ধানের শীষের সাথে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

SHARE

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সে জন্যেই আপনাদের সকলকে ১২ ফেব্রুয়ারিতে ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি শুক্রবার রাত পৌনে নয়টায় রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, রংপুর আবু সাঈদের পবিত্র রক্ত মেশানো মাটি। এখানে আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারা দেশে প্রায় ১৪০০ শহীদ যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন উৎসর্গ ও আত্মত্যাগ করেছেন, সেই ‘জুলাই সনদ’ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তাই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সবাই ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দেশে ৫ আগস্ট যে পরিবর্তন হয়েছিলো, তা কোন নির্দিষ্ট দলের নেতৃত্বে হয়নি। দেশের তৃণমূল থেকে সকল শ্রেণির মানুষের প্রচেষ্টায় এই দেশের পরিবর্তন হয়েছে।

নিশিরাত বা আমি-ডামি নির্বাচনের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি জনগণকে অধিকার প্রয়োগে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

এই পরিবর্তনকে ধরে রাখতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে। তাহলেই আমাদের অধিকার আদায় হবে।

আর আমরা জুলাই সনদকে সম্মান করি। এজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন।

রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রংপুরকে অনেকে গরিব অঞ্চল বললেও এটি আসলে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। আমাদের লক্ষ্য রংপুরকে ঢেলে সাজানো। রংপুর আসার পথে দেখলাম বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতি চলছে। অথচ এখানে এক সময় এই বোরো ধান চাষ হতো না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই বোরো ধানের চাষের ব্যবস্থা করেছিলেন।

দেশের অন্যান্য বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রামে যদি ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে তাহলে কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসেবে রংপুর-দিনাজপুরে কেন কৃষি পণ্যের জন্য ইন্ড্রাষ্টি হতে পারবে না।

এখানে কৃষিজাত পণ্যের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদে কর ছাড় দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমি আগে জানতাম শুধু দিনাজপুরে কয়লা খনি আছে, রংপুরের পীরগঞ্জে কয়লা আছে। তাই এই কয়লা যদি উত্তোলন করতে পারি, তাহলে এই কয়লা দিয়ে অনেক কিছুরই উন্নয়ন করতে পারি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে।

বিগত সরকার ১৬ বছরে মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। শুধু মেগা প্রজেক্ট হলে সমস্যা ছিলো না। কিন্তু মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করে দেশের বাইরে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজদের বিচার করতে হবে।

যে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বিএনপি পারে দুর্নীতি দমন করতে।

তাই বলতে চাই, দেশে বড় বড় ফ্লাইওভার হবে, বড় বড় বিল্ডিং হলে হবে, কিন্তু মানুষ চায় তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন, মানুষ চায় কর্মসংস্থান।

কৃষক ও নারীদের কল্যাণে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সূদসহ ঋণ মওকুফ করা হবে এবং তাদের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক বিনা মূল্যে দেয়া হবে।

এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে পানির সমস্যা আছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করেছিলেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ১৩ তারিখ সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলের মানুষের তিস্তা ব্যারেজের স্বপ্ন পূরণে আমরা দ্রুত হাত দেবো ইনশআল্লাহ।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ খাল খননের কাজ শুরু হবে। যাতে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে তা মানুষের উপকারে আসে।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করেন তারেক রহমান বলেন, একটি দল আমাদের সঙ্গে পাঁচ বছর সরকারে ছিল। তাদের দুজন মন্ত্রী ছিলেন। তখন আমরা ভালো হলেও এখন আমরা তাদের কাছে নাকি খারাপ। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা খারাপ হলে তারা কেন পাঁচ বছর আমাদের সঙ্গে ছিলেন?

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে বিএনপি ও তার নেতুত্বাধীন জোট-মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, রংপুর বিভাগের বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোট-মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।

এসময় তারা রংপুর বিভাগের উন্নয়নে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একই সাথে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ রংপুর বিভাগের বৈষম্য দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দাবি জানান।

এ দিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় যোগ দিতে রংপুরের উদ্দেশ্যে গাড়িবহরে রওয়ানা দেন তারেক রহমান।

পথিমধ্যে তিনি কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য দেন।

এর পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন ।

কবর জিয়ারত শেষে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন । তিনি শহীদ আবু সাঈদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এ সময় তিনি শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন।