শনিবার ভেনিসে ইতিহাসের অপেক্ষায় এই বাংলাদেশি সিনেমা!

SHARE

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উৎসবের অরিজোন্তি প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ভেনিস উৎসবের অরিজোন্তি বিভাগে নির্বাচিত বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। ইতালির লিডো দি ভেনেজিয়ায় ২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবারের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নতুন চলচ্চিত্রের ভাষা, উদীয়মান ধারা ও নির্মাণের উদ্ভাবনী পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া অরিজোন্তি বিভাগে এবার নির্বাচিত হয়েছে ১৯টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর মধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ৮৮ মিনিটের সিনেমাটি উৎসবে মোট আটবার প্রদর্শিত হবে। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় উৎসবের মূল ভেন্যু পালাৎসো দেল সিনেমার সালা ক্যাসিনো থিয়েটারে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনী হবে। বাংলাদেশ সময় তখন রাত ১১টা। একই রাতে স্থানীয় সময় ১০টায় সালা ভলপি থিয়েটারেও ছবিটির আরেকটি প্রদর্শনী রয়েছে। প্রথম দিকের এসব প্রদর্শনী মূলত ব্যাজধারী দর্শক ও উৎসবসংশ্লিষ্টদের জন্য। পরবর্তী প্রদর্শনীগুলোর কয়েকটিতে সাধারণ দর্শকরাও টিকিট কেটে সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন। ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সালা দারসেনা থিয়েটারে এবং ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অ্যাস্ট্রা-২ ও বিকেল ৫টায় অ্যাস্ট্রা-১ থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী বিউটি পারলারকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটির গল্প। বিয়ের আগে পরিবারের পক্ষ থেকে একের পর এক সাজসজ্জা ও পরিবর্তনের আয়োজন চলতে থাকে এক হবু কনেকে ঘিরে। কিন্তু সেই চাপ ও প্রত্যাশার বিরুদ্ধে একসময় তার শরীরেই যেন প্রতিরোধের জন্ম নেয়। নারীর শরীর, সামাজিক প্রত্যাশা এবং নিজের অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের গল্পই সিনেমাটির কেন্দ্রে। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ অভিনয় করেছেন জাইনীন চৌধুরী করিম, রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল, আজমেরী হক বাঁধন, দামের খান, শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী। সিনেমাটির চিত্রনাট্যও লিখেছেন রুবাইয়াত হোসেন। আন্তর্জাতিক সহায়তাও পেয়েছে সিনেমাটি। কাউন্সিল অব ইউরোপের ইউরিমাজ, ফ্রান্সের সিএনসি, পর্তুগালের ইনস্টিটুতো দু সিনেমা এ দু অডিওভিজুয়াল, ইতালির ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ড, নরওয়ের সোরফন্ড এবং জার্মানির ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফান্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্রটির নির্মাণে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ফোন্দাৎসিওনে প্রাদা ফিল্ম ফান্ডের প্রথম আসরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রকল্পের মধ্য থেকে মাত্র ১৪টি চলচ্চিত্র সহায়তার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছিল সেই তালিকায় পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে সহায়তা পাওয়া একমাত্র চলচ্চিত্র। ইএভিই প্রডিউসার্স ওয়ার্কশপ, বার্লিনালে কো-প্রোডাকশন মার্কেট এবং লেজ আর্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস’ বিভাগেও অংশ নিয়েছে সিনেমাটি। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও কলাকুশলীরা মিলিতভাবে কাজ করেছেন এতে। সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশের চার নারী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ কামালও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর নারীপ্রধান নির্মাণ দল। কম্পোজার ছাড়া সিনেমাটির প্রতিটি বিভাগের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন নারী সদস্যরা। চিত্রগ্রহণ করেছেন পর্তুগালের লিওনর তেলেস, সম্পাদনায় রাফায়েল মার্তা-হোলগার এবং প্রোডাকশন ডিজাইন ও কস্টিউমের দায়িত্বে ছিলেন জোনাকি ভট্টাচার্য। সিনেমাটির সংগীতের সঙ্গে যুক্ত আছেন ব্রিটিশ কম্পোজার জিম উইলিয়ামস। তার কাজের মধ্যে জুলিয়া দুকুরনোর ‘র’ ও স্বর্ণপামজয়ী ‘তিতান’-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্র রয়েছে।