রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে : স্ট্রমিচ

ইসরায়েলি উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্ট্রমিচ ঘোষণা বলেছেন, দীর্ঘ বিলম্বিত একটি বন্দোবস্তের কাজ শুরু হবে। যেটি পশ্চিম তীরকে বিভক্ত করবে এবং পূর্ব জেরুজালেম থেকে এটিকে বিচ্ছিন্ন করবে। তার কার্যারয় থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে ‘কবর’ দিয়ে দিবে।

ফিলিস্তিনি সরকার, মিত্র এবং প্রচারণা গোষ্ঠীগুলো এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে।
তারা এটিকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, ভূখণ্ডের এই খণ্ডন অঞ্চলের শান্তি পরিকল্পনাকে ভেস্তে দেবে।

স্ট্রমিচ বলেছেন, বিতর্কিত বসতি স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৩ হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মাঝে তথাকথিত ই১ প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত আছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেরুজালেম থেকে পশ্চিম তীর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। স্ট্রমিচ নিজেও একজন বসতি স্থাপনকারী। গতকাল বৃহস্পতিবার মালে আদুমিমে পরিকল্পিত বসতি স্থাপনের স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ই১ উন্নয়নের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। যদিও উভয় পক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এক সংবাদ সম্মেলনে মালে আদুমিমের মেয়রগায় ইফরাচ ও স্ট্রমিচ বলেছেন, ওই জমি ঈশ্বর ইসরায়েলিদের দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটা হবে না। স্বীকৃতি দেয়ার মতো রাষ্ট্রই থাকবেনা।

ওই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, একটি স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরাইলকে সুরক্ষিত রাখে এবং এই অঞ্চলে শান্তি অর্জনের জন্য এই প্রশাসনের লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক চুক্তির অংশ নয় এমন কোনো আঞ্চলিক পরিকল্পনাকে প্রত্যাখান করেছে ইইউ।

বসতি স্থাপন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে বিরোধপূর্ণ ইস্যু। পশ্চিমতীরে ১৬০টি বসতিতে প্রায় ৭ লাখ বসতিস্থাপনকারী বসবাস করে। ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে এখানে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে।

স্ট্রমিচ বলেছেন, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক চাপের পর আমরা মালে আদুমিমকে জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করছি। তিনি আরো বলেছেন, ইসরাইলের ভূমিতে আমাদের সার্বভৌমত্ত্ব, বসতি স্থাপন ইহুদিবাদের সর্বোত্তম রূপ। সম্প্রতি কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।

সূত্র : রয়টার্স

নির্বাচন বৈধ না হলে তা আয়োজনের কোনো অর্থ নেই : ড. ইউনূস

নির্বাচন যদি বৈধ না হয়, তাহলে তা আয়োজনের কোনো অর্থ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১৩ আগস্ট) সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা জানান।

সিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে। এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির প্রথম নির্বাচন, যার এক বছরেরও বেশি সময় আগে সহিংস বিক্ষোভের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি এই সংস্কার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি সিএনএকে বলেন, ‘নির্বাচন বৈধ না হলে তা আয়োজনের কোনো অর্থ নেই। আমার কাজ হলো গ্রহণযোগ্য, পরিচ্ছন্ন এবং উপভোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
অনেক কিছু সংস্কার করতে হয়েছে, কারণ আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল জালিয়াতি, অপব্যবহার এবং দুর্নীতিতে ভরা।’

মারণাত্মক বিক্ষোভ

গত জুলাইয়ে দীর্ঘদিনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ নিরাপত্তা বাহিনী ও তার আওয়ামী লীগ দলের সমর্থকদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এই বিদ্রোহ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়, যা ছিল কর্তৃত্ববাদ, ব্যাপক দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগে কলঙ্কিত।

আগস্টে হাসিনা প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে যান এবং অনুপস্থিতিতেই তার বিচার চলছে।
অভিযোগ রয়েছে যে তিনি এমন এক দমন অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে ১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশ তাকে ফেরত চেয়েছে। ভারত প্রত্যর্পণ অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।

ঢাকা নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছে হাসিনাকে মিথ্যা ও মনগড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে, কারণ তিনি অনলাইনে সমর্থকদের অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রতিরোধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

ড. ইউনূস সিএনএকে বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যাখ্যা করেছেন যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা হাসিনাকে ভারত থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছি।’ আমরা বলেছি, ‘আপনারা তাকে রাখুন, আমাদের বিচার চলবে। তবে এর মধ্যে তাকে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তার এখনো অনেক অনুসারী আছে, যারা আগের মতোই দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে।’

কূটনৈতিক পরিবর্তন

হাসিনার আমলে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। কিন্তু নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঢাকা তার আঞ্চলিক জোটগুলো পুনর্গঠন করছে এবং ভারতের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।

মার্চে ড. ইউনূস চীনে ঐতিহাসিক সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি সরকারের এই পদক্ষেপের সাফাই দিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে পরিচালিত এবং যে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী, বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে, ভারতের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক চাই। এটি বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়, চীনের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়। একই সুযোগ ভারত বা অন্য কেউও নিতে পারে। এটা শুধু ব্যবসায় ন্যায্য প্রতিযোগিতা।’

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো

নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. ইউনূস, যিনি বিপ্লবের পর এই ভূমিকায় আসেন, জানিয়েছেন যে তিনি প্রথমে কার্যত সরকারপ্রধান হওয়ার দায়িত্ব নিতে চাননি।

তিনি বলেন, ‘(ছাত্রনেতারা) আমাকে অনুরোধ করেছিল যে এত রক্ত ঝরেছে… সেটা আমাকে নাড়া দিয়েছিল… তারা এত ত্যাগ করেছে, আমাকেও কিছু করতে হবে। তাই আমি দায়িত্ব নিয়েছি।’

৮৫ বছর বয়সী এই নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর তিনি সরকারে থাকার পরিকল্পনা করছেন না। রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের মধ্যে ড. ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন যে তার নেতৃত্ব একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, এখন থেকে বাংলাদেশ সঠিক পথে চলবে, আর বিপথগামী হবে না। আমাদের ভোটাররা গত ১৫ বছরে ভোট দিতে পারেনি। তরুণরা তাদের ভোট ও আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যালট বাক্সে ঢালবে। আমি চাই একটি ভালো সরকার আসুক, যা গণতান্ত্রিক নীতিমালা মেনে চলবে।’

কুয়ালালামপুরে তিন দিনের সরকারি সফরের সময় ড. ইউনূস সিএনএকে এসব কথা বলেন। যেখানে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, শিক্ষা এবং এলএনজি, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সরবরাহে সহযোগিতাসহ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।

যারা ভোট বয়কটের চেষ্টা করবে তারা রাজনীতি থেকে মাইনাস হবে: সালাহউদ্দিন

আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা বয়কটের চেষ্টা করবে তারা রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে যে, দাবি পূরণ না হলে, সংস্কার পূর্ণাঙ্গ না হলে, বিচার পূর্ণাঙ্গ না হলে নির্বাচন হবে না, এগুলো মাঠের বক্তব্য। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে তার ভাষণে বলেছেন, যেসব সংস্কার প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদে বাস্তবায়নে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রতিশ্রুতি আমরাও দিয়েছি যে, আমরা জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করব।

তিনি আরও বলেন, এখন প্রশ্ন কারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়, অথবা বিলম্ব হোক বা অনিশ্চিত হোক সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। অথবা নির্বাচন না হোক সেটা চায়। জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে, এটা বলা যায়।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের মধ্যে যেন এই রিয়ালাইজেশন আসে যে গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ এবং বিশ্বাসযোগ্য একটা নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া এই জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে তারা এসব বক্তব্য দিচ্ছে কিনা, এ প্রশ্নও বাজারে আছে। কিন্তু আমি মনে করি সেটা চাপের কোনো বিষয় নয়।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, আমরা দলের পক্ষ থেকে আমাদের নির্বাচনী কৌশল ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সঙ্গেই জোট করব যাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে চাই, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি যেটা হয়েছে সেটাকে ধরে রাখতে চাই। তবে এখানে আমরা বলেছি যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের নির্বাচনে জোট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সালাহউদ্দিন বলেন, আমি নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় দেখি না। যারা আগামী নির্বাচনকে বয়কট করার চেষ্টা করবে ডাইরেক্টলি বা ইনডাইরেক্টলি, তারা জাতীয় রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, তার মধ্যে এক নম্বর অধিকার ছিল ভোটের অধিকার যেন ফিরে পায়। এখন সেই পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে। সেই ভোটের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেসব রাজনৈতিক দল নিরুৎসাহিত করবে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

১৫ আগস্ট আ. লীগ-ছাত্রলীগ সদস্যদের সড়কে নামতে দেওয়া হবে না : ডিএমপি কমিশনার

১৫ আগস্টের সূত্র ধরে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বা তাদের অঙ্গসংগঠন ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যদের সড়কে নামতে দেওয়া হবে না।’

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই কোনো অবস্থাতেই তাদের সড়কে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না।
পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য সজাগ আছে। পাশাপাশি সব গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে।’

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের সবার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত আইন ১-২ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে : আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘দুদক সংস্কার কমিশন যেসব আইন প্রস্তাব করেছে, তা আগামী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন আইন উপদেষ্টা। পরে বিকেল ৩টার পর দুদক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্নীতি দমন বিষয়ক যে সংস্কার কমিশন আছে, তারা দুদক সংস্কারের বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে।
দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত আইনগুলো আগামী দু-এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’

আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনে কিছু প্রস্তাবনা ছিল দুদক সংস্কারের বিষয়ে। কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করেছি।’

গত ১৫ জানুয়ারি অর্থপাচার তদন্তের ক্ষেত্রে দুদকের নেতৃত্বে বিভিন্ন এজেন্সির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা এবং ‘স্বাধীন’ ও ‘সাংবিধানিক’ স্বীকৃতি দেওয়াসহ সংস্থাটির সংস্কারে ৪৭টি সুপারিশ দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে দুদককে একটি ‘কার্যকর’ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেব গড়ে তুলতে এবং প্রতিষ্ঠানটির আমূল সংস্কারে ৩৭ সুপারিশের পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার, আইন পরিবর্তনসহ ১০টি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছিল সংস্কার কমিশন।

সোনারগাঁয়ে ১০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন শিল্পকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মিশে সেই পানি দূষিত হয়ে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীর। বসতঘরে পানি প্রবেশ করায় অনেকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, বেড়িবাঁধের ভেতরের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও, বাটপাড়া, কাজিপাড়া, দরগাবাড়ী, খিদিরপুরসহ প্রায় ১০ গ্রামে দেখা দিয়েছে কৃত্রিম বন্যা। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও বাড়ির উঠান। অনেকের ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে পানি। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ।
বেকার হয়ে গেছেন অনেকে। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ছেলে-মেয়ের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় যাওয়া।

বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মিশে পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। এমনকি কিছু কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
এতে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টি মৌসুম আসলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয়রা। দ্রুত এ সমস্যা থেকে মুক্তি চান তারা।

বাটপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমান জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম হলেই বেড়িবাঁধের মানুষ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে বের হতে না পেরে দরিদ্র পরিবারগুলো খাবার সংকটে পড়েছেন।

দরগাবাড়ি গ্রামের আলী হোসেন বলেন, আমাদের এখানে তিন ফসলি জমি রয়েছে। প্রতি বছর জলাবদ্ধতা হওয়ায় কোনো ফসল করা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত পাম্প বসিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য তিনটি পাম্প রয়েছে। তার মধ্যে দুটি পাম্প অচল থাকায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পাম্প বসানোর। পানিবন্দি যারা দরিদ্র তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। এ সময় তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দ্বিপক্ষীয় বিচারিক সহযোগিতা, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের শাসনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাসভবনে এ সাক্ষাৎ হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় বিচারিক সহযোগিতা, মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের শাসনসংক্রান্ত বিষয়াবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি গত এক বছরে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। দেশের মানবাধিকার সংরক্ষণে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধান বিচারপতি।

এ সময় জ্যাকবসন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বিগত এক বছরে দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। বিশেষ করে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিচারপতি পরিকল্পনাগুলো আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণে বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোছাইন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ, এটা পূর্বেই নির্ধারিত ছিল।
অন্য কিছু নয়।’

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই পারেন। আগে কখনো প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অহরহ দেখা করতেন না, সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন না, মিডিয়ার সামনেও যেতেন না। সেই সিস্টেম তো নষ্ট করে দিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার। এটা ফিরিয়ে আনতে একটু সময় লাগবে।
’

সাক্ষাতে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত প্রধান বিচারপতির এক বছর পূর্তিতে তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে প্রধান বিচারপতির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, প্রধান বিচারপতির দেওয়া একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা, বিচার সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা আনয়নে ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান এবং অধস্তন আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে কার্যকরী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনগুলোতে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় তার দেশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক ‘ভালো’ হলে জেলেনস্কিকে ফোন করবেন ট্রাম্প

