রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতিসহ ৬ জন গ্রেফতার

arrest23২০ দলীয় জোটের ৪৮ ঘন্টার হরতালের ২য় দিনে মিছিল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ মেহেদী হাসান হিমুসহ ৬ নেতাকর্মিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের  থানা মোড়  থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, শহরের হাকির মোড় থেকে অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক দিয়ে সাতমাথার দিকে যেতে চাইলে থানার  মোড়ে  পুলিশ বাধা দেয়। এরপর মিছিলটি পিছন দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ মেহেদী হাসান হিমুসহ ৬ নেতাকর্মিকে আটক করে পুলিশ। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) আবুল বাসার ৬ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধের পাশাপাশি বগুড়া জেলায় টানা ৪৮ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন শান্তিপুর্ন ভাবে পালিত হচ্ছে। রাস্তায় কোন যানবাহন চলাচল করছেনা। শহরের দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।
হরতালের সমর্থনে সকাল ১০টায় শহরের হাকির মোড়ে এবং সাড়ে ১০টায় সাবগ্রামে দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে জামায়াত-শিবির কর্মিরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

তাজুলসহ ৫ জনকে ট্রাইব্যুনালের শোকজ

tribunalআদালত অবমাননার অভিযোগে তিন জামায়াত নেতা, দুই শিবির নেতা এবং জামায়াত নেতাদের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলামকে কারণ দর্শাও (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

অভিযুক্ত জামায়াত-শিবির নেতারা হচ্ছেন- জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান।

সোমবার এ শো’কজ নোটিশ জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- তা জানতে চেয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে আগামী ২৮ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-াদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের প্রতিবাদে ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি দু’দিনের হরতাল ডাকে জামায়াত।

বিবৃতিতে এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নানা বিরুপ কথা বলেন জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পদে থাকা নেতারা।

‘কচুপাতার পানির মতো ঝরে যাবে হাসিনার সরকার’

lebanonbnpতিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুনরায় বালু, কাঠ ও সিমেন্টের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে প্রতিবাদ সভা করেছে লেবানন বিএনপি।

রোববার স্থানীয় সময় ৩টায় বৈরুতের ফরন আল-সুব্বেক এলাকার লেবানন ইউনিভারসিটির হল রুমে প্রতিবাদ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন লেবানন বিএনপির সভাপতি মো. মানিক মোল্লা। সভা পরিচালনা করেন লেবানন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সূচনা বক্তব্য দেন সহ সাধারণ সম্পাদক জসিম ঊদ্দীন।

সভায় বক্তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। দলের প্রাক্তন নেতা আব্দুল গফুর বলেন, “কচু পাতায় পানি যেমন ঝরে যায়, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারও বাংলাদেশ থেকে ঝরে যাবে।”

সভাপতি মো. মানিক মোল্লা বলেন, “সরকার বিএনপির ভয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। ভয় পায় বলেই তরুণ নেতা তারেক রহমানের নামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছে। ভয় পায় বলেই তারেক রহমানের বক্তব্য একুশে টিভিতে প্রচারের কারণে চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।”

তিনি বাংলার সবার প্রতি আহ্বান করে বলেন, “আপনারা অবৈধ সরকাররের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান, আমরা প্রবাসীরা আপনাদের পাশে আছি।”

তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির সব রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

লেবানন বিএনপির সদস্য সচিব মেসবাহ ঊদ্দীন মামুন চৌধুরী বলেন, “আরব দেশের অনেক নজির আছে, মিশরের হুসনে মোবারকও পারেনি ক্ষমতা ধরে রাখতে। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে বাংলার দামালদের দাবানলে শেখ হাসিনা ও জ্বলে যাবে। পারবে না অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে।”

সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে বিজয়ী গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চাই।”

আরো বক্তব্য দেন রুহুল আমিন, আবু বাক্কার, মজিবর রহমান, ওয়াসিম, এরশাদসহ আরো অনেকে। সভায় উপস্থিত ছিলেন লেবাননের প্রত্যন্ত এলাকার নেতারা।

‘গুলি করলে আমাদের করো, সন্তানদের নয়’

kumillaবিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ৬ষ্ঠ দিনে  রোববার দুপুর ২টায় মুরাদনগর সদরে সড়ক অবরোধ করে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকমীরা।

