সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

মায়ামির পরের ম্যাচে খেলছেন না মেসি

ডান পায়ের হালকা পেশির চোটের কারণে সোমবার ভোরে অরলান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচে খেলবেন না ইন্টার মায়ামির সুপারস্টার লিওনেল মেসি। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো।

গত সপ্তাহে লিগস কাপের নেকাক্সার বিপক্ষে ম্যাচে এই চোট পান ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা। যদিও তার চোট গুরুতর নয়, তবু ঝুঁকি এড়াতে তাকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাসচেরানো বলেন, ‘লিও ঠিক আছে, কিন্তু সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো থাকায় ঝুঁকি নেওয়া বোকামি হবে। আমরা আশাবাদী, সে দ্রুত ফিরবে।’

এই মৌসুমে এমএলএসে এখন পর্যন্ত ১৮ গোল করেছেন মেসি। যা ন্যাশভিল এসসির স্যাম সুররিজের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে।
এ ছাড়া তার ঝুলিতে রয়েছে ৯টি অ্যাসিস্ট।

অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচের পর আগামী শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিকে আতিথ্য দেবে ইন্টার মায়ামি। এরপর ২০ আগস্ট ফোর্ট লডারডেলে লিগস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে টাইগ্রেস ইউএএনএল।

ট্যামি ব্রুসকে এবার জাতিসংঘের উপপ্রতিনিধি মনোনীত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসকে এবার জাতিসংঘের উপপ্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিনেটে মনোনয়ন অনুমোদিত হলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, জানুয়ারিতে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্রুস এই পদে দারুণ কাজ করেছেন।

সরকারে যোগদানের আগে ট্যামি ব্রুস ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফক্স নিউজের রক্ষণশীল ধারার বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি একাধিক বইয়ের লেখক।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ট্যামি ব্রুস— একজন মহান দেশপ্রেমিক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও বেস্টসেলিং লেখককে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী উপ-প্রতিনিধি (অ্যাম্বাসেডর র‌্যাঙ্কে) হিসেবে মনোনীত করছি।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই ট্যামি স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অসাধারণ কাজ করেছেন।
তিনি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রকে দারুণভাবে উপস্থাপন করবেন।’

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত মাইক ওয়াল্টজকেও এখনো সিনেট অনুমোদন দেয়নি। বর্তমানে এই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২০২৪ সালে উপ-প্রতিনিধি থাকা কূটনীতিক ডরোথি শি।

লন্ডনে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার ৪৬৬

লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে পার্লামেন্ট স্কয়ারে এক বিক্ষোভ থেকে শনিবার (৯ আগস্ট) অন্তত ৪৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের একটি গ্রুপকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস নামের একটি ক্যাম্পেইন গ্রুপ এ বিক্ষোভের আয়োজন করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পুলিশ জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর পক্ষে সমর্থন জানানোয় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিক্ষোভের শুরুতে পার্লামেন্ট স্কয়ারে ৫০০-৬০০ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেক দর্শক, সাংবাদিক ছিলেন। আবার এমনও অনেকে ছিলেন, যাদের হাতে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে কোনো প্ল্যাকার্ড ছিল না। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থন করার অভিযোগে অন্তত ৪৬৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনসহ সাতজন আটক হয়েছে। তবে পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত হননি।

ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ফিলিস্তিনি পতাকার মতো সাদা-কালো স্কার্ফ পরেছেন। তাদের ‘আপনাদের লজ্জা পাওয়া উচিত’ এবং ‘গাজা থেকে হাত গুটাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা গেছে।
পাশাপাশি ‘আমি গণহত্যার বিরোধী, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক’-এর মতো বিভিন্ন স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করতেও দেখা গেছে।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থনের প্রতিবাদে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর কিছু সদস্য যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ করে কিছু উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতারা গ্রুপটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করেন। নিষিদ্ধ হওয়া ওই গ্রুপের সদস্য হওয়া যুক্তরাজ্যে এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যার সাজা হিসেবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরি গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আনার অনুমতি পেয়েছেন।

সূত্র : আলজাজিরা

মায়ের অসুস্থতার প্রমাণ মেলেনি, আলোচিত পরীক্ষার্থী আনিসার পরীক্ষা হচ্ছে না

সম্পাদক, ইমার হোসেন ইমু:

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদের মায়ের অসুস্থতার দাবির কোনো প্রমাণ পায়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে, বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া রাজধানীর এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ শেষ পর্যন্ত বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। মায়ের স্ট্রোকের কারণে পরীক্ষায় এক ঘণ্টা দেরি করে পৌঁছানোর যে দাবি তিনি করেছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে, বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার পূর্ব প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

গত ২৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রের সামনে কান্নারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা আনিসার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবির সঙ্গে জানানো হয়— ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আনিসা সেদিন সকালে মায়ের আকস্মিক স্ট্রোক হওয়ায় তাকে একাই হাসপাতালে নিয়ে যান। এতে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

ঘটনাটি মানবিক সহানুভূতি সৃষ্টি করে এবং দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এমনকি শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারও জানিয়েছিলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় আনিসার পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের গঠিত দুটি পৃথক তদন্তকারী দল ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, আনিসার মায়ের অসুস্থতার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ঘটনার সঙ্গে বাস্তবতার অমিল রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, “আনিসার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেই।” প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থী প্রথম পত্রে অংশ নিতে না পারলেও দ্বিতীয় পত্রে অন্তত ৬৬ নম্বর পেলে উভয় পত্রে পাস হিসেবে গণ্য হবে।

তদন্তের ফলাফল ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিষয়ে জানতে আনিসা আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। যে ঘটনা শুরু হয়েছিল মানবিক আবেদন দিয়ে, সরকারি তদন্ত শেষে তা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

শুধু স্বৈরশাসক নয়, হাসিনা ছিল মাদকের নেত্রী : এ্যানি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শেখ হাসিনা শুধু স্বৈরশাসক নয়, সে ছিল মাদকের নেত্রী, সমাজ ধ্বংসের নেত্রী। তার অপরাজনীতি বাংলাদেশের মানুষের ওপর আর যেন আঘাত হানতে না পারে।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড প্রতিনিধি নির্বাচনে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘হাসিনা এখন দেশের বাইরে বসে ষড়যন্ত্র করছে।
বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশের মদদে মাদক দিয়ে যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ ও তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কারণ যুবক, তরুণ, ছাত্র—এরা হলো পাহাড়-পর্বত পরিমাণ শক্তি। এরা পাওয়ার হাউস। এই পাওয়ার হাউসটাকে ধ্বংস করতে পারলে পার্শ্ববর্তী দেশ মনে করে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘মাদক আমাদের শেষ করে দিয়েছে। এটা সমাজ, মানবিকতা এবং পরিবারগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘আইটি (তথ্য-প্রযুক্তি) কিংবা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট)-এর মাধ্যমে কেউ যেন বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে না পারে, সে জন্য নির্বাচনী এলাকায় একটি আইটি গ্রুপ ও অনলাইন অ্যাক্টিভেট গ্রুপ তৈরি করতে হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, রায়পুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সদস্যসচিব সফিকুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাবুদ্দিন সাবু প্রমুখ।

‘তেরে নাম’ অভিনেত্রীকে ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি সালমানের!

২২ বছর আগে সালমান খানের ক্যারিয়ারে যখন খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছিল না, ঠিক তখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘তেরে নাম’। সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিস সাফল্যে অভিনেতার ভাগ্যের চাকাও ঘুরে যায়। সে সময় ক্যারিয়ার ম্লান থাকলেও মেজাজে কোনো ভাটা ছিল না ভাইজানের। এক অভিনেত্রীকে সে সময় হুমকি দিয়েছিলেন, ভয় দেখিয়েছিলেন সালমান!

ঘটনাটি ২০০৩ সালের।
‘তেরে নাম’ ছবিতে ভূমিকা চাওলার বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ইন্দিরা কৃষ্ণন। এক দৃশ্যে ভূমিকা ও তার বোনের সঙ্গে সালমানের বিরোধ দেখানোর কথা ছিল। শুটের ফাঁকে সালমান মজা করেই ইন্দিরাকে ভয় দেখাতে শুরু করেন—বললেন, যদি তার গায়ে হাত লাগে, তাহলে নাকি ক্যারিয়ার শেষ করে দেবেন! এমনকি ইন্ডাস্ট্রিতে তার কাজ পাওয়াও বন্ধ করে দেবেন।

শুধু তা-ই নয়, এই বলেও ভয় দেখাতেন যে, যদি তিনি দৃশ্য অনুযায়ী মারেন, তবে সংবাদমাধ্যমে গিয়ে বলবেন, ‘তুমি আমাকে মেরেছো।
’

এমন কথা শুনে হতভম্ব ইন্দিরা কান্না শুরু করে দেন। সালমানের দেহরক্ষীও এসে বারবার সতর্ক করতে থাকেন, ‘ভাইয়ের গায়ে হাত দিলে কিন্তু রক্ষা নেই!’ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এমনটা চলতে থাকে। শেষে সালমান হাসিমুখে জানান, সবটাই নাকি মজার ছলে করা হয়েছিল।

সেটে সালমান বরাবরই হাসিখুশি ও রসিক স্বভাবের জন্য পরিচিত।
সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে এভাবেই দুষ্টুমি করতে পছন্দ করেন বলিউড ‘ভাইজান’।

দেশের ৭০ হাজার কারাবন্দিকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : ধর্ম উপদেষ্টা

দেশের ৬৮টি কারাগারে প্রায় ৭০ হাজার কয়েদি ও হাজতিকে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার জন্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নামাজের ব্যবস্থা, নৈতিকতা ভিত্তিক বইপুস্তক ও জায়নামাজ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি শুরু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কারাগারে ভিন্ন ধর্মালম্বী কয়েদিরাও নিজ ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছেন।
অল্প দিনের মধ্যেই প্রথম কিস্তিতে বিপুলসংখ্যক ধর্মীয় বই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেছেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, আগে কারাগারে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার তেমন কোনো উদ্যোগ ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই কারাবন্দিদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জ কারাগারে ২৫০০ বন্দি পবিত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, কারাগারে বন্দিদের মধ্যে নৈতিকতা ও আদর্শ মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে, যাতে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে সুষ্ঠু ও ভালো জীবন যাপন করতে পারে। এ জন্য প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরো জানান, কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সব সময় সচেষ্ট রয়েছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে লাইব্রেরি পরিচালনা ও ধর্ম শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম চলছে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কারাবন্দিরা যার যার ধর্ম অনুযায়ী শিক্ষা নিলে মনীষীদের জীবন থেকে নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ অর্জন করতে পারবে। এ জন্য বই বিতরণ ও শিক্ষক নিয়োগ বাড়ানো হবে। বর্তমানে ইসলামী ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক কারাগারে এসংক্রান্ত কাজ করছেন। আগামীতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘কারাগারে থাকা সবাই অপরাধী নয়, অনেকেই মিথ্যা মামলায় বন্দি। তাই আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। আমরা কারাগারকে প্রকৃত অর্থে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

আদিবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও শঙ্কায় ভরা : সন্তু লারমা

আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

তিনি বলেছেন, ভূমি থেকে উচ্ছেদ, নারী নিপীড়ন, বৈষম্য, বিচারহীনতাসহ নানা কারণে প্রান্তিক থেকে আরো প্রান্তিক হচ্ছে আদিবাসী জনগণ। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমেও আদিবাসী নেতৃত্বের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি। কাজেই আদিবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ও শঙ্কায় ভরা।

