রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার

জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৭২ হাজার ৬২ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন।
আগামী ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয় হলো— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজায় আজ নিহত ২৯

গাজা উপত্যকার বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চল প্রায় দুই মাস ধরে ইসরায়েলি সহায়তা অবরোধের অধীনে রয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য গাজা থেকে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হলেও তাদের ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য’ হলো হামাসের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার জবাবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় সামরিক অভিযান ফের শুরু করেছে ইসরায়েল।

গাজার দক্ষিণে খান ইউনিস শরণার্থীশিবিরে আবু সাহলুল পরিবারের বাড়িতে বিমান হামলায় বৃহস্পতিবার আটজন নিহত হয় বলে জানিয়েছেন বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মুগাইয়্যির। তিনি বলেন, গাজা সিটির আল-তুফাহ পাড়ার শা’আফের পূর্বে আরো চারজন নিহত হয়েছে।

এ ছাড়া গাজাজুড়ে অন্যান্য হামলায় আরো অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, যার মধ্যে একটি হামলা ছিল গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর এল-বালাহ শহরের কাছে বাস্তুচ্যুতদের এক তাঁবুতে।

হামাসশাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল ফের হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত দুই হাজার ৩২৬ জন নিহত হয়েছে।
এতে ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪১৮ জনে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মোট এক হাজার ২১৮ জন নিহত হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক। হামলার সময় ২৫১ জনকে জিম্মিও করেছিল হামাস। এখনো ৫৮ জনকে গাজায় আটকে রাখা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলের দাবি, তাদের নতুন সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে হামাসকে বাধ্য করা, যাতে তারা এসব জিম্মিকে মুক্তি দেয়। জেরুজালেমে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা জীবিত ও মৃত—দুই ধরনের জিম্মিদেরই ফিরিয়ে আনতে চাই। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন। কিন্তু যুদ্ধের একটি সর্বোচ্চ লক্ষ্য রয়েছে—আর সেটি হলো আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় এবং আমরা সেটি অর্জন করব।’

এদিকে সামরিক অভিযান ফের শুরুর কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, গাজা এখন ‘মানবিক বিপর্যয়ের’ মুখোমুখি। তিনি এ সপ্তাহে আরো বলেছিলেন, ‘গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন জীবনযাপন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে তাদের ওই অঞ্চলে অস্তিত্ব বজায় রাখার ক্ষমতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’

নেশাগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি যেন গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে না পারে : এডিসি

গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আক্তার বলেছেন, নেশাগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি যেন গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে না পারে। এটা ভুললে চলবে না যে ওই গাড়িতে ৫০ জন লোক আছে তাদের নিরাপত্তা দেখতে হবে। যে গাড়িগুলো দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে, অধিকাংশই গাড়ির ড্রাইভার হয় নেশাগ্রস্ত না হয় ঘুমন্ত। এ বিষয়টি আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কাউকে গাড়ির চাবি দেওয়া যাবে না। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না।

বৃহস্পতিবার (১ মে ) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র গাইবান্ধা এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর রংপুরের সহযোগিতায় মহান মে দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সাব্বির আহমেদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) মো. শরিফুল আলম বলেন, পুলিশ যে কাজটি করে রাস্তায় অবৈধ গাড়ি ধরে যাত্রী নামিয়ে দেয়।
কর্তব্য পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ ক্ষোভের মধ্যে পড়ে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে তালিকা দেন যে এতগুলো গাড়ি শহরের রাস্তায় চলবে, তারপর দেখেন পুলিশ ব্যবস্থা নেয় কি না।

সভায় আরো বক্তব্য দেন— রংপুর শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল লতিফ সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সরকারি কমিশনার (ভূমি) গাইবান্ধা সদর মোহা. জাহাঙ্গীর আলম বাবু, জেলা বাস ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল আলম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী বিশু, শ্রমিক নেতা আব্দুল করিম, জেলা রিকশা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান সুমন প্রমুখ।

দিবসটি উপলক্ষে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে গড়ব এ দেশ নতুন করে’।
এ ছাড়া মে দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পাশাপাশি নিজ নিজ সংগঠন কার্যালয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নিন : পলি

পুঁজিবাজারের ওপর আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ গ্রহণ এবং ব্যাংকের সুদহার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ারা ফেরদৌসী পলি।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এফবিসিসিআইয়ের পরামর্শক কমিটির ৪৫তম সভায় এই আহ্বান জানান তিনি।

আনোয়ারা ফেরদৌসী পলি বলেন, উদ্যোক্তাদের যাতে মূলধন সংগ্রহের জন্য শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে জন্য পুঁজিবাজারের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা দিন। এ বিষয়ে প্রস্তাব রাখছি।

তিনি আরো বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে সুদের হার স্থিতিশীল রাখতে হবে।

নির্বাচন ঠেকাতে চাওয়া শক্তিকে ক্ষমা করবে না জনগণ : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যারা জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনে ছিল না, এখন তারাই বলছে, নির্বাচন না হলেই ভালো। তারা এক ধরনের সুবিধা নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তাদের এ সুযোগ বেশিদিন দেবে না। তাদের জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না।

বৃহস্পতিবার (১ মে) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়ী নসিমন ভবনস্থ বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মদ সড়কে মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের শ্রমিক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন ছাড়া কাউকে ক্ষমতা গ্রহণের বৈধতা দেবে না। যারা নির্বাচন ঠেকাতে চায়, তাদের প্রতি দেশের মানুষের বার্তা স্পষ্ট। তাদের জনগণ ক্ষমা করবে না এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে তাদের কোনো ইচ্ছাও পূরণ হবে না।
জনগণ নির্বাচন ঠেকাতে চাওয়া শক্তিকে ক্ষমা করবে না।

সম্প্রতি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সম্ভাব্য ‘মানবিক করিডর’ নিয়ে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের কথাবার্তা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, যদি দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকত, তাহলে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সংসদে আলোচনা হতো, জনগণের মতামত বিবেচনা করা হতো। অথচ এখন এমন সিদ্ধান্ত কে নিচ্ছে, কাদের সঙ্গে বসে নিচ্ছে, তা জাতি জানে না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জাতিসংঘের একজন প্রতিনিধি বলেছেন, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সম্মতিতেই শুধু এই করিডর সম্ভব, তা-ও নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের শর্তে।
তাহলে এখন যারা বাইরে বসে এসব দিচ্ছেন, তারা কিভাবে এত সাহস পাচ্ছেন?

আমীর খসরু বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রোডম্যাপে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় যেভাবে শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, দেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, পারিশ্রমিক ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। মালিক ও প্রশাসনের একচেটিয়া অবস্থানে শ্রমিকরা নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
তাই সবাইকে এগিয়ে এসে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে সহায়তা করতে হবে। ন্যায্য পাওনা আদায়ের লড়াইয়ে শ্রমিকদের পাশে আছে বিএনপি।

আমীর খসরু আরো বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন হতে হবে শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ। যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায় এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের অবদান ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রাজনীতি কোনোটিই সম্ভব নয়। যারা এ দেশের শিল্প-কারখানা, অবকাঠামো, পরিবহন খাতকে সচল রাখেন, তাদের বাদ দিয়ে দেশের কোনো অগ্রগতি সম্ভব না।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা গত ১৬ বছর ধরে লড়াই করছি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। গণতন্ত্রের বাহনই হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন সম্ভব নয়। নির্বাচন ছাড়া জনগণের মালিকানা ফেরানো সম্ভব নয়।

আমীর খসরু বলেন, যারা নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তারা নিজেরাই অনির্বাচিত সরকারের সুবিধাভোগী। তারা এখন নানা শর্ত দিচ্ছেন, এই না হলে নির্বাচন হবে না, ওই না হলে নির্বাচন হবে না। এসব বলে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। কারণ, তারা জানেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে গেলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান মুখ থুবড়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহারের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া।

বিতর্ক ও মিডিয়া ঝড়ের জন্য ভারতকে দুষলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তান আগ বাড়িয়ে প্রথমে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করবে না তবে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হলে এর শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে মন্তব্য করেছেন, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

তিনি বলেন, ‘পেহেলগাম হামলার পর ভারতের সৃষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ গোটা অঞ্চলের শান্তি এবং স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি বিশ্ব নেতারা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। জানিয়েছেন, তার সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান প্রথমে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টির পদক্ষেপ নেবে না।
তবে, যদি ভারতীয় পক্ষ উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রতিহত করবে পাকিস্তান।’

এমনভাবে চাকরি করুন যেন শেষ বয়সে জেলে যেতে না হয়

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেছেন, এমনভাবে চাকরি করুন, শেষ বয়সে যেন হাতকড়া পরতে না হয়। বর্তমান পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দুপুরে রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিনের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। ‘নাগরিক ভাবনায় জনতার পুলিশ: নিরাপত্তা ও আস্থার বন্ধন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বিশেষ আলোচক হিসেবে এসব বক্তব্য দেন।

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, পুলিশ সব সময় বলে স্বাধীনতা চাই। কিন্তু স্বাধীনতা পেলে ব্যক্তিস্বার্থে তেলবাজি করে তা নিজেরাই নষ্ট করে। পদোন্নতির জন্য মন্ত্রী-এমপিদের গোলামি করে, বাসায় গিয়ে বসে থাকে। সেই পুলিশ অন্যায় দেখলেও ব্যবস্থা নিতে পারে না।

সাবেক আইজিপি আরও বলেন, ‘পুলিশ সব সময় সঠিক ছিল না। আমাদের সময়ও শতভাগ শুদ্ধতা ছিল না। কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এতটা দলবাজ ও অন্ধ আনুগত্যমূলক পরিস্থিতি কখনো ছিল না।’

সাবেক এই আইজিপি বর্তমান পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, এমনভাবে চাকরি করুন যেন শেষ বয়সে জেলে যেতে না হয়, হাতকড়া পরতে না হয়।

৫ আগস্টের ঘটনার পর পলাতক পুলিশ সদস্যদের প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশের বহু কর্মকর্তা ভয়াবহ দুর্নীতি করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা উপার্জন করেছে, কারণ তারা জানত একসময় পালাতে হবে। সেই প্রস্তুতিও তারা নিয়ে রেখেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির মঞ্জু, কর্মকমিশনের সদস্য অধ্যাপক সায়মা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাহিত্যিক, খেলোয়াড় ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রসুল।

১৭ বছর আমরা গাছের গোড়ায় পানি ঢেলেছি, আপনারা এখন ফল খাচ্ছেন : মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমি আশ্চর্য হয়ে যাই, কিছু কিছু ছেলে বলে ১৭ বছর আপনারা কী করেছেন? আরে ১৭ বছর আমরা গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে তা নরম করেছি। সেই গাছের আগায় বসে আপনারা এখন ফল খাচ্ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।

মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিকে শুনতে হয় ১৭ বছরে কোনো কিছুই করে নাই। কেউ কি বলতে পারবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলে যায়নি? এমনকি তারেক রহমান পর্যন্ত জেলে ছিল। আশ্চর্য হতে হয় কিছু কিছু ছেলে বলে ১৭ বছর বিএনপি কী করছে। এটা যারা বলে তারা মিথ্যার সাগরে বসবাস করে।
তারা বিএনপিকে ক্রেডিট (কৃতিত্ব) দিতে চায় না।

মির্জা আব্বাস বলেন, একা একা ক্রেডিট নিতে গিয়ে দেশটাকে ধ্বংস করবেন না। সামনে দেশের দুর্দিন মারাত্মকভাবে এগিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলতে নিজেরাই ফ্যাসিস্ট হয়ে যাচ্ছি কি না, একটু খেয়াল রাখা দরকার।
আমি যা বলেছি, আবার বলছি ফ্যাসিস্ট তাড়াতে গিয়ে আমরা আবার ফ্যাসিস্ট হয়ে যাচ্ছি কি না, সেটা খেয়াল রাখবেন। আমরা বলতে কেবল বিএনপির কথা বলি নাই। সবার কথা বলছি আমি।’

অনৈক্য দেশটাকে শেষ করে দেবে—এমনটি উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, একেক জন একেক কথা বলছে, কেউ কারও কথা মানছে না।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের রাখাইনে সহায়তা পাঠানোর জন্য ‘মানবিক করিডর’ স্থাপন নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, মানবিক করিডর দিতে গিয়ে পৃথিবীর বহু দেশ ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে।

এই সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১৩৭ জন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আরো এক হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৬৬৯ জন। অন্যান্য ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৬৮ জন।

বৃহস্পতিবার (১ মে ) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত ৬৬৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৬৮ জন। মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক হাজার ১৩৭ জনকে।

অভিযান কার্যক্রমে ১টি পিস্তল, ১টি দেশীয় তৈরি এলজি, ১টি গুলি, ১টি গুলির খোসা, ৫ রাউন্ড কার্তুজ, ৫ রাউন্ড সিসা বুলেট ও ১টি বার্মিজ চাকু জব্দ করা হয়।

বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা।

বাজে মন্তব্যকারীদের ‘হতাশাগ্রস্ত’ বললেন নুসরাত

আসছে নতুন ছবি ‘আড়ি’। সেখানে অভিনয় করছেন ওপার বাংলার অভিনেতা যশ দাসগুপ্ত ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। মূলত মা-ছেলের আদরের সম্পর্ক নিয়ে ছবির গল্প। তাই তো এখনকার সময়ের এই দুই অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মৌসুমি চ্যাটার্জি।

একটা সময় মৌসুমি চ্যাটার্জি মানেই ছিল যেন বাংলা ছবির ‘নস্ট্যালজিয়া’। একটা সময় নায়িকা হিসেবে পর্দায় তাক লাগিয়েছেন তিনি। এবারও আসছেন দর্শক মাতাতে, তবে নায়িকা নয়- একজন মায়ের চরিত্রে; ‘আড়ি’ সিনেমায় যশের মায়ের চরিত্রে থাকবেন তিনি।

এমন গল্পের এক সিনেমা নিয়ে সদ্যই ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন যশ ও নুসরাত।
এ সময় পর্দার ও পর্দার বাইরের নানা কথাই হয় আলোচনায়।

বর্তমানে যশ-নুসরাত দুজনেই নেট পোকা। সামাজিক মাধ্যমে তাদের অবাধ বিচরণ। নিয়ম করে আপডেট কিংবা ছবি পোস্ট কিংবা এই ‘আড়ি’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট দেন তারা।
কিন্তু এসবের মাঝে মন্তব্য ঘরে ধেয়ে আসে গালাগালি, বাজে মন্তব্য।

যশ-নুসরাত যে ছবি সম্প্রতি করলেন, তা মা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে। ভালোবাসার সম্পর্ক। আদরের। যদি খানিক তলিয়ে দেখা যায়, বোঝা যাবে, এই তাদের পোস্টে যে সমস্ত বাজে মন্তব্য ঘোরাফেরা করে, তার বেশিরভাগই ‘মা’-এর নাম তুলে অশ্লীল মন্তব্য।

এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন যশ-নুসরাত। স্ক্রল করতে করতে যখন এমন মন্তব্য দেখে কী মনে করেন তারা, তা নিয়ে মুখ খুললেন দুজনেই।

নুসরাত বলেন, ‘যারা মা-বাবা তুলে গালি দেয়, তাদের বাবা-মায়েরা জানেন না, তারা এটা করছে। যদি জানত তাহলে তারা এটা করতো না।’ যশ বলে ওঠেন, ‘কোনো মা-বাবা এমন শিক্ষা দিতে পারেন না। যারা এটা করছে, তাদের সাহায্য দরকার। তারা জিম করতে পারে, ওজন তুলতে পারে। ঘাম ঝরবে, ফ্রাসট্রেশন কেটে যাবে।’

বাজে মন্তব্যকারীদের হতাশাগ্রস্ত উল্লেখ করে নুসরাত বললেন, ‘যারা মা তুলে গালি দেয়, তারা ফ্রাস্ট্রেটেড’।