রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

৪৪তম বিসিএসের ২২২ জনের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত

৪৪তম বিসিএসের ২২২ জনের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

৪৪তম বিসিএসের চলমান মৌখিক পরীক্ষার মধ্যে অনেক প্রার্থীর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা রয়েছে। তারা আগে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে চান।
এসব প্রার্থীদের আবেদন করতে বলেছিল পিএসসি। গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছিল।

এসব চাকরিপ্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুধু তাদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

আজ মঙ্গলবার পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (ক্যাডার শাখা) চলতি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত উভয় ক্যাডারের ৪৫ জন এবং সাধারণ ক্যাডারের পদসমূহের ১৮৭ জন রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী প্রার্থীর ই-মেইলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।

স্থগিতকৃত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ যথাসময়ে কমিশনের ওয়েবসাইটে অথবা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে bpsc.teletalk.com.bd প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে পিএসসি।

ইশরাককে মেয়র ঘোষণার গেজেট করতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চায় ইসি

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করা যাবে কি না, এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়। সম্প্রতি আদালত ইশরাককে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রায় দিয়েছেন। রায়ের কপি গত সপ্তাহে ইসিতে আসার পর মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইল ইসি।

এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার পর আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ প্রয়োজন। তাদের মতামত পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি নির্বাচনের ফল বাতিল করে বিএনপিদলীয় মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গত ২৭ মার্চ রায় দেন আদালত। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে মেয়র হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করে সরকারের গেজেট বাতিল করেন আদালত।

২০২০ সালের ৩ মার্চ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং অগ্রহণযোগ্যতার অভিযোগে ডিএসসিসি নির্বাচন ও ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছিলেন ইশরাক হোসেন। এ মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন ও ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই সিটির নির্বাচন হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের গেজেট প্রকাশ করে ইসি।
তাপস দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০২০ সালের ১৬ মে। অর্থাৎ এই সিটির মেয়াদ রয়েছে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত।

তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আদালতের নির্দেশনায় বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেন।

জ্বালানি প্রকল্পে এডিবির ১৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের শতাধিক প্রকল্পে ১৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৭৩৪ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। যার অধিকাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বলে জানিয়েছে এনজিও ফোরাম অন এডিবি। সংস্থাটি বলছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এমন একমুখী বিনিয়োগ নীতির ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ক্রমে ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এডিবর বিনিয়োগ ঝুঁকি উন্মোচন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উঠে আসে।

এডিবির ৫৮তম বার্ষিক সাধারণ সভার আগে যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনজিও ফোরাম ও কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরোনমেন্টাল একশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন)। এ সময় বক্তারা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এডিবির দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ মডেলের কড়া সমালোচনা করেন। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এডিবির প্রতি আহ্বান জানান।

এনজিও ফোরামের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এডিবির বিনিয়োগকৃত প্রকল্প ১০৬টি।
এর মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, তেল-গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এডিবির বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিবির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় না নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফলে এডিবির ৯ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৬৭টি জ্বালানি প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। যা এশিয়ার বহুজাতিক আর্থিক সংস্থাটির পরিকল্পনা, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ ছাড়া সংস্থাটির একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গ্যাস সঞ্চালন লাইন বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষণ বলছে, এডিবির ৬৫ শতাংশ প্রকল্পে কোনো প্রকার সুরক্ষা শ্রেণিকরণই নেই, যা স্পষ্টতই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশগত প্রকল্পে বরাদ্দ ৭.৯৫ শতাংশ, আর বাস্তুচ্যুতি ও স্থানীয়দের সুরক্ষায় বরাদ্দ মাত্র ০.৩৫ শতাংশ।

এনজিও ফোরাম অব এডিবির জীবাশ্ম জ্বালানি প্রচারাভিযানকারী শারমিন বৃষ্টি বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান এডিবির টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’

এনজিও ফোরাম অন এডিবির নির্বাহী পরিচালক রায়ান হাসান এডিবির জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগের বৈষম্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এডিবি বাংলাদেশে দুই হাজার ৮৮৪.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য মোট ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
যার মধ্যে ৮২.৯ শতাংশ অর্থায়ন জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পে, মাত্র ২.৫৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুতে এবং বায়ু বিদ্যুতে এখন পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগ নেই। প্রতি মেগাওয়াটে জীবাশ্ম-জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ ২.০৪ মিলিয়ন ডলার, যেখানে সৌরবিদ্যুত প্রকল্পে তা মাত্র ০.৫১ মিলিয়ন ডলার, যা বেশ উদ্বেগজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘এডিবির জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি নীতি সংস্কার প্রয়োজন, যেখানে সক্রিয়ভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করার কৌশল গ্রহণ করতে হবে, একটি ন্যায়সংগত ও সমতা ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে হবে। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে অর্থায়নকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে যাতে কার্বন নির্ভরতা রোধ করা যায়’।

