রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি। মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী (এলইএফ)-এর তত্ত্বাবধান করেন, যা হাজার হাজার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর জন্য দায়ী একটি প্রধান সংস্থা’।

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণে ১৬টি দেশ থেকে মোট ৫৭ জন পর্যবেক্ষক আসছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিপক্ষীয় এই পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন বিষয়ক সংস্থার কয়েকশ পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪ জন প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুনের নেতৃত্বে এই পর্যবেক্ষকদল কাজ করবে। এরপরই রয়েছে তুরস্ক; দেশটির ১২ জন সংসদ সদস্যের নিয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।

এছাড়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন, পাকিস্তান থেকে ৩ জন এবং ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, জর্জিয়া, রাশিয়া, কিরগিজস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন করে এবং শ্রীলঙ্কা, ইরান ও উজবেকিস্তান থেকে ১ জন করে পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। খুব শিগগির আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো। এ দলে আরও রয়েছেন মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ এবং সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস এবং মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাজি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। এ মিশনে ইইউ পার্লামেন্টের আরও অন্তত সাতজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তারা হলেন- অস্ট্রিয়ার লুকাস মান্ডল, রোমানিয়ার লোরান্ত ভিনজে ও শেরবান দিমিত্রি স্তুরজা, চেক প্রজাতন্ত্রের তোমাশ জদেখোভস্কি, স্পেনের লেইরে পাইয়িন, আয়ারল্যান্ডের মাইকেল ম্যাকনামারা এবং নেদারল্যান্ডসের কাতারিনা ভিয়েরা।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরাম প্রতিনিধিদলের বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকটির প্রতিনিধিদলে চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্পনেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আজ শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কথা জানান। অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানি করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায়তেও তাদের স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহ-সভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্প বিষয়ক সহ-সভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বৈদেশিক বাজার বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।

চীনা প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে সেই ধারণা অনুসরণ করে চীন নিজস্ব কর্মসূচি চালু করে।

গতবছরের মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ওই সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাকে জানিয়েছেন, আমার বই তিনি পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন, যা আমার জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিল।’

শিগগির নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন, তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কাজ চলমান থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বাস্থ্যখাতই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পাশাপাশি, ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অল্প খরচে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, এ অবস্থা বদলাতে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান তাঁরা।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল, এটা লজ্জাজনক। এ সময় উত্তরাঞ্চলে ‘হেলথ সিটি’ গড়ার ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূস।

তিনি বলেন, সেখানে ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম এক জায়গায় গড়ে তোলা হবে। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও উপকৃত হতে পারবেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিই আধিপত্যবাদ মোকাবিলার একমাত্র সমাধান : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী পরাশক্তিগুলোকে মোকাবিলার একমাত্র সমাধান হচ্ছে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেন, ‘আমরা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি, এটি আমাদের স্লোগান। কিন্তু আমরা কীভাবে আধিপত্যবাদ বিরোধিতা করবো? আমাদের সঙ্গে এতগুলো পরাশক্তি বা যারা বাংলাদেশকে ডমিনেট করতে চায়, সেটার একমাত্র সমাধান হচ্ছে নিজের (দেশের) সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। নিজেকে গঠন করা, নিজের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করাই আমাদের ন্যাশনাল ডিগনিটি (জাতীয় মর্যাদা) বৃদ্ধি করবে।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে দলের ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপির রুট হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আমাদের দলের নেতৃত্ব ও আদর্শ তৈরি হয়েছে। আমরা শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা স্পষ্ট করে বলেছিলাম। গত ১৬ বছরে বা স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যার কারণে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে কখনো পৌঁছাতে পারি নাই। এই ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে এমন এক বন্দোবস্ত করতে হবে, যা স্বৈরতান্ত্রিক পুনরাবৃত্তি রোধ করবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করবে।’

নির্বাচনী জোট ও কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুরোনো দলের সাথে জোট করার ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে এলাম কি না। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, আমরা আমাদের দাবিতে অটল আছি। এই জোটটি মূলত একটি নির্বাচনী ঐক্য। ১১ দলীয় এই নির্বাচনী ঐক্য ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক জায়গায় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গঠিত। সরকারের ভেতর আমাদের অংশীদারিত্ব থাকলে আমাদের ইশতেহারের বিষয়গুলো প্রায়োরিটি লিস্টে থাকবে এবং আমরা সেগুলো সরকারের ভেতর থেকে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাবো।’

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা আমাদের এই ইশতেহারের শিরোনাম দিয়েছি, ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’। এর পেছনে দুটি সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রেক্ষাপট রয়েছে। প্রথমত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণদের যে বিপুল জাগরণ আমরা দেখেছি, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণদের শক্তিকে কীভাবে সুগঠিত করে রাষ্ট্রের কাজে লাগানো যায়, সেটাই আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার জায়গা। এ কারণে তারুণ্য আমাদের প্রধান এজেন্ডা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারের দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে ডিগনিটি (মর্যাদা)। বিগত ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে আমরা দেখেছি এ দেশের মানুষের নাগরিক মর্যাদা কীভাবে বারবার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। মানুষ হিসেবে নাগরিকের মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মর্যাদা নিয়ে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য থেকেই আমরা এই ইশতেহারের নামকরণ করেছি।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রথম এবং প্রধান অঙ্গীকার হচ্ছে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বিচার নিশ্চিত করা। জুলাই গণহত্যাসহ গত ১৬ বছরে সংগঠিত সকল হত্যাকাণ্ড, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং সকল গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা সুনিশ্চিত করবো। এই বিচার প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। বিচারের পাশাপাশি আমরা একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করবো। তবে এই রিকনসিলিয়েশন মানে কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের বা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনর্বাসন নয়। বরং এই কমিশনের কাজ হবে সুনির্দিষ্ট বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং যারা নির্দোষ তাদের সিভিক রাইটস (নাগরিক অধিকার) নিশ্চিত করা। সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে একটি টেকসই সংহতি তৈরি করাই এই কমিশনের মূল লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বর্তমান রেগুলার ফোর্সের দ্বিগুণ আকারে রিজার্ভ ফোর্স তৈরি করা হবে।

সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পাঁচ বছরের মধ্যে সেনাবাহিনীতে একটি ইউএভি (মনুষ্যবিহীন আকাশযান) ব্রিগেড গঠন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত করতে মাঝারি পাল্লার অন্তত আটটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি অধিগ্রহণ করা হবে। ভারতের সাথে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং তিস্তাসহ সকল আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করবো। এছাড়া শেখ হাসিনাসহ খুনিদের ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সমাধান না হলে প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হবো।’

তিনি জানান, ‘হিসাব দাও নামে’ একটি কর্মসূচি থাকবে যেখানে মন্ত্রী-এমপিদের বাৎসরিক আয় ও বাজেটের হিসাব থাকবে। এছাড়া জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা এবং মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এর আগে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমরা গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র গড়তে ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতা স্বীকার করাই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রথম ধাপ। আমরা অবাস্তব কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি। আগামী পাঁচ বছরে যতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব, বাস্তবতার নিরিখে ততটুকুই জনগণের সামনে তুলে ধরেছি।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে আইন, নীতি ও প্রশাসনের সংস্কারের মাধ্যমে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ‘শাপলা ফুল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ফোনালাপ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় অংশীদারি আরো গভীর করার বিষয়ে একমত হন এবং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে শুক্রবার দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট শ্রীমতি ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আগামী বছরগুলোতে ভারত-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে সব ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিআরো গভীর ও সম্প্রসারণে একমত হয়েছি।

দুই নেতার এই আলাপচারিতা চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনার পর অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে, ৪ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ বলে উল্লেখ করে এবং জানায়, পরিস্থিতির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়গুলো সমাধানের আহ্বান জানাই, যাতে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে এবং সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে।’

সূত্র : এএনআই

সোমালিয়াতে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে তুরস্ক

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সোমালিয়াতে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে তুরস্ক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

আঙ্কারা সোমালিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটিতে তুরস্ক ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘তুরস্ক সোমালিয়ায় এফ-১৬ জেট মোতায়েন করেছে’। তবে তিনি এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিমানগুলো সোমালিয়ায় অবস্থানরত তুর্কি কন্টিনজেন্ট পরিচালনা করবে।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য’, এবং জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে জেটগুলো সোমালি কর্মীরা পরিচালনা করবেন না।

