রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে জাপানের নতুন ‘রেলগান’

জাপানের নৌবাহিনী তাদের নতুন অস্ত্র ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগান’ উন্মোচন করেছে। জাহাজে বসানো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলগানটি চীন থেকে ছোড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম। গত সপ্তাহে অত্যাধুনিক অস্ত্রটির কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছে। চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে হুমকি বেড়ে যাওয়ায় টোকিও পরবর্তী প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবহারের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।

রেলগানটি কোনো বিস্ফোরক বা প্রপেলান্ট ব্যবহার করে না, বরং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বা বিদ্যুতের সাহায্যে খুব জোরে গোলা ছোড়ে। এতে ব্যয় কম এবং দ্রুতগামী ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতেও পারে। রেলগান সাধারণ অস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে গুলি ছোড়ে। রেলগান থেকে ছোঁড়া গুলি প্রতি সেকেন্ডে ২ হাজার ৫০০ মিটার গতিতে চলে — যেটা সাধারণ ট্যাংকের গুলির চেয়ে অনেক বেশি।
ফলে এটি খুব দ্রুত গতির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারবে।

জাপানের মেরিটাইম সেলফ ডিফেন্স ফোর্স (জেএমএসডিএফ) জানিয়েছে, সেলফ ডিফেন্স ফ্লিটের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল ওমাচি কাতসুশি ‘জেএস আসুকা’ জাহাজ পরিদর্শন করেছেন। যেখানে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও লজিস্টিক্স এজেন্সি রেলগানটি উন্নয়ন করছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই অস্ত্র নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা আরো মজবুত করবে।
এ ছাড়া আকাশ, সমুদ্র ও স্থল লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণ গোলার চেয়ে বেশি নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারবে। ২০১৬ সালে রেলগান নিয়ে গবেষণা শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে এটি প্রথম জাহাজ থেকে গুলি ছোড়ে।

গত সপ্তাহে জেএমএসডিএফ বলেছে, ‘রেলগান’ জাপানের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রস্তুতি ও জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গঠনে সহায়তা করবে।

জাপান বলেছে, ২০২২ সালে তাদের কাছে দেশের সুরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা ছিল মাত্র ৬০ শতাংশ। তাই তারা নতুন অস্ত্র বানাচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব রেলগান প্রকল্প ২০২১ সালে বাতিল করে দেয়। এক দশকের উন্নয়নকালে ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচের পরও বিদ্যুৎ এবং অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যায় তারা এটি বন্ধ করে দেয়।

এদিকে চীন অনেকদিন ধরেই নিজেদের রেলগান বানাচ্ছে, কিন্তু সেটা খুব গোপনে করছে। ২০১৮ সালে কিছু ছবিতে চীনের এক জাহাজে রেলগান দেখা গেছে। ছবিতে দেখা যায়, চীনা যুদ্ধজাহাজ হাইয়াং শান-এ একটি পরীক্ষামূলক রেলগান বসানো হয়েছে। ভারত, রাশিয়া এবং তুরস্কও তাদের নিজস্ব রেলগান পরীক্ষা করেছে।

যুক্তরাজ্য গবেষণা করলেও নিজস্ব রেলগান তৈরি করছে না। বরং তারা ড্রাগনফায়ার নামে একটি লেজার ভিত্তিক ‘ডিরেক্ট এনার্জি ওয়েপন’ নিয়ে কাজ করছে এবং সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‘বিপ্লবী অস্ত্র’ হিসেবে বিবেচিত ড্রাগনফায়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে লেজার রশ্মি ব্যবহার করে। কোনো গোলা ব্যবহার করে না এবং একবার চালাতে খরচ পড়ে মাত্র ১০ পাউন্ড।

ইউক্রেনও এখন নিজেদের লেজার অস্ত্র তৈরি করছে। তারা এই নকশা যুক্তরাজ্য থেকে পেয়েছে ২০২৪ সালে।

সূত্র : টেলিগ্রাফ

হারুন-শাওনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সৎ মা নিশি ইসলামের করা মামলায় অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই মামলায় সাবেক ডিবি প্রধান হারুন উর রশিদসহ আরো ৯ জনের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আজ বুধবার আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরোয়ানা দেওয়া অন্যরা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার মো. আলী, শাওনের ভাই মাহিন আফরোজ শিঞ্জন, সেঁজুতি, সাব্বির, এডিসি নাজমুল ইসলাম, শুভ্রত দাস, মাইনুল হোসেন ও মোখলেছুর রহমান মিল্টন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আসামিদের মধ্যে পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ও উপ-পরিদর্শক শাহ আলম আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন তারা। আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে পলাতক থাকায় অপর দশ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ড. ইউনূসের সঙ্গে হলিউড অভিনেতার সাক্ষাৎ