এডিবির বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে অর্থায়ন বিশ্লেষণ করে ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, এডিবি ভেড়ামারা থেকে খুলনা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশে গ্যাস নেই জেনেও তারা এ কাজটি করেছে। কল্পিত গ্যাসের ওপর নির্ভর করে আবার খুলনায় ২২৫ ও ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করেছে। অথচ এসব প্রকল্প গ্যাসের অভাবে বছরের পর বছর বসে আছে, জনগণের ওপর বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। একটি বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে এডিবি এ কাজটি করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ এডিবি এখনও জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন করে চলেছে, যা আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলে আমাদের বাসযোগ্য ভবিষ্যত্ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে এডিবিকে অবশ্যই তার জ্বালানি নীতি পরিবর্তন করে শতভাগ নবায়নযোগ্য উেসর দিকে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনজিও ফোরাম অন এডিবি এবং ক্লিন- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করে। এগুলো হল-জীবাশ্ম জ্বালানিতে সকল অর্থায়ন বন্ধ এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরে সমর্থন, প্রকৃত সুরক্ষা বাস্তবায়ন ও এফপিআইসি (ফ্রি, প্রায়োর এবং ইনফর্মড কনসেন্ট) নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি রাখা, এবং কার্বন মার্কেট, গ্রিনওয়াশিং ও কর্পোরেট স্বার্থের নামে ছদ্ম জলবায়ু সমাধান প্রত্যাখ্যান করা।

গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে সরকারের অগ্রাধিকার : আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে যে বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে তা হচ্ছে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া অকল্পনীয় ও নৃশংসতম ঘটনাগুলোর সুবিচার নিশ্চিত করা এবং এর পুনরাবৃত্তি সম্পূর্ণরূপে রোধ করা।’

প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় সভাপতিত্ব করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এই মতবিনিময়সভার আয়োজন করা হয়।

গুম দেশের মানুষের জাতীয় জীবনে, বিশেষ করে গত ১৫ বছরে একটা দুঃসহ স্মৃতি হয়ে আছে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে আমাদের তরুণ ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি সুযোগ এসেছে।
সেই সুযোগের কারণেই আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার একেবারে প্রথম দিকেই কোনো কালবিলম্ব না করে গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে আমরা পক্ষরাষ্ট্র হয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো রিজার্ভেশন ছাড়া এত বড় মানবাধিকার কনভেনশনের আমরা পক্ষরাষ্ট্র হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গুম আন্তর্জাতিক কনভেনশনের পক্ষরাষ্ট্র হয়েছি, কিন্তু আমাদের দেশে গুমসংক্রান্ত বিষয় বিচার করার জন্য কোনো ডেডিকেটেড আইন নেই, এটি হতে পারে না। আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে বিস্তৃত এবং সুসংগঠিত গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখা হলেও এর বাইরে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে গুমের আলাদা কোনো সংজ্ঞা বা তার শাস্তির কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া নেই।
’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এই শূন্যতাকে দূর করার জন্য আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা আমাদের বিশেষজ্ঞ ও আলোচকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুতই এই আইনের একটি খসড়া তৈরি করে যথাযথভাবে তা বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এ সময় গুম তদন্ত কমিশনের বিষয় তিনি বলেন, ‘কমিশন দিন-রাত কাজ করেছে এবং শিগগিরই তারা তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে যে সরকার আসবে সে অন্ততপক্ষে এক হাজার মানুষের দেওয়া রক্তের ওপর তৈরি কাঠামোর ভেতর দিয়ে আসবে।
এত হাজার মানুষের আহত হওয়ার স্মৃতি এবং দেশের কোটি মানুষের কান্নার পর এত বড় একটা লিগ্যাসি বহনকারী সরকার আমাদের পর এসে এ সংস্কারগুলো ভুলে যাবে, সেটা আমরা ভাবতেও চাই না।’

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল প্রসিকিউটোরিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এহসানুল হক সমাজী, ব্লাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আলোকচিত্রী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ড. শহিদুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার শাইখ মাহদী, আইনজীবী শিশির মনির, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. সায়রা রহমান খান, গুম মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন প্রমুখ।

আলোচনাসভায় উপস্থিত বক্তারা আইনটিকে বাস্তবতা নির্ভর ও সময়োপযোগী করে তোলার জন্য নিজেদের মতামত দেন।

আমলযোগ্য, কিন্ত জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য এই আইনটিতে গুমের শিকার মানুষের ও তার পরিবারের সুরক্ষা, গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়া সাক্ষীদের সুরক্ষা, তদন্ত সংস্থা গঠন, তদন্ত সংস্থার কাজে গুমসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য লাভের অধিকার সংরক্ষণ, অপরাধীর শাস্তি ও আপিলের বিধান, সাক্ষ্য লোপাট অথবা নষ্ট করার শাস্তি ইত্যাদি বিষয়ে সংস্কার ও সংযোজনের জায়গাগুলো তুলে ধরেন উপস্থিত বক্তারা।

ইসির জেলা কর্মকর্তাদের এনআইডি সংশোধনের ক্ষমতা বাড়ল

আগামী জুনকে সামনে রেখে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ‘ক্রাশ প্রগ্রাম’ হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য অধিকতর জটিল আবেদন নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা সিনিয়র জেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতে দিয়েছে কমিশন।

গত সোমবার ইসি থেকে মাঠপর্যায়ে পাঠানো এসংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম (ক্রাশ প্রগ্রাম) পরিচালনার লক্ষ্যে ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পন্নের জন্য ৬৪ জেলার সব সিনিয়র জেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের আবেদন সংখ্যা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জেলা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসির এক সমন্বয় সভার তথ্য অনুযায়ী, চার লাখের মতো এনআইডি সংশোধনের আবেদন রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সংশোধনের আবেদনগুলো ক্রাশ প্রগ্রামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তাই অধিকতর জটিল আবেদন (গ ক্যাটাগরি) মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তির জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইসির ‘গ’ ক্যাটাগরির সংশোধনের মধ্যে রয়েছে—পাবলিক পরীক্ষার শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন, জন্ম তারিখ সংশোধন (৫ বছরের বেশি—তবে চাকরির বয়সসীমা, মুক্তিযোদ্ধা, ভোটার যোগ্যতা, নির্বাচনে প্রার্থীর সীমা, বয়স্ক ভাতা অর্জনের বয়সসীমা ব্যতীত) প্রভৃতি।

পোপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্বের প্রথম লাতিন আমেরিকান পোপ, পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্য হতে চলেছে আগামী শনিবার সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেবেন বিশ্বের নানা দেশের নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

তা ছাড়া অন্য বিশ্বনেতাদের মধ্যে ফ্রান্সিসের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেবেন।

চার্চের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন ক্যাথলিক চার্চের কার্ডিনাল কলেজের ডিন জিওভান্নি বাত্তিস্তা রে।

জানা গেছে, শেষকৃত্যের শেষে তিনি ‘চূড়ান্ত সমর্পণ প্রার্থনা’ পাঠ করবেন, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পোপকে ঈশ্বরের হাতে সমর্পণ করা হবে।

এরপর পোপের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে রোমের সান্তা মারিয়া মেজিওর ব্যাসিলিকায়, যেখানে তাকে সমাহিত করা হবে।

পোপ ফ্রান্সিস প্রথা ভেঙে সেন্ট পিটার্সের বদলে রোমের সান্তা মারিয়া ব্যাসিলিকায় সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে পোপ ফ্রান্সিসের বহু পূর্বসূরির সমাধি আছে।

৮৮ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিস চলতি বছরের প্রথমদিকে দুইবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচ সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন।
প্রায় এক মাস আগে তিনি হাসপাতাল থেকে ভ্যাটিক্যানের বাসায় ফিরেছিলেন। ইস্টার সানডে উপলক্ষে রবিবার সেন্ট পিটার্স স্কয়ারেও হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু তার পরদিন সকালে ভ্যাটিকান তার মৃত্যুর খবর জানায়।

ড. ইউনূসের সঙ্গে কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল কাবি।

আজ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সাক্ষাতের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হয়েছে।

আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন-২০২৫-এ যোগ দিতে চার দিনের সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতারের রাজধানী দোহায় রয়েছেন।
গতকাল সোমবার দোহার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীরা। এ সময় কাতারের প্রটোকলপ্রধান রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম ফাখরু প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান।

দোহায় ২২ ও ২৩ এপ্রিলের আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা : স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান।
চার দিনের এ সফর চলাকালে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা মেনেই বৈঠক হচ্ছে: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনা মেনেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। রোজ আলোচনার বিষয়গুলো তাকে অবিহিত করা হচ্ছে। তিনি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন। গত রোববারের মূলতবি হওয়া বৈঠক আজ বেলা ১১টা থেকে আবারও শুরু হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নতুন নতুন প্রস্তাব এসেছে।

তিনি বলেন, আলোচনায় নতুন প্রস্তাব এসেছে। সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কারণ এগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে এসেছে কমিশনগুলোর কাছ থেকে।

আর্থিক তছরুপে মহেশ বাবুর নাম, ইডির তলবে সুপারস্টার!

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মহেশ বাবুকে তলব করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আগামী ২৭ এপ্রিল তাকে হায়দরাবাদে ইডি দপ্তরে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে বলা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, হায়দরাবাদভিত্তিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘সাই সূর্য ডেভেলপারস’ এবং ‘সুরানা গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে ওঠা একটি বড় আকারের অর্থ তছরুপের মামলায় তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সংস্থাগুলোর প্রজেক্টে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছেন বহু মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে গিয়ে তাদের হারাতে হয়েছে সর্বস্ব।

এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে মহেশ বাবুর। জানা গেছে, সাই সূর্য ডেভেলপারসের হয়ে বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সংস্থার প্রচারদূত হিসেবে অভিনেতাকে ৫.৯ কোটি রুপি প্রদান করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩.৪ কোটি রুপি দেওয়া হয় ব্যাংকিং মাধ্যমে, আর বাকি ২.৫ কোটি রুপি দেওয়া হয় নগদে— যা তদন্তকারীদের সন্দেহ অনুযায়ী ছিল কালো টাকা। এই নগদ অর্থের উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তলব করা হয়েছে মহেশ বাবুকে।

ইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত ১৬ এপ্রিল হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদে একযোগে চালানো অভিযানে চারটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত নথি, বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ এবং প্রায় ১০০ কোটি রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সুরানা গ্রুপের কাছ থেকে আরও ৭৪.৫ লাখ রুপি নগদ বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।

তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, সংস্থাগুলোর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত টাকার একটি অংশ হয়তো বিজ্ঞাপন খাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা মানি লন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে। মহেশ বাবুর প্রাপ্ত অর্থ এবং তার উৎস যাচাই করতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে মহেশ বাবুর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং তার পক্ষে আইনজীবীদের ব্যাখ্যা এখন কৌতূহলের কেন্দ্রে। তদন্তের পরবর্তী ধাপেই নির্ধারিত হবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়। ইডির তলব দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী এই অভিনেতার ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৪০ দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের ভোট নিশ্চিতে কার্যক্রম শুরু করেছে ইসি

বাংলাদেশের প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনটি সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি, যার মধ্যে ‘প্রক্সি ভোটিং’ পদ্ধতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় সংশয় দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনলাইনে আবেদন করার পর প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হচ্ছে। এছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব দেশ থেকে প্রাপ্ত আবেদন সংখ্যা ৪২ হাজার ২৬৯টি। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছে ৩ হাজার ৪০১টি আবেদন। তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২০ হাজার ১৮৪টি এবং ১৭ হাজার ৬০৭টি আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ হাজার ১২৮ জন প্রবাসীর। সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে— ১৮ হাজার ৫৮৯টি; আর সবচেয়ে কম আবেদন পাওয়া গেছে মালয়েশিয়া থেকে—৭৮৪টি।

ইসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিশ্বের ৪০টি দেশে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই রয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ওই দেশগুলোতেই পর্যায়ক্রমে ভোটার তালিকাভুক্তির কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বাস্তবতা অনেকটাই জটিল। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বৈধ কাগজপত্রের অভাব। অনেক প্রবাসীর বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় তাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেকেই নিরক্ষর, অথবা কর্মস্থলের দূরত্বের কারণে দূতাবাসে গিয়ে নিবন্ধন করতে পারছেন না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে কর্মরত প্রবাসীরা রিমোট এলাকাগুলোতে কাজ করেন, যেখান থেকে দূতাবাসে গিয়ে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে ভোটার হওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, “প্রবাসীদের অনেকেই হয়তো ভোটার হতে চান, কিন্তু তাদের কাজের চাপ, অবস্থান এবং কাগজপত্রের জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “আমরা যেসব দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছি, সেখানে দূতাবাসের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কাজ করা হচ্ছে। তারা নির্ধারিত ফি নিয়ে ছবি তোলা, চোখের আইরিশ ও আঙুলের ছাপ গ্রহণ করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার উপজেলা নির্বাচন অফিস তদন্ত করে তথ্য যাচাই করছে।”

তিনি জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকলেই প্রবাসীরা সহজেই ভোটার হতে পারবেন এবং এনআইডি পেয়ে যাবেন। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যারা দেশ থেকেই এনআইডি সংগ্রহ করেছেন, তারা ইতোমধ্যেই ভোটার হয়েছেন। এ ছাড়া যারা এখনও হননি, তাদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে সম্প্রতি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো পদ্ধতি গৃহীত হয়নি, যা দিয়ে প্রবাসীরা কার্যকরভাবে ভোট দিতে পারেন। এই বিষয়টি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “প্রবাসী ভোটার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণে তিনটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে প্রবাসীদের মধ্যে এনআইডি সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রথম উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায় এ কার্যক্রম শুরুর পর করোনা মহামারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২২ সালে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে আবারও উদ্যোগটি চালু হয় এবং বর্তমানে তা আরও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে কার্যকর বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা, প্রবাসীদের সচেতনতা এবং সর্বোপরি একটি সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটদান প্রক্রিয়া নির্ধারণের ওপর। ভোট শুধু নাগরিক অধিকার নয়, এটি গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড— আর প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তার অংশ।