বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

ট্রাম্পকে খুশি করতে ন্যাটোর ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির চাপ

আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যে জোর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আলোচনায় তীব্র সুরে আহ্বান জানান, যেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়।

তবে এই উচ্চমাত্রার ব্যয় অনেক দেশের জন্যই বাস্তবসম্মত নয়। এ অবস্থায় ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট একটি আপসের প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে—সদস্য দেশগুলো ২০৩২ সালের মধ্যে জিডিপির ৩.৫ শতাংশ সামরিক খাতে এবং অতিরিক্ত ১.৫ শতাংশ নিরাপত্তা অবকাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করবে। এই প্রস্তাব ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ সদস্য দেশের মধ্যে সমর্থন পেয়েছে, যদিও কয়েকটি দেশ এখনও দ্বিধায় রয়েছে।

বিশেষ করে স্পেন জানিয়েছে, তারা এখনো বর্তমান লক্ষ্য—জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয়—পূরণেই হিমশিম খাচ্ছে। তাই অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব তুলেছে তারা। কিছু দেশ চাইছে, বছরে ধাপে ধাপে ০.২ শতাংশ করে ব্যয় বাড়ানোর বাধ্যবাধকতাও যেন বাদ দেওয়া হয়।

রুটের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও গ্রহণযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোর দিয়েছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তব পরিকল্পনা, বাজেট এবং অগ্রগতির প্রমাণ চায় ওয়াশিংটন।
নতুন সামরিক লক্ষ্য ও ইউক্রেন নিয়ে দ্বিধা

এই সম্মেলনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর নতুন অস্ত্র সক্ষমতা নির্ধারণ। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদস্য দেশগুলোর গড় জিডিপি খরচ দাঁড়াবে ৩.৫ থেকে ৩.৭ শতাংশের মধ্যে।

তবে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের আলোচনা ছাড়াও এখন জোটকে বিভক্ত করে রেখেছে ইউক্রেন ইস্যু। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কিয়েভবিরোধী মনোভাব প্রকাশ্য, যার ইঙ্গিত মিলেছে হেগসেথের সর্বশেষ পদক্ষেপে। ইউক্রেনের মিত্রদের এক বৈঠকে তিনি অংশ নেননি, যা পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেন থেকে সরে আসছে।

ন্যাটো সদস্যদের অনেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এই মাসের শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে জোর দিচ্ছে, সমর্থনের প্রতীক হিসেবে। যদিও এখনো পর্যন্ত ন্যাটো শুধু জানিয়েছে, ইউক্রেন প্রতিনিধিত্ব করবে—তবে জেলেনস্কির উপস্থিতি নিয়ে কিছু বলেনি।

সব মিলিয়ে, এই বছরের ন্যাটো সম্মেলন কেবল প্রতিরক্ষা ব্যয় নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাশিয়ার মোকাবিলায় জোটের ভেতরের ঐক্য এবং অবস্থান পুনঃনির্ধারণের বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে।

পিঠজুড়ে বালি, নজরকাড়া ব্রালেট লুকে ঝড় তুললেন সোহিনী, নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সামাজিক মাধ্যমে ফের নিজের বোল্ড লুকে ঝড় তুললেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। সমুদ্রসৈকতে ঘোরার ফাঁকে তোলা একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে খোলা পিঠে, বালিতে মাখা চামড়ায় হালকা ট্যান, আর চোখে তীব্র আবেদন। ছবিটি পোস্ট হতেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলোড়ন। কেউ প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, কেউ আবার মন্তব্য করেছেন সাহসী উপস্থিতি নিয়ে।

ছবিতে সোহিনীকে দেখা যাচ্ছে নিয়ন রঙের ব্রালেট ও বাঁধনির ক্রপ টপে। উঁচু করে বাঁধা চুল, পেছনে পাহাড় ও সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তবে সবার নজর কেড়েছে তাঁর খোলা পিঠে জমে থাকা বালি আর এক্সপ্রেশন ভরা চাহনি।

চিরকালই নিজের স্টাইল ও ফ্যাশন সেন্স নিয়ে নিরীক্ষায় অভ্যস্ত সোহিনী। কখনো শাড়িতে সাবলীল, তো কখনো পশ্চিমি পোশাকে অনায়াস। তবে বোল্ডনেসে বরাবরই এগিয়ে এই অভিনেত্রী। তার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব মিলেই যেন তাঁকে আলাদা করে তোলে।

নেটিজেনদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, “ফায়ার!” কিংবা “স্টানিং!” কেউ আবার লিখেছেন, “সত্যবতীর এই রূপে সত্যিই চমকে দিলেন।” যদিও কেউ কেউ এই খোলামেলা লুক নিয়ে করেছেন সমালোচনাও—তবে তার জবাবে অনুরাগীরা দাঁড়িয়েছেন সোহিনীর পক্ষেই।

এই প্রথম নয়, এর আগেও সাহসী ও নিজস্ব ভঙ্গিমায় বহুবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন তিনি। তবে এবার সৈকতের পটভূমিতে এমন খোলা মেজাজে ধরা দিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, সোহিনী মানেই ট্রেন্ড, সোহিনী মানেই সাহসী স্টেটমেন্ট।

শুরুর একাদশে মেসি থাকবেন কি না? যা জানালেন আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি

সাত মাস পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। তবে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও।

আগামীকাল (৬ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মেসির খেলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কালোনি বলেন, “আমরা লিওর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। প্রাথমিকভাবে সে খেলার জন্য প্রস্তুত, তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি সে একাদশে থাকবে কি না। তার শারীরিক অবস্থা দেখে তবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”

মেসি শেষবার আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন গত বছরের নভেম্বরে, সেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর পেশির চোটে দলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার। তবে ক্লাব ফুটবলে, বিশেষ করে ইন্টার মায়ামির হয়ে দারুণ ফর্মে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। শেষ তিন ম্যাচে গোল করেছেন, তার মধ্যে শেষ দুটি ম্যাচেই করেছেন জোড়া গোল।

স্কালোনি আরও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে তরুণ ও কম খেলা সুযোগ পাওয়া ফুটবলারদের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “অনেককেই পাওয়া যাবে না, বিশেষ করে মাঝমাঠে। চোট সমস্যা আছে। আমরা এখনো একাদশ ঠিক করিনি, সেটা নির্ভর করছে অনুশীলনের ওপর। তবে এবার এমন খেলোয়াড়দেরই সুযোগ দেওয়া হবে, যারা আগে খুব বেশি খেলার সময় পায়নি।”

সব মিলিয়ে মেসির মাঠে নামা এখনো নিশ্চিত না হলেও, আর্জেন্টিনা কোচের কথায় আশা বেঁচে রয়েছে সমর্থকদের মনে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে একেকটি ম্যাচ হয়ে উঠছে দল গড়ার মঞ্চ, আর তাতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মিশেল ঘটাতে চায় স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

রোনালদোর গোল ক্ষুধা দেখে বাকরুদ্ধ তার কোচ-সতীর্থ

বয়স ৪০ হলেও ইঞ্জিন এখনো ঠিক রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। শুধু ঠিক না দিব্যি দৌড়াচ্ছে। বিশ্বাস না হলে রোনালদোর মাঠের পারফরম্যান্স দেখেন। গতকাল জার্মানির বিপক্ষে গোলে করে দলকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন।

তাতে নেশনস কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। দলের জয়ের প্রথম গোলটি করেছেন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। অন্যদিকে জার্মানিকে এগিয়ে দেওয়া গোলটি করেছিলেন ফ্লোরিয়ান উইর্টজ।

ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নেও এসেও দলের জয়ের নায়ক রোনালদো।
তার এমন গোলক্ষুধা দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ও তার সতীর্থ বেনার্দ সিলভা। মার্তিনেজ বলেছেন, ‘ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সে প্রতিটি দিনকেই ভালো করার সুযোগ হিসেবে নেয়। একজন মানুষ হিসেবে যখন সাফল্য পাবেন তখন আপনি জেগে উঠবেন এবং ধীরে ধীরে আপনার ক্ষুধা কমে আসবে।
কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।’

দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখা সহজ নয় জানিয়ে সিলভা বলেছেন, ‘এটা কখনোই সহজ নয়, প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকা। সে গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজটা করে আসছে। এটি সত্যি কঠিন। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে আছে এবং আবারো গোল করায় আমরা আনন্দিত।
’

এই ক্ষুধাটা যেন ৩০ বছরে পা দেওয়ার পর থেকে তীব্র হয়েছে। একটা পরিসংখ্যানে বিষয়টা পরিস্কার হবে। এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ১৩৭ গোলের ৮৫টাই করেছেন ত্রিশে পা দিয়ে। যেখানে পুরো ক্যারিয়ারে ফেরেঙ্ক পুসকাস (৮৪), পেলে (৭৭), ডিয়েগো ম্যারাডোনা (৩৪), জার্ড মুলারদের (৬৮) মতো কিংবদন্তিসহ বর্তমান সময়ের তারকা নেইমার (৭৯) ও হ্যারি কেইনরাও (৭১) তার সমান গোল করতে পারেনি।

রোনালদো এ জয়ে জার্মানির বিপক্ষে একটা ফাঁড়াও কাটিয়েছে। পঞ্চম ম্যাচে এসে জার্মানির বিপক্ষে প্রথমবার জয় পেয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে ২৫ বছর পর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পেয়েছে পর্তুগাল। সর্বশেষ ২০০০ সালে ইউরোতে জার্মানির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। আর শুধু জার্মানির মাঠ হিসেবে করলে ৪০ বছর পর।

বিদেশ যাত্রায় সবুজ সংকেত পেলেন রিয়া চক্রবর্তী, এনডিপিএস আদালতের অনুমতি

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল অভিনেত্রী ও তার প্রাক্তন প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তীর। মাদক সংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে ২৭ দিন কাটাতে হয়েছিল কারাগারে। জামিন পেলেও এতদিন বিদেশ ভ্রমণে ছিল নিষেধাজ্ঞা। অবশেষে সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল, এনডিপিএস (নার্কোটিকস ড্রাগ অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স) আদালতের রায়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেন রিয়া।

সিবিআই সম্প্রতি জানায়, সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছিলেন—এই চূড়ান্ত রিপোর্টের পরই রিয়াকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য ছাড়পত্র দেয় আদালত। তবে তার অনুমতি সীমিত সময়ের জন্য এবং নির্দিষ্ট দেশগুলোতে প্রযোজ্য।

১ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিয়া বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে পারবেন, তবে আমেরিকায় ভ্রমণের অনুমতি পাননি। তিনি শ্রীলঙ্কা, সার্বিয়া ও ইউরোপের কিছু নির্দিষ্ট দেশে যেতে পারবেন। একটি আন্তর্জাতিক প্রযোজনা সংস্থার ছবিতে কাজ করছেন রিয়া, যার শুটিংয়ের প্রয়োজনেই তাকে বিদেশ যেতে হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার ও ভিসা আবেদন করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। এনডিপিএস আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

দীর্ঘ বিতর্ক, তদন্ত ও আদালত-পথ পেরিয়ে এবার নিজের কাজ ও ক্যারিয়ারে মন দিতে সুযোগ পেলেন রিয়া চক্রবর্তী।

বিজেপি কর্মীদের বাসে হামলা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় কোচবিহার থেকে আলিপুর দুয়ারগামী বিজেপিকর্মীদের দুটি বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দিনহাটা ও দেওয়ানহাট এলাকায় এই হামলার জন্য বিজেপি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তবে এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

৫ জুন বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রধানমন্ত্রী মোদির আলিপুর দুয়ার সফরের অংশ হিসেবে প্যারেড গ্রাউন্ডে দুটি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল—প্রথমে প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং এরপর বিকেলে রাজনৈতিক জনসভায় অংশগ্রহণ।

এই সভায় যোগ দিতে বিজেপি কর্মীদের বাস দিনহাটার শিমুলতলায় পৌঁছালে, তৃণমূলের কিছু কর্মী সেটি আটকে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ বিজেপির। পাশাপাশি, দেওয়ানহাট বালাসী থেকে আসা আরও একটি বাসেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, দেওয়ানহাটের সবজিবাজারের কাছে বাসটি থামিয়ে তৃণমূল সমর্থকেরা ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

বিজেপির কোচবিহার জেলা সম্পাদক অজয় রায় এ ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে দায়ী করে বলেন, “দিনহাটার মন্ত্রীর (বিধায়ক উদয়ন গুহ) উসকানিতেই এই হামলা হয়েছে। মোদির সভায় অংশ নেওয়া ঠেকাতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাস।”

তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপাত্র ও কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “এই ঘটনায় তৃণমূলের কোনো কর্মী জড়িত নয়। স্থানীয় কোনো গণ্ডগোল হয়ে থাকতে পারে, প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে।”

সাম্প্রতিক নির্বাচনী উত্তাপ এবং মোদির সফর ঘিরে রাজ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

বিরাট কোহলির জয়ের উদযাপনেই ১১ জনের মৃত্যু, শোকাচ্ছন্ন শোবিজ অঙ্গন

আইপিএলে বিরাট কোহলির রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেলো এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ছায়া নিয়ে। দলের জয়ের ঠিক পরদিন বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিজয় উৎসবেই প্রাণ হারালেন ১১ জন সমর্থক, আহত হয়েছেন শতাধিক।

৪ জুন সন্ধ্যায় আয়োজিত ছিল কোহলিদের জয়ের উদযাপন। হাজার হাজার সমর্থক প্রিয় তারকাদের একঝলক দেখতে স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় করেন। ভিড়ের চাপে শুরু হয় ঠেলাঠেলি, এরপর বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একে অপরকে টপকে পালাতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় অন্তত ১১ জনের।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক জানিয়েছে পুরো শোবিজ অঙ্গন। অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা, কোহলির স্ত্রী, ইনস্টাগ্রামে আরসিবির শোকবার্তা শেয়ার করে নিজের হৃদয়ের ভার প্রকাশ করেছেন।
অভিনেতা সোনু সুদ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কোনও উদযাপনই জীবনের চেয়ে বড় নয়। বেঙ্গালুরুর এই ঘটনার জন্য আমি গভীরভাবে মর্মাহত।”
আর মাধবন ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। দয়া করে নিরাপদে থাকুন।”
কমল হাসানও শোক জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।”
অভিনেতা বিবেক লিখেছেন, “একটি আনন্দের মুহূর্ত এভাবে দুঃস্বপ্নে রূপ নেবে, ভাবা যায় না।”

প্রথমবারের মতো আইপিএল ট্রফি হাতে পেয়ে কোহলি ও তার দল বিজয়োল্লাসে মেতে উঠলেও, সেই উদযাপনই রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে থাকবে বেঙ্গালুরুর হাজারো সমর্থকের মনে। প্রশাসনের ব্যর্থতা, ভিড় ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

শোকের ছায়া কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, নেমে এসেছে পুরো বিনোদন জগতেও। বিরাট কোহলির ঐতিহাসিক জয় যে একসাথে বয়ে এনেছে অপূরণীয় ক্ষতির কান্না, তা হয়তো কখনোই ভুলে যেতে পারবে না এই শহর।

দুর্নীতির টাকা নেই, তাই বড় গরুর চাহিদা কম

রাজধানীর গাবতলী হাটে কোরবানির পশুর বাজার পরিদর্শনে এসে বড় গরুর চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “আগে দুর্নীতির টাকায় পকেট ভরা থাকত, এখন আর সেটা নেই। তাই বড় গরু কিনতে পারছে না অনেকে। তবে সৎভাবে আয় করা মানুষদের মধ্যেও বড় গরু কেনার সামর্থ্য রয়েছে। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা এবার বেশি।”

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি গাবতলী হাটে পশুর বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, “গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে এবং কেউ চাইলে নিরাপদে এসে পশু কিনতে পারেন।”

হাট পরিদর্শনের পাশাপাশি গাবতলী বাস টার্মিনালও ঘুরে দেখেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সেখানে পরিবহন ভাড়া ও টিকিট সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার ঘুরে বাড়তি ভাড়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অনেকেই টিকিট পাচ্ছেন না। কেউ যদি বাস সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়, তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

একই টিকিট একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এখানে আছেন। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”

যানজট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “কল্যাণপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত কিছুটা যানজট রয়েছে। বৃষ্টি ও গাড়ির চাপের কারণে সমস্যা হচ্ছে, তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যদি নিজেরা সচেতন থাকি, আইন মেনে চলি, তাহলে অনেক সমস্যাই সহজে সমাধান হয়ে যাবে। বিশেষ করে রাস্তা পারাপার ও যানবাহনে ওঠানামার সময় সতর্ক থাকতে হবে।”

ঈদকে সামনে রেখে ফাঁকা হতে থাকা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশ্বস্ত করে বলেন, “মানুষ গ্রামে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বে সতর্কভাবে অবস্থান করছেন। সব বাহিনী সজাগ রয়েছে, আশা করি পরিস্থিতি ভালো থাকবে।”

ঈদে আসছে ‘আশিকি’: জোভান-নীহার প্রথম জুটি ঘিরে বিতর্ক ও প্রত্যাশা

ঈদ উপলক্ষে দর্শকদের জন্য চমক হিসেবে আসছে সিএমভি প্রযোজিত নতুন নাটক ‘আশিকি’, যেখানে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও নবাগত নায়িকা নাজনীন নীহা।

নাটকে জোভান অভিনয় করেছেন আশিক চরিত্রে, একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, যে বাবার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শহরে এসে কলেজে ভর্তি হয়। গান গাওয়ার প্রতিভা ও বড় গায়ক হওয়ার স্বপ্ন তাকে এক ভিন্ন জগতে টেনে নিয়ে যায়। নাটকে দেখা যাবে জোভানকে রকস্টার লুকে, যিনি মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন।

তবে এই রকস্টার লুক ও অভিনয় ঘিরে ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক দর্শক জোভানের অভিনয়কে ‘ওভারঅ্যাক্টিং’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবেগঘন দৃশ্যগুলোতে তার সংলাপ ও মুখাবয়ব অনেকের কাছে ‘অতিরঞ্জিত’ মনে হয়েছে। বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে মিম, ব্যঙ্গ, এবং সমালোচনা।

একজন মন্তব্য করেছেন, “গিটার হাতে তার মুখের এক্সপ্রেশান জাষ্ট নেয়ার মতো না,” আরেকজন লিখেছেন, “বিচ্ছিরি!” আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “এতোটা ওভারএক্টিং কেন?”

তবে সমালোচনার ভিড়ে প্রশংসাও মিলেছে। বিশেষ করে ট্রেলারের ভিজ্যুয়াল এবং আবহসংগীত কিছু দর্শকের নজর কেড়েছে। জোভানের অনুরাগীরা মনে করছেন, একটি ট্রেলারের ওপর ভিত্তি করে পুরো কাজকে বিচার করা ঠিক নয়। অনেকে আশাবাদী, নাটকটি হয়তো পুরোপুরি দেখতে গিয়ে দর্শকদের নতুনভাবে চমকে দেবে।

নাটক ‘আশিকি’ এখন মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে। এখন দেখার বিষয়, বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষাপট পেরিয়ে এটি দর্শকদের মন জয় করতে পারে কি না।

লি জে-মিয়ংকে অভিনন্দন জানালেন ড. ইউনূস, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আশা

দক্ষিণ কোরিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংকে অভিনন্দন জানিয়ে আন্তরিক বার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৪ জুন (বুধবার) পাঠানো বার্তায় ড. ইউনূস লি-মিয়ংয়ের বিজয়কে কোরিয়ার জনগণের দৃঢ় আস্থা ও নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের নতুন প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, লি জে-মিয়ং নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে ও দেশকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বার্তায় ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যা পারস্পরিক সম্মান, বন্ধুত্ব ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনালগ্ন থেকেই কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী এবং শীর্ষস্থানীয় বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে এ সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”

প্রেসিডেন্ট লি’র সঙ্গে তার ব্যক্তিগত একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন, “ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন আমাদের দু’জনেরই অভিন্ন লক্ষ্য। বিশেষভাবে আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি আপনার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত কোরিয়ার জুবিলি ব্যাংকের কথা, যা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাস্তব পরিবর্তন এনেছে।”

নিজেকে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার নিবেদিত প্রচারক হিসেবে উল্লেখ করে ড. ইউনূস ভবিষ্যতে লি জে-মিয়ংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং প্রেসিডেন্ট ও কোরিয়ার জনগণের সুস্বাস্থ্য, স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

লি জে-মিয়ং ৪ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।