বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

সরকারি দলের সংসদীয় সভা আজ, ঠিক হবে কে হচ্ছেন নতুন ‘স্পিকার’

সরকারি দলের সংসদীয় সভা আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভাকক্ষে এই সভা হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সভায় সরকারি দলের সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

জানা গেছে, এই সভা থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার কে হবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে এই বৈঠক থেকে। এ ছাড়াও সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এছাড়া সংসদের অন্যান্য কার্যপ্রণালি নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা।

চিফ হুইপের সঙ্গে বিরোধী দলের হুইপদের বৈঠক
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্য গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলীয় হুইপদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার সংসদ ভবনের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের অফিস কক্ষে এই বৈঠক হয়। এতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন– মো. রফিকুল ইসলাম খান, মো. আবুল হাসনাত ও মো. নূরুল ইসলাম।

আল্লাহর রহমতে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে বিশাল জনসমাবেশের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই মঞ্চের দুই পাশের বিশাল ডিজিটাল পর্দায় ফ্যামিলি কার্ডের ছবি ভেসে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে নির্ধারিত ভাতা পৌঁছে যায় কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের হাতে। মুহুর্মুহু করতালি আর স্লোগানে আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে ও সবার সহযোগিতায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের।’

তিনি বলেন, ‘আমি আজ আবেগঘন এ পরিবেশে বলতে চাই, আমাদের সরকার একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করবে। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমাদের সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে।’

এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় পাশে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠন ও সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারের সামরিক এবং বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বাস করা ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন মঞ্চে গিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তারা সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এদেরই একজন জরিনা বেগম। তিনি বলেন, জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাব। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে। দেশের সর্বস্তরে আলোচিত হয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪টি স্থানে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী গতকালই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছেন।

দেশকে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আমরা মানুষের আস্থার মর্যাদা দিতে কাজ করছি। আমরা যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।’

কৃষক কার্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষক কার্ডের কাজও শুরু করেছি, ইনশাআল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি, ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে তাদের কৃষিঋণ মওকুফ করব। আল্লাহর রহমতে, আমরা গত সপ্তাহে সেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সরকারের পক্ষ থেকে সুদসহ মওকুফ করেছি।’

নারীদের ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নতির বিষয়ে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি আমরা পেছনে রাখি, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদের যদি ক্ষমতায়িত করতে না পারি, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের স্কুলপর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা করব, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে তুলব। তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু করলাম। পর্যায়ক্রমে আমরা সারা দেশে এটি বাস্তবায়ন করব।

রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলের জন্যে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ লিটার জ্বালানি তেল নির্ধারণ

মহানগর এলাকায় রাইড শেয়ার ভিত্তিক মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের (অকটেন/পেট্রোল) পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল নেয়া যাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিস) সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাইড শেয়ার ভিত্তিক মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল গ্রহণের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে।

এছাড়া ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিলের মূল কপি জমা দিতে হবে। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের সাথে যাচাইপূর্বক জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে হবে।

বিপিসি জানায়, দেশের জনগণের ভোগান্তি কমাতে ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে জ্বালানি দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের মাধ্যমে সারাদেশে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করা এবং সকল ভোক্তা বা ডিলারদের বিপিসির নির্দেশনা মেনে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ৬ মার্চ সকল মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ২ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করেছিল সরকার।

নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা পরিকল্পনার আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী বাংলাদেশ গড়তে কাজ শুরু করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং নিজেদেরকে এই দেশের প্রকৃত মালিক মনে করবে। মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সরকার।

আজ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়কে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও রেলপথ খাতেও বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। সড়কখাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য সহজলভ্য করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক, রেল ও নৌপথ—এই তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে সড়কপথে যাতায়াত সহজ সেখানে সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; যেখানে রেলপথে যাতায়াত দ্রুত ও সুবিধাজনক সেখানে রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং আর যেখানে বিকল্প নেই সেখানে নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

ঢাকার বাসস্টেশনগুলোকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে কিছু বাসস্টেশন বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ছোট-বড় পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত যানবাহনসহ অন্যান্য ছোট যানবাহনকেও আইনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং দুর্ঘটনা কমানো যায়।

বিআরটিসি বাস সেবা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিআরটিসিকে জনপ্রিয় করতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নারীদের বিআরটিসি বাসচালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে নারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেছে। যাতে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে যানজট কম থাকে।

তিনি জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কের নির্মাণকাজের জন্য পড়ে থাকা মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং ভাঙাচোরা সড়ক অস্থায়ীভাবে সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঈদের আগে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদারকি করবেন।

গার্মেন্টস ছুটির কারণে ঈদযাত্রায় চাপ বাড়ার বিষয়েও সরকার সচেতন রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা ধাপে ধাপে গার্মেন্টস ছুটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে।

