শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

আলাস্কায় পুলিশের গুলিতে নিহত কিশোরী, ২.১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার সবচেয়ে বড় শহর অ্যাঙ্করেজে এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়। এর ক্ষতিপূরণ বাবদ নিহত কিশোরীর পরিবারকে ২.১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে সেখানকার প্রশাসন। গত বছর আগস্টে ইস্টার লিফা নামের ওই কিশোরী একটি ছুরি হাতে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

বৃহস্পতিবার অ্যাঙ্করেজের মেয়র সুজান লাফ্রঁসের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তিটি পুলিশ প্রধান শন কেস ও লিফা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি বৈঠকের পর সম্পন্ন হয়। তবে চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি।

লিফার পরিবারের আইনজীবী ড্যারিল থম্পসন ২.১ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইস্টার লিফার মৃত্যুর ফলে তার পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সবাই সেই ভয়াবহ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেননি।

গত বছর রাজ্য প্রসিকিউটররা জানায়, যে পুলিশ কর্মকর্তা লিফাকে গুলি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না। তারা বলেন, কর্মকর্তার প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড আইনগতভাবে ন্যায্য ছিল।

রাজ্য স্পেশাল প্রসিকিউশন অফিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় লিফার বোন পুলিশের সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। তিনি জানান, লিফা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছিল, কারণ সে লিফার কথা শুনছিল না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ভেবেছিলেন যে তিনি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা ওই কিশোরীর আক্রমণের শিকার হতে পারে।

তবে, পরবর্তীতে লিফার বোন তদন্তকারীদের বলেন, লিফা আসলে ছুরিটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

আমি শাহরুখ খান নই’, কেন বলেছিলেন সাইফ আলী

সাইফ আলী খান ১৯৯১ সালে অভিনেত্রী অমৃতা সিংকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুটি সন্তান—সারা ও ইব্রাহিম। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০০৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর সাইফ অমৃতাকে খোরপোশ বাবদ ৫ কোটি রুপি এবং ছেলে ইব্রাহিমের বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ১ লাখ রুপি করে দিতে সম্মত হন।

২০০৫ সালের একটি সাক্ষাৎকারে সাইফ আলী খান স্বীকার করেছিলেন, এই আর্থিক দায়িত্ব তার ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শাহরুখ খান নই’—মানে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, তিনি শাহরুখের মতো ধনী নন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন,যে তিনি অর্ধেক অর্থ ইতিমধ্যেই পরিশোধ করে ফেলেছেন এবং বাকি টাকাটা তিনি সময়মতো মেটানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।

সাইফ আরো জানিয়েছিলেন, তিনি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই কাজ করে যাচ্ছেন।
সিনেমা, বিজ্ঞাপন এবং মঞ্চ অনুষ্ঠানের সব আয় তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিচ্ছেন। এমনকি সে সময় তিনি নিজের জন্য খুব কমই অর্থ ব্যয় করতেন। তাদের পারিবারিক বাংলোটি অমৃতা ও সন্তানদের জন্য রেখে গিয়েছিলেন, যদিও তার চলে যাওয়ার পর সেখানে অন্য আত্মীয়রাও থাকতে শুরু করেন।

তবে বর্তমানে সাইফ এবং অমৃতা দুজনেই নিজেদের জীবন নতুনভাবে গুছিয়ে নিয়েছেন।
সাইফ ২০১২ সালে অভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে, অমৃতা একাকী জীবনকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি প্রায়ই তার সন্তান সারা ও ইব্রাহিমের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেখা দেন, যা দেখে বোঝা যায় যে তিনি তার বর্তমান জীবন নিয়ে যথেষ্ট খুশি।

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জাকার্তা পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিবাগত রাত ২টা ৫২ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পে ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ৬৮ কিলোমিটার গভীরে। তবে জার্মান রিসার্চ সেন্টার অন জিওসায়েন্স জানিয়েছে, দক্ষিণ সুমাত্রায় ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটি ছিল ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল) গভীরে।

আর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ এবং গভীরতা ৮৪ কিলোমিটার। এই ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে তারা নিশ্চিত করেছে।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, বেনগকুলু শহরে ভূমিকম্পে ১৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে এবং মেরামতযোগ্য নয়। এছাড়া অন্তত ৬টি সরকারি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সেন্ট্রাল বেনগকুলু জেলায় আরও দুটি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারের পাশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যরাতে বিমান বিধ্বস্ত, বাড়ি-গাড়িতে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রে একটি ছোট আকারের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়িতে আগুন ধরে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে একটি আবাসিক এলাকায় মধ্যরাতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, সান ডিয়েগোর একটি নিচু দালানের এলাকায় সারি ধরে গাড়িগুলো আগুনে পুড়ে কালো ছাইয়ে পরিণত হয়েছে এবং অন্তত একটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, একটি সেসনা ৫৫০ বিমান স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থল মন্টগোমারি-গিবস এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্টের কাছাকাছি একটি এলাকা।

সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তারা ‘বিমান দুর্ঘটনার’ স্থলে সাড়া দিয়েছে এবং সতর্কতা হিসেবে আশপাশের তিনটি রাস্তা খালি করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছেম যেন কেউ ধ্বংসাবশেষ বা জ্বালানির গন্ধ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানায়।

এ ছাড়া এবিসি নিউজ সান ডিয়েগো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের একজন সহকারী প্রধানকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সেসনা বিমানটি ‘বিস্তৃত ধ্বংসস্তূপের ক্ষেত্র’ তৈরি করেছে এবং একাধিক বাড়ি ও পার্ক করা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চীনে ভূমিধসে নিহত অন্তত ৪, আটকা ১৭

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশে ভূমিধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরো ১৭ জন এখনো আটকে আছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

উদ্ধারকারীরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, ‘গুইঝৌ প্রদেশে বৃহস্পতিবার ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে, ১৭ জন এখনো আটকে আছে।’

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, ডাফাং কাউন্টির দুটি ভিন্ন স্থানে দুটি পৃথক ভূমিধস হয়।
প্রথমটি স্থানীয় সময় মধ্যরাত ৩টা নাগাদ এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টার দিকে। পাশাপাশি সিনহুয়া জানিয়েছিল, ‘একই দিনে ডাফাং কাউন্টির চাংশি ও গুয়োওয়া টাউনশিপে দুটি পৃথক ভূমিধস হয়, যাতে যথাক্রমে দুজন ও ১৯ জন আটকা পড়ে।’

সম্প্রচারমাধ্যমের প্রচারিত ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, একটি গ্রাম কাদামাটিতে ডুবে আছে, যা আবাদি জমিগুলো ঢেকে ফেলেছে এবং একটি ঘন বনভূমিতে ঘেরা পাহাড়ের পাদদেশে জমে রয়েছে।

গুইঝৌ কর্তৃপক্ষ ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দ্বিতীয় স্তরের জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ দল পাঠিয়েছে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য।

চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় উদ্ধারকর্মীদের ‘নিখোঁজদের খুঁজে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে অঞ্চলটি ‘উঁচু ও খাড়া’ হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ‘কঠিন’ হয়ে পড়ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ব্যাংকে ব্যাংকে পুলিশ পাঠিয়ে ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ আর নয় : গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সকাল-বিকাল প্রতিটা ব্যাংক থেকে ডলারের দামের আপডেট নেবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন আর ব্যাংকে ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বা পুলিশ পাঠিয়ে এই দাম নিয়ন্ত্রণ করব না।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

গভর্নর বলেন, ‘ডলারের দাম এখন থেকে বাংলাদেশে নির্ধারিত হবে।
দুবাই বা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নয়। আমরা বলব আপনারা অস্থির হবেন না। বাজার অস্থিতিশীলতার দিকে কান দেবেন না। চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে বাজারে ডলারের দাম নির্ধারণ হবে।
’

তিনি বলেন, ‘আইএমএফসহ নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছিল আমাদের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার জন্য, এটি নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু কখন এটা করব? এটা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আলোচনা হচ্ছিল। অনেকেই বলেছেন আইএমএফের প্রগ্রামগুলো আমরা মিট করতে পারব না। আগের সরকার একটাও মিট করতে পারেনি, এটা সত্য।
কিন্তু আমরা সবগুলো মিট করেছি। সেপ্টেম্বর-জানুয়ারি এবং মার্চ প্রান্তিকে সব জায়গাতে আমরা সফল হয়েছি।’

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কমোডিটির দাম কম থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। লাক্সারি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন দেওয়ার পক্ষে আমি না। আমি ট্যাক্স বাড়িয়ে দেব।
যার সামর্থ্য আছে সে কিনবে, যার নেই সে কিনবে না। যার সামর্থ্য আছে তাকে রেস্ট্রিকশন দিক, সে বিদেশে গিয়ে ওই পণ্য কিনবে। তখন তো আমার লাভ নাই। আমাদের এখানে ফরোয়ার্ড মার্কেট ডেভেলপ করেনি। এটা করলে ভালো হতো। এখন বাংলাদেশের মার্কেটে ডলার আনলে সেটার দাম পড়ে যাবে না। বিনিয়োগ করলে বিনিময় হারের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। এটা নিশ্চিত করতে পারলে এখানে আর বাজার নিয়ে ঝুঁকি থাকবে না।’

গভর্নর বলেন, ‘আমাদের এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ৩-৪ শতাংশে নিয়ে আসা। আমার যেটা মনে হচ্ছে, আগস্টের মধ্যে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৭ এর মধ্যে চলে আসবে। বছর শেষে এটা ৫ শতাংশের মধ্যে চলে আসবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মানুষের শত শত কোটি ডলার বিদেশে আছে। কেন তারা টাকা এখানে না এনে সেখানে রাখে? কারণ তারা ভাবে বাংলাদেশে আমার টাকাটা নিরাপদ কিনা? কারণ বিদেশে তো তার টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। এটি ঠিক করতে হলে আমাদের রাজনৈতিক ইকোনমি নিয়ে ভাবতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের বিনিময় হার আরো লিবারেলাইজ করব। যার যত পাওনা আছে সেগুলা পরিশোধ করা হয়েছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করে তাদের প্রফিট যখন নিয়ে যেতে চায় নিয়ে যাবে। আমরা আটকাবো না। আমরা শুধু কর নীতি নিয়ে কথা বলব। এর বাইরে না।’

এ সময় মাস্টার কার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘প্রবাসী ভাই-বোনদের একটু জানানো দরকার যে ডলারের দাম বেড়ে যাবে না। এটা স্থির থাকবে। কারণ অনেকেই ভাবছেন ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় দাম হয়তো বাড়বে। আসলে সেটি হবে না। কারণ বর্তমানে সময়টা খুব ভালো অর্থনীতির জন্য। প্রবাসীরা সামনে ঈদ উপলক্ষে টাকা পাঠানো শুরু করবেন। তখন অর্থনীতি আরো সুবিধাজনক স্থানে চলে আসবে।’

জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আর্থিক খাতে বড় একটা সংস্কার প্রয়োজন ছিল। যেটা বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। আমরা যে বিগত সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছি, সেটা বিনিময় হার ফিক্সড থাকার কারণে হয়েছে। বর্তমান সময়টা এই কাজের জন্য ঠিক আছে। প্রতিটা জিনিস আমরা যদি আজকে খেয়াল করি জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটা আইটেমের দাম কম। এর মাঝে আইএমএফ, এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ফান্ড দিচ্ছে। ফলে আমি মনে করি, আগামী কয়েক দিন বিনিময় হার নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আশঙ্কার কথা হচ্ছে, ২০২০-২১ সালেও যখন ৪৭ বিনিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল সেটা হঠাৎ করেই ২২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসলো। কারণ জ্বালানি এবং কমোডিটির দাম ডাবল বা তারও বেশি হয়ে গিয়েছিল। তখন আমাদের রিজার্ভের ওপর প্রভাব পড়েছিল। এখন যদি আগামী দিনে যদি কোনো বড় দুর্যোগ আসে, তাহলে আমাদের ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আমরা উতরাতে পারব না। এটা খুবই ছোট অঙ্ক। এটাকে ৫-৬ বিলিয়নে নিয়ে যেতে হবে। বাজারের ওপর দর ছাড়ার পর সঠিক সময়ে যেন দাম পরিবর্তন করা হয়। না হলে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। যুক্তরাষ্ট্র রেমিট্যান্সের ওপর ৫ শতাংশ কর বসিয়েছে। এটা হুন্ডি বাড়িয়ে দেবে। যেটা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। ফলে এখানে কাজ করতে হবে, যেন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা আসে।’

পলেসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমাদের বিনিময় হারকে ২০১৮-১৯ সাল থেকে চেপে ধরা হয়েছিল। সেখান থেকে একটা ফিক্সড জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে বিনিময় হারকে চাপিয়ে রাখা যায় না। এটা বেশি দিন রাখার কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে বেশি দিন চলা যায় না। বর্তমানে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বড় পরিবর্তনের কোনো সময় নেই। যত দ্রুত এ ধরনের সংস্কার করা যায় ততই ভালো।’

