সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে মধ্যস্থতায় নামছে ইউরোপও

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে রাশিয়ার সঙ্গে মধ্যস্থতায় নামছে এবার ইউরোপও। প্যারিস বৈঠকের পর এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার প্যারিসে ফ্রান্স, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা একটি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠক সফল হয়েছে বলেই দাবি করছে সবপক্ষ।

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র একক দায়িত্বে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। যুদ্ধ বন্ধের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কার্যত ব্রাত্য ছিল ইউরোপীয় দেশগুলো। এদিন প্যারিস বৈঠকের পর ইউরোপীয় দেশগুলোও এই আলোচনায় যোগ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ নিজে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফকে। সম্প্রতি রাশিয়ায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন উইটকফ।

ফ্রান্সের তরফে এখনো পর্যন্ত বৃহস্পতিবারের বৈঠক নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সূত্র জানিয়েছে, বৈঠক সফল হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, আগামী সপ্তাহে লন্ডনে এনিয়ে আরো একটি বৈঠক হবে এবং সেখানে ফ্রান্স, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা থাকবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরাসি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় যোগ দিতে রাজি হয়েছেন এবং এইভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।’

বৃহস্পতিবার একের পর এক বৈঠক হয়েছে প্রতিনিধিদের মধ্যে। জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরাও প্যারিসে পৌঁছেছেন। বৈঠক শুরুর আগে ম্যাখোঁর অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য শান্তিচুক্তি কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন হয়েছে।

জেলেনস্কির মন্তব্য

ক্ষমতায় এসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বস্তুত, এই কাজটি করতে গিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের কার্যত অন্ধকারে রেখে ট্রাম্প ক্রেমলিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করে দেন। ইউক্রেনকে যুদ্ধে সাহায্যের বিষয়টি নিয়েও বিতর্কিত অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প ঘোষণা করে দেন, ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি শান্তিচুক্তির খসড়ায় ইউক্রেন সম্মতি জানালেও সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ-বিরতির ওই খসড়া তার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, প্যারিসে যারা বৈঠক করছেন, তারা ক্রেমলিনের ওপর আরো চাপ তৈরি করুক।

জেলেনস্কির ভাষায়, ‘রাশিয়া প্রতিদিন, প্রতিরাত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উচিত হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ চাপের সামনে ফেলা। তাহলেই এই যুদ্ধের অবসান সম্ভব। শান্তিচুক্তি তৈরি হওয়া সম্ভব।’

তবে বৃহস্পতিবারই ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই বৈঠককে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কারণ তারা মনে করেন, ইউরোপের নেতারা চান না যে যুদ্ধ বন্ধ হোক।

ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত কমপক্ষে ৩৮, আহত ১০২

ইয়েমেনের রাস ইসা তেল বন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত হয়েছে। হুথি-অনুমোদিত মিডিয়া জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর মধ্যে একটি এটি। দেশটির হোদেইদাহ স্বাস্থ্য অফিসের বরাত দিয়ে আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই হামলায় ১০২ জন আহত হয়েছে।

আজ শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আল মাসিরাহ টিভির শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাস ইসা বন্দরে বিশাল বিস্ফোরণ।
এরপর ভিডিওটিতে ধ্বংসস্তূপ ও আগুনের ছবি দেখা যায়। এ ছাড়া এক মৃত বেসামরিক নাগরিকের ছবিও দেখা গেছে। পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ক্যাপশনে আরবি ভাষায় বলা হয়েছে, ‘রাস ইসা তেল বন্দরকে লক্ষ্য করে মার্কিন আগ্রাসনের প্রাথমিক ফুটেজ। এ হামলায় বেশ কয়েকজন শহীদ এবং বহু বন্দর কর্মী ও কর্মচারী আহত হয়েছেন।
’

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হুথি যোদ্ধাদের জ্বালানির উৎস বন্ধ করার জন্য এ হামলা চালানো হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে বলেছে, ‘এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হুথিদের অর্থনৈতিক শক্তির উৎসতে আঘাত হানা।’ তবে হুথিদের নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি পেন্টাগন।

জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক অভিযানে হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে।
হামলা শুরুর পর থেকে এটি সবচেয়ে মারাত্মক হামলাগুলোর মধ্যে একটি। এদিকে হুথি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে দুই দিনের মার্কিন হামলায় ৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির মতে, রাস ইসা একটি তেল পাইপলাইন এবং বন্দর পরিচালনা করে। এটি ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ইয়েমেনের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি, ৮০ শতাংশ মানবিক সহায়তা রাস ইসা, হোদেইদাহ এবং আস-সালিফ বন্দর দিয়ে যায়।

ওয়াশিংটন হুথিদের সতর্ক করে বলেছে, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর সশস্ত্র আন্দোলন আক্রমণ বন্ধ না করা পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিরা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা জাহাজগুলোতে ১০০ টিরও বেশি আক্রমণ চালিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের জবাবে এই সকল অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা

হাতিরঝিলে পহেলা বৈশাখের কনসার্ট মাতালেন আশরাফ বাবু

এই প্রথম হাতিরঝিলে এমপি থিয়েটার মঞ্চে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হলো পহেলা বৈশাখের কনসার্ট এবং মেলা। ভোরের নতুন সূর্যোদয় ১৪৩২। দুই দিনের এই বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গুরুস ইভেন্টের আয়োজনে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটিতে ছিল শিশুদের চিত্রাংকন, বাউল গান, এই প্রজন্মের শিল্পী পুলক অধিকারী, সুজানারুপা, টিকে তারিখ ও কাজল আরিফের গান, ইথুন বাবুর ব্যান্ড ছাড়াও ৯০ দশকের দুটি খ্যাতনামা ব্যান্ড আর্ক এবং অরবিট ব্যান্ডের আশরাফ বাবু অংশগ্রহণ করলেন। আশরাফ বাবু বরাবরই তার নিজের লেখা এবং সুর করা গান পরিবেশন করেন। তার ১৯৮৮সালের লেখা ও সুর করা গান আজ অব্দি জনপ্রিয়, শ্রাবনের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে। পহেলা বৈশাখের এই কনসার্টে গ্যালারির হাজার হাজার দর্শকদের ভালোলাগার ঝড় উঠলো তার কন্ঠে। কিছুক্ষণের জন্য হলেও কেউ কেউ ফিরে গেলেন অতীতের দিনগুলোতে। আশরাফ বাবুর কাছ থেকে জানা গেল, তিনি দেশে ও বিদেশের মঞ্চে নিজের ব্যান্ড অরবিটে’র গানের পাশাপাশি নিজের সুর করা এবং লেখা গানগুলো শ্রোতাদের শোনান। আশরাফ বাবুর অন্যতম জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে, অরবিট ব্যান্ডের গান লাল শাড়িরে, দৃষ্টি প্রদীপ জ্বেলে (ডিফরেন্ট টাচ), বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে (কুমার বিশ্বজিৎ), বন্ধু তোমায় মনে পড়ে (নিশিতা বড়ুয়া), আবার মেলায় যাই (ফিডব্যাক), কিছু চাওয়া কিছু পাওয়া (আজম খান), এক নজর না দেখিলে বন্ধু (বেবী নাজনীন), সময় আর কাটে না (সোলস ব্যান্ড) কোন অভিযোগ নেই যে আমার (আইয়ুব বাচ্চু) ইত্যাদি। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চেয়ারম্যান জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম । আরো উপস্থিত ছিলেন হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ সহ আরো অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগীতা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং GRUS।

খেলা আবারও কান্নায় মাঠ ছাড়লেন নেইমার

মাঠে খেললে খেলোয়াড়রা চোট পাবেন এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে নেইমারও ব্যতিক্রম নন। তবে তার ক্যারিয়ারে চোখ বুলালেও দেখা যাবে সে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রমই। তা না হলে এতবার চোট পেয়ে মাঠের বাইরে থাকতে হতো না ব্রাজিলের সুপার স্টারকে।

চোটের সঙ্গে এতটাই সখ্যতা গড়ে উঠেছে নেইমারের মাঠের থেকে যেন মাঠের বাইরেই বেশি থাকছে তিনি। আজ ফিরলেন তো কালকে আবার চোট পেয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে গেলেন তিনি। এভাবে একের পর এক চোট পাওয়ায় চোখের জল ধরে রাখা তার জন্য মুশকিল। সেই মুশকিল কাজটা আবার করতে হয়েছে তাকে।
তবে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে চোখের পানি আটকানোর চেষ্টা করেও পারেননি ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। পারবেন কি করে? ধৈর্যের বাঁধ যে তার ভেঙে গেছে!

বাঁ পায়ের ঊরুর চোট কাটিয়ে গত রবিবার ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে ছয় সপ্তাহ পর মাঠে ফিরেছিলেন নেইমার। আর আজ অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই সেই ঊরুর চোটেই কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন সান্তোসের স্ট্রাইকার। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে যখন কার্টে করে মাঠ ছাড়ছিলেন পৃথিবীর সমস্ত হতাশা তাকে ঝেঁকে বসে।
যা সহ্য করতে না পেরে দু চোখ জলে ভাসিয়ে দিলেন। যেন ‍কিছুটা কষ্ট কম হয়। সঙ্গে সতীর্থসহ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রাও সান্ত্বনা দিচ্ছিল, তবে নেইমারের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল।

অথচ, আজকের ম্যাচটা তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারত। কেননা শৈশবের ক্লাব সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন নেইমার।
মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখতে ‘১০০’ লেখা বিশেষ জার্সি পরে মাঠেও নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু নিয়তি তার জন্য ভিন্ন পরিকল্পনা করেই যেন রেখেছিল!

বাঁ ঊরুর চোটের কারণে গত মাসে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি নেইমার। তারও আগে ২০২৩ সালে অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচেই এসিএল ও মিনসকাস ছিঁড়ে গেলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিই ছিল সেলেসাওদের বিপক্ষে খেলা শেষ ম্যাচ। এই চোটের কারণেই ১৮ মাসে মাত্র ৭ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন সাবেক ক্লাব আল হিলালের হয়ে। পারষ্পারিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রিয় ক্লাব সান্তোসে ফিরেও সেই চোটেই কাবু হতে হচ্ছে তাকে।

তিনি জোর করে আমার পোশাক ঠিক করতে এগিয়ে আসেন : ভিন্সি

গত বছর মালায়লাম অভিনেত্রী ভিন্সি অ্যালোশিয়াসের এক বক্তব্য নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, মাদক সেবন করে এমন কোনও অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করবেন না। তার এই বিবৃতি প্রকাশ্যে আসতেই ওঠে বিতর্কের ঝড়। আর এসবের জেরে খানিকটা হেনস্থাও হতে হয় নায়িকাকে।
অবশেষে তার এই বিবৃতির কারণ নিয়ে মুখ খুললেন নায়িকা। জানালেন কীভাবে এক মাদকাসক্ত সহ-অভিনেতা একটা সেটে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে ভিন্সি বলেন, কয়েকদিন আগে, একটি মাদকবিরোধী প্রচারণা অনুষ্ঠানে বলেছিলাম। আমি আমার পরিচিত যারা মাদকসেবন করেন তাদের সঙ্গে আর সিনেমা করব না- এই মন্তব্যের পর বেশ কিছু মন্তব্য আমার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল।
তখন মনে হয়েছিল আমি কেন এমন কথা বলছি তা, সকলের কাছে স্পষ্ট করা উচিত।

অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এমন একটা ছবিতে কাজ করছিলাম যেখানে একজন প্রধান চরিত্রের অভিনেতা মাদক সেবন করতেন। শুধু তাই নয়, বাজে আচরণও করতেন। আমার পোশাক নিয়ে তার সমস্যা ছিল।
হঠাৎ সবার সামনে আমায় বলেন, পোশাক ঠিক করতে হবে। মাদকের নেশা এতটাই ছিল যে তিনি জোর করে আমার পোশাক ঠিক করতেও এগিয়ে আসেন।

ভিন্সি আরো বলেন, ‘একটি দৃশ্যের মহড়ার সময় তার মুখ থেকে সাদা কিছু টেবিলের উপর পড়ে। সবটা থেকে বোঝা যাচ্ছিল তিনি সেটেও মাদক সেবন করছিলেন। এতে শুধু আমি নয়, সেটে থাকা সকলেই বেশ বিরক্তি হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মাদক ব্যবহার করা একটা অন্য বিষয়। সেটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যখন এটা আপনার কাজের পরিবেশকে প্রভাবিত করে, তখন সেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

অভিনেত্রীর মতে, ‘আমি এভাবে কাজ করতে চাই না। ওই অভিনেতার ব্যাপারটা সবাই জানতেন, পরিচালক তার সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’

গত বছর পল্লিপুরম গির্জায় অনুষ্ঠিত কেসিওয়াইএম এরনাকুলাম-অ্যাঙ্গামালি মেজর আর্চডায়োসিসের ৬৭তম কার্যনির্বাহী বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিন্সি ঘোষণা করেছিলেন, যদি তিনি জানতে পারেন যে কেউ মাদক সেবন করছেন, তাহলে তাঁর সঙ্গে কোনও ছবিতে অভিনয় করবেন না ভিন্সি। অভিনেত্রীর এই বক্তব্য নিয়েই দানা বেঁধে ছিল বিতর্ক। বেশ তোলপাড়ও হয় মালয়ালম শোবিজ অঙ্গনে। অবশেষে একবছর পর সেই বিতর্ক নিয়ে পুনরায় কথা বললেন ভিন্সি।

ভিন্সি অ্যালোশিয়াস মালয়ালম সিনেমার পরিচিত মুখ। ‘বিকৃতি’, ‘রেখা’, ‘পদ্মিনী’, ‘জন গন মন’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা বাড়াল সুইডেন

বাংলাদেশের আটটি অংশীদারের মাধ্যমে এক কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার মানবিক সহায়তা দিচ্ছে সুইডেন। এটি দেশে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।

তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এমন সম্প্রদায়গুলোকে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি স্থানীয় এনজিওগুলোকে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে সক্ষম করার জন্যও সহায়তা প্রদান করা হবে।

রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ দেশে মানবিক প্রয়োজন মেটাতে সুইডেন দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, যেমনটি আমরা গত সাত বছর ধরে করে আসছি।
এই বছর, আমরা গত বছরের তুলনায় আমাদের প্রাথমিক বরাদ্দ বাড়াচ্ছি। ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদার কারণে বিশেষ করে কক্সবাজারে যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবির অবস্থিত।

নমনীয় তহবিলগুলো ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি, নরওয়েজিয়ান শরণার্থী কাউন্সিল, ইসলামিক রিলিফ, অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটিতে চ্যানেল করা হয় এবং এর জন্য ব্যবহৃত হয়— খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি সুরক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা পরিষেবা এবং শিশু সুরক্ষা স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি শিক্ষা এবং পানি ও স্যানিটেশন অ্যাক্সেসের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোর বিধান।

এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার জন্য সক্ষম হতে ২৬টি স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থাকে সহায়তা করার জন্য সুইডেন স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে।

সুইডেন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মানবিক দাতা এবং ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি, ইউনিসেফ, ইউএনএফপি-এর পাশাপাশি জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া তহবিল (সিইআরএফ)-এর মূল সহায়তা সরবরাহকারীদের মধ্যে অন্যতম।

অভিনয় ছাড়ছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট!

হলিউডের শক্তিমান অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট। হলিউডের অস্কারজয়ী এ তারকা এমন একজন অভিনেত্রী যিনি পর্দায় এলে মুগ্ধ চোখে দেখেন দর্শকরা। এ অভিনেত্রীর ভক্ত অনুরাগীর সংখ্যাও অনেক। তবে হঠাৎ করেই অভিনয় ছেড়ে অবসরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন কেট ব্ল্যানচেট।
রেডিও টাইমসের বরাত দিয়ে ১৫ এপ্রিল খবরটি জানিয়েছে দ্যা গার্ডিয়ান।

সাক্ষাৎকারে ব্ল্যানচেট বলেন, ‘আমি যখনই বলি অভিনয় ছেড়ে দেবো, তখন আমার পরিবারের লোকজন তা বিশ্বাস করতে চায় না। কিন্তু আমি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সিরিয়াস। এটি ছাড়াও জীবনে আমি অনেক কিছু করতে চাই।

এছাড়া বর্তমানে তার তিনটি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা চলছে। সেগুলো হলো জিম জারমুশের ‘ফাদার, মাদার, সিস্টার, ব্রাদার’ (এই বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবে), সায়েন্স ফিকশন কমেডি ‘আলফা গ্যাং’ এবং বেন স্টিলারের ‘দ্য চ্যাম্পিয়নস’। তারপরও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এবার তার অবসরের পরিকল্পনা গুরুতর।

দুইবারের অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী জাতিসংঘের হয়ে কাজ করেন, একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ প্রযোজনা সংস্থা পরিচালনা করছেন।
এমনকি বর্তমানে তার তিনটি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা চলছে। সেগুলো হলো জিম জারমুশের ‘ফাদার, মাদার, সিস্টার, ব্রাদার’ (এই বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবে), সায়েন্স ফিকশন কমেডি ‘আলফা গ্যাং’ এবং বেন স্টিলারের ‘দ্য চ্যাম্পিয়নস’।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক

রাজনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ঢাকায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসিম উদ্দিন। পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওই দেশটির পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ।
এর আগে বুধবার ঢাকায় এসেছেন পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। এত দীর্ঘ বিরতির পর বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হতে পারে।

জানা গেছে, ঐতিহাসিক চার ইস্যুতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সম্পর্কে স্থবিরতা চলছিল।
এগুলো হলো—১৯৭১ সালে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের ন্যায্য হিস্যা ও ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেওয়া বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, আজকের বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রস্তাব থাকবে।
পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সমন্বয় বাড়াতে একটি যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব তুলতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য পাকিস্তানকে বিশেষায়িত কর্মসূচির প্রস্তাব দিতে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আজকের বৈঠকের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

চলতি মাসের শেষ দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকা সফর করবেন। ২০১২ সালের পর এটি কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম সফর হবে।

নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার না করায় হাঙ্গেরির কাছে ব্যাখ্যা চাইল আইসিসি

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি; এ জন্য হাঙ্গেরিকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

বুধবার জারি করা এক বিবৃতিতে আদালত আগামী ২৩ মে’র মধ্যে বুদাপেস্টকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার অনুরোধ করেছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েল ও মিডল ইস্ট আইয়ের।

হেগ-ভিত্তিক ট্রাইব্যুনালের মতে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গত বছরের নভেম্বরে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এর কয়েক মাস পর গত ৩ থেকে ৬ এপ্রিল নেতানিয়াহু হাঙ্গেরি সফরে ছিলেন। সফরকালে গাজা গণহত্যার অংশ হিসেবে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য আদালত কর্তৃক ওয়ান্টেড নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে হাঙ্গেরি অস্বীকৃতি জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তবে রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী হাঙ্গেরি এ ধরনের পরোয়ানা মেনে চলতে বাধ্য।

আদালত দাবি করেছেন, ৩ এপ্রিল, যেদিন নেতানিয়াহু হাঙ্গেরিতে অবতরণ করেন, সেদিন আদালত কর্তৃক বুদাপেস্টে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সত্ত্বেও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানায় হাঙ্গেরি। এর মাধ্যমে দেশটি তার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে আইসিসি হাঙ্গেরিকে তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য ২৩ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

বুদাপেস্টে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ঘোষণা করেছিলেন যে হাঙ্গেরি আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে।

১৬ দিনে কত আয় করল ‘জংলি’, জানালেন পরিচালক

ঈদে মুক্তি পেয়েছে সিয়াম আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘জংলি’। মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি দর্শক হৃদয় বেশ ভালোভাবেই স্পর্শ করে। বেড়ে যায় এর দর্শক চাহিদা। হল মালিকরাও বাধ্য হয়ে হলসংখ্যা বাড়ায়।
বাড়তে থাকে আয়ও। ঈদে শাকিব খানের ‘বরবাদ’ ও নিশোর ‘দাগি’র সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় করেছে জংলি। এবার সিনেমাটির আয়ের তথ্য প্রকাশ করলেন পরিচালক রহিম।

মুক্তির ১৬ দিনে জংলি কত আয় করেছে, সেই তথ্য দিয়েছেন সিনেমার পরিচালক এম রাহিম।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই নির্মাতা জানিয়েছেন, জংলির গ্রস কালেকশন (টিকিট বিক্রি মূল্য) দুই কোটি ছয় লাখ টাকা।

রহিম তার স্ট্যাটাসে জানান, ‘পরিবারের সবাই একসঙ্গে হাসছে, একসঙ্গে কাঁদছে বাংলা সিনেমা দেখে, জংলি দেখে। আমরা নিশ্চিত, আরো হাজারো-লাখো পরিবারের হাসি-কান্নার কারণ হব।’ এরপর সিনেমার আয়ের পরিমাণ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘জংলির ১৬ দিনের টোটাল গ্রস কালেকশন দুই কোটি ছয় লাখ টাকা প্রায়।
এই ভালোবাসা চলুক, চলতেই থাকুক।’

‘জংলি’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। এ সিনেমায় অভিনেতা একাধিক লুকে দর্শকদের সামনে হাজির হন। সিনেমায় সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি ও শবনম বুবলী। সিনেমায় গানের সুর ও সংগীত আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রিন্স মাহমুদ।