বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাসচাপায় ফিলিস্তিনি নিহত

israilপশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাসচাপায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অপর দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারাতা গ্রামে ইসরাইলি সেনা চেক পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

বাসচাপায় আহত ফিলিস্তিনির নাম নূর হাসান সালেম (২১)। বাসচাপায় আহত সালেমের চাচাতো ভাই ও বন্ধুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত শাহের বালালেম জানান, “বাসটি চাপা দেবার আগে বারাতা গ্রামের সড়ক দিয়ে আমরা হাঁটছিলাম। বাসটি সরাসরি আমাদের ওপর তুলে দেয়া হয়।”

ঠিক কি কারণে এ বাস হামলাটি হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০০৩ সালে আলাদা দেয়াল বানানোর পর থেকেই পশ্চিম তীরের পূর্বাংশের বারাতা গ্রামটি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানাকার স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন দেয়াল তৈরির পর থেকে ইসরাইলি সেনা ও ইহুদিদের হামলার ঘটনা ঘটছে।

এ বছরের জুন মাসে পশ্চিম তীরে তিন ইহুদি কিশোর অপহরণের ঘটনার পর থেকেই পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে উত্তেজনা বিরাজ করছে। –আল-জাজিরা।

মাশরাফির জোড়া আঘাতে ব্যাকফুটে জিম্বাবুয়ে

masrafiii২৯৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে মাশরাফির জোড়া আঘাতে ব্যাকফুটে চলে গেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। ২২ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছে সফরকারী দলটি। ফিরে গেছেন ভুসি সিবান্দা ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ভুসি সিবান্দাকে আউট করে মিরপুর স্টেডিয়ামে ‘গর্জন’ তুলেন টাইগার দলনায়ক মাশরাফি। দলীয় তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে মাশরাফিকে তুলে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন সিবান্দা। আরাফাত সানি কট ধরে সিবান্দাকে সাজঘরের পথ দেখান।

পরের ওভারে সফরকারী শিবিরে আবার আঘাত আনেন মাশরাফি। লেগ স্ট্যাম্পের ওপর দিয়ে লাফিয়ে ওঠা বল মাসাকাদজার ব্যাটে লেগে মুশফিকের হাতে জমা পড়লে সাজঘরে ফিরতে হয় জিম্বাবুয়ের এই ওপেনারকে। তবে সাজঘরে ফেরার সময় আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তে প্রতি নিজের নাখোশ ও রাগ উপড়ে দেন এই জিম্বাবুইয়ান।

শেষ খবর পাওয়া পর্য ন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৬ রান। ব্রেন্ডন টেলর ৪ ও মারুমা ০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে টাইগাররা ৬ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের হয়ে এনামুল হক বিজয় সর্বোচ্চ ৯৫ রান করেন। তার ১২০ বলের ইনিংসটি ৯টি চারে সাজানো ছিলো। এছাড়া তামিম ৪০, সাকিব ৪০, মুশফিক ৩৩, মাহমুদুল্লাহ ৩৩ এবং সাব্বির করেন ২২ রান।

জিম্বাবুয়ের হয়ে টিনাশে পানিয়াঙ্গারা সর্বোচ্চ ২টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া মাদজিবা, মাসাকাদজা ও কামুনগজি একটি করে উইকেট লাভ করেন।

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচণা এনে দেন।  এই দুজন তুলেন ১২১ রান। দলীয় ১২১ রানে ব্যক্তিগত ৪০ রান করে রান আউটের শিকার হন তামিম। তামিম ফিরে গেলেও মুমিনুলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এনামুল। তবে ১৬০ থেকে ১৬৭- এই ৭ রানের মধ্যে মুমিনুল ও এনামুল ফিরে গেলে কিছুটা ধাক্কা খায় টাইগাররা। সেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতেই সাজঘরে ফেরেন এনামুল।

এরপর সেখান থেকে স্বাগতিকদের উদ্ধার করেন সাকিব ও মুশফিক। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুজন ৭২ রান তুলতে বড় সংগ্রহের দিকে যায় মাশরাফির দল।

দলীয় ২৩৯ থেকে ২৪৪- এই ৫ রানের মধ্যে সাকিব ও মুশফিক ফিরে গেলেও মাহমুদুল্লাহ ও সাব্বিরের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ২৯৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোক করতে সক্ষম হয় টাইগাররা। সাকিব-মুশফিকের পর মাহমুদুল্লাহ ও সাব্বিরের দারুণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে শেষ ৫৬ বলে ৯৭ রান করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা।

সাকিবের ৪০ রান আসে মাত্র ৩৩ বলে। মুশফিক ৩৩ রান করেন ২২ বলে আর মাহমুদুল্লাহর ৩৩ রান আসে ২৬ বলে। সাব্বির রহমান ২২ রান করনে খেলেন ১৩ বল।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজে আপাতত ২-০ তে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

যৌন হয়রানি বিষয়ে সচেতন নন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

rapeeeকোন ঘটনাগুলো আসলে যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে তা নিয়ে কোনো রকম ধারণাই নেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। আর এ কারণেই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি বেড়েই চলেছে। আর এগুলো এমনভাবে ঘটছে যা চেপে যাওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যৌন নির্যাতন অভিযোগ কমিটির এক শিক্ষক জানিয়েছেন, “হাইকোর্টের নিয়মানুযায়ী কোন বিষয়গুলো যৌন হয়রানিতে পড়ে তার ব্যাপারে অনেকটা অন্ধকারেই রয়ে গেছে ছাত্ররা।”

তিনি বলেন, “ছাত্রীরাও জানে না কোন ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনা তারা প্রকাশ করবে কিংবা কিভাবে জানাবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক আরো জানান, “গত আড়াই বছরে তারা চারটি যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি শিক্ষার্থী এবং অপরটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে।”

তিনি বলেন, “অধিকাংশ যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে স্নাতক পর্যায়ের নিচের শ্রেণীগুলোতে। সে তুলনায় স্নাতক পর্যায়ে এ ঘটনা খুবই কম ঘটে থাকে।”

২০০৯ সালে হাইকোর্টের এক রুল অনুসারে যৌন হয়রানি বন্ধে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ অনুষদের শিক্ষার্থী জানেন না কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটি কাজ করে থাকে। তন্ময় নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “এক সপ্তাহ আগেই আমি একটি যৌন হয়রানির ঘটনা দেখেছি। সেখানে দেখলাম এক ছাত্র আরেক ছাত্রীকে ইভটিজিং করছে। তাকে যৌন হয়রানিমূলক ভাষা প্রয়োগ করতে দেখেছি।”

তিনি জানান, “আমি ওই ছাত্রীর পক্ষ হয়ে যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটির কাছে নালিশ করবো।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, “দুই বছর আগে শিক্ষকের যৌন হয়রানির জন্য আমি বিভাগীয় প্রধানের কাছে নালিশ করেছিলাম। কিন্তু আমি তা যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটির কাছে বলিনি।”

ওই শিক্ষার্থী জানান, “বেশ কিছু দিন ধরেই স্যার চাচ্ছিলেন আমার কাছে আসার জন্য। যখন আমি তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলাম তিনি ভয় দেখালেন একাডেমিক ক্ষতির।তার বার বার কু-প্রস্তাবের কারণে আমি দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারিনি।অবশেষে আমি আমার শিক্ষাজীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিভাগীয় প্রধানের কাছে লিখিত আবেদন জানাই।”

অভিযোগের পর ওই শিক্ষককে নিষেধ করা হয় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ক্লাসে না যাবার জন্য। এর কয়েক মাস পরই অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানান, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটির বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি করা।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটির সভাপতি মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, “আমার কমিটির বিষয়ে প্রচারণা চালাতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটকে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো আমরা তেমন কোনো অগ্রগতি দেখিনি।”

তিনি বলেন, “যৌন হয়রানি বন্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা প্রতিটি বিভাগে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক নির্দেশনা পাঠিয়েছি।”

মাহবুবা কানিজ কেয়া জানান, “যৌন হয়রানির অনেক ঘটনা ঘটে থাকলেও আমরা খুব কমি তার নালিশ পাই। কারণ পুরষ শাসিত সমাজের ধারণা থেকে মেয়েরা অভিযোগ করতে ভয় পায়। এমনকি ভবিষ্যতের কোন হুমকি এড়াতে তারা নালিশ থেকে দূরে থাকে।”

২০১১ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কমিটি গঠনের পর তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায়, তিন শিক্ষক এবং এক নির্দেশককে যৌন হয়রানির অভিযোগে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর রাশেদা আক্তার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে যৌন হয়রানির অনেক অভিযোগ আসে। আর তিনি তা কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেন।”

তিনি বলেন, “গত চার বছরে কমিটির কাছে নয়টি অভিযোগ এসে জমা পড়েছে। এর মধ্যে চারটি ঘটনা এ বছর সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ছাত্র এবং একটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে।”

রাশেদা আক্তার বলেন, “কেবল একটি ব্যতীত, কারণ এর অভিযোগকারী এখন বিদেশে রয়েছেন। এছাড়া বাকি সব অভিযোগের আমরা তদন্ত করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিয়েছি।”

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা কম তৈরি হচ্ছে দাবি করে রাশেদা আক্তার বলেন, “যৌন হয়রানির বিষয়ে হাইকোর্টের রুলের বিস্তারিত আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে বুকলেট আকারে পৌঁছে দিয়েছি। যৌন হয়রানি মোকাবেলায় তাদের কি করতে হবে সেখানে তাও উল্লেখ আছে।”

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সামাজিক মনোবিজ্ঞানী নওশিন নাহার বলেন, “যৌন হয়রানি বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কোনো বুকলেট দিইনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি আমরা কর্মশালা ও পোস্টারিং করেছি।”

নাহার বলেন, “অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েরা সামাজিক প্রত্যাখানের ভয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে চায় না। এছাড়া তাদের পারিবারিক ভয়ও রয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক মহিলা শিক্ষার্থী জানান, “পারিবারিক চাপের কারণেই অনেকে যৌন হয়রানি অভিযোগ থেকে দূরে থাকেন।” এক মাসে আগে তিনি নিজেও প্রভাবশালী এক ছাত্র নেতার প্রস্তাবের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “আমি প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে, সে বেশ কয়েকবার আমাকে চড় দেয়। এর এক পর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে যাই। আমার দুই বান্ধবী আমার দিকে এগিয়ে আসলে সে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।”এ ঘটনার পর প্রভাবশালী ওই ছাত্র নেতা ঘটনা না প্রকাশের জন্য ফোনে হুমকি প্রদান করে বলেও জানান ওই শিক্ষার্থী।

তিনি জানান, “আমি এ ঘটনাটি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাইলে বন্ধুরা তাতে রাজি হয়নি। পরে আমি তা মা-বাবার কাছে প্রকাশ করি।”

তিনি বলেন, “আমাকে শান্তনা না দিয়ে, বাবা বলেন, আমি যেন এ ঘটনা কোথাও প্রকাশ না করি।”

ওই শিক্ষার্থী জানান, “এ ঘটনার জন্য আমার পোশাককে কারণ হিসেবে মা অভিযোগ করলে আরো কষ্ট বেড়ে যায়। তিনি আমাকে পরামর্শ দেন আমি যেন ক্যাম্পাসে সব সময় পর্দা করে যাই। এর একদিন পরই মা রাজশাহীতে আসেন এবং আমাকে নেকাব কিনে দেন। এরপর থেকে আমি নেকাব পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই।”

হাইকোর্টের রুল অনুসারে যে বিষয়গুলো যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে তা হলো:
১. সরাসরি কিংবা কারো ইচ্ছায় কাউকে শারীরিকভাবে লাহ্ছিত করা বা তার দিকে অগ্রসর হওয়া।

২. প্রশাসন , কর্তৃপক্ষ কিংবা কোন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির অপপ্রয়োগে কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন কিংবা স্থাপনের চেষ্টা করা।

৩. যৌন হয়রানিমূলক বাচনগত অঙ্গি-ভঙ্গি।
৪. যৌন আচরণের জন্য দাবি কিংবা আবেদন।
৫. পর্ণোগ্রাফি প্রচার করা।

৬. যৌনতামূলক কথাবার্তা কিংবা অঙ্গি-ভঙ্গি।
৭. অশালীন অঙ্গ-ভঙ্গি, বাজে কথা বলে বিরক্ত করা, গোপনে কারো দিকে এগিয়ে যাওয়া, যৌন বিষয়ে উপহাস করা।

৮. চিঠি দিয়ে অপমান করা, ফোন-মোবাইলে কল করা, এসএমএস করা, জোর করে বিরক্ত করা, নোটিশ, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, দেয়াল, ফ্যাক্টরি, শ্রেণীকক্ষ, বাথরুমে যৌন ইঙ্গিতময় লেখালেখি।

৯. কাউকে ব্ল্যাকমেইল কিংবা চরিত্র হননের জন্য স্থির চিত্র কিংবা ভিডিও ধারণ করা।
১০. লিঙ্গগত কারণে কিংবা যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে কাউকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, সাংগঠনিক এবং একাডেমিক কাজ থেকে দূরে রাখা।

১১. কাউকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়া, ভালোবাসা প্রত্যাখান করলে তার জন্য হুমকি দেয়া।
১২. প্রতারণা করে কিংবা জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা। -ডেইলি স্টার।

সিটিকে বাঁচিয়ে রাখলেন ‘দুর্দান্ত’ আগুয়েরো

agauraইত্তিহাদ, ম্যানচেস্টার: বায়ার্ন মিউনিখের দুই দুটি ভুল আর সার্জিও আগুয়েরোর ‘দুর্দান্ত’ হ্যাটট্রিকের কল্যাণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের আশা এখনো টিকে আছে ম্যানচেস্টার সিটির। মঙ্গলবার ৮৫ মিনিট পর্য্ন্ত পিছিয়ে থেকেও জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সিটিজেনরা।

মঙ্গলবার অবশ্য সিটিই প্রথমে এগিয়ে যায়। খেলার ২১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইট স্ট্রাইকার আগুয়েরো। আগুয়েরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে সিটিকে পেনাল্টি উপহার দেন বায়ার্নের মরক্কান ডিফেন্ডার মেহদি বেনাতিয়া। পেনাল্টি শট থেকে গোল করতে ভুল করেননি আগুয়েরো।

বিরতির আগেই সমতায়ং ফেরে বায়ার্ন মিউনিখ। ৪০তম মিনিটে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান জাবি আলানসো।   প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে রবার্ট লেওয়ানডস্কি গোল করে ইত্তিহাদ স্টেডিয়ানে সুনসান নীরবতা নামিয়ে আনেন।

২-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে খেলায় ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ইপিএল শিরোপাধারীরা। তবে বায়ার্নের রক্ষণ শিবির ভেঙে কোনোক্রমেই গোলের দেখা পাচ্ছিলো না। খেলার ৮৫ মিনিটের সময়ও ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল পেপ গার্দিওলার দল। সবাই যখন সিটির পরাজয় দেখছিল তখনই ভাগ্যদেবী খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন।

৮৫ মিনিটে জাবি আলানসোর ভুল পাসে বল পেয়ে স্টেফান ইয়োভেতিচ বাড়িয়ে দেন আগুয়েরোর দিকে। বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত  শটে বায়ার্নের জালে আগুয়েরো বল জড়ালে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

যোগ করা সময় আগুয়েরো দলকে জয় এনে দেন বায়ার্ন রক্ষণের আরেকটি ‘অমার্জনীয়’ ভুলে। এবার নিজেদের সীমানায় ভুল করেন বোয়েটাং। তার ভুলে বল পেয়ে বক্সের কোনাকুনি শটে গোল করেন আগুয়েরো। নিজের ‘দুর্দান্ত’ হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে দলের আশা জিইয়ে রাখলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

