মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

সংস্কার-গণহত্যার বিচারের পর পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে : রেজাউল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে গণহত্যার দৃশ্যমান বিচারের পর পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘যারা আগে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। আবার তারা মসনদে বসে নতুনভাবে কী সুন্দর দেশ উপহার দেবে, তা আমাদের বুঝতে বাকি নেই।
এই বাংলাদেশ নতুন করে আর কোনো চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর যে নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, তা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। ইসলামের শাসনতন্ত্র আন্দোলন কখনোই কোনো জুলুমবাজ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে সমর্থন করে না।’

গণসমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আওয়াল, জেলা শাখার সভাপতি ডা. এইচ এম মোমতাজুল করিম, জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকরসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেনে কারাগার-হাসপাতালে রুশ হামলা, নিহত ২৫

ইউক্রেনজুড়ে গত রাত ও মঙ্গলবার সকালে রাশিয়ার চালানো বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলাগুলো একটি কারাগার ও একটি হাসপাতালে আঘাত হানে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য মতে, সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ার বিলেনকে কারাগারে, যেখানে ১৬ জন বন্দি নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে। ইউক্রেনের বিচার মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাত ১২টার কিছু আগে বিলেনকে কারাগারে চারটি গ্লাইড বোমা আঘাত হানে, যা কারাগারের ডাইনিং হল, প্রশাসনিক ভবন ও কোয়ারেন্টাইন এলাকা ধ্বংস করে দেয়।
এই হামলায় ৫০ জনের বেশি আহত হয় এবং তাদের মধ্যে ৪৪ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরেকটি পৃথক রুশ হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা নেওয়ার জন্য সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা পাঁচজন নিহত হয়। ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেট্রোভস্কে আরো তিনজন নিহত হয়, যাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী। ওই অঞ্চলের আরেক জায়গা থেকেও আরো একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের মানবাধিকার কমিশনার বলেছেন, কারাগারে হামলা মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। কারণ বন্দিদের জীবনের অধিকার ও সুরক্ষার অধিকার অটুট থাকে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে ‘হত্যাযজ্ঞ বন্ধ ও শান্তি স্থাপনে বাধ্য করতে হবে’ এবং এ জন্য প্রয়োজন ‘কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা। এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘অনেক আগেই কার্যকর হতে পারত’, কিন্তু তার আগেই রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের হত্যা করে চলেছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল নিয়মিত রুশ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলটি ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চারটি অঞ্চলের একটি, যেগুলো রাশিয়া ২০২২ সালে নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি করেছিল, যদিও মস্কো এর কোনোটিই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার রাশিয়াকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার হাতে ‘মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন’ সময় রয়েছে যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি হওয়ার, না হলে তাদের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। স্কটল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভবত আজ রাতে বা আগামীকাল এই ঘোষণা দেব।
আপনি যদি জানেন ফলাফল কী হতে যাচ্ছে, তবে দেরির কোনো কারণ নেই।’

ট্রাম্পের এই ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য’র প্রশংসা করে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ‘বিশ্বের সময় নষ্ট করছে’।

এর আগে জুলাই মাসে ট্রাম্প মস্কোকে যুদ্ধবিরতির জন্য ৫০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন, না হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছিলেন, তবে তার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার টানা বিমান হামলা থামাতে পারেনি।

অনদিকে এই হামলাগুলো এমন সময় হলো, যখন রাশিয়া দাবি করছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে আরো গভীরে অগ্রসর হচ্ছে। সপ্তাহান্তে মস্কো দাবি করে, তারা দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের মালিভকা গ্রাম দখল করেছে। তবে ইউক্রেন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ওই অঞ্চলে প্রথম একটি গ্রাম দখলের দাবি করেছিল তারা।

এদিকে রাশিয়ায় কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেন দক্ষিণ রোস্তভ অঞ্চলে গত রাতে ডজনখানেক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে সালস্ক শহরে একটি গাড়িতে থাকা একজন নিহত হন এবং একটি মালবাহী ট্রেনে আগুন ধরে যায়। সীমান্ত অঞ্চল বেলগোরোদেও আরো একজন গাড়ির মধ্যে নিহত হন এবং তার স্ত্রী আহত হন বলে জানানো হয়েছে।

কঠিন গ্রুপে পড়লেও চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন বাংলাদেশি কোচ

প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানকে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ৯ বার টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছে।
অন্যদিকে ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। উজবেকিস্তান তাদের তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ। পাঁচবার অংশ নিয়েও যারা এখন পর্যন্ত গ্রুপপর্ব পেরোতে পারেনি। কঠিন গ্রুপে পড়লে ভালো কিছু করতে আত্মবিশ্বাসী কোচ পিটার বাটলার।

এশিয়ান কাপে খেলতে মুখিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন বাটলার। আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের কোচ বলেছেন, ‘গ্রুপটা খুবই কঠিন, তবে মুখিয়ে আছি। আমার মনে হয়, মেনে নিয়ে উপভোগ করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ১২ মাস আগে আমরা চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলেছিলাম এবং তখন বেশ ভালো পারফরম করেছিলাম।
এরপর ধীরে ধীরে দলে পরিবর্তন এনেছি, উন্নতি করেছি এবং ধারাবাহিকভাবে আরো শক্তিশালী হয়েছি।’

টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার কথা জানিয়ে বাটলার বলেছেন, ‘১২ মাস আগের চেয়ে আমরা এখন ভালো দল। ৬ মাস, এমনকি ৩ মাস আগের চেয়েও ভালো আছি। আমরা উন্নতির পথে আছি। চীনের বিপক্ষে খেলাটা হবে খুব কঠিন, ঠিক উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও, কিন্তু সবকিছুই সম্ভব।
এই চ্যালেঞ্জ নিতে চাই এবং সবাইকে বলতে চাই আমরা লড়াই করব এবং সর্বোচ্চটাই দেব।’

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আগামী ৩ মার্চ, চীনের বিপক্ষে। ফিরতি ম্যাচ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। আর ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ খেলবেন আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমারা। ১ মার্চ শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হবে ২১ মার্চ। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে খেলার।

জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন হতে হবে : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে হবে, এর বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনে যে দল বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে, সেই দলের সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।’

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরে জেলা শহরের রাজবাড়ী সড়কে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের জনগণ ও ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। সেই রূপরেখা কোনো দল মানেনি। আমরা এবার কোনো প্রতারণার সুযোগ দেব না।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও আবাসন সুবিধা পান না। তাদের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ পায় না। এখানে কয়েক দিন পর পর অসন্তোষ তৈরি হয়। টাঙ্গাইল কৃষক আন্দোলনের সূতিকাগার হলে গাজীপুর হচ্ছে শ্রমিক আন্দোলনের সূতিকাগার।
’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে অকার্যকর করে লুটপাট করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গাজীপুরের সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে চায়। গাজীপুরকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এনসিপি বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। আমরা গাজীপুরবাসীকে পাশে চাই।
’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সংগঠক নাহিদা সারওয়ার নিভা, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান, মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সংগঠক এম এম সোহাইন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মুহিম প্রমুখ।

জুলাই সনদ ২ বছরের ভেতরে বাস্তবায়নে বিএনপির আপত্তি নেই

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের খসড়া পাঠানো হয়েছে। সেই খসড়ায় বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে ঐকমত্য হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘খসড়ায় দুই বছরের ভেতরে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা একমত।
’

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের ২১তম দিনের আলোচনার বিরতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা যেটা পেয়েছি, এটা জুলাই জাতীয় সনদ নামে একটা খসড়া পেয়েছি। সেটা ভূমিকা, বিস্তারিত বিষয়গুলো নেই। এই খসড়ার সঙ্গে আমরা মোটামুটি একমত।
কিন্তু খসড়ার কিছু বাক্য, শব্দ ও গঠনপ্রণালি নিয়ে কারো কোনো মতামত আছে কি না, তা জানতে রাজনৈতিক দলগুলোকে খসড়াটি দিয়েছে কমিশন। আমাদের যে সংশোধনী থাকবে, আমরা তা কাল জমা দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ আইনের মাধ্যমে করতে চাই। এতে আইনি ত্রুটি থাকলে সংশোধন সহজ হবে।
কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সক্রিয় নির্বাহী বিভাগ প্রয়োজন। তবে সেই নির্বাহী বিভাগকে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মধ্যে রাখতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সংবিধানে যত বেশি যুক্ত করা হবে, সংশোধন তত বেশি জটিল হয়ে পড়বে। তাই আমরা চাই, আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা হোক এবং সেই আইনে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন আনা সহজ হবে।’

নারী প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রথম ধাপে প্রস্তাব করেছি, আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫টি আসনে নারীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
পরবর্তী নির্বাচনে তা ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০টি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, নারীরা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হোক। কিন্তু সমাজের বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে চাই।’

সংস্কার কমিশনের ৭০০–এর বেশি সুপারিশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মধ্যে প্রায় ৬৫০টির মতো প্রস্তাবে বিএনপি একমত হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে পরামর্শ বা সংশোধিত প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সব প্রস্তাব সনদে আসবে না। তবে যেগুলো মৌলিক, যেমন সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত, সেগুলো অবশ্যই গুরুত্ব পাবে।’

গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলে যেতে পারেন ইউরোপীয় ৩ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকায় জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল সফরে যেতে পারেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেৎস।

বার্লিনে জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মেৎস বলেন, ‘সম্ভবত আগামী বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একসঙ্গে ইসরায়েল পাঠানো হবে, যাতে তারা তিনটি দেশের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরতে পারেন।’

প্রায় ২২ মাস ধরে চলা যুদ্ধের ফলে গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইউরোপের এ তিন দেশ মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর অনুমতি জরুরি ভিত্তিতে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জোরদার করেছে। গাজার ভেতরে হামাসকে দমন করতে ইসরায়েল সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

গত সপ্তাহে এক যৌথ বিবৃতিতে, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানি গাজায় চলমান ‘মানবিক বিপর্যয়ের’ অবসানের জন্য আহ্বান জানায়।

মেৎস মঙ্গলবার বলেন, ‘আমরা ধরে নিচ্ছি, ইসরায়েলি সরকার এখন বুঝতে পারছে—কিছু একটা অবশ্যই করতে হবে।’

ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানি ইসরায়েলের অন্যতম একনিষ্ঠ সমর্থক হলেও সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিচ্ছেন মেৎস।

তিনি সোমবার রাতে জানিয়েছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য বিমান পরিবহণের ব্যবস্থা নিতে জর্ডানের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে জার্মানি।

মেৎস মঙ্গলবার আরো বলেন, ‘জার্মানির দুটি সামরিক পরিবহন বিমান ইতিমধ্যেই জর্ডানের পথে রয়েছে। এসব বিমান সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই, সম্ভব হলে আগামীকালই, গাজায় আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ শুরু করবে।’

জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয় বলেন, তিনি এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞ হলেও কেবলমাত্র আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ ‘সমুদ্রের এক বিন্দু পানির’ মতো। আরও বেশি সংখ্যক ট্রাকের মাধ্যমে ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

ইসরায়েল গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত গাজায় সব ধরনের ত্রাণ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রেখেছিল। তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে এবং জাতিসংঘ ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে খাদ্য বিতরণের জন্য নিরাপদ পথ ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। এরই মধ্যে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর ইসরায়েল এ সামরিক অভিযান শুরু করে।

সূত্র : এএফপি

বাংলাদেশে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে হান্ডা

হংকংভিত্তিক বস্ত্র ও পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হান্ডা গ্রুপ বাংলাদেশে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হান চুন মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই ঘোষণা দেন।

শুরুতে হান্ডা ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করলেও, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সক্রিয় সমর্থন এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর বিনিয়োগ বাড়িয়ে ২৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে। এই অর্থ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে তিনটি আধুনিক কারখানা স্থাপন করবে, যার মধ্যে দুটি হবে গার্মেন্টস প্রক্রিয়াকরণ এবং একটি নিটিং ও ডাইং ইউনিট।
প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে।

হান চুন জানান, বিডা, বেজা ও বেপজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই এই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে আধুনিকতার নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায়।’

বিডা, বেজা এবং বেপজা কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে একক বৃহত্তম চীনা বিনিয়োগগুলোর মধ্যে একটি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে চীনা বিনিয়োগের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন এবং অন্যান্য চীনা বিনিয়োগকারীদের এখানে আসতে উৎসাহিত করুন।’

তিনি হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে বাংলাদেশি ডিজাইনারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান। যাতে তারা ক্রেতাদের রুচি সম্পর্কে জানতে পারেন।

হান চুন প্রধান উপদেষ্টাকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপনের জন্য নির্ধারিত কারখানার একটি আধুনিক নকশাও উপস্থাপন করেন। প্রধান উপদেষ্টা নকশার প্রশংসা করে বলেন, ‘এটা আমার কাছে একটি সুন্দর পেইন্টিংয়ের মতো মনে হয়েছে।’

মিরসরাইয়ে কারখানার জন্য প্রথম ধাপে ৮০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে জমি লিজ সংক্রান্ত চুক্তি বুধবার স্বাক্ষরিত হবে। দ্বিতীয় ধাপের জমি বরাদ্দ ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ চলছে, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এবং হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি হেং জেলি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ওরচেস্টারশায়ারের সঙ্গে ৩ বছরের চুক্তি পাকিস্তানের লেগস্পিনারের

ওরচেস্টারশায়ারে গত বছরই যোগ দেওয়ার কথা ছিল উসামা মীরের। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অনাপত্তিপত্র না দেওয়া তা আর হয়নি। তবে এবার ফিরছেন। কাউন্টির দলটির সঙ্গে ৩ বছরের টি-টোয়েন্টি চুক্তি করেছেন পাকিস্তানি লেগস্পিনার।

আগামী বছর থেকে মীরের মেয়াদ শুরু হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম বছর খেললে পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলবেন ২৯ বছর বয়সী লেগস্পিনার। এতে করে তার ইংল্যান্ড দলে খেলার দরজাও খুলতে পারে। তার স্ত্রী যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

মীরের প্রশংসা করে ওরচেস্টারশায়ারের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি গিলস বলেছেন, ‘সে দারুণ এক ক্রিকেটার, যার দক্ষতা ও টেম্পারমেন্ট এই লেভেলে দারুণ প্রভাব রাখতে পারে। ২০২৭ সাল থেকে সে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগ পাবে বলে স্কোয়াড সাজানো আরো সহজ হবে।’

পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ করতে পারেননি মীর। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে অভিষেক হওয়া লেগস্পিনার সব মিলিয়ে ১৭ ম্যাচ খেলেছেন।
৫টি-টোয়েন্টির বিপরীতে ১২ ওয়ানডে। উইকেট মোটে ২০টি।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাজনৈতিক নিয়োগ হবে না : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না। অতীতেও বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় এসব প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ কারণে তখন ব্যাংক ধসে যায়নি এবং পুঁজিবাজারে লুটপাট হয়নি।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের মেজবান হলে চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির উদ্যোগে ‘অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক অব কমোডিটি ডিরাইভেটিভ মার্কেট অ্যান্ড ইটস বিজনেস প্রোসপেক্টিভ’ (‘Operational Framework of Commodity Derivatives Market and Its Business Prospects’) শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজার ভালো করতে হলে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে পুঁজিবাজারের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। বর্তমানে দেশের জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারে আকার ছোট। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে পুঁজিবাজারকে ধারণ করবে।
এটির উন্নয়নে সামগ্রিক চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অতিনিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মূল চ্যালেঞ্জ হবে ডেটা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আর এটিই আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন খুবই সক্রিয়। তাই বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পুঁজি বাজার অন্ধকার থেকে পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। অন্ধকারে চালানো পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

আমীর খসরু আরো বলেন, ‘ফিজিক্যাল কন্টাক্ট (শারীরিক সংযোগ) যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ দুর্নীতি থাকবে।
নাগরিকরা ভোগান্তির শিকার হতে থাকবেন। তাই আমরা বিনিয়োগ বোর্ডেও একই কাজ করতে যাচ্ছি। আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের মধ্যে শারীরিক সংযোগ যেন সরকারের সঙ্গে মানুষকে করতে না হয়, সে জন্য বিএনপি সব করবে। গ্রাহকরা যাতে বাড়িতে বসে সব কিছু করতে পারে এবং বাড়িতে সব কিছু পৌঁছে যায় সে ব্যবস্থাও করা হবে।’

বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বলেছি, আপনাদের একজন করে নেতা দেব। যুবক ছেলে-মেয়েরা ট্রেনিং করে বিনিয়োগকারীদের হয়ে বিনিয়োগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখভাল করবে। বিনিয়োগকারী সরকারি অফিসে যাবেন না। বিনিয়োগকারী কোরিয়া বা আমেরিকায় বসে তার কম্পিউটার কিংবা মোবাইলের মনিটরে তদারকি করবে তার ফাইল কোথায় যাচ্ছে। এটি প্রতিদিন আপডেট হবে। এটার টাইম ফ্রেম থাকবে। এটার সাথে Commodity Derivatives Market এর একটা সম্পর্ক থাকবে।’

সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরে এলে কেউ যদি আধাঘণ্টার মধ্যেই বের না হয়, তাকে অবশ্যই এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে। চিটাগাং পোর্টে মাল এলে টার্ন এরাউন্ড টাইম কনটেইনার বের হতে হবে। যদি সব কিছু অটোমেশন করে অনলাইনে দিয়ে দেয়া যায় তাহলে বাংলাদেশে বিদেশিরা এখানে কনফিডেন্স পাবে। পোর্টফোলিও ম্যানেজাররা বসে আছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলছি। এই পরিবর্তনটা আনতে হলে, আমাদের ওয়ার্ল্ডের বেস্ট প্রাকটিসগুলো আছে সারা দুনিয়াতে তা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, আগে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতার অনুমোদন (ইউডি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে নেওয়া লাগতো। এতে আমদানিকারকদের দীর্ঘ সময় লাগতো, নানা জটিলতায় পড়তে হতো। কিন্তু আমি যখন বাণিজ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম, তখন এই অনুমোদনের বিষয়টি তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কাছে দিয়ে দিই। এতে প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যায়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বাজারেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যক্রম চালু হলে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাজার গভীরতা বৃদ্ধি পাবে। সিএসইর শেয়ার হোল্ডার পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, মানুষের মনে শেয়ার বাজার নিয়ে আগে থেকে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বর্তমানে সেটি আরো বেড়েছে। এ নেতিবাচক ধারণাকে বদলাতে হবে। এটি হতে পারে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মার্কেটের যাত্রার মাধ্যমে। এটি সফলভাবে চালু করা গেলে সব নেগেটিভ ধারণা বদলে যাবে। এটির মাধ্যমে শেয়ার বাজারে বড় পরিবর্তন আসবে।

গাজায় ‘দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি’, নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়াল

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে মঙ্গলবার ৬০ হাজার ৩৪ জনে পৌঁছেছে। ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এদিন আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

এ ছাড়া চিকিৎসা সূত্রগুলো আলজাজিরাকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর থেকে অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৯ জন ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে, যদিও ত্রাণ সরবরাহের জন্য যুদ্ধের মধ্যে ‘বিরতি’ দেওয়া হয়েছে।

আলজাজিরার তারেক আবু আজযুম গাজার মধ্যাঞ্চলীয় দেইর এল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার রাতে ড্রোন, ট্যাংক ও বোমাসহ রোবট ব্যবহার করেছে, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম রক্তাক্ত রাত।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও ইসরায়েল এখনো হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেনি।’