শনিবার (৯ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সন্তু লারমা।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত সন্তু লারমার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পল্লক চাকমা। লিখিত বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, ‘পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরা এখনো হুমকির মধ্যে জীবন যাপন করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে তারা ক্রমে ভূমিহীন ও দেশান্তরী হচ্ছে।
পাহাড়ের আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে সম্পাদিত পার্বত্য চুক্তি দীর্ঘ ২৮ বছরেও এই রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বরং নতুন নতুন সমস্যা-সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর সমতলের আদিবাসীদের অবস্থা আরো নাজুক। এই অবস্থায় আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই জোরদার এবং গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রগতিশীল আদর্শের কোনো বিকল্প নেই।
’

ঐক্য ও সংহতি সুদূঢ়করণে আদিবাসী তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছর আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বার্থক প্রয়োগ’। আমি মনে করে, এই প্রতিপাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে জাতিসংঘ যে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে তা হলো, তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লবী নতুন মাত্রা হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে, তা আদিবাসী জনগণের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক দিকগুলো কাটিয়ে উঠে তার সার্থক প্রয়োগের মাধ্যমে আদিবাসী জীবনের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এক বছরেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রের বিমাতাসুলভ আচরণের পরিবর্তন হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলেও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রক্রিয়ায় ৫০টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
অতীতে আদিবাসীরা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এখনো সেভাবেই চলছে। তবুও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি চলমান বৈষম্য নিরসন করে তাদের অধিকার সংরক্ষণে আন্তরিক হবে রাষ্ট্র, এমনটাই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপনের দাবি জানিয়ে জানিয়ে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সময়সূচিভিত্তিক রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে বিকৃত, খণ্ডিত বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা সব গণমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর সব নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করাসহ সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত ‘আদিবাসীবিষয়ক ঘোষণাপত্র’ ও আইএলও ১৬৯ নম্বর কনভেনশন অনুসমর্থন ও আইএলও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন করতে হবে।

আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ঢাকাস্থ জুম্ম জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি ড. অজয় চাকমা, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে কিশোরের গুলিবর্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণ গুলি চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এ তথ্য জানিয়েছে।

এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে ৪৪তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ এভিনিউয়ের সংযোগস্থলে, যা শহরের ব্যস্ততম পর্যটনকেন্দ্র থিয়েটার জেলার মাঝামাঝি অংশে অবস্থিত। স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে এক বিবাদের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে এনওয়াইপিডির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।

গুলিতে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর ঘাড়ে সামান্য আঘাত লাগে, আর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ ও ৬৫ বছর বয়সী এক পুরুষের পায়ের নিচের অংশে গুলির আঘাত লাগে। তবে কারো আঘাতই প্রাণঘাতী নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহত তিনজনকে নিউইয়র্ক সিটির বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুখপাত্র আরো জানান, অপরাধীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো গঠন করা হয়নি।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে ম্যানহাটনের একটি বহুতল ভবনে এক বন্দুকধারী চারজনকে গুলি করে আহত করার পর আত্মহত্যা করেছিল।

দেশে বনভূমির পরিমাণ ২০ শতাংশ করতে কর্মসূচি নেবে সরকার : রিজওয়ানা

বনভূমির পরিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, বনভূমির কাভারেজ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের নদীর জেগে ওঠা নতুন চর, উপকূলীয় এলাকা এবং পতিত জমিতে বনভূমি সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বন কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর বন ভবনে বন বিভাগের উন্নয়ন বিষয়ক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বন বিভাগের কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে কর্মচারীগণ বিধিমোতাবেক বনের উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত থাকতে পারেন। বিপন্ন বন্য প্রাণী সংরক্ষণের অংশ হিসেবে ‘এলিফ্যান্ট করিডর রেস্টোরেশন’ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে এবং ক্যাপটিভ হাতির জন্য বিশেষ অরফানেজ স্থাপন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, মধুপুর এলাকায় কমিউনিটি ট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টি করে স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা জাগাতে রাজধানীর পূর্বাচলে একটি অত্যাধুনিক নেচার লার্নিং সেন্টার স্থাপন করা হবে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়, এটি আমাদের জীবনের রক্ষাকবচ। বনভূমি বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, যুগ্ম সচিব (বন) শামিমা বেগম, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।