বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

ইয়েমেনে গ্রেপ্তার জাতিসংঘ কর্মীদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

এই সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাতিসংঘের কর্মীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করার সন্দেহ রয়েছে—এক হুতি কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এএফপিকে নাম না প্রকাশের শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ‘জাতিসংঘ কর্মীদের মধ্যে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম ও ইউনিসেফের কর্মীরা, যারা শিশুদের জন্য সহায়তা ও ত্রাণ প্রদান করেন।

এ ছাড়া একটি ইয়েমেনি নিরাপত্তা সূত্র এফপিকে জানিয়েছে, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার সন্দেহে’ শনিবার আরো কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হুতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি, ৯ জন মন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার দুজন কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। এটি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চলাকালীন ইরান সমর্থিত হুতির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করেছে।

এদিকে এক দশক ধরে ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করা হুতির হাতে রবিবারের গ্রেপ্তার অভিযানের আগে থেকেই ২৩ জন জাতিসংঘ কর্মী আটক রয়েছে, কেউ কেউ ২০২১ সাল থেকে।

হুতি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের জুনে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ‘একটি মার্কিন-ইসরায়েলি গুপ্তচর নেটওয়ার্ক’ মানবিক সংস্থার ছদ্মবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। জাতিসংঘ অবশ্য এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

সচিবালয়-যমুনা এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তার স্বার্থে সচিবালয়, তার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এর আগেও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও সচিবালয় এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিকবার সভা-সমাবেশ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ডিএমপি।

আজকের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় (সংলগ্ন এলাকাসহ) এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।

নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টো রোড ক্রসিং পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা।

ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় মেয়াদে আইজিপি হওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে নিজের অনাগ্রহের কথা জানালেও গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে আবারও তাকে আইজিপি করা হয়।

তিনি জানান, অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও আইজিপি হিসেবে দেড় বছর তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। তার সম্মতিতে দেড় বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও দ্বিতীয়বার মেয়াদ বাড়ানোর সময় তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কাউকে আইজিপির দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীর জেরা চলাকালে এ দাবি করেন মামুন।

তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে নিজের অনাগ্রহের কথা জানালেও গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে আবারও তাকে আইজিপি করা হয়।’

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। তাকে জেরা করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত তাকে জেরা করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল বিরতি দেয়।

জেরার সময় আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, ‘তদবির করে আপনি আইজিপি হিসেবে এক্সটেনশন নিয়েছেন।’ জবাবে মামুন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পাল্টা প্রশ্নে দ্বিতীয়বার মেয়াদ বাড়ানোর সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি অবসরের পর দুই দফা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

জেরায় মামুন আরো জানান, ছাত্রজীবনে তিনি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবা দীর্ঘদিন শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং ছোট ভাইও একই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ভোট কারচুপি ও অনিয়মের ঘটনায় অন্য কর্মকর্তাদের মতো তিনিও পদক পান। তবে পদকপ্রাপ্তির সুনির্দিষ্ট কারণ স্মরণ করতে পারেননি।
এর আগে ও পরে আরও দুবার তিনি পদক পেয়েছিলেন বলে জানান।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর জবানবন্দি শেষে তাকে আংশিক জেরা করা হয় শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের পক্ষ থেকে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর স্টেট ডিফেন্সের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাকি জেরার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়।

‘জাতিসংঘ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে পূর্ণ সমর্থন করে’

জাতিসংঘ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে পূর্ণ সমর্থন করে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতিসংঘের চলমান সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুইন লুইস।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রথান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তিনি জাতিসংঘ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দৃঢ় সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও সংস্কার এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। গুইন লুইস বলেন, “জাতিসংঘ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে পূর্ণ সমর্থন করে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতিসংঘের চলমান সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় তারা স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের বর্ধিত সহায়তার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং এই মাসের শেষে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা সম্মেলনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। উভয় নেতা রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল হ্রাসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, অর্থসংকট ইতোমধ্যেই শরণার্থী শিবিরে শিক্ষা ও অন্যান্য জরুরি সেবাকে প্রভাবিত করছে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে কার্যকর মানবিক প্রতিক্রিয়া বজায় রাখতে টেকসই আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বাড়তি সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

আবাসিক সমন্বয়কারী লুইস বাংলাদেশের সংস্কার ও রূপান্তর প্রক্রিয়ার প্রতি জাতিসংঘের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

মহানবী সা. আমাদের জন্য আল্লাহর বড় উপহার : তারেক রহমান

ঈদে মিলাদুন্নবী দিনটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়াতে আগমনের আনন্দ ও তার জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এক বাণীতে এ কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন দিবস মর্যাদাবান, গুরুত্ববহ এবং আনন্দের। আল্লাহ’র প্রতি ঈমান ও মানবতার পথপ্রদর্শনকারী মহানবীর ধরাপৃষ্ঠে আবির্ভাবের দিন আজ।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের জন্য আল্লাহর সবথেকে বড় উপহার বা এহসান হলেন তিনি। আল্লাহ তাআলা তাকে দিয়েছেন মহিমান্বিত মর্যাদা। পৃথিবীতে মানুষ ইহজগত ও পরজগতের মুক্তির সন্ধান পায় এই দিনে।

তারেক রহমান আরও বলেন, মানুষ ন্যায় ও সৎ পথে চলার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত লাভ করে রাসুলের (সা.)-এর দেখানো পথে। অন্ধকারের যুগ তথা আইয়ামে জাহেলিয়াতের আমলে আইন, বিচার ও প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যভিচার-অনাচারের অরাজকতা বিরাজমান ছিল। এই সময় যার আগমন হয়েছিল তিনি হলেন রহমাতুল্লিল আলামীন।

তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগ দুরীভূত করে ইসলাম কায়েমের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির শীর্ষ এই নেতা।

এবার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সময় এসেছে, বলছেন ব্রাজিল কোচ

‘হেক্সার’ স্বপ্ন বহু বছর ধরেই দেখছে ব্রাজিল। তবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ পাচ্ছে না সেলেসাওরা। সেই স্বপ্ন পূরণের সময় এবার এসেছে বলে জানিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

সর্বশেষ ২০০২ সালে পঞ্চমবার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।
চিলির বিপক্ষে ম্যাচ এবং নেইমারের কথার জবাব দেওয়ার সময় সংবাদ মাধ্যমকে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের ২৪ বছর হয়ে গেছে। তবে এবার সময় এসেছে। দায়িত্বটা বিশাল। তবে একটা দেশের অনুপ্রেরণা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

২০২৬ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ইতিমধ্যে একটা গ্রুপকে একত্রিতও করেছেন বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেছেন, ‘দলে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কমপক্ষে ৭০ জন খেলোয়াড় আছেন যারা সেলেসাও দলে জায়গা পাওয়ার মতো। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ইতিমধ্যে একটা গ্রুপকে একত্রিত করেছি।
২৬ জনের তালিকা দেওয়াটা হয়তো বড় ভুল হতে পারে। মান তো আছেই, তবে দলের সম্মিলিত শক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

অন্যদিকে ঘরের মাঠ রিও ডি জেনিরোয় চিলিকে আটকাতে রণকৌশল সাজাতে যখন ব্যস্ত আনচেলত্তি তখন আবার কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তাকে। কেননা নিজের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেইমার। চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়েননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে দল ঘোষণার সময় আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহে নেইমার ছোটখাটো চোটে পড়ায় আমরা চেয়েছি সেরা অবস্থায় থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে স্কোয়াড সাজাতে। ব্রাজিল কোচের এমন মন্তব্যের পর নেইমার নিজের বিষয়টা পরিস্কার করায় তাই দ্বিতীয়বার আনচেলত্তিকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

