বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

ওসমান হাদির বিদায়ী যাত্রা নিয়ে সরব হৃদয়-এবাদতরা

সন্ত্রাসী হামলায় আহত হওয়ার সপ্তাহ খানেকের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তার স্মরণে আজ (শনিবার) দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষ হাজির হয়েছিলেন শহীদ হাদির জানাজায়। যা দেখে আবেগতাড়িত হয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। ওসমান হাদির এই বিদায়ী যাত্রা নিয়ে তারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জাতীয় দলের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় লিখেছেন, ‘যে সংসদ প্রাঙ্গণে যাওয়ার জন‍্য লড়াই করছিলেন হাদি ভাই, তিনি গেলেনও সেখানে। বীরের বেশে, হাজার মানুষের সাথে, কোটি মানুষের দোয়া আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। বিদায়বেলায় এতো ভালোবাসা সবার কপালে থাকে না। আল্লাহ পাক তাকে সৌভাগ্যবান করে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। চিরনিদ্রায় শান্তিতে শায়িত থাকুক আমাদের হাদি ভাই।’

কারও জানাজায় এত মানুষ দেখেননি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, ‘আজ ওসমান হাদির জানাজায় মানুষের ঢল দেখে আমি সত্যিই স্তব্ধ। আমার জীবনে এর আগে কখনো কোনো জানাজায় এত মানুষের উপস্থিতি দেখিনি। এই ভিড়ই সাক্ষ্য দেয়—তোমাকে মানুষ কতটা ভালোবেসেছে। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক এবং শহিদি মর্যাদা দান করুক।’

বিদায়বেলায় ওসমান হাদি যে সম্মান পেয়েছেন, পরকালেও এমন সম্মান অপেক্ষা করছে বলে প্রত্যাশা জাতীয় দলের পেসার এবাদত হোসেন চৌধুরীর, ‘তুমি কোনো প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান ছিলে না। ছিলে একজন ভালো মানুষ, শুধু একজন ভালো মানুষ হিসেবে সবাই তোমাকে জানে। এই জন্য তোমার জানাজায় আজকে এত মানুষ। আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দুনিয়াতে এত সম্মান দিয়েছেন, না জানি ওই পারে কত সম্মান তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।’

আরেক পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি ওসমান হাদিকে তুলনা করেছেন শের-ই বাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে, ‘বাংলার শিরোমণি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ২৬ অক্টোবর ১৮৭৩ সালে বরিশাল বিভাগের বর্তমান ঝালকাঠি জেলায় জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না— তিনি ছিলেন বাংলার মানুষের কণ্ঠস্বর। নেতৃত্ব, সাহস ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি বাংলার মানুষের অধিকার ও মুক্তির পথকে আলোকিত করেছিলেন। তার অবদান কোনো এক সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে আছে। ১৯৪০ সালে লাহোর অধিবেশনে তার জ্বালাময়ী, নির্ভীক ও ঐতিহাসিক বক্তৃতার পর মানুষ তাকে ভালোবেসে উপাধি দেয়— বাংলার বাঘ (শের-ই-বাংলা)। এই উপাধি কোনো ক্ষমতার দান নয়—এটি ছিল জনগণের রায়।’

‘ঠিক তেমনই, বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার নলছিটির মাটিতে জন্ম নেওয়া, বিদ্রোহী ও বিপ্লবী শরীফ ওসমান গনি বিন হাদির মতো এক তরুণ সময়ের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সত্য ও ন্যায়ের পথকে বেছে নিয়েছিলেন। বরিশালের মাটির যে প্রতিবাদী রক্ত শেরে বাংলার মধ্যে প্রবাহিত ছিল, সেই একই আগুন হাদীর ভেতরেও দেখা যায়। তিনি ছিলেন আপসহীন, প্রশ্নকারী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে অটল। বাংলার মুক্তি ও ইনসাফের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও নির্ভীক। এই দুই সংগ্রামী আত্মার স্মরণ আমাদের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

ডানহাতি পেসার রুবেল হোসেন লিখেছেন, ‘আপনি জিতে গেছেন হাদী…বছর বছর রাজনীতি করা কোনো রাজনীতিবিদ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনি মরে গেলে, এর ধারে-কাছে মানুষ আপনার জানাজায় আসবে বা আপনাকে মনে রাখবে? রাজনীতি হোক মানুষের অধিকারের জন্য, দেশের জন্য। আবার বলি আপনি জিতে গেছেন হাদী…দেশকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক।’

শুরুর আগেই কোচ পরিবর্তন, চট্টগ্রামে আসছে বিদেশি কোচ

বিপিএলের আসন্ন আসর শুরু হতে যাচ্ছে ২৬ ডিসেম্বর। নতুন করে ৬ দলের মধ্যে যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম রয়েলস। তারা প্রধান কোচ হিসেবে দেশি মমিনুল হকের নাম জানিয়েছিল আগেই। এবার সিদ্ধান্ত বদলেছে দলটি। শেষপর্যন্ত প্রধান কোচ হিসেবে একজন বিদেশিকে বেছে নিয়েছে চট্টগ্রাম।

আজ ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দলের প্রধান কোচের নাম ঘোষণা করেছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রধান কোচ হিসেবে এবার জাস্টিন মাইলস ক্যাম্পের কথা জানাল চট্টগ্রাম। ৪৮ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন বোলিং অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিংয়ে ছিলেন পারদর্শী।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪টি টেস্ট, ৮৫টি ওয়ানডে ও ৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলারও অভিজ্ঞতা আছে তার। খেলেছেন আইপিএল, সিপিএল, ভাইটালিটি ব্লাস্টে।

খেলোয়াড়ি জীবনে পেশাদার শেষ ম্যাচটি খেলেছেন ২০১৫ সালে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের মেন্টর ও ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তুষার ইমরান।

চট্টগ্রাম রয়্যালস স্কোয়াড :

শেখ মেহেদী হাসান, তানভীর ইসলাম, আবরার আহমেদ, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, শরিফুল ইসলাম, আবু হায়দার রনি , মাহমুদুল হাসান জয়, সুমন খান, জিয়াউর রহমান, আরাফাত সানি, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, সালমান হোসেন, শুভাগত হোম, জাহিদুজ্জামান সাগর, নিরোশান ডিকভেলা, পল স্টার্লিং, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, কামরান গুলাম।

সালমান খানকে নিয়ে যা বললেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী

বলিউড তারকাদের প্রতি পাকিস্তানি শিল্পীদের ভালোলাগা বা মুগ্ধতা প্রকাশের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এর আগে হানিয়া আমিরকে দেখা গিয়েছিল শাহরুখ খানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে, আবার কেউ কেউ মুগ্ধতা জানিয়েছেন রেখার চিরযৌবনা সৌন্দর্যে। এবার সেই তালিকায় নতুন করে যোগ দিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সজল আলি।

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সালমান খানের একটি ফ্যান-মেড ভিডিও শেয়ার করেছেন সজল। ভিডিওর ক্যাপশনে কোনো দীর্ঘ বাক্য নয়, সজল আলি কেবল লিখেছেন, ‘আমার হৃদয়।’ সালমানের প্রতি সজলের এই ভালোবাসাকে দারুণ ইতিবাচকভাবে দেখছেন ভক্তরা।

প্রসঙ্গত, সজল আলি কেবল পাকিস্তানের পর্দা নয়, বলিউডেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সিনেমা ‘মম’ এ শ্রীদেবীর সৎ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

বর্তমানে সজল তার ক্যারিয়ারের দারুণ সময় পার করছেন। ২০২৫ সালে হামজা সোহেলের বিপরীতে তার অভিনীত ‘দিল ওয়ালি গলি মে’ নাটকটি দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

এছাড়া ২০২৬ সালে জনপ্রিয় চ্যানেল ‘হাম টিভি’তে আসতে যাচ্ছে তার নতুন প্রজেক্ট ‘জানজেরিন’। এতে তার সঙ্গে থাকছেন আমির জিলানি ও দানিয়াল জাফরের মতো একঝাঁক তারকা।

অ্যাভাটার ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ যেন ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’

জেমস ক্যামেরনের মহাকাব্যিক ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ গত ১৯ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে। প্রথম দুই কিস্তির আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। তবে মুক্তির পরপরই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে সিনেমাটি। দর্শকদের বড় অংশের দাবি পর্দায় জাদুকরী দৃশ্য তৈরি করলেও গল্পের গভীরতায় এবার খেই হারিয়েছেন ক্যামেরন।

এবারের পর্বে প্যান্ডোরার নতুন এক গোষ্ঠীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন পরিচালক। তারা হলো ‘মাংকওয়ান’ বা আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মানুষ। আগের পর্বে পানির নিচের মেটকায়িনা গোষ্ঠীকে দেখা গেলেও এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার কেবল মানুষ বনাম নাভি নয়, বরং নাভিদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘাতও প্রধান্য পেয়েছে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ সিনেমায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ সিনেমাটিকে ‘একই গল্পের পুনরাবৃত্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ‘পুরনো মদ নতুন বোতলে’ এমন মন্তব্যে ভরে গেছে এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুক। দর্শকদের মতে, জেমস ক্যামেরন কেবল ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা ভিএফএক্স-এর ওপর মাত্রাতিরিক্ত জোর দিয়েছেন, যেখানে আবেগের জায়গাটি ছিল খুবই নড়বড়ে।

সিনেমাটি দেখে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘জেমস ক্যামেরন গত ৩০ বছরে নতুন কিছু তৈরি করতে পারেননি। একই সিনেমা, একই গল্প, শুধু ভিএফএক্স পাল্টে গেছে।’ অন্য এক ক্ষুব্ধ দর্শক লিখেছেন, ‘‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ আসলে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’ ছাড়া আর কিছু নয়। এটি ক্লান্তি ধরিয়ে দেওয়ার মতো একটি অভিজ্ঞতা।’

গল্প নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সিনেমাটির কারিগরি দিক ও ভিজ্যুয়াল স্পেশাল ইফেক্টের প্রশংসা করতে ভোলেননি সমালোচকরা। অনেকেই মনে করছেন, বরাবরের মতো এবারও সিনেমাটি ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ক্যাটাগরিতে অস্কারের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। কিন্তু ৩ ঘণ্টা ১০ মিনিটের দীর্ঘ ব্যাপ্তি অনেকের কাছেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বক্স অফিসের হালচাল সমালোচনা থাকলেও বক্স অফিসে কিন্তু দারুণ সূচনা করেছে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’। প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি আগের দুই কিস্তির মতো ২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে দ্বিতীয় কিস্তির তুলনায় উদ্বোধনী আয়ের গ্রাফ এবার কিছুটা নিম্নমুখী।

জাতীয় কবির পাশে শহীদ হাদির দাফন সম্পন্ন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হাদির জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে এ জানাজা আদায় করা হয়। জানাজা শেষে তাকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।

জানাজার আগে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, ওসমান হাদি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন এবং নির্বাচন কীভাবে করা উচিত, তার একটি প্রক্রিয়াও তিনি দেখিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, হাদি যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সেটি আমাদের সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। কীভাবে প্রচারণা চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়- সবকিছুরই শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন। আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করেছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদি কোথাও হারিয়ে যাবে না। কোনোদিন তোমাকে কেউ ভুলতে পারবে না। তোমাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম। আমরা সবসময় তোমার কথা রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকব।

ড. ইউনূস বলেন, আজ লাখ লাখ মানুষ হাজির হয়েছেন। রাজপথে ঢেউয়ের মতো লোক আসছে। এই মুহূর্তে কোটি কেটি মানুষের চোখ এখানে। তারা তাকিয়ে রয়েছে হাদির বিষয়ে জানার জন্য। প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছ। বাংলাদেশ যতদিন আছে, ততদিন তুমি সব বাংলাদেশির বুকে থাকবে। এটা কেউ সরাতে পারবে না।

হাদির কাছে ওয়াদা করে এসেছেন জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তুমি যা বলে গেছ, সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি। সে ওয়াদা করার জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে দেশের সব মানুষ পূরণ করবে। তোমার যে মানব প্রেম তোমার যে ভঙ্গি, তোমার যে ওঠাবসা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, তা নিয়ে সবাই প্রশংসা করছে। সেটা যেন আমাদের মনে সবসময় জাগ্রত থাকে।

সকালে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহটি পুনরায় নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ মরদেহটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়।

গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের শক্তিশালী দল ঘোষণা

আগামী ১৫ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে। বৈশ্বিক আসরকে সামনে রেখে এরই মধ্যে দল ঘোষণা শুরু করেছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। এবার বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ রয়েছে এই কিউইদের বিপক্ষে।

আসন্ন যুব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন টম জোন্স। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন আরিয়ান মামন, ম্যাসন ক্লার্ক, জাসকুরান সেন্ধু ও স্নেহিথ রেড্ডি। সম্প্রতি ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার স্বরূপ বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন উগো বোগে, ব্র্যান্ডন মাতজোপৌলোস, মার্কো আলপে ও জ্যাকব কটার। সাবেক নিউজিল্যান্ড ব্যাটার অ্যান্টন ডেভচিচ দলের প্রধান কোচ।

এবারের বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রতিযোগিতা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। তাদের গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ভারত ও বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড: টম জোন্স (অধিনায়ক), মার্কো আলপে, উগো বোগে, হ্যারি বার্নস, ম্যাসন ক্লার্ক, জ্যাকব কটার, আরিয়ান মান, ব্র্যান্ডন মাতজোপৌলোস, ফ্লিন মরি, স্নেহিত রেড্ডি, ক্যালাম স্যামসন, জাসকারান সান্ধু, সেলভিন সঞ্জয়, হান্টার শোরে ও হ্যারি ওয়েট।

মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকার আর নেই

মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বীর উত্তম আর নেই (ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে পরিকল্পনামন্ত্রী হন।

এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য ২০১১ সালে এ কে খন্দকারকে স্বাধীনতা পদক দেয় সরকার।

৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার, নিজ এলাকায় সামরিক মর্যাদায় দাফন

দক্ষিণ সুদানের আবেই সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ শান্তিরক্ষীদের মরদেহ বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

তাদের নামাজে জানাজা রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় হেলিকপ্টারে করে পাঠিয়ে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সংঘটিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসী ড্রোন হামলার ঘটনায় শাহাদাৎ বরণকারী ছয়জন শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে দেশে প্রত্যাবর্তন করে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিমানবন্দরে শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণ করেন।

দাফনের জন্য হাদির মরদেহ নেওয়া হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাদির জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের নেতারাও জানাজায় অংশ নেন।

এর আগে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গোটা বাংলাদেশ শহীদ শরিফ ওসমান হাদির শেখানো মন্ত্রে উজ্জীবিত হবে। হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি, হাদির শেখানো মন্ত্র যেন বাংলাদেশের মানুষ বুকে ধারণ করে সে জন্য এসেছি।

তিনি বলেন, বলো বীর চির উন্নত মম শির- হাদির শেখানো এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হবে বাংলাদেশ।

এর আগে, সকালে ওসমান হাদির লাশের ময়নাতদন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে তার লাশ আবারও নেওয়া হয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ লাশ নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

এদিন সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় আসতে শুরু করেন মানুষ। দুপুর একটার দিকে দেখা যায়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ফার্মগেট, বিজয়স্মরণী, আসাদগেটসহ আসপাশের এলাকায় মানুষে ভরে গেছে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সকালে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহটি পুনরায় নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে গোসল শেষে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ মরদেহটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হয়।

ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করার এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ‌৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শহীদ হাদির মরদেহ চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

মির্জা ফখরুল হঠাৎ অসুস্থ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তিনি ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, মির্জা ফখরুল চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
সুদানে নিহত ৬ শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
আপাতত চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি বিশ্রামে থাকবেন বলে জানান শায়রুল কবির।

মির্জা ফখরুল সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।