নেইমারকে ব্রাজিল দলে ফেরানোর পর হতাশ হলেন আনচেলত্তি

ব্রাজিলের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাজ করছে নেইমারের মনে। কিন্তু ইনজুরির সঙ্গেই তার ঘনিষ্ঠতা বেশি থাকার কারণে দলে জায়গা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে তাকে। ফিটনেসের প্রমাণ না দিতে পারলে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। তবে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের শীর্ষ গোলদাতাকে বিশ্বকাপে খেলাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। এ কারণে ব্রাজিলের প্রাক-প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ দিলেন তাকে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সান্তোস ফরোয়ার্ডকে নতুন একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আনচেলত্তি তাকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। এই কারণে সান্তোস ফরোয়ার্ড বেশ চাপের মুখে থাকবেন। এজন্য প্রীতি ম্যাচের আগে তাকে সামনে থেকে দেখতে চান ইতালিয়ান কোচ। এজন্য আজ (মঙ্গলবার) এই ফরোয়ার্ডের খেলা দেখতে রিও ডি জেনিরো থেকে সাও পাওলোতে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হতাশ হতে হয়েছে।

আজ যেসব এলাকায় দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ)। রাজধানীর কড়াইল এলাকায় সকালে নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাইরে দেশের ১৪টি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

যেসব এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

১. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বনানী (কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাষানটেক বস্তি)।

২. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার মিরপুর (অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি)।

৩. ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন।

৪. চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা।

৫. চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সদর পৌরসভা।

৬. চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন।

৭. খুলনা বিভাগের খালিশপুর থানার খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকা।

৮. বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আসলামপুর ইউনিয়ন।

৯. সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার কুলঞ্জ ইউনিয়ন।

১০. ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন।

১১. রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার বগুড়া সদর থানার শাখারিয়া ইউনিয়ন।

১২. রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার লালপুর থানার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন।

১৩. রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর থানার রহমানপুর ইউনিয়ন।

১৪. রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার জয়পুর ইউনিয়ন।

আজ ভোরে ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহর

ইসরাইলের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সশস্ত্র গোষ্ঠটি জানায়, আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে তারা ইসরাইলের সাফেদ শহরের পূর্বে অবস্থিত গিভা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সময় সীমান্তের কাছে ইফতাহ ব্যারাকেও রকেট নিক্ষেপ করা হয়।

হিজবুল্লাহ আরও জানায়, এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে হাইফা শহরের পূর্বে অবস্থিত জিপোরিত ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। আর সন্ধ্যায় তেল আবিবের কাছে তেল হাশোমের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়।

‘শিক্ষার্থীদের ফ্রি ওয়াই-ফাই সু্বিধা দেবে সরকার’

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একইসঙ্গে শিক্ষকদের প্রত্যেককে ট্যাব দেওয়া হবে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষাখাতের উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিন বা ছয় মাসের একটি কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে। সোমবার এ কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা প্রণয়নে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা করা হয়েছে।

কর্মসূচির রূপরেখায় শিক্ষকদের ট্যাব দিতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, শিক্ষার্থীদের ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষা কারিকুলাম রিভিউসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নারীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে দৃঢ় : কিম জং উন

নারীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ়—আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার নারীদের এভাবেই মূল্যায়ন করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। সোমবার (৯ মার্চ) এক রাষ্ট্রীয় ভাষণে তিনি দেশ গঠনে নারীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাদের ‘বিপ্লবের দৃঢ় ভিত্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) এর সূত্রমতে, পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিম জং উন এই ভাষণ দেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নারীদের সাদামাটা মুখে সাহসের ছাপ এবং শরীরের বলিরেখা তাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ দেয়।
কিম আরো যোগ করেন, এই নারীরাই আধুনিক বিপ্লবের মূল শক্তি।

এবারের অনুষ্ঠানে কিম জং উনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী রি সোল জু ও মেয়ে কিম জু-এ। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তার মেয়ের নাম উল্লেখ না করে ‘প্রিয় কন্যা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে কিমের মেয়ের এই সরব উপস্থিতি তাকে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী উত্তরসূরি হওয়ার পথে এগিয়ে রাখছে।

অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার উচ্চপদস্থ দলীয় কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কিমের বক্তৃতার পর সেখানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না : আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। এ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে।’

চলমান যুদ্ধের কারণে ওই নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ইতিমধ্যে চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন।
জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, তারাই ‘যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ’ করবে।

রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’

এ মন্তব্যের দৃশ্যত প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ওপর এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলা চালানো হবে। এ ছাড়া আমরা এমন কিছু সহজে ধ্বংসযোগ্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।
তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে—তবে আমি আশা ও প্রার্থনা করি যেন এমনটা না ঘটে!’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান