মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

কারাগারে আরো ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করা হবে : ধর্ম উপদেষ্টা

চাহিদা সাপেক্ষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আরো ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন অপরাধে কারাগারে যারা আসে তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা যেন পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘এ কারাগারে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা চালু আছে। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক কয়েদি ও হাজতিদের ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন। কারাবন্দিদের মধ্য থেকেও কয়েকজন এ কাজে সম্পৃক্ত রয়েছে।
’

তিনি বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের চাহিদা সাপেক্ষে আমরা এ কারাগারে আরো ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করব। এখানে বন্দি হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজতি ও কয়েদিদের জন্যও আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করব।’

ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘কারাগারের নিরাপত্তা ও কিছু কৌশলগত কারণে কারা অভ্যন্তরে মসজিদ, মন্দির বা অন্য কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তবে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কারাবন্দিরা যাতে ধর্মচর্চা ও উপাসনা করতে পারে সেরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ জন্য জায়নামাজ, কার্পেট ও ধর্মীয় বই-পুস্তকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা হবে।’

উপদেষ্টা কারাগারটির কেন্দ্রীয় মক্তব, হিফজ শাখা, লাইব্রেরি, মননচর্চা ও শরীরচর্চা কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার, রন্ধনশালা, বিভিন্ন কারিগরি শাখা, ওয়ার্ড ও সেল ঘুরে দেখেন এবং হাজতি ও কয়েদিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুততম সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ধর্মীয় বইপত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কারা মক্তব চালু করে। বর্তমানে এ কারাগারে ১২টি মক্তব চালু আছে।
গত ৩০ জুন পর্যন্ত এ মক্তবগুলো থেকে আট হাজার ২২২ জন কারাবন্দি আরবি শিক্ষা, দুই হাজার ৪৭০ জন কারাবন্দি কুরআন শিক্ষা অর্জন করেছেন। এ পর্যন্ত দুই হাজার ৫০০ বার কুরআন খতম হয়েছে।

কারাগার পরিদর্শনের সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, আইজি (প্রিজন) সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, এআইজি (প্রিজন) জাহাঙ্গীর কবির, সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি দেখতে চাই : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সব বিচার এই সময়ের মধ্যে হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখতে চাই। দুই-চারটা হলেও আমরা শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি দেখতে চাই।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরের বালুচরে সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিন-তিনটি নির্বাচনে মানুষ তাদের অধিকার এবং পছন্দের দল বা ব্যক্তিকে বাছাই করতে পারেনি। আমরা আশাবাদী, আগামী বছরের প্রথম অংশে এ নির্বাচন হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক সংস্কারগুলো যদি করা না হয় এবং আগের মতো যদি নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচন জাতির জন্য আরেকটি দুর্ভাগ্য ও বেদনার কারণ হবে। আমরা এটা দেখতে চাই না এবং এটা হতে দিতে পারি না।
এজন্য প্রয়োজন সংস্কার ও অপরাধীর বিচার।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি কেউ ধানাইপানাই করেন, মনে রাখবেন যুবকেরা রাস্তা চিনে ফেলেছে। আগামীতে আমি করি আর আপনি করেন, ধানাইপানাই করলে যুবকেরা আপনাকে আমাকে কাউকে ছাড়বে না।’

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের কথা একদম পরিষ্কার।
একেবারে বাস্তবিক অর্থেই আমরা কোথাও কারো কোনো প্রভুত্ব মানব না। প্রভু আমাদের একজনই, তিনি আল্লাহ সুবহানা তায়ালা। এমনকি কারো বড় ভাই গিরিও আমরা মানব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশ ছোট না বড়, এটা কোনো বিষয় নয়। এটি একটি স্বাধীন দেশ।
১৮ কোটি মানুষের দেশ। এই দেশে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। এখানে প্রতিবেশীরা অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু কোনো প্রতিবেশী যদি অব্যাহতভাবে আমাদের অধিকার হরণ করতে থাকেন। তাহলে এদেশের একসঙ্গে ১৮ কোটি মানুষ রুখে দাঁড়াবে।’

