শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে ভারতের নতুন প্রকল্প, যুক্ত করা হবে সমুদ্রপথে

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে বাংলাদেশের। রাজনৈতিক মেরুকরণের পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যার প্রভাব পড়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। এ অবস্থায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও দেখা যায় বিবাদ।
তাই এবার বাংলাদেশ এড়িয়ে সমুদ্রপথে সেভেন সিস্টার্সকে যুক্ত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যোগাযোগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ভারত এখন নতুন করে মিয়ানমার হয়ে সমুদ্রপথে বিকল্প সংযোগ প্রতিষ্ঠার পথ এগোচ্ছে। গত মার্চে বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ‘ভূবেষ্টিত।’ তিনি আরও বলেছিলেন, এই অঞ্চলের জন্য ঢাকা ‘মহাসাগরের (প্রবেশের) একমাত্র অভিভাবক।
’ এরপর থেকেই এই অঞ্চল নিয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ভারত। ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের (এনএইচআইডিসিএল) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা এই প্রকল্পটিকে ‘জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মেঘালয়ের শিলং থেকে আসামের শিলচর পর্যন্ত ১৬৬.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করেছে ভারত সরকার।
এটি এনএইচ-৬ মহাসড়কের অংশ হিসেবে নির্মিত হবে। শিলং থেকে শুরু হয়ে এই সড়কটি যাবে পাঁচগ্রাম পর্যন্ত। প্রকল্পটি ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করছে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড। ২০৩০ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মিয়ানমারে ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প।
এ প্রকল্পের আওতায় কলকাতা সমুদ্রবন্দর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তে বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সিত্তে থেকে কালাদান নদীপথে মিয়ানমারের পালেতওয়া এবং সেখান থেকে সড়কপথে মিজোরামের জোরিনপুই পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। নতুন শিলং-শিলচর মহাসড়ক এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্প্রসারিত করবে এবং জোরিনপুই থেকে লংলাই হয়ে আইজল পর্যন্ত সংযুক্ত হবে।

বর্তমানে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমার হয়ে বিকল্প পথ রয়েছে, তবে বাংলাদেশ সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর পথে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং আঞ্চলিক জলপথে তাদের প্রভাব বজায় রেখেছে। ফলে বিকল্প হিসেবে ভারত ও মিয়ানমার যৌথভাবে কালাদান প্রকল্প গ্রহণ করে। আশা করা হচ্ছে, শিলং-শিলচর সড়ক চালু হওয়ার আগেই পুরো যোগাযোগব্যবস্থাটি কার্যকর হবে। এই প্রকল্পে সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হবে আধুনিক প্রযুক্তি। জটিল পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

গত ৩০ এপ্রিল ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রায় ২২,৮৬৪ কোটি রুপি ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। ১৪৪.৮ কিলোমিটার পড়েছে মেঘালয়ে এবং ২২ কিলোমিটার পড়েছে আসামে। প্রকল্পটি চালু হলে শিলং থেকে শিলচরের যাত্রাপথ সাড়ে আট ঘণ্টা থেকে কমে পাঁচ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ঢাকাভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নিয়ে আমরা যতটা ভয় পাচ্ছি ততটা ভয়ের কিছু নেই। কারণ, বাণিজ্য অর্থনীতিতে চূড়ান্ত শত্রু বলে কিছু নেই।’

আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক এবং বাংলাদেশের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. দেবপ্রিয়।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা শুরু হয়েছে। আমাদের ওপর ট্যারিফ দিলে, এটা তাদের জন্যও ক্ষতি। তাদের পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যাবে। কারণ, শুল্কের দাঁত তাদের ওপরও পড়বে।
তাই আমাদের ওপর শুল্কের আঘাত তুলনামূলক আসছে না।’

এ সময় ড. দেবপ্রিয় এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রিজের তালিকা) গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে দুই বছর রয়েছে। এই সময়টা আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পেরেছি কি না সেটা দেখতে হবে।
শুধু ট্রেড পলিসি দিয়ে এই ট্যারিফ মোকাবেলা করা যাবে না, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে যেতে হবে। আমাদের শক্তির জায়গা থেকে চিন্তা করতে হবে। আমাদের মনোযোগ পণ্যের চেয়ে সেবা খাতে বেশি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইউএস ট্যারিফ বিষয়ে আমাদের সরকারের প্রাথমিক রি-অ্যাকশনটা ঠিকই ছিল। আমাদের হাত-পা কাঁপানোর দরকার নেই।
’ তিনি সরকারের সংস্কারকাজে ব্যক্তি/বেসরকারি খাতকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেগোসিয়েশন দক্ষতা কম। নেগোসিয়েশন দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে।’

পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘দুই হাতি যখন মারামারি করে, তখনো নিচের ঘাস ক্রাশ (দলিত-মথিত) হয়। আবার তারা খেলা করলেও ঘাস ক্রাশ হয়। সুতরাং চায়না এবং ইউএস-এর এই যুদ্ধে আমাদের খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।’

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইউএস ট্যারিফ মোকাবেলায় তুলার জন্য ওয়্যারহাউস তৈরিসহ নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন জুনে

সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ আয়োজনে ফিলিস্তিনের জন্য দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে জুন মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আরব লিগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার (১৬ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব লিগের সহকারী মহাসচিব হুসাম জাকি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়া নিয়ে সম্মেলনটি ১৭ থেকে ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে, যার সহ-সভাপতিত্ব করবে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।’

তবে সম্মেলনের স্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।

এই ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

জাকি আরো বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পূর্ববর্তী একটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। পাশাপাশি সম্মেলনে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র বাস্তবায়নের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
’

তিনি জানান, ‘এই সম্মেলন হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত পরিসরের, যেখানে ফিলিস্তিনের বিষয়টি সকল দিক থেকে আলোচিত হবে।’

জাকি আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘উল্লেখযোগ্য প্রভাব’ ফেলবে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই ফ্রান্স প্যালেস্টাইনকে স্বীকৃতি দিতে পারে এবং এটি জুন মাসে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময়ও ঘটতে পারে।

প্রতিদিন বিছানায় শুয়ে কেঁদেছি : মাহিরা খান

পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সব প্রতিকুলতা সামলে নিয়েছেন। তালাকপ্রাপ্ত একক মা হিসেবে জীবনযাপন, বলিউডে পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রণবীর কাপুরের সঙ্গে ধূমপানের ভাইরাল হওয়া ছবির ঘটনায় বেশ কয়েকবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তিনি নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছেন আবারও।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের উত্থান-পতন ও বিভিন্ন প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠার কথা বলেন মাহিরা খান। বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক খোলামেলা আলাপচারিতায়, মাহিরা খান স্বীকার করেন, বিবাহিত জীবনে তালাক, একক মাতৃত্ব, ভাইরাল হওয়া ছবি এবং ভারতে নিষেধাজ্ঞার মতো ঘটনাগুলো তার জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। অনেক সময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তিনি অনেক কিছু নিজের মধ্যেই চেপে রেখেছেন।

মাহিরা বলেন, “রণবীর কাপুরের সঙ্গে তাঁর ধূমপানের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ভেবেছিলাম আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে।
‘দ্য লিটল হোয়াইট ড্রেস’ শিরোনামে বিবিসির একটি প্রতিবেদনে আমার সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়েছিল—এখন আমার কী হবে? সেই সময় ভেঙে পড়েছিলাম। প্রতিদিন বিছানায় শুয়ে কেঁদেছি। এই ঘটনা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।”

তবে সেই কঠিন সময়েও মাহিরা আশাবাদী ছিলেন যে এই দুঃসময় একদিন কেটে যাবে।
তিনি নিজের ও সন্তানের জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো ছিল তার গভীর চিন্তাভাবনার ফসল। পেশাগতভাবে তিনি চুপ ছিলেন। তবে তখন বেশ কিছু নামি ব্র্যান্ড মাহিরার পাশে দাঁড়ায় এবং তাদের সমর্থন জানান অভিনেত্রীকে। যা তাকে নতুন করে পথ চলতে সাহস জোগায়।

২০১৭ সালে মাহিরা খান ও রণবীর কাপুরের নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ধূমপানরত কিছু ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে।
এতে ভক্তদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়, তাদের মধ্যে কি প্রেমের সম্পর্ক আছে? ছবিগুলোর কারণে মাহিরা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন, যা তার মানসিক শান্তিতে বড়সড় আঘাত হানে। তবে সবকিছুর পরও মাহিরা খান উঠে দাঁড়িয়েছেন—আরও দৃঢ়, আরও সচেতন, আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে।

মাহিরা খান পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী, যিনি মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। ‘হামসাফার’ নাটকের মাধ্যমে তিনি সারা দেশে পরিচিতি পান, আর বলিউডে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘রইস’ সিনেমায় অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর সাবলীল অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং সংগ্রামী জীবনের গল্প তাঁকে আজকের মাহিরা করে তুলেছে।

আজ ছুটির দিনেও চলছে সরকারি অফিস-ব্যাংক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১০ দিনের ছুটির কারণে কর্ম ঘন্টা পুষিয়ে নিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আজ শনিবার (১৭ মে) দেশের সব সরকারি অফিস খোলা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ৬ মে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঈদের আগে ১১ ও ১২ জুন (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হবে। এর ফলে ৫ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা ঈদের ছুটি উপভোগ করবেন।
এই টানা ছুটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই মূলত ১৭ ও ২৪ মে—এই দুই শনিবার অফিস চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত সপ্তাহের এই দিনগুলোতে সরকারি অফিস বন্ধ থাকে, তবে এবার তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ছুটিকালীন সময়ে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ ও ২৪ মে—এই দুই শনিবার সব অফিস যথারীতি চালু থাকবে।
এছাড়া, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো যেমন: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।

একইভাবে, চিকিৎসা সেবা, হাসপাতাল এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহণে নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহনও এই ছুটির বাইরে থাকবে। সরকারি দপ্তরের এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের ফলে টানা ছুটির সুবিধা যেমন মিলবে, তেমনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোর কার্যক্রমও নির্বিঘ্নে চলবে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি না হলেও বন্দি বিনিময়ে একমত রাশিয়া-ইউক্রেন

ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যেও শুক্রবার একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা গেছে ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনায়। রাশিয়া শুক্রবার জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে তিন বছরের বেশি সময় পর হওয়া প্রথম সরাসরি আলোচনা সফল হয়েছে। উভয় পক্ষ শিগগিরই এক হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময় করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, দুই পক্ষই ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের পর আলোচনা পুনরায় শুরু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইস্তাম্বুলে ওসমানীয় যুগের এক প্রাসাদে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদল। ২০২২ সালের মার্চের পর এটাই এমন প্রথম বৈঠক। আলোচনা শুরু হলেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল সুস্পষ্ট।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেওয়া হয়।
এতে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান ভ্লাদিমির মেদিনস্কি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা আলোচনার ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট এবং কিয়েভের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উভয় পক্ষ এক হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময় করবে।’

এই বিনিময় হতে যাচ্ছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করার পর সবচেয়ে বড় ধরনের বন্দি বিনিময়ের একটি।

মেদিনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনীয় পক্ষ আমাদের দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।
আমরা সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছি।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৃহস্পতিবার পুতিনকে তুরস্কে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে চ্যালেঞ্জ জানান। যদিও আলোচনার প্রস্তাব প্রথমে পুতিনই দিয়েছিলেন, তিনি নিজে অংশ না নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে একজন অভিজ্ঞ মধ্যম স্তরের প্রতিনিধি দল পাঠান। আলোচনাটি বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি দুই পক্ষকে শান্তিচুক্তির পথে এগোতে চাপ দিয়ে আসছেন, বলেছেন তিনি ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি চান যাতে করে ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতটি শেষের পথে যেতে পারে।
কিয়েভ এই ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া বলেছে—যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আগে তার শর্তাবলি নির্ধারণ করা দরকার।

মেদিনস্কি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই যুদ্ধবিরতি কেমন হবে, তা লিখিতভাবে ও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, ‘এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো উপস্থাপনের পর আমরা মনে করি, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যৌক্তিক এবং এতে আমরা একমতও হয়েছি।’

রাষ্ট্রীয় টিভিতে বিবৃতির পর এক সাক্ষাৎকারে মেদিনস্কি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে যে, সবসময় যুদ্ধবিরতির পরই আলোচনা হয় না। কোরিয়া এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালীনও আলোচনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘নেপোলিয়নের কথায় বলতে হয়, সাধারণত যুদ্ধ এবং আলোচনা একইসঙ্গে চলে।’