তুরস্ক ২০১৭ সালে সোমালির রাজধানী মোগাদিশুতে তাদের বৃহত্তম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আঙ্কারা একটি টাস্কফোর্স ও একটি এয়ার কম্পোনেন্ট কমান্ড বজায় রেখেছে, যার লক্ষ্য ‘সামরিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সোমালিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা উন্নয়নে অবদান রাখা’।

এই মোতায়েনের আগে তুরস্ক ইসরায়েলের পক্ষ থেকে স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার নিন্দা জানায় এবং একে ‘সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেয়।

১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক সিয়াদ বারে পতনের পর সোমালিয়া বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হলে সোমালিল্যান্ড স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
এর পর থেকে অঞ্চলটি স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং তাদের নিজস্ব মুদ্রা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী রয়েছে।

সাধারণভাবে সোমালিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। বিপরীতে সোমালিয়ায় ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব নিয়মিতভাবে মোগাদিশুতে হামলা চালায়।

একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, নির্বাচন বন্ধ করার জন্য একটি দল ষড়যন্ত্র করছে এবং টাকা দিয়ে ভোট কিনছে। এটি প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ হতে হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘প্রবাসীদের ভোট, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১’ নামের একটি সংগঠন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিমা রহমান বলেন, ১৭ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ আবার নির্বাচনের পথে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল ভোট নয় বরং মুক্তির বার্তা। এত বছর আমাদের অনেক নেতাকর্মী গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। তাই এই নির্বাচন আমাদের মুক্তির নির্বাচন।

তিনি বলেন, বিগত সরকার প্রবাসীদের গুরুত্ব দিচ্ছিল না, তাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করেছিল। বিএনপি সরকার প্রবাসীদের সম্মান দেয়, শ্রদ্ধা করে এবং তাদের দেশের গর্ব হিসেবে মূল্যায়ন করে।

জামায়াতে ইসলামী মিথ্যাচার এবং আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেত্রী।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি : তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ধানের শীষ যতবারই জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে, ততবারই দেশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি।

আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মীর শাহে আলম।

এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য মহাস্থান থেকে রহবল বাজার পর্যন্ত হাজার-হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন। স্লোগানে-স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মোকামতলা এলাকা।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে গতি আনতে সমন্বিত সংস্কারে অগ্রগতি

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর ফলে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ জানিয়েছে, এই অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সপ্তম বৈঠকে। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা কমানো, সেবা ডিজিটাল করা এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার নানা সংস্কার উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ও কমিটির চেয়ারম্যান লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানে। শুল্কহার বা বৈদেশিক বাজারে প্রবেশাধিকার মতো বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আমাদের হাতেই রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ালে দ্রুত ও দৃশ্যমান সুফল পাওয়া সম্ভব।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব ও প্রধানগণ।

বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল- আগাম কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সক্ষমতা দশ গুণ বাড়ানো, অনলাইনে সমন্বিত ব্যবসা শুরুর প্যাকেজ চালু, চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনা চালু করা।

এ ছাড়া অনুমোদিত বিনিয়োগ প্রস্তাব যেন বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেয়, সে জন্য একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে সাম্প্রতিক কয়েকটি সফল সমন্বয় উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে চালু হওয়া ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারি দপ্তরে প্রায় ১২ লাখ সরাসরি যাতায়াতের প্রয়োজন কমিয়েছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘদিনের আন্তমন্ত্রণালয় জটিলতা কাটিয়ে এ সিস্টেমটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় ট্রাক প্রবেশ ব্যবস্থায় প্রবেশের সময় অন্তত ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নগদবিহীন লেনদেন স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়িয়েছে।

বর্তমানে বিডা, বেজা, বেপজা ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিনিয়োগের পাইপলাইন নজরদারি করছে। কর্মকর্তারা জানান, জমি ইজারার চুক্তির সংখ্যাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। চীন, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক বিনিয়োগ প্রচার কার্যক্রমের ফলেও বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা মিলেছে।

তবে বৈঠকে কিছু স্থায়ী সমস্যার কথাও উঠে আসে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু থাকা সত্ত্বেও কিছু দপ্তরে এখনো সমান্তরালভাবে অফলাইন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

লুৎফে সিদ্দিকী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) একটি ভালো উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেখানে কেবল ডিজিটাল আবেদন ও পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের সহায়তায় অন-সাইট হেল্পডেস্ক রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও অনলাইন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে ব্যবহারকারীদের সহায়তায় একই ধরনের ‘এজেন্ট ডেস্ক’ চালু করেছে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

বৈঠকে জানানো হয়, শিগগিরই বিডার উদ্যোগে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টালের প্রথম সংস্করণ চালু করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এআরএমএস) পরীক্ষামূলকভাবে চালুর প্রস্তুতি চলছে, যার মাধ্যমে পণ্যের শারীরিক পরীক্ষা কমানো হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সাম্প্রতিক অংশীজন বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে লুৎফে সিদ্দিকী আগাম কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নিয়ম ইতিমধ্যেই রয়েছে, ঘাটতি রয়েছে শৃঙ্খলাপূর্ণ বাস্তবায়নে। বর্তমানে পাঁচ শতাংশেরও কম পণ্য আগাম ছাড় পাচ্ছে, যেখানে এ হার ৫০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির তথ্যভিত্তিক ও কাজমুখী কার্যপদ্ধতির প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এটি সরকারি কাজের ধরনে এক ধরনের ‘শৈলগত সংস্কার’, যেখানে বাস্তবায়ন ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠক এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ধানের শীষের সাথে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি শুক্রবার রাত পৌনে নয়টায় রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারা দেশে প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ ও আত্মত্যাগ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সবাই ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন হয়েছিলো, তা কোন নির্দিষ্ট দলের নেতৃত্বে হয়নি। দেশের তৃণমূল থেকে সকল শ্রেণির মানুষের প্রচেষ্টায় এই দেশের পরিবর্তন হয়েছে।

নিশিরাত বা আমি-ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

এই পরিবর্তনকে ধরে রাখতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে। তাহলেই আমাদের অধিকার আদায় হবে।

আর আমরা জুলাই সনদকে সম্মান করি। এজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। রংপুর আসার পথে দেখলাম বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতি চলছে। অথচ এখানে এক সময় এই বোরো ধান চাষ হতো না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই বোরো ধানের চাষের ব্যবস্থা করেছিলেন।

দেশের অন্যান্য বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রামে যদি ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে তাহলে কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসেবে রংপুর-দিনাজপুরে কেন কৃষি পণ্যের জন্য ইন্ড্রাষ্টি হতে পারবে না।

এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমি আগে জানতাম শুধু দিনাজপুরে কয়লা খনি আছে, রংপুরের পীরগঞ্জে কয়লা আছে। তাই এই কয়লা যদি উত্তোলন করতে পারি, তাহলে এই কয়লা দিয়ে অনেক কিছুরই উন্নয়ন করতে পারি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে।

বিগত সরকার ১৬ বছরে মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। শুধু মেগা প্রজেক্ট হলে সমস্যা ছিলো না। কিন্তু মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করে দেশের বাইরে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজদের বিচার করতে হবে।

যে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বিএনপি পারে দুর্নীতি দমন করতে।

তাই বলতে চাই, দেশে বড় বড় ফ্লাইওভার হবে, বড় বড় বিল্ডিং হলে হবে, কিন্তু মানুষ চায় তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন, মানুষ চায় কর্মসংস্থান।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সূদসহ ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেয়া হবে।

এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে পানির সমস্যা আছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করেছিলেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ১৩ তারিখ সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলের মানুষের তিস্তা ব্যারেজের স্বপ্ন পূরণে আমরা দ্রুত হাত দেবো ইনশআল্লাহ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ খাল খননের কাজ শুরু হবে। যাতে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে তা মানুষের উপকারে আসে।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করেন তারেক রহমান বলেন, একটি দল আমাদের সঙ্গে পাঁচ বছর সরকারে ছিল। তাদের দুজন মন্ত্রী ছিলেন। তখন আমরা ভালো হলেও এখন আমরা তাদের কাছে নাকি খারাপ। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা খারাপ হলে তারা কেন পাঁচ বছর আমাদের সঙ্গে ছিলেন?

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে বিএনপি ও তার নেতুত্বাধীন জোট-মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, রংপুর বিভাগের বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোট-মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

এসময় তারা রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একই সাথে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ রংপুর বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দাবি জানান।

এ দিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় যোগ দিতে রংপুরের উদ্দেশ্যে গাড়িবহরে রওয়ানা দেন তারেক রহমান।

পথিমধ্যে তিনি কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য দেন।

এর পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন ।

কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন । তিনি শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এ সময় তিনি শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন।