বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

ঈদুল আজহায় এক গুচ্ছ নিরাপত্তা পরামর্শ পুলিশের

আগামী ৭ জুন দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এবং ঈদে বাসা-বাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের সার্বিক নিরাপত্তায় বিষয়ে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্সের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদে যারা বাড়ি যাবেন, তারা ঈদের আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এতে ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়ানো সহজ হবে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারের ছাদে এবং ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহনে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

হাইওয়েতে নসিমন, করিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহনে চলাচল পরিহার করুন। চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তাগিদ দিবেন না। চালক যাতে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং না করে সে দিকে লক্ষ্য রাখুন।
অপেশাদার, ক্লান্ত বা অসুস্থ চালক যাতে গাড়ি না চালায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

দুর্ঘটনা-কবলিত নৌযান শনাক্তকরণের লক্ষ্যে নৌযান মালিক নৌযানগুলো ১০০-১৫০ ফুট লম্বা দড়ি সংবলিত বয়া এবং লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখুন। হাইওয়েতে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালাবেন না। যাত্রাপথে অপরিচিত কারো সঙ্গে কোনো যানবাহনে শেয়ারে চড়বেন না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রাপথে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও লঞ্চ ঘাটে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করবেন না। হকার বা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কোমল পানীয়, ডাব, শরবত বা অন্য কোনো খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। যাত্রাপথে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ প্রতারক চক্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কাউকে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারক চক্রের সদস্য সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে খবর দিন বা জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ কল করুন।

আপনার আশপাশের যাত্রীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখুন।
কেউ কোনো বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করুন; কাউকে সন্দেহ হলে নিকটস্থ পুলিশকে জানান বা জাতীয় সেবার ৯৯৯-এ কল করুন। ট্রাক, লঞ্চ, নৌকায় বা ট্রলারে অতিরিক্ত পশু বোঝাই করবেন না। মহাসড়কের ওপর এবং রেললাইনের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসাবেন না। পশুর হাটে নির্ধারিত হারে হাসিল পরিশোধ করুন। কেউ অতিরিক্ত হাসিল অথবা চাঁদা দাবি করলে নিকটস্থ পুলিশকে জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পশুর চামড়াবাহী যানবাহন সীমান্তমুখী হলে সেগুলো পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের সন্দেহজনক ক্ষেত্রে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানান বা ৯৯৯-এ কল করুন। পশুবাহী পরিবহণের সামনে পশুর গন্তব্যস্থান/পশুর হাটের নাম লিখে ব্যানার টানিয়ে রাখুন। পশুর হাটে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা (মানি এসকর্ট) নিন।

জাল টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো নোট জাল সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশকে জানান। বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, নগদ ইত্যাদিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই গোপন পিন নম্বর কারো সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

শপিংমল/মার্কেটের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করুন।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ: ডিএনসিসি প্রশাসক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন।

শনিবার (৩১ মে) সকালে পরিবেশ অধিদফতরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ম্যানিফিয়েস্টো টক: ইয়ুথ, এনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রশাসক বলেন, গত দুই দশকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এজাজ আরও অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই বাধা সৃষ্টি করা হতো। কেউ কেউ ‘তুলেও নিয়ে যেত।’

প্রশাসকের দাবি, তার বিরুদ্ধেও চলমান প্রচারণা এসব দুর্বৃত্তচক্রেরই অংশ।

চলমান অতিবৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ৫৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হলেও রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি, যা ডিএনসিসির সফলতার একটি দৃষ্টান্ত।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এবার হাসিনার নৌকা চলতে দেইনি।’

আবারও বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন

ফের কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার আকাশে প্রবেশ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ড্রোন। শুক্রবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের কাকড়িপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প থেকে এসব ড্রোন উড়ানো হয়।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া জানান, গত ২৭ মে আসাম থেকে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের ঘটনার পর থেকেই বিএসএফ নানা উপায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। শুক্রবার রাতেও বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা গ্রামের আকাশে ৪-৫টি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে।
এমনকি বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ওপর দিয়েও ড্রোন ওড়ানো হয়।

তিনি ভারতের এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুতর বিষয়। এর প্রতিকার চাই।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ভারতের ড্রোন উড়ানোর ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি।
সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আঞ্জু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বড়াইবাড়ী সীমান্তে পুশইনের সময় ও রাত ১০টা ৪৩ মিনিটে সাহেবের আলগা বিওপি এলাকায়ও ভারতীয় ড্রোন উড়ানোর অভিযোগ ওঠে।

নাইজেরিয়ায় বন্যায় কমপক্ষে ১১৫ প্রাণহানি, ভেসে গেছে বহু মানুষ

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের মোকওয়া শহরে ভয়াবহ বন্যার ঘটনায় এখনো উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের খুঁজে যাচ্ছে। বুধবার রাতে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত টানা ভারি বৃষ্টিপাতে শহর ও আশপাশের অঞ্চলের অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, অনেকগুলো পুরোপুরি ভেসে গেছে নাইজার নদীতে।

নাইজার রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইব্রাহিম আওদু হুসেইনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘এখন পর্যন্ত ১১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরো মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা রয়েছে, কারণ বন্যার পানি দূরবর্তী এলাকা থেকে এসে মানুষজনকে ভাসিয়ে নদীতে নিয়ে গেছে।
’

তিনি বলেন, ‘নদীর নিচের দিকেও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।’ তিনি আরো জানান, এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একটি পরিবারের ১২ জনের মধ্যে মাত্র চারজনের সন্ধান পাওয়া গেছে।

হুসেইনি জানান, ‘কিছু মরদেহ ধসে পড়া বাড়িগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘উদ্ধার কাজে খননযন্ত্র প্রয়োজন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা যায়।’

রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭৮ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাইজেরিয়ার ডেইলি ট্রাস্ট পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন এবং একটি ইসলামি স্কুলের ৫০ জনের বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা একে ‘অভূতপূর্ব বন্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিপর্যয়ের মোকাবিলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। রাজধানী আবুজা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের মোকওয়া শহরে এএফপির একজন সাংবাদিক দেখেছেন, কিভাবে জরুরি উদ্ধারকারী দল স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলে ধ্বংসস্তূপের নিচে খোঁজ চালাচ্ছেন। পানির প্রবাহের পাশেই ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংসাবশেষে চলছে অনুসন্ধান।

‘সবকিছু হারিয়েছি’ – ক্ষতিগ্রস্তদের আর্তনাদ

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
রেড ক্রস জানিয়েছে, শহরের দুটি প্রধান সেতু বন্যায় ধসে পড়েছে।
বন্যার পানি জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তত দুটি মরদেহ কলা পাতায় ও আনকারা ছাপা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

মোহাম্মদ ট্যাংকো (২৯) একজন সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, ‘এই বাড়িটাতেই আমি বড় হয়েছি। এখান থেকে অন্তত ১৫ জনকে হারিয়েছি। সম্পত্তি হারালাম। সবকিছু হারিয়ে গেল।’ একজন জেলে দাঞ্জুমা শাবা (৩৫) বলেন, তিনি এখন গাড়ির পার্কিংয়ে ঘুমান, কারণ তার বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

সাবুওয়ার বালা (৫০) একজন আলু বিক্রেতা জানান, কীভাবে তিনি বন্যার হাত থেকে পালিয়ে বেঁচেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তখন শুধু অন্তর্বাস পরে ছিলাম। এখন যা পরেছি, কেউ ধার দিয়েছে। এমনকি স্যান্ডেলটাও বাঁচাতে পারিনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাড়ি কোথায় ছিল, সেটাও এখন চেনা যাচ্ছে না। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।’

বর্ষা শুরুতেই এমন বিপর্যয়

নাইজেরিয়ায় সাধারণত ছয় মাসের বর্ষাকাল থাকে আর এই বছর সেটা মাত্র শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রতিবছরই ভারী বৃষ্টিপাত ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বন্যা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়, শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া আরো বেড়ে যাচ্ছে। নাইজেরিয়ায় বন্যার প্রভাব আরো খারাপ হওয়ার কারণ, ড্রেন ব্যবস্থার অভাব, জলপথের ওপর গৃহনির্মাণ ও নালা এবং নদীতে আবর্জনা ফেলা।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জলপথে গৃহনির্মাণ কতটা বিপজ্জনক এবং ড্রেনেজ ও নদীপথ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য।’

২০২৪ সালে তারা জানিয়েছে, দেশের ৩৬টি রাজ্যের মধ্যে অন্তত ৩১টি রাজ্যে বন্যায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন—যা দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি।

সূত্র: এএফপি

হজে গিয়ে ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু

চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে ১৫ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ মে মৃত্যুবরণ করেছেন গাজীপুর, মাদারীপুর ও জয়পুরহাটের তিনজন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও একজন নারী।
এর মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন নয়জন ও মদিনায় ছয়জন।

শনিবার (৩১ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের মৃত্যু সংবাদে এসব তথ্য জানা গেছে।

পোর্টাল সূত্রে জানা যায়, এ বছর হজে গিয়ে গত ২৯ এপ্রিল প্রথম মারা যান রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০)। এরপর ২ মে মারা যান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের মো. ফরিদুজ্জামান (৫৭), ৫ মে মারা যান পঞ্চগড় সদরের আল হামিদা বানু (৫৮), ৭ মে মারা যান ঢাকার মোহাম্মদপুরের মো. শাহজাহান কবির (৬০) ও ৯ মে মারা যান জামালপুরের বকশিগঞ্জের হাফেজ উদ্দিন (৭৩) ও ১০ মে মারা যান নীলফামারী সদরের বয়েজ উদ্দিন (৭২)।

এছাড়া, ১৪ মে মারা যান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মো. অহিদুর রহমান (৭২), ১৭ মে মারা যান গাজীপুর সদরের মো. জয়নাল হোসেন (৬১), ১৯ মে মারা যান চাঁদপুরের মতলবের আ. হান্নান মোল্লা (৬৩), ২৪ মে মারা যান রংপুরের পীরগঞ্জের মো. সাহেব উদ্দিন (৬৯), ২৫ মে মারা যান চাঁদপুরের কচুয়ার মো. বশির উদ্দিন (৭৪) ও ২৭ মে মারা যান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন পাঠান (৬১)।

সর্বশেষ ২৯ মে মারা যান তিনজন। এরা হলেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবির মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৫৩), মাদারীপুর সদরের মোজলেম হাওলাদার (৬৩) ও গাজীপুরের টঙ্গী পূর্বের আবুল কালাম আজাদ (৬২)।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে যদি মৃত্যুবরণ করেন তাহলে তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়।
মৃতদেহ তার নিজ দেশে নিতে দেয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তি গ্রাহ্য করা হয় না।

এবার হজ অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট ছিল ২৯ এপ্রিল আর হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার শেষ ফ্লাইট ৩১ মে। সরকারি হজযাত্রীর কোটা ৫ হাজার ২০০, বেসরকারি হজযাত্রীর কোটা ৮১ হাজার ৯০০।
হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১০ জুন এবং হজযাত্রীদের শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১০ জুলাই।

ফিফটির ইনিংস খেলে সাকিব বললেন, ‘এখানে ২০০ খুব সহজে চেজ করা সম্ভব’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়া করতে নেমে যেখানে জাত ব্যাটাররা ব্যর্থ, সেখানে ৩১ বলে ৫০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেললেন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। তার মতে, লাহোরের পিচে দুইশ রান তাড়া করা কঠিন কিছু নয়। ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেই এ লক্ষ্য সহজেই তাড়া করা সম্ভব।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩০ মে) সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২০২ রান তাড়া করতে নেমে ৫৭ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খোয়ালো লাল সবুজরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতেও ২০২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৭ রানে হেরেছিল লিটন দাসের দল।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তানজিদ হাসান তামিমের ১৯ বলে ৩৩ আর মেহেদী হাসান মিরাজের ১৭ বলে ২৩ রানের ইনিংস ছাড়া কোনো ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ দলের পেসার তানজিম হাসান সাকিব দশ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেও ৩১ বলে ৫ ছক্কা ও ১ চারের মারে ৫০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন। জাত ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও একজন পেসার হয়েও তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে লাহোরের পিচে ব্যাট করতে হয়।

ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে এ পেসার জানিয়েছেন, এ পিচে দুইশ রান খুব সহজেই চেজ করা সম্ভব। শুধু দরকার ব্যাটারদের দায়িত্ববান হওয়া। হারের কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করেছেন ব্যাক টু ব্যাক উইকেট বিলিয়ে দেওয়াকে।

তানজিম সাকিব বলেন, ‘আপনি যদি উইকেট দেখেন, এটা যে উইকেট, এখানে দুইশ খুব সহজে চেজ করা সম্ভব। আমরা পিএসএলেও দেখেছি, দুইশ চেজ করার মতো। ব্যাটসম্যানরা যদি দায়িত্ববান ব্যাটিং করে তাহলে এ উইকেটে দুইশ রান চেজ করা সম্ভব। আমাদের জুটি গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা ম্যাচ হারতেছি ব্যাক টু ব্যাক উইকেট যাওয়ার কারণে। এ জায়গায়টাই আমাদের মূল কনসার্ন (চিন্তার বিষয়)। আমাদের রান অটো চলে আসে। কিন্তু যখন ব্যাক টু ব্যাক উইকেট যায়, তখনই আমরা ম্যাচ থেকে বের হয়ে চলে আসছি।’

সাকিব যখন ক্রিজে আসেন ততক্ষণে ৭ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রান বাংলাদেশের। অর্থাৎ দুইশ তাড়া করার ম্যাচটি তখনই হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও মিরাজ তাকে নিয়ে ম্যাচ বের করে আনার আশা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা কাজে আসেনি। মিরাজ সাজঘরে ফিরলেন আর হাসান মাহমুদকে নিয়ে একাই লড়লেন সাকিব। দশম ওভারের শেষ বলে ব্যাট করতে নেমে ১৯তম ওভারের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করে আউট হন এ পেসার।

ব্যাট করার সময় পরিকল্পনা কী ছিল জানতে চাইলে তানজিম সাকিব বলেন, “আমি যখন উইকেটে গিয়েছি, তখন মিরাজ ভাই ব্যাটিং করছিল। আমার একটাই লক্ষ্য ছিল উনাকে সমর্থন দেব। উনি যতক্ষণ মাঠে থাকবে আমার ফোকাস ছিল স্ট্রাইক রোটেট করব। মিরাজ ভাই আমাকে বলেছিলেন, ‘তুই থাক, তুই সাপোর্ট দিলে আমরা ম্যাচ বের করে আনতে পারব’। দুঃখজনকভাবে আমরা আগেই অনেকগুলো উইকেট হারিয়ে ফেলছি। দুইশ চেজ করতে হলে আমাদের ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে অবশ্যই। আমরা উপর থেকে যদি আরেকটু দায়িত্ববান ব্যাটিং করি তাহলে দুইশ চেজ করা সম্ভব।’

সিরিজ হারলেও সাকিব আশাবাদী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াবে দল। সতীর্থদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

এ পেসার বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রুভেন। তারা একটু হয়তো ছন্দের বাইরে আছে। কিন্তু আমি আমার টিমমেটদের প্রতি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস রাখি। আমি আশা রাখছি তারা পরবর্তী ম্যাচে কামব্যাক করবে।’

রোববার (১ জুন) রাত ৯টায় গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি।

ম্যাখোঁ এখন ইসরায়েলের চোখে ‘ইহুদি রাষ্ট্রবিরোধী’

গাজায় মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ইউরোপীয় দেশগুলোকেইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে আহ্বান জানানোর পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বিরুদ্ধে ‘ইহুদি রাষ্ট্রবিরোধী ক্রুসেড’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেইসরায়েল।

শুক্রবারইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘গাজায় কোনো মানবিক অবরোধ নেই। এটি একেবারে মিথ্যা।’ তারা আরো জানায়, ‘জিহাদী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করার বদলে ম্যাখোঁ তাদের একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র দিতে চান।
সন্দেহ নেই, ওই রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস হবে ৭ অক্টোবর,’ যা ২০২৩ সালের হামাসের আক্রমণের দিকে ইঙ্গিত করে। হামাসের ওই আক্রমণই গাজা যুদ্ধের সূচনা ঘটিয়েছিল।

এদিকে, গত সপ্তাহেইসরায়েল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সরবরাহ নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করলেও, গাজায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র ঘাটতির কারণে সহায়তা এখনো ধীরগতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, ম্যাখোঁ শুক্রবার সিঙ্গাপুরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে বলেন, ‘যদি আমরা গাজাকে পরিত্যাগ করি এবংইসরায়েলের জন্য ফ্রি পাস তৈরি করি, তবে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করলেও আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।
’

তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকেইসরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি রাজনৈতিক অপরিহার্যতা।’

বর্তমানে, ফ্রান্স ও সৌদি আরব জাতিসংঘে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করছে, যার উদ্দেশ্যইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান পুনরুজ্জীবিত করা। তবে,ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এই সমাধানের ঘোর বিরোধী।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ‘হামাস ইতোমধ্যে মাখোঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেছে। হামাস জানে, কেন।’

ফ্রান্সের দৃষ্টি: প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি

ম্যাখোঁ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এক যৌথ বিবৃতিতে গাজা থেকে প্যালেস্টাইনি জনগণকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য একটি শর্তসাপেক্ষ প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, যাতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলের নিজেকে রক্ষা করার অধিকারকে সম্মান জানানো হয়।

গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে থাকলেও, কয়েক মাসের ইসরায়েলি অবরোধের পর কিছু সাহায্য প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সেখানে এক-পঞ্চমাংশ জনগণের জন্য অনাহারের শঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে, যার শুরু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর।

সূত্র : এএফপি

অর্থনীতি নিয়ে রোডম্যাপ না থাকায় হতবাক হয়েছি : ড. দেবপ্রিয়

গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো এবং বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো রোডম্যাপ বা পথরেখা সরকারের কাছ থেকে এলো না। কোনো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা সরকার করল না। এতে আমি হতবাক হয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকার তো মধ্য মেয়াদেই রইল।
সরকারের এই পরিকল্পনার অভাবটা আমি বেশি অনুভব করেছি গত মাসে বিনিয়োগ সম্মেলনের সময়। সম্মেলনে যারা এসেছিলেন, তাদের অনেকই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যেসব কথা সরকার বলছে, সেগুলোর নীতি কাঠামো কী? কর, বিনিয়োগ, অর্থ প্রত্যাবাসন, রপ্তানি সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের নীতি নিয়ে তারা কোনো সমন্বিত ডকুমেন্ট তো পেলেন না।

জাতীয় বাজেট সামনে রেখে অর্থনীতিতে সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার নিয়ে এত কথা বললেও অর্থনীতি নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা আমরা দেখিনি।
সরকার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি কমিটি এবং টাস্কফোর্স গঠন করেছিল, শ্বেতপত্র কমিটি দিয়ে যার শুরু। আমরা এসবের ফলাফল এখনও দেখলাম না

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পতিত সরকারের বাজেট নিয়ে এগিয়েছে। সরকার চলতি বাজেটকে কী কী নীতির ভিত্তিতে সংশোধন করল, তা বুঝলাম না। পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো হলো কিনা, ভর্তুকি, সুদ পরিশোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোন কোন নীতি নেওয়া হলো– এগুলো সংশোধনের সময় সরকার কিছুই বলল না।
অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪০ শতাংশই ভুয়া বলে আমরা শ্বেতপত্রে লিখেছি। এডিপি কোন নীতিমালার ভিত্তিতে সংশোধন হলো, মেগা প্রকল্প কোনটা বাদ দেওয়া হলো, কোনটার মূল্য সংশোধন করা হলো– সেগুলোও বুঝলাম না। বছর বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্প ১ লাখ বা ২ লাখ টাকা দিয়ে রাজনৈতিক কারণে চলমান রাখা হয়েছিল, নতুন এডিপিতে সেগুলো সরকার বাদ দিল কিনা, তাও জানতে পারলাম না। যেহেতু সরকারের ব্যয় আগামী বাজেটে সংখ্যাগতভাবে এবং জিডিপির অংশ হিসেবে কমবে, সেহেতু এই কম টাকা খরচের নীতির বিষয়েও স্বচ্ছতা দেখছি না। সুতরাং এই সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়ে গেলাম।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আবার জ্বালানি খাত, ব্যাংক খাত, কর ব্যবস্থাপনাসহ কিছু ক্ষেত্রে সরকার যেসব সংস্কার করার চেষ্টা করছে, তার সঙ্গে বাজেটের সম্পর্ক পরিষ্কার হলো না। সরকার একবার নিত্যপণ্যসহ কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপ করতে গিয়ে পিছু হটেছে। এগুলো অব্যাহত থাকবে কিনা এবং আগামী দিনে শুল্ক ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কোন ধরনের ছাড় দিতে যাচ্ছে, তাও পরিষ্কার নয়। বাজেট প্রস্তুতির জন্য সরকারের ভেতরে যে সমন্বয় দরকার, তার অভাব দেখছি।