ক্রেমলিন শুক্রবার আরো জানায়, ইউক্রেন সংকটসহ অন্যান্য ইস্যুতে অগ্রগতি অর্জনে প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে একটি বৈঠক অত্যাবশ্যক। তবে এটি আয়োজনের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতির প্রয়োজন এবং তা অবশ্যই ফলপ্রসূ হতে হবে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন, তবে জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এখন পর্যন্ত তারা মুখোমুখি দেখা করেননি। যদিও উভয় নেতা সরাসরি বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ইউক্রেনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরহি কিসলিৎসিয়া বলেছেন, ‘এটি একটি কঠিন দিনের খুব ভালো সমাপ্তি। ১০০০ ইউক্রেনীয় পরিবারের জন্য এটি দারুণ এক খবর।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ জানান, বন্দি বিনিময়ের একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়েছে, তবে এখনই সেই তারিখ প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তবে ইউক্রেন ও এর মিত্রদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে যে, রাশিয়া হয়তো এই ধরনের আলোচনার মাধ্যমে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। তাদের মতে, মস্কো আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন ১৮তম নিষেধাজ্ঞা পর্ব ঠেকাতেই এই আলোচনা কাজে লাগাতে চায়।

সূত্র : রয়টার্স

সহজ শর্তে ঋণ পাবেন জুলাই অভ্যুত্থানের আহত ও শহীদদের পরিবার

আইনি কাঠামোর আওতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ছাত্র-জনতার কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৫’ নামে একটি খসড়ারর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

এই অধ্যাদেশের আওতায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতরা কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, আবাসন সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাবেন। তবে কেউ মিথ্যা পরিচয়ে আর্থিক সুবিধা নিলে দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করার পাশাপাশি গৃহীত অর্থের দ্বিগুণ ফেরত দিতে হবে।

এই খসড়া প্রণয়ন করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ২৮তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই শহীদ পরিবারের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সুবিধা পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হচ্ছে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘শহীদ ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক অবস্থা, বয়স, তার ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা পর্যালোচনা করে এককালীন বা মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ হ্রাস-বৃদ্ধি করা যাবে।
‘
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এর রাজনৈতিক অঙ্গ সংগঠনের সদস্যদের আক্রমণে শহীদ হয়েছেন এমন পরিবার’ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

অধ্যাদেশে আহতদের তিন শ্রেণিতে অভিহিত করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিরা যথাক্রমে ‘জুলাই শহীদ’ এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলে খসড়া অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ক’ শ্রেণিতে অতি গুরুতর আহতদের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘নূন্যতম এক চোখ/হাত/পা ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বাধীনভাবে জীবন যাপনের অনুপযোগী, সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন, সম্পূর্ণভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কাজ করতে অক্ষম বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি’।

‘খ’ শ্রেণির মধ্যে থাকবেন ‘আংশিক দৃষ্টিহীন, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি’।

‘গ’ শ্রেণির মধ্যে থাকবেন ‘যারা দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হচ্ছে, চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করতে সক্ষম হবেন এবং যারা এরই মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন এবং স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করতে সক্ষম’।

যা যা পাবেন: আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং সরকার নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে সরকার।

চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো ধরনের আবেদন করতে হবে না, তবে সরকার থেকে ইস্যুকৃত হেলথ কার্ড দেখাতে হবে।

গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দেশে-বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

অধিদপ্তর গঠন: অধ্যাদেশের অধীনে ঢাকায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হবে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনাকে জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে বহুমুখী উদ্যোগ নেবে। প্রয়োজনে ঢাকার বাইরেও অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হবেন অতিরিক্ত সচিব।

অধিদপ্তরের মূল কাজ হবে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতার কল্যাণে সরকার নির্ধারিত এককালীন ও মাসিক আর্থিক সুবিধা দেওয়া, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। আহত ও শহীদদের তালিকা প্রণয়ন, গেজেট প্রকাশসহ ডাটাবেজে সংরক্ষণ। এছাড়া শহীদ ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করবে জুলাই অধিদপ্তর।