আগামীকাল ভোরে চিলির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘শারীরিক কোনো সমস্যা নয়, কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল। বেশ কিছু কারণে এই কৌশলগত সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে। নেইমারের প্রতিভা নিয়ে কেউই দ্বিমত করতে পারবে না। তবে তার এবং অন্যদেরও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে নেইমার বলেছিলেন, ‘আমাকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল। শারীরিক অবস্থার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটা কোচের সিদ্ধান্ত, আর আমি তা সম্মান করি। আমি এখন দলে নেই, বাইরে বসেই দলকে সমর্থন করব।’

ধানমণ্ডি থেকে আওয়ামী লীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তালেবুর রহমান জানান, ধানমণ্ডিতে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনাকারী সজীবুল ইসলাম হৃদয়সহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরো আট নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শাস্তি বাড়ল এনজোর, আর্জেন্টিনাসহ ৬ দেশকে ফিফার জরিমানা

সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবলে অন্যতম আলোচিত বিষয় ‘বর্ণবাদ’। যে অভিযোগের তির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিরুদ্ধেও উঠেছিল। এবার বর্ণবাদী আচরণ, মন্তব্য ও বৈষম্যের দায়ে ৬টি দেশকে জরিমানা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আর্জেন্টিনাসহ বাকি দেশগুলো হচ্ছে– আলবেনিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, সার্বিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।

শাস্তিপ্রাপ্ত ছয়টি দেশই জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলেছে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি প্রকাশিত ওই তালিকার কথা উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা এপি বলছে, ফিফার পক্ষ থেকে শাস্তির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ছয় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার (২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা) জরিমানা হয়েছে আলবেনিয়ার, ৭ জুন সার্বিয়ার বিপক্ষে তাদের ম্যাচ ছিল। ফিফার মতে, সেদিন প্রতিপক্ষ দেশের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালে গোলযোগ সৃষ্টি ‘খেলার ইভেন্টের জন্য অনুপযুক্ত বার্তা’।

রাজনৈতিকভাবে আলবেনিয়া এবং সার্বিয়ার মাঝে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যার রেশ পড়েছে তাদের ফুটবলেও। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বাছাইপর্বের ম্যাচ চলাকালে মাঠে ড্রোনের মাধ্যমে ‘গ্রেটার আলবেনিয়া’ লেখা একটি পতাকা ফেলা হয়েছিল। ৪১ মিনিট পর্যন্ত সেই ম্যাচটি বাতিল হয়ে যায়। যেখানে সার্বিয়ান দর্শকদের হামলার শিকার হন আলবেনিয়ার কয়েকজন খেলোয়াড়। এদিকে, জুনে অনুষ্ঠিত আলবেনিয়া-সার্বিয়া ম্যাচ গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। যাদের ফিরতি ম্যাচ হবে ১১ অক্টোবর বেলগ্রেডে।

গত ১০ জুন ঘরের মাঠ বুয়েন্স আয়ার্সে কলম্বিয়ার বিপক্ষে বাছাইয়ের ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে বৈষম্য অথবা বর্ণবাদের দায়ে অভিযুক্ত আলবিসেলেস্তেদের ১ লাখ ৪৯ হাজার ডলার (১ কোটি ৮১ লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়ার ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। যেখানে কলম্বিয়ান ফুটবলারকে কড়া ট্যাকেল করায় লাল কার্ড দেখেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা এনজো ফার্নান্দেজ। যেজন্য দুই ম্যাচ নিষিদ্ধও হয়েছিলেন তিনি। তবে ফিফা সেই শাস্তি বহাল রাখার পাশাপাশি ৬২০০ ডলার (সাড়ে ৭ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে।

ছয় অঙ্কের এই জরিমানা ‘বর্ণবাদ ও বৈষম্যে’র বিরুদ্ধে ফিফার শক্ত অবস্থানের বার্তা। যা নিয়ে গত বছর সকার বডির বার্ষিক সভায়ও বেশ আলোচনা হয়েছিল। ৫ জুন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল চিলি। ওই ম্যাচে একই কারণে অভিযুক্ত চিলি সকার ফেডারেশনকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ডলার, ৬ জুন পেরুর বিপক্ষে খেলা কলম্বিয়াকে ৮৭ হাজার ডলার, ১০ জুন অ্যান্ডোরার প্রতিপক্ষ সার্বিয়াকে ৬২ হাজার ডলার, সান মেরিনোর বিপক্ষে খেলা বসনিয়াকে ২৬ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

প্রায় প্রতিটি ঘটনায় সদস্য দেশগুলোকে ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেলক্ষ্যে ‘প্রতিরোধ পরিকল্পনা’র আহবান জানিয়েছে ফিফা। এর বাইরে সর্বশেষ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদ-পাচুকা ম্যাচে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন অ্যান্তোনিও রুডিগার। তবে প্রতিপক্ষ মেক্সিকান ক্লাবটির খেলোয়াড় গুস্তাভো ক্যাব্রালের বিপক্ষে রিয়াল তারকার অভিযোগ নিয়ে প্রমাণ পায়নি ফিফা। এর আগে ক্যাব্রাল অবশ্য আর্জেন্টাইন ভাষায় তাকে ক্ষেপানোর কথা জানিয়ে বর্ণবাদের কথা অস্বীকার করেছিলেন।

পশ্চিম তীর দখল নিয়ে ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আরব আমিরাতের

এবার ফিলিস্তিন নিয়ে ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিম তীর দখলের যেকোনো পদক্ষেপ ইসরায়েলকে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করাবে এবং আব্রাহাম চুক্তির মূল চেতনা ধ্বংস করবে।

মূলত ওই চুক্তির মাধ্যমেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছিল। এদিকে আমিরাতের এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসাইবেহ বলেন, এমন পদক্ষেপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমিরাতের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে।

তবে ইসরায়েলি সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মূলত ইসরায়েলের চরম-উগ্রডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরের চার-পঞ্চমাংশ দখলের প্রস্তাব প্রকাশ করার পরই আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হয়।

বিবিসি বলছে, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করছে। একই এলাকায় বসবাস করছে আনুমানিক ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ওই সময় শর্ত ছিল, ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা স্থগিত রাখবে। সেসময় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ‘স্থগিত’ করার কথা বললেও জানিয়েছিলেন, পরিকল্পনাটি এখনো ‘টেবিলে’ আছে।

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারে থাকা বহু মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীর দখলের পক্ষে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ আরও কিছু দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েল দখল পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া নিয়ে বিতর্ক করছে।

নেতানিয়াহু বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হবে ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’। উল্লেখ্য, আমিরাত আগেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

লানা নুসাইবেহ বলেন, “আমরা শুরু থেকেই আব্রাহাম চুক্তিকে ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের একটি উপায় হিসেবে দেখেছি। পশ্চিম তীর দখল আমিরাতের কাছে এক রেড লাইন। এটি চুক্তির চেতনা ধ্বংস করবে, আঞ্চলিক একীকরণ থামিয়ে দেবে এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতি আন্তর্জাতিক ঐকমত্য ভেঙে দেবে।”

অন্যদিকে জেরুজালেমে সংবাদ সম্মেলনে স্মোট্রিচ বলেন, “এখন সময় এসেছে দখলের। দেশ ভাগ করে মাঝখানে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র গড়ার ধারণা চিরতরে বাদ দিতে হবে।”

তিনি একটি মানচিত্র দেখান, যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বসতি প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী পশ্চিম তীরের প্রায় ৮২ শতাংশ এলাকায় ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব বিস্তারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাকি ১৮ শতাংশ এলাকা ছয়টি ফিলিস্তিনি শহর— জেনিন, তুলকারেম, নাবলুস, রামাল্লাহ, জেরিহো ও হেবরনের চারপাশের ছোট ছোট অংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বেথলেহেমসহ বহু ফিলিস্তিনি শহর, গ্রাম ও এলাকা এতে বাদ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেম ইসরায়েল ১৯৮০ সালে দখল করলেও আন্তর্জাতিক মহলের বিশাল অংশ সেটি স্বীকৃতি দেয়নি।

স্মোট্রিচ দাবি করেন, ফিলিস্তিনিরা আপাতত আগের মতোই নিজেদের জীবনযাপন চালিয়ে যাবে, পরে বিকল্প আঞ্চলিক বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে তা পরিচালিত হতে পারে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনাকে স্বাধীন রাষ্ট্রের আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল ইতোমধ্যে একটি বর্ণবাদী ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে ইসরায়েলি সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে গত মাসে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের একটি বড় পরিকল্পনা অনুমোদন করলে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই পরিকল্পনা কার্যকর হলে পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাবে।

ইউক্রেন চুক্তিতে রাজি না হলে সামরিকভাবেই লক্ষ্য পূরণ করবে রাশিয়া: পুতিন

ইউক্রেন যদি শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয়, তবে সামরিকভাবেই রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জন করবে। এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে তিনি আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেননি।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যদি কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে রাশিয়া সামরিকভাবেই নিজেদের সব লক্ষ্য অর্জন করবে। চীনে এক সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানটিকে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী বিশ্বব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। অবশ্য ট্রাম্প বারবার পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। তবে পুতিন তার “আন্তরিক প্রচেষ্টা”র প্রশংসা করলেও এখনো তা মানেননি।

অন্যদিকে ইউক্রেন সফরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্প অন্তত পুতিনকে আলোচনার টেবিলে এনেছেন। প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যসহ মিত্ররা রাশিয়ার ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ দেবে এবং ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা দেবে।

এর আগে গত মাসে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা থেকে তাকে টেনে বের করেন ট্রাম্প। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পুতিনের সাক্ষাতেরও চেষ্টা করেছিলেন।

পুতিন এ বিষয়ে বলেন, “আমি কখনোই এমন বৈঠকের সম্ভাবনা বাতিল করিনি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এর কোনো লাভ হবে কি না। দেখা যাক।”

তিনি আরও বলেন, যেকোনো বৈঠকের আগে যথাযথ প্রস্তুতি প্রয়োজন। এমনকি জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতেও আসতে পারেন। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে এটিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

জেলেনস্কি পুতিনের এ অনীহাকেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদারের যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে।

বুধবার ট্রাম্প বলেন, পুতিন ভালোভাবেই জানেন তিনি কোথায় অবস্থান করছেন। তার কাছে আমার আলাদা কোনো বার্তা নেই। তিনি জানেন আমি কোথায় আছি, সিদ্ধান্ত নেবেন একদিকে বা অন্যদিকে।

হোয়াইট হাউসে পোল্যান্ডের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকিকে স্বাগত জানানোর সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভারতকে লক্ষ্য করে নেওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাই প্রমাণ করে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। আপনি এটাকে কোনো পদক্ষেপ মনে করেন না? এখনো দ্বিতীয় ধাপ আর তৃতীয় ধাপে যাইনি।

বেইজিংয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিক যখন যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে কি না জানতে চাইলে পুতিন বলেন, “টানেলের শেষে সামান্য আলো দেখা যাচ্ছে। সাধারণ জ্ঞান কাজ করলে গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া সম্ভব। না হলে সামরিকভাবেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দনবাস অঞ্চল রাশিয়া ছাড়বে না। আবারও তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেবে না এবং রুশভাষীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বন্ধ করবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে শান্তিচুক্তি হলেও পশ্চিমা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দনবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, কারণ ওই এলাকার জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে— যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচিত।

বেইজিংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিম বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে সমর্থন দেওয়া তাদের “ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দায়িত্ব”। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, পুতিন কিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে “বিশেষ আস্থা, বন্ধুত্ব ও জোটের সম্পর্ক” বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউক্রেনের মিত্রদের নিয়ে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠক আয়োজন করছেন। এলিসি প্রাসাদের একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে রেখে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিরতি আদায়ের চেষ্টা হবে।