সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

সালমান খানের ঘনিষ্ঠতা, এবার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে কপিল শর্মা

সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই এবার লক্ষ্যে বলিউড কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মা। কানাডায় তাঁর মালিকানাধীন ক্যাফেতে এক মাসের ব্যবধানে দু’বার গুলি চালিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গ্যাং সদস্য গোল্ডি ধিঁলো প্রকাশ্য অডিও বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেছেন।

অডিও বার্তায় হুমকির সুরে বলা হয়েছে, “সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরেই কপিল শর্মার ক্যাফেতে গুলি চালানো হয়েছে। এবার বুকে সোজা গুলি চলবে। ভবিষ্যতে কেউ সালমানের সঙ্গে কাজ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
বলিউডে আতঙ্ক, পদক্ষেপ ইন্ডাস্ট্রির

সম্প্রতি বলিউড তারকাদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশ প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কপিল শর্মা, সালমান খান, সাইফ আলি খান ও রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকিকে ঘিরে যেভাবে একের পর এক হুমকি ও হামলার ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা বিনোদন জগতে।

ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “পরবর্তী লক্ষ্য কে হতে পারে—তা নিয়ে সবাই আতঙ্কে। এটা শুধু তারকাদের নয়, ইন্ডাস্ট্রির হাজার হাজার মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে।” তারা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছে, যাতে তিনি বিষয়টি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
কানাডায় কপিলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরপর হামলা

কানাডায় ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কপিল শর্মা একটি ক্যাফে চালু করেন। উদ্বোধনের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই আসে হুমকি। ৯ জুলাই গভীর রাতে প্রথমবার সেখানে গুলি চালানো হয়। এরপর ১ আগস্ট রাতে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় তাঁর রেস্তোরাঁয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দ্বিতীয় হামলায় অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। যদিও হতাহতের কোনো খবর নেই, তবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটিতে।
সালমানের পুরনো শত্রুতা, এখনও চলছে হুমকি

সালমান খান ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মধ্যে বৈরিতার সূচনা ১৯৯৮ সালের রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার পর থেকেই। সেই মামলার জেরে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের রোষানলে পড়েন সালমান। এরপর থেকেই তাঁকে ঘিরে একের পর এক হুমকি ও হত্যাচেষ্টা চলে আসছে।

সর্বশেষ, সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে ভারতের প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবা সিদ্দিকিকে হত্যা করেছে বিষ্ণোই গ্যাং।
নিরাপত্তা জোরদার দাবি

এতসব ঘটনার পর বলিউডে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। তারকাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই। কপিল শর্মার ওপর হামলা প্রমাণ করে, শুধু ভারতে নয়—বিদেশেও এখন তারকারা নিরাপদ নন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে রয়েছে বলে জানা গেছে। সালমান খান ও কপিল শর্মার নিরাপত্তা ঘিরে এখন বলিউডে চরম সতর্কতা।

অ্যাপোলো ১৩-কে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পথপ্রদর্শক জিম লাভেল প্রয়াত

প্রয়াত হলেন মার্কিন মহাকাশচারী জিম লাভেল, যিনি ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নাটকীয় উদ্ধার অভিযানকে সফল করে তোলেন ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর অধ্যায়ে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

নাসা এক বিবৃতিতে বলেছে, “তিনি একটি সম্ভাব্য ট্র্যাজেডিকে পরিণত করেছিলেন এক অনন্য সাফল্যে।” মহাকাশযানে বিস্ফোরণের পর চাঁদের যাত্রা স্থগিত হলেও, লাভেলের নেতৃত্বে ক্রুরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন, যা আজও বিশ্বের অন্যতম সাহসী উদ্ধার অভিযানের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।
মহাকাশের পথে যাত্রা

জিম লাভেল জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৮ সালের ২৫ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রে। কৈশোরেই তাঁর আগ্রহ জন্ম নেয় মহাকাশ ও বিমানবিজ্ঞানে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমেরিকান নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করেন। ১৯৬২ সালে নাসার ‘নিউ নাইন’ নভোচারী দলে নির্বাচিত হন লাভেল, যেখানে ছিলেন নীল আর্মস্ট্রং ও জন ইয়াং-এর মতো ভবিষ্যতের কিংবদন্তিরা।

তাঁর প্রথম মহাকাশযাত্রা ছিল জেমিনি ৭ মিশনে, যেখানে ১৪ দিন মহাশূন্যে অবস্থান করে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এরপর জেমিনি ১২ মিশনে বাজ অ্যালড্রিনের সঙ্গে অংশ নিয়ে মহাকাশে কাজ করার দক্ষতা সফলভাবে প্রমাণ করেন।
পৃথিবীর দিকে তাকানো, চাঁদের পেছন থেকে

১৯৬৮ সালের অ্যাপোলো ৮ মিশনে লাভেল ছিলেন প্রথম মানুষদের একজন, যারা চাঁদের পেছনের অংশ দেখেন। এই মিশনে তোলা হয় সেই বিখ্যাত ‘আর্থরাইজ’ ছবি, যেখানে চাঁদের দিগন্তের ওপরে পৃথিবীকে উদিত হতে দেখা যায়—এক মহাকাশ ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
“হিউস্টন, আমাদের একটা সমস্যা হয়েছে”

১৯৭০ সালের এপ্রিলে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় অভিযান—অ্যাপোলো ১৩। লাভেল, জ্যাক সুইগার্ট ও ফ্রেড হাইস চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও, এক অক্সিজেন ট্যাংকের বিস্ফোরণে মহাকাশযান বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জ্যাক সুইগার্ট প্রথম জানান, “আমার মনে হয় আমাদের একটা সমস্যা হয়েছে।” লাভেল তা নিশ্চিত করে ইতিহাসে অমর হয়ে যাওয়া বাক্যে বলেন, “হিউস্টন, আমাদের একটা সমস্যা হয়েছে।”

চাঁদে নামার জন্য প্রস্তুত লুনার মডিউল ‘অ্যাকোয়ারিয়াস’ ব্যবহৃত হয় জীবনরক্ষার আশ্রয় হিসেবে। শূন্য তাপমাত্রা, সীমিত পানি ও খাবারের মধ্যে চার দিন টিকে থাকার লড়াইয়ে তাঁরা জয়ী হন। পৃথিবীতে ফেরার সময় আবার মূল কমান্ড মডিউল ‘ওডিসি’-তে ফিরে যান তাঁরা।

পুনঃপ্রবেশের পর প্রায় ছয় মিনিট রেডিও নীরবতা ছিল, যা দেখে বিশ্বজুড়ে মানুষ ধরে নিয়েছিল তাঁরা বোধ হয় আর ফিরে আসবেন না। অবশেষে ভেসে ওঠে সুইগার্টের কণ্ঠ, প্যারাসুট খুলে যায়, এবং তাঁরা প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেন।
প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা থেকে মানবিক সাফল্যে

অ্যাপোলো ১৩ মিশনকে অনেকে নাসার একটি ব্যর্থতা হিসেবে দেখলেও, এটি একইসাথে তাঁদের অন্যতম সাফল্যের গল্প—চরম বিপর্যয়ের মধ্যে মানুষ বাঁচানোর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শন ডাফি বলেন, “জিম লাভেল আমেরিকার মহাকাশ ইতিহাসে এক সাহসী পথিকৃত।”
অবসরের পর

১৯৭৩ সালে নৌবাহিনী থেকে অবসর নেন জিম লাভেল। এরপর ব্যবসায় ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন। তিনি লিখেছিলেন ‘Lost Moon: The Perilous Voyage of Apollo 13’ নামের আত্মজীবনীমূলক বইটি, যা পরে ১৯৯৫ সালে টম হ্যাঙ্কস অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমায় রূপ নেয়।

সেই সিনেমায় একটি ক্যামিও চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেন লাভেল। পরিচালক চেয়েছিলেন তিনি অ্যাডমিরালের পোশাকে থাকবেন, কিন্তু লাভেল বলেছিলেন, “আমি একজন অধিনায়ক হিসেবে অবসর নিয়েছি এবং আমি অধিনায়ক হিসেবেই থাকব।” নিজের পুরনো ইউনিফর্ম পরেই তিনি সেই দৃশ্যে অংশ নেন—প্রমাণ করে দেন, তিনি শুধু মহাকাশে নয়, নীতিতেও ছিলেন অটল।
এক অনন্য মানুষ

জিম লাভেলের পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা তাঁর অটুট আশাবাদ, রসবোধ আর সবাইকে অসম্ভবকে সম্ভব বলে বিশ্বাস করানোর ক্ষমতাকে খুব মিস করব। তিনি ছিলেন সত্যিকারের এক অনন্য মানুষ।”

জিম লাভেলের জীবন ও কাজ শুধু মহাকাশবিজ্ঞানের জন্য নয়, মানবজাতির ইতিহাসেই এক অনন্য প্রেরণা হয়ে থাকল।

ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার

বাংলাদেশে পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ঢাকায় এসেছেন।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) ঢাকার পাকিস্তান মিশনে তিনি যোগ দিয়েছেন।

ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, শুক্রবার বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ডেপুটি হাইকমিশনার।

ঢাকা মিশনে যোগ দেওয়ার আগে ইমরান হায়দার মায়ানমারে পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
তিনি সৈয়দ আহমেদ মারুফের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত মে মাসে হঠাৎ করেই দুই সপ্তাহের ছুটিতে ঢাকা ছাড়েন মারুফ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছিল, ছুটি শেষ করে ঢাকায় আবার পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সৈয়দ মারুফ। তবে তিনি আর ঢাকা মিশনে যোগ দেননি।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। সেই সফরের আগেই পাকিস্তানের নতুন দূত ঢাকা মিশনে যোগ দিলেন।

গাজা ইস্যুতে ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য থাকলেও লক্ষ্য ‘অভিন্ন’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে বৈঠকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, গাজা সংকট মোকাবেলায় পদ্ধতিগত মতপার্থক্য থাকলেও, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক লক্ষ্য অভিন্ন।

পূর্বে ব্রিটেন ও সেখানকার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সমালোচনা করা ভ্যান্স স্ত্রী উষা ও তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে লন্ডনে পৌঁছে সেখান থেকে শেভনিং প্রাসাদে যান—যা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি গ্রামীণ বাসভবন।

সাংবাদিক ও টিভি ক্যামেরার সামনে দুই নেতা ছিলেন বেশ আন্তরিক। ল্যামি ভ্যান্সকে কেন্ট উপকূলে হাঁটার পরামর্শ দেন এবং ভ্যান্স ব্রিটেনের প্রতি তার ‘ভালোবাসা’ প্রকাশ করেন।

ব্রিটেনের ফিলিস্তিন স্বীকৃতির পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করলে ভ্যান্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের লক্ষ্য এক হলেও তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে কিছু মতপার্থক্য আছে, যা নিয়ে আজ আলোচনা হবে। তিনি আরো স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। স্বীকৃতির প্রকৃত অর্থ কি তা তিনি বুঝতে পারছেন না কারণ সেখানে ‘কার্যকর কোনো সরকারই নেই’।

অন্যদিকে ব্রিটেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ফ্রান্স ও কানাডার সঙ্গে মিলে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা করেছে—যাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চলমান যুদ্ধ ও গাজার মানবিক সংকট নিয়ে চাপ সৃষ্টি হয়।

চেভনিং প্রাসাদের পেছনের হ্রদে শুক্রবার সকালে ভ্যান্স ও ল্যামি একসঙ্গে মাছ ধরেন, দুজনেই নীল শার্ট পরে ছিলেন ও হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেছিলেন। ভ্যান্স মজা করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশেষ সম্পর্কের একমাত্র টানাপড়েন হলো—আমার সব সন্তান মাছ ধরেছে, কিন্তু ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারেননি।’

ল্যামি এক্সে লিখেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরুর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট আমাকে ‘কেন্টাকি স্টাইল’ মাছ ধরার কৌশল শিখিয়েছেন।’

চেভনিংয়ের শান্ত পরিবেশে দুই রাত কাটিয়ে ভ্যান্স পরিবারকটসওল্ডসে যাবে—যা ইংল্যান্ডের মনোরম গ্রামাঞ্চল এবং ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জনপ্রিয় অবকাশকেন্দ্র।

আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ভ্যান্সের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সফর হচ্ছে। ভ্যান্স এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসছেন।

পরিকল্পনায় অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি কাজের সফর, যাতে থাকবে একাধিক সরকারি বৈঠক, সাংস্কৃতিক স্থান পরিদর্শন ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

ভ্যান্স ও ল্যামি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

চেভনিং প্রাসাদের বাইরে কিছু বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিল। কেউ কেউ ফিলিস্তিনি পতাকা নাড়াচ্ছিল, আর একজন ভ্যান্সের টাক মাথার ছবি দিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গ-সংবলিত পোস্টার ধরে ছিলেন।

সূত্র : রয়টার্স

পুতিন-মোদির ‘খুবই ভালো’ ফোনালাপ

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুক্রবার ‘খুবই ভালো’ কথোপকথন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারা ইউক্রেন প্রসঙ্গ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এদিন মোদি লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে খুব ভালো ও বিস্তারিত কথা হয়েছে। ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য শেয়ার করায় আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
এই বছরের শেষ দিকে আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ভারতে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি।’

দুই নেতার এই টেলিফোন আলাপ এমন এক সময় হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে লক্ষ্য করে কঠোর শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হবে। কারণ ইউক্রেনে মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মূল অর্থনৈতিক উৎসগুলোর একটি এ তেলের রাজস্ব।

প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ শুল্ক বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে, আর বাকি অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ তিন সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে।

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় ভারত আমদানি খরচে বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে, যার ফলে দেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ এবং দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক সোভিয়েত যুগ থেকেই বিদ্যমান।

অন্যদিকে ক্রেমলিন কোনো দেশের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাপ প্রয়োগের আহ্বানকে ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছে, যদিও ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেনি তারা।

এর আগে পুতিন বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এদিকে ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে একটি শীর্ষ বৈঠক ‘আসন্ন কয়েক দিনের মধ্যেই’ অনুষ্ঠিত হবে বলে ক্রেমলিন জানিয়েছে।

সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : শফিকুল আলম

গত বছর থেকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী—এমন ইঙ্গিতকে তারা ‘দৃঢ় ও দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখ্যান করে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, তারা (সরকার) স্বচ্ছতা, সুরক্ষা ও স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এই মৌলিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির জন্য সকল অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান তারা।

তবে তিনি বলেন, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সাম্প্রতিক বিবৃতিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যের সুবিধাপ্রাপ্তির অবস্থা সম্পর্কে উত্থাপিত উদ্বেগকে স্বীকার করেন।

প্রেসসচিব বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো গণমাধ্যম সংস্থার সম্পাদকীয়, পরিচালনাগত বা ব্যবসায়িক দিকগুলোতে হস্তক্ষেপ করেনি।

তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘রেসপন্স টু নোয়াব: সেটিং দ্য রেকর্ড স্ট্রেইট’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমরা ভুল তথ্য এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সম্প্রচারের মুখেও ব্যতিক্রমী সংযম ব্যবহার করেছি।’

তিনি আরো বলেন, টেলিভিশন টক শো এবং কলামগুলোতে প্রায়শই এই সরকার সম্পর্কে মিথ্যা এবং উসকানিমূলক দাবি প্রকাশিত হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘তবুও, আমরা সেন্সর করিনি বা প্রতিশোধও নিইনি।
আমরা অভিযোগ করিনি, এমনকি উসকানি দেওয়ার পরেও লাইসেন্স স্থগিত করিনি, বরং অতীতের শাসনামলে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া কিছু গণমাধ্যমের পুনঃপ্রকাশ বা সম্প্রচারে ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করেছি।’

তিনি বলেন, এটি স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে।

সরকারে প্রবেশাধিকার অবাধ রয়েছে

সীমিত প্রবেশাধিকারের অভিযোগের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের আমাদের উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীদের কাছে উন্মুক্ত ও সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিককে তাদের আউটলেট বা সম্পাদকীয় অবস্থানের কারণে সাক্ষাৎকার বা ব্রিফিং থেকে বঞ্চিত করা হয়নি।
‘আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি এবং আমাদের আচরণ তা প্রতিফলিত করে।’

সচিবালয় প্রবেশ প্রক্রিয়ার সংস্কার

সংশোধিত প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার সমালোচনা কেবল ভুলভাবে উপস্থাপন করা নয় বরং ভুল তথ্যও, প্রেসসচিব বলেন।

তিনি বলেন, আগের ব্যবস্থাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যার ফলে প্রবেশাধিকারপত্রগুলো এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়, যাদের কোনো বৈধ সাংবাদিকতার কাজ নেই। তাদের মধ্যে কিছু রাজনীতিবিদ, লবিস্ট এবং সুবিধাবাদী ছিলেন—যারা বিশেষভাবে প্রাপ্ত প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে নীতিকে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা সেই ভঙ্গুর কাঠামো ভেঙে দিয়েছি এবং এটিকে একটি অস্থায়ী পাস ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছি, যা প্রতিটি প্রকৃত সাংবাদিকের সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকা নিশ্চিত করবে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘এই সংস্কার প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়, বরং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রক্রিয়ার স্থলে সততা স্থাপন করার জন্য ছিল।’

প্রেসসচিব বলেন, আগের প্রবেশাধিকার নীতিতে স্বীকৃত সাংবাদিকদের সরকারের সুরে গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আগের নীতিমালায় সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু অপমানজনক ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধন করেছে।

‘বর্ধিত নবায়ন সময়সীমার সঙ্গে নতুন স্বীকৃতিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে,’ উল্লেখ করেন আলম।

চাকরির নিরাপত্তা

শফিকুল আলম বলেন, ‘এটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত, যেসব সাংবাদিককে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারি নির্দেশে নয়। বরং গণমাধ্যম মালিকদের নেওয়া সম্পাদকীয় এবং কৌশলগত করপোরেট পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের ফলে তা করেছেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্দেশ বা চাপ নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের প্রতিফলন ঘটায়।’

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা : একটি পারস্পরিক দায়িত্ব

শফিকুল আলম বলেন, তারা সাংবাদিকসহ সব নাগরিকের শারীরিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদার প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি অগ্রাধিকার। তবে এই দায়িত্ব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সরকার ও এর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।

নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশের প্রতি তাদের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তিনি বলেন, এই বছরের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন একটি নতুন ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’সহ সংস্কারের প্রস্তাব করেছে, যাতে আইনি সুরক্ষা বৃদ্ধি করা যায় এবং সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ের কারণে সৃষ্ট স্ব-সেন্সরশিপ কমানো যায়।

প্রেসসচিব বলেন, ‘সরকার প্রস্তাবিত আইনটি জারি করার কথা বিবেচনা করছে।’

শিল্পের মধ্যে প্রতিফলনের আহ্বান

শফিকুল আলম বলেন, ‘যদিও আমরা গঠনমূলক সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, তবে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি নোয়াব দোষারোপ করার আগে নিজেরাই দেখুক।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘তাদের অবশ্যই তার নিজস্ব সদস্যদের কর্মকাণ্ড যাচাই করতে হবে এবং সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। বিশেষ করে যখন মজুরি শোষণ, শ্রম অধিকার অস্বীকার, পর্যাপ্ত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করা এবং অসহনীয় কর্মপরিবেশের অভিযোগের ক্ষেত্রে।’

শফিকুল আলম বলেন, একটি সূক্ষ্ম সংকটকালীন সময় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন হিসেবে তারা গণমাধ্যম যাতে ভয় বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করতে পারে—তা নিশ্চিত করার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো বজায় রেখেছে।

প্রেসসচিব বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের কাছে কেবল একটি স্লোগান নয়; এটি এমন একটি নীতি, যা আমরা মেনে চলি।’

তিনি বলেন, নোয়াবের উদ্বেগগুলো যদি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক পক্ষগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়, তাহলে তা আরো বেশি গুরুত্ব পাবে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘ঘটনার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে করা অভিযোগগুলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নেয় না, তারা কেবল বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।’

কারো সন্তানের জীবন আপনার কনটেন্ট তৈরির ‘আইটেম’ নয় : অপূর্ব

প্রায় সাত মাস পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় তারকা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। দেশে ফিরেই একমাত্র সন্তান জায়ান ফারুক আয়াশকে দিতে চাইলেন এক অবিস্মরণীয় চমক।

নিজের ঘরে ঢুকতেই অপূর্ব দেখেন, আয়াশ মিষ্টি ঘুমে আচ্ছন্ন। বাবার স্নেহমাখা স্পর্শে ঘুম ভাঙতেই চোখ মেলে দেখেন প্রিয় মানুষটিকে।
মুহূর্তেই আবেগে ভেসে যায় ছোট্ট আয়াশের মুখ। বাবা-ছেলের সেই নিখাদ ভালোবাসার দৃশ্য ধরা পড়ে অপূর্বর ক্যামেরায়, যা তিনি শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কিন্তু সেই আবেগঘন ভিডিও নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় কিছু ভিত্তিহীন মন্তব্য ও নেতিবাচক আলোচনা। এবার বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন অপূর্ব।

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লেখেন, ‘কিছু মানুষের সত্য-মিথ্যার বোধ নেই, ন্যূনতম সম্মানবোধও না। কিছু মানুষের গসিপ আর মিথ্যার কারখানা সমাজকে বিষাক্ত করে। আর কিছু গড়পড়তা মানুষরা, যাচাই না করেই শেয়ার করেন, রিঅ্যাক্ট দেন, ভুল বিচার করেন। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা নিয়েও চলে নোংরা বিচার ও আজেবাজে কথাবার্তা।
এটা শুধু লজ্জাজনকই নয়, চরম অমানবিকও। আর যারা এই কাজগুলো করেন তাদেরকে আমি কোনো জ্ঞান দিতে যাব না। কারণ যাদের পরিবার তাদের ভেতর কোনো মূল্যবোধ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে, যাদের সমাজ মানবিকতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদেরকে কোনো জ্ঞান দিয়ে লাভ হবে না।’

এরপর এই অভিনেতা আরো লেখেন, “যাদের মস্তিষ্ক, হৃদয়ে নেগেটিভিটির ক‍্যান্সার তাদেরকে, মা-বাবা তাদের সন্তানকে কতটা ভালোবাসে সেটা প্রমাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
কারণ এই অভাগারা জানে না প্রতিটা বাবা-মায়ের কাছেই তাদের সন্তান জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। তার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি কান্না, প্রতিটি অর্জন— সবকিছু তারা নিজের হৃদয়ে অনুভব করে। সন্তানের হাসি-কান্না তার প্রতিটা অনুভূতি পিতা-মাতার প্রতিটি দিনকে করে তোলে উজ্জ্বল ও অর্থবহ। তারা জানে না আপনি আপনার সন্তানকে যতটা ভালোবাসেন অন্য একজন পিতা-মাতাও তার সন্তানকে ঠিক ততটাই ভালোবাসেন। নিজেকে উত্তম আর অন্যকে অধম ভাবার মতো অসুস্থতা থেকে আপনারা দ্রুত সেরে উঠুন, সেই প্রত্যাশা করি। আমার বা অন্য কারো সন্তান নিয়ে মনগড়া কোনো ভুল মন্তব্য করার আগে ভেবে নিন। আপনি যদি সত্য না জানেন, তবে নীরব থাকুন। কারণ কারো সন্তানের জীবন আপনার কনটেন্ট তৈরির ‘আইটেম’ নয়।”

বাবা-ছেলের জন্মদিন আজ

ইতিমধ্যে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর জন্য তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেও জানান নাটকের এই ‘বড় ছেলে’। তিনি বলেন, ‘আর যে কিছু ভুঁইফোড়, নিচু মানসিকতার মানুষ ব্যস্ত অন্যের চরিত্র হননে! যারা এতটাই নিচ যে পিতা-পুত্রের গভীর ভালোবাসার মধ্যেও অন্য কিছু খোঁজার চেষ্টা করেছেন। মিথ্যা তথ্য আর গাঁজাখুরি বানানো গল্পের আশ্রয় নিয়ে ভিউ পাওয়ার আশায় সাধারণের কাছে এমন কিছু পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হোন আমার সন্তান ও আমার পরিবারের নামে! যারা চেষ্টা করেছেন সাংবাদিকতা নামক মহান পেশাকেও কলংকিত করতে এসব হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ইউটিউব চ্যানেল বা পেইজগুলো দিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করে আনাও হয়েছে। বাকিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে খুব শিগগির। আর এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে ধন্যবাদ। সবাই মিলে একটা সুস্থ সমাজ গড়ে তুলি, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিই।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৪ জুলাই পারিবারিকভাবে নাজিয়া হাসান অদিতিকে বিয়ে করেন অপূর্ব। এরপর ২০১৯ সালে মিউচুয়ালি আলাদা হয়ে যান তারা এবং বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন।

ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ আগ্রাসনের মাধ্যমে যুদ্ধটি শুরু হয়েছিল।

ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ’ করতে পারবেন।
তবুও একাধিক শান্তি আলোচনা, ফোনালাপ ও কূটনৈতিক সফর সত্ত্বেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এই সম্মেলন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে :

কখন
উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে, এক শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে এবং আগামী সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বুধবার বলেন, পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক ‘খুব শিগগিরই’ হতে পারে।
পরে বৃহস্পতিবার তিনি আরো বলেন, ‘তারা আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়, আর আমি হত্যাকাণ্ড বন্ধে যা পারি, করব।’

পুতিন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘উভয় পক্ষই এক শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আগ্রহ দেখিয়েছে।’

অন্যদিকে ক্রেমলিন উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, ‘পরবর্তী সপ্তাহকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলেনস্কি কি থাকবেন
এদিকে জেলেনস্কি এই বৈঠককে ত্রিপক্ষীয় রূপ দিতে চাচ্ছেন এবং তিনি বারবার বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎই শান্তির পথে অগ্রগতির একমাত্র পথ।

ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।

পুতিন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি এর বিরুদ্ধে নই, সাধারণভাবে এটা সম্ভব, তবে এর জন্য কিছু শর্ত তৈরি করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমরা এখনো সেসব শর্ত তৈরির কাছাকাছি যাইনি।’

গত জুনে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনায় রুশ প্রতিনিধিরা বলেছিলেন, একটি পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক কেবল তখনই হতে পারে, যখন আলোচনার ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ উভয় পক্ষ শান্তির শর্তে সম্মত হবে।

এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, ওদের (পুতিনকে) জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’

কোথায়
এখনো পর্যন্ত সম্মেলনের স্থান নির্ধারিত হয়নি। ক্রেমলিনের উপদেষ্টা উশাকভ বলেছেন, উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একটি স্থান নিয়ে একমত হয়েছে, তবে তিনি সেটি প্রকাশ করেননি। হোয়াইট হাউস আবার জানিয়েছে, কোনো স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

পুতিন সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নাম উল্লেখ করেছেন এবং একে ‘একটি যথেষ্ট উপযুক্ত জায়গা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এ ছাড়া তুরস্কও তালিকায় রয়েছে, যেখানে এ বছর ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনার তিনটি ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবও সম্ভাব্য আয়োজক, যেখানে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যুক্তরাষ্ট্র পৃথকভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছিল।

গণমাধ্যমে চীনের নামও সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে উঠে এসেছে। গুঞ্জন রয়েছে, সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ও পুতিন—দুজনই চীন সফর করতে পারেন এবং সে ক্ষেত্রে স্বাগতিক হতে পারেন প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। গত মাসে ক্রেমলিনও এই সম্ভাবনাকে নাকচ করেনি।

তবে ইউক্রেনের মিত্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো, যেমন ফিনল্যান্ড তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, যেখানে ২০১৮ সালে ট্রাম্প-পুতিন সম্মেলন হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পক্ষ থেকে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় অনেক দেশই সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে অযোগ্য হতে পারে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

আলোচনার অবস্থান
দ্রুতগতির কূটনৈতিক তৎপরতা ও একাধিক শান্তি আলোচনার পরও রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছয়নি। যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপের পক্ষ থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জুনের আলোচনায় রাশিয়া কয়েকটি শর্ত তোলে : ইউক্রেনকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে সেই চারটি অঞ্চল থেকে, যেগুলো মস্কো ‘সংযুক্ত’ করার দাবি করছে; ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে হবে; পশ্চিমা সামরিক সহায়তা ত্যাগ করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পথ ত্যাগ করতে হবে।

কিয়েভ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে জানিয়ে বলেছে, তারা কখনোই রাশিয়ার দখল করা স্বদেশীয় ভূখণ্ডকে স্বীকৃতি দেবে না। তবে তারা এ-ও বলেছে, এসব এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিক পথে করতে হবে।

এ ছাড়া ইউক্রেন পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায়, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।

বাংলাদেশকে কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় তারেক রহমানের

আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ১২ দলীয় সমমনা জোট, এলডিপি এবং লেবার পার্টির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। আসছে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান এবং ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

সমমনা দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান হায়দার, সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ডক্টর ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

সাত বছর পর জিম্বাবুয়ে দলে ফেরার অপেক্ষায় ক্রেমার

দীর্ঘ বিরতির পর দেশের ক্রিকেটে ফিরলেন সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ও লেগস্পিনার গ্রেম ক্রেমার। ৩৮ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ন্যাশনাল প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আফ্রিকা আঞ্চলিক বাছাইপর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের নেতৃত্ব দেওয়া ক্রেমার ক্রিকেট ছেড়ে গলফে মনোযোগ দেন এবং পরে পরিবার নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান।
সেখানে কোচিংয়ের পাশাপাশি রাজস্থান রয়্যালস একাডেমিতেও কাজ করেছেন তিনি। তবে ঘরের মাঠে ফিরেই তাকাশিঙ্গা প্যাট্রিয়টস ১-এর হয়ে মাত্র দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে জানান দিয়েছেন নিজের ক্ষুরধার ফর্মের কথা।

গত ৩ আগস্ট কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের ১৩৪ রানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ক্রেমার। সেই ম্যাচে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরেছেন ব্রেন্ডন টেলরও।
মাঠে দুই অভিজ্ঞ তারকাকে একসঙ্গে দেখে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জিম্বাবুয়ে আয়োজিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আফ্রিকা আঞ্চলিক বাছাইপর্ব। আট দলের এই টুর্নামেন্ট থেকে শীর্ষ দুই দল পাবে মূলপর্বে খেলার সুযোগ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ (সহ-আয়োজক জিম্বাবুয়ে) সামনে রেখে ক্রেমার-টেলরের এই প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।

গতবার যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে খেলতে পারেনি উগান্ডার কাছে বাছাইপর্বে হেরে। আর ২০১৫ সালের পর কোনো ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি (২০১৯ ও ২০২৩—দুটো আসরেই বাদ পড়েছে)।