কাতার সফরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা হয়েছে জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা ইদ্রিস এলবারের।

প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুটি ছবি পোস্ট করে সেখানে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অভিনেতা ইদ্রিস এলবার সাথে একটি সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছেন।

আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫-এ যোগ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় আছেন। দোহায় ২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এবারের আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা : স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান।

ইদ্রিস আকুনা এলবা একজন ব্রিটিশ অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, সঙ্গীতজ্ঞ এবং ডিজে। যিনি এইচবিও ধারাবাহিক দ্য অয়্যারে মাদক পাচারকারী স্ট্রিঙ্গার বেল, বিবিসি ধারাবাহিক লুথার-এ জন লুথার এবং জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ম্যান্ডেলা: লং ওয়াক টু ফ্রিডম (২০১৩) এ নেলসন ম্যান্ডেলা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত।

তিনি সেরা মিনি ধারাবাহিক বা টেলিচলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য চারবার মনোনয়ন লাভ করেন এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রাইমটাইম এমি পুরস্কারের জন্য পাঁচবার মনোনীত হয়েছেন।

গাজায় পোলিও টিকা ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল, ঝুঁকিতে ৬ লাখ শিশু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে টানা ১৮ মাস ধরে ইসরায়েলের আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। অবিরাম হামলার পাশাপাশি গাজার ওপর ইসরায়েল জারি রেখেছে সর্বাত্মক অবরোধ, যার ফলে মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে পুরো উপত্যকা।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সংকট সৃষ্টি হয়েছে—ইসরায়েলের বাধায় গাজায় পোলিও টিকা প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেখানে ৬ লাখেরও বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়,

“টিকা ঢুকতে না দেওয়ার কারণে পোলিও প্রতিরোধে শুরু হওয়া চতুর্থ পর্যায়ের ক্যাম্পেইন বন্ধ হয়ে গেছে।”

মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে,

“টিকা সরবরাহ অব্যাহত না থাকলে ৬ লাখ ২ হাজারের বেশি শিশু আজীবনের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজার শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে “নজিরবিহীন ও ভয়াবহ”। কারণ অঞ্চলটিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি, ওষুধ এবং নিরাপদ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রথম একটি ১০ মাস বয়সী শিশুর শরীরে পোলিও শনাক্ত করে। সেটিই ছিল ওই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো পোলিও সংক্রমণের ঘটনা। এরপর থেকেই ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যেও শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তিনটি ধাপে পরিচালিত এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশু টিকা পায়। দ্বিতীয় ধাপে ১০ বছরের নিচে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৭৪ শিশু এবং তৃতীয় ধাপে আরও ৫ লাখ ৯০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য গাজার শিশুদের অন্তত দুটি মৌখিক পোলিও টিকা গ্রহণ করা জরুরি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধ এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গাজায় শিশুদের ভবিষ্যৎ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।

কাশ্মিরে হামলার পর সৌদি থেকে তড়িঘড়ি ভারতে ফিরলেন মোদি

ভারত-শাসিত জম্মু-কাশ্মিরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। অনন্তনাগ জেলার পর্যটন কেন্দ্র পেহেলগামে ঘটে যাওয়া এই হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন।

ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবারের এই হামলাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বেসামরিক হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালেই নয়াদিল্লিতে পৌঁছান মোদি। মূলত তার সফর শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার রাতেই, তবে কাশ্মিরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তা আগেভাগেই শেষ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে সৌদি রাজপরিবারকে অবহিত করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তারা রিয়াদে সৌদি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন।

সৌদি আরবে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সুহেল আজাজ খান বলেন, “কাশ্মিরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সৌদি যুবরাজ অবগত হয়েছেন এবং তিনি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় ভারত ও সৌদি আরব একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”

দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি আজ দিল্লিতে ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’র (CCS) জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে কাশ্মির পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তিনি শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন,

“কাশ্মির থেকে আসা খবরে আমরা শোকাহত। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

কাশ্মিরের চলমান নিরাপত্তা সংকট, চরমপন্থীদের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা আবারও সামনে চলে এসেছে এই হামলার মধ্য দিয়ে। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিচ্ছে।

সাবেক দলকে পেয়ে আইপিএলে ইতিহাস গড়লেন রাহুল

সঙ্গে তার মনোমালিন্যের খবর একাধিকবার শিরোনাম হয়েছিল। এবার ঠিকানা বদলে রাহুল এখন দিল্লি ক্যাপিটালসের অংশ এবং রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।

তবে আইপিএল ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে রাখতে বেছে নিলেন সাবেক দল লখনৌ সুপার জায়ান্টসকেই। আর সেই দৃশ্য হয়তো গ্যালারি থেকে কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে দেখছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা—চোখের সামনেই তার সাবেক অধিনায়ক নতুন করে লিখে চলেছেন ইতিহাস।

ঘরের মাঠে লখনৌ ২০ ওভারে ১৫৯ রান তোলে এইডেন মার্করাম এবং মিচেল মার্শের ওপর ভর করে। জবাবে দিল্লির হয়ে অভিষেক পোড়েল করেন ৫১ রান আর কেএল রাহুল খেলেন ৫৭ রানের ইনিংস। তাদের জোড়া ইনিংসে ভর করে দিল্লি ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়।

এই ম্যাচেই আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম ৫ হাজার রানের মালিক হয়েছেন রাহুল। মাত্র ১৩০ ইনিংস খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি, যা আইপিএলে ইনিংস বিবেচনায় সর্বকালের দ্রুততম। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ডেভিড ওয়ার্নার, যিনি ৫০০০ রান করতে খেলেছিলেন ১৩৫ ইনিংস।
ইনিংস বিবেচনায় আইপিএলে দ্রুততম ৫০০০ রান:

কেএল রাহুল – ১৩০ ইনিংস

ডেভিড ওয়ার্নার – ১৩৫ ইনিংস

বিরাট কোহলি – ১৫৭ ইনিংস

এবি ডি ভিলিয়ার্স – ১৬১ ইনিংস

শুধু তাই নয়, রান তাড়ার সময় ব্যাটিং গড়েও রাহুল এখন আইপিএলের ইতিহাসে সবার ওপরে। আইপিএলে পরে ব্যাট করে অন্তত ১ হাজার রান করা ব্যাটারদের মধ্যে তিনিই একমাত্র যার গড় ৫০-এর ওপরে।
আইপিএলে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ গড় (কমপক্ষে ১ হাজার রান):

কেএল রাহুল – ৫০.৮২

ডেভিড মিলার – ৪৯.১১

শন মার্শ – ৪২.৪০

বিরাট কোহলি – ৪০.৮৪

এই জয়ের ফলে দিল্লি পৌঁছে গেছে ১২ পয়েন্টে। সমান পয়েন্ট নিয়ে গুজরাট টাইটানসও রয়েছে, তবে নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে গুজরাট রয়েছে শীর্ষে এবং দিল্লি অবস্থান করছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, ১০ পয়েন্ট নিয়ে লখনৌ রয়েছে পঞ্চম স্থানে।

রণবীর-আলিয়া অভিনীত ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ঈদে মুক্তি পাচ্ছে না

রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল ও আলিয়া ভাটকে নিয়ে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবি তৈরি করছেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২০২৬ সালের ঈদে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, সেই সময় ছবি মুক্তি পাবে না। সেই একই সময়ে মুক্তি পাবে যশ অভিনীত ‘টক্সিক’।

বক্সঅফিসের টক্কর এড়ানোর জন্যই কি ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে? ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আর মুক্তি পাবে না ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’। ছবির শুটিং শুরু হয় যথা সময়ে।

তবে জানা যাচ্ছে, মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সঞ্জয় লীলা বনশালি। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে ছবিটি তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এখন জানা যাচ্ছে, ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারির আগে তা কিছুতেই হবে না। ছবিটি মুক্তি পেতে পারে ২০২৬-এর মাঝামাঝিতে।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ছবিটি নিজের টাকায় তৈরি করছেন বনশালি। ডেডলাইনের আগেই যাতে ছবি তৈরির কাজ শেষ হয়, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি। বাজেটের মধ্যে থেকে কাজ করতে চান বনশালি।

‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ একটি পিরিয়ড ফিল্ম। এই মুহূর্তে ফান্ড জোগাড়ে মন দিয়েছেন পরিচালক। দু’মাস পর শুরু হবে বাকি অংশের শুটিং। ২০২৬-এর মাঝামাঝি কোন তারিখে ছবি মুক্তি পাবে, সেটিও স্থির করতে হবে তাকেই।

মে-জুনে ১০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী, আগামী মে মাসে পাকিস্তান সফর করবে বাংলাদেশ দল। এর সঙ্গে এফটিপির বাইরে জুনে ঘরের মাঠে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলবেন নাজমুল হোসেনরা। এই দুই সিরিজের আগে মে মাসে পাকিস্তানে যাওয়ার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরো দুটি টি-টোয়েন্টি খেলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সব মিলিয়ে মে-জুন মাসে ১০টি কুড়ি ওভারের ম্যাচ খেলবেন নাজমুলরা।

গতকাল বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন বলছিলেন, ‘আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজের সূচি এফটিপিতে ছিল না, এটা আমাদের পরিকল্পনায়ও ছিল না। তবে এখন দুটি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে তাদের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পাকিস্তানে যাওয়ার পর যেন আমরা খেলতে পারি, সেভাবে কথা হচ্ছে।’

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ভাবনায় চলতি বছর এই সংস্করণের ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বিসিবির।

এ জন্য মে মাসে পাকিস্তান সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার সূচি থাকলেও দুই বোর্ডের আলোচনায় এটি এখন পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে বলে জানান ফাহিম। এর সঙ্গে জুনে এফটিপির বাইরে বাংলাদেশ দল ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বলে জানা গেছে। যদিও এর মধ্যে কোনো সিরিজের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই দুই মাসে নাজমুলরা ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগ চান প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশটিতে প্রচুর ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দোহায় আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বেসরকারি ব্যবসায়িক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতির দিক থেকে প্রচুর সম্ভাবনাময় একটি আশ্চর্যজনক দেশ। তিনি উল্লেখ করেন, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের সাত রাজ্যের সমুদ্রে প্রবেশের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, যদি তাদের সমুদ্রে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ শিক্ষিত তরুণদের হাতে প্রযুক্তি থাকা অবস্থায় একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হতে পারে।

বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন করেছে, যেখানে ‘বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অসাধারণ সাড়া’ পেয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ।
এটি বিশ্বের আটটি সর্বাধিক জনবহুল দেশের একটি। তিনি বলেন, প্রায় ১৮ কোটি মানুষ একটি ক্ষুদ্র ভূমিতে বাস করে, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বয়স ৩৭ বছরের কম। তাদের প্রযুক্তি জ্ঞানের সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরো তুলে ধরেন যে, তার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিভাবে দেশের অর্থনীতি, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য খাতগুলোকে সংস্কার করেছে, যেগুলো ক্ষমতাচ্যুত সরকার তার ১৬ বছরের শাসনামলে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এসডিজি বিষয়ক সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসস’র

কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় নিহত ২৬

গতকাল, ২২ এপ্রিল ২০২৫, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাম শহরের কাছে বেইসারান মেঘা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত ও ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয় পর্যটক, ২ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

পহেলগাম, যা ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত একটি পর্যটন কেন্দ্র। বেইসারান মেঘা এলাকায় পর্যটকরা সাধারণত পিকনিক, ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং স্থানীয় খাবার উপভোগ করেন। গতকাল দুপুর ২:৩০টার দিকে, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় প্রবেশ করে পর্যটকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে পুলিশ পরিচয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে নাম জানতে চায় এবং পরে হঠাৎ করে গুলি চালায়। তারা মুসলিম নয় এমন পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।​

হামলার পর, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) নামক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, জম্মু ও কাশ্মীরে ৮৫,০০০-এরও বেশি বাইরের লোকের বসবাসের ফলে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য হুমকি।​

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই হামলাকে ‘অমানবিক ও কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি তার সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও হামলার নিন্দা করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।​

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হামলাকে ‘নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ভারতকে তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার নিন্দা করেছেন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।​

এই হামলা জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর সবচেয়ে বড় হামলা, যা ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠিয়েছে।​

ভারত সরকার ইতোমধ্যে হামলার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। পাহলগাম ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পর্যটকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।​

এই হামলা কাশ্মীরের চলমান সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং অঞ্চলটির ভবিষ্যত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।