জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় সারাদেশের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং মানবসম্পদ খাতে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫টি উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুমোদিত তালিকায় নতুন পরিকল্পনা রয়েছে ১৪টি, সংশোধিত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৬টি এবং সময় বর্ধিত প্রকল্প সংখ্যা ৫টি।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ হিসেবে ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা, অর্থ, পররাষ্ট্র, খাদ্য, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ, পানি সম্পদ, শিক্ষা, বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট, বিমান পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং জেলা সড়ক উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহের আওতায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিবৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ স্থাপনা, ট্রাফিক ইউনিট এবং হাইওয়ে থানা নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পায়।
রেলপথ খাতে দোহাজারী হয়ে রামু অতিক্রম করে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন এবং পুষ্টি সেবা উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন লাভ করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবুজায়ন কার্যক্রম এবং শিল্পভিত্তিক উৎপাদন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পানি সম্পদ খাতে নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ ব্যবস্থাপনা এবং আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ছয়টি পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায়।
সভায় আরও জানানো হয়, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদনের বিষয় একনেককে অবহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, অনুমোদিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




