সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

অনিয়মের অভিযোগে ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম বাতিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিরাপত্তা ঘাটতি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ‘বিনিময়’-কে বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মটি চালু করতে তাদের উপর চাপে ফেলা হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ না মেলায় ও একাধিক অনিয়মের কারণে শেষ পর্যন্ত এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) মধ্যে অর্থ লেনদেন সহজ করতে ‘বিনিময়’ চালু করা হয়।
তৎকালীন সরকারের আমলে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ একাডেমি (আইডিইএ) প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি তৈরি করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘চুক্তির শর্ত বিশ্লেষণের সুযোগ না দিয়েই আমাদের সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল।’

তার ভাষ্য, ‘আমাদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই পুরো ডকুমেন্টেশন তৈরি করা হয়েছিল। কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্ল্যাটফর্মটি চালানো সম্ভব ছিল না।
’

বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নির্ধারিত ফি দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করা হয়নি। ফলে আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী তারা সেবাটি স্থগিত করেছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের এক চুক্তির আওতায় ‘বিনিময়’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুঝতে পারে, এতে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অনেক অসংগতি রয়েছে।
গত সাত-আট মাসে কোন অর্থও পরিশোধ করা হয়নি।

এর আগে সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউসিবি, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকসহ আটটি ব্যাংক প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছিল। এমএফএস সেবাদাতাদের মধ্যে ছিল বিকাশ, রকেট ও এমক্যাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ইউপিআই মডেলের আদলে তৈরি হলেও ‘বিনিময়’ জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ব্যবহারবান্ধব ফিচারের অভাব, পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকা এবং ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহই এর মূল কারণ।

তবে এ খাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ ব্যাংক। গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেন সোর্স প্রতিষ্ঠান মোজালুপের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন একটি আন্তঃব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরেই এটি চালুর আশা করছে তারা।

আরিফ হোসেন খান জানান, ‘নতুন প্ল্যাটফর্মের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। কিছু তথ্য-উপাত্ত দিতে হচ্ছে, আমরা দ্রুত সব সরবরাহ করছি। আশা করছি শিগগিরই চূড়ান্ত চুক্তি হবে।’

বিনিময় বন্ধ হলেও ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তর থেমে থাকছে না। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—এখন একটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন গতি আনবে।

সতীর্থদের ‘অলস’ বললেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক

যুক্তরাষ্ট্র সফরের তৃতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয়বঞ্চিত হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দুইবার এগিয়ে গিয়েও এভারটনের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। তবে পরাজয় ছাপিয়ে সতীর্থদের পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি হতাশ ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস।

যুক্তরাষ্ট্রে তিন ম্যাচের এই সফরে শুরুর দুই ম্যাচে দারুণ খেলেছিল ইউনাইটেড।
প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডকে ২-১ ও দ্বিতীয়টিতে বোর্নমাউথকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল রুবেন আমুরিমের দল। তবে শেষ ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি তারা।

বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯তম মিনিটে সফল এক পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। তবে বিরতির আগেই সমতায় ফেরে এভারটন, গোল করেন ইলিমান এনদায়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৯তম মিনিটে ম্যাসন মাউন্টের গোলে আবারও এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। কিন্তু ছয় মিনিট পর আত্মঘাতী এক ভুলে জয় হাতছাড়া হয় তাদের।

ম্যাচ শেষে হতাশ ব্রুনো বলেন, ‘আমরা এভাবে শেষ করতে চাইনি। আজ আমরা একটু অলস ছিলাম, আর এমন অলসতার কারণে যেকোনো সময় বড় খেসারত দিতে পারে।
’

সতীর্থদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে কেউকে সরাসরি দোষারোপ না করলেও, তিনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলতে চাই, সেটার উন্নতি জরুরি। নতুন খেলোয়াড়দের সেই খেলায় অন্তর্ভুক্ত করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

গত মৌসুম ইউনাইটেডের জন্য ছিল চরম হতাশার। প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে ১৫ নম্বরে থেকে মৌসুম শেষ করে তারা—প্রিমিয়ার লিগ যুগে যা ইউনাইটেডের সবচেয়ে বাজে অবস্থান।

নতুন মৌসুম শুরুর আগে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে দলে আক্রমণভাগে নতুন মুখ এনেছে ক্লাবটি।
দলভুক্ত হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাথেউস কুইয়া ও ফ্রেঞ্চ উইঙ্গার ব্রায়ান এমবুমো। গত ম্যাচে দুজনই ছিলেন শুরুর একাদশে, যদিও গোল পাননি কেউই।

ব্রুনোর মতে, ‘দলের মানের উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনো আমরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাইনি। ক্লাবের আর্থিক অবস্থা যেমন, তাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছে।’

দেশে ফিরে আগামী শনিবার ঘরের মাঠে ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এরপর ১৭ আগস্ট আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের নতুন প্রিমিয়ার লিগ মিশন।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি প্রকাশ করল বিসিবি

সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপের আসর। বড় এই টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে সাকিব-লিটনরা।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৪ আগস্ট) সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পা রাখবে সফরকারী নেদারল্যান্ডস দল। এর তিন দিন পর, ৩০ আগস্ট মাঠে গড়াবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। পরের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

বিসিবি জানিয়েছে, দুই বোর্ডের মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে আলোচনা করেই সিরিজের তারিখ ও ভেন্যু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এদিকে সিরিজের আগে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও শুরু করে দিচ্ছে বিসিবি। ৬ আগস্ট মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রাথমিক স্কোয়াডের ফিটনেস ক্যাম্প। এতে অংশ নেবেন এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত ২৫ সদস্যের প্রাথমিক দলের ক্রিকেটাররা।
১৫ আগস্ট শুরু হবে আনুষ্ঠানিক অনুশীলন ক্যাম্প।

এরপর ২০ আগস্ট দল সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবে। সিলেটেই ক্যাম্পের বাকি অংশ সম্পন্ন করে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল।

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে ৬০০ ইসরায়েলি কর্মকর্তার চিঠি

গাজা যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের জন্য ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি লিখেছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানসহ ৬০০ জন অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা। খবর বিবিসির।

ট্রাম্পকে পাঠানো চিঠিতে ওই কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের পেশাদারি মূল্যায়ন হলো, হামাস এখন আর ইসরায়েলের প্রতি কোনো ধরনের কৌশলগত হুমকি সৃষ্টি করছে না।

সাবেক কর্মকর্তারা চিঠিতে ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, বেশিরভাগ ইসরায়েলি আপনার ওপর ভরসা করে, এবং তাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী (বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহু ও তার সরকারকে সঠিক পথে পরিচালনা করার ক্ষমতা আপনার আছে।
এই যুদ্ধের অবসান ঘটান, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনুন এবং সবার দুর্ভোগ দূর করুন।

এমন সময় কর্মকর্তারা এই আহ্বান জানালেন যখন নেতানিয়াহু নতুন করে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। হামাসের সঙ্গে জিম্মি মুক্তির আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেওয়ায় তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভারতের ওপর ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ শুল্কারোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে ব্যাপক হারে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণে’ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রুশ যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য এই তেলই মস্কোর বড় রাজস্ব উৎস বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই চাপের মাত্রা বাড়ল। এর আগে তিনি হুমকি দেন, ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া যদি শুক্রবারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না ঘটায়, তবে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এ সপ্তাহেই তাঁদের দেখা হওয়ার কথা।

ট্রাম্প সোমবার তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে লিখেছেন, ‘ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তেল কিনছে এবং সেটা বিক্রি করে বিশাল লাভ করছে।’

তিনি আরো লেখেন, ‘রুশ যুদ্ধযন্ত্র ইউক্রেনে কত মানুষকে হত্যা করছে তারা (ভারত) তা তোয়াক্কা করছে না।
এই কারণেই আমি ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের শুল্ক উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়াব।’

তবে ট্রাম্প কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে চান, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। বর্তমানে ভারতের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই হার বৃহস্পতিবার থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইসিইউ থেকে বাড়ি ফিরেছে আর্থিক খাত : অর্থ উপদেষ্টা

পতিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আর্থিক খাতকে এমন এক গভীর সংকটে ফেলেছিল, যা অকল্পনীয়। গত এক বছরে খাদের কিনারা থেকে আর্থিক খাতকে স্থিতিশীলতার পথে আনা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব হয়নি এবং এর জন্য সময় প্রয়োজন।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অল্প সময়ের জন্য এসেছি, একটি পথচিহ্ন তৈরি করে দিয়ে যাব। পরবর্তী সরকার সেই পথ অনুসরণ করে অর্থনীতিকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করবে।’

তিনি বলেন, ‘আর্থিক পরিবর্তনের জন্য সময় লাগে।
আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান, প্রক্রিয়া ও ব্যক্তি পর্যায়ে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা গভীরভাবে প্রোথিত। তবে কিছু সৎ ও দক্ষ মানুষ আছেন, তাদের মাধ্যমেই আমরা সংস্কারের চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে আমরা আইসিইউ থেকে কেবিনে এবং কেবিন থেকে বাড়িতে ফিরেছি বললেও ভুল হবে না।’

অনুষ্ঠানে সাবেক ব্যাংকার ও শহীদ ইয়ামিনের বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি।
যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল, তাদের শাস্তি দিতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা লজ্জিত হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ছাত্রদের সঙ্গে জনগণ যুক্ত হলে কখনো কোনো সরকার টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। এবারের আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা অনুপস্থিত ছিলেন, তারা বিক্রি হয়ে গিয়েছিলেন।’

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘জুলাই শহীদদের ত্যাগ আমরা ভুলব না।
৫ আগস্টের আকাঙ্ক্ষা আর্থিক খাতে বাস্তবায়ন করব। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থ উপদেষ্টা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশা করছি।’

তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নেমে এসেছে, সেটি ৫ শতাংশে নামানো হবে। ব্যাংক খাতের গুণগত পরিবর্তনে প্রত্যেক কর্মকর্তার সহযোগিতা চাই। সবার আগে আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

গভর্নর জানান, আর্থিক খাত ঢেলে সাজাতে ‘নতুন ব্যাংক কম্পানি আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। খসড়া ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনটি পাস হলে ব্যাংকিং খাত একটি নির্ধারিত ট্র্যাকে ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি পরিবর্তন হতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তবে আমরা আশাবাদী, পরিবর্তন হবে—এর জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

জুলাই শহীদ পরিবারকে সম্মাননা ও সহায়তা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ৮৫২ জন গেজেটভুক্ত পরিবারের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকগুলো যৌথভাবে শহীদ ও আহতদের ১৬ হাজার পরিবারকে এই উপহার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আজ ও আগামীকাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করবে।

হঠাৎ এক দেশের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

বুরুন্ডি থেকে ভ্রমণকারীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গ্রেট লেকস অঞ্চলের ছোট্ট এই রাষ্ট্রে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সোমবার এমনটাই জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ‘বারবার নিয়ম লঙ্ঘন’কে দায়ী করা হয়েছে।

দারিদ্র্যপীড়িত বুরুন্ডি ছিল সেই সাতটি দেশের একটি, যাদের বিরুদ্ধে গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির আওতায় আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া তার প্রশাসন আরো ১২টি দেশের জন্য পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যাদের বেশির ভাগই আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর অন্তর্গত। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাপক সমালোচনা ও আইনি পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

মার্কিন দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এদিন জানায়, ‘ভিসার নিয়ম মেনে চলা শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, এটি একটি জাতীয় বিষয়ও। দুঃখজনকভাবে, বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে বুরুন্ডির নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
’

এ নিষেধাজ্ঞার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আসুন, আমরা নিয়ম মেনে চলি। কারণ একজন ব্যক্তির কাজ পুরো একটি জাতির জন্য দরজা বন্ধ করে দিতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বুরুন্ডিয়ানদের ১৫ শতাংশের বেশি ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে, যেখানে চাদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৯ শতাংশ ও জাপানের ক্ষেত্রে মাত্র ০.১৫ শতাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুরুন্ডি সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ‘আলোচনা চলমান’ এবং তিনি আশাবাদী।

এর আগে গত জুনে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বুরুন্ডিয়ানদের ভিসা স্থগিত করা হয়। সম্পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ১২টি দেশের মধ্যে রয়েছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বিষুবীয় গিনি, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান।

ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়েছে, সোমালিয়া ও সুদানের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে পাসপোর্ট যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণে ‘যোগ্য’ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভাব রয়েছে। অন্য দেশগুলোর বেলায় অতিরিক্ত হারে ভিসার সময়সীমা অতিক্রম করে থাকার প্রবণতা উল্লেখ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে।

এলজি ইকো সলিউশন প্রেসিডেন্ট জোসাং লির বাংলাদেশ সফর

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিকস প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাটারফ্লাই গ্রুপের ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করলেন বিশ্বখ্যাত কোরিয়ান ব্র্যান্ড এলজির গ্লোবাল ইকো সলিউশন বিভাগের প্রেসিডেন্ট জোসাং লি। এই সময় তার সঙ্গে এলজির অন্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এই সফরে তারা বাটারফ্লাই ফ্যাক্টরির এসি ম্যানুফ্যাকচারিং লাইন ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে রাজধানীর গুলশান-২-এ বাটারফ্লাই গ্রুপের শোরুম হাউস অব বাটারফ্লাইয়ে ভিজিট করেন।

ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে, বাটারফ্লাই গ্রুপের স্টেট-অব-দি-আর্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
বাটারফ্লাই গ্রুপের সাথে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য পৌঁছানো ও তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরো সহজ ও উন্নত করাই তারা লক্ষ্য হিসেব প্রকাশ করেন। একই সাথে বাংলাদেশের বাজারে এলজির সাফল্যের পেছনে বাটারফ্লাই-এর নিরলস পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।