আগামীকাল রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক ‘ভালো’ হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দ্বিতীয় বৈঠকের ব্যবস্থা করার জন্য ফোন করবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফক্স নিউজ রেডিওতে বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে, আলাস্কাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বৈঠক হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে আরো আলোচনার জন্য জেলেনস্কি প্রস্তুত আছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প জানান, দ্বিতীয় কোনো বৈঠক হবে কি না এখনই এ রকম কোনো ধারণা তৈরি করতে চাচ্ছেন না তিনি। পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলাই ‘ভালো হতে পারে’।
তবে যদি পরিস্থিতি পরিকল্পনা অনুযায়ী না হয় তবে তিনি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন না, এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে একা কথা বলবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুনরায় বলেছেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক দ্বিতীয় আরেকটি বৈঠকের পথ তৈরি করতে পারে—যেখানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও থাকতে পারেন। তবে তিনি এখন স্বীকার করছেন যে, ‘এ বৈঠক সফল না হওয়ার ২৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।’

ইউক্রেনীয় ও রুশ ভূখণ্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সীমান্তে ‘দেওয়া-নেওয়া’ হতে হবে।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুতিন-ট্রাম্পের আগামীকালের আলাস্কা সম্মেলনের পর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো ‘দলিল’ প্রকাশ করা হবে না। তবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন হবে, প্রেসিডেন্ট অবশ্যই সেই সব চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন, যা তিনি অর্জন করতে সক্ষম হবেন।’

অন্যদিকে আগামীকাল আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সময় জেলেনস্কি উপস্থিত থাকবেন না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, রুশ নেতার সঙ্গে তার নিজের বৈঠকের চেয়ে যুদ্ধরত দুই নেতার মধ্যে বৈঠক ‘আরো ফলপ্রসূ’ হতে পারে।

তিনি বলেন, জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ‘প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই’ একটি বৈঠকের সময়সূচি করতে চান এবং সুযোগ পেলে তিনি নিজেও সেখানে থাকতে চান।

তবে জেলেনস্কি এখনো পুতিনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

জামিনে মুক্ত হলেন আ. লীগের সাবেক মন্ত্রী

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। সর্বশেষ পল্টন থানায় একটি মামলায় তিনি জামিন পান। এর আগে অন্যান্য মামলায় ধাপে ধাপে তিনি জামিন পান।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার এ কে এ এম মাসুম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে জামিনে মুক্ত করা হয়। নিয়মমাফিক সব জামিননামার কাগজ যাচাই-বাছাই করেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সে সময় তার পাহারায় থাকা কারারক্ষী উঠিয়ে নেওয়া হয়।
’

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে বার্ধক্যজনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় কারাগারের হাসপাতাল থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৫ বছর পর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য ফের শুরুর সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ায় ভারত ও চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনা করছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আগামী সোমবার নয়াদিল্লিতে বৈঠকের জন্য যেতে পারেন।
তার আগে জুলাই মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বেইজিংয়ে সফর করেছিলেন।

অতীতে দুই দেশের মধ্যে বরফাচ্ছাদিত উচ্চ পার্বত্য হিমালয় সীমান্তপথে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে অল্প, তবে এর পুনরায় সূচনা প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতায় রয়েছে এই দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির ফলে শুরু হওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দুই দেশ সম্পর্ক মেরামতের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট চালু ও পর্যটন ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু করার চুক্তিও ২০২০ সালে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে চীন-ভারত সীমান্ত বাণিজ্য সহযোগিতা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

তারা আরো বলেছে, দুই পক্ষ ‘আন্ত সীমান্ত বিনিময় ও সহযোগিতায় একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করাও অন্তর্ভুক্ত।’

গত সপ্তাহে ভারতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সংসদে বলেছেন, ‘ভারত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরুর জন্য চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
’

তবে দুই দেশের পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

এদিকে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধে ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমার কারণে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক কিছুটা টানাপড়েনে রয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য তেল বিক্রি থেকে বড় আকারে রাজস্ব পেয়ে থাকে। আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে ভারত তেলের উৎস পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন অংশীদারি ‘বিভিন্ন পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে।
’

তিনি আরো জানান, ভারত আশা করে, ‘পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে’ এই সম্পর্ক অগ্রসর হতে থাকবে। ভারত ‘ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চেষ্টায় সমর্থন দিতে প্রস্তুত’ এবং আলাস্কায় শুক্রবার ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার বৈঠকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগস্টের শেষ দিকে চীনে সফর করতে পারেন। ২০১৮ সালের পর এটি হবে মোদির প্রথম সফর, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করা হয়নি। বেইজিং জানিয়েছে, ‘আগস্টের ৩১ তারিখে শুরু হওয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাচ্ছে চীন।’