সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

স্টেশনে ঢুকে মেট্রোরেলে না চড়লেও দিতে হবে ১০০ টাকা

ঢাকা মেট্রোরেলের কোনো স্টেশনে কার্ড স্ক্যান করে ভেতরে প্রবেশের পর যাত্রা না করে বেরিয়ে গেলে ১০০ টাকা ভাড়া কাটবে। আগে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে গেলে কোনো ভাড়া কাটা হতো না। কিন্তু এখন থেকে ভাড়া দিতে হবে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
বিষয়টি জানিয়ে স্টেশনগুলোতে নোটিশও টাঙানো হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের নোটিশে বলা হয়েছে, একই স্টেশনে বিনা ভাড়ায় এন্ট্রি–এক্সিট বন্ধ আছে। একই স্টেশনে এন্ট্রি করে এক্সিট করলে ১০০ টাকা ভাড়া কাটা হবে।

নতুন নিয়মের বিষয়ে কারওয়ান বাজার স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন থেকে স্টেশনের ভেতর দিয়ে ফ্রি এক্সিট, এন্ট্রি নেওয়া যাবে না।
গতকাল থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

তবে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, তিনি নতুন নিয়মের বিষয়ে অবগত নন। বর্তমানে মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এই নতুন নিয়মে অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
‘ঢাকা মেট্রোরেল হেল্পলাইন’ নামের ফেসবুক গ্রুপে এ–সংক্রান্ত একটি পোস্টে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যাত্রীদের অনেকে বলছেন, কেউ যদি জরুরি প্রয়োজনে বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে স্টেশন থেকে বের হয়ে আসেন, সেক্ষেত্রেও ১০০ টাকা ভাড়া কাটা অন্যায়। তাঁদের দাবি, ভাড়া ফাঁকি ঠেকাতে ন্যূনতম ভাড়া কাটা যেতে পারে, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে ১০০ টাকা কাটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।

সেনা কর্মকর্তাদের হাজির উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় হেফাজতে থাকা সাবেক ও বর্তমান ১৫ সেনা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের হাজির উপলক্ষে পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আশপাশে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৭টায় বাংলাদেশ জেল প্রিজন ভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে তাদের আদালতে আনা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএনের বিপুল সংখ্যক সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে।
এ ছাড়া কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, কাকরাইল মোড়সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ও টহল দেখা গেছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা তিনটির মধ্যে দুটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনার। অন্যটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়। এসব মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামি।
তাঁদের মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

কেন্দুয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিন ফার্মেসিকে মোট ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসদরের বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম। এ সময় কেন্দুয়া থানার পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি ও অনিয়মের অভিযোগে তিনটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো থানা সংলগ্ন বদরুর ফার্মেসি (১০ হাজার টাকা), সাজিউড়া মোড় এলাকার দত্ত মেডিক্যাল হল (৫ হাজার টাকা) এবং আনোয়ার মেডিক্যাল হল (৭ হাজার টাকা)।

এ ছাড়াও অভিযানে বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, হোটেল ও মিষ্টির দোকানের পরিচ্ছন্নতা এবং মিষ্টির প্যাকেটের ওজন নিরীক্ষা করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির অভিযোগে তিনটি ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়েছে।
পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।’

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি জরুরি : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে এই সনদের আইনি ভিত্তি জরুরি। আগামী নভেম্বরেই গণভোটের মাধ্যমে এই ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে খুলনা-৫ আসনের শাহপুর আঞ্চলিক অফিসে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর ও রুদাঘরা ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই সনদে আমরা সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৮৪টি বিষয়ে একমত হয়েছি। এখন আরো কিছু বিষয় নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। আগামী নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে হলে এই সনদই হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভিত্তি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ ছয়টি রাষ্ট্রীয় অঙ্গ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে আগামী সরকার স্বৈরতান্ত্রিক বা ফ্যাসিবাদী না হয়ে জনগণের জন্য কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াত সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ, অফিস সম্পাদক শাহজালাল হোসেন, বি এম আলমগীর হোসেন, মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন, শেখ বেলাল হোসেন, তৈয়বুর রহমান জোয়ার্দার প্রমুখ।

বিমানবন্দরের আগুন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাশকতার অংশ : আমান

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাশকতার অংশ। ভারতে বসে শেখ হাসিনা এখনো দেশের বিরুদ্ধে নানা যড়যন্ত্র করছেন। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ দেশ ও জনগণের ক্ষতি করে যাচ্ছে। সুতরাং বিমানবন্দরে আগুনের ঘটনা স্বাভাবিক নয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমানউল্লাহ আমান বলেন, এখনো শেখ হাসিনার প্রেতাত্মা সব জায়গায় সক্রিয়। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, বিমানবন্দরসহ সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে।
তার মানে আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস ওই সময়েই হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়েও নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নির্বাচন রুখতে যারা আসবে তাদের জনগণ রুখে দেবে। জনগণ এখন নিজেদের ভোটাধিকার চায়, এত বছর ধরে তা থেকে বঞ্চিত ছিল।
সুতরাং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে লাভ নেই।’

সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন সহ ৯০-এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতারা, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও ১২ দলীয় জোট নেতারা।

জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘জামায়াতের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র ও জাতীয় চেতনার পরিপন্থী। তারা যতবার ইতিহাসের মঞ্চে ফিরে আসতে চেয়েছে, ততবারই জনগণের অন্তর থেকে প্রতিধ্বনি উঠেছে। এই দেশকে আর অন্ধকারে ফেরানো যাবে না।

আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা লেখেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা ন্যায়, মানবতা ও সংহতির বাংলাদেশে বিশ্বাস করি। এখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার আছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। কিন্তু এই স্বাধীনতা কোনো ষড়যন্ত্রের ঢাল হতে পারে না।
প্রশাসনে ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ, বিভাজনের রাজনীতি বা ধর্মের নামে রাষ্ট্র দখলের চেষ্টা এই মাটিতে আর সফল হবে না।’

তিনি আরো লেখেন, ‘বাংলাদেশের কওমি, সুন্নি, হিন্দু, তরুণ ও প্রগতিশীল সব শ্রেণির মানুষ আজ এক বন্ধনে যুক্ত। এই মাটিকে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার পথে রাখার বন্ধনে। যে মাটিতে শহীদদের রক্ত মিশে আছে, যে আকাশে মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান ধ্বনিত হয়েছিল, সেই বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি কখনোই স্থান পাবে না।
আমাদের দায়িত্ব শুধু প্রতিরোধ নয়, সুরক্ষা। বাংলাদেশের মানচিত্র, ইসলাম ও আলেম-উলামাদের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘তবু আমরা ঘৃণার নয়, মানবতার রাজনীতি চাই। যারা বিভ্রান্ত পথে গেছে, তাদের জন্য আমরা দরজা খোলা রাখি যেন তারা ফিরে আসে গণতন্ত্র, ন্যায় ও মুক্তচিন্তার বাংলাদেশে। এই দেশ কারো শত্রুতা নয়—এই দেশ সহাবস্থানের, পারস্পরিক শ্রদ্ধার এবং এক নতুন ভবিষ্যতের আহ্বান।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক বুধবার

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। আগামীকাল বুধবার জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিল শুনানি চলছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে চূড়ান্ত আপিল শুনানি চলছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ জনের পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।

এর আগে ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ জন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ এ রিট খারিজ করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারী পক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।

ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।
অন্য চারজন হলেন, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৬ অক্টোবর একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

পরবর্তী সময় নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।

জোবায়েদ হত্যায় বর্ষাসহ ৩ জনের দায় স্বীকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তার ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিনজন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের বন্ধু প্রীতম চন্দ্র দাস সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার পৃথক চার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

দায় স্বীকার করা অন্য আসামিরা হলেন বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিন আসামি ও এক সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়ার আদালতে বর্ষা, আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান জবানবন্দি দেন।
এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামানের আদালতে প্রীতম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে পরিবারের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, মাহিরের সঙ্গে বর্ষার দেড় বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক।
জোবায়েদ প্রায় এক বছর আগে থেকে বর্ষাকে টিউশন করান। এরই এক পর্যায়ে শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এতে করে মাহির ও বর্ষার মধ্যে ঝগড়া বিবাদ তৈরি হয়। ঘটনার এক মাস আগে মাহির জানতে পারেন জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি মাহির মেনে নিতে পারেননি এবং বর্ষাও মাহিরকে বলেন, ‘স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর স্যারকে সহ্য করতে পারছি না।

এ বিষয়ে মাহির ও বর্ষা জোবায়েদকে হত্যা করার জন্য একাধিক পরিকল্পনা করেন। জোবায়েদ বাসায় কখন পড়াতে আসেন এবং কখন চলে যান নিয়মিত বর্ষা মাহিরকে জানান। মাহির তার বন্ধু আয়লানের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা করে আগানগর বউ বাজার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি সুইচ গিয়ার চাকু কেনেন।

গত রবিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫ তম ব্যাচের ছাত্র মো. জোবায়েদ হোসেন বংশাল থানাধীন ৩১ নং ওয়ার্ডস্থ নুর বক্স লেন এব ১৫ নং হোল্ডিং রৌশান ভিলায় টিউশন করাতে যান। জোবায়েদ বর্ষাকে টিউশন করাতে গিয়ে বাসার নিচতলার সিঁড়ির নিচে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা বর্ষার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমান ও তার বন্ধু ফারদীন ওই সময় জোবায়েদকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি বর্ষার সঙ্গে সম্পর্ক করেন কেন? এতে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে মাহিরের ব্যাগে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু বের করে গলার ডান পাশে আঘাত করে খুন করেন।

এ সময় বর্ষা তিনতলায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভাংনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাহির রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাসা থেকে বর্ষাকে আটক করে বংশাল থানা পুলিশ। মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সোমবার রাত ১০টার দিকে পল্টনের চামেলীবাগ শান্তিনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। প্রতিদিনের মতো তিনি ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১ নং ওয়ার্ডে নুর বক্স লেন এর ১৫ নং হোল্ডিং রৌশান ভিলায় পড়ানোর জন্য যান। একই তারিখে সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ৪৮ মিনিটের সময় ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে জানান যে জোবায়েদ স্যার খুন হয়ে গেছেন, কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে।

এ বিষয়টি ওইদিন রাত অনুমানিক ৭টার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ভুক্তভোগী জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। পরে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ওই ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তিনি সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের ৩য় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে গেলে সিঁড়ির ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে গত ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

৯০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি : মাদকদ্রব্যের কর্মকর্তাসহ ৬ জনের কারাদণ্ড

ব্যবসায়ীর ৯০ ভরি ওজনের দুটি সোনার বার ডাকাতির মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেনসহ ছয়জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শিহাবুল ইসলাম এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিলন হোসেন এ তথ্য জানান।

দণ্ডিত অপর আসামিরা হলেন- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক ইব্রাহিম শিকদার, জীবন পাল, আমিনুল ইসলাম, রতন কুমার সেন এবং এমদাদুল হক।
এদের মধ্যে সাকিব ও জীবনকে ৮ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপর চার আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাস করে কারাভোগ করতে হবে। হারুন মুন্সী নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে সাত আসামি আদালতে হাজির করা হয়।
তবে রায় ঘোষণার আগে জীবন পালিয়ে যান। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দণ্ডিত অপর পাঁচ আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

৯০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ৭ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েক ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমানকে তুলে নিয়ে ৯০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ৫ অক্টোবর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কোতয়ালী থানার এসআই রুবেল মল্লিক। ২০২২ সালের ৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আলমগীর হোসেন নামে এক আসামি মারা যায়।
এদিকে আদালত মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।