আল্লাহর রহমতে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

SHARE

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে বিশাল জনসমাবেশের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটনে চাপ দিয়ে বহুল প্রত্যাশিত এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই মঞ্চের দুই পাশের বিশাল ডিজিটাল পর্দায় ফ্যামিলি কার্ডের ছবি ভেসে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে নির্ধারিত ভাতা পৌঁছে যায় কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের হাতে। মুহুর্মুহু করতালি আর স্লোগানে আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে ও সবার সহযোগিতায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের।’

তিনি বলেন, ‘আমি আজ আবেগঘন এ পরিবেশে বলতে চাই, আমাদের সরকার একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করবে। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমাদের সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে।’

এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় পাশে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠন ও সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারের সামরিক এবং বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বাস করা ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন মঞ্চে গিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তারা সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। এদেরই একজন জরিনা বেগম। তিনি বলেন, জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাব। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে। দেশের সর্বস্তরে আলোচিত হয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪টি স্থানে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী গতকালই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়েছেন।

দেশকে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আমরা মানুষের আস্থার মর্যাদা দিতে কাজ করছি। আমরা যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।’

কৃষক কার্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষক কার্ডের কাজও শুরু করেছি, ইনশাআল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি, ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে তাদের কৃষিঋণ মওকুফ করব। আল্লাহর রহমতে, আমরা গত সপ্তাহে সেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সরকারের পক্ষ থেকে সুদসহ মওকুফ করেছি।’

নারীদের ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নতির বিষয়ে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি আমরা পেছনে রাখি, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদের যদি ক্ষমতায়িত করতে না পারি, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের স্কুলপর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা করব, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে তুলব। তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু করলাম। পর্যায়ক্রমে আমরা সারা দেশে এটি বাস্তবায়ন করব।