বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

আমাদের পতাকা সহিংসতার প্রতীক হতে পারে না”—লন্ডনে বিক্ষোভের পর হুঁশিয়ারি স্টারমারের

“আমরা কখনোই আমাদের পতাকা সমর্পণ করব না।” ডানপন্থিদের বিশাল বিক্ষোভ ও পাল্টা প্রতিবাদের পর এক কঠোর বার্তায় এমন মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের পতাকা দেশের বৈচিত্র্য, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধার প্রতীক— একে বিভাজন বা সহিংসতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

রবিবার ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “মানুষ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে পারে—এটাই আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। কিন্তু রাস্তায় কাউকে তার বর্ণ বা পরিচয়ের জন্য আতঙ্কিত করা, কিংবা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বিক্ষোভে উত্তাল লন্ডন, সংঘর্ষে আহত পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে ডানপন্থি নেতা টমি রবিনসনের ডাকে “Unite the Kingdom” শীর্ষক এক মিছিলে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। পাল্টা বিক্ষোভে “Stand Up to Racism” ব্যানারে জড়ো হয় প্রায় ৫ হাজার প্রতিবাদকারী।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন সংঘর্ষে ২৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন গুরুতর। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৪ জনকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন জ্যাক, সেন্ট জর্জ, স্কটিশ সাল্টায়ার ও ওয়েলসের পতাকা নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। তবে বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে জাতিগত বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার প্রকাশ ঘটেছে বলেও সমালোচনা ওঠে।

“বিভাজন কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিকও” — সতর্কতা মন্ত্রীর

ব্যবসা মন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তার মতে, অভিবাসনসহ সমাজের বড় সমস্যাগুলো এখন অবিলম্বে সমাধান করা প্রয়োজন। কাইল বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমাজে যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে তা আর কেবল বাম-ডান রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এই বিভক্তি এখন সামাজিক পরিসরেও প্রবেশ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, যারা সহিংসতায় জড়িয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

ইলন মাস্কের ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্য

অন্যদিকে এই বিক্ষোভে ভিডিও লিঙ্কে সংযুক্ত হয়ে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বলেন, “প্রতিরোধ করো, নইলে মরে যাও।” তিনি যুক্তরাজ্যে “অসংযত অভিবাসন” নিয়ে সতর্ক করে সরকার পরিবর্তনের ডাক দেন।

কিন্তু কাইল মাস্কের মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়। একে আমরা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব বলতে পারি না।”

“পতাকাকে বিভেদের প্রতীক বানাতে দেওয়া হবে না”

সমাপনী মন্তব্যে স্টারমার বলেন, “যুক্তরাজ্য সহনশীলতা, বৈচিত্র্য ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের পতাকা এই বৈচিত্র্যের প্রতীক। এটিকে কেউ বিভাজনের হাতিয়ার বানাতে চাইলে, আমরা তা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।”

আপনি চাইলে এই প্রতিবেদন সংক্ষিপ্ত, ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়া ফরম্যাটেও চেয়ে নিতে পারেন।

পদ্মা সেতুতে চালু হচ্ছে নন-স্টপ টোল আদায় ব্যবস্থা, গাড়ি থামাতে হবে না

পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলো আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম, যার মাধ্যমে গাড়ি থামানো ছাড়াই টোল পরিশোধ করে সেতু পার হওয়া যাবে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে এই প্রযুক্তি লাইভ পাইলটিং আকারে চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিশেষ নির্দেশনায় এই স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা দেশের সেতু ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

ইটিসি সেবা ব্যবহারে আগ্রহী চালকদের প্রথমে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ‘ট্যাপ’ অ্যাপে গিয়ে “ডি-টোল” অপশনে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও রিচার্জ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর পদ্মা সেতুর আরএফআইডি (RFID) বুথে প্রথমবারের মতো ট্যাগ চেক ও রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। একবার রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে ব্যবহারকারী ন্যূনতম ৩০ কিলোমিটার গতিতে ইটিসি লেন ব্যবহার করে সেতু পার হতে পারবেন। এ সময় টোল স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শুধু ট্যাপ নয়, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য মোবাইল ফিনান্সিয়াল অ্যাপ থেকেও এই সেবার সুবিধা নেওয়া যাবে। এই লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই কাজ করছে।

এই আধুনিক ইটিসি ব্যবস্থার ফলে সেতুতে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে, যানজট কমবে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে আরও ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত, ক্ষুধায় মৃত্যু ছাড়াল ৪২২

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে একদিনেই নতুন করে আরও ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা সিটির ১৬টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি আবাসিক টাওয়ার রয়েছে। একইসঙ্গে, অপুষ্টি ও খাদ্যাভাবজনিত কারণে ক্ষুধায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২২ জনে পৌঁছেছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

উত্তর গাজায় নজর ইসরায়েলের

ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে, যেটিকে নগর কেন্দ্র দখল ও জনগণকে জোরপূর্বক উৎখাতের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা।

গাজা সিটির রেমাল এলাকায় অবস্থিত আল-কাওসার টাওয়ার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এক বিমান হামলায়। ফলে আবারও হাজারো মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে মৃত্যু

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুজন শিশু অপুষ্টিতে মারা গেছে। এই নিয়ে চলমান যুদ্ধ ও অবরোধে ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ জনে।

“কোথাও নিরাপদ নয়”

জাতিসংঘ, ইউএনআরডব্লিউএ এবং ইউনিসেফ বলছে, গাজায় আর কোনো নিরাপদ জায়গা নেই।
ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি জানিয়েছেন, শুধু গত চার দিনেই গাজা সিটিতে তাদের ১০টি স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি স্কুল ও দুটি ক্লিনিক রয়েছে— যেখানে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

“এটি গণহত্যামূলক যুদ্ধ”

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে “পদ্ধতিগত বোমাবর্ষণ” চালিয়ে গণহত্যা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নীতি অনুসরণ করছে।

তাদের দাবি, ইসরায়েলের লক্ষ্য স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, মানবিক সংস্থার দপ্তর ও সাধারণ বাসস্থান— যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সামিল।

“আমরা জানি না কোথায় যাব”

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নাগরিক মারওয়ান আল-সাফি বলেন, “আমরা জানি না কোথায় যাব। এই পরিস্থিতির একটা সমাধান দরকার… আমরা এখানে মরছি।”

আহমেদ আওয়াদ, যিনি উত্তর গাজা থেকে পালিয়ে এসেছেন, বলেন, “মধ্যরাতে এসে দেখি পানি নেই, টয়লেট নেই, খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।”

শরণার্থী অঞ্চলেও নিরাপত্তাহীনতা

ইসরায়েল ঘোষিত তথাকথিত “নিরাপদ অঞ্চল” আল-মাওয়াসিরেও চলছে বিমান হামলা। ইউনিসেফ বলেছে, ওই অঞ্চলটির পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সংস্থার মুখপাত্র টেস ইঙ্গ্রাম জানান, এক নারীকে রাস্তায় সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে, কারণ তার কাছে পৌঁছানোর মতো কোনো সহায়তা ছিল না। তিনি বলেন, “এখানে হাজারো পরিবার বেঁচে থাকার ন্যূনতম চাহিদা পূরণেও লড়ছে।”

অভিনেতাকে নিয়ে আনুশকা-প্রিয়াঙ্কার তর্কাতর্কি

নায়িকাদের মধ্যে বন্ধুত্ব আদৌ সম্ভব কি না, এই প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে আলোচনায়। বিশেষ করে, একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। বলিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সম্পর্ক নিয়েও এক সময় এমন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটেছিল জোয়া আখতারের পরিচালনায় নির্মিত ‘দিল ধাড়াকনে দো’ ছবির শুটিং সেটে। শোনা যায়, অভিনেতা দর্শন কুমারকে ঘিরে দুই নায়িকার মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়, যা একসময় তর্কে রূপ নেয়।

আসলে, দর্শন কুমারকে নিয়ে দুই তারকার অভিজ্ঞতা ছিল একেবারে বিপরীত। আনুশকা তার সঙ্গে ‘এনএইচ ১০’ ছবিতে কাজ করার সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে তাকে উদ্ধত স্বভাবের বলে মনে করেন। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা, ‘মেরি কম’ ছবিতে দর্শনের বিপরীতে অভিনয় করে তার ভিন্ন এক দিক দেখেছেন। প্রিয়াঙ্কার মতে, দর্শন একজন পরিশ্রমী ও ভদ্র মানুষ।

এই প্রসঙ্গে দর্শন কুমার নিজেই এক সাক্ষাৎকারে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, ‘দিল ধাড়াকনে দো’র শুটিংয়ে প্রিয়াঙ্কা আমাকে খুব প্রশংসা করছিলেন। তখন আনুশকা বলেছিলেন, এর চেয়ে উদ্ধত মানুষ তিনি দেখেননি।’

তবে দর্শনের মতে, আনুশকার এমন মন্তব্যের কারণ হয়তো তার ‘এনএইচ ১০’-এর চরিত্র নির্মাণ পদ্ধতি। তিনি জানান, সে ছবিতে তিনি একজন খলচরিত্রে অভিনয় করছিলেন। চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করতে শুটিংয়ের সময় আনুশকার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। এমনকি সাধারণ সৌজন্যতাও দেখাননি। এতে আনুশকার মনে তার প্রতি ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে দর্শন কুমার অভিনয় করছেন তার নতুন ছবি দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এ।

ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশসহ ৬ দেশ

দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত ছয়টি দেশে রোববার বিকেলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৯। এটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১১ মিনিটে আঘাত হানে।

ভূমিকম্পটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান এবং চীনে অনুভূত হয়। ইউএসজিএস বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের উদলগুরি জেলার ঢেকিয়াজুলি এলাকায়, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

অগভীর উৎসস্থলের কারণে ভূকম্পন কেন্দ্রস্থলে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিসহ আশপাশের এলাকায় বহু মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। গুয়াহাটির এক বাসিন্দা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, “মনে হচ্ছিল এই কম্পন আর থামবেই না।” অপর একজন জানান, “এক মুহূর্ত মনে হয়েছিল আমি মারা যাচ্ছি। ভেবেছিলাম, সত্যিই ছাদটা ভেঙে পড়বে।”

আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, “আসামে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। সকলের নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।”

জার্মানির ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ) ভিন্ন মাত্রার হিসাব দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭১ এবং উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

তাৎক্ষণিকভাবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শুটিং সেটে নানা আবদার, তারকাদের ধুয়ে দিলেন আমির খান

তারকাদের শখ-আহ্লাদ মেটাতে গিয়ে বহু প্রযোজকই শূন্য হয়েছেন, যা নিয়ে এর আগেও নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ সরব হয়েছিলেন। তারকারা কোটি কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, আবার নিজেদের ব্যক্তিগত খরচও চাপিয়ে দিচ্ছেন প্রযোজকের ওপর। কারো জন্য আলাদা ভ্যানিটি ভ্যান, কারো জন্য সেটে জিম আর লাইভ কিচেন—সব মিলিয়ে প্রযোজকদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলিউডে চলা অদ্ভুত এই ট্রেন্ড নিয়ে তারকাদের এবার তীব্র সমালোচনা করলেন আমির খান।

গেম চেঞ্জার্স ইউটিউব চ্যানেলে কোমল নাহতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির খান বলেন, ‘তারকাদের সম্মান দেওয়া উচিত, কিন্তু সেটা এমন পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয় যে প্রযোজকেরাই সমস্যায় পড়ে যান।’

এই অভিনেতা জানান, প্রায় ৩৭ বছর আগে যখন তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন, তখনো প্রচলন ছিল প্রযোজক তারকার গাড়িচালক ও সহকারীদের বেতন দিতেন। আমিরের চোখে বিষয়টি ছিল অদ্ভুত, ‘গাড়িচালক আমার হয়ে কাজ করছে, প্রযোজক কেন তার বেতন দেবেন? যদি প্রযোজক আমার স্টাফদের খরচ দেন, তাহলে কি তিনি আমার সন্তানদের স্কুল ফিও দেবেন? কোথায় গিয়ে থামবে এটা?’

এরপর আমির বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, ‘প্রযোজককে সেই খরচই বহন করা উচিত, যা সরাসরি ছবির সঙ্গে যুক্ত—মেকআপ, হেয়ার, কস্টিউম। কিন্তু গাড়িচালক, গাড়িচালকের সহকারী বা পার্সোনাল স্টাফ তো আমার কাজ করছে, তাদের বেতন দেওয়া আমার দায়িত্ব।
প্রথম দিন থেকেই আমি এই নিয়মে অটল। গত ৩৭ বছরে কোনো প্রযোজককে আমি কখনো এসব খরচ বহন করতে দিইনি।’

কিন্তু বর্তমান সময়ের চিত্র দেখে বিস্মিত আমির। বিরক্তি প্রকাশ করে অভিনেতা বললেন, ‘আজকের তারকারা নাকি নিজের গাড়িচালকের বেতন পর্যন্ত দেন না, প্রযোজককে দিতে হয়।
শুধু তা–ই নয়, স্পটবয়, ট্রেইনার, কুক, এমনকি সেটে লাইভ কিচেনের খরচও চাপিয়ে দেন প্রযোজকের ওপর। একাধিক ভ্যানিটি ভ্যান চাওয়া হয়, কারও জন্য জিম, কারও জন্য রান্নাঘর।’

আমির এটাও জানান, তারকারা চাইলে এসব সুবিধা নিতে পারেন, সমস্যা হলো, সেটা প্রযোজকের ঘাড়ে চাপানো। আমিরের ভাষ্যে, ‘তোমরা কোটি কোটি টাকা আয় করছ, অথচ নিজের খরচ দাও না? এটা খুবই দুঃখজনক। শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।
আমি স্পষ্ট বলছি, এটা লজ্জাজনক।’

আমিরের মতে, একজন অভিনেতার প্রথম দায়িত্ব হলো প্রযোজকের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপানো। ‘আমরা সবাই একসঙ্গে ছবির জন্য কাজ করি। টিম প্লেয়ার হিসেবে সবারই এই সচেতনতা থাকা উচিত,’ বলেন তিনি।

সবশেষে আমির বলেন, ‘আজও আমি যখন পরিবার নিয়ে আউটডোর শুটে যাই, সব খরচ নিজের পকেট থেকে দিই। প্রযোজককে কখনোই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে বলিনি। আজকের তারকারা নিজের অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছেন, যা তাঁদের ভাবমূর্তিকেই নেতিবাচক করছে।’

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৫০

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৫০ জন।

এ ছাড়া এক দিনে ডেঙ্গুতে নিয়ে আরো ৬৮৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ২৪৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশন বাদে) ৮৯ জন, ঢাকা বিভাগে ১২২ জন, বরিশাল বিভাগে ১২৫ জন, খুলনা বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন ও সিলেট বিভাগে ৪ জন ভর্তি হয়েছে।

এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ হাজার ৮৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে মহোৎসবের : প্রধান উপদেষ্টা

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে মহোৎসবের বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন মহোৎসবের হবে, যদি সংস্কার বাস্তবায়নের ফয়সালা করতে পারি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘স্বৈরাচার আসার রাস্তা বন্ধ করার জন্যই এত সংস্কার প্রয়োজন। সেটা করতে হলে সবাইকে একমত হয়ে করতে হবে, দ্বিমত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলেই নির্বাচন স্বার্থক হবে।’

তিনি বলেন, ‘যে সমঝোতার রাস্তা শুরু করা হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই।
নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে হলে সমঝোতার মধ্যে দিয়েই করতে হবে। মনে কষ্ট হলেও পরে শান্তি পাবেন।’

‘এই সুযোগ আর আসবে না। এবারেই সেই সুযোগ।
তাই এবার পরিবর্তন না করতে পারলে আর সুযোগ আসবে না’, যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলোর মধ্যে অর্ধেক বাস্তবায়নে কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের আগেই ৭৫ শতাংশ সংস্কার করা সম্ভব। সংবিধানকে টাচ করে এমন কিছু সংস্কার আছে, সেগুলোর জন্য বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।’

নেপালে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২

নেপালে চলতি সপ্তাহের দুর্নীতিবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই সময়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

সরকারের প্রধান সচিব একনারায়ণ আরিয়াল এক বিবৃতিতে জানান, নিহত হয়েছে ৭২ জন এবং ১৯১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দেশটিতে সরকারের পতনের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
নিহতরা মূলত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের দমন ও পীড়নে প্রাণ হারায়।

পরিস্থিতি মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপরই প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন।
তখনই সেনাবাহিনী রাস্তায় নামে ও নিয়ন্ত্রণ নেয়।

নেপালের সেনাবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে লুট হওয়া ১০০টির বেশি বন্দুক তারা উদ্ধার করেছে।

এর আগে বিক্ষোভকারীদের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে ঘুরতে দেখা যায়।

পুলিশের মুখপাত্র বিনোদ ঘিমিরে এএফপিকে বলেন, সহিংসতার সময় দেশজুড়ে একাধিক কারাগার থেকে পালানো প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কয়েদির মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ১২ হাজার ৫৩৩ জন এখনও পলাতক।
নিহতদের মধ্যে জেল পালানো কয়েকজন কয়েদিও ছিলেন। পালানোর সময় বা পরবর্তীতে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে জেল থেকে পালানো অনেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বেশিরভাগ কয়েদিকে আটক করেছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ কমাতে চায় সরকার : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বয়স্ক বন্দীদের মুক্তির কথা বিবেচনায় রেখে সরকার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

১৮৬০ সালের পেনাল কোড অনুযায়ী, বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ বর্তমানে ৩০ বছর উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তাই বয়স বিবেচনায় নারীদের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ২০ বছর, পুরুষদের ক্ষেত্রে মেয়াদ আরেকটু বেশি হতে পারে।
তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের এ বিধান নির্ভর করবে সাজার সময়কালে আসামির বয়সের ওপর। এ বিধান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এতে কিছু শর্ত যুক্ত থাকবে।

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় জনগণের আন্দোলন কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

বৈঠকে পুলিশের প্রশিক্ষণ, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি, ছিনতাই-চুরি-ডাকাতি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ বন্ধ, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং রাকসু ও চাকসু নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হয়।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।