মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

মোদিকে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ১৩ জুলাই ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।image_86558_0

ইকোনমিকস টাইমস এর বরাত দিতে সোমবার এ সংবাদ জানিয়েছে গোল ডটকম।

১৩ জুলাইয়ের ফাইনালে চীনের প্রেসিডেন্ট জাই জিংপিং, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট এর সঙ্গে মোদি উপস্থিত থেকে খেলা দেখবেন বলে আশা করা হয়।

আগামী ১৫-১৭ জুলাই ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরোতে BRICS (ব্রিকস) এর ষষ্ঠ সম্মেলন হওয়ার কথা। প্রতিবছরই ব্রিকস এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর ব্রাজিলে বৈঠক অনুষ্ঠিতত হহবে।

BRICS হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ জাতির অর্থনৈতিক জোট।  -ইন্টারনেট

নার্ভাস ছিলাম: মেসি

রোববার রিও ডি জেনেরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোভিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ‘দ্বিধাদ্বন্দ্ব’ ও ‘চাপ’কে জয় করেছেন বলে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি জানান। রোববার ম্যাচ শেষে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।image_86564_0

লিওনেল মেসি  বলেন,“গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে খেলা খুব সহজ নয়। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম, নার্ভাসনেসেও ভুগছিলাম। এটা আসলে সব খেলার শুরুতেই হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলায় আমরা জয়লাভ করেছি।”

বসনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে সাবেলা  ৫-৩-২ ফর্মেশনে খেলিয়েছেন মেসিদের। তখন মেসি স্বাচ্ছ্বন্দ্য অনুভব করেননি বলে জানান। তিনি বলেন, “আমি একা হয়ে পড়েছিলাম, আগুয়েরোও একা ছিলো। এভাবে খেলা অনেক কঠিন।”

দ্বিতীয়ার্ধে সাবেলা আবার ফিরে যান ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। তখনই মেসি নিজেকে ফিরে পান। এ সম্পর্কে ‘এলএম টেন’ বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনায় সফল হয়েছি। যদি আমরা এটা না করতাম তবে হয়তো আমাদের অনেক ভুগতে হতো। দ্বিতীয়র্ধে আমরা যেমন খেলেছি পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আমরা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”

রোববারের ম্যাচে দর্শকদের আবেগও ছুঁয়ে গেছে মেসিকে। তাই তিনি বলেন, “দর্শকরা আমাদের যেভাবে সমর্থন জানিয়েছে সেটি সত্যিই বিরাট ব্যাপার। আমরা আশা করি, বেলো হোরাইজন্ত এবং পোর্টো আলেগ্রতেও আমাদের এভাবেই উৎসাহ যোগাবেন দর্শকরা। আমরা আমাদের সহজ আর স্বাভাবিক খেলাটিই খেলবো এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবো স্বপ্নের দিকে্।”     -ওয়েবসাইট

রাফিউর রাব্বির রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাফিউর রাব্বির প্রার্থিতা খারিজের বিরুদ্ধে করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।image_86562_0

সোমবার রিটটির শুনানির এক পর্যায়ে আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহ মো. মুনীর শরীফ।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, আবেদনটি আদালত কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। এরপর অন্য কোনো বেঞ্চে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

রিটকারী রাফিউর রাব্বির সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখনো বিষয়টি জানি না। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে দেখি।”

ঋণখেলাপি হওয়ায় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেয়া ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় ত্রুটি থাকায় গত ১ জুন রোববার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাফিউর রাব্বির মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।

এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে রাফিউর রাব্বির নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কিন্তু ৮ জুন আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৯ জুন রিট করেন রাফিউর রাব্বি।

গত ২৯ এপ্রিল সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। আগামী ২৬ জুন ওই আসনের উপ-র্নিবাচন অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ সদর (আংশিক) ও বন্দর উপজেলা নিয়ে গঠিত।

এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, নাগরিক পরিষদের প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মামুন সিরাজুল মজিদ।

খালেদার রিট, তৃতীয় বেঞ্চে শুনানি বুধবার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ফান্ড মামলায় অভিযোগ গঠনকারী বিচারকের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার রিটে দ্বিধাবিভক্তি আদেশ নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৮ বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে।image_86542_0

সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের একক বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য সময় নির্ধারণ করেন।

এছাড়া কোর্ট কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাদী পক্ষকে রায়ের সত্যায়িত কপি সরবরাহের নির্দেশও দেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী রায়ের সত্যায়িত কপি না পাওয়ায় সময় আবেদন করেন।

এর আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রিটের শুনানি শেষে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেয়ায় আবেদনের নিষ্পত্তি করতে তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ মে হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ বিভক্ত আদেশ দেন।

জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ্ মাহবুব বিচারিক আদালতে মামলা দু’টির কার্যক্রমের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন ও পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে মামলা দু’টির অভিযোগ গঠনকারী বিচারক বাসু দেব রায়ের নিয়োগকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়।

অপরদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ খালেদা জিয়ার রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন।

গত ১২ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এ রিট আবেদন দায়ের করেন।

রমনা বোমা হামলা মামলার রায় ২৩ জুন

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলার রায় পিছিয়েছে। ১৩ বছর পর সোমবার রায় হওয়ার কথা থাকলেও রায়ের কপি প্রস্তুত না হওয়ায় ২৩ জুন তারিখ নির্ধারণ করা করেন আদালত।image_86450_0

সোমবার সকালে এ মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক এজলাসে উঠে জানান, এই রায়ের কপি এখনো প্রস্তুত হয়নি, আগামী ২৩ জুন আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

গত ২৮ মে বুধবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন আসামিপক্ষে যুক্ততর্ক উপস্থাপনের শেষে ১৬ জুন রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

গত ৫ মে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো. ইউসুফের পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন।  গত বছরের  ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলাটির ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন অনেকে।

নৃশংসতম এ বোমা হামলা মামলাটির তদন্তে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করা হয়। অবশেষে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। মামলাটিতে ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

মামলার ১৪ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, আরিফ হাসান সুমন, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মওলানা আব্দুর রউফ, মওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ মওলানা ইয়াহিয়া ও মওলানা আকবর হোসাইন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এছাড়া আসামি মাওলানা মো. তাজউদ্দিন,  হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আব্দুল হাই পলাতক আছেন। ১৩ বছর  পরে এ মামলার রায় হতে যাচ্ছে।

নতুন কৌশলে হেফাজত!

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া এবং না দেয়া নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত বিএনপির টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আর কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে ব্যবহৃত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। অবশ্য হেফাজতে ইসলামের এ অবস্থানকে সাময়িক কৌশল হিসেবেই দেখছে বিএনপি এবং ইসলামপন্থী নেতারা। খবর সময় টেলিভিশনের।image_86531_0

প্রস্তাবিত নারী নীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম থেকেই কর্মসূচি শুরু করেছিল বহুল আলোচিত হেফাজতে ইসলাম। আর প্রথম থেকেই ধর্মীয় এ সংগঠনটিকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছিল বিএনপি। গত বছরের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের স্থায়ী অবস্থানের পক্ষে বেগম খালেদা জিয়া সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে ওই ঘটনার পর হেফাজতে ইসলামে নানা মেরুকরণ ঘটে।

এদিকে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সরকারবিরোধী গণঅবস্থানে অংশ নেয়ার জন্য হেফাজতকে আহ্বান জানালেও সাড়া দেয়নি তারা। পরবর্তী সময়ে হেফাজত ইসলামের আমির নিজেই ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। সংগঠনটির সবশেষ সিদ্ধান্ত অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করবেন না তারা।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, “১৩ দফার ঈমানি দায়িত্ব নিয়ে আমরা মঠে কাজ করছি, কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ আমাদের নেই, কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থ হাসিলের জন্য হেফাজতে ইসলাম কখনো ব্যবহৃত হবে না।”

হেফাজতের মধ্যে ৪-৫টি ইসলামী রাজনৈতিক দল থাকলেও সংগঠনের ফোরামে রাজনৈতিক ইস্যু থাকবে না বলে জানান তিনি।

তবে ইসলামপন্থী নেতা অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার মনে করেন, নতুন করে জনসমর্থন আদায়ের জন্য হেফাজতে ইসলাম এসব কথা বলছে। তিনি বলেন, “যেসব মানুষ আবেগবশত তাদের পক্ষে গিয়েছিলো, তাদের অনেকেই আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে, তাই এটি সাধারণ মানুষকে সামনে আনার একটি কৌশল হতে পারে।”

অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, হেফাজতে ইসলামের বর্তমান অবস্থান প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে কৌশলমাত্র।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, “প্রতিটি সংগঠনের তাদের কৌশল কর্মপদ্ধতি থাকে, হেফাজতও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে।”

গত বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়। আর এসব মামলার আসামি হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। তবে বর্তমানে সংগঠনের অনেক নেতা প্রকাশ্যে থাকলেও তাদের গ্রেফতারে ইদানীং কোনো পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়েনি।

প্রধানমন্ত্রীর নয়, উন্মাদের সংবাদ সম্মেলন: গয়েশ্বর

চীন থেকে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনকে উন্মাদের সংবাদ সম্মেলন বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তাতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনকে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বললে জাতির সম্মান নষ্ট হবে, জাতি লজ্জিত হবে।”image_86559_0

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস পালন উপলক্ষে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গয়েশ্বর এসব কথা বলেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের রহমাতুল্লার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষায়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রিপন, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

‘খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রিমান্ডে নিলে জিয়ার খুনিদের নাম বেরিয়ে আসবে’ শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, “খালেদা ও তারেককে নয়, শেখ হাসিনাকে রিমান্ডে নিলে জিয়াউর রহমানের খুনির নাম বেরিয়ে আসবে। শেখ হাসিনা আপনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে কেন জিয়া হত্যার বিচার করেনি। আপনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সামনে যখন জিয়াউর রহমান হত্যার বিচারের জন্য তদন্ত করা হবে তখন আপনি (শেখ হাসিনা) সহযোগিতা করবেন। আশা করব রাজপথে হরতাল আগুন জ্বালাবেন না।”

তিনি বলেন, “সংবাদপত্র শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়। সংবাদপত্র ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ হয় না। আওয়ামী লীগ অনেক টেলিভিশন, পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। লাইসেন্স বাতিল করেছে। আওয়ামী লীগ আমাদের পথ দেখিয়েছেন। আপনারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আমাদেরও সংবাদপত্র বন্ধ করতে হয়।”

বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “জিয়া পরিবার খালেদা জিয়া-তারেক ও কোকো এই তিনজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সবই জিয়া পরিবার বিস্তৃত। তারেক রহমানের একটি বই লিখেছেন যা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করবে। আর এতে যদি না হয় তাহলে তাদের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটবে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর বলেন, “আপনারা নিউজ করে সুনাম অর্জন করেন। তেমনি আমাদের নিয়ে একটা নিউজ হলেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হয়। আপনাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তাই বলে কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা নিউজ করবেন না। এ পথ পরিহার করুন। কারো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার দায়িত্ব নেবেন না।”

রাজধানীতে ব্যবসায়ী খুন, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

রাজধানীর বাসাবো এলাকার একটি বাড়ি থেকে বাচ্চু মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় দক্ষিণ বাসাবো ওয়াহাব কলোনীর ৪৩৯ নম্বর বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, দুর্বৃত্তরা বাচ্চুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরের বাহির থেকে তালা ঝুলিয়ে রেখে গেছে। রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।khun

জানা গেছে, বাচ্চুর নয়া পল্টনের পলওয়েল মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি দোকান আছে। বাড়িটি বেশ কিছুদিন আগে বাচ্চু ও তার বড় ভাই কেনেন। এরপর থেকে দুই ভাই পালাক্রমে ওই বাড়িতে রাত্রি যাপন করতেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটির জায়গার মালিকানা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। জমি সংক্রান্ত ঝামেলার জেরেই দুর্বৃত্তরা বাচ্চুকে হত্যা করে ঘরের বাহির থেকে তালা ঝুলিয়ে রেখে গেছে।

সবুজবাগ থানার এসআই আশরাফ হোসেন জানান, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই বাড়ির দরজার তালা ভেঙে রাতে বাচ্চুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাচ্চুর পরিবারের লোকজন অন্য এলাকায় বসবাস করেন। বেশ কিছু দিন আগে ওই বাড়িটি কেনার পর থেকে তারা দুই ভাই পালাক্রমে প্রতিরাতে ওই বাড়িতে ঘুমাতেন। গত শনিবার রাতে দোকান বন্ধ করে ওয়াহাব কলোনির বাসায় ঘুমাতে যান। এরপর রোববার বাচ্চুর কোনো খবর না পেয়ে পরিবারের লোকজন দুপুরে ওই বাড়িতে খুঁজতে গিয়ে ঘরে তালা লাগানো দেখে। পরে বিকেলে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন তারা।

এসআই আশরাফ বলেন, বাচ্চুর বড় ভাই পুলিশকে জানিয়েছে তার সঙ্গে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সর্বশেষ কথা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে বাচ্চুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিয়া বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে রাতে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে রাজধানীর কাফরুলে ফৌজিয়া রুম্পা (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে কলাবাগানের রেলান হাসাপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কাফরুলে ৬৬৩ নম্বর ইব্রাহিম পুরে শ্বশুড়বাড়িতে থাকতেন।

কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুন্সি রাসেল জানান, লোক মারফত খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, গত ১১ জুন রুম্পার স্বামী তাকে মারধর করে। পরে তাকে কালাবাগানের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুম্পার মৃত্যু হয়। রাত সাড়ে ১২টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত রুম্পার স্বজনদের পরিচয় ও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঢাকায়

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন।image_86532_0

সোমবার সকাল ৯টা ৫০মিনিটে একটি বিশেষ বিমানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন হুন সেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।

এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে দু’দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি এবং একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।

চুক্তি তিনটি হচ্ছে: উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা, দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের নিয়মিত বৈঠক এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতাবিষয়ক। এছাড়া কৃষিখাতে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও রয়েছে।

বাংলাদেশে উর্দুভাষী: কতটা মিশতে পারছে মূলস্রোতে

ঢাকার মিরপুরে উর্দুভাষী ও স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রোববার ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পের ভেতরে থাকা লোকজন এবং স্থানীয়দের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে।image_86502_0

রোববার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে বিহারি নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী বিক্ষোভ করেছেন হতাহতের প্রতিবাদ জানিয়ে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যাম্পে চার দশকের বেশি সময় ধরে বাস করা এসব উর্দুভাষীদের সাথে ও স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যেকার সম্পর্ক কোন পর্যায়ে রয়েছে?

ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার জন্ম খালেদ হোসেনের। জন্মসূত্রেই বাংলাদেশের নাগরিক মি. হোসেন পড়াশোনা শেষে এখন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

তিনি বলছিলেন উর্দুভাষী হিসেবে জেনেভা ক্যাম্পে জন্ম নেয়াই তাকে এই পর্যন্ত আসতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে সেসব প্রশাসনিক জটিলতা।

ক্যাম্পে বা ক্যাম্পের বাইরে বসবাসের সময় স্থানীয় বাঙ্গালীদের সাথে সম্পর্কের তেমন কোন টানাপোড়েনের মধ্যে তিনি পড়েননি।

মি: হোসেন বলেন, “জন্মের পরেই দেখলাম আমি জেনেভা ক্যাম্পে, বাবা-মা আটকে পরা পাকিস্তানি। আমি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলাম, গ্রাজুয়েশন করলাম এখন ল’ প্রাকটিস করছি। অনেক ডিসক্রিমিনেশনের শিকার হতে হয়েছে। তবে কিছু ভালো মানুষ অবশ্যই ছিল যাদের অনেক সাহায্য পেয়েছি।”

ঢাকায় যে কয়টি ক্যাম্প রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মিরপুরের কালসির বিহারি ক্যাম্প। দীর্ঘদিন ধরে এর পাশেই বাস করছেন মেহেরুন্নিসা হক।

তিনি বলছিলেন ১৯৭৩ সালে যখন তারা এখানে থাকা শুরু করেন তখন কিছুটা অস্বস্তি কাজ করলেও সময়ের আবর্তে তাদের সম্পর্ক একে অপরের কাছে খুব ভালো প্রতিবেশী হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।

মিসেস হক বলছিলেন,“১৯৭৩ সালে যখন থাকতে আসি তখন সম্পর্ক খুব ভাল না থাকলেও খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু এখন অনেক ভালো। আমাদের বাজার এক, আমরা একই কলের পানি খায়। কখনো আলাদা কিছু মনে হয়নি।”

বাংলাদেশের এসব উর্দুভাষী যারা বিহারি নামেই বেশি পরিচিত তাদের জন্য সারা দেশে ১১৬টি ক্যাম্প রয়েছে। ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে আনুমানিক ছয় লাখের মতো উর্দুভাষী এসব মানুষ বাস করছেন।

বাংলাদেশে গত চার দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে এসব উর্দুভাষী মানুষ- যাদের কেও কেও নিজেদের নিজেদের আটকে পড়া পাকিস্তানি হিসেবে পরিচয় দেন।

এদের বেশির ভাগেরই জন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। এসব উর্দুভাষী মানুষ বাংলাদেশের মূল সমাজের সাথে তারা কতটা মিশতে পেরেছেন?

উর্দুভাষীদের সংগঠন উর্দু স্পিকিং পিউপিলস ইয়ুথ রিহেবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতি সাদাকাত খান বলছিলেন স্থানীয় বাঙালিদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো।

তবে ১৯৯৫ সালের তাদের ক্যাম্পের জমির ওপর স্থানীয় বাঙালিদের জন্য তৎকালীন সরকারের দেয়া প্লট বরাদ্দের কারণেই তার ভাষায় বহিরাগতদের সাথে তাদের এই সমস্যাগুলোর সূত্রপাত হয়।

মি: খানের বর্ণনায়, “আমাদের বাড়িঘর যেখানে ছিল সেখানে সরকার ক্যাম্প করে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে এই জমির ওপর স্থানীয় বাঙালিদের প্লট অ্যালোটমেন্ট দেয়া হয়। তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন এসে এখানে স্থানীয় মাস্তানদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ অবস্থা দূর করার জন্য সরকারকে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা দূর করতে হবে।”

২০০৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্দুভাষী এ জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করা হয়।

ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে অনেকেই রয়েছেন যারা পড়াশোনা শেষে কর্মজীবন শুরু করেছেন মিশে গেছেন সমাজের মুল স্রোতে।

তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মূলত স্থানীয়দের সাথে তাদের এই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে মনে করেছেন উর্দুভাষী এই জনগোষ্ঠী।– বিবিসি।