মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

যশোর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

বেনাপোলের অগ্রভুলোট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে পারভেজ (২১) নামে এক বাংলাদেশি গরুর রাখাল নিহত হয়েছেন।
রবিবার ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।পারভেজ সীমান্তবর্তী অগ্রভুলোট গ্রামের সুজন মাস্টারের ছেলে।83648_1

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে পারভেজসহ একদল রাখাল ভারত থেকে গরু নিয়ে ইসামতি নদী পার হয়ে দেশে ফিরছিলেন। এসময় ভারতের ঝাউডাঙ্গা সীমান্তের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পারভেজ গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি আনার পথে পারভেজ মারা যান।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র স্থানীয় গোগা ক্যাম্পের সুবেদার শামসুর রহমান খবরটি নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যার ঘটনায় বিএসএফকে অচিরেই তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

বিয়ে করছেন শোয়েব আখতার

পাকিস্তানের সাবেক তারকা শোয়েব আখতার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করবেন বলে পাকিস্তানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। শোয়েবের হবু স্ত্রী রুবাব পাকিস্তানের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর মেয়ে।image_85294_0

২০১১ সালের মার্চে শোয়েব পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। চলতি জুনের তৃতীয় সপ্তাহে সাবেক এই পাকিস্তানি তারকা বিয়ে করবেন বলে জিও টিভিকে জানিয়েছেন। পাত্রী রুবাবের পিতা মুশতাক আহমেদ হরিপুরের ব্যবসায়ী।

দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে শোয়ব আখতার ক্রিকেটের মাঠে ও মাঠের বাইরে নানা কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত সমালোচিত ছিলেন। ১৬৭ ওডিআই ম্যাচে ২৪৭ উইকেট নেন শোয়েব। পাশাপাশি ৪৬ টেস্টে ১৭৮ উইকেট দখল করেন। সূত্র: এনডিটিভি

রাজারবাগ পীরের মাইক বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি

রাজধানীর রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের মাইক বন্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শককে চিঠি দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় প্রচারণার নামে উচ্চশব্দে দিন-রাত মাইক বাজিয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে উল্লেখ করে এলাকাবাসীর এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ চিঠি দেয়া হয়।image_85263_0

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুরাইয়া পারভীন শেলী স্বাক্ষরিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর দেয়া চিঠি ঢাকা মাহনগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গেছে। সেখান থেকে শাজাহানপুর থানা পুলিশকে চিঠিটি দেয়া হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক মো. দাউদ শনিবার নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “আমরা চিঠি পেয়েছি। এ বিষয়ে শিগগির ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”

শান্তিবাগ, রাজারবাগ, শহীদবাগ ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাইয়েনাত গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমান তার অনুসারীদের নিয়ে সকাল, দুপুর ও গভীর রাত পর্যন্ত মাইকে গান-বাজনা করেন। এতে শব্দ দূষণে এলাকার বাসিন্দাদের ঘুম, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও রোগীদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে বহুবার থানা পুলিশে অভিযোগ করেও ফল না পেয়ে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। গত ৮ মে’র ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি শাজাহানপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিল্লুর রহমান নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী গ্রামের তাতী ও সুতা ব্যবসায়ী মৃত মোখলেছুর রাহমানের তৃতীয় পুত্র। তিনি নিজেকে ‘বাহরুল উলুম’ বা জ্ঞানের সমুদ্র বলে দাবি করেন।

রাজধানীর রাজারবাগে ৫ নং আউটার সার্কুলার রোডে মুহাম্মাদিয়া জামিয়া শারিফ ও সুন্নাতি জামে মাসজিদ হলো কথিত এই পীরের দারবার। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ভবনটির ছাদে চারপাশে মাইক লাগানো। এ বিষয়ে দরবারের খাদেম মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, হজরত মুহাম্মদ সা. এর জন্ম ও ইন্তেকালের দিন অর্থাৎ ঈদে মিলাদুন্নবীর সময় টানা ৫৮ দিন মাইক বাজিয়ে মাহফিল হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে তারা মাইকে ওয়াজ-নসিহত করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের অনেক কিছুই আমাদের বিপক্ষের লোকজনের খারাপ লাগে।”

দিল্লুর রহমানের দরবারের ভবনটির সঙ্গে লাগোয়া ‘শেলটেক সুরমা’ নামের ১৭ তলা ভবন। এখানকার ১০০টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের কানে সরাসরি দরবারের মাইকের শব্দ যায়। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে পীর ও তার অনুসারীদের ভালো সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেও তারা সন্তোষজনক ফল পাননি।

সরকারের কাছে চেয়ে লাভ নেই জোর করে আদায় করতে হবে’

প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “এই সরকারের কাছে কিছু চেয়ে লাভ নেই, জোর করে আদায় করতে হবে। বিদ্যুৎ আমাদের দরকার। তাই বলে যেটা আমাদের জন্য ক্ষতি হবে তার দরকার নেই।”image_85272_0

শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেন আয়োজিত ‘সুন্দরবন বিধ্বংসী সব সর্বনাশা কার্যক্রম বন্ধ করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের মদদে অরিয়ন গ্রুপ সুন্দরবনের ভেতরে আরো একটি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাঁয়তারা করছে।”

এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সুন্দরবন রক্ষার দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের বা গোষ্ঠীর নয়। এটা ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। এতে ব্যর্থ হওয়া মানেই সমগ্র জাতি ব্যর্থ হওয়া।”

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এতো আন্দোলনের পরও সরকার তাদের অবৈধ বাজেট ঘোষণায় সুন্দরবনকে ধ্বংসের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই নিজ দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।”

প্রবীণ এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরো বলেন, “বাংলাদেশের ভিত্তিটাই হচ্ছে সুন্দরবন। এর জীববৈচিত্র্য অসাধারণ। এরকম পৃথিবীর আর কোথাও নেই। একে রক্ষা করতে হবে। এ জাতীয় দাবি আদায়ে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। জনসাধারণ যখন চিৎকার করে উঠবে তখন সরকার পিছু হটতে বাধ্য হবে। এবং ১৬ কোটি মানুষের বিজয় হবে।”

বৈঠকে অন্য বক্তারা বলেন, এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আইন ১৯৯৫ ও সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্চেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এছাড়াও ইউনেস্কোভিত্তিক ঘোষিত ওয়াল্ড হেরিটেজের অতি নিকটে এরূপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ রামসার কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন।

একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে সুন্দরবনের পাশে বিধ্বংসী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বন্ধ করার জোর দাবি জানান।

বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন, লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন, ড. মো. শাহজাহান প্রমুখ।

মিয়ানমারকে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত বিজিবি

মিয়ানমার সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে, বাংলাদেশ পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের।সম্প্রতি মিজানুরের মৃত্যু ও সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা-সমাবেশ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।এছাড়া মিয়ানমারকে উসকানীমূলক আচরণ না করে সীমান্ত চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বানও জানান বিজিবি মহাপরিচালক।image_85235_0

২৮ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যাংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে মারা যান বিজিবি সদস্য মিজানুর। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকা এবং বিজিবিতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এরপর মিজানুরের মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে রহস্যজনক আচরণ ও সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা সমাবেশ নিয়ে গোটা দেশেই তৈরি হয় উৎকণ্ঠা। ৫ জুন দুদেশের পতাকা বৈঠকের আগেই, দেশে আসে মরদেহ আর বৈঠকে ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে, মিজানুরের অস্ত্রটিও ফিরিয়ে দেয় মিয়ানমার। সেনা সমাবেশের বিষয়েও ব্যাখ্যা আদায় করে বিজিবি।

পতাকা বৈঠকে প্রয়োজনে বাংলাদেশকেও সীমান্তে সেনা সমাবেশের আহ্বান জানায় মিয়ানমার। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় মীমাংসায়, আলোচনার পথই বেছে নেয় বিজিবি। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন হলে, বিজিবিই ব্যবস্থা নিতে সক্ষম বলে জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

পতাকা বৈঠকের পর, খুলে গেছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দুদেশের ডিজি পর্যায়ের আলোচনার দ্বার। এ অবস্থায় সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আজিজ আহমেদ।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় আমরাই বেশি উদার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের যুবশক্তি, স্বল্প মজুরি ও অন্যান্য সুবিধার কথা তুলে ধরে এদেশে বিনিয়োগ করতে চীনের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমরাই সবচেয়ে বেশি উদার।”image_85246_0

শনিবার সকালে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের হায়জেং সম্মেলন কেন্দ্রে নবম চায়না-সাউথ এশিয়া বিজনেস ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীনে রফতনি করছে চারশ ৫৮ দশমিক ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে চীন থেকে আমদানি করেছে ছয় দশমিক ৩০৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।” চীনের বাংলাদেশ থেকে আরো তৈরি পোশাক, ওষুধ, কুটির শিল্প, সিরামিক, চামড়াজাত পণ্য ও মাছ আমদানি করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশে চীনের আরো বিনিয়োগ দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা, মুনাফা ঘরে তোলা, জ্বালানির মূল্যের স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের শিল্প নীতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেয়া বিভিন্ন সুবিধার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে তাদের তৈরি পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য উন্নত দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।”

বাংলাদেশের যুবশক্তি ও স্বল্প মজুরির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থার জন্য দক্ষিণ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও চীনের তিন বিলিয়ন মানুষের কাছে বাংলাদেশের পণ্য সহজেই  পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।”

চীনের বিনিয়োগকারীদৈর জন্য চট্টগ্রামে পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের সাতটি অঞ্চলে পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ‘ইকনোমিক জোনস অ্যাক্ট-২০১০’ এর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, মানব সম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি, ব্যাংকিং খাতসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
ক্রমবর্ধমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চীনের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা আপনাদেরকে আমাদের লাভের অংশীদার হিসাবে দেখতে চাই এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আমাদের সহযাত্রী হিসাবে পেতে চাই।”

ব্যাপক অর্থনৈতিক ও কারিগরি অগ্রগতিতে চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হতে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

ফোরামে অন্যদের মধ্যে মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ জামিল আহমেদ, সার্কের মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা, সার্ক শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি ইসমাইল আসিফ, চীন কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেশের সচিব কিন গুয়াংরং এবং চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন কাউন্সিলের সভাপতি জিয়াং জেংউই বক্তব্য দেন।

নেতাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রীকে রিজভীর পরামর্শ

আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার কাছ থেকে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, যারা অতি উঁচু গলায় বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে নির্মম আক্রমণ চালিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে নিজেদের নেত্রীকে খুশি করছেন তাদের সম্পর্কে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঠিক ৭২-৭৫ এ যারা শেখ মুজিবুর রহমানের গুণকীর্তন করতেন তাদের অনেকেই তার লাশ ডিঙ্গিয়ে  খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় পদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষিক্ত হয়েছেন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।image_85259_0

৯ জুন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “এই নির্বাচনেও গায়ের জোরে নিজেদের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। নলডাঙ্গা বাসুদেবপুর বাজারে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছে। এতে বিএনপির প্রার্থীর বেশ কয়েকজন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন।”

সেখানে স্থানীয় প্রশাসন প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে চারদিকে মানুষের ধিক্কার উঠেছে। চাকরি বাঁচানোর জন্য দেশের শীর্ষ আমলারা যে কত নিচে নামতে পারেন, নির্বাচন কমিশন তার একটি উৎকৃষ্ট নমুনায় পরিণত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে সরকার এমন একটি চুম্বক যে সরকার যেদিকে ঘোরে, নির্বাচন কমিশনের কাঁটাও অপরিবর্তিতভাবে সেদিকেই ঘোরে।”

তিনি বলেন, “জনগণের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দিয়ে কন্ট্রাক্ট কিলিং চালিয়ে আওয়ামী ছোট-বড় ও পাতি নেতারা মনে করছে-এইভাবে বিএনপিকে বিলুপ্ত করা যাবে। এরকম রক্তাক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও তারা অতীতে চেষ্টা করে দেখেছেন, ফলে কী পরিণতি হয়েছিল তা দেশবাসী জানে।”

রিজভী বলেন, “যারা অতি উঁচু গলায় বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে নির্মম আক্রমণ চালিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে নিজেদের নেত্রীকে খুশি করছেন তাদের সম্পর্কেও আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঠিক ৭২-৭৫ এ যারা জোর গলায় মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের গুণকীর্তন করতেন তাদেরকেই দেখা গেছে ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত তার মন্ত্রিসভায় অবস্থান করতে। তাদের অনেকেই শেখ মুজিবের লাশ ডিঙ্গিয়ে মন্ত্রিসভায় পদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষিক্ত হয়েছেন। শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকার শেষ দিন পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তাজউদ্দিন আহমদ সাহেবকে ৭৪ সালেই মন্ত্রী থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। অথচ তাজউদ্দিন সাহেব নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের বিরোধী ছিলেন না।”

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন-জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হতো। এটাতো সবাই জানে যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেকে রাষ্ট্রের সব শক্তির উপরে নিজেকে ক্ষমতাশালী করে তুলেছেন। তাই উনি যখন যা মনে করেন সেটাই করতে পারেন। সেখানে আইন, বিচার, সাক্ষ্য, প্রমাণ, তদন্ত, জনমত কিছুই দরকার পড়ে না।”

“তবে আমরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই-জিয়া হত্যার নেপথ্য ঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় প্রকাশ পেলে আরো অভিযোগ উঠবে ভবিষ্যতে। জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের একটি পত্রিকা ডেইলি সানডেতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। সেখানেও কিন্তু জনমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেন আপনি বাংলাদেশে ঢোকার ১৩ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমান খুন হলেন? আর সেদিন আপনি বোরকা পরে বাংলাদেশের একটি সীমান্তে উপস্থিত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে চাচ্ছিলেন, কেনো? কোনো সত্য কখনোই ঢাকা দেয়া যায় না এবং সত্য কখনো অতীত হয় না। ” বলেন রিজভী।

আওয়ামী লীগকে অনাচারের দল হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ রক্তারক্তি, হত্যা, গুপ্তহত্যা ও ভোট ডাকাতিতে গভীরভাবে বিশ্বাসী একটি দল। ভোটদাতারা যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারেন সে ব্যবস্থাই করছে দলটি। এরা গণতন্ত্র বলতে বোঝে কেবল নিজেদের খেয়ালখুশি মতো স্বাধীনভাবে দাপিয়ে বেড়ানোকে।”

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, “বর্তমান অবৈধ সরকারের সময় দুর্নীতির বিষাক্ত জীবাণু আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্ব মিডিয়ায় সেসব কর্মকাণ্ড শিরোনামও হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিশেষ করে র্যা ব আজ শিশুদের ঘুম পাড়ানোর ভয়ঙ্কর বর্গিতে পরিণত হয়েছে।”

গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা না থাকলে বিনিয়োগ হবে না

প্রস্তাবিত বাজটকে স্বপ্ন-বিলাসী মন্তব্য করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ বলেছেন, বাজেট নিয়ে স্বপ্ন বিলাস করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত হবে না।শনিবার রাজধানীর বনানীতে দলীয় কার্যালয়ে বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।83621_1

এরশাদ বলেন, ‘যে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয় তাকে আমরা সফল বাজেট বলবো না। আমরা বাজেটকে স্বাগত জানাইনি, বরং এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছি।’

তিনি বলেন, দেশে সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশ বজায় না থাকলে বৈদেশিক বিনিয়োগ যেমন শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে, তেমনি দেশীয় বিনিয়োগ ব্যাহত হবে।

বাজেটে পোশাক খাতের ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান সাবেক এই সেনাশাসক।

এছাড়া অর্থমন্ত্রীর বারত দিয়ে এরশাদ বলেন, প্রবাসী আয় কমে গেছে। এটি নেতিবাচক বার্তা।

এরশাদ বলেন, ‘এ বাজেটে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা ছাড়া আর কোনো খাতে পর্যাপ্ত বাজেট গ্রহণ করা হয়নি। আমরা সংসদে বাজেটের ব্যাপারে কথা বলবো।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ফয়সাল চিশতী, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

মিশরে আন্দোলন চালিয়ে যেতে মুরসির আহ্বান

মিশরে জালিম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত ও কারাবন্দি প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।কারাগার থেকে পাঠানো তার এ বার্তা মুরসির টুইটারে প্রকাশ করা হয়েছে।83613_1

মুরসি বিরোধী সামরিক অভ্যুত্থানের নায়ক জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার এক দিন পর এ বার্তা প্রকাশিত হয়।

বার্তায় মিশরের জনগণকে সেনা সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘অচিরেই বিপ্লব সফল হবে।’

নিজ সমর্থকদের কাছে লেখা মুরসির বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আপনাদের প্রতি মিশরের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে। আপনারা বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করে দেবেন বলে জনগণ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে.. বিপ্লব আপনাদের ওপর নির্ভর করছে এবং আমার বিশ্বাস আপনারা এ
বিপ্লবকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবেন।’

কারাগার থেকে পাঠানো এ বার্তায় মুরসি ক্ষমতায় থাকাকালে ‘কিছু ভুল’ করার কথা স্বীকার করেছেন। সেইসঙ্গে দুর্নীতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি সঠিক কাজ যেমন করেছি তেমনি আমার কিছু ভুলও
ছিল। কিন্তু আমি আপনাদের বা এই দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না।’

গত বছর জুলাই মাসে ব্রাদারহুড নেতা ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত
করেন জেনারেল সিসি। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হাজার হাজার ব্রাদারহুড কর্মী নিহত হন। আরো হাজার হাজার মুরসি সমর্থককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়।

এরই মধ্যে প্রহসনের বিচারে সেনা সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দায়ে শত শত ব্রাদারহুড কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ রাজ্যে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী

যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম।যুক্তরাষ্ট্রের তিন চতুর্থাংশ মানুষ এখনো নিজেদের খ্রিস্টান বলে পরিচয় দিচ্ছে।US_1
অর্ধেকের বেশি লোক নিজেদের প্রটেস্ট্যান্ট, ২৩ শতাংশ নিজেদের ক্যাথলিক এবং ২ শতাংশ মর্মন বলে পরিচয় দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে খ্রিস্টানদের পরেই রয়েছে বৌদ্ধদের অবস্থান।
তবে মধ্য পশ্চিম ও দক্ষিণের  ২০টি রাজ্যে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী।
উত্তরপূর্বের ১৫টি রাজ্যে ইহুদিরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী। আরিজোনা ও ডেলাওয়ারের হিন্দুরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী।
যুক্তরাষ্ট্রে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে।ছবিতে যেসব অঙ্গরাজ্যে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী তা সবুজ রংয়ে দেখানো হয়েছে।

সূত্র: ফ্রন্টপেজ ম্যাগাজিন ও প্রেস হেরাল্ড