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা আমাদের অধিকার কারো কাছে বন্ধক রাখব না। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কেউ নাক গলাক, এটাও আমরা চাইব না। আমরা মর্যাদার ভিত্তিতে তাদেরকেও মর্যাদা দিতে চাই, আমরাও মর্যাদা পেতে চাই। এই ভিত্তিতেই হবে আমাদের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন।’

নতুন পর্যবেক্ষক চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করছে ইসি

শিগগিরই নির্বাচনের নতুন পর্যবেক্ষক চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে কমিশনের অনুমোদনের পর নতুন পর্যবেক্ষক সংস্থা চূড়ান্ত করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ১৭ জুলাই আওয়ামী লীগের আমলে নিবন্ধন পাওয়া ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নতুন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ইতোমধ্যেই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেছে। তা আগামী রবিবার (২৭ জুলাই) জারি করা হবে। নতুন আবেদন আসার পর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে।
তবে কমিশনের অনুমোদনের পর নতুন পর্যবেক্ষক সংস্থা চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করে নাসির উদ্দিন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়।

কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আগামীতে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধিত করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে গণবিজ্ঞপ্তির উদ্যোগ নিল নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলায় নিহত ৫

মস্কো ও কিয়েভের চালানো ড্রোন হামলায় বৃহস্পতিবার রাশিয়ায় দুজন ও ইউক্রেনে তিনজন নিহত হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৃতীয় দফার সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষ হয়।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে একটি বাড়িতে রাশিয়ার হামলার পর এদিন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। চেরকাসি ও জাপোরিঝঝিয়া শহরেও কয়েকজন আহত হয়েছে।
কৃষ্ণ সাগরের বন্দরনগরী ওডেসায় ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান বিখ্যাত প্রিভোজ বাজারেও হামলা হয়েছে। গত রাতে চালানো ওই হামলায় শহরজুড়ে একাধিক স্থানে আগুন লাগে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ছাড়া সকালে খারকিভ শহরে আরেকটি রুশ হামলায় আরো ৩৩ জন আহত হয়।

অন্যদিকে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণের ক্রাসনোদার অঞ্চলের সোচি শহরে ইউক্রেনের চালানো ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বুধবার সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৃতীয় দফার বৈঠকে মিলিত হয়। আলোচনার শুরুতেই দুই পক্ষই বিশেষ কোনো অগ্রগতির আশা করেনি। ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান জানান, আলোচনাটি মাত্র এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। অন্যদিকে রুশ প্রতিনিধিদলের প্রধান ভ্লাদিমির মেদিনস্কি জানান, দুই পক্ষ এক হাজার ২০০ যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে এবং রাশিয়া নিহত তিন হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ কিয়েভে ফেরত পাঠাতে চেয়েছে।

এ বৈঠকে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ থামাতে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ করেছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা কোনো বড় অগ্রগতির প্রত্যাশা করিনি। এখানে অগ্রগতি কঠিন।’

বৈঠকের আগে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছিলেন, আগস্টের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের আয়োজনই কিয়েভের প্রধান লক্ষ্য।
কিন্তু পেসকভ সময়ের আগেই এ প্রস্তাবকে তোলা হয়েছে দাবি করে বলেন, ‘তারা (ইউক্রেন) ঘোড়ার আগেই গাড়ি টানতে চাইছে।’ এমন বৈঠক আয়োজনের আগে আরো অনেক কাজ বাকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রথম দুই দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা হয় মে ও জুনে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে। তিনি বারবার এই ‘ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ’ থামাতে চান বলে জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প ৫০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য, এই সময়ের মধ্যে যদি যুদ্ধ বন্ধ না হয়, তবে তিনি মস্কোর ওপর ‘চরম শুল্ক’ আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

শান্তির বিষয়ে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তারা চায় যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ দূর করতে হোক। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা, দেশটির সামরিক শক্তি বড় আকারে কমানো ও ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ। কিন্তু কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছে এসব শর্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

আলোচনার পর বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা কূটনৈতিক পথকে কার্যকর করতে সব কিছু করব। কিন্তু রাশিয়ারই এই যুদ্ধ শেষ করতে হবে, যা তারাই শুরু করেছিল।’

ধবলধোলাইয়ের ম্যাচে ১৭৯ রানের লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ

এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের। অন্যদিকে প্রতিপক্ষদের জন্য সান্ত্বনার জয় খোঁজার।

সেই লক্ষ্যেই আজ বাংলাদেশকে ১৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে পাকিস্তান।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেছেন শাহিবজাদা ফারহান। ফখর জামানের পরিবর্তে সুযোগ পেয়ে ফেরার ম্যাচে দলের বড় সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষেই সর্বশেষ জুনে খেলা ম্যাচে ১ রান করেছিলেন ২৯ বছর বয়সী ব্যাটার। তার আগের ম্যাচেই অবশ্য ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পেয়েছিলেন।

আজ দ্বিতীয় ফিফটির ইনিংসটি ৬ চার ও ৫ ছক্কায় সাজিয়েছেন ফারহান। গত দুই ম্যাচেই ১৮ রানের বেশি করতে না পারা ওপেনিং জুটি আজ ৮২ রানের জুটি গড়েছে। সাইম আইয়ুবকে সঙ্গী করে তাতে বড় অবদান রেখেছেন ফারহানই। সাইমের অবদান যে মাত্র ২১।

সাইমকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন নাসুম আহমেদ। দ্বিতীয় উইকেটও বাঁহাতি স্পিনারই নেন, ফারহানকে ফিরিয়ে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তান উইকেট হারালেও ঠিকই রানের চাকা সচল রাখেন তাদের ব্যাটাররা। বিশেষ করে দুই ‘নওয়াজ’ হাসান ও মোহাম্মদ। হাসানের ১৭ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংসের বিপরীতে ১৬ বলে ২৭ রান করেন মোহাম্মদ।

দুজনের দুটি ছোট্ট ঝড়ে শেষ পর্যন্ত ১৭৮ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। যার মধ্যে শেষ ওভারে ৫ রানে নেন ২ উইকেট। সবমিলিয়ে ৩৮ রান খরচ করেছেন বাংলাদেশি পেসার।

নতুন বাংলাদেশের লড়াই এখনো শেষ হয়নি : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। আমাদের লড়াই মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদ বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে শুরু করেছিলাম। আমরা নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ পাইনি। জনগণের পাশে আমাদের আবারও দাঁড়াতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পদযাত্রা শেষে হবিগঞ্জ শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামের সামনে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিস ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় এলাকায় যে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে, মুজিববাদ পুনর্বাসিত হচ্ছে, চাঁদাবাজ-দখলদারির রাজনীতি ফিরে আসছে, আমাদের সেই রাজনীতি ঠেকিয়ে দিতে হবে।
’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই লড়াইটা কেবল বাংলাদেশে নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়াব্যাপী। আমরা দেখেছি বাংলাদেশি সীমান্তে হত্যা হচ্ছে। ভারতীয় মুসলিমদের বাংলাদেশি বলে পুশ-ইন করা হচ্ছে। আমাদের তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি কয়েক দিন আগে যৌথ বাহিনী দ্বারা কয়েক দিন আগে যুবদলের একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সেই হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা যেমনভাবে চাঁদাবাজির বিরোধিতা করি, তেমনভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডেরও বিরোধিতা করি।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা হবিগঞ্জের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা জানি। কিছু হলেই ঢাকা বা সিলেট যেতে হয়।
হবিগঞ্জের দূর-দূরান্তে থাকা মানুষরা স্বাস্থ্যসেবা পায় না। হবিগঞ্জের তরুণরা কর্মসংস্থান পায় না। আমরা নতুন বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে চাই। যেখানে স্বাস্থ্যসেবা তৈরি করা হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের ৭ জরুরি নির্দেশনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি-বদলি তদবিরের লাগাম টানছে সরকার। পদোন্নতি বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় তদবির থেকে বিরত থাকতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই কর্মস্থল ছেড়ে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন পুলিশের কিছু সদস্য।
নিজেদের পদোন্নতি-পদায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এই পুলিশ সদস্যরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নানাভাবে তদবির করছেন। এদের তদবিরের কারণে বিভাগীয় মামলাসহ পুলিশসংক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশের এই সদস্যরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের বাইরেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। আবার ‘রুলস অব বিজনেস’ অমান্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এড়িয়ে পুলিশ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।

সোমবার (২১ জুলাই) জারি করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত কিছু সদস্য অফিস চলার সময়ে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই কর্মস্থল ছেড়ে মন্ত্রণালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে বিভিন্ন ধরনের তদবির করছেন, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। তাদের এ ধরনের তদবিরের কারণে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন। পাশাপাশি দৈনন্দিন সরকারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাদের এ ধরনের কার্যকলাপ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিরুৎসাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ অধিদপ্তর থেকে কিছু বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে চিঠি পাঠানো হয়। আর ওই চিঠির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ শুরু করেন। এতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় জটিলতা তৈরি হয়। এ ছাড়া পুলিশ অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিভিন্ন চিঠিতে অসম্পূর্ণ প্রস্তাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

আবার কিছু ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এড়িয়ে অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় অবহিত না থাকায় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে নানা ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় নিচের সাত দফা নির্দেশনা প্রতিপালন করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

নির্দেশনাগুলো হলো—১. নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। ২. পদোন্নতি ও অন্য কোনো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় তদবির থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩. যথাসময়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠাতে হবে। ৪. বহিঃ বাংলাদেশ ছুটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে পাঠাতে হবে। ৫. চিকিৎসাজনিত বহিঃ বাংলাদেশ ছুটির জন্য বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র ও চিকিৎসা প্রতিবেদন যাচাই করে পাঠাতে হবে। ৬. আন্ত মন্ত্রণালয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘রুলস অব বিজনেস’ মানতে হবে। ৭. প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ নিজ জেমস আইডিতে প্রবেশ করে হালনাগাদ রাখতে হবে।

টিকিটের অর্থ বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও জুলাইযোদ্ধাদের দেবে বিসিবি

শোক জানিয়েই নিজেদের কাজ শেষ করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), এবার মাইলস্টোনের ঘটনায় আর্থিকভাবেও পাশে দাঁড়াতে চায় বিসিবি। সেই লক্ষ্যেই পাকিস্তান-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজের টিকিটের অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছে বিসিবি।

আজ এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। অবশ্য টিকিটের অর্থ শুধু বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যক্তিদের সহায়তায় নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের তহবিল গঠনেও যাবে—জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে।

এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, আমাদের জাতীয় আত্মারও অংশ। শোক ও স্মৃতিচারণার মুহূর্তে, সম্প্রদায় হিসেবে আমাদের একসঙ্গে দাঁড়ানো উচিত। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব মর্মান্তিক ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের আরোগ্য প্রক্রিয়ায় সামান্য হলেও অবদান রাখতে পেরে বিসিবি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।
’

গত সোমবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন দেড় শর বেশি।

ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে ৩৩ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ইরানে প্রবেশের চেষ্টাকালে ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে ৩৩ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি)। বুধবার (২৪ জুলাই) তাফরানের কাছে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই ৩৩ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলুচিস্তান প্রদেশের চাগাই বিভাগের মাসকিল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশিরা ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নির্জন ওই এলাকাটি দিয়ে পাকিস্তান থেকে অনেকেই ইরানে যান।

জানা যায়, গ্রেপ্তাররা গত জুন এবং চলতি জুলাইয়ে বৈধ উপায়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। কিন্তু কোনো বৈধ কাগজ ও ছাড়পত্র ছাড়া তারা ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পাক সংবাদমাধ্যম সামা টিভি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশিরা দলবদ্ধ হয়ে ইরানের ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন তাদের থামান নিরাপত্তারক্ষীরা।
ইরানে যাওয়ার কাগজপত্র চাইলে তারা সেগুলো দিতে ব্যর্থ হন।

পাকিস্তানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ৩৩ জনের সবাইকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই বাংলাদেশিরা কোনো মানবপাচার চক্রের সদস্য হতে পারেন।

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় আরো এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহিয়া (১৫)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জন হলো।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যায় শিশুটি। সে মাইলস্টোন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহিয়া আইসিইউতে মারা যায়। শিশুটির শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।’

এর আগে গত সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে দুজনের মৃত্যুতে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩১ হলো।