বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অপু বিশ্বাস

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা থানার এনামুল হক নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আত্মসমর্পণ করে অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস জামিন পেয়েছেন। আজ রবিবার (১৩ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন অপু বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত হন। এরপর তার আইনজীবী আবুল বাশার কামরুল জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে অপু বিশ্বাস গত ২ জুন হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন পান।

পরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. ওয়াহিদুজ্জামানের আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিননামা দাখিল করেন তিনি।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই ভাটারা থানার সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এনামুল হকের পায়ে গুলি লাগে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা তিন-চারশ’ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন এনামুল হক।

মামলায় অপু বিশ্বাস, আসনা হাবিব ভাবনা, নুসরাত ফারিয়া, অভিনেতা জায়েদ খানসহ ১৭ জন তারকাকেও আসামি করা হয়। মামলায় এসব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এ মামলায় গত ১৮ মে গ্রেপ্তার হন আরেক চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর গত ২০ মে জামিন পান নুসরাত ফারিয়া।

প্যারিসে স্বামীর নামে ‘প্রেম তালা’ লাগিয়ে দিলেন মেহজাবীন

প্রেমিক পরিচালক-প্রযোজক আদনান আল রাজীবের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন বাংলাদেশের অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। শহরের কাছাকাছি এক রিসোর্টে বসে ছিল বিয়ের আসর। ১৩ বছর আগে দেখা মানুষটিকেই বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী।

এবার মেহজাবীন নিজদের ভালোবাসাকে তালাবন্দি করলেন, যেন এই ভালোবাসার তালা কখনোই খুলে না যায়।
কেননা তালার চাবি কখনোই খুঁজে পাওয়া যাবে না, চাবি পড়ে রয়েছে নদীর তলদেশে।

ঢাকাই শোবিজের পরিচিত মুখ মেহজাবীন ফ্রান্সের একটি নদীর ব্রিজে নিজের ও স্বামী আদনান আল রাজীবের নাম লিখে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই তালার চাবি ফেলে দিয়েছেন নদীতে। এরই কয়েকটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে।
ক্যাপশনে লিখেছেন লক।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের এই সেতুর রেলিং-এ প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে তালা লাগিয়ে দেন। সাইন নদীর উপর ‘পঁ দে আর্টস’ সেতুতে ‘প্রেম তালা’ লাগিয়ে চাবি নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া পর্যটকদের মধ্যে এক ধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই সেতুতেই তালা লাগিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

মেহজাবীন কখন এই তালা লাগিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। কেননা সম্প্রতি তিনি ইউরোপ ভ্রমণের ছবি পোস্ট করছেন। একদিন ইতালির মিলান শহরে ঘোরার ছবি পোসক্সট করলেন। তাঁর আগে দিলেন সুইজ্যারল্যান্ডে ঘোরার ছবি। কিছুদিন আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন, এই ভ্রমণ তখনকার নাকি, জানা যায়নি।

এদিকে, বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে মেহজাবীন বলেছিলেন, ‘৯ এপ্রিল ২০১২-এ মিষ্টি হাসির একটি ছেলের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তখন যে বাড়িতে শ্যুটিং হচ্ছিল তার বারান্দায় আমি দাঁড়িয়েছিলাম। তখন তিনি রাস্তা থেকে আমার দিকে তাকিয়ে হাত নেড়েছিলেন।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, আমরা মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য কথা বলেছিলাম। তারপর হাত মিলিয়ে ছিলাম। তবে সেদিন তিনি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি মনে মনে অনুভব করেছিলাম যে, আমার মনের একটা টুকরো ও ওর সঙ্গে করে নিয়ে চলে গিয়েছে।’

নায়িকার কথায়, ‘তারপর দেখতে দেখতে ১৩ টা বছর। আমরা একসঙ্গে বড় হলাম, একে অন্যের প্রতিটা সাফল্য সাক্ষী রইলাম, উদযাপন করলাম, প্রতিটা বাধা পার করলাম একসঙ্গে। শোনা যায় সাত বছরের বন্ধুত্ব নাকি সারাজীবনের হয়, আমরা তো প্রায় তার দ্বিগুণ সময় কাটিয়ে ফেললাম।’

যাইহোক, ‘প্রেম তালা’ লাগিয়ে দেওয়ার পর ভক্তরাও আশা প্রকাশ করছেন এই তালা যেন কখনোই না খোলে, আর ভাঙতেও না হয়।

টানা ৫ ম্যাচে জোড়া গোলের কীর্তি গড়লেন মেসি

লিওনেল মেসি আরো একবার ইতিহাস গড়লেন। মেজর লিগ সকারে টানা পাঁচ ম্যাচে জোড়া গোল করার অসাধারণ কীর্তি গড়ে ইন্টার মায়ামিকে ২-১ গোলের জয় এনে দিলেন ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে। এই জয়ে থেমে গেল ন্যাশভিলের ১৫ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা।

ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে অসাধারণ এক গোল করে এগিয়ে দেন মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ন্যাশভিল সমতায় ফিরলেও ৬২তম মিনিটে গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে মায়ামি পঞ্চম ম্যাচে টানা জয় তুলে নিলো এবং সাপোর্টার্স শিল্ড তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এলো। তাদের লক্ষ্য এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই শিরোপা জয়।

মেসি মেজর লিগ সকারে ১৬ ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল।
তার পাশে রয়েছেন ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ (২১ ম্যাচে ১৬ গোল)।

ম্যাচের পর মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বলেন, ‘এই বয়সে এসেও যা করছে, তা অবিশ্বাস্য। সে শুধু গোল করে না, গোটা দলকে নেতৃত্ব দেয়। কীভাবে খেলতে হবে, প্রতিযোগিতা করতে হবে, সেটা সে শিখিয়ে দেয়।
তার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য আশীর্বাদ।’

ন্যাশভিলের হয়ে হানি মুখতার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হেডে গোল করে সমতায় ফিরিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু গোলরক্ষক জো উইলিসের ভুল পাস থেকে মেসির দ্বিতীয় গোলেই শেষ হয় তাদের সেরা সময়ের রেকর্ড— মধ্য এপ্রিল থেকে চলা ১৫ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রা।

এ ম্যাচে মেসি তার ক্লাব ক্যারিয়ারের ৬৬ ম্যাচে ৫৫তম গোল করেন। বয়স ৩৮ হলেও শারীরিকভাবে এখনো চাঙা তিনি।
মাশচেরানো আরো বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই ওর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলি। যদিও টানা সাত ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলেছে, তার মধ্যে চারটি ছিল ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ, তবু ও ভালোই ফিট আছে। তবে ভবিষ্যতে ওকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন হবে— যখন সময় আসবে, তখন তা দেওয়া হবে।’

চার কারণে কমছে বিদেশি বিনিয়োগ

দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতি এবং উচ্চ সুদ ও করহারের কারণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ক্রমেই কমছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাংলাদেশে এসেছে মাত্র ৯১ কোটি ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ কোটি ডলার কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই (জুলাই-ডিসেম্বর) যেখানে এফডিআই এসেছিল ৩৩ কোটি ডলার, সেখানে এবার তা নেমে এসেছে ২১ কোটি ডলারে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে বিনিয়োগের এ ধারা অব্যাহত থাকলে শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘কেউ বলতে পারবেন গত আট মাসে কোনো চীনা গার্মেন্টস বাংলাদেশে এসেছে? স্পিনিং মিল করেছে? আমাদের সঙ্গে পার্টনার হয়েছে? কেউ এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করতে চায় না, যেখানে গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই আর ব্যবসা করার খরচ দিনদিন বাড়ছে।’ এ বাস্তবতার সঙ্গে একমত অর্থনীতিবিদরাও। তাঁদের মতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি, অর্থনীতির নীতিগত অস্থিরতা-সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন।

জানতে চাইলে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঘাটতিসহ নানান কারণে ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
এর ফলে ব্যবসার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও নতুন বিনিয়োগে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি, দেশি বা বিদেশি দুই ক্ষেত্রেই।’

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, পলিটিক্যাল আনসার্টেইনটি ফেব্রুয়ারি থেকেই বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি বিনিয়োগের ওপর পড়েছে।
এক্সচেঞ্জ রেটে স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরে এলেও মূল্যস্ফীতির দিক দিয়ে এখনো ইতিবাচক অগ্রগতি নেই। বিদেশি বিনিয়োগ না আসার ফলে শিল্প খাতে উৎপাদন কমেছে এবং বাড়ছে বেকারত্ব, যা দেশের যুবসমাজ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বিনিয়োগ না হলে উৎপাদন বাড়বে না, কর্মসংস্থানও বাড়বে না এটাই বাস্তবতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, করহার ও সুদহার যৌক্তিক মাত্রায় আনা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্পোৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অবকাঠামো ও নীতিসহায়ক ব্যবস্থার সংস্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি আস্থার সংকটে ভুগছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক নীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এখনই সময় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের। অন্যথায় শিল্প ও শ্রম উভয় খাতেই দীর্ঘমেয়াদি ধস অনিবার্য।

১৩ সেবা পেতে লাগবে না রিটার্ন জমার প্রমাণ

চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি সেবা নিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে সরকার। এর ফলে ১৩ ধরনের সেবা নিতে আপনাকে রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখাতে হবে না; যেগুলোতে আগে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হতো।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ‘অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫’ এ যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এই ১৩টি সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে ১৩টি সেবা রিটার্ন ছাড়াই নেওয়া যাবে—

১. নানা প্রয়োজনে আপনি সঞ্চয়পত্র কেনেন।
সংসারের বাড়তি খরচ জোগাতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা বেশ কাজে লাগে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে না।
২. ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত মেয়াদি আমানত খোলা ও বহাল রাখায় এই সুবিধা দেওয়া হয়। এর মানে, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেউ যদি এফডিআর করেন, তাহলেও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে না ব্যাংক কর্মকর্তাকে।

৩. যেকোনো ধরনের ক্রেডিট কার্ড নেওয়া ও নবায়নের সময় এত দিন আপনাকে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগত। চলতি অর্থবছর থেকে ক্রেডিট কার্ড নেওয়া বা নবায়নে এই বাধ্যবাধকতা নেই।

৩. যেকোনো ধরনের ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ ও নবায়ন।
৪. সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ।

৫. সমবায় সমিতি নিবন্ধন।
৬. সাধারণ বিমা কোম্পানির তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার হিসেবে নতুন লাইসেন্স গ্রহণ।
৭. স্বীকৃত পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ (যেমন- চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চার্টার্ড সেক্রেটারি, আইনজীবী ও কর আইনজীবী, অ্যাকচুয়ারি, প্রকৌশলী, স্থপতি ও সার্ভেয়ার)।
৮. পাঁচ লাখ টাকার বেশি পোস্ট অফিস সঞ্চয়ী হিসাব খোলা।
৯. এমপিওভুক্ত দশম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার সরকারি অর্থপ্রাপ্তি।

১০. মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-উপায়ে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কমিশন, ফি বা অন্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ।
১১. স্ট্যাম্প, কোর্ট ও কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসেবে নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি।
১২. ত্রিচক্র মোটরযানের (অটোরিকশা) নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন।
১৩. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ই-কমার্স ব্যবসার জন্য লাইসেন্স গ্রহণ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনেক চ্যালেঞ্জ

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বিশেষ করে অবকাঠামো, এনার্জি ও বন্দর খাতে। এসব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়েও চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগে আগ্রহী। গতকাল রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‘চায়না-বাংলাদেশ শিল্প ও সরবরাহ চেইন সহযোগিতা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে চায়নিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (সিএইবি)।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতেও ভূমিকা রাখবে চীন। বাংলাদেশ এখন একটি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, সিইএবি বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে। তবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরো অনুকূলে হলে চীনা কম্পানিগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।

ইয়াও ওয়েন আরো বলেন, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশের সমান স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে। সে লক্ষ্যেই কুনমিংয়ে যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে, সেখানে ১২টি ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে তিন দেশ (বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তান)।
এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, শিল্প, পরিবেশ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি সহযোগিতা ইত্যাদি। তিন দেশের সহযোগিতার ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা। এ বৈঠক অন্য কোনো দেশকে টার্গেট করে হয়নি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে যে কোনো দেশ বিনিয়োগ করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিডা সহযোগিতা করবে।
চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে দেশটিতে বিডার একটি অফিস খোলা হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে চায়না টাউন নেই। ঢাকায় একটি চায়না টাউনও প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, চায়নিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাহেলা আক্তার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মোকছেদ আলী, ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সালাম বেপারী প্রমুখ।

ইসরায়েলের সমালোচনা, জাতিসংঘের বিশেষ দূতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নিপীড়নের সমালোচনা ও গণহত্যার নথিপত্র প্রস্তুত করায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বুধবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি আলবানিজের বিরুদ্ধে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের অভিযান’ পরিচালনার অভিযোগ আনেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আলবানিজ জাতিসংঘের অধীনস্থ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে বৈশ্বিকভাবে অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।