গুলি করলে আমাদের করো, সন্তানদের নয়, মামলা হামলা করে শেষ রক্ষা হবে না, খালেদা জিয়া অবরোদ্ধ কেন জবাব দাও, আমরা তো রাজপথে একটি নিরপক্ষ নির্দলীয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য, আমরা বাঁচতে চাই শান্তি চাই, অবিলম্বে গদি ছাড়ো, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই-এসব লেখা ফেস্টুন নিয়ে অবরোধে সামিল হন এলাকার প্রবীণ বহু লোক।এদের মধ্যে অনেকের বয়স শতবর্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

এতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মজিবুল হক, দফতর সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আলী, কৃষক দল যুগ্ম-আহ্বায়ক এমদাদুল আলম সিরাজ, বিএনপি নেতা আলী আকবর, এলাকার শতবয়সের প্রবীনরা হলেন মো: ফুল মিয়া, বশির মোল্লা, কাদির মিয়া, মান্নান মেম্বার, যুবদল নেতা মাহমুদুল হাছান, ওমর আলী, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: মোস্তফা, ইকবাল, কায়কোবাদ ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক হেদায়েত হোসেন, মাসুম মুন্সী, বাঙ্গরা ইউপি বিএনপি’র সিনিয়র সভাপতি শুক্কুর আলী, পূবর্ধৈইর পশ্চিম ইউপি যুবদল সিনিয়র সভাপতি মো: হান্নান, আন্দিকোট ইউপি যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ কামাল প্রমুখ।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকে রাজি দক্ষিণ কোরিয়া

koriyasnকোনো পূর্ব শর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত আছেন বলে সম্মতি জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গুয়েন হুয়ে। তিনি অবিলম্বে সংলাপ আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গুয়েন বলেন, “উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ রাখলে তা শান্তি আলোচনার জন্য ফলপ্রস্রু হতো। তবে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য এটা কোনো পূর্ব শর্ত নয়।”

পার্ক বলেন, “আমার স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে দু’দেশের তিক্ত বিভক্তি দূর করতে চাই। নিজেদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রয়োজন। এ জন্য যে কারো সঙ্গে আমি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, “এটা ইতিবাচক, আমি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। এখানে কোনো শর্ত নেই।”

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর বিভক্ত এ দুটি দেশ দু’বার বৈঠকে বসেছে।

দেশের শীর্ষ ৫০ সম্পদশালী

assetsস্বাধীনতার চার দশকে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষণীয় বিকাশ ঘটেছে। এতে মূল ভূমিকা রেখেছে বেসরকারি খাত। অর্থনীতি বড় হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে সম্পদশালী পরিবারের সংখ্যাও। ২০১৩-১৪ করবর্ষের সম্পদ বিবরণীর ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিক রয়েছেন ২৫ জন। আর ৫০ কোটি বা তার চেয়ে বেশি টাকার নিট সম্পদের মালিকের সংখ্যা ৪৭।

মোট সম্পদ থেকে মোট দায় বাদ দিলে যে সম্পদ থাকে, তা-ই নিট সম্পদ। একজন ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছাড়াও নগদ ও ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ, বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ারসহ সব ধরনের সম্পদের সমষ্টিই হচ্ছে মোট সম্পদ। এ থেকে ঋণ ও অন্যান্য দায় বাদ দিলে যা থাকে, সেটাই ওই ব্যক্তির নিট সম্পদ।

নিট সম্পদের হিসাবে শীর্ষে আছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী। তার প্রদর্শিত নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭৫ কোটি টাকা। ফিনলে প্রপার্টিজের অংশীদার এ ব্যবসায়ী ইস্টার্ন ব্যাংকেরও পরিচালক। দ্বিতীয় সম্পদশালী ব্যক্তি নাভানা গ্রুপের সাইফুল ইসলাম, যার নিট সম্পদের পরিমাণ ২৭০ কোটি টাকা।

সম্পদশালীর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের সাদাত সোবহান। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২০৫ কোটি টাকা। ২০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন হোসাফ গ্রুপের মোয়াজ্জেম হোসেন। তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, যার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৬৫ কোটি টাকা। শীর্ষ সম্পদশালীর তালিকায় এর পরের স্থানে রয়েছেন আফরোজা বেগম। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ১৫৮ কোটি টাকা। ১৫৫ কোটি টাকা নিট সম্পদ নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছেন বসুন্ধরা পরিবারের আরেক সদস্য সাফওয়ান সোবহান।

সম্পদশালীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি সদস্য রয়েছেন আকিজ পরিবারের। এ পরিবারের পাঁচ সদস্য এস কে বশিরউদ্দিন, এস কে জামিল উদ্দিন, এস কে জসিম উদ্দিন, শেখ শামীম উদ্দিন ও শেখ নাসির উদ্দিন প্রত্যেকেই ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক। ১৪০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক এম এ খালেকও। যৌথভাবে তারা রয়েছেন তালিকার অষ্টম স্থানে। ১৩৭ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে তালিকার নবম স্থানে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান। ১৩৫ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম রয়েছেন দশম স্থানে। এছাড়া আনোয়ার হোসেনের নিট সম্পদ রয়েছে ১৩০ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিট সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে রফতানি ব্যবসা করছি। দেশের শীর্ষ পাঁচ রফতানিকারকের একটি নাসা। পাশাপাশি আবাসন, ব্যাংকসহ নানামুখী ব্যবসা রয়েছে আমাদের। এর ফলেই নিট সম্পদ এত দাঁড়িয়েছে।’

প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরীর নিট সম্পদ রয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। ১২০ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মো. সাইফুল আলমের। একই পরিমাণ নিট সম্পদের মালিক মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরীও।

শতকোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের মালিকের তালিকায় পরের স্থানে রয়েছেন এনটিভির কর্ণধার মো. মোসাদ্দেক আলী। তার সম্পদের পরিমাণ ১১০ কোটি টাকা। হাজি ইউনুস আহমেদের নিট সম্পদ রয়েছে ১০৭ কোটি টাকা। গাজী গ্রুপের কর্ণধার গোলাম দস্তগীর গাজীর নিট সম্পদের পরিমাণ ১০৫ কোটি টাকা। ১০০ কোটি টাকা করে নিট সম্পদের মালিক মোরশেদ আলম ও নিটল-নিলয় গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মাতলুব আহমাদ।

নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘শুরু থেকেই সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কর, ভ্যাট কোনো কিছুই ফাঁকি দিইনি। ফলে আমাদের সম্পদ ধীরে ধীরে বেড়েছে। গ্রুপের ভিত্তিও প্রতিনিয়ত মজবুত হচ্ছে।’

শীর্ষ সম্পদশালীদের তালিকায় থাকা মো. ফারুকের নিট সম্পদের পরিমাণ ৯৬ কোটি ও মো. হানিফের ৯৫ কোটি টাকা। ৯০ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক ওরিয়ন গ্রুপের কর্ণধার ওবায়দুল করিম। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলম খানের নিট সম্পদের পরিমাণ ৮৮ কোটি, মো. আমানউল্লাহর ৮৬ কোটি, এম মোয়াজ্জেম হোসেনের ৮১ কোটি, মেহদাদুর রহমানের ৮১ কোটি ও সৈয়দ হোসেন চৌধুরীর ৭৬ কোটি টাকা।

প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর নিট সম্পদের পরিমাণ ৭৫ কোটি টাকা। এছাড়া মতিউর রহমানের নিট সম্পদ রয়েছে ৭২ কোটি, আব্দুস সালামের ৭০ কোটি, আজিজ আল মাহমুদের ৬৮ কোটি ও মনোয়ারা বেগমের ৬৭ কোটি টাকা।

৬৭ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের কর্ণধার কুতুবউদ্দিন আহমেদের। ৬৪ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে সালমা হকের।

এছাড়া মিজানুর রহমানের ৬৪ কোটি, ইউনিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মো. নূর আলীর ৬০ কোটি, নাসিফ সিকদারের ৬০ কোটি ও নজরুল ইসলাম স্বপনের ৫৯ কোটি টাকার নিট সম্পদ রয়েছে।

৫৮ কোটি টাকার নিট সম্পদ নিয়ে সম্পদশালীদের তালিকায় রয়েছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম মুর্শেদী।
যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। ব্যবসার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। লক্ষ্য ছিল সরকারের প্রাপ্য ঠিকমতো বুঝিয়ে দেয়া। সরকার সিআইপিসহ বিভিন্নভাবেই আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের একটি তালিকায় স্থান আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায়ই আজকের এ অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে।’

সম্পদশালীদের তালিকায় এর পরের স্থানে রয়েছেন মো. ইউনুছ। তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান রাগীব আলীর নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি, জ্যোত্স্না বেগমের ৪৪ কোটি, মনজুর মোর্শেদ খানের ৪২ কোটি ও আজিম উদ্দিনের ৪০ কোটি টাকা।

এ তালিকা সম্পর্কে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, করদাতারা স্বেচ্ছায় যে সম্পদের বিবরণী দেন, তাতে কখনো প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে না। এনবিআর অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করে সম্পদশালী ব্যক্তির তালিকা করলেই সেখানে সঠিক চিত্র উঠে আসবে।

এছাড়া শীর্ষ ৫০ তালিকার বাইরে সম্পদশালীদের মধ্যে আলী আজগর ৩৯ কোটি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সভাপতি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ২৭ কোটি, লতিফুর রহমান ২৬ কোটি, ইস্টকোস্ট গ্রুপের কর্ণধার আজম জে চৌধুরী ২৫ কোটি ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ২১ কোটি টাকার নিট সম্পদের মালিক। সূত্র: বণিক বার্তা

নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন চায় বেশিরভাগ মানুষ

dhakatrubuneনির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করে বেশিরভাগ মানুষ। সম্প্রতি ঢাকা ট্রিবিউনের পক্ষে সামাজিক ও বাজার গবেষণা সংস্থা আইআরসি লিমিটেড পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য জানা যায়।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬০০ জন মানুষের ওপর চালানো টেলিফোন-জরিপে আরো দেখা গেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে এক পঞ্চমাংশেরও বেশি মানুষ।
জরিপে চলতি সরকারকে সফল বলে রায় দিয়েছে জরিপে অংশ নেয়া ৬২ শতাংশ মানুষ। আবার একইসঙ্গে বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের ব্যর্থ বলেছে ৬২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।
এতে বলা হয, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির ওপরই ভরসা রাখছে বেশি। এই বয়সসীমার ৪৮ শতাংশই বিএনপির পক্ষে, আওয়ামী লীগের পক্ষে আছে বলে জানিয়েছে ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে ভবিষ্যদ্বাণী দিতে গেলে বিএনপির ভাগ্যই সুপ্রসন্ন বলতে হবে।
এদিকে, ছয় মাস আগে একই প্রতিষ্ঠানের চালানো জরিপে দেখা গিয়েছিল, ৫৩ শতাংশ জনগণ চায় বর্তমান সরকার তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করুক। তখন জরিপে অংশ নেয়া ২৫ শতাংশ জানিয়েছিল, তারা এক বছরের মধ্যেই নির্বাচন দেখতে চায়। ছয় মাস পর আগাম নির্বাচনের পাল্লা ভারি হয়েছে এবং বিপরীতে কমেছে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন প্রত্যাশীর সংখ্যা।
সরকারের যত ব্যর্থতা
গত এক বছরে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই। সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলেছেন ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। দুর্বল অবকাঠামোর কথা বলেছেন ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলেছেন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা বলেছেন ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। বেকারত্বের কথা বলেছেন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। দুর্বল অর্থনীতির কথা বলেছেন ৫ দশমিক ১ শতাংশ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বলেছেন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
নির্বাচনকেন্দ্রিক সঙ্কট তথা রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা বলেছেন ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। সরকার সাধারণ মানুষের অধিকার সমুন্নত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ। দুর্বল প্রশাসনের কথা বলেছেন ২ দশমিক ১ শতাংশ। কৃষিখাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ।
অন্যদিকে, গত এক বছরে সরকারের সামগ্রিক ভূমিকাকে অত্যন্ত সফল মনে করেন ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এবং শুধু সফল মনে করেন ৬০ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ মোট ৭১ দশমিক ৭ শতাংশই মনে করছে বর্তমান সরকার সফল। অন্যদিকে সরকারকে ব্যর্থ মনে করছে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করে সরকার সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়।
সাফল্যের খাত
বড় সাফল্যের তালিকায় উঠে এসেছে শিক্ষা। পরের অবস্থানে রয়েছে অবকাঠামো। ২৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করে শিক্ষা খাতে সরকার সফল। ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন ফ্লাইওভার, ব্রিজ, সড়ক-মহাসড়কের মতো অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকার সফল। ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিদ্যুৎ সংকটের ক্ষেত্রে ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে এবং ৭ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে। ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, দারিদ্র কমেছে।
কৃষিতে উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে করেন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকারের সফলতার তালিকায় আই‌‌‌সিটি তথা ডিজিটাল বাংলাদেশকে রেখেছেন ২ দশমিক ৮ শতাংশ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বা শাস্তির কথা বলেছেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা বলেছেন ১ দশমিক ৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির কথা বলেছেন ১ শতাংশ।
অর্থনীতিতে সরকারকে সফল মনে করেন প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে অত্যন্ত সফল মনে করে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করে এক্ষেত্রে সরকার সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়। আর সরকারকে সরাসরি ব্যর্থ মনে করেন ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারকে খুব সফল মনে করেন ৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। সফল মনে করেন ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন এক্ষেত্রে সরকার সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়। আর সরকারকে ব্যর্থ মনে করেন ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। একেবারেই ব্যর্থ মনে করেন ২ দশমিক ৪ শতাংশ। জানেন না ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সরকারকে সফল মনে করেন ৬২ শতাংশ মানুষ। ১০ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন এক্ষেত্রে সরকার সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়। আর সরকারকে ব্যর্থ মনে করেন ২৬ দশমিক ১ শতাংশ।
সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সফল মনে করে ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। ৮ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এক্ষেত্রে সরকার সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়।
সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতকরণে সরকারকে সফল মনে করে ৬৩ শতাংশ মানুষ। ৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন এক্ষেত্রে সরকার সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়। আর ব্যর্থ মনে করেন ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেখতে চান?
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি কাকে দেখতে চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনার কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার কথা বলেছেন ২২ দশমিক ১ ভাগ। এইচ এম এরশাদের কথা বলেছেন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন?
আজ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার কথা বলেছেন ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। বিএনপি’র কথা বলেছেন ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। জাতীয় পার্টিকে ভোট দেয়ার কথা বলেছেন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর কথা বলেছেন ১ শতাংশ। বিএনপি জোটের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন ইসলামী দলগুলোর কথা বলেছেন দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কথা বলেছেন ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। না ভোটের কথা বলেছেন ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
নির্বাচনে কোন দল জিতবে?
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট বিজয়ী হবে বলে মনে করেন ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন নির্বাচনে বিজয়ী হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যান্য দলের জোট বিজয়ী হবে বলে মনে করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ৭ শতাংশ বলেছেন তাদের জানা নেই। উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিএনপি জোটসঙ্গীদের পারফরমেন্স
সরকারের বৈধতার প্রশ্নে বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের সফল মনে করেন ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ মনে করে তারা ব্যর্থ। ব্যর্থ বা সফল কিছুই মনে করে না ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার মিত্রদের সফল মনে করেন ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। ৬১ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করে এক্ষেত্রে বিএনপি ও তার মিত্ররা ব্যর্থ। ২ শতাংশ মনে করে এক্ষেত্রে তারা সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়।
জনগণের জন্য অধিকতর ভালো ভবিষ্যত রূপরেখা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার মিত্রদের সফল মনে করেন ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ। ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করে এক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ। ১১ দশমিক ৮ শতাংশ মনে করে তারা সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়।
আবার বর্তমান সরকারের অধিকতর ভালো বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনে বিএনপি ও এর মিত্রদের সফল মনে করেন ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ব্যর্থ মনে করে ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ মনে করে এক্ষেত্রে তারা সফলও নয় আবার ব্যর্থও নয়।
সামগ্রিকভাবে বিএনপি ও মিত্রদের পারফরমেন্সকে সফল মনে করে ৩২ শতাংশ মানুষ। ব্যর্থ কিংবা অত্যন্ত ব্যর্থ মনে করে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ। সফল বা ব্যর্থ কিছুই মনে করে না ২ দশমিক ৭ শতাংশ।–ঢাকা ট্রিবিউন।

বিনামূল্যে থ্রিডি অ্যানিমেশন শেখাচ্ছেন মোস্তাফা জব্বার

mosfofa zabbarযেকোনো বিষয়ে স্নাতক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে থ্রিডি অ্যানিমেশন ও চলচ্চিত্র কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইটি দক্ষ জনবল তৈরির এই মিশন।

মিশনের অগ্রভাগেও থাকছেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েছেন ১৯২ ঘন্টার এই প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের।

প্রশিক্ষণে গ্র্যাফিক্সের জন্য ফটোশপ ইলাস্ট্রেটর, ২ডি অ্যানিমেশনের ফ্লাশ, থ্রিডি অ্যানিমেশনে থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স, ভিডিও এডিটিংয়ে প্রিমিয়ারসহ কোর্স সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর খুঁটিনাটি শেখানো হবে বলে জানিয়েছেন আনন্দ কম্পিউটার্সের স্বত্ত্বাধিকারী ও বিজয় কি-বোর্ড প্রণেতা মোস্তাফা জব্বার মোস্তাফা জব্বার।

রাজধানী পশ্চিম পান্থপথস্থ আনন্দ কম্পিউটার্সের প্রশিক্ষণ ল্যাব থেকে শুরু হবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। অনলাইনে অথবা সরাসরি আবেদন করে তিন মাস মেয়াদী এই প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন আগ্রহীরা। সোমবার নির্বাচন করা হবে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী।  প্রশিক্ষণের মাধ্য দুটি ব্যাচে ৬০ শিক্ষার্থী সুযোগ পাবেন।

মোস্তাফা জব্বার জানান, স্নাতক উত্তীর্ণ বা চার বছরের পলিটেকনিক ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটধারীরা এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহীরা সোমবার বিকাল ৩টায় সরাসরি বাছাইয়ে অংশ নিতে পারবেন। আসন ৬০টি হরেও ১০০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, মুঠোফোনে ০১৬১৯৮৮৮৮১১ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করেও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন আগ্রহীরা।

কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি-অর?

balondiorফিফা ব্যালন ডি’অর তথা ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বার্সেলোনার লিওনেল মেসি, রিয়ালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও বায়ার্নের ম্যানুয়েল ন্যুয়র।

আজ সোমবার জুরিখে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই তিনজনের একজনের হাতে তুলে দেয়া হবে বর্ষসেরার পুরস্কার। কে জিতবেন এবারের ফিফা ব্যালন ডি’অর? সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সোমবার রাত পর্যন্ত।

ম্যানুয়েল নুয়্যার : ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ২০০৬ সালের পর প্রথম কোনো গোলরক্ষক হিসেবে ম্যানুয়েল ন্যুয়ার স্থান পেয়েছেন। তিনি যদি এবার এই পুরস্কার জিতে যান তাহলে ১৯৬৩ সালের পর দ্বিতীয় কোনো গোলরক্ষক ব্যালন ডি’অর জিতবেন। গোলরক্ষক হিসেবে প্রথম এই পুরস্কার জিতেছিলেন সোভিয়েতের কিংবদন্তি লেভ ইয়াসিন।

ম্যানুয়েল ন্যুয়ার জার্মানির হয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপ জিতেছেন। বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করে জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভস। বিশ্বকাপ জেতায় ব্যালন ডি’অরের দাবিদার তিনিও।

লিওনেল মেসি : মেসি ইতিমধ্যে টানা চারবার এই পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। এবার জিতলে পঞ্চমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার শোকেসে তুলবেন। ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। শিরোপা জিততে না পারলেও নির্বাচিত হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়।

তবে বার্সেলোনাকে তিনি লা লিগার শিরোপা জেতাতে ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালে এসে তিনি তেলমো জারা ও রাউল গঞ্জালেসকে পেছনে ফেলে লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। সব মিলিয়ে তিনিও এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে ফেভারিট।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো : ফিফা ব্যালন ডি’অরের সর্বশেষ পুরস্কার জিতেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আজ যদি এই পুরস্কার জিতে যান তাহলে তৃতীয়বারের মতো অর্থাৎ ২০১৪ সালের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হবেন তিনি। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৩ সালে তিনি ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

চলতি মৌসুমে রোনালদো রীতিমতো উড়ছেন। লা লিগায় ১৭ ম্যাচে ২৬ গোল করে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। ২৬ গোল করার পাশাপাশি আটটি গোলে সহায়তাও করেছেন। শুধু তাই নয়, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭১ গোল করে রাউল গঞ্জালেসকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। রিয়ালকে জিতিয়েছিলেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের দশম শিরোপা।

ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি গোল্ডেন বুট জিতেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে পর্তুগালকে কাঙ্খিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি। তারপরও এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে তিনিও হট ফেভারিট।

গাজীপুরে দুটি গাড়িতে আগুন

car fire12গাজীপুরে ২০ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে সোমবার সকালে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেট এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। সেখান থেকে পুলিশ এক পিকেটারকে আটক করেছে।

এর আগে রোববার রাতে নগরের ধীরাশ্রম এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে  পুলিশ ও স্থানীয়রা ওই আগুন নেভায়।

গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের বিশেষ শাখার ইন্সপেক্টর (ডিআইও-১) সিরাজুল ইসলাম জানান, সকাল পৌনে ৮টার দিকে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেট এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয় পিকেটাররা।

এ সময় সেখান থেকে এক পিকেটারকে আটক করা হয়। অন্যদিকে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধীরাশ্রম এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া অভিযান চালিয়ে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অভিযোগে ২০ দলীয় জোটের দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে।