শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

ফের অভিনয়ে মালাইকা, এবার সঙ্গী ইয়াশ

মেহজাবীন চৌধুরীর পথেই হাঁটছেন তার ছোট বোন মালাইকা চৌধুরী। বিজ্ঞাপন দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরুর পর গেল বছরে তার অভিষেক ঘটে নাটকেও। ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছিল তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘সন্ধিক্ষণ’, যেখানে তার জুটি হয়েছিলেন ফারহান আহমেদ জোভান।

সেই ধারাবাহিকতায় ফের অভিনয়ে হাজির মালাইকা চৌধুরী।
ইতিমধ্যে শেষ করেছেন ‘ক্ষতিপূরণ’ নামে একটি ইউটিউব ফিল্মের শুটিং। এখানে তার সঙ্গে এবার জুটি হয়েছেন ইয়াশ রোহান। এটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।

কালের কণ্ঠকে মালাইকা চৌধুরী বলেন, ‘এটা ইউটিউবের জন্য নির্মিত একটা ফিল্ম।
অনেক দিন পর আবারও অভিনয় করলাম। ঢাকা ও ঢাকার বাহিরে মিলিয়ে প্রায় ৬ দিনের মতো শুটিং করেছি। ভালোই লেগেছে শুটিং করতে। এটা আমার অভিনয় করা দ্বিতীয় প্রজেক্ট।
এখানে আমার জুটি ইয়াশ রোহান ভাইয়া। তিনিও পুরোটা সময় বেশ সাপোর্টিভ ছিলেন। আমি তো একদমই নতুন, এখনো শিখছি। একটা-দুইটা কাজ করে তো শিখে ফেলা যায় না। তবে আমি চেষ্টা করেছি প্রথম কাজটার চেয়ে আরো ভালো পারফরম করার।
বাকিটা দর্শক দেখার পর বলতে পারবেন, কেমন করেছি আমি।’

পরিচালক জানান, কোনো মা প্রতিদানের আশায় সন্তানকে ভালোবাসে না। মায়ের মমতার কোনো মূল্য হয় না। এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে অমূল্য বিষয়। এমন একটি বার্তা নিয়েই নির্মিত হয়েছে এই ইউটিউব ফিল্মটি।

রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় ‘ক্ষতিপূরণ’-এ থাকছে একটি নতুন গান। এটি গেয়েছেন ও সুর-সংগীত পরিচালনা করেছেন আরফিন রুমি। সম্পাদনা ও রং বিন্যাস করেছেন রাশেদ রাব্বি।

সিদ্দিক আহমেদের চিত্রনাট্যে ‘ক্ষতিপূরণ’-এ আরো অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, মনিরা আক্তার মিঠু, রাশেদ মামুন অপু, সুষমা সরকার, এমএনইউ রাজু, সমু চৌধুরী, শরিফ ফারজানা বুশরা, আইমন সিমলা, ইকবাল প্রমুখ। আসন্ন ঈদুল আজহায় এটি সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।

ভারত ছাড়ছেন অনুপম খের, অশ্রুসিক্ত অভিনেতা!

পেহেলগাম-কাণ্ডে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের পরিস্থিতিই বেশ উত্তপ্ত। ভারত-পাক উত্তেজনার মধ্যেই এবার দেশ ছাড়ছেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। যেতে যেতে রেখে গেলেন বিশেষ বার্তা। অশ্রুসিক্ত অনুপমের সেই বার্তা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।

সোশ্যালে প্রায় ৯ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিনেতা। ক্যাপশনে অনুপম লিখেছেন, ‘দেশই একমাত্র মানসিক শক্তি জোগাতে পারে। এই যেমন, আমার মন খারাপ লাগছিল, তাই ভাবলাম, আপনাদের সঙ্গে দুটো মনের কথা বলি। ভাবিনি ভিডিওটা অনেক বড় হয়ে যাবে।
আপনাদের মনে হলে পুরো ভিডিওটি দেখতে পারেন।’

ভিডিওতে অনুপম খের বলেছেন, ‘যখনই মন খারাপ লাগে তখনই আমি ভাবি কোথা থেকে শুরু করেছিলাম আর এখন আমি কোথায়। এতে আমি শক্তি পাই। আমি অনুভব করতে পারি, আমার দেশের থেকে মাত্র ৮ বছরের ছোট আমি।
ভারতের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট, আমার ১৯৫৫ সালের ৭ মার্চ। আমরা যেন ভাইবোনের মতো।’

