শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

তোমাকে হত্যা করা হবে, এসবের মধ্যে জড়িও না

বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলের মালিকও তিনি। খুব অল্প ক্যারিয়ারেই বলিউড ছাড়েন এ অভিনেত্রী।
ব্যক্তি জীবনে প্রচণ্ড সাহসী এ অভিনেত্রী। শৈশব থেকেই ছিলেন প্রতিবাদী। স্কুল জীবন থেকেই প্রতিবাদের ছাপ রেখেছেন। যৌন হেনস্তারও শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
তবে সেসব সামলেছেন শক্ত হাতেই।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রীতি জানিয়েছেন, সে সময় তিনি কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন।

অভিনেত্রী দিল্লিতে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের একটি ভয়াবহ ঘটনা শেয়ার করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুলে আমি মেয়েদের স্কুলে পড়তাম।
এর কারণ সেখানে কোনো ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু আসলে তা নয়। সেখানে সবই ছিল। স্কুলের বাইরে বের হলেই টিজিংয়ের শিকার হতাম।’

প্রীতি বলেন, ‘স্কুলে মেয়েরাও কম ছিল না।
‘তুমি জানো তোমার গোলাপী গাল, খুব হালকা ত্বক, এসব বেশ দারুন!’ এসব কথা তারা শরীরে হাত দিয়েই বলতো। মেয়ে বলে শুরুতে গায়ে মাখাতাম না। কিন্তু পরে তাদের সাবধান করে দিয়েছি। কিন্তু বাইরে ছেলেদের মুখ বন্ধ করাবো কীভাবে? তারা আমাকে জ্বালাতন করার চেষ্টা করত।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘একাধিকবার আমি এখানে সেখানে কয়েকজনকে থাপ্পড়ও মেরেছিলাম। তারপর আমার মনে হয় একদিন আমার ভাই আমাকে বলেছিল, তোমাকে হত্যা করা হবে, এসবের মধ্যে জড়িও না। এরপর আমি মুম্বাই চলে আসি। তবে মুম্বাই দুর্দান্ত ছিল। এখানে আমাকে টিজিংয়ের শিকার হতে হয়নি।’

তবে ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনেও সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন প্রীতি জিনতা। প্রীতির বয়স যখন ২৬ বছর, তখনই বলিউডে পরিচিত পান তিনি। তবে সে সময়েই আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী। কুখ্যাত গ্যাংস্টার ছোটা শাকিলের বিরুদ্ধে আদালতে দাড়িয়ে সাক্ষ্যও দিয়েছিলেন। যখন অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা গ্যাংস্টারের ভয়ে আদালত পর্যন্ত যেতেই রাজি হননি।

ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়েই বলিউড ছাড়েন প্রীতি। মাত্র ৩২ বছর বয়সে বলিউডকে বিদায় জানিয়ে বিয়ে করে বিদেশে চলে যান এই নায়িকা। বর্তমানে ভারতের ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি আইপিএল দল পাঞ্জাব কিংস-এর মালিক প্রীতি। নিজের দলের হয়ে নিয়মিত মাঠে দেখা মেলে তার।িএছাড়া দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফিরছেন এ অভিনেত্রী। সামনে সানি দেওলের সঙ্গে ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমায় দেখা যাবে প্রীতিকে।

হজে গিয়ে চিকিৎসা নিলেন ১২৬ বাংলাদেশি, হাসপাতালে ভর্তি​ ৩১

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ১২৬ বাংলাদেশি। এ ছাড়া আরো ৩১ জন দেশটির সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, সৌদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাপ্রাপ্ত মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১২৬ জন।
এ ছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২৬ জন।

এতে আরো বলা হয়েছে, সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র হইতে প্রদত্ত স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রের সংখ্যা ২৯ হাজার ৪২৪টি।

চলতি বছর হজ করতে বাংলাদেশ থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬৮ হাজার ২৭০ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৭৭টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা।

হেল্প ডেস্ক জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯২টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছান ৩৫ হাজার ২৪৬ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ৬৪টি ফ্লাইটে ২৪ হাজার ৩৮৭ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬২৮ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৩ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ৬৩ হাজার ৬৯৭ হজযাত্রী।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ বাংলাদেশি মারা গেছেন। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) মৃত্যুবরণ করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন।
তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী। এর মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ছয়জন ও মদিনায় ছয়জন।

গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৩৯৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। আগামী ৩১ মে শেষ হবে এই ফ্লাইট পরিচালনা।
১০ জুন থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ হবে ১০ জুলাই।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন পাঁচ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৮১ হাজার ৯০০ জন। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সির সংখ্যা ৭০টি। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বার্সেলোনায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ইয়ামালের

মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বফুটবলে তারকা বনে যাওয়া লামিন ইয়ামালের সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করেছে বার্সেলোনা। এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গারই হচ্ছেন ক্লাবটির সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত ফুটবলার।

ইয়ামালের আগের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত। তবে নতুন চুক্তি অনুযায়ী আগামী ছয় বছর বার্সার হয়ে মাঠ মাতাবেন তিনি।

২০২৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক হয় ইয়ামালের। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ৫৫ ম্যাচে ১৮ গোল ও ২৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই বিস্ময় বালক। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে এই মৌসুমে বার্সেলোনা জিতেছে ঘরোয়া ট্রেবল — লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ।

এর চেয়েও বড় ব্যাপার মাঠে এই বিস্ময় বালকের প্রভাব।
গোলমুখে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের সামনে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন তিনি। দলের বিপদের সময় দারুণ পারফরম্যান্সে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন কয়েকটি ম্যাচে। এমন অবস্থায় ইয়ামালকে হারাতে চায়নি ব্লাউগ্রানারা।

বার্সেলোনার ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা এবং স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকোর উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৭ মে) ইয়ামাল এই নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইয়ামালের চুক্তি নবায়ন বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের অংশ। বিশ্ব ফুটবলে তার মতো খেলোয়াড়ের উত্থান বিরল এবং স্মরণীয়।’

এই তরুণ বিশ্ব ফুটবলে যেভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে, তা ইতোমধ্যেই বার্সার ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে বলে মনে করে ক্লাবটি।

লা মাসিয়ার ইয়ামালের খেলার ধরণ ও প্রতিভা দেখে অনেকেই তাকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করছেন।

ইয়ামাল এখন পর্যন্ত কাতালান ক্লাবটির হয়ে ১১৫ ম্যাচে করেছেন ২৫টি গোল।
তিনি লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। এছাড়া বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও এখন ইয়ামালের।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সফল এই উদীয়মান তারকা। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফেলেছেন ১৯ ম্যাচ। এরমধ্যে ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে তার দল।

কারামুক্ত হলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম

ঢাকা, ২৮ মে ২০২৫ (বাসস):
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে খালাস পাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ১৩ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

আজ (বুধবার) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থান থেকে মুক্তি পান। মুক্তির সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। কারা কর্তৃপক্ষ তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তির পর আজহারুল ইসলাম রাজধানীর শাহবাগে জামায়াতে ইসলামীর এক সমাবেশে যোগ দেন এবং বলেন, “আমি আজ স্বাধীন, আমি এখন মুক্ত, আমি স্বাধীন দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক।”

গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করে, যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাকে খালাস দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে আজহারুল ইসলামের আপিল গ্রহণ করে রায় দেন।

তিন পাতার সংক্ষিপ্ত আদেশে আদালত উল্লেখ করে, অন্য কোনো মামলা বা আইনগত জটিলতা না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

আজহারুল ইসলাম মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম ব্যক্তি, যিনি আপিল বিভাগের রায়ে সম্পূর্ণ খালাস পেলেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় কুড়িগ্রামে গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ ওই রায় বহাল রাখে। তবে ২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন, যার নিষ্পত্তি হলো প্রায় পাঁচ বছর পর।
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১২ সালের “স্কাইপি কেলেঙ্কারী” এবং আসামিপক্ষের সাক্ষীদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তোলে।

আজহারুল ইসলামের খালাসকে অনেকে এই বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। তবে এটি শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি, পুরো বিচারের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক আরও দীর্ঘ সময় চলবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬৮ হাজার ২৮০ হজযাত্রী

চলতি বছর হজ করতে বাংলাদেশ থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬৮ হাজার ২৭০ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৭৭টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা।

বুধবার হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক।

হেল্প ডেস্ক জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯২টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছান ৩৫ হাজার ২৪৬ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ৬৪টি ফ্লাইটে ২৪ হাজার ৩৮৭ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬২৮ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৩ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ৬৩ হাজার ৬৯৭ হজযাত্রী।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১২ বাংলাদেশি মারা গেছেন। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) মৃত্যুবরণ করেছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের শাহাদাত হোসেন।
তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী। এর মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ছয়জন ও মদিনায় ছয়জন।

গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৩৯৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে।
আগামী ৩১ মে শেষ হবে এই ফ্লাইট পরিচালনা। ১০ জুন থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ হবে ১০ জুলাই।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন পাঁচ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৮১ হাজার ৯০০ জন। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সির সংখ্যা ৭০টি।
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রাজধানীতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

রাজধানীর আগাসাদেক রোডের ৫ দোকানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। অভিযানে ১ হাজার ৯৭৮ বোতল সালসা, একটি মোটরসাইকেল এবং ১০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ মে) রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের ৫ বীর সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

সেনাবাহিনীর অভিযানে আটকরা জানান, তারা প্রায় ৪ বছর ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
কেরানিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি দামে মাদকদ্রব্য কিনে তারা দোকানে এনে বিক্রি করতেন। সন্ধ্যা হলেই দোকানগুলোতে জমজমাট কেনা-বেচা শুরু হয়ে যেত।

তারা আরো জানান, সালসাগুলো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এগুলো মেশানো সহজ করতে দোকানগুলোতে ব্লেন্ডার মেশিনও রাখা ছিল।

অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দোকানগুলোতে মাদক সেবন করতে আসা বেশিরভাগই অল্পবয়সী যুবক।

ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ আয়ারল্যান্ডের

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে একটি বিলের খসড়া তৈরির অনুমোদন দিয়েছে আয়ারল্যান্ড সরকার। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করল, যা বিশ্ব কূটনীতিতে এক নতুন নজির তৈরি করল।

এই উদ্যোগ এসেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) একটি পরামর্শমূলক মতামতের প্রেক্ষাপটে, যেখানে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী বলে মন্তব্য করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, আদালতের সেই মতামতই তাদের এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, “সরকার মনে করে, অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আমাদের দায়িত্ব।” এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে আবাসিক, কৃষিজ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে উৎপাদিত পণ্য, যেগুলো ইসরায়েলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার বাইরে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী সায়মন হ্যারিস বলেন, “আজ আমরা একটি ছোট দেশ হিসেবে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, যা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য নতুন পথ তৈরি করছে। আমি আশা করি, ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও আমাদের এই সাহসী পদক্ষেপ অনুসরণ করবে।”

আয়ারল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এক মাসের মধ্যে যখন দেশটি স্পেন, নরওয়ে ও স্লোভেনিয়ার সঙ্গে একযোগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল তীব্র সমালোচনা করে। ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি জুনের মধ্যে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।

এই পদক্ষেপ এমন এক সময় এসেছে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের সঙ্গে ১৯৯৫ সালের বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস জানান, ২৭টি সদস্য দেশের শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে, যা ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরির অংশ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার আর্থিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আয়ারল্যান্ড ও অবৈধ বসতিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ এক মিলিয়ন ইউরোরও কম ছিল। পণ্যের মধ্যে ফলমূল, শাকসবজি ও কাঠজাত দ্রব্য প্রধান।

ক্রিশ্চিয়ান এইড আয়ারল্যান্ডের অ্যাডভোকেসি ও নীতিমালা প্রধান কনর ও’নিল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ শুধু বলেই এসেছে যে বসতিগুলো অবৈধ। কিন্তু এবার আয়ারল্যান্ড কথার সঙ্গে কাজ মিলিয়েছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিলটির খসড়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে, তবে শরৎকালের (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর) আগে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এই পদক্ষেপ কেবল প্রতীকী নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি শক্তিশালী বার্তা—বিশেষত এমন সময়ে, যখন বৈশ্বিক নেতৃত্ব এই ইস্যুতে নানাভাবে বিভক্ত।

সংবাদ প্রণয়ন: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তথ্যসূত্র: AFP, আইসিজে, আয়ারল্যান্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ব্রাজিলিয়ান তারকার আরো কাছে ইউনাইটেড

ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অবশেষে ওলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের (ওলভস) ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহাকে দলে ভেড়ানোর পথে। ইউনাইটেড কুনহার ৬২.৫ মিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লজের শর্ত পূরণ করেছে এবং ওলভস ইতোমধ্যেই তাদেরকে এই ফরোয়ার্ডের সঙ্গে আলোচনা করার অনুমতি দিয়েছে।

এর আগে ইউনাইটেড পাঁচ বছর মেয়াদে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করে দেয় ওলভস। ক্লাবটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুরো অর্থ দুই বছরের মধ্যে তিন কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
এই শর্তে রাজি হয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় নামে রেড ডেভিলসরা।

কুনহার মেডিকেল পরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

২৬ বছর বয়সী কুনহা ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ধারে ওলভসে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে স্থায়ী চুক্তি হয়। ওলভসের হয়ে এখন পর্যন্ত ৯২ ম্যাচে মাঠে নেমে ৩৩টি গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

সাতে সাত বিলি আইলিশের

ক্রিকেট খেলায় এক বলে সাত রান কখন হয়? ফ্রি হিটে যখন ছক্কা হাঁকান ব্যাটার। আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে [এমএ] যেন সে কাজটাই করলেন সংগীতশিল্পী বিলি আইলিশ। সাত বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে জিতে নিলেন সাতটি পুরস্কারই। এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না।

সোমবারের রাতটা যেন বিলিরই ছিল। আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার ও অ্যালবাম অব দ্য ইয়ারের মতো প্রধান পুরস্কারগুলো তো পেয়েছেনই। পেয়েছেন ফেবারিট ট্যুরিং আর্টিস্ট, ফেবারিট ফিমেল পপ আর্টিস্ট, ফেবারিট পপ অ্যালবাম ও ফেবারিট সংয়ের পুরস্কারও।

কিঞ্চিৎ দুঃখজনক ব্যাপার হলো, অসামান্য এ অর্জন নিজ হাতে গ্রহণ করতে পারলেন না বিলি।
কারণ তিনি রয়েছেন ইউরোপ ট্যুরে। সেখান থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গায়িকা বলেন, ‘ভক্তদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তাদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তারা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, এ পৃথিবীতে এখনো আলো আছে।
’

লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত জমকালো এ আয়োজনে এবার আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে রড স্টুয়ার্টকে, আর আইকন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় কিংবদন্তি জেনেট জ্যাকসনকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জেনিফার লোপেজ।

এমএ-তে সর্বোচ্চ ৪০টি পুরস্কার জেতার রেকর্ড টেইলর সুইফটের দখলে। অথচ এবার তিনি একটি পুরস্কারও জিততে পারেননি। মনোনয়ন পেয়েছিলেন ছয়টি।
এবার কেনড্রিক লামারকে টপকে জনপ্রিয় পুরুষ হিপ-হপ শিল্পী হয়েছেন এমিনেম, জিতেছেন হিপ-হপ অ্যালবামের পুরস্কারও। তবে ‘নট লাইক আস’-এর জন্য সেরা হিপ-হপ গানের পুরস্কার পেয়েছেন কেনড্রিক লামার। বিয়ন্সের ‘কাউবয় কার্টার’ হয়েছে সেরা কান্ট্রি অ্যালবাম। কান্ট্রি আর্টিস্টও হয়েছেন তিনি। আর সেরা পুরুষ পপশিল্পী হয়েছেন ব্রুনো মারস। নিউ আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার হয়েছেন গ্রেসি আব্রামস। লেডি গাগা ও ব্রুনো মারসের ‘ডাই উইথ আ স্মাইল’ হয়েছে কোলাবরেশন অব দ্য ইয়ার।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা বিষয়ক ১৮ পরামর্শ

পবিত্র ঈদুল আজহা উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এবং ঈদে বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের সার্বিক নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুর হাটের নিরাপত্তা, ঈদে বাসাবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য সম্মানিত নগরবাসীকে অনুরোধ করা হলো :

১. ফিটনেসবিহীন যানবাহন/নৌযানে কোরবানির পশু পরিবহন করবেন না। কোরবানির পশুবাহী পরিবহন/নৌযানের সামনে নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থান/পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখুন। ট্রাক, লঞ্চ বা ট্রলারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পশু পরিবহন করবেন না।
নির্দিষ্ট স্থানে পশু লোড/ আনলোড করবেন।

২. পশু হাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি হতে সাবধান থাকুন। কোনোভাবে অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো কিছু খাবেন না। জালনোট সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং লেনদেনের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।
পশু বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখুন। নগদ অর্থ স্থানান্তরে ডিএমপির মানি এস্কর্ট সেবা গ্রহণ করুন।

