দেশকে দিল্লির সেবাদাস মুক্ত করতে ১১ দলের প্রার্থীদের ভোট দিন

SHARE

মোদির সেবাদাসদের হাত থেকে বাংলাদেশকে চিরকালের জন্য মুক্ত করতে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন এলিডিপি প্রেসিডেন্ট কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজে ইনসাফ নেই। আমরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। সমগ্র জাতিকে চিন্তা করতে হবে, আজকে আমাদের বিরোধিরা নিজকে দিল্লির সেবাদাস হিসেবে পরিচিত করেছে। সেবাদাসকে আমরা বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে পারি না। তাদের হাতে দেশকে হস্তান্তর করতে পারি না। তাদের হাত থেকে দেশকে যেকোনো উপায়ে মুক্ত করতে হবে। এই মুক্তির একমাত্র উপায় হলো-৫ আগস্টের মুভমেন্টের পক্ষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করা।

তিনি রোববার দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ধুপখোলা মাঠে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

অলি আহমদ বলেন, ২০০১ সাল থেকে বিএনপির অনেক কিছুই আমি মেনে নিতে পারিনি। সারাজীবন আমি যুদ্ধ করেছি, ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন হিসেবে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেওয়ানহাট থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে না আনলে হয়তো পাঁচ মিনিটেই গুলি করে হত্যা করে কর্ণফুলিতে ফেলে দিত। পরে দুজনে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হলো।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল-ন্যায়ভিত্তিক একটা সমাজ হবে, অর্থনৈতিক মুক্তি হবে, বাংলাদেশের মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। দীর্ঘ ২৫ বছর দেখেছি, ভারতের দালাল-মোদির দাসেরা দেশ পরিচালনা করেছে। এখন জাতিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বিএনপিকে আপনারা ক্ষমতায় দেখেছেন, আওয়ামী লীগকেও ক্ষমতায় দেখেছেন্, জামায়াতের দুইজনকে ক্ষমতায় দেখেছেন। ২০০৮ সালে নিজামী ও মুজাহিদ ছাড়া সবাই দুর্নীতির দায়ে জেলে আবদ্ধ ছিল।

তিনি বলেন, আজকে দেশের কি অবস্থা? আমরা কাপড়া পাল্টাচ্ছি, নাম পাল্টাচ্ছি, কিন্তু দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। চাঁদাবাজি থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। আমরা যারা এই মঞ্চে আছি, আমাদের শেষ যুদ্ধ। এই যুদ্ধ হবে-১৯৭১ সালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। ভারতের দাসত্বমুক্ত বাংলাদেশ, চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, যেখানে ধনী-গরিবের মধ্যে বিচারে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

অলি আহমদ বলেন, বর্তমানে সমাজে ইনসাফ নেই। আমরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। সমগ্র জাতিকে চিন্তা করতে হবে, আজকে আমাদের বিরোধিরা নিজকে দিল্লির সেবাদাস হিসেবে পরিচিত করেছে।সেবাদাসকে আমরা বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে পারি না। তাদের হাতে দেশকে হস্তান্তর করতে পারি না। তাদের হাত থেকে দেশকে যেকোনো উপায়ে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব বলেছিলো, ৫ আগস্টের মুভমেন্টে আমাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। এটা তারই কথা। তাহলে বিএনপি এখনকার অবস্থা চায়নি, তারা শেখ হাসিনাকেই চেয়েছিল। আর আপনারা চৌদ্দ শতাধিক শহীদ হয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন-ইনসাফের সমাজ। তাই আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সমগ্র জাতিকে অনুরোধ করবো, একটু চিন্তা করে বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, আবেগে কাজ করবেন না। মার্কা দেখে ভোট না দিয়ে, কারা দেশের জন্য মঙ্গল করবে আর কারা মোদির দালালি করবে-এটা চিহ্নিত করুন।

অলি আহমদ বলেন, দালালদের ভোট দিলে হাসিনা যেভাবে অত্যাচার করেছিল, অনুরুপভাবে অত্যাচারিত হবেন। কেউ আপনাদেরকে মুক্তি দিতে পারবে না। ১১ দলীয় প্রার্থীরা যে যেখানে আছে, তাদেরকে ভোট দিতে হবে। এ সময় তিনি ঢাকা-৬ আসনে ড. আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা-৮ আসনে নাসীররউদ্দীন পাটওয়ারীকে পরিচিত করিয়ে দিয়ে বলেন, জাতির সঙ্গে যারা বেঈমানি করবে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। তাদেরকে ভোট দিয়ে দেশকে চিরকালের জন্য মোদির সেবাদাসদের হাত থেকে মুক্ত করুন।