এর বাইরে অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে গবেষণা, শহীদদের কবর সংরক্ষণ ও স্মৃতি ফলক স্থাপনসহ এ সংক্রান্ত ইতিহাস বিদেশে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারবে জুলাই অধিদপ্তর।

দণ্ড: প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়ায় জুলাই অভ্যুত্থানের নামে কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা নেয় সে ক্ষেত্রে দুই বছরের শাস্তিরও ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্য না হয়েও যদি কেউ আলোচ্য অধ্যাদেশের অধীনে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বা দাবি করে, তাহলে সেটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে গৃহীত আর্থিক সুবিধার দ্বিগুণ আদায় করবে সরকার।

বিলুপ্তি: অধ্যাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের জন্য পৃথক একটি বিধিমালা প্রণয়ন করবে সরকার। অধ্যাদেশের অধীনে জুলাই অধিদপ্তর গঠিত হওয়ার পর গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে এই সেলের অধীনে সংগঠিত কার্যক্রম নতুন গঠিত অধিদপ্তরের অধীনে সংগঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, নিহতদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন এবং গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়।

সালমান রুশদির ওপর হামলাকারীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগে নিউ জার্সির এক ব্যক্তিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৭ বছর বয়সী হাদি মাতারকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের চাটুকোয়া কাউন্টির একটি আদালতে হত্যাচেষ্টা এবং হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

চাটোকোয়া কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নি জেসন শ্মিড জানিয়েছেন, মাতারকে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টা মামলায় ২৫ বছর এবং হামলার পৃথক অভিযোগে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছ। বিচারক ডেভিড ডব্লিউ ফোলি মাতারকে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ২৫ বছরের সাজা দেওয়া প্রয়োজন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া মাতার নিজেকে হত্যাচেষ্টা এবং হামলার অভিযোগে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন।

অভিযুক্ত হাদি মাতারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রসিকিউশন পক্ষ মাতারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইচ্ছাকৃত হত্যার মনোভাব’ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তারা মামলাটি হত্যাচেষ্টার বদলে সাধারণ শারীরিক হামলার মামলা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ন্যাথানিয়েল ব্যারোন বলেন, ‘আমার মক্কেল এখন বুঝতে পেরেছেন যে তার কাজের ফল কী হয়েছে।
যদি তিনি অতীতে ফিরে যেতে পারতেন, তাহলে তিনি এই ঘটনা বদলে দিতে চাইতেন।’

২০২২ সালে সালমান রুশদিকে (৭৭) পশ্চিম নিউ ইয়র্কের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান চাটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হাদি মাতার। ওই হামলায় রুশদির পাশাপাশি গুরুতর আহত হন আরেক ব্যক্তি হেনরি রিস। রুশদিকে মাথা এবং শরীরে এক ডজনের বেশি ছুরিকাঘাত করেন হাদি।

হামলার পর রুশদিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ঘটনায় তিনি একটি চোখে হারান। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বিতর্কিত উপন্যাস ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও মৃত্যুর হুমকির মুখে পড়েন সালমান রুশদি। এতে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করা হয়েছে বলে, ইরানের তৎকালীন ধর্মীয় নেতা একটি ফতোয়া জারি করে রুশদিকে হত্যার আহবান জানান।

তেহরান অনেক আগেই সাবেক নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেইনির সেই আদেশ থেকে নিজেকে আলাদা করে নিয়েছে, তবে রুশদিবিরোধী মনোভাব এখনো বিরাজমান।
২০১২ সালে, ইরানের একটি আধা-সরকারি ধর্মীয় ফাউন্ডেশন রুশদির মাথার দাম ২.৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩.৩ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। তখন রুশদি এই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, এ পুরস্কারের প্রতি কারো আগ্রহ থাকার ‘কোনো প্রমাণ নেই’।

রুশদি ভারতের কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং নিজে একজন নাস্তিক, তিনি তার লেখার পক্ষে বহুবার সাফাই দিয়েছেন। ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ অনেক মুসলিমের কাছে ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্য বহন করে বলে মনে করা হয়। এ্ই ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী লেখক ও রাজনীতিবিদরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।

