জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে গালমন্দ, ৭ মিনিটে বদলি করার হুমকি

SHARE

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গত রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর সম্মেলন কক্ষের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন। তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন এবং তাঁকে গালমন্দ করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সাত মিনিটে বদলি করার হুমকি দেন।

এর আগে ২ জানুয়ারি কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর কারণ, দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্রের জটিলতা। পরে রোববার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী মাহবুবুল আলম তাঁর লোকজনসহ কাগজপত্র নিয়ে রোববার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ তাঁর অফিস কক্ষ থেকে সম্মেলন কক্ষে বসেন। সেখানে মাহবুবুল আলম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন বাতিল-সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ জমা দিতে পারেননি। এ কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বিষয়টি নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ও দলের নেতারা কিছু বলতে চাইলে তিনি আসন ছেড়ে নিজ অফিস কক্ষে চলে যান এবং আপিলের পরামর্শ দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণার পরপরই জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলমের অন্তত ২০০ কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন তারা। তাঁকে গালমন্দ করতে থাকেন।

মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেন, ‘কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা ছিল। তা না করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বৈধ করব।’ রোববারের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অন্নপূর্ণা দেবনাথ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা বৈধতা পেলে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই।