বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

৫ আগস্ট গণভবন জয় করেছি, এবার জাতীয় সংসদও জয় করব : নাহিদ

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের পুনর্গঠন।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট লক্ষ্য ছিল গণভবন। এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সংসদ।
আমরা গণভবন জয় করেছি। এবার জাতীয় সংসদকেও আমরা জয় করব। সামনের নির্বাচনে তরুণদের বিজয় উদ্‌যাপন হবে। কিন্তু তার আগে অবশ্যই সংস্কারের সুরাহা, বিচারের সুরাহা হতে হবে।
’

রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এক পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘খুনি হাসিনার বিচার আমরা দেখতে চাই। সংস্কার দেখতে চাই। নতুন সংবিধান দেখতে চাই।
এই প্রজন্ম বাংলাদেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান।’

পথসভায় নাহিদ বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেমেছিলাম অনেক স্বপ্ন নিয়ে। আমার ভাই আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহীর ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিলেন। আমাদের স্বপ্ন কেবল শেখ হাসিনার পতন ছিল না।
ছিল সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনর্গঠন।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর নানা শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে সংস্কারের পথ রুদ্ধ হয়েছে। আমরা স্বীকার করছি, আমাদের ভুল হয়েছিল। আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আজকে আমরা শপথবদ্ধ, এই ভুল আমরা আর করব না। আমরা আর সুযোগ দেব না। স্বৈরতন্ত্রের, পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন রাজনীতি ও নতুন বন্দোবস্ত গড়ে তুলব।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যারা বলে জুলাই কেবল আবেগের বিষয়, যারা বলে জুলাইয়ের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তাদের দেখিয়ে দিতে হবে, ৩ আগস্ট আবার মুজিববাদী সংবিধানের বিরুদ্ধে একত্র হব। যারা জুলাইকে সংবিধানে জায়গা দিতে চায় না, আইনি কাঠামোতে জায়গা দিতে চায় না, তারা মুজিববাদের ফেরার রাস্তা তৈরি করতে চায়। তারা মুজিববাদের নতুন পাহারাদার হিসেবে নিজেদের ঘোষণা করেছে। মুজিববাদের পাহারাদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক ইমরান ইমন, রাজশাহী মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মো. মোবাশ্বের আলী। পথসভা শেষে রাজশাহী নগরের গণকপাড়া এলাকায় দলটির মহানগরের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।

রেকর্ড জয়ে সমতায় ফিরল ভারত

লিডসে দুর্দান্ত খেলার পরও পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ভারতকে। এবার তা হতে দেননি শুবমান গিল-লোকেশ রাহুলরা। এজবাস্টনে ৩৩৬ রানের জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন। এ জয়ে একটা অপেক্ষা ফুরিয়েছে এশিয়ার দলগুলোর।
এজবাস্টনের জয়টি এশিয়ার কোনো দলের প্রথম। জয়টি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে ভারতের সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল ১৯৮৬ সালে লিডসে ২৭৯। আর সবমিলিয়ে ৪৩৪ রানের জয়টি আহমেদাবাদে গত বছর।
যেকোনো দলের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ রানের জয়ও এটি। এ জয়ে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সমতায় ফিরেছে ভারত। ১-১ ড্রয়ের সিরিজের তৃতীয় টেস্ট আগামী ১০ জুলাই, ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে।

ঘরের মাঠে জিততে হলে রানের পাহাড় টপকাতে হতো ইংল্যান্ডকে।
৬০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করাটা যে অসম্ভব ছিল তা দিন শেষ হওয়ার আগেই প্রমাণ করলেন ভারতীয় বোলাররা। বিশেষ করে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নেওয়া আকাশ দীপ। ২৮ বছর বয়সী পেসারের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি জ্যাক ক্রলি-জো রুটরা। ইংল্যান্ডের প্রথম ৫ ব্যাটারের ৪টিই নিয়েছেন তিনি। পরে আরো দুই উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন।
৯৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে। দুই ইনিংসে মিলিয়ে প্রথমবার টেস্টে ১০ উইকেট পেয়েছেন তিনি।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান জেমি স্মিথ (১৮৪*) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটুকু কমিয়েছেন। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৮ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। সবমিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭১ রানে অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। এর আগে প্রথম ইনিংসে স্মিথ ও হ্যারি ব্রুকের (১৫৮) সেঞ্চুরিতে ৪০৭ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে রেকর্ড বইয়ে দেওয়া গিলের ২৬৯ রানের ইনিংসের সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে ভারত ৫৮৭ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি হাঁকান ভারতীয় অধিনায়ক। ১৬১ রানের ইনিংস খেলেছেন গিল। তার ইনিংসে ভর করেই পরে ৬ উইকেটে ৪২৭ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। নিজের অধিনায়কত্বের প্রথম জয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছেন গিল।

ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা স্বীকার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত ও হামাসবিরোধী একটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান রবিবার স্বীকার করেছেন, তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

ইসরায়েলের আরবি ভাষার সরকারি রেডিও মাকানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পপুলার ফোর্সেস নামে পরিচিত গোষ্ঠীটির নেতা ইয়াসের আবু শাবাব বলেন, তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে অবাধে চলাফেরা করতে পারেন এবং আগেভাগেই নিজেদের অভিযান সম্পর্কে জানিয়ে দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাদের (ইসরায়েলিদের) জানিয়ে রাখি, তবে সামরিক অভিযান আমরা নিজেরাই চালাই।’

ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে আবু শাবাব জানান, তারা ‘বিভিন্ন পক্ষ থেকে সরঞ্জাম ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন’।
তিনি এ-ও বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যা আমরা প্রকাশ্যে বলতে পারি না।’

এর আগে গত মাসে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে, তারা হামাসবিরোধী কিছু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে। যদিও সে সময় তারা কোনো গোষ্ঠীর নাম বলেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আবু শাবাবের গোষ্ঠীকেই সেই গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটা ভালো কাজ। এটা ইসরায়েলি সেনাদের জীবন বাঁচাচ্ছে।’

অন্যদিকে ইসরায়েলের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান ‘অপরাধী ও দাগি লোকজনকে অস্ত্র সরবরাহ’ করার জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশনস থিংকট্যাংক আবু শাবাবকে গাজার দক্ষিণে রাফা অঞ্চলের একটি অপরাধীচক্রের নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে, যাকে ত্রাণ ট্রাক লুটের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হয়।

তবে রেডিও সাক্ষাৎকারে আবু শাবাব এসব অভিযোগ সম্পর্কে কিছু বলেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের মিলিশিয়ার একমাত্র লক্ষ্য হলো হামাসকে পরাজিত করা এবং গাজা শাসনের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনো মতবাদ বা রাজনৈতিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত নই।’ তারা শুধু হামাসের ‘অন্যায়’ ও ‘দুর্নীতি’ নির্মূল করতে চান উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, রক্তপাত যতই হোক না কেন। হামাস এখন ধ্বংসের পথে।
তারা জানে, তাদের ধ্বংস খুব কাছে।’

২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করে আসা হামাস ইতিমধ্যে আবু শাবাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গত বুধবার এক সামরিক আদালত তাকে রাষ্ট্রদ্রোহসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের জন্য ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে রবিবার ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গোত্রের একটি জোট পপুলার ফোর্সেসকে ‘নির্লজ্জভাবে শত্রুর সঙ্গে আঁতাতকারী’ বলে অভিযুক্ত করেছে। জোটটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তারা আমাদের জনগণের কাছে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যাত। আমরা তাদের প্রতি কোনো দয়া দেখাব না, যেমনটা করব না তাদের অনুসারীদের প্রতিও, যারা দখলদারের সাহায্য করছে। তাদের যে প্রাপ্য, তাই হবে—তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক ও সহযোগীর মতো আচরণ করা হবে।’

মাহমুদুর রহমানের মায়ের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোক

সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (৬ জুলাই) ভোরে রাজধানীর মগবাজারের আল-বারাকাহ কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

শোক বার্তায় তারেক রহমান বলেন, ‘অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মৃত্যুতে তার পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। শিক্ষকতা পেশায় অত্যন্ত নিষ্ঠাবান অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম নিজ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে তার অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের সুশিক্ষিত করেছেন—যারা এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের জন্য অবদান রাখছেন।
এ ছাড়া একজন আদর্শ মাতা হিসেবে নিজ সন্তানকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলেছেন। মরহুমা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম একজন মহিয়সী নারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট সবার নিকট ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শোক বার্তায় অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নির্বাচনে মৌলিক পরিবর্তনের জন্য সংসদে আসুন : আমীর খসরু

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘যদি এ রকম কোনো ইচ্ছে থাকে, তাদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে আসুন। যেকোনো বিষয়ে মৌলিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। সংসদের মাধ্যমে সেটা পাস করতে হবে। এই পর্যায়ে এটা আলোচনার কোনো বিষয় হতে পারে না।’

আজ বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে আমীর খসরু এসব কথা বলেন।

এর আগে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জন অধিকার পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, আম জনতা দল ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি।

পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফায় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক নির্বাচনের কোনো কথা নেই। এত বড় পরিবর্তনের কথা যারা বলছে, এটা আগামী সংসদ ছাড়া কেউ করতে পারবে না। আমরা যখন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে আসি, তখন সব দল সংসদে ঐক্যবদ্ধভাবে একমত হয়ে সংসদে পাস করতে হয়েছে।’

সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি অনেক বিষয়ে একমত হয়েছে। আমরা একটা কথা বারবার বলছি-সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, আমরা বাকশাল করতে যাচ্ছি না। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেসব বিষয়ে সংস্কার হবে। এর বাইরে যেগুলো থাকবে, প্রত্যেকটি দলকে জনগণের কাছে গিয়ে মতামতের মাধ্যমে সেটা করতে হবে।’

লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, যারা আমাদের সঙ্গে রাজপথে ছিল, তাদের সঙ্গে আমরা আবার কথাবার্তা বলছি। আমাদের ঐক্যটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নির্বাচন বলে কথা নয়, ৩১ দফা ও সংস্কারের বিষয়ে যে ঐকমত্য-এটা আমরা কীভাবে আগামী দিনে বাস্তবায়ণ করব, নির্বাচন পরবর্তী জনগণ যদি আমাদের রায় দেয়, সবাই মিলে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে সেই নির্বাচনের কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে। লন্ডনের যে মিটিং হয়েছে, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচন এবং ৩১ দফা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।’

ক্যাটরিনার অটোগ্রাফ পেয়ে আপ্লুত জারিন খান, লিখলেন ‘ফ্যান গার্ল মোমেন্ট’

একটি সিনেমার প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। পরনে তার গোলাপি রঙের শাড়ি। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর তাকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জারিন খান, উচ্ছ্বসিত অবস্থায় ক্যাটরিনার কাছে এগিয়ে এসে চাইলেন অটোগ্রাফ। ক্যাটরিনাও হাসিমুখে অটোগ্রাফ দেন।

এ রকমই একটি ভিডিও এখন সোশ্যালে ভাইরাল। পুরনো এই মুহূর্তের ভিডিওটি সোশ্যালে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী জারিন খান। ঘটনাটি ২০০৮ সালে, ‘রেস’ সিনেমার প্রিমিয়ারের। তখনো অভিনেত্রী হননি জারিন।

ভিডিওটি শেয়ার করেন অভিনেত্রী লেখেন, “‘ফ্যান গার্ল মোমেন্ট।’ জারিন খান আরো লেখেন, ‘ওহ মাই গড! এই ভিডিওটি আমার সামনে এসেছে এবং আমার মধ্যে এই স্মৃতি এখনো খুব তাজা। আমি এখনো মুহূর্তটা খুব ভালোভাবে মনে রেখেছি। এটি রেস ছবির প্রিমিয়ারের সময়কার ঘটনা।
আমার বন্ধুদের ধন্যবাদ, যাঁরা আমাকে পাস দিয়েছিলেন। সেই সময় আমার চোখ বড় গিয়েছিল। আমি কখনো ভাবিনি যে আমিও এই বিনোদন জগতের অংশ হবো। কিন্তু দেখুন ভিডিওটিতে আমি কতটা খুশি, এটা ছিল আমার ফ্যান গার্ল মোমেন্ট।”

এদিকে প্রায়ই জারিনের সঙ্গে ক্যাটরিনাকে তুলনা করা হয়।
এমন প্রসঙ্গে জারিন বলেন, ‘যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসি, তখন আমি একজন হারিয়ে যাওয়া শিশুর মতো ছিলাম কারণ আমার কোনো ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। তাই আমি এই তুলনায় খুশি ছিলাম কারণ আমিও তাঁর (ক্যাটরিনা) ভক্ত ছিলাম। কিন্তু এটা আমার ক্যারিয়ারকে অনেক প্রভাবিত করেছিল। কারণ এই কারণে, সবাই ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি সুযোগ দিত।’

জারিন খানকে সব শেষ দেখা গেছে হরিশ ব্যাস পরিচালিত ‘হাম ভি আকেলে, তুম ভি আকেলে’ ছবিতে। এই ছবিটি ২০২১ সালে মুক্তি পায়। তার পর থেকে তিনি আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি।

প্রাথমিকের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষকের জন্য সুখবর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষকের জন্য সুখবর দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল দেশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। শনিবার (৫ জুলাই) অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পত্রে বলা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে রিট পিটিশন নম্বর-৩২১৪/২০১৮-এর বিপরীতে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে দেশম গ্রেডে উন্নীতকরণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রায় বাস্তবায়নে সম্মতি দিয়েছে।
অবশিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।’

এই সিদ্ধান্তের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘দশম গ্রেড বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ। এতে ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পথ সুগম হবে।
তবে শুধু রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেড বাস্তবায়ন। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে বাস্তবায়ন। আমাদের দাবি, সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
’
এর আগে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। সেদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলেও পরে মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১১তম ও অপ্রশিক্ষিত প্রধান শিক্ষকদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করে। এটাকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক রিট করেন।

রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ৪৫ জন রিট আবেদনকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে অফিশিয়াল গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করাসহ তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি খারিজ হয়। এই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে একই বছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ।

এদিকে অধিদপ্তরের অফিস আদেশে বলা হয়, ১০ গ্রেড বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ফৌজদারি অপরাধের শামিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কোনোরূপ আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করা হলো এবং চাঁদাবাজি বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণকারীদের নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের বিষয়ে সরকারের যেহেতু কোনো আর্থিক সংশ্লেষ নেই, তাই এ বিষয়টি সরকার পজিটিভলি বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি- একটি গ্রুপ এই প্রমোশনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। তাই সাধারণ শিক্ষকদেরকে এদের থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে এই পত্র জারি করি। আমরা আশা করি, এরপর থেকে কোনো প্রধান শিক্ষক বিপথগামী গ্রুপের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হবেন না।

মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে উন্নীতকরণের বিষয়ে আমরা অধিদপ্তর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি, সেখান থেকে তা অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বাকি কাজ শেষ করে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সময় লাগতে পারে।’

কলম্বোর জয়ে সুখবর পেয়েছেন মিরাজরা

কলম্বোর মাঠের জয়ে বাইরেও সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দলের।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। দশম থেকে এখন ৭৮ রেটিংয়ে নবম স্থানে বাংলাদেশ।
মিরাজ-তানজিদ হাসান তামিমদের আগের স্থানে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের কাছে হেরে এক ধাপ অবনতি হয়েছে শ্রীলঙ্কারও (১০২ রেটিং)। চার থেকে তারা নেমে গেছে পঞ্চমে। এতে ১০৪ রেটিং নিয়ে চারে জায়গা পেয়েছে এশিয়ার আরেক দল পাকিস্তান।

শীর্ষ তিনে কোনো পরিবর্তন নেই। চূড়ায় থাকা ভারতের পরেই আছে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। তাই নয়ে থাকলে কাজ হবে না, আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত শীর্ষ আটে থাকতে হবে মিরাজ-তাওহিদ হৃদয়দের।

ওয়ানডে বাংলাদেশের সেরা র‌্যাংকিং ৬ নম্বরে। ২০১৭ সালে মে মাসে প্রথমবার ৬ নম্বরে জায়গা পায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২২ সালেও একবার ছয়ে উঠেছিল টাইগাররা। তবে এরপর থেকেই ‘প্রিয়’ সংস্করণে উল্টো পথে হাঁটতে থাকে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গতকালের জয়টি তো টানা ৭ ম্যাচ পর পেয়েছে।

আমারই সহকর্মী ফোন দিয়ে আমার অ্যাওয়ার্ড ক্যানসেল করান এবং নিজে দুইটা নেন : তানজিন তিশা

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ার তানজিন তিশার। নাচ, মডেলিং এরপর অভিনয়ে এসে অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। কাজের জায়গা থেকে অভিনয়শৈলী এবং বিনয়ী-অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে এখনো দর্শকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে এই অভিনেত্রী। কিন্তু তারই বিভিন্ন সহকর্মী বিভিন্ন সময়ে তাকে ঘিরে নানা সমালোচনায় মুখর থাকলেও কখনো তিনি সেসব নিয়ে মাথা ঘামাননি, নীরবে নিজের কাজটাই করে গেছেন।

কিন্তু তারই এক সিনিয়র সহকর্মীর এক আচরণে বেশ মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তানজিন তিশা। শুধু মর্মাহতই নন, এমন ঘটনায় বেশ অবাকও হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

এক সিনিয়র সহকর্মী তার প্রাপ্ত অ্যাওয়ার্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন—সম্প্রতি জায়েদ খানের উপস্থাপনায় ‘ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’ শীর্ষক এই শোতে হাজির হয়ে এমনটা জানান তানজিন তিশা।

সেই শোতে ‘কোনো সহকর্মীর আচরণে তুমি মর্মাহত হয়েছিলে?’—এমন প্রশ্নের উত্তরে তানজিন তিশা বলেন, ‘এটা নিয়ে আগে কখনো বলিনি, প্রথমবারের মতো বিষয়টা নিয়ে বলছি।
আমার এক সিনিয়র সহকর্মী কোনো একটা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের দিন তাদের বলেছে, ও (তানজিন তিশা) যদি অ্যাওয়ার্ডটা নেয় তাহলে আমি (সহকর্মী) অ্যাওয়ার্ড নেব না। মানে আমি অ্যাওয়ার্ড নিলে তিনি নেবেন না। এরপর তিনি আমার অ্যাওয়ার্ডটা ক্যানসেল করিয়েছেন। অনুষ্ঠানের দিন আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে, তুমি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছ না।
এরপর দেখি, ওই দুইটা অ্যাওয়ার্ডই তিনি (সহকর্মী) নিয়েছেন।’

এরপর ‘আরেকজনকে বঞ্চিত করে অ্যাওয়ার্ড নেওয়াটা কি ঠিক’—জায়েদ খানের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তানজিন তিশা উত্তর দেন, ‘আমি জানি না। হয়তো তার মনে হয়েছে সে দুটি অ্যাওয়ার্ডই ডিজার্ভ করে, সে নিয়েছে। দ্যাটস ফাইন।’

প্রত্যেকটা সহকর্মীকে বেশ ভালো জানেন উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার প্রত্যেকটা সহকর্মীকে ভালো জানি, ভালো জানতে চাই।
এ রকম না যে, এটা শুধু বলার জন্য বলা। আমি যেটা অনুভব করি সেটা আমার ফেস দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু যখন এ রকম কিছু হয় তখনই ভাবি, হোয়াই ইজ দ্যাট? ওই জায়গা থেকে আমি খুব শকড হয়েছিলাম, বাট ইটস ওকে।’

উল্লেখ্য, স্বদেশ ও প্রবাসী—দুই প্রজন্মের দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তারকাদের একান্ত সাক্ষাৎকার, প্রবাস জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প, সামাজিক বাস্তবতা ও নতুন প্রজন্মের ভাবনার প্রতিফলন নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যম ঠিকানা শুরু করেছে নতুন এই টক শো। যেখানে প্রতি শুক্রবার নতুন নতুন অতিথি নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হবেন জায়েদ খান।

অনলাইনে মেয়েদের হয়রানি করা হচ্ছে, আমিও যার শিকার : বাঁধন

আওয়ামী সরকারের পতনের দাবিতে প্রকাশ্যেই রাস্তায় নেমেছিলেন আজমেরী হক বাঁধন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরেও বিভিন্ন জাতীয় ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। যদিও তিনি একাধিকবার হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশের কাছে আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু কিছু ঘটনা তাকে নিরাশ করেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনলাইন হয়রানি এবং তাকে ‘খারাপ মেয়ে’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পেছনে সমাজের এক ধরনের অবহেলা ও দ্বিচারিতা কাজ করছে।
তিনি মনে করেন, নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরনের অবহেলা আছে।

একটু ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘অনলাইনে মেয়েদের নানাভাবে হ্যারেজ করা হচ্ছে। আমিও যার শিকার। তারা মনে করছে, আমি এটা ডিজার্ভ করি।
কারণ, আমি একটা খারাপ মেয়ে….!’

কেন খারাপ মেয়ে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আমার ঠোঁটকাটা। সময়ের প্রয়োজনে দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। বাজে ব্যাপার হচ্ছে, তারা আমাকে কোনো দলে ফেলতে পারছে না। যে কারণে সবকিছুতেই সমস্যা দেখছে।

বাঁধন আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যখন গিয়েছি, তখন একটা আশার আলো দেখেছি। যারা টিভিতে সংবাদ দেখেছে, তারা আসলে বুঝতে পারবে না বাস্তবের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল। ভেবেছিলাম, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। তবে আমরা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত একটা জাতি, যিনি পালিয়ে গেছেন, তার রেখে যাওয়া সেই করাপ্টেড সিস্টেম থেকে বের হতে পারিনি।’

সম্প্রতি জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এক স্ট্যাটাসে বাঁধন বলেন, যারা বলে জুলাই বিপ্লব ভুল ছিল — সত্যি বলতে, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়।
ওই সময় ওই বিপ্লব একদম প্রয়োজনীয় ছিল। মানুষ যে পরিমাণ অবিচার, অন্যায় এবং দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছিল, তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সরকার তো একদিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে যায়নি— ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার আর কণ্ঠস্বর কেড়ে নিতে নিতে তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। তখন আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না।

৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘যারা সেদিন, ৫ আগস্ট রাস্তায় ছিল না, তারা কোনো দিন বুঝতে পারবে না সেই আনন্দ কতটা বিশুদ্ধ ছিল— যখন সে ভীতুর মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই আনন্দ ছিল একদম বাস্তব এবং আমি তা নিজের প্রতিটি হৃদস্পন্দনে অনুভব করেছিলাম। ওইরকম স্বাধীনতা আর শক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একসঙ্গে অনুভব করার অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই আসে।’

সবশেষ বাঁধন লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, বিপ্লবের পরে অনেক কিছু ঘটেছে, এবং সবকিছু সুখকর হয়নি। কিন্তু এক জিনিস স্পষ্ট : জুলাই বিপ্লব সঠিক সময়ে, সঠিক কাজ ছিল।’