৩. কোরবানির পশু পরিবহন, পশুর হাটে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কোন তথ্য থাকলে নিকটস্থ পুলিশকে জানান।

৪. অনলাইনে কোরবানির পশু কেনায় সতর্ক থাকুন।

৫. বাসা-বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণি-বিতানের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা রক্ষীদের ডিউটি জোরদার করতে হবে এবং যেকোন অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একসাথে ছুটি প্রদান না করে একটি অংশকে দায়িত্বপালনে নিয়োজিত রাখা যেতে পারে যাতে তারা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বিক তদারক করতে পারে।

৬. বাসা-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান ত্যাগের পূর্বে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করে যেতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক তালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
দরজা-জানালা দুর্বল অবস্থায় থাকলে তা মেরামত করে যথাসম্ভব সুরক্ষিত করতে হবে।

৭. বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণি-বিতানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং স্থাপিত সিসি ক্যামেরাসমূহ সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বাসা-বাড়ির মূল দরজায় অটোলক ও নিরাপত্তা এ্যালার্মযুক্ত তালা ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে বাসা ও প্রতিষ্ঠানের চারপাশ পর্যাপ্ত আলোকিত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ও দলিল নিরাপদ স্থানে বা নিকট আত্মীয়ের হেফাজতে রেখে যেতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

৯. বাসা-বাড়ি ত্যাগের পূর্বে যে সকল প্রতিবেশী/পাশের ফ্ল্যাটের অধিবাসী ঢাকায় অবস্থান করবেন তাদের বাসার প্রতি লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করতে হবে এবং ফোনে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।

১০. ভাড়াটিয়াগণকে পূর্বেই বাসার মালিককে ঈদ উপলক্ষে বাসা ত্যাগের বিষয়টি অবহিত করতে হবে ।

১১. অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে এ বিষয়ে বাসা বা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীকে সতর্ক করতে হবে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। বাসা বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির গ্যারেজ সুরক্ষিত রাখতে হবে। বাসার জানালা/দরজার পাশে কোন গাছ থাকলে অবাঞ্ছিত শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলতে হবে যাতে অপরাধীরা গাছের শাখা-প্রশাখা ব্যবহার করে বাসায় প্রবেশ করতে না পারে।

১২. বাসা-বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান ত্যাগের পূর্বে লাইট, ফ্যানসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক লাইনের সুইচ, পানির ট্যাপ, গ্যাসের চুলা ইত্যাদি বন্ধ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. মহল্লা/বাড়ির সামনে সন্দেহজনক কাউকে/দুস্কৃতকারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে অবহিত করতে হবে। ঈদে মহল্লা/বাসায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকলে বা ঘটার সম্ভাবনা থাকলে তা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে অবহিত করতে হবে।

১৪. যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ-পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ঈদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। ভ্রমণকালে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখুন। চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দিবেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাসের ছাদে কিংবা ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ করবেন না।

১৫. রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং অথবা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করুন। যেখানে জেব্রা ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ নেই সেখানে যানবাহনের গতিবিধি দেখে নিরাপদে রাস্তা পার হোন। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন।

১৬. ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে কিংবা জয় রাইডিং করবেন না। এতে জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অপরিচিত কোন ব্যক্তির নিকট থেকে খাবার খাবেন না।

১৭. বাস মালিকদের প্রতি অনুরোধ-লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ, অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালককে যাত্রীবাহী বাস ও গাড়ি চালাতে না দেওয়া। চালক যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভার টেকিং না করে সেজন্য চালককে নির্দেশ দেওয়া। বাসে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো যাবে না। যাত্রী পরিবহনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় বের করা যাবে না।

১৮. বাস চালকদের প্রতি অনুরোধ-বেপরোয়া ভাবে ওভার স্পিডে গাড়ি চালাবেন না, ঝুঁকিপূর্ণ ওভার টেকিং করবেন না। ক্লান্ত বা অবসাদ বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সবসময় সাথে রাখুন। আঞ্চলিক সড়ক/মহাসড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলুন।

জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য যোগাযোগের নম্বরসমূহ:
ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০১৩২০-০৩৭৮৪৫; ০১৩২০-০৩৭৮৪৬; ২২৩৩৮১১৮৮; ০২৪৭১১৯৯৮৮; ০২৯৬১৯৯৯৯। জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর : ৯৯৯।