তিনি বলেন, ‘এটার কারণে আইএমএফের চাপ দূর হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক যেসব চাপ বা আপত্তির জায়গা ছিল সেগুলাও দূর হয়ে গেছে। এই সংস্কারের সময়টা খুবই ভালো হয়েছে। কারণ সামনে কোরবানি। এই সময়ে রেমিট্যান্স আসবে অনেক বেশি। যেটা রিজার্ভ বাড়াবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমোডিটির দাম কমেছে। ফলে আমদানি বাবদ ডলার খরচ বেশি হবে না আগের তুলনায়। আভ্যন্তরীণ বাজারেও এখন চাইহদা কম। তবে, জ্বালানির জন্য বড় একটা অঙ্কের ডলার খরচ হয়। তবে, কাতারে বড় একটি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে। তারা বাজারে সাপ্লাই বাড়ালে গ্যাসের দাম কমবে বলে আশা করা যায়। ফলে জ্বালানি আমদানির জন্য ডলারের চাহিদাও কমবে।’

যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নে প্রশাসনের ১৭ পদক্ষেপ

পবিত্র ঈদুল আজহায় যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করতে ঈদের আগের তিনদিন ও পরের তিনদিন মহাসড়কে ওভারলোড ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ রাখা, যমুনা সেতুর টোলপ্লাজায় বুথের সংখ্যা বাড়ানো, লক্কড়-ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, অতিরিক্ত ভাড়া বন্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা।

এছাড়া সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো ঈদের আগে-পরে ৫দিন সার্বক্ষণিক খোলা রাখা, মহাসড়কে চুরি ডাকাতি ছিনতাই মলমপার্টি ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে রুখতে পুলিশের টহলের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের টহল বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।
গৃহীত ১৭ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, ২৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাসের উদ্দিন লিয়ন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রেজওয়ান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হোসেন, যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল ইসলাম পাভেল ও টাঙ্গাইলে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী প্রমুখ।

রিয়াল ছাড়ার ঘোষণা মদরিচের

ফুটবলকে ছাড়তে চান না লুকা মদরিচ। তবে সময়ের কাছে সবাইকে সমর্পণ করতে হয়। অবশ্য খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলকে এখনই বাই বাই বলছেন না তিনি। তবে বাস্তবতা মেনে প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে ছাড়তে রাজি হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্ট দিয়ে রিয়াল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শেষেই রিয়াল ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন মদরিচ। মাদদ্রিস্তাদের উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘মুহূর্তটা এসেছে। তবে কখনো চাইনি মুহূর্তটা আসুক।
কিন্তু এটাই ফুটবল। জীবনের সবকিছুর শুরু এবং শেষ আছে…। আগামী শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আমার শেষ ম্যাচ খেলব।’

রিয়ালের হয়ে দারুণ কিছু মুহূর্তর স্বাক্ষী হতে পেরে ক্লাবের সভাপতি, সতীর্থ, কোচসহ দর্শক-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মদরিচ।
ক্লাব ছেড়ে চলে গেলেও রিয়াল তার দ্বিতীয় ঘর হিসেবে থাকবে এবং সব সময় মাদদ্রিস্তা হয়ে থাকবেন তিনি। রিয়ালের মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও অবিস্মরণীয় স্মৃতি নিয়ে বিদায় নেব। ক্লাব বিশ্বকাপের পর জার্সিটা পরে মাঠে নামব না। তবে সব সময় মাদদ্রিস্তা হয়ে থাকব। আমাদের আবার একে অপরে দেখা হবে।
সারা জীবন রিয়াল আমার দ্বিতীয় ঘর হয়ে থাকবে।’

২০১২ সালে রিয়ালে যোগ দেন মদরিচ। এরপর গত ১৩ মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৬টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। সঙ্গে ৪ টি লা লিগাসহ মোট ২৮ শিরোপা জিতেছেন। ২০১৮ সালে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হয়েই ব্যালন ডি’অরও জেতেন তিনি। এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে রিয়ালের হয়ে খেলেছেন ৫৯০ ম্যাচ। গত কয়েক বছর ধরেই তার বিদায় নেওয়ার খবর শোনা গেলেও শেষে এক বছর করে বেশ কবার মেয়াদ বেড়েছে। এবার আর বাড়ছে না। ৩৯ বছর বয়সী ‘চিরসবুজ’ মদরিচ এবার থামার ঘোষণাই দিয়েছেন।

২০৪০ সালে ডেনমার্কে অবসরের বয়স হবে ৭০ বছর

ডেনমার্কে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের বয়স ২০৪০ সালে বর্তমান ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৭০ বছর করা হবে। দেশটির পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার এসংক্রান্ত একটি আইন পাস করেছে

ডেনিশ পার্লামেন্ট ফোকেটিং তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, নতুন আইনটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮১ জন আইন প্রণেতা, বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২১ জন।

২০০৬ সাল থেকে ডেনমার্ক সরকার নাগরিকদের গড় আয়ু অনুসারে অবসর গ্রহণের বয়স নির্ধারণ করছে এবং প্রতি পাঁচ বছর পর পর তা পর্যালোচনা করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় ২০৩০ সালে অবসর গ্রহণের বয়স হবে ৬৮ এবং ২০৩৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯ বছরে।

নতুন আইন অনুসারে, ১৯৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর যাদের জন্ম, তাদের অবসর গ্রহণের বয়স হবে ৭০ বছর।

ডেনমার্কের ৪৭ বছর বয়সী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক প্রধানমন্ত্রী ম্যাতে ফ্রেডেরিকসেন গত বছর বলেছিলেন, অবসর গ্রহণের বয়স ৭০ বছরে পৌঁছলে সরকার এই পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত থাকবে।

গত আগস্টে দৈনিক বার্লিংস্ককে তিনি বলেন, ‘আমরা আর বিশ্বাস করি না যে অবসর গ্রহণের বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তেই থাকবে।’

শিল্পীদের রাজনীতি করতে হলে অভিনয় বাদ দিয়ে করা উচিত : বাপ্পারাজ

চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ ছিলেন ব্যতিক্রম। কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় যাননি, ছিলেন না যুক্ত। ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে জড়াতে চান না এই নায়ক। তিনি মনে করেন, শিল্পীদের রাজনীতি করা উচিত নয়।
আর যদি কেউ রাজনীতিতে জড়াতে চান, তাহলে যেন অভিনয় থেকে অবসর নেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

বাপ্পারাজ বলেন, ‘শিল্পীদের রাজনীতি করা উচিত না। যদি করতেই হয়, তাহলে অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে অবসর নিয়ে করা যেতে পারে।
একটা পেশায় যুক্ত থেকে যখন কেউ রাজনীতিতে যুক্ত হয়, তখন সে নানাবিধ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। অন্যের তোষামোদ করতে হবে; যেটা ইদানীং হয়েছে। আমাদের শিল্পীদের মধ্যে অনেকেই (রাজনৈতিক) সুযোগ নিত। সুযোগ নিতে গিয়েই তারা বিপদে পড়েছে।

নিজের প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি কখনো রাজনীতি করিনি, এখনো করি না, ভবিষ্যতেও করব না। আমি অনেক অনুষ্ঠানে গিয়েছি। দাওয়াত দিলে আওয়ামী লীগের পার্টিতে গিয়েছি, বিএনপির পার্টিতেও গিয়েছি, ছবি তুলেছি। কিন্তু আমাদের পেছনে তো পুলিশ দৌড়ায় না। আমাদের তো কেউ বলে না, তুমি এটা করছ কেন বা ওটা করলা কেন? কারণ, আমি কখনো সুযোগ নিতে চাইনি। পেশাগত কাজটাই করে গেছি।’

অন্যদিকে, নুসরাত ফারিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাপ্পারাজ বলেন, পুরো বিষয়টা কেমন যেন হয়ে গেছে। তাকে আটক করা হলো, তাকে বেইল দেওয়া হচ্ছিল তারপর ঠিকই জামিন দেওয়া হলো। এটা তো একটা মানুষকে হেনস্তা করা হলো। পুরো বিষয়টা নিয়ে নানা প্রশ্ন আসে আর এই কেন তো ঠিক না।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কারণে শিল্পীরা হেনস্তা হলেও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সংগঠনটি।

সমিতির কার্যক্রম নিয়ে বাপ্পারাজ বলেন, ‘কিছু লোক যুক্ত হওয়ার পর শিল্পীদের সংগঠনটি একটা দলের চাটুকার হয়ে গিয়েছিল। শিল্পীদের নয়, মনে হচ্ছিল কোনো দলের মুখপাত্র হিসেবেই কাজ করছে। বাইরের লোকজনকে এনে মালা পরানো হতো। আমাদের নিয়ে গিয়ে বলা হতো, তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। অন্যের স্বার্থ হাসিলের জন্য তার পাশে গিয়ে ছবি তোলা তো শিল্পীদের কাজ না। অবস্থা এমন দাঁড়াল, স্বার্থের জন্য আমি যাব, ফায়দা হাসিল করব—এ কারণেই এসব তোষামোদি করে গেছে। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।’