রাজধানীর গুলশান-২ এ হাউজ অব বাটারফ্লাই পরিদর্শন করে তারা গ্রাহক অভিজ্ঞতা, পণ্য ডিসপ্লে ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সফরের প্রতিক্রিয়ায় এলজির কর্মকর্তারা বাংলাদেশের বাজারে বাটারফ্লাই-এর অবদান ও উদ্ভাবনী উৎপাদন সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাটারফ্লাই গ্রুপ ও এলজির অংশীদারিত্ব কেবল পণ্যের সরবরাহ নয়, বরং এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলগত সহযোগিতা। এলজি’র বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন শক্তিকে বাটারফ্লাই দক্ষতার সঙ্গে স্থানীয় বাজারে বাস্তবায়ন করছে—উৎপাদন, বিপণন ও গ্রাহকসেবার প্রতিটি ধাপে। যৌথভাবে তারা কাজ করছে স্মার্ট হোম সল্যুশন, এনার্জি-এফিশিয়েন্ট প্রযুক্তি ও টেকনোলজি ট্রান্সফারকে আরও এগিয়ে নিতে।

বাটারফ্লাই গ্রুপের সেলস ডিরেক্টর মকবুল্লাহ হুদা চৌধুরী বলেন, ‘এলজি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ়তা এনে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক উদ্ভাবনে একসাথে কাজ করার পথ উন্মুক্ত করেছে।
’

এলজি’র পক্ষ থেকে জোসাং লি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক মার্কেট। বাটারফ্লাই-এর মতো নির্ভরযোগ্য ও উদ্ভাবনী অংশীদারের মাধ্যমে আমরা শুধু পণ্য সরবরাহ করছি না, বরং প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং স্মার্ট হোম সল্যুশনসকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতেও আরও গভীর হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

উক্ত অনুষ্ঠানে বাটারফ্লাই গ্রুপের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন হেড অব প্রোডাক্ট, এ. এস. এম মুনতাসির চৌধুরী, ম্যানেজার, কর্পোরেট সেলস, এ টি এম, মাহফুজ হাসান, ডেপুটি ম্যানেজার প্রোডাক্ট, বিপুল কুমার দাস, সহ প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আরেকবার গোলোৎসব বার্সেলোনার

এশিয়া সফরে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। জয়ের ধারাই শুধু অব্যাহত রাখেননি, গোল উৎসবেও মেতেছেন রাফিনিয়া-লামিনে ইয়ামালরা। আজ যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার ক্লাব দেগু এফসিকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে।

প্রতিপক্ষদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেছেন গাভি।
একটি করে গোল করেছেন রবার্ট লেভানদোস্কি, আন্তোনি ফার্নান্দেজ ও ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পাওয়া মার্কাস রাশফোর্ড।

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে শুরু থেকেই দেগুর ওপর আধিপত্য দেখানো শুরু করে বার্সেলোনা। নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন লামিনে। কিন্তু আজ কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি।
কখনো বাইরে মারেন, আবার কখনো প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারের দৃঢ়তায় উল্লাসে মাততে পারেননি তিনি।

অবশ্য প্রথমেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ক্লাবটি। কিন্তু ২০ মিনিটে ফাঁকা গোলবার পেয়ে তাদের ফরোয়ার্ড বলকে জালে জড়াতে পারেননি। দেগু সুযোগ মিস করলেও বার্সেলোনার মিডফিল্ডার গাভি করেননি।
ফিরতি মিনিটেই ডি-বক্সের কাছাকাছি থেকে বাঁ পায়ের মাটি কামড়ানো শটে লিড এনে দেন তিনি।

দুই মিনিট পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। ডান প্রান্ত থেকে লামিনের পাওয়া ক্রসে পা টাও লাগিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু অল্পের জন্য গোলবারের বাইরে দিয়ে যায়। তবে ২৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লেভানদোস্কি। বক্সের মধ্যে থেকে সহজেই প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন গাভি।

ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বল পজিশন ধরে রাখা বার্সেলোনা দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখে। বিরতির পরপরেই ৫৫ মিনিটে করা ফার্নান্দেজের গোলটি তার প্রমাণ। আর প্রতিপক্ষের জালে শেষ পেরেক মারেন রাশফোর্ড। কাতালান ক্লাবের হয়ে অভিষেক গোল পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড।

সর্বশেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ারই আরেক ক্লাব এফসি সিউলকে ৭-৩ গোলে জয় পেয়েছিল বার্সেলোনা। তারও আগে জাপানের ক্লাব ভিসেল কোবেকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল কোচ হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

