মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬

রুশ বোমারু বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, ভয়াবহ বিস্ফোরণ

রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বোমারু বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ান এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। এর ফলে একটি বিকট বিস্ফোরণ এবং আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বিমানঘাঁটি থেকে একটি বিশাল বিস্ফোরণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং কাছাকাছি কটেজগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ান অঞ্চলগুলোতে ১৩২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। অন্যান্য যাচাইকৃত ভিডিওতে ভোরের আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে এবং তীব্র আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

রাশিয়ার সারাতোভ ওব্লাস্টের শহর এঙ্গেলসের ওই ঘাঁটি সোভিয়েত আমলে বানানো।
এখানে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ভারী কৌশলগত বোমারু বিমান ‘টুপোলেভ টিইউ-১৬০’ রয়েছে, যা ‘হোয়াইট সোয়ান’ নামেও পরিচিত।

সারাতোভের গভর্নর রোমান বুসারগিন বলেছেন, এঙ্গেলস শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছে, যার ফলে একটি বিমানঘাঁটিতে আগুন লেগেছে। কাছাকাছি বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি নির্দিষ্টভাবে এঙ্গেলস ঘাঁটির কথা উল্লেখ করেননি, তবে এটি এই এলাকার প্রধান বিমানঘাঁটি।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং দ্বিতীয় দফায় গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। কিয়েভ আরো জানিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর জন্য এঙ্গেলস ঘাঁটি ব্যবহার করেছে।

রাশিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ১০ জন আহত হয়েছেন। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা তাদের বাগানে ইউক্রেনীয় ড্রোনের বিভিন্ন অংশ পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। শট টেলিগ্রাম চ্যানেল জানিয়েছে, ইউক্রেন পিডি-২ এবং লিউতি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

এঙ্গেলস জেলা প্রধান ম্যাক্সিম লিওনভ স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার কথা জানালেও বিস্তারিত কিছু বলেননি। রয়টার্স স্বাধীনভাবে বিমানঘাঁটিতে কী ঘটেছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইউক্রেন ২০২২ সালের ডিসেম্বরেও এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত জানুয়ারিতে তারা দাবি করেছিল, ঘাঁটিতে পরিবেশনকারী একটি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়েছে। যার ফলে বিশাল আগুন লেগে যায় এবং নেভাতে পাঁচ দিন সময় লাগে। ইউক্রেনের একটি নিরাপত্তা সূত্র সেই সময় বলেছিল, এঙ্গেলস ঘাঁটিতে গাইডেড বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধারণকারী একটি গুদামে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

ভিনিসিয়ুসের শেষ মিনিটের জাদুতে কলম্বিয়াকে হারাল ব্রাজিল

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শেষ মুহুর্তের গোলে কলম্বিয়াকে হারিয়েছে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে গোল করে ড্রয়ের পথে থাকা ব্রাজিলকে দারুণ এক জয় এনে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এই জয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে আসল ব্রাজিল।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ব্রাসিলিয়ার গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে কলম্বিয়াকে ২-১ ব‍্যবধানে হারিয়েছে দোরিভাল জুনিয়রের দল।

ঘরের মাঠে আজ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেই শুরু করে ব্রাজিল। দারুণ কিছুর আভাস দেওয়া ব্রাজিল ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়েও যায়। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে বক্সে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার দানিয়েল মুনোজ। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
স্পট কিকে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন বার্সেলেোনা তারকা রাফিনিয়া।

এগিয়ে যাওয়ার পর পাসিং ও গতিতে কলম্বিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করে ব্রাজিল। কয়েক বার সুযোগ পেয়েও লিড বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল। এ সময় খুঁজেই পাওয়া যায়নি কলম্বিয়াকে।
৪১ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নেয় তারা। অসাধারণ ফিনিশিংয়ে গোল করে কলম্বিয়াকে সমতায় ফেরান দিয়াজ।

শেষ পর্যন্ত সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরেই দারুণ এক আক্রমণে যায় ব্রাজিল। ৪৭তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের আড়াআড়ি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস।
৬৪ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ রক্ষণে গিয়ে খেই হারানোয় শেষ পর্যন্ত গোল পাওয়া হয়নি। ৬৮ মিনিটে কলম্বিয়ার আক্রমণ রুখে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন।

৭১তম মিনিটে মাথায় সংঘর্ষে চোট পান আলিসন ও সানচেজ। কিছুটা সময় শুয়ে থাকেন দুইজনই। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার। চালিয়ে যেতে পারেননি আলিসনও, তার জায়গায় নামেন বেন্তো।

শেষ দিকে দুই আরো কিছু সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু আর কোনো গোল না হওয়ায় মনে হচ্ছিল সমতাতেই শেষ হবে ম্যাচ। ঠিক সেই সময়ে ত্রাতা হয়ে এলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। খেলা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে করেন দারুণ এক গোল। আর তাতেই ব্রাজিল পেয়ে যায় মহামূল্যবান তিন পয়েন্ট।

এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে বড় একটা লাফ দিল ব্রাজিল। ১৩ ম‍্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এলো দুই নম্বরে। সমান ম‍্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে নেমে গেল কলম্বিয়া।

২৬ মার্চ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল।

ভারতকে হারাতে হামজার সঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে অন্যদেরও

ঢাকায় শেষ দিন অনুশীলন করেও ২৩ জনের স্কোয়াড চূড়ান্ত করতে পারেননি কাবরেরা। শিলং গেছেন ২৪ খেলোয়াড়। শেষ মুহূর্তে দল থেকে বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার তাজউদ্দিন, উইঙ্গার আরিফ হোসেন ও স্ট্রাইকার পিয়াস আহমেদ। পিয়াসের বাদ পড়াটা অবাক করার মতোই।

কারণ তিনি ছাড়া দলে পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার আর মাত্র একজনই—আল আমিন। এই একজনেই ভরসা রেখে গতকাল ভারতে পা রেখেছেন হাভিয়ের কাবরেরা।

আল আমিন ও পিয়াসের খেলার ধরন আলাদা। প্রতিপক্ষকে প্রেস করে ট্রানজিশনে আল আমিন দ্রুতগতির, ফিনিশিংয়েও ভালো।
তুলনায় পিয়াস বক্সের খেলোয়াড়, স্ট্রাইকারসুলভ উচ্চতাও আছে। ম্যাচ পরিস্থিতিতে কাবরেরা তাঁকে ব্যবহার করতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। যেমনটা মালদ্বীপের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে করেছিলেন। কিন্তু কাবরেরা সেই বিকল্প ছেঁটে ফেলেছেন, শিলংয়ের বিমান ধরেছেন একজন মাত্র স্ট্রাইকার নিয়ে।

আক্রমণভাগের অন্যরা ফয়সাল আহমেদ, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম—প্রত্যেকেই উইঙ্গার। মাঝমাঠ যথেষ্ট ভারী। দলে হামজা চৌধুরীর মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় যোগ হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আরো আট মিডফিল্ডার—জামাল ভূঁইয়া, মোহাম্মদ হৃদয়, কাজেম শাহ, মো. সোহেল রানা, সোহেল রানা, চন্দন রায়, মজিবুর রহমান ও শেখ মোরসালিন। অবশ্য বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় হামজাকে নিয়ে প্রথম দিনের অনুশীলনেও স্প্যানিশ কোচকে ততটা আক্রমণাত্মক ছক সাজাতে দেখা যায়নি।

শুরুতে ফয়সাল, রাকিবকে ওপরে রেখে স্ট্রাইকার ছাড়াই খেলিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে আল আমিনকে যোগ করলেও ফরমেশন ছিল ৪-১-৪-১। ডান প্রান্তে খেলেন শাহরিয়ার ইমন। মাঝমাঠে জামাল ভূইয়া, মোহাম্মদ হৃদয়; হামজাকে হোল্ডিং মিডফিল্ডেই রেখেছেন তিনি।

এর আগে সহকারী কোচ হাসান আল মামুন আভাস দিয়েছেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকার সহজাত রক্ষণগুণ ও পাসিং সামর্থ্য মাথায় রেখে তাঁকে ‘ডিপ লায়িং মিডফিল্ডার’ হিসেবে খেলানো হতে পারে, যাতে নিচ থেকে খেলার নাটাইটা ঘোরাতে পারেন। সুনীল ছেত্রীদের জন্য এই হামজাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে জিতে ফিরতে হলে আক্রমণভাগে রাকিব, মোরসালিনদেরও জ্বলে উঠতে হবে। ছেত্রীকে ফিরিয়ে হাতেনাতে ফল পেয়েছেন ভারতীয় কোচ মানোলো মার্কেস। গত পরশু শিলংয়ের একই মাঠে মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তাঁর দল। হেডে অসাধারণ এক গোল করে ফেরাটাও রাঙিয়েছেন ছেত্রী। তবে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কঠিন এক লড়াইয়ের আভাসই দিয়েছেন ভারতীয় কোচ, ‘হামজা অসাধারণ খেলোয়াড়। সে এই মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগে না থাকলেও চ্যাম্পিয়নিশপ লিগে নিয়মিত খেলছে। আর বাংলাদেশ দলটাও এখন অনেক ভালো। কারণ ওরা একই কোচের অধীনে তিন কি চার বছর ধরে একসঙ্গে খেলছে।’ মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ের বিপরীতে চোটের দুঃসংবাদও অবশ্য হজম করতে হয়েছে ভারতকে। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ব্রেন্ডন ফার্নান্দেজ চোটে পড়েছেন। অফ দ্য বল মাঠে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। সেটি শিলংয়ের মাঠ নিয়েও ভাবিয়ে তুলতে পারে বাংলাদেশকে। কারণ এর আগে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ম্যাচেও একাধিক খেলোয়াড়কে এভাবে পিছলে পড়তে দেখা গেছে নতুন তৈরি এই মাঠটিতে।

হামজাকে নিয়ে বাংলাদেশ অবশ্য সব চ্যালেঞ্জই পেরিয়ে যেতে চায়। গতকাল দেশ ছাড়ার আগে সিনিয়র খেলোয়াড় তপু বর্মণ যেমন বলেছেন, ‘জেতার মানসিকতা নিয়েই আমরা যাচ্ছি। সামনের কয়েকটা দিন ওখানকার কন্ডিশনের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারব আশা করি।’

বাংলাদেশ দল

গোলরক্ষক : মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান। রক্ষণভাগ : শাকিল আহাদ, রহমত মিয়া, শাকিল হোসেন, ইসা ফয়সাল, তারিক কাজী, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন। মধ্যমাঠ : হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, মোহাম্মদ হৃদয়, কাজেম শাহ, মো. সোহেল রানা, সোহেল রানা, চন্দন রায়, মজিবুর রহমান, শেখ মোরসালিন। আক্রমণভাগ : ফয়সাল আহমেদ, রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আল আমিন।

গাজায় মৃত্যু তিন দিনে ৬০০ ছুঁইছুঁই

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে গাজায় গত মঙ্গলবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ২০০ শিশুসহ প্রায় ৬০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, তিন দিনে ২০০ শিশুসহ ৫৯১ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন ১০৪২ জন।

শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছে নবজাতকসহ অন্তত ৯১ জন।

ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসে বেশ কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর দক্ষিণ গাজায় অন্তত ২০ জন নিহত হন।

গাজার উত্তরাঞ্চলে বেইত লাহিয়া শহরের পশ্চিমে আস-সুলতান এলাকায় একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হলে অন্তত সাতজন নিহত হন।

আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজম গাজা শহরের কেন্দ্র থেকে জানান, ইসরায়েলি হামলা গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে ভোরের দিকে।
ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১১টি আবাসিক ভবন ধ্বংস করেছে।

কয়েক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার ভোরের দিকে গাজা উপত্যকায় নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। পবিত্র রমজানে ইসরায়েলের নির্বিচার এই হামলার নিন্দায় সরব হয়ে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব।

গত ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল গাজায়।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতি গোষ্ঠী

ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের দায় স্বীকার করেছে। তেল আবিবের কাছে বেন গুরিওন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল। গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র এক টেলিভিশন বিবৃতিতে জানিয়েছেন এ কথা।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে।
তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আইডিএফ জানিয়েছে, ইসরায়েলে প্রবেশের আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়েছিল।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের বিমান বাহিনীর কথা উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রবেশের আগে আইএএফ প্রতিহত করে। প্রোটোকল অনুসারে সাইরেন বাজানো হয়েছিল।
’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে মারাত্মক হামলা চালানোর পর হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ইসরায়েলকে তাদের শত্রু মনে করে। তারা সানা এবং ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিম নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু তারা দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার নয়।

হুতি জানিয়েছে, তারা গাজায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে জানান, ইয়েমেনের হুতি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথে আক্রমণ চালিয়ে গেলে তাদের ‘ভয়াবহ’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, শনিবার থেকে তারা ইয়েমেনে ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান। ইয়েমেনে মার্কিন মারাত্মক হামলার পর রবিবার হুতি গোষ্ঠী প্রথমে লোহিত সাগরে ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যানে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল।

এদিকে ইয়েমেনে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় ১৬ হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন।
বুধবার গভীর রাতে প্রাণহানির এই তথ্য জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। হুতি-সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা সাবা অবশ্য হতাহতের পরিস্থিতি, সময় বা সঠিক অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেয়নি।

এর আগে, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় সাতজন নারী এবং দুই শিশু আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। হুতি-সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টিভি অনুসারে, আল-জাওফ প্রদেশের সাদা, আল-হাজম জেলা এবং আল-বায়দা প্রদেশের আস সাওয়াদিয়াহ জেলায় বিমান হামলা চালানো হয়।

হুতিদের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন বিমান হামলায় ৫৩ জন নিহত এবং ১০৭ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ছিল ইয়েমেনে প্রথম বিমান হামলা।

এদিকে গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে আজ ভোরবেলা। ইসরায়েলি বাহিনী কমপক্ষে ১১টি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে, বিশেষ করে খান ইউনিস, রাফাহ এবং বেইত লাহিয়া শহরে। মৃতের সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়ে ৭১ জনে পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে নবজাতক শিশু, শিশু, নারী এবং পুরুষও রয়েছেন। তারা হামলার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, দুই দিনে ৪৩০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। বিমান হামলা চালানোর পর ইসরায়েল গাজায় তাদের স্থল অভিযান বাড়িয়েছে।

মূল্যবোধ ধ্বংস করেছে পতিত মাফিয়া সরকার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে পতিত মাফিয়া সরকার ধ্বংস করেছে। একটি রাষ্ট্রের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ যদি ধ্বংস করে দেওয়া যায়- রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা চরমপন্থিদের এক উর্বর ভূমিতে পরিণত হবে। ফ্যাসিবাদী জনগোষ্ঠী তখন দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করবে। অপরদিকে গণতান্ত্রিক বিশ্বে ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

গতকাল রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভার্চুয়ালি বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এই ইফতারের আয়োজন করে বিএনপি। অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নায়েবে আমির ড. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখতে চরমপন্থি ও উগ্রবাদী অপশক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি গণহত্যাকারী পলাতক মাফিয়া চক্রকে যে কোনো মূল্যে বিচারের সম্মুখীন করার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই হবে বিএনপিসহ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তির রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আর জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে মাফিয়াচক্রের দেশ থেকে পলায়নের পর সাত মাস পার হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক মাফিয়া শাসন-শোষণে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সাত মাস হয়তো খ্বু বেশি সময় নয়।
তবে আগামী দিনগুলোতে যদি নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম কিংবা কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেলে জনগণের সংশয়, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দূর হতো।

তারেক রহমান বলেন, শুধু একটি নির্বাচনের জন্য এই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে মাফিয়া চক্রের পতন হয়নি, এ কথা যেমন সত্য- তেমনি আরেকটি চরম সত্য হলো- একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্মল নির্বাচন না হওয়ার জন্যই কিন্তু মাফিয়া চক্রের পতন হয়েছিল। সুতরাং একটি নির্বাচনকে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভাবার কোনো অবকাশ নেই। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ যার যার ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে দেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার ও সংসদ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের মালিকানার সম্পর্ক আরও গভীরতর হয়। রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য সোচ্চার। কিন্তু আন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কিছু উপদেষ্টা ও দু-একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে ইদানীং কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলতে শোনা যায়। আমি মনে করি জনপ্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের নামে গৌণ ইস্যুকে মুখ্য করে অকারণে সময় নষ্ট করার চেষ্টা হলে সেটি জনমনে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।

মার্কিন হামলায় ইয়েমেনে ১৬ হুতি সদস্য নিহত

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী ফের অতর্কিত হামলা চালিয়েছে, এর ফলে অন্তত ১৬ জন হুতি সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ঘোষণা করেছে— মার্কিন বিমান হামলায় তাদের ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

এর আগে, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় সাতজন নারী এবং দুই শিশু আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
হুতি-সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টিভি অনুসারে, আল-জাওফ প্রদেশের সাদা, আল-হাজম জেলা এবং আল-বায়দা প্রদেশের আস সাওয়াদিয়াহ জেলায় বিমান হামলা চালানো হয়।

গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী, শনিবার থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং ১০৭ জন আহত হয়েছে, এর মধ্যে নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শিক্ষা বিভাগ বন্ধের আদেশে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘ-প্রত্যাশিত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার তার এই আদেশে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। এর মধ্যমে প্রধান একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করবেন ট্রাম্প।

স্বাক্ষর হওয়ার আগেই ডেমোক্র্যাটিক রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি দল এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল।
তারা ট্রাম্পকে বিভাগটি বন্ধ এবং গত সপ্তাহে ঘোষিত প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই বন্ধ করার জন্য মামলা দায়ের করেছিল।

নেতৃস্থানীয় নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী এনএএসিপি আদেশটি অসাংবিধানিক বলে সমালোচনা করেছে। ট্রাম্প ও তার ধনকুবের উপদেষ্টা ইলন মাস্ক মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) মতো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচী বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এবার প্রথমবার শিক্ষা বিভাগের মতো মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের একটি সংস্থাকে বিলুপ্ত করতে যাচ্ছেন।

নেতৃস্থানীয় নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী এনএএসিপি-এর সভাপতি ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি লাখ লাখ আমেরিকান শিশুদের জন্য একটি অন্ধকার দিন। যে শিশুরা মানসম্মত শিক্ষার জন্য ফেডারেল তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। তাদের মধ্যে দরিদ্র ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের শিশুরাও রয়েছে, যাদের বাবা-মা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন।’

তবে কংগ্রেসের আইন প্রণয়ন ছাড়া ট্রাম্প সংস্থাটি বন্ধ করতে পারবেন না।
ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবে মন্ত্রিসভা-স্তরের সংস্থাটি বাতিল করার মতো বড় আইন পাসের জন্য ৬০ ভোটের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সাতজন ডেমোক্র্যাটের সমর্থনও প্রয়োজন হবে। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা শিক্ষা বিভাগ বাতিল করার পক্ষে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি ট্রাম্প এবং মাস্কের ‘স্ল্যাশ অ্যান্ড বার্ন ক্যাম্পেইন’ নামে অভিহিত একটি অভিযানের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প এবং মাস্ক শিক্ষা বিভাগের বিরুদ্ধে একটি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং সংস্থাটির অর্ধেক কর্মীকে বরখাস্ত করছেন।
’

পলিটিকো’র হাতে আসা একটি অনুলিপি অনুসারে, আদেশটি ম্যাকমাহনকে বিভাগটি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। পত্রিকাটি বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান গভর্নর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাদ দেওয়া হবে, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুদান প্রদান এবং দেশজুড়ে নিম্ন আয়ের স্কুলগুলোর জন্য তহবিল প্রদান।

ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্টের প্রাক্তন সিইও লিন্ডা ম্যাকমাহন ৩ মার্চ শপথ গ্রহণের পরপরই একটি স্মারকলিপি জারি করেন যে সংস্থাটি তার ‘চূড়ান্ত মিশন’ শুরু করবে। পরের সপ্তাহে, তিনি বিভাগের কর্মীসংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেন।

ঐতিহ্যগতভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা সীমিত, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য মাত্র ১৩ শতাংশ তহবিল ফেডারেল কোষাগার থেকে আসে, বাকি অর্থ রাজ্য এবং স্থানীয় সম্প্রদায় দ্বারা অর্থায়ন করা হয়।

কিন্তু নিম্ন আয়ের স্কুল এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল তহবিল অমূল্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কার্যকর করার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাম্প বারবার বিভাগটি বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এটিকে একটি বড় প্রতারণামূলক কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

সূত্র : রয়টার্স

প্রাণঘাতী বিমান হামলার পর গাজায় এবার স্থল অভিযান

গাজায় বুধবার (১৯ মার্চ) ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রায় ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী গত দুই দিন ব্যাপক বিমান হামলার পরে এবার স্থল অভিযান শুরু করেছে। গাজায় আলজাজিরার সংবাদদাতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গাজায় নতুন করে আক্রমণের ফলে জানুয়ারি থেকে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির সমাপ্তি ঘটেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সেনারা নেতজারিম করিডরে প্রবেশ করেছে, যা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণকে বিভক্ত করে। তারা গাজায় উত্তর ও দক্ষিণে স্থল তৎপরতা শুরু করেছে।

বিবিসি দেখেছে, উত্তর গাজার বেইত হানুনসহ সামরিক বাহিনী যেসব এলাকায় যাচ্ছে, সেখানে স্থানান্তরের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। গাজার বাসিন্দাদের স্থল সীমান্তের তিন পাশের বিশাল এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য অসংখ্য নির্দেশ জারি করেছে তারা।
এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে শিগগিরই আরো বড় স্থল অভিযান শুরু হতে পারে।

এই নির্দেশ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, যাদের অনেকেই যুদ্ধের কারণে বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পায়ে হেঁটে, গাড়িতে বা যানবাহনে করে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর থেকে ১৮৩ শিশুসহ কমপক্ষে ৪৩৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহে তাদের কম্পাউন্ডে বিস্ফোরণের পর তাদের একজন কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহ সতর্ক করে দিয়েছেন, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল আরো বড় আকারে লড়তে পারে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামাস আমাদের বাহিনীর সক্ষমতা বুঝতে পেরেছে এবং এটা কেবল শুরু।

তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।
আমাদের সব জিম্মিকে মুক্তি, হামাসকে নির্মূল করা এবং গাজা আর ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে থাকবে না— এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু করেছে এবং যেকোনো যুদ্ধবিরতির আলোচনা এখন আগুনের মুখে হবে।’ আজ বুধবারও বিমান হামলা অব্যাহত আছে।

বুধবার এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘শেষ সতর্কতা’ জারি করে সেখানে আটক অবশিষ্ট জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাস এখনো ৫৯ জিম্মিকে ধরে রেখেছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাটজ বলেন, যদি কোনো দাবিই পূরণ না হয়, তবে বিকল্প হবে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ধ্বংসযজ্ঞ’।

সূত্র : বিবিসি

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বাংলাদেশ পরিস্থিতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ট্যামি ব্রুসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা যে কোনো দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি সহিংসতা বা অসহিষ্ণুতার ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আমরা স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, আমরা দেখছি অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। আমরা এটাই আশা করি এবং ভবিষ্যতেও এটা অব্যাহত থাকবে।