বিদেশিদের মতো দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীরাও নীতির দ্রুত পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কিত থাকেন মন্তব্য করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এখন যা করছে, তা আগামীতে কতটুকু টিকবে– সেই চিন্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে। সেই চিন্তা তাদের মনের মধ্যে আরো জোরালো হয়েছে এ কারণে যে, সরকার তো কোনো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা জানতে পারল না। এই সরকারের কোনো অর্থনৈতিক ‘মেনিফেস্টো’ নেই। কোনো সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি নেই। নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রক্রিয়াগত কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেননা, ব্যাপক আলোচনা হয়নি। বিশেষত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতামত নেওয়া হয়নি। সরকার অন্য সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে; কিন্তু অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে করেনি। ইতোমধ্যে এর পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। যেমন–রাজস্ব বিষয়ে অধ্যাদেশ নিয়ে কয়েকদিন আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হয়। শেয়ারবাজার নিয়েও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা

জাপানে চারদিনের সফর শেষে দেশে ফিরছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাপানের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৮টা ২০ মিনিট) তিনি ঢাকা উদ্দেশ্যে জাপান ত্যাগ করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

জাপান সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সময় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে এ বছরই দুই দেশ একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করবে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় এবং উভয় নেতা কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়া ড. ইউনূস ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর কমপক্ষে তিন বছরের জন্য জাপানের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের অনুরোধ জানান।
একই সঙ্গে মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল এবং মহেশখালীতে এলপিজি আমদানি টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের সহায়তা কামনা করেন।

বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন এবং মেঘনা-গোমতী নদীর ওপর নতুন চার লেনের সেতু নির্মাণে সহজ শর্তে ঋণের জন্য জাপানের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে, বিশেষ করে অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স ও সৌরশক্তি খাতে, জাপানি নির্মাতাদের উৎসাহিত করতে ইশিবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জাপানে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান স্কিলড ওয়ার্কফোর্স পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম’ চালুরও প্রস্তাব দেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষকদের জাপানে শিক্ষার সুযোগের অনুরোধ জানান

আবার শাকিবের সঙ্গে নাবিলা

তুফান চলচ্চিত্রে শাকিব খানের নায়িকা হয়েছিলেন মাসুমা রহমান নাবিলা। সেই সেটে শাকিবকে প্রথম দেখেছিলেন ছোট পর্দার আলোচিত এ অভিনেত্রী। সে সময় শাকিব নিয়ে বলেছিলেন, ‘শাকিব খানের সঙ্গে আমার প্রথম সেটেই দেখা হয়েছিল। প্রথম দেখাতেই তাঁর “তুফান”-এর লুকটা ছিল।
প্রথম দেখেই মনে হয়েছিল, তিনি অনেক সুন্দর। তিনি আমাদের মতোই। তিনি স্টার, সুপারস্টার-মেগাস্টার, তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাঁকে কোথাও সহজে দেখা যায় না, উনি আমাদের মতোই একজন সহজ মানুষ কিন্তু। তাঁর সঙ্গে বসে আমি গল্প করতে পারি।
একটু নার্ভাসনেসও ছিল। সিনেমার শেষ দৃশ্যটাই সবার আগে শুটিং হয়েছে। তিনি শুটিংয়ে সাহায্য করেছেন। তবে তিনি একটু অন্তর্মুখী।
কিন্তু সহ-অভিনেতার সঙ্গে আমার বন্ডিংটা দরকার ছিল।’

সেই শাকিবের সঙ্গে আবার স্ক্রিন শেয়ার করতে যাচ্ছেন নাবিলা। তবে এবার চলচ্চিত্রের পর্দায় নয়। এবার দুজনকে দেখা যাবে একটি টেলিভিশন শোতে। যেখানে একজন অতিথি থাকবেন আরেকজন থাকবেন উপস্থাপনার দায়িত্বে।
আসন্ন ঈদের একটি অনুষ্ঠানে নাবিলার অতিথি হিসেবে দেখা যাবে শাকিব খানকে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের আয়োজনে নাবিলার অতিথি হয়েছে শাকিব। আর ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়কের সঙ্গে একটি ছবি তুলে নাবিলা ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, এটা আমার সহকর্মীর সঙ্গে এটি একটি বাধ্যতামূলক ছবি, আজ ঈদের একটি শোতে আমার অতিথি হয়েছেন মেগাস্টার শাকিব খান।