সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না : ডা. তাহের

সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জনগণের দাবি ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ তৈরি করতে হবে।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আগামীকাল যেন জুলাই সনদের কোনো ঘোষণা জনগণের বিপক্ষে না যায়।’

তিনি বলেন, ‘চাপে পড়ে যেন কোনো বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া না হয়।
জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে কিছু হলে আমরা সেটিকে প্রত্যাখ্যান করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংস্কার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচন এই জাতি মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।’

ডা. তাহের বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু এই আন্দোলনের আলাদা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—এখানে সবাই অংশ নিয়েছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স তো ছিলই, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
শিশুরাও রাস্তায় নেমেছে। একদিন দেখেছি, একজন মা কোলে শিশু নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এই বিপ্লবে তাই সবার অংশগ্রহণ রয়েছে। এরকম সর্বজনীন অংশগ্রহণ এই দেশের ইতিহাসে বিরল।
’

তিনি জানান, ২২ জুলাই তিনি গ্রেপ্তার হন এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহে কারামুক্ত হন। মুক্তির পর আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি আহত মানুষ রিকশাওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা, ফেরিওয়ালা। আজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের অবদানকে সামনে আনা হচ্ছে না। ডাক্তারদের অবদানও গুরুত্ব পাচ্ছে না। অথচ ইতিহাসে সবার অবদান স্বীকৃতি পেতে হবে বলেও জানান তিনি।

শেখ হাসিনার বিষয়ে ইতিবাচক উত্তর দেয়নি ভারত : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে তাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক উত্তর আসেনি।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এ নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই।
বিচারের সম্মুখীন করতে বাংলাদেশ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। ভারত থেকে কোনো ইতিবাচক উত্তর আসেনি। বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কেউ আসুক আর না আসুক, তার জন্য তো বিচার আটকে থাকে না।’

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার প্রয়োজন মনে করলে সহযোগিতা নিতে পারে। তবে এই মুহূর্তে কোনো প্রয়োজন দেখছি না।’

এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলে আছেন সৌম্য-শান্ত

এক মাস পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবে এশিয়া কাপের আসর। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সেই লক্ষ্যে একটা প্রাথমিক স্কোয়াডও ইতিমধ্যে সাজিয়েছে বিসিবি। ২৫ জনের তালিকায় আছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ না পাওয়া সৌম্য সরকার-নাজমুল হোসেন শান্তদের মতো তারকারা।
এ ছাড়া আজ বাংলাদেশ ‘এ’ দলে সুযোগ পাওয়া ৫ ক্রিকেটারও আছেন। তারা হচ্ছেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান, সাইফ হাসান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, হাসান মাহমুদ ও নাঈম শেখ।

প্রাথমিক স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের নিয়ে আগামী বুধবার মিরপুর স্টেডিয়ামে ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হবে। আর আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে স্কিল ক্যাম্প।
এরপর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ২০ আগস্ট সিলেটে যাবে বাংলাদেশ দল। এ জন্য ক্রিকেটারদের রিপোর্ট করতে বলেছে বিসিবি।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার আগে ডাচদের বিপক্ষে প্রস্তুতি সারবে বাংলাদেশ।
তিন ম্যাচ সিরিজের সূচি অবশ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। সব ম্যাচ সিলেটে হবে।

এশিয়া কাপের প্রাথমিক দল :

লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, নাঈম শেখ, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, মেহেদী হাসান মিরাজ, শামীম হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, তানভির ইসলাম, নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, নুরুল হাসান সোহান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, সাইফ হাসান।

কারো সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি : অপু বিশ্বাস

যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে বুবলী ও শাকিব খানের ছবি ভাইরাল, তখন অপু বিশ্বাস বললেন তার যা বলার তা আগেই বলে রেখেছেন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে সিফাত নুসরাতের নতুন একটি বই উন্মোচনে ব্যস্ত ছিলেন অপু।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন অপু। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে শাকিব-বুবলীর অবকাশ যাপন প্রসঙ্গে অভিনেত্রীকে কিছু বলতে অনুরোধ করা হয়।
অপু বলেন, ‘কী অনুভূতি বলব। মানুষ মানুষকে না-ই চিনতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেমন ধরুন, আপনি আমাকে ভালোবাসতে পারেন, কিন্তু সে মুহূর্তে সিফাতকে না-ও ভালোবাসতে পারেন।
আবার এমন হতে পারে, আপনি সিফাতকে ভালোবাসেন, আমাকে নাই ভালোবাসতে পারেন। এটাই সত্যি।’

শাকিব খানের প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমি ১৫ জুন একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। যদি কেউ সেটা না পড়ে থাকেন তবে আজকে অবশ্যই সে স্ট্যাটাসটা পড়ে নিতে পারেন।
তাহলেই আপনাদের প্রশ্নটার পরিষ্কার উত্তর পেয়ে যাবেন।’

১৫ জুন কী বলেছিলেন অপু বিশ্বাস? অপু বিশ্বাসের ফেসবুকে সেদিন ভক্তদের উদ্দেশ করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। ওই পোস্টে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘কারো সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি।’

অপু বিশ্বাস তাঁর ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘প্রিয় ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করছি, আমার ব্যক্তিগত কিছু মুহূর্ত বা আমার ছেলের সঙ্গে স্মরণীয় সময়গুলো যখন আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করি—তখনই কোনো না কোনোভাবে সেই বিষয়কে ঘিরে একধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। আমি একজন মা, একজন অভিনেত্রী, একজন উদ্যোক্তা।
আমার অনেক দায়িত্ব, অনেক ব্যস্ততা। ক্যামেরার বাইরে আমার জীবনটা একজন নারীর মতোই—হাজারো কাজ, পরিকল্পনা এবং স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা।’

তিনি বলেন, “আমি কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাই না। আমার সম্পর্ক, আমার জীবনের অধ্যায়গুলো দর্শকের চোখের সামনেই কেটেছে। সেখানে লুকোচুরি নেই, নাটক করার কিছু নেই। আমার ছেলের জন্য সময় দিই, তার বাবার সঙ্গে সুন্দর মুহূর্তগুলো ধরে রাখি—এটা সম্পূর্ণই ওর মানসিক বিকাশ ও সুন্দর শৈশবের জন্য। এটিকে ঘিরে কারো ‘অস্বস্তি’ তৈরি হলে, সেটার দায় আমার নয়। আমি অনেক দিন ধরেই দেখছি, আমার কোনো সাধারণ পারিবারিক পোস্টের পরেই যেন কিছু ‘কাউন্টার প্রচেষ্টা’ শুরু হয়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেই।”

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই নায়িকা বলেন, ‘সম্মান নিজে অর্জন করতে হয়, অন্যকে ছোট করে নয়। এখন থেকে আমি শুধু নিজের কাজ, নিজের ছেলে, নিজের ভক্তদের সময় দিতে চাই। কারো সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি। আমি নিজের জায়গাতেই স্বাচ্ছন্দ্যে আছি। যারা আমাকে ভালোবাসেন, পাশে থাকেন—আপনাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। আমি আপনাদের বিশ্বাস ভাঙতে চাই না। আর নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে কারো সঙ্গে পা মেলাতে রাজিও নই। ভালোবাসা অম্লান থাকুক।’

আদর্শিক বিরোধে গণ-অভ্যুত্থানে কারো অবদান অস্বীকার করা উচিত নয় : মাহফুজ আলম

দলীয় বা আদর্শিক বিরোধের জেরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কারো অবদান অস্বীকার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার’।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম বলেন, ‘এখানে শিবির ভূমিকা রেখেছে তাদের ‘জনশক্তি’ ও কো-অর্ডিনেশন দিয়ে।
বিভিন্ন প্ল্যাটফরম থেকে শিবিরের কর্মীরা অভ্যুত্থানকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, ক্ষেত্রবিশেষ চালিয়ে নিয়ে গেছেন। ছাত্রদল ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিস্ট বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ স্পটগুলোতে লড়াই করেছে, তৃণমূলে লীগকে প্রতিরোধ করেছে। ছাত্রশক্তি কো-অর্ডিনেট করছে মাঠে-সামনে থেকে, সিভিল সোসাইটি আর কালচারাল সার্কেলে এবং আস্থা তৈরি করতে পেরেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, ছাত্র ফেডারেশন ও অন্যান্য বাম ছাত্রসংগঠনগুলো মাঠ ও বয়ান ধরে রাখছে, বামপন্থী সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো জুলাইয়ের শেষ দিনগুলোতে মাঠে নেমে জনগণের মধ্যে সাহস সঞ্চার করেছে।
আলেম ও মাদরাসার ছাত্ররা রাজপথে নেমে দীর্ঘ সময় প্রতিরোধ ধরে রেখেছিলেন। যাত্রাবাড়ী যার উজ্জ্বল উদাহরণ। শ্রমজীবীরা এবং প্রাইভেটের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধের স্পটগুলোতে দীর্ঘ সময় লড়াই করেছেন, রিকশাচালক ও নিম্ন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষরা প্রতিরোধ গড়েছেন।’

উপদেষ্টা তার ফেসবুকে আরো জানিয়েছেন, নারীরা রাজপথে লড়েছেন এবং আহতদের সহযোগিতা করেছেন।
অভিভাবকরা, বিশেষ করে মায়েরা, বোনেরা কারফিউর দিনগুলোতে এবং জুলাইয়ের শেষ থেকে রাস্তায় নেমে সাহস জুগিয়েছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধের স্পটগুলোতে নিজেরাই নেতৃত্ব দিয়ে অভ্যুত্থান এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিক সমিতি ও অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অভ্যুত্থানের পক্ষে নীরব অথচ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।

ছাত্রলীগের একটা অংশ বিদ্রোহ করে অভ্যুত্থানে যুক্ত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, ‘উঠতি মধ্যবিত্ত জুলাইয়ের শেষ দিকে নেমে অভ্যুত্থানকে আরো ব্যাপক করেছেন।
পেশাজীবী সংগঠনগুলো এবং সাংস্কৃতিক ও মিডিয়াকর্মীরা জুলাইয়ের শেষ দিকে একাত্মতা প্রকাশ করে অভ্যুত্থানকে শক্তিশালী করেছেন। প্রবাসী শ্রমিক, চাকুরে এবং প্রফেশনালরা জুলাইকে, বাংলাদেশের লড়াইকে বৈশ্বিক করতে ভূমিকা রেখেছেন। সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং র‍্যাপাররা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, অনুপ্রাণিত করেছেন। জনগণের লড়াইয়ের কার কোন অবদান অস্বীকার করবেন?’

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিতেই হবে : ইরান

ইরান সোমবার জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে দায় নিতেই হবে। তবে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই হামলার মাধ্যমে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে অল্প সময়ের জন্য যুক্ত হয়।
ওই যুদ্ধের কারণে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনায়…ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক আগ্রাসনের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে বাকাই বলেন, ‘না।’ অন্যদিকে ওয়াশিংটন ক্ষতিপূরণ চাওয়ার এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল নজিরবিহীন হামলা চালায়, যার আওতায় আবাসিক এলাকাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ১২ দিন স্থায়ী ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, ইসফাহান ও নাতাঞ্জে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ায়।

এই যুদ্ধ চলাকালে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পরিত্যক্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি নিয়ে শুরু হওয়া উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা ব্যাহত হয়। এ ছাড়া যুদ্ধের পর তেহরান জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে এবং ভবিষ্যতে আলোচনায় বসার আগে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তার দাবি জানায়।

বাকাই সোমবার আরো বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তিনি আইএইএর ‘রাজনৈতিক ও অপেশাদার আচরণের’ সমালোচনা করেন। তিনি জানান, সংস্থাটির উপপ্রধান আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইরানে সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি একই দিনে বলেন, সফররত আইএইএ প্রতিনিধিদলকে শুধু ‘প্রযুক্তিগত ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা’ করার অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে শারীরিক প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না এবং এই প্রতিনিধিদল বা অন্য কোনো বিদেশি সংস্থার কোনো পরিদর্শনের অনুমতি থাকবে না।’

গত মাসে ইরান বলেছিল, জাতিসংঘের সংস্থাটির সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ‘নতুন রূপে’ গড়ে তোলা হবে।

এদিকে চলতি বছরের ২৫ জুলাই যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ইরানি কূটনীতিকরা জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি ইউরোপীয় দেশ ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অংশীদার, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ফলে ভেস্তে যায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয় এই দেশগুলো হুমকি দিয়েছে, ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতায় নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করবে। ইরান বারবার এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার দাবি করেছে।

ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়, যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। এ উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিক মিয়া এভিনিউতে মূল মঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে বড় আকারের ডিজিটাল স্ক্রিন। শিগগিরই ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে পানীয় জল ও পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার জন্য বিশেষ বুথ তৈরি করা হয়েছে।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসূচির শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘৩৬ জুলাই উদযাপন’। সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টায়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। আর রাত ৮টায় সমাপনী আয়োজন হিসেবে পরিবেশনা করবে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আর সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বিএনপিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়ে সব দল সম্মতিও জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আগামী মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫, বিকেল পাঁচটায় গণ-অভ্যুত্থানের সকল পক্ষের উপস্থিতিতে জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

দেশ নিয়ে একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে : মির্জা ফখরুল

দেশ নিয়ে একটা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। দেশে আবার একটা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শোক ও বিজয় আয়োজিত’ যুব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে যুবদল।

সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্র চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে দেশে আবার একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করবার। যাতে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ট্রানজিশন সঠিক মতো না হয়। কিন্তু আমরা এটা বিশ্বাস করি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যুবদল, ছাত্রদল যত দিন টিকে থাকবে, তত দিন এই দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার কোনো শক্তি কখনো জয়ী হতে পারবে না।’

হাসিনা সরকারের অত্যাচার, নির্যাতনে আমরা একটা দুঃসময় পার হয়ে এখানে এসেছেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন ট্রানজিশন পিরিয়ডে আছি।
যখন আমাদের গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি, তখন সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজনৈতিক কাঠামো ঠিক করা। এগুলো করেই আমাদের আবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখনই দেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়, তখনই বিএনপি দায়িত্ব নিয়ে সেটাকে আবার পুনর্গঠন করেছে প্রতিটি সময়। তাই ঘটেছে আজকে।
এখন আবার মনে হচ্ছে, বিএনপিকেই হয়তো বা সেই দায়িত্বটা নিতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা পরস্পর পরস্পরে কাদা ছোড়াছুড়ি না করি। একটা সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্রকে তৈরি করার। দেশকে আবার অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার।
সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে সেই দিকে এগিয়ে যাই। মাথা উচু করে দাঁড়াই, সফল হবো।’

জুলাই যেমন সবার, ঘোষণাপত্রও সবাইকে নিয়েই হবে : ফারুকী

বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব দলের উপস্থিতিতেই জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সোমবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব দলের উপস্থিতিতেই জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা। জুলাই যেমন সবার ছিল, ঘোষণাপত্রও সবাইকে নিয়েই হবে।

ডেনমার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে : ক্রিশ্চিয়ান ব্রি মোলার

ডেনমার্ক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ৫০ বছর ধরে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রি মোলার।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় ড্যান ফুডস লিমিটেড কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ক্রিশ্চিয়ান ব্রি মোলার বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীর এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে। এই সম্পর্ক সবসময় অটুট থাকবে।
আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মান বজায় রেখে ড্যান কেক তৈরি হচ্ছে ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে খাদ্য ও ভোক্তা পণ্য খাতে দৃঢ় অংশীদারির প্রতিফলন ঘটেছে। এটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি নিরাপদ টেকসই উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি। এর আগে তিনি কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

কারখানা পরিদর্শনকালে ড্যান ফুডস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার শাহ মাসুদ ইমাম, চিফ পিপল অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার গোলাম হাবিব, ড্যান ফুডস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং শহীদ বিন সারওয়ার, হেড অব প্লান্ট অপারেশন তৌফিক হাবিব, হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস মোহাম্মদ জোনায়েদ খান চৌধুরী, সিনিয়র ম্যানেজার এইচ আর অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, ম্যানেজার ব্রান্ড এন্ডর চ্যানেল ডেভেলপমেন্ট আল আসিফ খান, হেড অব প্রডাকশন নাসির উদ্দিনসহ ডেনমার্ক দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।