সূত্র : রয়টার্স

সেই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করব : মারিয়া মিম

সেলিব্রিটি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নস ট্রফি-২০২৫ নিয়ে অশ্লীলতার অভিযোগে ৬ মডেল-অভিনেত্রী ও ৩ নির্মাতাকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জাকির হোসেন মডেল-অভিনেত্রী মারিয়া মিম, সিনথিয়া ইয়াসমিন, কেয়া পায়েল, মারুফা আক্তার জামান, শাম্মি ইসলাম নিলা ও আলিশার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

এই ঘটনায় সেই আইনজীবীর বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মডেল মারিয়া মিম। তার দাবি, জাকির হোসেন ভাইরাল হতেই তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মারিয়া মিম বলেন, প্র্যাকটিসে আমি কি পরে যাবো, সেটা তো আমার চয়েস। যখন মাঠে যাচ্ছি, তখন কিন্তু জার্সি পরেই যাচ্ছি। কিন্তু পারসনালি কোথায় কি পরে যাবো সেটা আমাদের পছন্দ। এখানে অশ্লীলতা ছড়ানোর কি আছে?

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এই মডেল বলেন, ‘আমাদের কোনো দোষ নাই। মামলা করলে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে করুন। আমাদের বিরুদ্ধে কেন? খেলা চলাকালীন আমাকে যা প্রশ্ন করা হয়েছে তাই বলেছি।’

লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন জানিয়ে মারিয়া মিম বলেন, ‘সেই আইনজীবী যা করেছে, এতে আমার মানহানি হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দিব। বিশেষ করে তার কর্মকাণ্ডের পর পুরোনো ক্লিপগুলো নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। এতে করে আমার মানহানি হয়েছে।’

মিম আরও বলেন, ‘অবশ্যই আমি মানহানির মামলা করব। কারণ অশ্লীলতা বলে যে ভিডিওগুলো ছড়িয়েছে সেগুলো ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ মুহূর্ত। যেগুলো কেউ মোবাইলে ধারণ করে ছড়িয়েছে। কিন্তু আইনজীবী যেভাবে কথাগুলো বলেছে সেভাবে আমার মানহানি হয়েছে।’

এই মডেল মনে করেন, আইনজীবী জাকির হোসেন ভাইরাল হতেই তাদেরকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তার কথায়, ‘সে ভাইরাল হওয়ার জন্যেই আসছে। কারণ খেলা শেষে সে এই বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসছে। আমার মনে হয়, তার আসলে কাজ নেই। সে কারণেই এমনটা করেছে।’

শক্তি ও শান্তি ছাড়া ভারতের কাছ থেকে দাবি আদায় সম্ভব নয় : দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে তিস্তাসহ সব নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়, শুধু মিছিল-মিটিং করে আনতে পারব, এমন না। কূটনৈতিক বিজয় দিয়ে পারব, তাও না। শক্তি ও শান্তি এই দুটোই আমাদের সামনে রাখতে হবে, এর কোনো বিকল্প নাই। এটি মাথায় নিয়ে যদি আমার সামনে চলতে পারি, তাহলে ভারতের কাছ থেকে আমাদের প্রাপ্য সম্মান, অধিকার ও দাবি আদায় সম্ভব।

শুক্রবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে ৪৯তম ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদু বলেন, সিন্ধু নদীর পানি ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যখন ভাগাভাগির বিষয় আসে, তখন আরেকটি বিষয় আসে তারা দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। আমরা ১৯৭১ সালে লাখ-লাখ মানুষ জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কিন্তু পারমাণবিক শক্তিধর হইনি।
মাওলানা ভাসানী একটা কথা বলেছিলেন এই পানির জন্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হতে পারে। দূরদর্শী নেতা ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ভালোর জন্য এমন কোনো আন্দোলন নাই যে তিনি শরিক হতেন না। এই বাংলাদেশে তিনি ভালোকে ভালো বলতেন, খারাপকে খারাপ বলতেন।
তিনি রাজনীতিবিদদের শুধু গুরু ছিলেন না, কারিগর ছিলেন। মাওলানা ভাসানী রাজনীতিকে যারা ধারণ করতে পারেনি, আমার মনে হয় তারা দৈন্যতার মধ্যে আছে। তিনি ফারাক্কা লং মার্চের ঢাক দিয়েছিলেন। ফারাক্কা লং মার্চে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ নেমে পড়েছিলেন।

সভায় ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।