সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

শাকিবের ফিরিয়ে দেওয়া ঈদের সিনেমায় সিয়াম, নায়িকা দীঘি!

বরবাদ সিনেমার পর আসন্ন ঈদে আবারও শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে আসার কথা ছিল মেহেদী হাসান হৃদয়ের। পর পর তিনটি সিনেমার গল্প শোনানো হলেও তা পছন্দ করেননি সুপারস্টার। এরপরই সেই নির্মাতাকে বিকল্প চিন্তা করতে বলেন শাকিব।

এরমধ্যে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের প্রযোজক শাহরিন আক্তারের কথাতেও।
কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, এখন প্রোডাকশন হাউসটি নতুন কাউকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করবে, শাকিব খানকে নিয়ে আবারও আসবেন তারা, তবে সেটি কবে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

এরপর শাকিবের ফিরিয়ে দেওয়া সেই পিওর রোমান্টিক গল্প যায় সিয়াম আহমেদের কাছে এবং তিনি তা পছন্দও করেন। যার দরুণ অবশেষে আসন্ন রোজার ঈদে জুটি হয়ে আসছেন ‘জংলি’ নায়ক ও ‘বরবাদ’ নির্মাতা। এমনটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে একাধিক ঘনিষ্ট সূত্রে।

শুধু তাই নয়, নাম চূড়ান্ত না হওয়া সেই ছবিটিতে সিয়ামের নায়িকা হিসেবে থাকার কথা রয়েছে চিত্রনায়িকা দীঘির। তার সঙ্গে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার আলাপ হয়েছে ছবিটি নিয়ে। নায়িকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সারবেন বলে জানা গেছে।

শোনা গেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কিংবা অক্টোবরের শুরুর দিকে সিনেমাটির ক্যামেরা ওপেন হবে।
শুটিং শেষে ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

এদিকে, সিয়াম আহমেদকে রায়হান রাফীর আরেকটি সিনেমাতে দেখা যাবে, যেখানে তার সঙ্গে থাকবেন চঞ্চল চৌধুরীও।

বাংলাদেশে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়তে চায় চীন

চীনের আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও উচ্চমানের হাসপাতাল পরিষেবা বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বনানীতে হোটেল সারিনায় ‘নি হাও চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা উন্নয়ন প্রদর্শনী’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ কথা জানান। বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথকেয়ার সেন্টার দিনব্যাপী এই এক্সপোর আয়োজন করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যখনই বাংলাদেশ কোনো সমস্যা বা দুর্যোগের মুখোমুখি হয়, তখন চীন আমাদের দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে সেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজীকরণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অবিচল রয়েছে। চীনা মেডিসিন ইকুইপমেন্ট উৎপাদনকারী কম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে।
’

নূরজাহান বেগম বলেন, ‘সম্প্রতি মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার পর চীন আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে। গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় চীন এগিয়ে এসেছিল। শুধু তাই নয়, চীন সরকারের অনুদানের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলে ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ, সরঞ্জাম সরবরাহ, ডাক্তার, নার্স এবং টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা হবে।’

এ ছাড়া জুলাইযোদ্ধাদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চীনের জনগণের এই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কল্যাণকর উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ চীনের জনগণ এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ, বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো সহজীকরণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অবিচল রয়েছে। চীনা মেডিসিন ইকুইপমেন্ট উৎপাদনকারী কম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে।’

স্বাস্থ্যবিষয়ক এই প্রদর্শনীতে চীনের ১০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় হাসপাতাল অংশ নিয়েছে। তারা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সহজলভ্য করতে অন-সাইট ও অনলাইন কনসালটেশন, ভিসা ইনভাইটেশন লেটার ও প্রসেসিং, অনুবাদক সেবা এবং বিমানবন্দর পিকআপ সুবিধাসহ বিভিন্ন সহায়তার কথা তুলে ধরে।

ড. ইউনূসের সরকারকে আমি ওউন করি : জাহেদ উর রহমান

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ড. ইউনূসের সরকারকে আমি ওউন করি। এটা আমার সরকার। সমালোচনা সত্ত্বেও এটা আমার সরকার।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আজ (৮ আগস্ট) এক বছর পূরণ হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তিতে নিজের ‘জাহেদস টেইক’ নামের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই সরকারের যাবতীয় ব্যর্থতা দেখার পরও এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমাকে আবারও ৫ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হবে এবং এই সরকার ড. ইউনূসের নেতৃত্বে হোক এটি আমি চাইতাম কিনা? আমার জবাব হচ্ছে আমি চাইতাম। এই সরকারটা ড. ইউনূসের হাতে হোক আমি সেটাই চাইতাম।’

শেখ হাসিনা-পরবর্তী সময় বাংলাদেশ চালানো সহজ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা কোথায় কোথায় কী ক্ষতি করে দিয়ে গেছে আমরা খুব ভালো করে জানি। দেশের প্রত্যেকটা সিস্টেম নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এই নষ্ট করা সিস্টেমে কাজ করা কতটা কঠিন আমরা যারা খোঁজ রাখি তারা বুঝি।’

তবে বর্তমান সরকারের এর চেয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. ইউনূসকে ওউন করেই তার ব্যর্থতার সমালোচনা করি, যোগ করেন জাহেদ উর রহমান।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আজকে যে বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আছি, আমরা অন্তত মারাত্মক মারামারি-হানাহানিতে জড়িয়ে পড়ছি না। আমাদের বাগবিতণ্ডা আছে, মাঝে মাঝে বক্তব্যে আমরা রেড লাইন ক্রস করি। কিন্তু তারপরও এক জায়গায় থেকে মোটা দাগে আমরা একটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এই ভারসাম্যটুকু রেখে যদি অন্যান্য গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করি তাহলে আমার মনে হয় আমরা অনেক অনেক ভালো আছি।

জুলাই শহীদদের আজীবন মনে রাখতে হবে : উপদেষ্টা আদিলুর

সরকারের শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আমাদের সারাজীবন মনে রাখতে হবে। তাদের অবদানের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। আগামীতে যারাই সরকার গঠন করুক, তাদেরও এটি স্বীকার করতে হবে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতি উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আদিলুর রহমান খান জানান, প্রথম ধাপে সরকার জুলাইয়ের ৮৩৪ জনের বেশি শহীদ পরিবারের হাতে প্রতিশ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ওয়ারিশান সম্পর্কিত সমস্যাগুলো বাদ দিয়ে আহতদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, গণপূর্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সমমনা দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন তারেক রহমান

যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) বাদ জুমা রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আসেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা।

এতে যোগ দেন ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সূচনা বক্তব্যে বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। আসছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

সমমনা দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান হায়দার, সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ডক্টর ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বেগম সেলিম রহমান, এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

ইসরায়েলের গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনায় চীনের ‘গভীর উদ্বেগ’

ইসরায়েলের গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা নিয়ে চীন শুক্রবার ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে ও তাৎক্ষণিকভাবে ‘বিপজ্জনক কার্যক্রম বন্ধ করার’ জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এএফপিকে পাঠানো বার্তায় বলেন, ‘গাজা ফিলিস্তিনি জনগণের ও এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘গাজার মানবিক সংকট নিরসন ও জিম্মিদের মুক্তির সঠিক উপায় হচ্ছে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি। গাজা সংঘাতের পূর্ণ সমাধান যুদ্ধবিরতির ওপর নির্ভর করছে।
একমাত্র এতেই উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি হবে ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, তার প্রস্তাবিত ও নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদিত এক পরিকল্পনার আওতায় ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেবে।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের ফলে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসতে ও ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্ত করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে আছেন নেতানিয়াহু।

হামাসকে ‘পরাজিত’ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতি নেবে ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে বেসামরিক জনগণের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে।

বেইজিং শুক্রবার আরো জানিয়েছে, তারা ‘গাজায় লড়াই যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।’

সূত্র : এএফপি

দেহরক্ষীকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন সালমান

বলিউড ভাইজান সালমান খানের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং দেহরক্ষী শেরা সম্প্রতি তার বাবাকে হারিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েই শোকাহত শেরার পাশে দাঁড়ালেন সালমান খান। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, কাছের মানুষদের প্রতি সালমানের ভালোবাসা চিরন্তন।

সালমান খানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে শেরা তিন দশক ধরে কাজ করছেন। তাদের সম্পর্ক শুধু পেশাদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বন্ধুত্বের এক দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ। গত ৭ আগস্ট শেরার বাবা সুন্দর সিং জলি (৮৮) ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা যান।

খবরটি শেরা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানানোর পরই সালমান তার পাশে এসে দাঁড়ান। বুধবার সন্ধ্যায় ওশিওয়ারার শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এরপরই সালমান শেরার বাড়িতে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, সালমান গভীর আবেগের সঙ্গে শেরাকে জড়িয়ে ধরেছেন। এই দৃশ্য সালমান এবং তার অনুগত দেহরক্ষীর মধ্যকার গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন। অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী এই দৃশ্যের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন, যা মন জয় করে নিয়েছে। এই আবেগঘন মুহূর্তটি সবার হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

কয়েক মাস আগেই শেরা তার বাবার ৮৮তম জন্মদিনে একটি ছবি শেয়ার করে তাকে জীবনের নায়ক এবং অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। শেরার বাবা সুন্দর সিং জলির শেষকৃত্যের মিছিল শুরু হয় তার বাসভবন, ওশিওয়ারার পার্ক লাক্সারি রেসিডেন্স থেকে।

শেরার আসল নাম গুরমিত সিং জলি। একসময় বডি বিল্ডিং-এ সফল ক্যারিয়ার গড়ার পর নব্বই দশকের শুরুতে তিনি সালমান খানের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তার দৃঢ়তা এবং দক্ষতার কারণে তিনি শুধু সালমানের নয়, বরং ক্যাটরিনা কাইফ, হৃতিক রোশন, কারিনা কাপুরের মতো তারকাদেরও নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলেছেন।

এছাড়াও তার সংস্থা ‘টাইগার সিকিউরিটি’ মাইক টাইসন এবং জাস্টিন বিবারের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের নিরাপত্তা প্রদানেও কাজ করেছে। শেরা এখন ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সেলিব্রিটি দেহরক্ষীদের একজন হিসেবে পরিচিত।

ইংল্যান্ডে গুরুতর অভিযোগের মুখে পাকিস্তানি ব্যাটার, নিষিদ্ধ করল পিসিবি

সম্প্রতি পাকিস্তান শাহীন্সের (‘এ’ দল) হয়ে যুক্তরাজ্যে সফর করেছেন তরুণ ব্যাটার হায়দার আলি। গত সোমবার শেষ হওয়া ওই সফর চলাকালে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। এদিকে, তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত হায়দারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ও ইএনপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে অবশ্য হায়দারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেনি। ক্রিকবাজের তথ্যমতে– হায়দারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি যৌন শ্লীলতাহানির। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হলেও তিনি আটক নন বলেও নিশ্চিত করেছেন ম্যানচেস্টার পুলিশ।

এদিকে, ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটারকে নিষিদ্ধ করলেও, আইনি সহায়তার কথা জানিয়েছে পিসিবি। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘যুক্তরাজ্যের আইনি পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখে পিসিবি এবং আমরা তদন্তকে আপন পথে চলতে দেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করি। সে অনুযায়ী হায়দার আলিকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি, যা এই মুহূর্ত থেকে চলমান তদন্তের ফল না পাওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে।’

পিসিবি আরও জানায়, ‘আইনি প্রক্রিয়া যখন শেষ হবে এবং সব সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে যথাযথভাবে, তখন প্রয়োজনে আচরণবিধি অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে পিসিবি। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে তার অধিকার সমুন্নত রাখতেও পিসিবি আইনি সহায়তা দেবে।’

গত সোমবার শেষ হওয়া পাকিস্তান শাহীন্সের যুক্তরাজ্য সফরের দলে সিনিয়র ক্রিকেটার হায়দার। সিরিজে তিনটি ৫০ ওভারের ম্যাচ এবং দুটি তিনদিনের (লাল বলে) ম্যাচেও তিনি খেলেছেন। ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান শাহীন্স ২-১ ব্যবধানে জেতে, আর ড্র হয়েছে দুটি টেস্ট-ই।

পাকিস্তান জাতীয় দলে ইতোমধ্যে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটারের। দুটি ওয়ানডে ও ৩৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন হায়দার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তার চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলেছেন দুটি আসর। ২০২২-২৩ বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে এক ম্যাচ এবং গত বিপিএলে চিটাগং কিংসের হয়ে ১২টি ম্যাচ খেলেন হায়দার।

পুরো গাজার দখল নিতে চায় ইসরায়েল : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সমগ্র গাজার ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

ইসরায়েল কি পুরো গাজা দখল করতে চায়— এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা গাজা থেকে হামাসকে উৎখাত করতে চাই। তবে আমরা গাজা নিজেদের কাছে রাখতে চাই না।
আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী চাই, কিন্তু শাসন করতে চাই না। আমরা এমন আরব শক্তির হাতে গাজাকে তুলে দিতে চাই, যারা সঠিকভাবে শাসন করতে পারবে, আমাদের জন্যও হুমকি হবে না।

নেতানিয়াহু আরো বলেন, আমরা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। গাজা উপত্যকা থেকে হামাসকে উৎখাত করে একটি বেসামরিক শাসনব্যবস্থায় হস্তান্তর করতে চাই।

এদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সমগ্র গাজা দখলে নেতানিয়াহুর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম এক্সিওস। ইসরায়েলি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হামাস। তারা সতর্ক করে বলছে, এই পরিকল্পনার অর্থ হলো নেতানিয়াহু ‘তার ব্যক্তিগত স্বার্থ’ পূরণের জন্য গাজায় অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মিদের ‘বলিদান’ দিতে ইচ্ছুক।
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, নেতানিয়াহু তার ‘গণহত্যা এবং বাস্তুচ্যুত’ করার পদ্ধতি অব্যাহত রেখেছেন।

সমগ্র গাজা দখলের এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ও ইসরায়েলি জিম্মিদের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি তৈরি করবে বলে সকর্তবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, সমগ্র গাজা দখলের পরিকল্পনা ‘একটি বিশাল ভুল’।

গাজা উপত্যকার এক তৃতীয়াংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। চলমান যুদ্ধে নিজের ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।
নতুন করে পুরো গাজা দখল করলে আরো লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।