ইসরায়েল ও এর সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই আলবানিজের সমালোচনা করে আসছে এবং তাকে তার জাতিসংঘের পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

আল জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞাকে তাচ্ছিল্য করেই প্রত্যুত্তর দেন। তিনি বলেন, তিনি তার কাজ চালিয়ে যেতে মনোযোগী।

একটি টেক্সট বার্তায় তিনি লেখেন, ‘মাফিয়া স্টাইলের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।
আমি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে গণহত্যা বন্ধ এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দিতে ব্যস্ত। আর যারা এর থেকে লাভবান হয় তাদেরও।’

এর আগে বুধবার আলবানিজ ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

ইসরায়েলের ১০ বন্দিকে মুক্তি দিতে রাজি হামাস

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হামাস ঘোষণা করেছে যে, তারা ১০ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের অসহযোগিতার কারণে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কঠিন হয়ে উঠেছে। খবর আল জাজিরার।

বুধবার এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ৭৪ জনকে হত্যা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে শিগগিরই একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

হামাস জানায়, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো সমাধান হয়নি—এর মধ্যে রয়েছে খুব জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য সত্যিকারের নিশ্চয়তা।

হামাসের কর্মকর্তা তাহের আল-নুনু বলেন, আমরা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছি এবং প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দেখিয়েছি যাতে আমাদের জনগণকে রক্ষা করা যায়, গণহত্যা বন্ধ করা যায় এবং আমাদের জনগণের কাছে সাহায্য স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে পৌঁছাতে পারে, যতক্ষণ না আমরা যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে পারি।

গাজায় আধুনিক ‘বন্দিশিবির’ গড়ার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

গাজায় অবস্থিত সব ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণাঞ্চলের একটি শিবিরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে একে আধুনিক বন্দিশিবিরের সঙ্গে তুলনা করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। ইসরায়েলের গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি রাফাহ শহরের ধ্বংসাবশেষের ওপর একটি ‘মানবিক শহর’ প্রতিষ্ঠা করতে চান।
শহরটি পুরো ২১ লাখ জনসংখ্যার জন্য হলেও সেখানে প্রাথমিকভাবে ছয় লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করতে পারবেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা তল্লাশির পর মানুষজনকে এই শহরের ভেতরে আনার লক্ষ্য ছিল যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় তারা হামাসের কর্মী নয় এবং তাদের আর সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।

যদি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে তাহলে ইসরায়েল ও হামাসের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা চেষ্টা করা হবে। ইসরায়েলি মানবাধিকার আইনজীবী মাইকেল স্ফার্ড এটিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য পরিকল্পিত অভিযান’ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছেন, ‘জনগণকে যাতে এই উপত্যকার বাইরে নির্বাসনে পাঠানো যায়, তারই প্রস্তুতির অংশ গাজার দক্ষিণ প্রান্তে জনগণকে স্থানান্তর।’

এর আগে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, অধিকৃত ভূখণ্ডের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নির্বাসন বা জোরপূর্বক স্থানান্তর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং ‘জাতিগত নির্মূলের সমতুল্য’। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অথবা হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের তালিকায় আরো ৬ দেশ

আরো ছয়টি দেশের ওপর ২০-৩০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৯ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ওই পোস্টে আরো কয়েকটি দেশকে বাণিজ্য নোটিশ পাঠানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

শুল্ক আরোপ করা ছয় দেশ হলো ব্রুনাই, ফিলিপাইন, ইরাক, আলজেরিয়া, মলদোভা ও লিবিয়া।

আলজেরিয়া ৩০ শতাংশ, ব্রুনাই ২৫ শতাংশ, ইরাক ৩০ শতাংশ, লিবিয়া ৩০ শতাংশ, মলদোভা ২৫ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এই নতুন শুল্কহার এপ্রিল মাসে ঘোষিত হারগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হলেও আগের ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্কনীতির চেয়ে অনেক বেশি।

ট্রাম্প প্রশাসন এসব বাড়তি শুল্ককে ‘অসমতা’ ও ‘অপারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক’-এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। চিঠিতে দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রেই পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে তারা এই শুল্ক এড়াতে পারে।
একই সঙ্গে শুল্কের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিলে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ৩ জুলাই থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা পিছিয়ে আগামী ১ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও ১৪ দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এসব দেশকে আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করবে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এর খারাপ প্রভাব পড়বে।

শুল্ক আরোপ করা হয়েছে এমন অন্য দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কাজাখস্তান, তিউনিসিয়া ও মালয়েশিয়া।