দেশের মানুষ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাচ্ছে : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষ কথামালার রাজনীতি আর চাচ্ছে না। তারা একটি পরিবর্তন চাচ্ছে। প্রতিশ্রুতি চাচ্ছে না, বরং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাচ্ছে। এই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আমরা আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা করছি।
’

সোমবার (৪ আগস্ট) রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রাঙ্গণে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যুবদলের নিহত ৭৮ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়।

লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়।
এখন আর স্বপ্ন কিংবা প্রতিশ্রুতি চায় না। জনগণ এবার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায়। সেই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা করছি। আগামী দিনের নীতি, জনগণের জীবন উন্নয়নের রাজনীতি, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা—এটি হবে আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য।
অর্থাৎ মানুষের ভোটের অধিকারকে যে রকম নিশ্চিত করা, মানুষের বাকস্বাধীনতাকে যেমন নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে দেশের প্রত্যেকটি মানুষ যার যে যোগ্যতা, সেই হিসেবে তাকে তার অবস্থান থেকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বা স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিএনপির একাধিক টিম দেশের প্রতিটি সেক্টরকে নিয়ে গভীরভাবে কাজ করছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্ল্যান-প্রগ্রাম বা কর্মসূচি আমরা পর্যায়ক্রমে তৈরি করছি। হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগের পরিকল্পনা করেছি আমরা। এই হেলথ কেয়ার নিয়োগের ৮০ শতাংশ হবে যুবসমাজের মধ্য থেকে নারী সদস্য। তারা একদিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটাবে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষ কথামালার রাজনীতি আর চাচ্ছে না। তারা একটি পরিবর্তন চাচ্ছে, প্রতিশ্রুতি চাচ্ছে না। বরং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাচ্ছে। বিএনপি জনগণের জীবন মান উন্নয়নের সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য কিন্তু প্রয়োজন জনগণের সমর্থন। শুধু জনগণের সমর্থনই প্রয়োজন নয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সহযোগিতা। প্রয়োজন বিএনপির প্রতি জনগণের রায়। কারণ আমরা মনে করি, জনগণের রায় বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে যত দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব।’ নেতাকর্মীদের এ পরিকল্পনাগুলো দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা পরিচালনা করে দেখেছি, আগামী দিনে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা যেকোনো মূল্যে সমগ্র দেশে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি আবার শুরু করব। মানুষকে রক্ষায় এই খাল খনন কর্মসূচি একটি অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে।’

পাঁচ বছরে ৩০ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি

গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে পরিবেশ এবং জলবায়ুর পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বোধ হয় কোনো সুযোগ নেই। পরিবেশের ব্যালান্স রক্ষা করার জন্য পাঁচ বছরে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ কোটি গাছ লাগানো। যেই গাছ পরিবেশকে যেমন রক্ষা করবে, একইভাবে বাংলাদেশকে বন্যা, খরা থেকেও রক্ষা করবে।’

শুধু জুলাই-আগস্ট নয়, বিগত ১৭ বছরের ত্যাগীদের সম্মান দেবে বিএনপি

তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার তা আজ এই সমাবেশের মঞ্চে শহীদ পরিবারের সদস্য যারা বসে আছেন তাদের দেখেলেই বোঝা যায়। শুধু জুলাই-আগস্ট নয়, বিগত ১৫ বছর ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীর বাইরেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা অধিকারের কথা তুলে ধরতে গিয়ে, দাবি আদায় করতে গিয়ে পলাতক স্বৈরাচারের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমরা প্রত্যেককে সত্যিকারভাবে সম্মানিত করতে চাই। তাদের ত্যাগের প্রতি যদি সম্মান জানাতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের সামনে এগোতে হবে। এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে হবে। তাদের শ্রদ্ধা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে তারা যে প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে, সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের সম্মান জানানোর একমাত্র উপায়।’

যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখুন। মনে রাখবেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলে আপনি নেতা। জনগণ প্রত্যাখ্যান করলে আপনি নেতা নন। প্রশাসনিক সহায়তায় নেতৃত্ব হয়তো প্রদর্শন করা যায়, কিন্তু জনগণ সহায়তা করলে নেতৃত্ব দেওয়া যায়। মনে রাখবেন, আপনাদের প্রতি জনগণের সমর্থন থাকার কারণেই পলাতক স্বৈরাচারের প্রশাসন কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যুবদলের নেতাকর্মী সমর্থকদের রাজপথ থেকে দূরে রাখতে পারে না। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান জনগণের আস্থায় থাকুন।’