এ হামলার মধ্যেই গাজায় ‘দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি’ দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। তারা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার বেশির ভাগ এলাকায় খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্ভিক্ষের সীমা অতিক্রম করেছে এবং গাজা শহরে তীব্র অপুষ্টিও সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘অবিরাম সংঘাত, ব্যাপক স্থানচ্যুতি, মানবিক সহায়তায় চরম সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবার সম্পূর্ণ ধসে পড়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী মোড় নিয়েছে।

খাদ্যগ্রহণ মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন দিনের পর দিন খাবার না খেয়ে থাকছে বলেও জানিয়েছে আইপিসি। জুলাইয়ের প্রথমার্ধে অপুষ্টির হার দ্রুত বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন হাজারের বেশি শিশু মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

এই সতর্কতা মে মাসে প্রকাশিত আইপিসির আগের বিশ্লেষণের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজার সম্পূর্ণ জনসংখ্যা চরম খাদ্য সংকটে পড়বে এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ চরম খাদ্য ঘাটতি, অনাহার ও দারিদ্র্যের শিকার হবে, যদি ইসরায়েল অবরোধ না তোলে এবং সামরিক অভিযান বন্ধ না করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ১৪৭ জন অপুষ্টিতে মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৮৮ শিশুও রয়েছে।

গাজায় অনাহার এখন সব শ্রেণির মানুষকে আক্রান্ত করছে। জাতিসংঘ নারী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস বলেন, গাজার ১০ লাখ নারী ও মেয়ে ‘অভাব অথবা জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার’ মধ্য থেকে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘এই বিভীষিকা শেষ হওয়া উচিত।
’ পাশাপাশি গাজায় নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা প্রবেশ, জিম্মিদের মুক্তি ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব
গাজার নাসের হাসপাতালের শিশু ও মাতৃকালীন বিভাগের প্রধান আহমেদ আল-ফাররা আলজাজিরাকে বলেন, হাসপাতালে এখন এমন শিশুদের দেখা যাচ্ছে, যাদের ‘মাংসপেশি বা চর্বি নেই, কেবল হাড়ের ওপর চামড়া রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, জীবনের প্রথম তিন বছরে শিশুদের স্নায়ুতন্ত্র গঠিত হয়। এ সময় তারা যদি অপুষ্টিতে ভোগে, তবে তাদের ফোলিক এসিড, বি১ কমপ্লেক্স ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিডের ঘাটতি দেখা দেয়, যা স্নায়ুতন্ত্রের গঠনের জন্য জরুরি। ফলে ভবিষ্যতে শিশুরা মানসিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ে, পড়তে-লিখতে অসুবিধা হয় এবং বিষণ্নতা ও উদ্বেগের শিকার হতে পারে।

ডাক্তার উইদআউট বর্ডারসের (এমএসএফ) চিকিৎসক টানিয়া হাজ হাসান আলজাজিরাকে জানান, খাবার আসার পরও ঝুঁকি থেকে যায়। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, সমস্যা খাবার আসলেই শেষ হয় না…অপুষ্টি শরীরের প্রতিটি কাজকে প্রভাবিত করে। শরীরের সব কোষে পরিবর্তন আসে। অন্ত্রে কোষ মরে যায়, ফলে শোষণ ব্যাহত হয়, ব্যাকটেরিয়ার সমস্যা হয়। অগ্ন্যাশয়ে সমস্যা দেখা দেয়, চর্বি শোষণ কঠিন হয়ে পড়ে। হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়, গঠন নষ্ট হয়, সংযোগে ব্যাঘাত ঘটে, হৃদস্পন্দন কমে যায়। পুনঃখাদ্য প্রদানের সময়ও শিশুরা হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মারা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের লবণের ভারসাম্য বিপর্যস্ত হয়, যা প্রাণঘাতী হৃদস্পন্দন সমস্যার কারণ হতে পারে। তারা সহজেই সেপসিস ও শকে পড়ে। তাদের মধ্যে রক্তচাপ কমে যায়, ত্বকে ঘা হয়, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে, শরীরে পানি জমে, সংক্রমণ হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও হাড়ের ওপর প্রভাব ফেলা ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেয়।’