জাতীয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ঘোষণা করেছে। এই দর্শনের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও সুশাসন সুদৃঢ় করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি এসব কথা বলেন।
নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এসব অনিয়ম প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে স্থায়ী পরিবীক্ষণ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলী। তার মতে, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন ও ঝুঁকি নিরূপণের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / সব দাবি মানার পরও কমিটিতে আসবো না, এটা সহযোগিতা হলো না
মো. মোক্তার আলী তার নোটিশে বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয়, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। উন্নয়ন প্রকল্পের যথাসময়ে বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একটি কার্যকর পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
নোটিশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও নিয়মিত পরিবীক্ষণ, কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন, ঝুঁকি নিরূপণ এবং অনিয়মের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে একটি নিবেদিত পরিবীক্ষণ সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যাবে।
অন্যদিকে মো. মোক্তার আলী মনে করেন, পরিবীক্ষণ সেল থাকলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অপচয় কমবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা, কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়বে এবং জনসেবার মান ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চিহ্নিত করে সময়োপযোগী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্যান্য তদারকি সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য এনফোর্সমেন্ট ইউনিট কার্যকর রয়েছে।’
আরও পড়ুন
আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারওই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অভিযোগ গ্রহণে ১০৬ হটলাইনের পাশাপাশি ৯৯৯ ও ৩৩৩ এর মতো জাতীয় হটলাইনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম বা অসদাচরণের তথ্য পাওয়া গেলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪, দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উন্নয়ন প্রকল্পেও বহুমাত্রিক নজরদারি
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বহুমাত্রিক তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি), প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন সেল ও উন্নয়ন শাখা এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ এবং এডিপি মনিটরিং সিস্টেমের মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) চালু রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, প্রকল্প ও কর্মসূচির সময়মতো বাস্তবায়ন, সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়াতে গভর্নমেন্ট পারফরম্যান্স মনিটরিং সিস্টেম (জিপিএমএস) প্রবর্তন করা হয়েছে।
তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম
সরকারি কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘এই টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবে। উত্তম চর্চা চিহ্নিত ও সম্প্রসারণের সুপারিশ করবে এবং জনগণের সেবা প্রদানের প্রতি গতিবৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত পরিবীক্ষণ টিম এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।




