মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

নিজেদের অবস্থান ও টিকে থাকার অগ্নিপরীক্ষা দিতে প্রস্তুত এনসিপি

প্রতীক হিসাবে শাপলা নিয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শাপলা পাওয়া বা না পাওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান ও টিকে থাকার অগ্নিপরীক্ষা দিতে চায় এনসিপি।

প্রতীক হিসাবে শাপলা বরাদ্দ পেতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এছাড়া রাজপথে কর্মসূচির বাইরে আইনি লড়াইয়ের জন্য আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মূল কথা শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করা হবে না। এর শেষ না দেখা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনসিপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ‘জাতীয় ফুল শাপলা’ নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতে পারে কিনা এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন শাপলা পেতে এনসিপি নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন তাও শিষ্টাচারের মাত্রা ছাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে চাপের মুখে ইসি কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নতি স্বীকার করলে ভবিষ্যতের জন্য এটি খারাপ নজির হয়ে থাকবে।

এনসিপি সূত্র বলছে, শাপলা প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। এর আগে এনসিপির সঙ্গে ইসির একাধিক বৈঠকে শাপলা বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়। এমনকি শাপলাকে প্রতীক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর ঘোষণা দেয় ইসি। তবে শেষ পর্যন্ত একটি প্রভাবশালী সংস্থার বাধার কারণে ইসি তার আগের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে। এটি মূলত নির্বাচন নিয়ে ফ্যাসিস্ট আমলের সেই পুরোনো ‘গেম’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

সর্বশেষ বুধবার প্রতীক হিসাবে শাপলা বরাদ্দ পাওয়ার আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে ইসি কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে বলা হয়, জাতীয় প্রতীকের চারটি স্বতন্ত্র উপাদানের মধ্যে শাপলা হচ্ছে একটি। কিন্তু অন্য উপাদানগুলোর মধ্যে বিএনপিকে ‘ধানের শীষ’ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিকে ‘তারা’ প্রতীক হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এনসিপি নেতারা বলছেন, ‘শাপলা জাতীয় ফুল’ এমন অজুহাতও ধোপে টেকে না। কারণ জাতীয় ফল ‘কাঁঠাল’কে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতীক হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আবার তৃণমূল বিএনপি নামের দলটিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক। সুতরাং ‘শাপলা’ জাতীয় ফুল হলেও দলের প্রতীক হিসাবে তালিকাভুক্ত হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক নেতা বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাইরে স্বাধীনতার কথা বললেও তারা পুরোপুরি একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কারণ তারা হয়তো মনে করে নির্বাচন হলে তাদের পছন্দের দলটি ক্ষমতায় চলে আসবে। এ কারণে পদ-পদবির লোভে এখনই তারা নগ্ন পক্ষপাতের পথ বেছে নিচ্ছে। এতে সাংবিধানিক একটি প্রতিষ্ঠানে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এনসিপি। শেষ পর্যন্ত শাপলা প্রতীক বরাদ্দ না পেলে রাজপথে কি ধরনের কর্মসূচি দেবেন এমন প্রশ্ন করা হলে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রাজনৈতিক লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান আরিফুল ইসলাম আদীব যুগান্তরকে বলেন, আশা করি ইসি বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা শেষ পর্যন্ত শাপলা বরাদ্দ দেবে। তবে যদি তা না হয় তাহলে আমাদের সামনে লড়াই ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। রাজনৈতিক লড়াই হবে দাবি আদায়ের শেষ পথ। আমরা রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, শাপলা নিয়ে এনসিপি এখন যেভাবে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এর আগে তা ছিল না। ২২ জুন দল নিবন্ধনের আবেদনেও শাপলার পাশাপাশি বিকল্প প্রতীক হিসাবে ‘কলম’ অথবা ‘মোবাইল’ উল্লেখ করা হয়। মূলত ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই শাপলা নিয়ে এনসিপির কঠোর অবস্থানের প্রকাশ ঘটছে। এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বৈঠক হয়। সেখানেই তিনি শাপলা নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। পরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই সুরে কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ১১৫টি প্রতীকের তালিকায় শাপলা নেই। নিয়মানুযায়ী রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত তালিকার ভেতর থেকেই প্রতীক নিতে হয়। তাই এনসিপিকে অন্য কোনো প্রতীক বেছে নিতে হবে।’ ইসির এমন ঘোষণার পরপরই এনসিপি নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

এদিন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যেহেতু কোনো আইনগত বাধা নেই, তাই এনসিপির মার্কা শাপলাই হতে হবে। অন্য কোনো অপশন নাই। শাপলা প্রতীক না পেলে নির্বাচন কীভাবে হয়, আর কে কীভাবে ক্ষমতায় গিয়ে মধু খাওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেটা আমরাও দেখে নেব।’

যে কঠিন শর্তে ১০৬ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার

প্রায় ১০৬ কোটি ডলার অনমনীয় বা কঠিন শর্তে বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার। সাতটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিদেশি সহায়তা অনুসন্ধান কমিটির সভায় বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত হয়। এ ধরনের ঋণ কিভাবে আরও কম সুদে নেওয়া যায় তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ অন্য কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পক্ষ থেকে বৈদেশিক সহায়তার জন্য মোট ৩৬টি বিদেশি ঋণনির্ভর প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে চীনের ঋণ ও অনুদানের বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে।

তবে মাত্র সাতটি প্রকল্প কঠিন শর্তের ঋণের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

অনমনীয় ঋণের সুদের হার হয় বাজারভিত্তিক, যা নমনীয় ঋণের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া এসব ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ও রেয়াতকালও তুলনামূলক কম। গুরুত্বপূর্ণ অনেক আমদানি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর মতো প্রকল্পে সাধারণত নমনীয় সুদে ঋণ পাওয়া যায় না।

তখন এ ধরনের ঋণ নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। এ কারণে নমনীয় ঋণের উৎসগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নন-কনসেশনাল (কঠিন শর্তের) ঋণ থেকে এসেছে। বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো সংস্থা থেকে সহজ শর্তের ঋণ কমে যাওয়ায় অনমনীয় ঋণে ঝুঁকতে হচ্ছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের জলবায়ু সহনশীল সেতু, উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ মোট সাত প্রকল্পে অনুমোদিত ঋণ নেওয়া হবে।

অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে– চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, ওয়াসার আরেক প্রকল্প ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্প ও উত্তরাঞ্চল তথা নেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্প।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)।

ঢাকা ওয়াসার দুটি প্রকল্পের মধ্যে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেইজ-৩) প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ প্রকল্পটিতে ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)। ৮ কোটি ইউরোর পুরোটাই অননমীয় ঋণ। ডলারের অঙ্কে এ প্রকল্পে ঋণ ৯ কোটি ডলার।

ওয়াসার আরেক প্রকল্প ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পেও একই সংস্থা ইআইবি ঋণ দেবে ৬৭৪ কোটি। ৮ কোটি ইউরোর পুরোটাই নন-কনসেশনাল বা কঠিন শর্তের ঋণ। ডলারের অঙ্কে এ প্রকল্পে ঋণ ৯ কোটি ডলার।

চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি। খুলনায় পানি সরবরাহের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা।

এ প্রকল্পে ১ হাজার ৮২১ কোটি টাকা ঋণ দেবে একই সংস্থা এডিবি। সর্বশেষ উত্তরাঞ্চল তথা নেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য প্রকল্প ব্যয় হবে ১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে ৯৬৫ কোটি টাকা এডিবির ঋণ।

সাগরে ফের লঘুচাপ, যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

বঙ্গোপসাগরে ফের একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না।

এর আগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। যদিও সেটি ঘনীভূত হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকালের বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পাশের উড়িশ্যা-অন্ধ্র উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পূর্ব উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

তবে এই লঘুচাপের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝরি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য : মৌনির সাতৌরি

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মৌনির সাতৌরি।

বাংলাদেশ সফর শেষ করার আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সাতৌরি বলেন, ‘অবশ্যই আগামী ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হতে হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। বাংলাদেশে নির্বাচনের পর স্থিতিশীলতার জন্য এই শর্ত অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নির্বাচন কেবল একটি ধাপ মাত্র। সব রাজনৈতিক অংশীদাররা যেন ঐকমত্য তৈরি হওয়া সংস্কারগুলোকে সমর্থন করে। সেইসঙ্গে সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সাতৌরি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্টনারশিপ কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট (পিসিএ)-এ মানবাধিকার অঙ্গীকারের মান নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর সমর্থন অব্যাহত থাকবে, তবে মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই হবে সহযোগিতা গভীর করার প্রধান মাপকাঠি।’

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক জোরদারের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে।

সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সুশাসন, মানবাধিকার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম মান বাস্তবায়নের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং এসব বিষয়ে ইইউ-বাংলাদেশ অংশীদাররি নিয়ে আলোচনা করা।

মৌনির সাতৌরি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অতীতের দিকে ফিরে তাকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে, অতীতে ক্ষমতার বিভাজনকে সম্মান করা হয়নি, বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন ছিল না, নাগরিক সমাজ বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও ছিল না। অথচ এসব বিষয় একটি সুস্থ গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার অপরিহার্য নিশ্চয়তা।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর নতুনভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হবে। বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ক্ষমতাসীনদের মনে রাখতে হবে, স্থিতিশীল শাসন ব্যবস্থার জন্য ক্ষমতার বিভাজন অপরিহার্য।’

যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে এনসিপি নেই : নাহিদ ইসলাম

সাত দফা দাবিতে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেই বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নিম্নকক্ষে নয়, উচ্চকক্ষে পিআর চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। তাই জামায়াতে ইসলামীসহ যে কয়টি দল যুগপৎ আন্দোলন করছে, তাদের সঙ্গে আমরা নেই।

বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই মুহূর্তে জোট নয়। স্বতন্ত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এগোবে জাতীয় নাগরিক পার্টি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণপরিষদের বিকল্প নেই। গণপরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন আমরা যেহেতু একসঙ্গে চাচ্ছি, তাই সেই যৌথ নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য আমরা সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। অক্টোবরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে আবারও মাঠে নামবে এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা নিবন্ধন পেতে যাচ্ছি। শাপলা প্রতীক না দেওয়ার পক্ষে কোনো যথাযথ যুক্তি নির্বাচন কমিশন দিতে পারেনি। আমরা আশা করছি শাপলা প্রতীক পাব।’

এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জোট ও গণপরিষদের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের বলেছেন, আওয়ামী দোসররা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

ঢাকায় পা রাখলেন হানিয়া আমির

ঢাকায় পৌঁছেছেন হানিয়া আমির। সানসিল্কের আমন্ত্রণে গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশে নামেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে নিজের ঢাকায় অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

এর আগে এক ভিডিও বার্তায় হানিয়া জানিয়েছিলেন, সানসিল্কের আমন্ত্রণে ঢাকায় আসছেন তিনি।
বলেছিলেন, ‘হাই বাংলাদেশ, আমি হানিয়া। আমি সানসিল্কের সঙ্গে ঢাকায় আসছি। অনেক মজা হবে, সঙ্গে ছোট্ট একটা সারপ্রাইজ থাকছে।’

২০১৬ সালে ‘জনান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে হানিয়ার।
এক দশকের ক্যারিয়ারে ‘মেরে হামসাফার’, ‘ফেইরি টেল’, ‘দিলরুবা’, ‘আনা’, ‘কাভি মে কাভি তুম’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে তুঙ্গে, সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে তার পারিশ্রমিকও। বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন হানিয়া। ধারাবাহিকের প্রতি পর্বের জন্য প্রায় তিন লাখ রুপি পারিশ্রমিক পান।
বর্তমানে চার লাখ রুপি পারিশ্রমিক নেন তিনি। হানিয়া আমিরের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৩ কোটি রুপি। ২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রকৃত গণতন্ত্র : ড. মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার একটি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে সব মানুষ তার মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবে। শুধু একজন মানুষ কথা বলবে, একজন কর্তৃত্ব আরোপ করবে সেটা কখনো গণতন্ত্র হতে পারে না, সেটা হবে স্বৈরতন্ত্র।

আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নরসিংদীর পলাশের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, যেই গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর সংগ্রাম করেছে সেই যাত্রা গত এক বছর আগেই শুরু হয়েছে, যা আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনে একটি সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে। বিএনপি সেই গণতন্ত্রের কথা বলে, যে গণতন্ত্রে মানুষ ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়, অর্থনৈতিক মুক্তির অধিকার নিশ্চিত হয় এবং এ দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত হয়।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি কারো ওপর কিছু চাপিয়ে দিয়ে রাজনীতি করে না। বিএনপি রাজনীতি করে দেশের মানুষের কথা শুনে, তাদের উপদেশ নিয়ে।

জিনারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মোল্লার সভাপতিত্বে পথসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন ভূইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, পলাশ থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেল, সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপনসহ বিভিন্ন নেতারা।

গুজব উপেক্ষা করে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে লড়াইয়ে রদ্রিগো

রদ্রিগো পুরো গ্রীষ্মটা কাটিয়েছেন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা গুঞ্জন নিয়ে রসিকতা করে। প্রতি সপ্তাহে নতুন ক্লাবের সঙ্গে নাম জড়ালেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি এখনো রিয়াল মাদ্রিদে থেকে খুশি।

গত মৌসুমের শেষ দিকে মাদ্রিদের শুরুর একাদশ থেকে তার নাম বাদ পড়ার পর থেকেই ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে ঘিরে জল্পনা ছড়াতে থাকে। আর্সেনাল ও লিভারপুলের আগ্রহের কথা শোনা গেলেও ম্যানচেস্টার সিটি ও টটেনহাম হটস্পারকে সবচেয়ে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
ক্লাব বিশ্বকাপে জাবি আলোনসোর তাকে কম ব্যবহার করাও সেই জল্পনা আরো জোরদার করেছিল। তবে ২৪ বছর বয়সী রদ্রিগো জানালেন, তিনি এসব গুঞ্জনকে গুরুত্ব দেননি।

টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রদ্রিগো বলেন, ‘প্রতি বছরই শোনা যায় আমি নাকি ক্লাব ছাড়ছি। এবার তো প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমাকে ভিন্ন ভিন্ন দলে পাঠানো হচ্ছিল! আমি মজা করে বাবা-মা আর বন্ধুদের বলতাম, আজ আমি এই দলে, কাল ওই দলে।
কিন্তু এসব গুঞ্জন আমাকে একদমই প্রভাবিত করেনি। আমি জানতাম, আমি এখানেই থাকব।’

২৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আরো বলেন, ‘আমি আমার ছুটি উপভোগ করেছি, অনুশীলন চালিয়ে গেছি। রিয়াল মাদ্রিদই আমার ঘর, এখানে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল।
যতদিন এই জার্সি গায়ে থাকবে, আমি সর্বোচ্চটা দিয়ে যাব।’

আলোনসোর অধীনে নতুন মৌসুমে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জায়গায় রদ্রিগোকে বাম দিকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে একাধিক ম্যাচে। মার্শেইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে এমবাপ্পের প্রথম গোলে পেনাল্টি আদায় করে এনে নিজের কার্যকারিতা আরও একবার প্রমাণ করেছেন তিনি। রদ্রিগো বলেন, ‘তিনি (আলোনসো) অনেক পরিবর্তন করছেন, প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আলাদা কৌশলে খেলাচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে আমাকে বাম দিকে রেখেছিলেন, কিন্তু সবাই জানে আমি ভেতরে বা ডান দিকেও খেলতে পারি, যেমন আমি আগেও সবসময় করেছি।

অর্ধেক বয়সের ছেলেরা আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় : আমিশা পাটেল

অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো বিয়ে করেননি ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ খ্যাত অভিনেত্রী আমিশা পাটেল। একটা সময় বিয়েতে রাজি থাকলেও বিয়ের জন্য অভিনয় ছেড়ে দিতে বলায় সেসময় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন অভিনেত্রী। এরপর বহু প্রস্তাব এলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমিশা পাটেল জানান, তিনি এখনো বিয়ের প্রস্তাব পান, এমনকি তার বয়সের অর্ধেকেরও কম বয়সী পুরুষদের কাছ থেকে।

রণবীর এলাহাবাদিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং অবিবাহিত থাকার কারণ সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন ৫০ বছর বয়সী আমিশা পাটেল। জানিয়েছেন, তিনি স্কুলে ছেলেদের পিছনে ছুটে বেড়াতেন।

আমিশা বলেন, ‘যারা তোমাকে ভালোবাসে, তারা তোমার ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে দেবে। আমি আমার ক্যারিয়ারের জন্য অনেক কিছু হারিয়েছি এবং প্রেমের জন্যও অনেক কিছু হারিয়েছি।
আমি অন্যটির জন্য উভয় জিনিসই ছেড়ে দিয়েছি এবং মনে হয় আমি উভয় ক্ষেত্রেই শিখেছি। উদাহরণস্বরূপ, আমার একটি সিরিয়াস প্রেম ছিল এবং এটি ছিল আমার সিনেমায় যোগদানের আগে। তিনি দক্ষিণ মুম্বাইয়ের একটি খুব বড় শিল্প পরিবারের ছেলে, আমার মতো। একই ব্যাকগ্রাউন্ড এবং শিক্ষা, এবং পরিবারের পরিবেশও একই ছিল।
সবকিছু ঠিক ছিল, কিন্তু যখন আমি সিনেমায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন আমার পার্টনার চায়নি তার ভালোবাসার মানুষ এভাবে জনসম্মুখে আসুক। আমি সিনেমার ক্যারিয়ারের জন্য ভালোবাসা ছাড়লাম।’

আমিশা জানান, এখনো তিনি বিয়ের ধারণাতে আগ্রহী। অভিনেত্রী বলেছেন, ‘আমি বিয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যতক্ষণ না আমি উপযুক্ত কাউকে পাই। ওই যে বলে না ‘ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়।
’ তাই যে ব্যক্তি আমাকে পাবে সে মকে পে চকা মার দেগা। সেই আমার মনের মানুষ হবে। আমি এখনও অনেক ধনী পরিবারের কাছ থেকে নানা ধরণের প্রস্তাব পাই। আমার বয়সের অর্ধেক বয়সী মানুষ আমাকে ডেটে নিয়ে যেতে চায়, এবং আমি এর জন্য উন্মুক্ত কারণ একজন পুরুষকে মানসিকভাবে পরিপক্ক হতে হবে। আমি আমার চেয়ে বয়সে বড় অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি যাদের বুদ্ধিমত্তা একটি মাছির মতো।’

৫ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালে সানি দেওলের সঙ্গে ‘গদর ২’ ছবি দিয়ে বড় পর্দায় ফিরেন আমিশা। ছবিটি ব্লকবাস্টার হয় এবং বক্স অফিসে বিশ্বব্যাপী ৬৮৬ কোটি রুপি আয় করে। এরপর গেল বছর তাকে ‘তৌবা তেরা জলওয়া’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল। ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক পর্যালোচনা পেলেও, আমিশার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

ট্রাম্পপন্থী সাংবাদিককে নাগরিকত্ব দেবে ইতালি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কট্টর-ডানপন্থী সরকার ট্রাম্পপন্থী ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্তিরোমোকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্ক উন্নয়নে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি ‘বিশেষ অবদানের’ কারণে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাবটি তুলেছিলেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘৩০ বছরেরও বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে বার্তিরোমো ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং ইতালীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন।’

এখন প্রস্তাবটি ইতালির আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লার অনুমোদনের জন্য যাবে।

বার্তিরোমো বহুবার তার ইতালীয় শিকড়ের কথা গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার দাদা কারমিনে মাত্র ১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
তার বাবার পরিবার নেপলস থেকে এবং মায়ের পরিবার সিসিলির আগ্রিজেন্তো শহরের।

এ বছর মেলোনি সরকার নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়ম কঠোর করলেও বার্তিরোমোর নাগরিকত্ব ওই নিয়মের মধ্যে পড়ে। আগে চার প্রজন্ম পর্যন্ত রক্তের সম্পর্ক প্রমাণ করা গেলে আবেদন করা যেত, এখন কেবল পিতা বা দাদা-দাদি, নানা-নানির মাধ্যমে যোগসূত্র থাকলেই আবেদন করা যাবে।

তবে সাংবাদিকের স্পষ্টভাষী ট্রাম্প সমর্থন এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারের অভিযোগের কারণে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতালিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফক্স নিউজ ও বার্তিরোমোকে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট কারচুপির মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর কারণে ভোটিং প্রযুক্তি কম্পানি স্মার্টম্যাটিক কয়েক বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় আসামি করেছে।