মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

আত্মমর্যাদার প্রশ্নে অটল বিসিবি, প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কট, তবু ভারতে যাবে না ক্রিকেট দল

‘আইসিসি এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি’ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন করায় এই উত্তর দিয়েছেন বিসিবির একাধিক পরিচালক। বিসিবি থেকে পাঠানো দুই চিঠির একটিরও উত্তর এখনো পায়নি বিসিবি। কবে নাগাদ পাবে সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি। ফলে খানিকটা দোটানায় আছে বিসিবি ও ক্রিকেটাররা। আইসিসির সঙ্গে বিসিবির বৈঠক হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে গতকাল। তবে তেমন কিছু হয়নি বলেও জানান বিসিবির একাধিক পরিচালক। তারা জানান, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে বসার অপেক্ষায় আছেন তারা। আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি চূড়ান্ত কিছু না জানালেও অনানুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক বৈরিতায় দেশটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করছে না বিসিবি। ভারতের উগ্রবাদী রাজনীতিক দলের পান্ডারা ঘোষণা দেয়—মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা দলে রাখলে ইডেনের পিচ খুঁড়ে ফেলা হবে। গ্যালারি জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। তারা কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্বত্বাধিকারী বলিউড নায়ক শাহরুখ খানকেও টার্গেট করে। শাহরুখকে কলকাতায় বিজেপির রাজনীতিবিদ সঙ্গীত সোম ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও গালিগালাজ করেন। উগ্রবাদীদের উগ্র ও হিংসাত্মক দাবির কাছে শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারও নতজানু হয়।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এই পদক্ষেপে ভারতের হিংসাত্মক উগ্রবাদী রাজনীতির চেহারাটা পুরো বিশ্বের কাছে আরেকবার উন্মোচিত হলো। মোস্তাফিজকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের আত্মমর্যাদায় আঘাত দিল। আর তাই এই ইস্যুতে নিজের নৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিল বাংলাদেশ। এক মোস্তাফিজকে যদি ভারত নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং সঙ্গে যাওয়া সাংবাদিক-সমর্থকদের ভারত কীভাবে নিরাপত্তা দেবে। সেই যুক্তি তুলে ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কায় খেলা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসির কাছে চিঠি দেয় বিসিবি। তবে সেই চিঠির উত্তর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

উত্তরের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ অবশ্য তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে নারাজ। এ ব্যাপারে বিসিবির একাধিক পরিচালক জানান, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে একমত আছেন তারা।

আইসিসি এখনো নিজেদের সিদ্ধান্ত না জানানোকে একাধিক বিসিবি পরিচালক ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। একাধিক পরিচালক বলেন, আইসিসি হয়তো পরিকল্পনাগুলো নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে। সে কারণেই বিসিবিকে জানাতে দেরি করছে। তারা আরো বলেন, ভারতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিলেও সেখানে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ দল। এর ব্যাখ্যায় তারা বলেন, দেশকে অসম্মান করা হয়েছে। সেখানে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে রাখা বাংলাদেশের সামনে খোলা রয়েছে দুটি পথ। হয় শ্রীলঙ্কায় খেলা সরিয়ে নিলে সেখানে খেলতে যাওয়া। অথবা, খেলা সরিয়ে না নিলে বিশ্বকাপ বয়কট করা। এ দুটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আপাতত চিন্তা করছে বিসিবি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি পেলে ভারতে খেলতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির।

শ্রীলঙ্কায় খেলা সরিয়ে নিলে সবকিছুর সমাধান করতে আইসিসিকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে। বাংলাদেশের সব প্রতিপক্ষের জন্য সূচিতে খানিকটা পরিবর্তন করতে হবে। এ কাজটাই আইসিসি করবে বলে বিসিবির বিশ্বাস। শুধু ভেন্যু পরিবর্তন নয়, মাঠ সংখ্যাও বাড়াতে হবে। কারণ দেশটিতে ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের খেলার সূচি রয়েছে। সহ-আয়োজক হওয়ায় শ্রীলঙ্কার ম্যাচ এবং পাকিস্তান দলের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের কারণে—এ দুদলের কোনো খেলা সরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ফলে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিলে আইসিসিকে বাড়তি ভেন্যুর ব্যবস্থাও করতে হবে।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালিকেও সম্ভাব্য সূচি বদলের বিষয়টি জানাতে হবে। পাশাপাশি দুই ম্যাচের মধ্যে থাকা কম সময়ে দলগুলো কীভাবে ভারত-শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করবে সেটাও চিন্তা করতে হচ্ছে। দুই ম্যাচের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়াতে বিশ্বকাপের সূচিতে খানিকটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে আইসিসিকে।

এত ঝামেলা করতে না চাইলে ভারতের মাটিতেই বাংলাদেশকে খেলতে বলতে পারে আইসিসি। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বিসিবির পক্ষ থেকে। তাতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা পেয়ে যাবে ওয়াকওভার। আইসিসি বাংলাদেশের চিঠির ইতিবাচক উত্তর বা সিদ্ধান্ত না দিলে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছে বিসিবি। আইসিসি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দিলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের এই অবস্থানের কথা জানাবে বিসিবি।

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত ২৫, গ্রেপ্তার হাজারের বেশি

মুদ্রার ভয়াবহ দরপতনের প্রতিবাদে ইরানে চলমান দেশজুড়ে বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাও।

তবে হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, দুইজন নিরাপত্তা সদস্যসহ অন্তত ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং সারা দেশে আটক হয়েছেন ২ হাজার ৭৬ জন।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের পর বিক্ষোভ শুরু হয়। এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মূল্য নেমে আসে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজারে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হয়।

প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট দিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা অন্তত ২৫টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি বিক্ষোভে রাজনৈতিক স্লোগানও যুক্ত হয়।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানে সংঘর্ষের সময় বাসিজ বাহিনীর এক সদস্য আলি আজিজি নিহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ছুরিকাঘাত ও গুলিবিদ্ধ করা হয়। সরকারি সূত্রের পক্ষ থেকে এখনো হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র: হোয়াইট হাউস

গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস বলছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।

অঞ্চলটি নিয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

হোয়াইট হাউস বলছে, প্রেসিডেন্ট ও তার টিম এই লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের বিকল্প বিবেচনায় রাখছেন। প্রয়োজনে মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের পর ডেনমার্কের পক্ষে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেনসহ ছয়টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে জানায়—গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কেরই আছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মানজনক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি সম্মান রেখেই আলোচনা হতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্কটিক অঞ্চলে নতুন বাণিজ্যপথের সম্ভাবনা এবং বিরল খনিজ সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে। এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে রাশিয়া ও চীনও।

৫৭ হাজার মানুষের এই দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কতদূর এগোবে, আর ন্যাটো মিত্রদের সম্পর্কই বা কোন দিকে মোড় নেবে? এ সকল প্রশ্নের উত্তর সময়ই বলে দেবে।

৩-৫ কোটি ব্যারেল তেল আমেরিকাকে হস্তান্তর করবে ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলা ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন বা ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অনুমোদিত তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

পোস্টে তিনি বলেন, এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন, যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।

তিনি আরও জানান, এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্টোরেজ জাহাজের মাধ্যমে তেল পরিবহন করা হবে এবং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের আনলোডিং ডকে তা আনা হবে।

এর আগে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করার পর তাদের অবস্থান এখন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শনিবার রাতেই মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে।

নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর সিলিয়ার বিরুদ্ধে মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে মাদুরোপুত্র গুয়েরার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট সদস্য গুয়েরা ‘নিকোলাসিতো’ বা ‘রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযান তৈরি করেছে বিশৃঙ্খলা, ঝুঁকিতে চীন

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে পড়েছে এমন একটি সম্পর্ক, যা গড়ে তুলতে চীনের লেগেছে কয়েক দশক।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বেইজিংয়ের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘বড় ভাই’ হিসেবে আখ্যা দেন। বিশ্ব নেতৃত্বে শি’র শক্ত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন তিনি।

তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় বিপুল বিনিয়োগ করেছে চীন। সেই হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকায় দেশটি বেইজিংয়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দুই দেশের প্রায় ৬০০ চুক্তি পর্যালোচনার দৃশ্যও দেখানো হয়। তবে পরের ছবিতেই দেখা যায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় মাদুরো।

একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযানের নিন্দা জানায় চীনসহ বিশ্বের বহু দেশ। ওয়াশিংটনকে ‘বিশ্বের বিচারক’ সেজে ওঠার অভিযোগ করে বেইজিং জানায়, আন্তর্জাতিক আইনে সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

তবে কড়া ভাষার পাশাপাশি চীন এখন হিসাব কষছে—দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায় এবং ট্রাম্পের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক কীভাবে সামাল দেওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের শক্তি প্রতিযোগিতা এ ঘটনায় নতুন ও অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়েছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের।

অনেকে এটিকে চীনের জন্য সুযোগ মনে করলেও বেইজিংয়ের জন্য এতে রয়েছে ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা ও হতাশা। কারণ আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই এতদিন এগোনোর চেষ্টা করছিল চীন—যা ট্রাম্প কার্যত নষ্ট করে ফেলেছেন।

দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে বিশ্বাসী বেইজিং বিশৃঙ্খলা পছন্দ করে না। তবে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্পের এমন বিশৃঙ্খলাই বারবার সামনে আসছে। বাণিজ্যযুদ্ধ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও এবার চীন পড়েছে নতুন চ্যালেঞ্জে। ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে চীনের গভীর সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনা প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কতদূর যেতে পারে?

স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বা প্রতিযোগীদের ঘাঁটি হতে দেব না।’ বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের সুস্পষ্ট বার্তা বেইজিংয়ের জন্য ‘আমাদের জায়গা ছাড়ুন’।

চীন প্রকাশ্যে এর জবাব না দিলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, তাইওয়ানের ক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে বেইজিং?

তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে চীন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একে একদিন নিজেদের করে নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কারাকাসে এমন অভিযান চালাতে পারে, তাহলে বেইজিং কেন পারবে না?

তবে, বিশ্লেষক ডেভিড স্যাকসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে নয়—চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে কেবল তখনই, যখন তারা সামরিক হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে সফল হওয়া যাবে।

গত বছর ভেনেজুয়েলার প্রায় ৮০ শতাংশ তেল গেছে চীনে। তবে এটি চীনের মোট আমদানির মাত্র ৪ শতাংশ। তবু সেখানে চীনা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় বেইজিংকে ভারসাম্য রাখতে হবে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য হওয়া বাণিজ্য সমঝোতা নষ্ট না করেও লাতিন আমেরিকায় প্রভাব ধরে রাখা। ট্রাম্পের মতো ‘আনপ্রেডিকটেবল’ নেতার ক্ষেত্রে এই সমীকরণ বেশ কঠিন ও জটিলও বটে।

ধানের শীষের প্রার্থী থাকতেও প্রার্থী ভাড়া করতে হয়েছে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিগত ১৭ বছর শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। তাই মানুষ আমাকে ভালোবাসে। কারণ, গত ১৭ বছর যখন বড় বড় নেতারা ফোন বন্ধ করে রেখেছিল, যখন নেতাকর্মীদের ধানক্ষেত আর বিলে রাত কাটাতে হয়েছে। তখন মানুষ আমাকে কথা বলতে দেখেছে। তখন তারা আশ্বস্ত হয়েছিল কেউ না কেউ আছে তাদের কথা বলার জন্য। তাই আপনারাও আমাকে ছেড়ে যাবেন না।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনী গ্রামে এক নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে গত ২৫ বছর কোনো ধানের শীষের প্রার্থী ছিল না। ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞা জয়লাভ করলেও তিনিও আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২৫ বছরের এই দীর্ঘ সময়ে নেতাকর্মীদের একটাই দাবি ছিল দলের প্রার্থী দেওয়ার। কিন্তু তা না করে প্রার্থী ভাড়া করতে হয়েছে। সেই প্রার্থীর মার্কা খেঁজুর গাছ। এখন শুনতে হয় ধানই নাকি খেঁজুর গাছ। মূলত হাঁস যেমন বাঘ হয় না, তেমনি খেজুর গাছও ধান নয়। কারণ ধান হচ্ছে মানুষের প্রাণ।

প্রসঙ্গত, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর জন্য ছেড়ে দিয়েছে। আসনটিতে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ- এর সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া বিএনপি ইতিমধ্যে রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আরও ১২২ জনের আপিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১২২ প্রার্থীর আপিল আবেদন জমা পড়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ইসির আপিল আবেদন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানায়, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের দ্বিতীয় দিনে ইসিতে ১২২টি আবেদন জমা পড়েছে। দুই দিনের মোট ১৬৪টি আবেদন জমা পড়েছে।

প্রথম দিন (সোমবার) মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত বিষয়ে ৪২ জন প্রার্থী ইসিতে আপিল করেন। এর মধ্যে একটি আবেদন বৈধ প্রার্থীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে এবং বাকি ৪১টি আবেদন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো বাছাই করেছেন। ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কিনবে সরকার

ভারতীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি করবে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ দেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বাকি অর্থ আসবে ব্যাংকঋণ থেকে।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে ভারত থেকে এই ডিজেল আমদানি করা হবে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ২০২৬ সালের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার এনআরএল থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত এই আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫০ ডলার এবং ভিত্তিমূল্য ৮৩ দশমিক ২২ ডলার, যা আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনশীল।

বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, এনআরএলের সঙ্গে ডিজেল আমদানি ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় হচ্ছে, যা আগের সরকারের সময়ে করা। বর্তমান সরকার সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় আমদানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারিতেও এনআরএল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তখনও প্রিমিয়াম ছিল একই।

এনআরএলের পরিশোধনাগার ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থিত। সেখান থেকে ডিজেল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে আসে। পরিবহন ব্যয় কমাতে দুই দেশের মধ্যে নির্মিত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে ডিজেল পরিবহন করা হচ্ছে। পাইপলাইনটির কাজ শেষ হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে।

২০২৪ সালের মার্চ থেকে ঢাকায় এনআরএলের একটি লিয়াজোঁ অফিসও কার্যক্রম শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এনআরএলের টার্নওভার ছিল ২৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণের অভিযোগ রয়েছে। ধনশিরি নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার অভিযোগে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল চলতি বছরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছে, যা এখনো বিচারাধীন।

তেল কোম্পানিগুলো ১৮ মাসের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় কাজে নামতে পারে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ১৮ মাসের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় কাজে নামতে পারে। আকস্মিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন।

এনবিসি নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে। তেল কোম্পানিগুলো সেই অর্থ ব্যয় করবে। পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে অর্থ পরিশোধ করে দেবে অথবা রাজস্বের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।”

বিবিসি-র অংশীদার সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা এ সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে।

মাদুরোকে অপসারণের পর ট্রাম্প বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। এই কথার পরই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কাজ শুরু করতে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। ওদিকে, মাদুরো এখন ফৌজদারি অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারের মুখে।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ১৮ মাসের মধ্যে কাজ করার সময়সীমা জানালেও বলেছেন, তার ধারণা তেল উৎপাদন এই সময় শেষের আগেই বেড়ে যাবে। তবে এতে প্রচুর অর্থ লাগবে।

ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোর কাজ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রার কথা ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই বলে এসেছেন। তেল উৎপাদক দেশ ভেনেজুয়েলাকে হাতে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভাল। কারণ, এতে তেলের দাম কম থাকবে, বলেন ট্রাম্প।

সম্প্রতি কয়েক দিনে ট্রাম্প দাবি করে এসেছেন যে, আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো ঠিক করতে পারবে।

ভেনেজুয়েলায় আছে বিশ্বে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের রিজার্ভ। তবে ২০০০ এর শুরুর দিক থেকে দেশটিতে তেল উৎপাদন কমেছে। ট্রাম্প অবশ্য ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাই দেখছেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলের উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় এবং শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বর্তমানে কেবল ‘শেভরন’ কোম্পানি সীমিত পরিসরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

জুলাই-যোদ্ধাদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান উপদেষ্টা সাখাওয়াতের

জুলাই-যোদ্ধাদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আগামীতে যে সরকারই আসুন না কেন, আপনারা আপনাদের সন্তান জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন এবং তাদের রক্ত যাতে বৃথা না যায়। তাদের রক্তের সঙ্গে যেন বেইমানি করা না হয়।’

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ সব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি নির্বিচারে গুলি করে প্রায় ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।এতগুলো মানুষ মারা গেল তবুও উনার (শেখ হাসিনা) টনক নরলো না। উনি ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাহসী জুলাই যোদ্ধারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শেখ হাসিনার সেই বাসনা রুখে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে জুলাই যোদ্ধাদের অবদান এ দেশের জনগণ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণে রাখবে।

উপদেষ্টা জানান, তার দু’টি মন্ত্রণালয়- নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান এ দুটি মন্ত্রণালয়ে জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কিছুসংখ্যক জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থান করতে পেরেছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, তিনি শহীদ জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদীর স্মৃতি রক্ষার্থে তার নিজ এলাকার ঝালকাঠির নল সিটিতে একটি লঞ্চ ঘাটের নামকরণ করে দিয়েছেন ‘শহীদ ওসমান হাদী লঞ্চঘাট নল সিটি’। এবং দ্বীপ জেলা ভোলাতে একটি নৌ স্পিড বোটের নামকরণ করে দিয়েছেন শহীদ ওসমান হাদীর নামে।

তিনি বলেন, ২৪ এর আগস্টের উত্তাল দিনগুলোর মধ্যে তিনি সর্বদাই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে গেছেন। এমনকি ২৪ এর ৪ আগস্ট তারা রিটায়ার্ড আর্মি অফিসারদের নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আর্মি অফিসারদেরকে সাধারণ জুলাই-যোদ্ধাদের উপরে নির্ভিচার গুলি না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। এবং বাংলাদেশ আর্মির দেশপ্রেমিক সেনারা সেই অনুরোধ রেখেছিলেন।

উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর বা তারও আগের থেকে আমি লেখালেখি করি, আমার টকশোতে আমি তো সবসময় দেশের পলিটিক্স রাজনীতি এবং অন্যান্য বিষয়ের সিকিউরিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার অনেক বইপত্র আছে, আমার আর্টিকেলগুলো সংকলিত আছে, সেখানে বিগত সরকার সম্বন্ধে আমি যতটুকু পেরেছি কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, প্রায় সব টকশোতেই তিনি বলতে চেয়েছিলেন এই ধরনের সরকার যখন পতন হয় তখন সম্পূর্ণ সোসাইটি ভেঙে যায়, সমাজটাকে ভেঙে দেয়। এডমিনিস্ট্রেশন ভেঙে যায়। সমস্ত স্ট্রাকচার ভেঙে যায় সরকারের। এগুলো নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলেছি।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি নিজেও অনেক ফিজিক্যাল সাফারিং না হলেও মানসিকভাবে সাফার করেছি। কোনো সরকারই অনেক বছর কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেয়নি। এমনকি আমার সামরিক বাহিনীর অনুষ্ঠানে আমি দাওয়াত পাইনি। এর কি কারণ আমাকে কিছু জানায়নি শুধু খোঁজ নিতে গেলে ওপর থেকে একবার শুধু বলল যে আমি সরকারের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলি যেটা সরকারের পছন্দনীয় না। তো অনেক সময় রিকোয়েস্ট আসছে যে আমাদের নিয়েও কিছু বলেন। কিন্তু আমি জানিয়ে দিয়েছি, আপনাদের নিয়ে বলার মত আমার চোখে কিছু পড়ছে না।’

উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকার বড় বড় প্রজেক্ট করেছে ঠিকই কিন্তু বড় বড় প্রজেক্টের আড়ালের ছিল বড় বড় ডাহা চুরি। যার কারণেই দেশের মানুষ সেই সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল।

তিনি বলেন, ‘যখন ২০২৪ সালে আন্দোলন শুরু হয়, সে আন্দোলনেও প্রথম দিকে কয়েকটি টকশোতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি অনেক কিছু বলেছি যে সরকার এখন দমন পীড়ন যেভাবে করছে গ্যাংস্টারদের উপরে এটা ঠিক নয় তারা কি চাচ্ছে তারা সামান্য জিনিস চেয়েছে কিন্তু সেখানে গভার্মেন্টের সহ্য হয় না, কে রাজাকার কে রাজাকারের নাতি না বা কে রাজাকারের পুতি এসব সরকার প্রধানের মুখ থেকে বলা ঠিক হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত হচ্ছে বিরোধীদলীয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে ছিলেন। তাকে নিয়েও অতীতের সরকার যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিল সেটাও দেশের মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। জুলাই আন্দোলনের সেই দিনগুলোতে এসব বিষয়ে আমি যতদূর সম্ভব সম্মুখ থেকে কথা বলেছি। হয়তো ওপেনলি বলি নাই। বাট বলেছি। সবাই জানে এগুলো। এবং মাঝে মধ্যে আমাকে ব্লেম করত যে আমি কোন দলের লোক। আসলে আমি কোনো দলের লোক নই এবং আশা করি আমি কোনো দলের লোকও থাকবো না।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো দলের অনুগত হলে সেখানে কাজ করা যায় না। তো যাই হোক তারপরে যেটা হয়েছে এটা নিয়ে আপনারা জানেন পরে যখন ফোর্থ আগস্টে আমরা দেখলাম যে এটা এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সামরিক বাহিনীকে দিয়ে গুলি করাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং খুব কঠিন কারফিউ দেওয়া হয়েছে আর্মি ডিপ্লয়েড হয়েছে এবং সেখানে আমার মনে হলো যে সেনাবাহিনী তো অনেক কমান্ডার আছেন যারা অত্যন্ত উৎসাহী তারা যদি একবার গুলি ছুড়ে তাহলে এদেশের আর কোনো স্ট্রাকচার থাকবে না। ভেঙে যাবে এবং এই ইয়াং জেনারেশন যারা অলরেডি প্রায় ১,৪০০ জন মারা গেছে যদি সেনাবাহিনী ওপেন করে তাহলে তাদের আর কোনো জায়গা থাকবে না।’

তিনি বলেন, এটা হতে পারে যে দেশ তখন একটা আরো বড় বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে তখন আন্দোলনের মধ্যে বিশৃঙ্খল অবস্থা হবে, সেই জায়গায় আমাদের দেশের নিরাপত্তা সার্বভৌমত্ব এগুলো নিয়ে একটা বড় ধরনের প্রশ্ন জাগবে বিশেষ করে আমি মনে করি যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ তখন বলবে যে এদেশের যে অবস্থা সেই অবস্থাতে এরকম চললে আমাদের নিজেদের সিকিউরিটি বিঘ্নিত হবে। এগুলো তো অজুহাত আমরা দুনিয়াতে দেখছি। তো এসবের চিন্তাভাবনা করে আমাদের কিছু লোকজন অর্গানাইজ করল আমাকে যে চার তারিখে আমরা একটা প্রেস কনফারেন্স করব। সেই প্রেস কনফারেন্সে আমরা সরাসরি কন্ডেম করব এবং আর্মি ডেপ্লয়মেন্টকে আমরা উৎসাহিত করবো না। সেই সুবাদে আমরা গোপনভাবে এটা অর্গানাইজ করলাম। সেই জায়গাতে প্রথম বক্তব্য আমাকে দিল। প্রথম বক্তব্যে আমি বললাম যে সেনাবাহিনীকে সরাসরি গ্যাং অফিসারদের এমন কোনো অর্ডার দিবে না যেখানে তুমি তোমার নিজের ভাই নিজের বন্ধু নিজের লোকজনকে হত্যা করো। এটা আর্মির কাজ নয়। আর্মিকে বললাম যে আপনাদের অনুরোধ, আপনারা এই ধরনের অর্ডার দিলেও আপনারা মানতে রাজি হবেন না। কারণ আপনাদের অধিকার আছে না মানার ইললিগাল অর্ডার।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি সরাসরি আর্মিদের বললাম প্লিজ ডোন্ট গিভ সাচ কাইন্ড অব অর্ডারস। আমাদের আর্মি ইজ নট ফর দিস। আর্মি কারো জন্য কাজ করার কথা নয়। আর্মি দেশের জন্য কাজ করার কথা। এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বললাম যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এ ধরনের কাজে আর্মি নিয়োজিত করবেন না আশা করি। সো এগুলো বলার পরে আর্মির মধ্যে একটা রিএকশন হয়েছে। আমি একা ছিলাম না। আরো অনেকে সিনিয়র অফিসাররা ছিলেন সেখানে।’

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন, অফিসার তারাও কথা বলেছে। এবং এটা পরবর্তী পর্যায়ে দেখলাম যে দারুণভাবে এফেক্ট করেছে। এবং সামরিক বাহিনীর এটিচিউড চেঞ্জ হয়ে গেছে পুরা কমপ্লিট এটিচিউড চেঞ্জ হয়ে গেছে এবং এটারই পরিপ্রেক্ষিতে আমি যেটা মনে করি ছয় তারিখে কারফিউ ভাঙ্গার কথা ছিল তারা একদিন এগিয়ে নিয়ে আসছে ৫ তারিখে তো এটা আমার সহ আরো কয়েকজন সিনিয়র রিটায়ারড অফিসারদের একটা অবদান ছিল, কারণ এখনো এই দৃশ্যগুলো আমার চোখের সামনে ভাসে তখন মনে হয় যে আমারই সন্তানরা সামনে দাঁড়িয়ে আছে তাদের বুকে গুলি মারছে।

উপদেষ্টা বলেন, এটা তো নট এক্সেপ্টেবল যে একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি একটা রেলওয়ে স্টেশন ভেঙে গেল সেজন্য কানতে কানতে বেহুশ হয়ে যান এতগুলো ছাত্ররা মারা গেল উনার বুক নড়ল না। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট যা হওয়ার হয়েছে তিনি আর কোনো সাপোর্ট পান নাই। আর্মি থেকে পান নাই, আর্ম ফোর্স থেকে পান নাই, পুলিশ থেকে পান নাই, বিজেপি থেকে পান নাই। যে কারণে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে বা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৮ আগস্টে একটা ইন্টারিম গভার্মেন্ট ফর্ম হলো। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের তত্ত্বাবধানে। সেখানে আমাকে ইনক্লুড করা হলো। আমার প্রত্যয় ছিল যে আমি যতটুকু পারি জুলাই যোদ্ধা বা যারা এই ফ্রন্ট লাইনে ছিল তাদেরকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করে যতটুকু হেল্প করা দরকার করা এবং আমি যখন কয়েকদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছিলাম আমি অনেকগুলো হসপিটালে গিয়েছি দেখার জন্য- চক্ষু হাসপাতালে গিয়েছি, অন্যান্য হাসপাতালে গিয়েছি ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছি দেখার জন্য, ওদের সঙ্গে কথা বলার জন্য, সিএমএইচ এ বহুবার গিয়েছি, তারপরে আমি যতটুকু সম্ভব তাদের হেল্প করার চেষ্টা করেছি।’