মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

পেশাজীবীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংগঠন গড়তে হবে : রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পেশাজীবীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংগঠন গড়তে হবে।

তিনি বলেছেন, ‘শুধু মিছিল-মিটিং করার উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদীর নাম ব্যবহার করে সংগঠন গড়ে তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমাজে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

রিজভী বলেন, ‘শুধু মিছিল-মিটিংয়ের জন্য সংগঠন তৈরি করলেই হবে না। মোটরযান চালকসহ এই পেশার মানুষরা যেন সমাজে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে, পুলিশি হয়রানির শিকার না হয়— সেসব বিষয়কে সামনে রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দল আয়োজিত সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধন ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘দেশে গরিব মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমজীবী শ্রেণিই সবচেয়ে বেশি হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়। সেই নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এবং একটি সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোটরযান চালক পেশাকে মর্যাদাসম্পন্ন পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি তার বিদেশ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি আমেরিকায় দেখেছি— বাংলাদেশের অনেক বিএ পাস, এমএ পাস, এমনকি ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তাররাও সেখানে উবার বা ট্যাক্সি চালান। তারা ওই পেশায় যুক্ত থেকেও উন্নত মানের জীবনযাপন করেন, বাড়ি কেনেন। সেখানে কোনো শ্রেণিভেদ নেই। একজন ট্যাক্সিচালক ও একজন পেশাজীবীর সামাজিক মূল্য সমান।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আমাদের দেশেও এমন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ছোট কাজ-বড় কাজের বিভাজন থাকবে না। এই লক্ষ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার ৩১ দফা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘যে শিক্ষিত যুবক বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করেও চাকরি পাচ্ছে না, তারা উন্নত দেশের মতো উবার বা ট্যাক্সি চালিয়ে অন্তত নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারে। তবে এজন্য রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সংগঠক সঞ্জয় দে রিপনের সভাপতিত্বে এবং প্রধান সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান তুষারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মীর সরাফত আলী শফু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটরযান চালক দলের সদস্য সচিব এ কে এম ভিপি মুসাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে আপিল দায়ের শুরু

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল দায়ের শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল দায়ের কেন্দ্রে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে আপিল দায়ের শুরু হয়। এরআগে গতকাল সোমবার প্রথমদিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১ টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়। আজ দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত (দুইদিনে) মোট ৭২টি আপিল দায়ের করা হয়েছে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার খুলনা অঞ্চলের থেকে ৩টি, রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি, রংপুর অঞ্চলে ৩টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ৫টি, ঢাকা অঞ্চলের ১৫টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১টি, বরিশাল অঞ্চলে ১টি এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অঞ্চলের জেলা সমূহে থেকে ৭টি আপিল দায়ের করা হয়। এরমধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলে থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ১টি আপিল দায়ের করা হয়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন।

এদিকে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের, শুনানি ও নিষ্পত্তির বিষয়ে ইসির এক নোটিশে বলা হয়েছে, ‘রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণাদেশের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রিটার্নিং অফিসারের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর মেমোরেন্ডাম আকারে (আপিলের মূল কাগজপত্র ১ সেট ও ছায়ালিপি ৬ সেটসহ) আপিল দায়ের করতে পারবেন।’

৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংক্ষুদ্ধ কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ইসিতে আপিল দায়ের করতে পারবেন।

আপিল দায়ের করার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে একটি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বরাবর দায়েরকৃত আপিল আবেদনসমূহের শুনানি আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফুল কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করবেন।

১০ জানুয়ারি সকাল ১০টা হতে শুরু হবে ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল শুনানি। ১১ জানুয়ারি ৭০ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ নম্বর আপিল এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আবেদনগুলো শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন, রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রেরণ এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, আপিলের রায়ের অনুলিপি শিডিউল মোতাবেক নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১২ জানুয়ারির দেওয়া হবে। ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৫ জানুয়ারি দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৮ জানুয়ারি দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, চলতি বছরই প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর বা টানা দুই মেয়াদে সীমিত করতে সংসদে একটি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর অন্যতম।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্যে আনোয়ার বলেন, ক্ষমতায় দীর্ঘদিন আঁকড়ে থাকা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবারই একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকা উচিত—এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম নেই।

নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, মেয়াদ শেষে নেতৃত্ব পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়াই দেশের জন্য মঙ্গলজনক। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো মেয়াদসীমা নেই।

দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রথম দফায় টানা ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন এবং পরে অবসর ভেঙে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরেন। ওই সময় ৯২ বছর বয়সে শপথ নিয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হন।

আনোয়ার জানান, মেয়াদসীমা সংক্রান্ত বিলটি কবে সংসদে তোলা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে চলতি মাসেই সংসদের এ বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, আনোয়ারের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপান ২০২২ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই দফায় সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ ছাড়া সরকার তথ্য অধিকার আইন সংসদে উত্থাপনের পরিকল্পনাও করেছে বলে জানান আনোয়ার। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে এবং প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—এখানেও কোনো ছাড় থাকবে না।

উল্লেখ্য, গত মাসে মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। ১এমডিবি কেলেঙ্কারির একটি মামলায় বর্তমানে যে ছয় বছরের সাজা তিনি ভোগ করছেন, তা শেষ হওয়ার পর এই অতিরিক্ত সাজা কার্যকর হবে।

জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে গালমন্দ, ৭ মিনিটে বদলি করার হুমকি

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গত রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর সম্মেলন কক্ষের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন এবং তাঁকে গালমন্দ করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সাত মিনিটে বদলি করার হুমকি দেন।

এর আগে ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর কারণ, দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্রের জটিলতা। পরে রোববার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী মাহবুবুল আলম তাঁর লোকজনসহ কাগজপত্র নিয়ে রোববার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ তাঁর অফিস কক্ষ থেকে সম্মেলন কক্ষে বসেন। সেখানে মাহবুবুল আলম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন বাতিল-সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ জমা দিতে পারেননি। এ কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বিষয়টি নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ও দলের নেতারা কিছু বলতে চাইলে তিনি আসন ছেড়ে নিজ অফিস কক্ষে চলে যান এবং আপিলের পরামর্শ দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণার পরপরই জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলমের অন্তত ২০০ কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন তারা। তাঁকে গালমন্দ করতে থাকেন।

মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেন, ‘কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা ছিল। তা না করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বৈধ করব।’ রোববারের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অন্নপূর্ণা দেবনাথ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা বৈধতা পেলে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।

ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে ৭৮ শহরে, প্রাণহানি বেড়ে ২০

ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ একাধিক প্রদেশে বিক্ষোভ চলতে থাকায় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চলমান বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৬টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৭৮টি শহরে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। একই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৯৯০ জন।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়েছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে আবার অতীতের মতো মানুষ হত্যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত রোববার তেহরান, দক্ষিণের শহর শিরাজ এবং পশ্চিম ইরানের কয়েকটি এলাকায় রাতভর বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে বর্তমান শাসনব্যবস্থা (রেজিম) ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা গেছে।

৫৪ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড: ৭ লাখের বেশি ভোটারের এলাকা বদল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ভোটার স্থানান্তরের এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। গত এক বছরে সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের এলাকা পরিবর্তন করেছেন, যা দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিপুল সংখ্যক ভোটারের এই গণ-স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৭ লাখ ১ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন। এর মধ্যে কমিশন ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৫ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদন করেছে।

ইসির ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। শুধু এই অঞ্চলেই এলাকা পরিবর্তন করেছেন ৮৬ হাজার ৮২৫ জন ভোটার।

এত বিশাল সংখ্যক ভোটারের এলাকা পরিবর্তনকে ‘অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক বিশ্লেষক। এ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে:

বিএনপি দলটির নেতাদের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে বিশেষ কোনো দলের প্রার্থীকে অনৈতিকভাবে জেতানোর কৌশল হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে এই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এই প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছে। তাদের মতে, এটি নিয়মিত নাগরিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে আইনসিদ্ধ বলে দাবি করেছে। কমিশনের মতে, বিদ্যমান আইনে ভোটারদের এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। অনেক ভোটার হয়তো তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুবিধার্থে বা ব্যক্তিগত কারণে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে মাত্র এক বছরে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা আগামী নির্বাচনের সমীকরণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ডেলসি রদ্রিগেজ

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) বার্ষিক অধিবেশনে তিনি শপথ নেন। এরমাধ্যমেই নতুন বছরের জন্য দেশটির আইনসভা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ছে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, দেশের প্রতি অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের ফলে ভেনেজুয়েলার জনগণের যে কষ্ট হয়েছে, সেই কষ্ট নিয়ে শপথ গ্রহণ করতে এসেছেন।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ডেলসিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের আদালতে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটনের আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

আর আদালতে নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, আমি নির্দোষ ও একজন সৎ মানুষ। এখনও আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।

এর আগে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় তখন সকাল প্রায় ৮টার দিকে কয়েদিদের পোশাকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে নেয়া হয় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে। কঠোর নিরাপত্তায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে ভেনেজুয়েলা থেকে তুলে আনার পর নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কারাগারে বন্দি ছিলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে মাদুরোপুত্র গুয়েরা’র বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

একইদিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে গত ১১ ডিসেম্বর একইদিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, রিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের কথা সংবিধানে কোথাও উল্লেখ নেই। তাই এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে।

মনোনয়নপত্র বাতিল বা সংক্ষুব্ধ যে কেউ আপিল করতে পারবেন, যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত : ইসি সচিব

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থী কিংবা বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি ইসিতে আপিল করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আপিল শুনানিতে দালিলিক প্রমাণ যাচাই-বাছাই করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইসিতে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের একথা বলেন ।

ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় তাঁর তিনটি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়।

আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আজ (৫ জানুয়ারি) থেকে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা যেমন আপিল করতে পারবেন, তেমনি কারও মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তার বিরুদ্ধেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন।

আখতার আহমেদ আরও বলেন, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যেকোনো বিষয়ে আপিল করতে পারেন। তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ আপিল করলে কমিশন তা পর্যালোচনা করবে। অর্থাৎ আমরা এখন কাগজ জমা নেব, পরে সেগুলো পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অডিটরিয়ামে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

হলফনামা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং অফিসাররা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছেন। এরপরও যদি কোনো অসঙ্গতি থাকে বা কেউ সংক্ষুব্ধ হন, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আপিল করলে, শুনানিতে তা পর্যালোচনা করা হবে।

এ সময় দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে তিনি জানান, গণমাধ্যমে কোনো খবর এলেই শুধু হবে না, এ বিষয়ে কেউ সুনির্দিষ্টভাবে আপিল করলে কমিশন তা খতিয়ে দেখবে।

জুলাই শহীদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ চলছে: উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রায়েরবাজার কবরস্থান এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে আটজনের নাম পরিচয় জানানো হয়।

সেখানে লাশ শনাক্তকরণ কার্যক্রম ও তার ফলাফল উপস্থাপন করেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

তিনি বলেন, মিনেসোটা প্রটোকল মেনে এখানে কবরস্থ হওয়া ১১৪ জনের লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

তার মধ্যে শনাক্ত ৮ জন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আরো একজনের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে কখনো এত সংখ্যক লাশ একসাথে কবর থেকে তোলা হয়নি।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন
রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা জুলাই আন্দোলনে শহীদরা হলেন-

ময়মনসিংহের ফুলপুরের মো. মাহিন মিয়া (২৫), শেরপুরের শ্রীবরদীর আসাদুল্লাহ (২৩), চাঁদপুরের মতলবের পারভেজ বেপারী (২৪), পিরোজপুরের নাজিরপুরের রফিকুল ইসলাম (২৫), মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মো. সোহেল রানা (২৯), ফেনী সদরের রফিকুল ইসলাম (৩০), কুমিল্লার দেবিদ্বারের ফয়সাল সরকার (৩৫) ও ঢাকার মুগদা এলাকার কাবিল হোসেন (৫১)।

রায়ের বাজারে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘এখানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া জুলাই যোদ্ধাদের পরিচয় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাকে রাষ্ট্র তার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করে। সেই গুরুদায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণে একটি পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। এই কাজটি সম্পন্ন করতে সিআইডির ফরেনসিক টিমগুলো অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক) বলেন, “এই শনাক্তকরণের ফলে শহীদদের পরিবারগুলো অন্তত জানতে পারছে তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্যে কি ঘটেছে বা তারা কোন স্থানে শায়িত আছে। এটা তাদের জন্য ও জাতির জন্য এক বিরাট মানসিক শান্তির কারণ।”

সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ওই সময় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম যে ১১৪ টি লাশ দাফন করেছিল সেগুলো উত্তোলন করে এই আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

“এই ১১৪ জনের মধ্যে রোড অ্যাকসিডেন্টসহ আরো অনেকভাবে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা ছিলেন। আমরা অনেকগুলো লাশের শরীরে বুলেটের পিলেট (গুলি) পেয়েছি। এগুলো নিয়ে আমাদের বড় প্রকাশনা হবে।”

রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১৪টি লাশ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলে সিআইডির ফরেনসিক দলের নেতৃত্বে।

লাশ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফের কবরস্থ করার প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সরকারী সায়েদুর রহমান, পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পরে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের কবরগুলোকে স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।