ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সড়কে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করা এবং দেশের সকল হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার করার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই নিরাপদ করা সম্ভব হবে।

আইজিপির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশন প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিশনের প্রধান এইচ. ই. মি. রজার ক্লেটন।

সাক্ষাতে নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রতিনিধিদলের প্রধান।

তিনি বলেন, পুলিশের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব পালনকালে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার এবং নিরাপত্তা দায়িত্বসংক্রান্ত ‘পকেট বুক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের পক্ষ থেকে আইজিপির কাছে একটি প্রশংসাপত্র হস্তান্তর করা হয়।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, নির্বাচনকালে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

তিনি জানান, বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে আগত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।

তামাকের ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ’ করার প্রস্তাব দেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের নামকরণে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটির বদলে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটির মধ্যে একটি ঢিলেঢালা ভাব থাকে, যা ‘প্রকাশ্যে নিষেধ’ শব্দটির মাধ্যমে কঠোর আইনি অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কে আইনে পরিণত করার আশা প্রকাশ করেন।

তামাক বিরোধী সংগঠন ‘আত্মা’ (অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স) এবং ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন বলেন, সমাজে তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতা থাকলেও ডাক্তার গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকের উপস্থাপনায় উঠে এসেছে যে এখনো তামাকজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

মন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর করেছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৫ সালে যখন সংসদ সদস্য ছিলাম, তখনই ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৫’ পাস হয়। আমি সেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।’

আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ উপস্থাপিত হবে। এর মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যাদেশ রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, এই আইনটির নামকরণে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দের বদলে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ করার প্রস্তাব দেব। এটি আমার সংসদীয় এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।’

আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি ‘আত্মা’ ও ‘প্রজ্ঞা’-কে একটি কার্যকর রূপরেখা বা গাইডলাইন তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সরকারের সহযোগিতার জন্য একটি পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য তা বাস্তবায়ন সহজ হবে।’

তথ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনটি হওয়ার সাথে সাথেই একটি ‘পজিটিভ ইকোসিস্টেম’ ডেভেলপ করার জন্য আমি একটি ‘ক্রিয়েটিভ ক্যাম্পেইন’ করার নির্দেশ আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে রাখব। যাতে জনমত তৈরি হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও সহজে এটি প্রয়োগ করতে পারে।’

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে অতীতের আবেগ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে ‘ফিউচার হোপ’ বা আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন। আমাদের দল তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, এনটিভির হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, চর্চা ডট কম-এর সম্পাদক সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকে তামাকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।