জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় চলমান আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাঝেই জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটে শনিবার(২৪ জুলাই) রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটি রোববারের সব ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
ফুটবল প্রতিযোগিতা চলমান থাকা অবস্থায় একই মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন শিক্ষার্থীরা।
বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে, যখন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম ফেইসবুকে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশসংক্রান্ত একটি প্রচারণামূলক পোস্ট শেয়ার করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “রোববার দুপুর ২টায়, ইনশাআল্লাহ।” এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জকসুর একজন প্রতিনিধি হয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান হাসান রাব্বি ফেইসবুকে লেখেন, “ক্রীড়া কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের ক্রীড়া সম্পাদক জামায়াতের সমাবেশের প্রচারণা করছেন। কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়া খেলা পেছিয়ে সমাবেশ করা কি ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা নয়?”
আরেক শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার শাওন লেখেন, “একই মাঠে আগামীকাল আন্তঃবিভাগীয় খেলা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে জামায়াতের স্টেজ বানানো হচ্ছে। মাঠের অবস্থা বা খেলোয়াড়দের কথা না ভেবে ক্রীড়া সম্পাদক সমাবেশের প্রচারণায় ব্যস্ত।”
সমালোচনার বিষয়ে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম গণমাধ্যমকে বলেন, তার পোস্টকে কেন্দ্র করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার সর্বোচ্চ প্রাধান্য শিক্ষার্থীরাই।”
খেলা স্থগিত প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এক দিনের বেশি যেন খেলা বন্ধ না থাকে সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সূচি অনুযায়ী রোববার দর্শন বনাম মনোবিজ্ঞান, আইন ও ভূমি প্রশাসন বনাম রসায়ন এবং লোকপ্রশাসন বনাম পরিসংখ্যান বিভাগের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ২টায় ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মান্নানের নির্বাচনি সমাবেশ আহ্বান করা হয়। এতে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাত ১০টার দিকে রোববারের খেলাগুলো স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব ও শরীরচর্চা শিক্ষা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক গৌতম কুমার দাস।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় রোববারের খেলাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সব দলকে জানানো হয়েছে।”
এর আগে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রইছ উদ্দিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতা শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও খেলা বন্ধ থাকলে তা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়েই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমালোচনার পর রাতে ফেইসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক দাবি করেন, ধূপখোলা মাঠ ব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত অনুমতি না থাকলেও মৌখিক সম্মতি রয়েছে এবং মাঠের পূর্ণ কর্তৃত্ব সিটি করপোরেশনের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্যের নির্দেশেই খেলা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।




