সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ : মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার শেয়ারের পতন

বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে আতঙ্কের মধ্যে মেক্সিকান শেয়ারবাজার শুক্রবার ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক তালিকা থেকে দেশটি বাদ পড়েছে।

ট্রাম্প আর্জেন্টিনাসহ বহু দেশের ওপর ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপের দুই দিন পর, শুক্রবার লেনদেনে আর্জেন্টিনার শেয়ারবাজারেও ৭ শতাংশেরও বেশি পতন হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারেও ০.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মেক্সিকান শেয়ারবাজার পতন ঘটেছে।

আর্জেন্টিনার প্রধান মেরভাল সূচক ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে এবং ব্রাজিলের বোভেস্পা সূচক ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে।উভয় দেশই ল্যাটিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশের মতো ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের শিকার হয়েছিল। যার নিম্নতম স্তর ছিল ৫০ শতাংশ থেকে শুরু করে।

সূত্র : বাসস, এএফপি

ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.
মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যের যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেকে (দুই দেশের প্রধানদের) বৈঠক আনন্দের।
আমরা মনে করি ভূ-রাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এই অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আমাদের সামনে একটা আসার আশার আলো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে যে বিটটারনেস (তিক্ততা) তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে এই বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের এবং ভারতের মানুষদের উপকার করবে।

এর আগে, ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুল হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, অন্যান্য সংগঠন ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাহবুবুল আনাম, রফিকুল ইসলাম বাবু, রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির, নিয়ামুর রশীদ রাহুল, রিয়াজ আহমেদ, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, আবু দাউদ শামসুদ্দোজা চৌধুরী ডন, মাইশিকুর রহমান রিয়াল, ফাহিম সিনহা, কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, সেলিম শাহেদ, সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু, আকরাম হোসেন সবুজ,ইব্রাহিম খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম প্রমুখ।

দেশের পথে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে ব্যাঙ্কক ত্যাগ করেছেন।

আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত থাই মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুরাই ব্যাঙ্কক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বিদায় জানান।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে অধ্যাপক ইউনূস গত বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কক যান।

সেখানে সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিণী আমারাসুরিয়া, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং টোবগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না : মোদি

ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের সাংগ্রি-লা হোটেলে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি এ কথা বলেন।

আমাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে জনগণের উল্লেখ্য করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, দুই নেতার মধ্যে ৪০ মিনিটের এ বৈঠক ছিল খুবই আন্তরিক ও গঠনমূলক।
বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে যথেষ্ট মূল্য দেয় বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব পারস্পরিক ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭১ সালে আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ভারতের সরকার ও জনগণের অটল সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যকার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্পর্ককে সঠিক পথে নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে ভারতের সমর্থন চান। তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন এবং তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করার জন্যও আলোচনার আহ্বান জানান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয়াদিল্লি সবসময় ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুই প্রতিবেশীর ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রধানমন্ত্রী মোদি অধ্যাপক ইউনূসের বিশ্বব্যাপী মর্যাদার কথা স্মরণ করে বলেন, ভারত সর্বদা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে।

মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আজ (শুক্রবার) ব্যাংককে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, গত এক দশকে এ দুই নেতার মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়। দুই দেশের এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও খোলামেলা আলোচনার মনোভাব নিয়ে একে অপরকে অভ্যর্থনা জানান। বৈঠকটি খোলামেলা, ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক ছিল বলে তিনি জানান।

বৈঠকের বরাত দিয়ে শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। আমাদের বন্ধুত্বের শিকড় ইতিহাস, ভৌগোলিক সান্নিধ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে গভীরভাবে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ভারতের সরকার ও জনগণের অটুট সহায়তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

যদিও এটি দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক, অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত আট মাসে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্পর্ককে সঠিক পথে নিয়ে যেতে, আপনার সঙ্গে একসাথে কাজ করতে।

বিমসটেক-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক ইউনূস সংগঠনের সাত সদস্য দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারতের সমর্থন কামনা করেন।

তিনি গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধ্যাপক ইউনূসকে বিমসটেক-এর নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ঢাকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। আমাদের সম্পর্কের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি অধ্যাপক ইউনূসের আন্তর্জাতিক খ্যাতির কথা স্মরণ করে বলেন, ভারত সর্বদা একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে।

তিনি আরো বলেন, ভারত বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, আমাদের সম্পর্ক মানুষে-মানুষে।

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে যে আবেদন রয়েছে, তার অগ্রগতির খোঁজ নেন।

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারত সরকারের আতিথেয়তা গ্রহণ করে বিভিন্ন মিডিয়াতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। আমরা আশা করি ভারত সরকার তাকে এমন মন্তব্য থেকে বিরত রাখার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের (ওএইচসিএইচআর) একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন, যাতে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ শিশু। প্রতিবেদনে এও বলা হয়, প্রতিবাদ দমন করতে হত্যা, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী নিজে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও তাদের লাশ গুম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ভারতের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে নয়, একটি দেশের সঙ্গে।

অধ্যাপক ইউনূস সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এ ধরনের ঘটনা বন্ধে যৌথভাবে কাজ করা হলে তা শুধু অনেক পরিবারকে কষ্ট থেকে রক্ষা করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবার সীমান্তে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটলে আমার মন কাঁদে, এবং ভারতকে অনুরোধ করেন এসব বন্ধে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা কেবল আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালায় এবং প্রাণহানির ঘটনাগুলো ভারতের ভূখণ্ডেই ঘটে। উভয় নেতা এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।

বিমসটেক-এর চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তার নেতৃত্বে এই সংস্থাটি আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি কার্যকর রপ্তানি-আমদানি রুট হিসেবে বিমসটেক গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্বেগের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এসব রিপোর্ট অতিরঞ্জিত এবং অধিকাংশই মিথ্যা।

তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে নিজেরাই তদন্ত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রতিটি ঘটনার উপর একটি কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

দুই নেতা একে অপরের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং দুই দেশের মানুষের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রমুখ।

আমার নীতি কখনোই বদলাবে না : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার নীতি কখনোই বদলাবে না। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে, শুল্কের বিষয়ে তার নীতি পরিবর্তন হবে না।

তিনি বলেছেন, ‘অনেক বিনিয়োগকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন, আমার নীতিগুলো কখনই পরিবর্তন হবে না।
’

তিনি এ-ও বলেন, ‘এটি আগের চেয়ে ধনী হওয়ার সুবর্ণ সময়, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ধনী হওয়ার সময়।’

গত বুধবার নতুন ‘রিসিপ্রকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে শতাধিক দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়।

চুরি হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিণী আমারাসুরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয়েছে।

আজ শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

তাদের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বন্ধুত্বপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেন তারা।

বৈঠক চলাকালে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে তার দেশের প্রচেষ্টার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে শ্রীলঙ্কার সংসদ একটি নতুন আইন অনুমোদন করেছে।’

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কার সমর্থন চেয়েছেন।

এ সময় জুলাই বিদ্রোহের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডা এবং আগামী বছরের ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার প্রশাসনের পরিকল্পনা বর্ণনা করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ ও পররাষ্ট্রসচিব জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত ৩৪% শুল্কারোপ চীনের

মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক ও কিছু বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সব পণ্যে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক বসবে বলে জানিয়েছে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়।

সেই সঙ্গে সামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টার্বিয়াম, ডিসপ্রোজিয়াম, লুটেনিয়াম, স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়ামসহ মাঝারি ও ভারী বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আনার ঘোষণাও দিয়েছে বেইজিং।

গত বুধবার নতুন ‘রিসিপ্রকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে শতাধিক দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তার এ ঘোষণায় চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে আরো ৩৪% শুল্ক বাড়িয়ে ৫৪% করা হয়।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পরপরই ট্রাম্প চীনা আমদানির ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করেন।

বুধবার একই শুল্ক নীতিতে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭% শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এতদিন ছিল গড়ে ১৫%।

সূত্র : বিবিসি

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিতে সম্মত মায়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের প্রথম তালিকা নিশ্চিত করেছে দেশটির জান্তা সরকার। তালিকা অনুসারে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত বলে জানানো হয়।

তা ছাড়া আরো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণের জন্য তাদের ছবি ও নাম যাচাই-বাছাই করা বাকি রয়েছে। ২০১৮-২০ সালে বাংলাদেশ ছয় দফায় মূল তালিকাটি সরবরাহ করেছিল।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে মায়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

মায়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত। আরো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণের জন্য তাদের ছবি এবং নাম যাচাই-বাছাই করা বাকি রয়েছে। ২০১৮-২০ সালে বাংলাদেশ ছয় দফায় মূল তালিকাটি সরবরাহ করেছিল।

রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে এটিই প্রথম নিশ্চিত তালিকা যা একটি বড় পদক্ষেপ মনে করা হচ্ছে।

মায়ানমার আরো নিশ্চিত করেছে, মূল তালিকায় থাকা বাকি ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি মায়ানমারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরো মানবিক সহায়তা পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

বিমসটেককে যুব উৎসব আয়োজনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

বিমসটেক সচিবালয়কে সদস্য দেশগুলোর তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য ‘বিমসটেক যুব উৎসব’ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ব্যাঙ্ককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলন শেষে সংস্থাটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অধ্যাপক ইউনূস মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডেকে এ নির্দেশনা দেন।

ভারতের সাবেক কূটনীতিক ইন্দ্র মণি সম্মেলনের শেষে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংগঠনের ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেকের পরবর্তী সম্মেলন যখন দুই বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে, তখন একটি আলাদা যুব সমাবেশ আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, যখন বিমসটেক নেতারা একসঙ্গে মিলিত হবেন, তখন আমাদের একটি আলাদা যুবসমাবেশ আয়োজন করা উচিত। যাতে সদস্য দেশগুলোর তরুণরা একত্রিত হতে পারে।

মণি এসব প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ধারণাগুলো দারুণ। আমরা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে এ বিষয়ে কাজ করব।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেক মহাসচিবের কাছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান।

মহাসচিব জানান, তারা বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ে একটি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যা গত ২১ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি।

সর্বশেষ এ ধরনের বৈঠক হয়েছিল ২০০৪ সালে।

প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেক সচিবালয়কে প্রতি বছরের জন্য পরিকল্পিত বৈঠকসমূহের একটি বার্ষিক ক্যালেন্ডার তৈরি করার নির্দেশ দেন।