নিজের অভিনয় জীবনের কথা তুলে এনে তিনি দেশের কথা শুরু করেন। তাঁর দাবি, ‘ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা’, ‘ভারতমাতার জয়’ ইত্যাদি শব্দ বন্ধ তাঁকে আবেগপ্রবণ করে। শুধু তিনি নন, সমস্ত ভারতবাসী এই সব শব্দবন্ধ উচ্চারণের পর আবেগী হয়ে পড়েন।

এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বেশ কিছু বীর সেনাকে হারিয়েছি সম্প্রতি। তাঁদের পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের যন্ত্রণার কথা ভাবলে নিজের কষ্ট অনেক ছোট বলে মনে হবে।’

অনুপম দাবি করেন, হয়তো বয়সের কারণে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন, তবে তিনি অন্তরে একজন নির্ভীক মানুষ। অভিনেতার ভিডিও দেখে তাঁর অনুরাগীরাও আপ্লুত এবং আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

কিন্তু দেশ ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন অনুপম? আসলে আগামী ১৩ মে কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর ছবি ‘তন্বী দ্য গ্রেট’-এর বিশেষ প্রদর্শনী। অনুপম বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর পরিচালিত এই ছবির সাফল্য যতটা আনন্দ দিয়েছে, তার থেকে বেশি তিনি ভাবিত দেশের পরিস্থিতি নিয়ে।

গেজেটের জন্য অপেক্ষা করছি , আ. লীগের নিবন্ধন বাতিল প্রসঙ্গে সিইসি

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দলটির নিবন্ধন বাতিল প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রজ্ঞাপনটা আসতে দেন। আমরা গেজেটের জন্য অপেক্ষা করছি।’

সোমবার (১২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এ এম নাসির উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের গেজেটটি এখনো পাইনি।
গেজেটটা আসেনি, তাই সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। অফিশিয়াল গেজেট না পেলে তো কিছু বলা যায় না।

প্রজ্ঞাপন হলে নিবন্ধন বাতিল সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘সেটা হলে বলতে পারব। অবশ্যই ইলেকশন কমিশন এই দেশের জন্য কাজ করে।
এ বিষয়ে আমরাও ইক্যুয়ালি কনসার্ন। যখন আকাশে সূর্য উঠে যাবে, পরিষ্কার দেখতে পারবেন।’

কার্টার সেন্টারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত তিন নির্বাচনে কার্টার গ্রুপ পর্যবেক্ষক হিসেবে আসেনি। এবার আসতে আগ্রহী।
আমরা স্বাগত জানিয়েছি। বলেছি, অভিজ্ঞতা যাদেরই আছে, সবাইকে আমরা আমন্ত্রণ জানাব। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যারাই কাজ করে তাদের আমরা উদ্বুদ্ধ করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কার্টার সেন্টার কথা বলেছে। তারা জানালেন, সবাই এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিজেদের আস্থার কথা জানিয়েছে।
আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রস্তুতি কেমন তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে যে ওয়াদা করেছি, তা পালনে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত করেছি।’

রিয়ালের নতুন কোচ জাবি আলোনসো, চুক্তি নিয়ে যা জানা গেল

লা লিগার চলতি মৌসুম শেষেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন কার্লো আনচেলোত্তি। ইতোমধ্যে তার উত্তরসূরি হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছে ক্লাবটির সাবেক মিডফিল্ডার জাবি আলোনসোর নাম। বিশস্ত দলবদল বিশেষজ্ঞ ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত সপ্তাহে বায়ার লেভারকুসেন থেকে বিদায় নিয়েছেন আলোনসো।
বুন্দেসলিগার ক্লাবটির শেষ হোম ম্যাচে তাকে আবেগঘন বিদায় জানিয়েছেন সমর্থকরা।

রোমানোর তথ্যানুযায়ী, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের চুক্তি সই করেছেন। চুক্তির সকল শর্ত, স্টাফসহ অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আগেই দায়িত্ব নিতে পারেন এই স্প্যানিশ কোচ।

রিয়ালের লক্ষ্য ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আগেই আলোনসোকে কোচ হিসেবে কাজে লাগানো।
১৭ মে লেভারকুসেনের মৌসুম শেষ হবে, এরপর ২৫ মে রিয়ালের শেষ লিগ ম্যাচ। এই ম্যাচের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোনসোর হাতে দল তুলে দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আনচেলোত্তির সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে ব্রাজিল জাতীয় দল, যার ঘোষণা আসতে পারে খুব শিগগিরই।

ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে উভয় দেশের বিজয় দাবি, প্রকৃত জয়ী কে

পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য ঘটে যাওয়া সীমিত সময়ের সংঘর্ষে দুই পক্ষই নিজেদের বিজয় দাবি করছে, কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাতে জয়ী কেউই নয়।

সিএনএনের একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ‘পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছে’ এমন শিরোনাম ভেসে ওঠে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেন, কাশ্মীরে পর্যটক হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ভারতের সামরিক অভিযান সন্ত্রাসীদের জন্য এক শক্ত বার্তা ছিল।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রাজধানীতে মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘আমাদের সাহসী সেনাবাহিনী এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের জেট ভারতীয় বন্দুকের আওয়াজ থামিয়ে দেয়।’

পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আকাশযুদ্ধে ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান – যার মধ্যে তিনটি উন্নত রাফায়েল জেট – ভূপাতিত করেছে। ফরাসি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান অন্তত একটি ভারতীয় রাফায়েল জেট গুলি করে নামিয়েছে।
তবে ভারত সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিমানের ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে ভারত উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও রাডার স্টেশনে ভারতের ব্যাপক বিমান হামলায় বড় ক্ষতির প্রমাণ দেখানো হয়েছে।

বস্তুত, উভয় দেশের রাজনীতিবিদ ও সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধামতো তথ্য উপস্থাপন করলেও এই সংঘর্ষে প্রকৃত বিজয়ী কেউই নয়।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে হঠাৎ; যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে সেটি প্রকাশ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং উত্তেজনা কমাতে আহ্বান জানান।

পাকিস্তান এই মধ্যস্থতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, কিন্তু ভারত এটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। কারণ, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো—বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, এবং কোনো বিদেশি মধ্যস্থতা তারা মেনে নেয় না।

এমনকি যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেটিকে পাকিস্তান স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু ভারত উপেক্ষা করেছে।

সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি পদক্ষেপ মাত্র—গভীর সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে, এবং কাশ্মীর নিয়ে পুরনো সংঘাত যে আবারও জ্বলে উঠবে, তা মোটামুটি নিশ্চিত।

যুদ্ধবিরতির পর ৩২টি বিমানবন্দর খুলে দিল ভারত

পাকিস্তানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সোমবার ভারত ৩২টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করেছে। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের পর এটিই ছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ, যা চলেছে চার দিনব্যাপী।

ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অবিলম্বে এসব বিমানবন্দর বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। খুলে দেওয়া বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে শুরু করে গুজরাটের ভুজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো।
’

ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষের সময় অমৃতসর, চণ্ডীগড়, শ্রীনগর, লুধিয়ানা, কিষেণগড়, পটীয়ালা, সিমলা, জোধপুর, বিকানের, জম্মু, পাঠানকোটসহ ৩২ টি বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছিল। তবে শনিবার যুব্ধ বিরতি ঘোষণার পর দেশের অধিকাংশ বিমানবন্দরগুলো স্বাভাবিক হয়েছে।

গত সপ্তাহে ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিমান হামলার জেরে এসব বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কাও ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিমানসংস্থা ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ধাপে ধাপে বন্ধ হয়ে থাকা রুটগুলোতে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।

শনিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। তবে সোমবার উভয় দেশই জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এই পদক্ষেপকে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি

এক রাতে ১০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া!

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া যেকোনো তারকার পেশার অংশ। মোটা টাকা আয় হয় তাদের। এদিকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, যার অভিনয় থেকে রূপ সব কিছু নিয়ে নেটিজেনরা বেশ প্রশংসা করেন।

এই ঐশ্বরিয়া রাইকেও একটা সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা গেলেও বর্তমানে খুব একটা বিশেষ অনুষ্ঠান না হলে সেখানে উপস্থিত থাকেন না।

একটা সময় ছিল যখন ঐশ্বরিয়াকে একবার নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য মরিয়া থাকতেন দেশ-বিদেশের নামকরা ভক্তরা। ২০০৮ সালে এমনই একটা নিমন্ত্রণ রক্ষা করে ছিলেন ঐশ্বরিয়া, তেমনটাই শোনা যায়।

ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ছিলেন ঐশ্বরিয়ার বড় ভক্ত। তিনিই চেয়েছিলেন তার অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীকে আনাতে।

এতে বলা হয়, নিজের এই ইচ্ছা পূরণের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ব্যয় করেছিলেন ১০ কোটি টাকা। যদিও এর কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই। তবে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে। তবে এই প্রসঙ্গে ঐশ্বরিয়া কোনো দিন মুখ খোলেননি।

৪০০ মিলিয়ন ডলারের মামলায় জড়াল টেলর সুইফটের নাম

২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটে নির্মিত রোমান্টিক ড্রামা ফিল্ম ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২৪ সালে। পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটিতে নায়ক হিসেবে ছিলেন জাস্টিন বাল্ডোনি এবং তার বিপরীতে ছিলেন ‘গসিপ গার্ল’খ্যাত তারকা অভিনেত্রী ব্লেইক লাইভলি।

মুক্তির পর সিনেমাটি সাড়ে তিন শ মিলিয়নেরও বেশি ডলার আয় করে। তবে বিপত্তি বাধে চার মাস পর।
একই বছরের ডিসেম্বরে সংশ্লিষ্ট সিনেমার পরিচালকসহ কয়েকজন অভিনেতার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার সিভিল রাইটস ডিপার্টমেন্টে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন ব্লেইক। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্লেইক লাইভলি ও তার স্বামী রেনল্ডসের বিরুদ্ধে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানহানির মামলা করেন পরিচালক জাস্টিন বাল্ডোনি।

এবার সেই মামলায়ই জড়ানো হলো পাশ্চাত্যসংগীতের হার্টথ্রব টেলর সুইফ্টকে। অভিযোগ, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমায় ব্লেইকের করা চরিত্রটিকে পরিবর্তন করতে পরিচালক বাল্ডোনিকে উসকানি দিয়েছিলেন টেলর।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি টেলর সুইফ্টের নামে সমন পাঠানো হয়েছে। তিনি লাইভলি-বাল্ডোনির আদালতের সমনের সমালোচনা করেছেন।

তার প্রতিনিধিরা বিবিসিকে বলেছেন, ‘ট্যাবলয়েড ক্লিকবেইট’ তৈরির জন্য জাস্টিন বাল্ডোনি ও ব্লেইক লাইভলির মধ্যকার আইনি বিরোধে তাকে জড়ানো হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিচালক বলছেন, ২০২৩ সালে স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করার জন্য তাকে লাইভলির নিউইয়র্কের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল, যেখানে লাইভলির স্বামী অভিনেতা ও প্রযোজক রায়ান রেনল্ডস এবং টেলর সুইফ্ট উপস্থিত ছিলেন।

তবে সুইফটের প্রতিনিধিরা বলেছেন, ‘তিনি (টেলর সুইফট) কখনো কাস্টিং কিংবা সৃজনশীল সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন না।’ বাল্ডোনির মতে, ২০২৩ সালে দৃশ্যটির পুনর্লিখন নিয়ে উত্তেজনা ছিল, যেখানে তিনি রেনল্ডস এবং সুইফটকে উপস্থিত দেখে অবাক হয়েছিলেন।

যমজ সন্তানের মা হলেন অ্যাম্বার হার্ড, বাবার পরিচয় গোপন!

এ বছরের মা দিবসে যমজ সন্তানের মা হওয়ার সুখবর দিলেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড। অভিনেত্রী তার দুই সন্তানের নাম রেখেছেন অ্যাগনেস ও ওশান। অ্যাম্বার বলেন, ‘নিজের শর্তে মা হওয়া, তাও আবার বন্ধ্যাত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা।
আমি ভেবেচিন্তে ও দায়িত্বশীলভাবে মাতৃত্ব বেছে নিয়েছি। এই পরিবার গড়ার স্বপ্ন আমি বহু বছর ধরে লালন করেছি।’

অ্যাম্বারের বয়স ৩৯ বছর। অ্যাম্বার এর আগেও ২০২১ সালে কন্যা সন্তান উনাহ্‌-কে দত্তক নেন।
আর তখনই নিজ গর্ভে সন্তান ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সকল মায়ের উদ্দেশে অ্যাম্বার হার্ড ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আপনারা আজ যেখানেই থাকুন না কেন এবং যে পথেই মাতৃত্বে পৌঁছান না কেন, আমি ও আমার স্বপ্নের পরিবার আপনাদের সঙ্গে উদযাপন করছি।’

অ্যাম্বার হার্ড ২০১৫ সালে অভিনেতা জনি ডেপকে বিয়ে করেন এবং ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর একে অপরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন এবং পরবর্তীতে দুজনই উচ্চ-প্রফাইল মানহানি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

২০২০ সালে লন্ডনের একটি আদালতে ডেপ একটি মানহানি মামলা হেরে যান, যেখানে হার্ডের সাক্ষ্যে বলা হয়, তিনি ‘স্ত্রী নির্যাতনকারী’। এরপর ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চলা আরেকটি বহুল প্রচারিত মামলায় হার্ডকে জনি ডেপের বিরুদ্ধে মানহানি প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে বলা হয়। তবে হার্ডও পাল্টা মামলায় আংশিক জয় পান এবং ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পান।

এরপর মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান অভিনেত্রী। অ্যাম্বার তার যমজ সন্তানের বাবার পরিচয় প্রকাশ না করলেও নেটিজেনরা বলছেন, ইলন মাস্কেরই সন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি।

দেশে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতি হবে না : আমীর খসরু

বাংলাদেশে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতি হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেশ পরিচালনা হবে প্রত্যেকটি নাগরিকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং প্রত্যেকটি নাগরিকের পরিচয় হচ্ছে বাংলাদেশি। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। তাই এ রাষ্ট্রে, সমাজে, দেশে বিভক্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।
’

রবিবার (১১ মে) সকালে নগরীর বৌদ্ধ মন্দিরস্থ ডিসি হিলের সামনে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সম্মিলিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শান্তি শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র গড়ব। এখানে বিভক্তির কোনো সুযোগ নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনীতি বাংলাদেশে চলবে না।
আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ব।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চিন্তা-চেতনা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে এনেছেন এ জন্য। এ দেশে বসবাসরত সব মানুষ আমরা বাংলাদেশি।
ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, এ কথাটা পরিষ্কার। আমরা মেসেজ দিতে চাই, এ দেশ সবার।’

মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ভিন্ন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ শান্তি শোভাযাত্রায় দেশের রাজনীতিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকতে হবে। অপরের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু অপরের যেই মত সেটাকে সম্মান জানাতে হবে। ভিন্ন থেকেও আমরা একসঙ্গে চলতে পারব, সম্মান জানাতে পারব, কোনো অসুবিধা নেই।
সবাইকে সহনশীল হতে হবে। দেশে যেনে আরো শান্তিপূর্ণ রূপ নেই। তাই এ দেশের মানুষ একটা স্থিতিশীল বাংলাদেশ চাই। যেখানে সবাই উঠে আসবে। আজকের শোভাযাত্রা সেটারই প্রতীক হিসেবে মনে করি।’

দেশে আর অশান্তি চাই না বলে মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, ‘বুদ্ধিস্ট কমিউনিটিতে যারা দেশে আছে। তারা কিন্তু চট্টগ্রামেই বেশি বসবাস করেন। তাদের সাথে আমাদের ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া। অনেক বন্ধু একসাথে লেখাপড়া করেছি। বৌদ্ধ পূর্ণিমার যে শান্তির বাণী এটা সারা বিশ্বে আছে এবং বাংলাদেশের জন্য বেশি প্রযোজ্য। আমরা বিগত ১০-১৫ বছর অনেক অশান্তির মধ্যে থেকেছি। এত অশান্তির মধ্যে থেকেছি যে এ সমাজ ভেঙে গেছে, রাজনীতি ভেঙে গেছে, দেশ ভেঙে গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এমন দেশ সমাজ গড়তে চাই, যেই দেশ হবে শান্তি। আমরা আর অশান্তি চাই না বাংলাদেশে।’

শান্তি শোভাযাত্রায় ৬১টি সংগঠন অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে থেকে শুরু হয়ে এনায়েত বাজার, জুবলী রোড়, নিউ মার্কেট, কোতোয়ালি মোড়, লালদীঘি পাড়, আন্দরকিল্লা, চেরাগি মোড় হয়ে পুনরায় বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রাক্তন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিটন কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন, আর কে কে বাংলাদেশের ব্রাঞ্চ মিনিস্টার মরি মাসানোবু প্রমুখ।