এই জয়ের পরও পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে রয়েছে ম্যান সিটি।  সিটির পয়েন্ট ৫। এএস রোমা এবং সিএসকেএ মস্কোর পয়েন্টও সমান ৫।  ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দল দুটির। দুটি ম্যাচেই জয় পেলেই কেবল শেষ ষোলোতে যেতে পারবে তারা। ১২ পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ।  -ডেইলি মেইল

বক্ষের আকার বাড়াতে উৎসাহ দেবে পুনম

punum pবক্ষের আকার বাড়াতে উৎসাহ জোগাবেন বলিউড তারকা পুনম পাণ্ডে। কারণ বক্ষ বৃদ্ধিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছা দূত হয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ভারতে আত্মপ্রকাশ করেছে বক্ষ বৃদ্ধিকারক সংস্থা ‘ব্রেক্সেলেন্ট’। আর এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসা প্রসারের জন্যে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলিউডের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পুনম পান্ডেকে।

এদিকে সমালোচকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের প্রচার নয় বরং নিজের প্রচারণা চালাতেই পুনম বক্ষবৃদ্ধিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

মেয়েকে নায়িকা হিসেবে দেখতে চান শাহরুখ

Sharukhkhanবলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। তার তিন ছেলে-মেয়ে। তার মধ্যে বড় ছেলে আরিয়ান বিদেশে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর সবার ছোট আব্রাম এখানো কোলের শিশু। একমাত্র মেয়ে সুহানাকে নিয়েই এখন স্বপ্ন শাহরুখ খানের। তিনি চান মেয়ে সুহানা বলিউডের নায়িকা হয়ে নিজের মতোই সবার মন জয় করবে।

শাহরুখ নিজেই জানিয়েছেন, সুহানা নাকি খুবই লাজুক স্বভাবের মেয়ে। আবার সে নায়িকাও হতে চায়। বাবার মতোই বলিউডে সবার হৃদয় জিতে নিতে চায়। তিনিও চান সুহানা নায়িকাই হোক।

এদিকে আব্রাম কোলের শিশু হলেও সবার আগেই বলিউডে নাম লিখিয়েছে। মায়ের সঙ্গে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবিতে মুখও দেখিয়েছে সে।

হত্যা মামলায় দুই জেএমবির ফাঁসি

court26হত্যা মামলায় জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার ওই ট্রাইব্যুনাল বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান ওরফে ফাহাদ আলাল।

রায় ঘোষণার পর আসামির কাঠগড়ায় থাকা সাইফুল ইসলাম বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার আমি তো হাইকোর্টে একটা মামলা করেছি। আমার বয়স তো তখন স্যার চৌদ্দ বছর ছিল। আমার সমস্ত সার্টিফিকেট আদালতে দিয়েছি। স্যার আমার প্রতি একটু দয়া করুন।’

এ মামলাটিতে ২৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের টাঙ্গাইল থানাধীন বামনা বাইপাস ট্রাফিক পোস্টে তল্লাশীর সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক হন মো. সাইফুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান ওরফে ফাহাদ আলাল।

এসময় আটককৃতদের গুলিতে মামলার বাদী ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুর রব, কনস্টেবল সিরাজ এবং পুলিশের সোর্স জয়নাল আহত হন। পরে পুলিশের সোর্স জয়নাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইল থানায় ওইদিনই একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ। রায় ঘোষণা শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিশ্বকাপ যাওয়া অনিশ্চিত

tiger bdছোটখাট গড়নের একজন যুবক। পেশায় তিনি একজন মোটর মেকানিক। স্ক্রু ড্রাইভার আর হাতুড়ি নিয়ে গ্যারেজেই তার সংসার হওয়ার কথা। কিন্তু ২৬ বছর বয়সী এই যুবক মজেছেন অন্য এক প্রেমে! তিনি যে মোটর মেকানিকের কলাকৌশল রপ্ত করেও নিজেকে সঁপে দিয়েছেন ক্রিকেটের প্রেমে! শুধু ক্রিকেট খেলার প্রেমে মজেছেন বললে ভুল হবে তিনি শুধুই মাতাল হয়েছেন সাকিব-তামিম-মুশফিকদের ক্রিকেটিয় প্রেমে!

তার প্রেমের উন্মাদনায় রীতিমত বিস্মিত হয় পুরো জাতি, আন্দোলিত করে তুলে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের। উৎসাহিত হয় পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সব খেলায় তাকে দেখা গেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রূপে। নিজের পুরো শরীরকে রং তুলিতে ডোরাকাটা দাগ এঁকে বাঘের অবয়বে হাজির হন প্রতিটি ম্যাচে।

বাঁশের কঞ্চিতে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ক্যারিকেচার করে থাকেন ম্যাচের প্রথম বল থেকে শেষ বল পর্যন্ত। এভাবেই মাঠে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে যিনি নিরলসভাবে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তিনি হচ্ছেন ইতোমধ্যে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে টাইগারদের ‘সুপার ফ্যান বাঘ’ হিসেবে পরিচিত পাওয়া সোয়েব আলী বুখারী।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার দ্বিতীয় ম্যাচ চলাকালীন কথা হয় বাঘ হিসেবে পরিচিত পাওয়া সুপার ফ্যান টাইগার সোয়েব আলীর সঙ্গে।

বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা সদরে জন্মগ্রহণকারী বর্তমানে ঢাকার বাড্ডার বাসিন্দা সোয়েব জানালেন তার ‘বাঘ’ হয়ে উঠার পেছনের গল্প। তিনি জানান, ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করলেও স্কুলের পাঠ চুকিয়ে কিশোর বয়সেই তিনি ঢাকায় চলে আসেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সোয়েব। বাবা রফিকুল ইসলাম এলাকায় কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করেন আর মা শামসুন নাহার গৃহিনী হিসেবে ঘর সংসার দেখভাল করেন।

তার অন্য ভাই-বোনরা পড়ালেখা করে এখন চাকরি করলেও শৈশব থেকে দূরন্তপনা কিংবা দুষ্টুমির কারণে তার স্কুলের পাঠ শেষ করতে হয় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতেই। এরপর বড় ভাইয়ের সঙ্গে চলে আসেন ঢাকায়। লেখাপড়ায় মন না বসায় তাকে ঢাকায় এনে দিয়ে আসা হয় একটি মোটর মেকানিকের গ্যারেজে। পড়ালেখায় মন বসাতে না পারলেও সোয়েব আলী ঠিকই বছর কয়েকের মধ্যে পাক্কা মেকানিক হয়ে সংসারে আর্থিকভাবে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

ছোটকালেই কেন পড়ালেখার পাঠ শেষ করে গ্যারেজের মেকানিক হতে হলো সোয়েব আলীকে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে পড়ালেখা আমার ভালো লাগতো না। আমি সব সময় খেলাধুলার মধ্যে ঢুবে থাকতাম। তবে তেমন কোনো খেলোয়াড় হতে পারিনি।’

‘যখন পড়ালেখা বাদ দিয়ে কিছুই হতে না পারলেও খেলার প্রতি টানটা কখনো কমেনি। সে কারণে ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করলো সেই ক্রিকেট খেলার প্রতি আমার ঝোঁক বাড়তে থাকে। এই খেলাটি টিভিতে বা মাঠে গিয়ে দেখা আমার নেশায় পরিণত হয়।’ বললেন সোয়েব আলী।

 

কখন থেকে নিজে বাঘ সেজে মাঠে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উৎসাহিত করা হচ্ছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টিভিতে যখন খেলা দেখতাম, তখন পাকিস্তানের জলিল চাচা, শ্রীলংকার গায়ান কিংবা ভারতের সুবীর কুমার চৌধুরীদের এই ক্রিকেট পাগলামি আমাকে কাছে টানতো। তখন থেকে চিন্তা করলাম ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশে এতো জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশেতো এরকম কেউ নেই, যে টাইগারদের সুপারফ্যান হয়ে উঠবে, নিজ দলকে প্রতিটি খেলায় মাঠে গিয়ে অকুণ্ঠ সমর্থন দেবে।’

‘এরপর থেকে ধীরে ধীরে আমার মাথায় এই চিন্তাটি ঘুরপাক খাচ্ছিলো। ২০১২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ থেকে নিজে বাঘ সেজে মাঠে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খেলায় সমর্থন ও উৎসাহ জুগিয়েছি ক্রিকেট দলকে।’

এরপরের যাত্রাটি সহজ ছিল না টাইগার ফ্যান সোয়েব আলীর। মোটর মেকানিকের কলাকৌশল রপ্ত করলেও তার প্রতিটি শিরায় বইছে ক্রিকেট খেলার প্রতি টান। নিজের খরচে দেশের মাঠিতে সবকটি খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হওয়ার সামর্থ থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিদেশ সফরগুলোয় কি করতেন তিনি? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল তার মুখেই। বললেন, ‘২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রীলংকা ট্যুরে গিয়ে মাঠে বসেই সমর্থন জুগিয়েছিলাম নিজ খরচে। এরপরের বার নিউজিল্যান্ড সফরেও গিয়েছিলাম। তবে ওই সময় বিসিবির পক্ষ থেকে ভিসা ও হোটেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। আর বিমান ভাড়ার টাকা দিয়েছিল ঢাকা ব্যাংক।’

ক্রিকেটের প্রতি নিজের ভালোবাসার বর্ণনা দিতে গিয়ে সোয়েব আলী বলেন, ‘চলতি বছর শ্রীলংকার বাংলাদেশ ট্যুরের সময় আমি ঢাকার মিরপুরে ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে মাঠে হাজির হয়েছি। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ভাই আমার গায়ে হাত দিয়ে দ্রুত মাঠ থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। উনার নির্দেশে মাঠ ছাড়লেও আমার মনটা পড়েছিল সারাক্ষণই মাঠে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে যখন নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও কোনো স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছে না, তখন আমার গ্রামের বাড়ির একটি জমি বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। যদিও পরে ঢাকা ব্যাংক ও বিসিবি আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সুপার ফ্যান টাইগার সোয়েব আলীর দেখাদেখিতে এখন বাংলাদেশে অনেকে বাঘ সেজে মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলোয়াড়দের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এরকম সমর্থকদের নিয়ে গত বছরের শেষ দিকে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিসিএসএ)। আর এই সংগঠনটির আজীবন সদস্য হলেন সোয়েব আলী। বর্তমানে দেশের মধ্যে যতোগুলো ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেসব ম্যাচে মাঠে গিয়ে সাকিব-মুশফিকদের সমর্থন দিতে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে সমর্থকদের নিয়ে গড়ে উঠা বিসিএসএ।

এ প্রসঙ্গে সোয়েব আলী বলেন, ‘গত বছর থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সব ম্যাচে আমার অংশগ্রহণের জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে বিসিএসএ। তবে তারা দেশের ম্যাচগুলোতে সহযোগিতা করলেও সামনে অনুষ্ঠেয় নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপে আমার যাওয়ার ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করতে পারবে কি-না তা আমি জানি না। কারণ সেখানে অনেক টাকার প্রয়োজন।’

বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো ধরনের সমর্থন পান কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওই যে বললাম, নিউজিল্যান্ড সফরে ভিসা আর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। আর দেশের সব ম্যাচে আমাকে অ্যাক্রিডিশন কার্ড দেয়া হয়। তবে অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করা হয় না। আমি আশা করবো বিশ্বকাপে যাতে আমি দলকে মাঠে বসে সহযোগিতা করতে পারি সে জন্য দেশের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানসহ বিসিবি যেন তাদের সহযোগিতার হাতটা বাড়িয়ে দেয়।

 

খেলা চলাকালীন টেলিভিশন ক্যামেরার ফোকাস তার উপরই থাকে বেশি। ওই সময়ে তার গর্জনে সত্যিকারের বাঘই যেন হার মানে! এমনকি গ্যালারিতে তাকে কেন্দ্র করেই দর্শকরা মেতে উঠেন। তার সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে রীতিমত। দর্শকদের মাঝে সোয়েব আলী পেয়েছেন রীতিমত তারকাখ্যাতি। তবে শেষ বাক্যে তার কণ্ঠে ছিল হতাশার সুর। বললেন, ‘ক্রিকেটকে ভালোবাসি বলে নিজের টাকা খরচ করে কিংবা কোনো সংগঠনের টাকায় মাঠে বসে খেলা দেখি। সারাক্ষণ ক্যরিকেচার করে স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রাখি। কিন্তু যখন খেলা শেষ হয় তখন আমাকে আবার ফেলে আসা কাজগুলো পুষিয়ে নিতে স্ক্রু ড্রাইভার আর হাঁতুড়ি নিয়ে গ্যারেজে দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়। খেলা চলাকালীন আর্থিক ক্ষতিগুলো পুষিয়ে নিতে হয়।’

 

যত্রতত্র সড়ক পারাপার: দ্বিতীয় দিনেও চলছে ডিএমপির অভিযান

dmpরাজধানীতে যত্রতত্র সড়ক পারাপারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। নিয়ম ভাঙ্গার জন্য বুধবার দ্বিতীয় দিনেও বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর বাংলামোটর ও ফার্মগেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান শুরু হয়। ডিএমপি পুলিশের সঙ্গে এই অভিযানে কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি টিম। ডিএমপির এই অভিযানের কারণে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

সকাল থেকে পরিচালিত এই অভিযানে এরই মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে বেশ কয়েকজন পথচারীকে জরিমানাও করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রসঙ্গত, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পারাপার কমাতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও রূপসী বাংলা মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসায় ডিএমপি।

২২ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৫ নভেম্বর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানোর ঘোষণা দেয় ডিএমপি। নিয়ম না মানায় মঙ্গলবার প্রথম দিনে ৩৩১ পথচারীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সর্বনিম্ন ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়।

‘অবাস্তব ভালোবাসা’

obastob valobashaআনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পেলো কাজল কুমার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘অবাস্তব ভালোবাসা’। গত সপ্তাহে ছবিটি সেন্সরে জমা দেয়া হলে, ২০ নভেম্বর সেন্সর বোর্ড ছবিটির ছাড়পত্র প্রদান করে। কাজল কুমার বলেন, ‘আমার প্রথম ছবি সেন্সর ছারপত্র পেলো, আমি খুবই আনন্দিত। মনে হচ্ছে অন্য রকম কিছু পেলাম। ভালো দিনক্ষণ দেখে ছবিটি মুক্তি দিবো’। রোমান্টিক ও অ্যাকশন ঘরানার ছবি ‘অবাস্তব ভালোবাসা’। এই ছবির কাহিনী লিখেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন জয় ও নবাগত মাহিয়ান চৌধুরী। আরও অভিনয় করছেন কাজী হায়াত, মিজু আহমেদ, ইলিয়াস কোবরা, রেহেনা জলি, রেবেকা শিউলি, তানিন, সাংকু পাঞ্চা, শাহীন প্রমুখ। ‘অবাস্তব ভালোবাসা’ ছবিটির মধ্য দিয়ে অভিষেক হতে যাচ্ছে মাহিয়ান চৌধুরী’র। নায়ক জয় বর্তমানে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করছেন। ছবিগুলো হল ‘ভালবাসলে দোষ কি তাতে’, ‘আজব প্রেম’, ‘কাকতাড়ুয়া’, ‘ক্ষণিকের ভালোবাসা’ ইত্যাদি। এফ এ চলচ্চিত্র প্রযোজিত ছবিটিতে গান আছে মোট ছয়টি। সংগীত পরিচালনা করছেন আলী আকরাম শুভ, রুনা লায়লা, এন্ডু কিশোর, বেবি নাজনিন, এস আই টুটুল ও কনা। ছবিটির মিউজিক লেবেল টাইগার মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়া পার্টনার ঢালিউড২৪.কম।