বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬

আমি একজন ভালো প্রেসিডেন্ট হতে পারতাম : শোয়ার্জনেগার

হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের জীবনে অনেক উত্থান-পতন আছে। তবে এক জীবনে তার প্রাপ্তির তালিকাও অনেক বড়। কিন্তু একটি আক্ষেপ তার থেকেই যাবে। তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অর্জনও কম নয় আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের। ২০০৩-১১ সালের মধ্যে দুই মেয়াদে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও কখনো প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়তে পারবেন না। এর কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে গেলে অবশ্যই জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। কিন্তু আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার তা নন। তার জন্ম অস্ট্রিয়ার থাল নামের একটি শহরে। ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায়ই ছিলেন তিনি। তারপর পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক কলিন প্যাটারসনের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তার অযোগ্যতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার দাবি করেছেন যে যদি সুযোগ থাকত তাহলে তিনি চমৎকার একজন প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন। শোয়ার্জনেগার বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি একজন ভালো প্রেসিডেন্ট হতে পারতাম!’ তবে এখনই প্রেসিডেন্ট হওয়ার সব আশা ত্যাগ করছেন না ৭৬ বছর বয়সী এ অভিনেতা। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংশোধনের সুযোগ আছে। কখনো হয়তো অভিবাসীসংক্রান্ত এসব আইনের সংস্কার হবে, আর তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এ আইন পরিবর্তনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেবেন না বলে জানান শোয়ার্জনেগার। তিনি বলেন, ‘আমি যদি আইনটি পরিবর্তনের চেষ্টা করি, তবে তা কিছুটা স্বার্থপরের মতোই আচরণ হবে।’
তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ না থাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা আক্ষেপ নেই আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের। বিবিসিকে তিনি জানান, তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন, সবই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কারণে সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাকে অনেক সুযোগ দিয়েছে। এ দেশের নাগরিকরা আমাকে সাদরে বরণ করেছে। আমার সাফল্যের পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’ তাই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ না দিলেও তিনি কোনো অভিযোগ করবেন না বলে জানান।
আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের জন্ম ১৯৪৭ সালের ৩০ জুলাই। ৭৬ বছর বয়সেও তরুণ এ নির্মাতা একাধারে অভিনেতা, রাজনীতিবিদ ও বডিবিল্ডার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। টার্মিনেটর ও দি এক্সপেন্ডেবলস সিরিজের সিনেমাগুলো দিয়ে তিনি বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন না মাইক পেন্স

এতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন ৬৩ বছর বয়সি মাইক পেন্স। তবে ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ওই হামলার আগ পর্যন্ত ট্রাম্পের খুবই অনুগত ছিলেন তিনি।
রিপাবলিকান এই শীর্ষ নেতা এক ঘোষণায় বলেন, এটা আমার জন্য উপযুক্ত সময় নয়। স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ অক্টোবর) লাস ভেগাসে রিপাবলিকান ইহুদী জোটের এক অনুষ্ঠানে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মাইক পেন্স।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা সব সময়ই জানি যে, এটা একটা চড়াই-উতরাইয়ের যুদ্ধ। তবে আমার এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই। মাইক পেন্সই প্রথম রিপাবলিকান প্রার্থী যিনি নির্বাচনি প্রচারণা স্থগিত করার ঘোষণা দিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট পদে মনোয়নের জন্য রিপাবলিকানদের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন পেন্স। সাবেক এই ভাইস-প্রেসিডেন্টের প্রচারণার কাজেও তাকে ঋণগ্রস্ত হতে হয়েছে।
তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে বলেন, আমি এই প্রচারণা ছেড়ে দিচ্ছি, কিন্তু আমি রক্ষণশীল মূল্যবোধের জন্য আমার লড়াই ছেড়ে দিচ্ছি না।
এর আগে গত জুনে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে লড়াইয়ে নেমেছিলেন মাইক পেন্স। সে সময় রিপাবলিকান প্রার্থিতার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেন তিনি। তবে তিনি দলীয়ভাবে জোরাল সমর্থন পাননি এবং শীর্ষ নেতারাও তার প্রতি সেভাবে সাড়া দেননি। আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রথম পছন্দ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আইনি ঝামেলা দিন দিন যত বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যে তিনি এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। অন্য সব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে তিনি অনেক এগিয়ে। বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হবার পর যেন তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আহত হলো পুলিশ, আর হরতাল ডাকে বিএনপি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গতকাল শনিবারের (২৮ অক্টোবর) সহিংসতার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সহিংসতার ঘটনায় অনেকগুলো মামলা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলা শুরু হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারাই মামলা দেবে। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে আইডেন্টিফাই করে মামলা দেবো।
তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে যারা যারা ঢুকেছেন, যারা সেখানে হামলা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। যারা গাড়ি পুড়িয়েছে, তাদের নামে মামলা হবে। পুলিশকে পিটিয়ে যারা হত্যা করেছে, যারা পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে হামলা করেছে, তাদের নামে মামলা হবে। সাংবাদিকরা যারা আহত হয়েছে, তাদেরও উচিত মামলা করা।
‘২০১৪ সালের মতো তারা একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে। আমরা অবশ্যই তা থামাবো,’ – তিনি বলেন।
তবে কতগুলো মামলা হয়েছে বা কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি তিনি।
বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সহিংসতা যখন হচ্ছিল তখন সিনিয়র নেতারা মিটিং করছিলেন। তাদের ডিএমপি কমিশনার বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন তাদের মহাসমাবেশের সীমানা কতো দূর হবে, তারা জানিয়েছিল নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত। কিন্তু তারপরও যে সহিংসতা হয়েছে সেটির দায় কি বিএনপি নেতারা এড়াতে পারবেন?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে। পুলিশ হাসপাতালের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে। এভাবে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাতে সেবিকা ও হাসপাতালকর্মীরা আহত হয়েছেন। এখন গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনী যেভাবে হামলা চালাচ্ছে, বিএনপির বর্বরোচিত হামলা সেই ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
বিএনপির উগ্র কর্মীদের আক্রমণ থেকে হাসপাতালও রেহাই পায়নি মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিএনপি প্রচার চালিয়েছিল তাদের সমাবেশে দশ লাখ লোক নিয়ে আসবে। আমাদের পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, এমনিতেই ঢাকা শহরে যানজট, তারপর দশ লাখ লোক নিয়ে আসবেন, আপনারা কোথায় কী করতে চান, মাঠে যান। তারা মাঠে না গিয়ে নিজেদের দলীয় অফিসের সামনে সমাবেশ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের পুলিশ কমিশনার তাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রেখেছিলেন, কেবল তাদেরই নয়, আমাদের আওয়ামী লীগের সমাবেশ নিয়েও প্রশ্ন করেছিলেন। সেগুলো হচ্ছে, আপনারা কতক্ষণ সমাবেশ করবেন, কোন জায়গা থেকে কোন জায়গা পর্যন্ত আপনাদের সমর্থকরা অবস্থান করবেন? আপনারা কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারবেন না। পুলিশ কমিশনার এমন অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, তারা জানিয়েছিলেন, একদিকে নাইটিঙ্গেল মোড় অন্যদিকে ফকিরাপুলের মোড় পর্যন্ত তারা থাকবেন। কোনো সহিংসতা না করারও অঙ্গীকার করেছিলেন। আমরা অনেক দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, পাশাপাশি আমাদের আওয়ামী লীগও একটা শান্তির সমাবেশ ডেকেছিল। সেটাতেও অনেক মানুষ এসেছিল, সঙ্গত কারণে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়েও দুয়েকটা ছোট ছোট দল যাচ্ছিল। বিশেষ করে টেম্পু ও লেগুনা নিয়ে নারীদের একটি গ্রুপ যাচ্ছিল। তখন হঠাৎ করে লেগুনায় আক্রমণ করে নারীদের মারধর করা হয়েছে। পুলিশ তখন তাদের বাধা দেয়। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়ে যান। তারা পুলিশের ওপর চড়াও হন। এরপর তারা যেখান দিয়ে গেছে, সেখানেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নাইটিঙ্গেলের পরে কিন্তু পুলিশ আর ঢোকেনি। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম, বিএনপি নেতাকর্মীরা পকেটে করে নিয়ে আসা ইটপাটকেল ও গুলতি দিয়ে মারবেল ছুড়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়, যা আমাদের কাছে ভিডিও করা আছে।
সংবাদকর্মীরা ও পুলিশ আহত হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখলাম, তাদের ইটপাটকেলে এক পুলিশ সদস্য মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর দেখলাম ছাত্রদলের এক নেতা, ক্যামেরায় বন্দি রয়েছেন, এসে পুলিশকে পিটাচ্ছেন। এমনভাবে পিটিয়েছেন, তারপর চাপাতি দিয়ে তার মাথা খণ্ডিত করা হয়েছে। এভাবে নৃশংস বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড আপনারা খুব কম দেখেছেন।

হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে ডার্মস্টাডকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন

বুন্দেসলিগায় গোল উৎসব করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। শনিবার রাতে হ্যারি কেনের হ্যাটট্রিকে এসভি ডার্মস্টাডকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে ম্যাচের সবগুলো গোল হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।
ম্যাচে কার্ডের ছড়াছড়ি ছিল ব্যাপক। রেফারিকে লাল কার্ড দেখাতে হয়েছে তিনবার। বায়ার্নের একজন এবং ডার্মস্টাডের দুইজন লাল কার্ড দেখেন। বায়ার্নের জোসুয়া কিমিচ ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। ডার্মস্টাডের ক্লাউস ২১ মিনিটে এবং ম্যাগলিকাকে ৪১ মিনিটে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
তবে এ সব লাল কার্ডের আলোচনা ছাপিয়ে গেছে ম্যানুয়েল নয়্যারের ফিরে আসা। ৩৭ বছর বয়সী নয়্যার গত বিশ্বকাপে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। এ ম্যাচের মাঝ দিয়ে আবার পোস্টে দাঁড়ালেন নয়্যার।
বায়ার্ন প্রথম গোল পায় ৫১ মিনিটে। হ্যারি কেন করেন গোলটি। ৬৯ ও ৮৮ মিনিটে দুই গোল করে হ্যারি কেন হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। লেরয় সেন ও জামাল মুসিয়ালা জোড়া গোল করেন। থমাস মুলার এক গোল করে স্কোরশিটে নাম লেখান।
ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ থমাস টুখেল বলেন, প্রথমার্ধে এক পাগলাটে ম্যাচ হয়েছে। প্রথমার্ধের খেলায় অনেক ভুল ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সব ঠিক হয়েছে। এ সময়ে প্রতিপক্ষের তুলনায় আমাদের একজন বেশি খেলোয়াড় ছিল। আমরা অনেক সুযোগ পেয়েছি, সে সব কাজেও লাগিয়েছি। তবে ম্যাচটা যেভাবে শেষ হয়েছে তা কেউ প্রত্যাশা করেনি।

মিশরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত

মিশরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি মানুষ। শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ১৩২ কিলোমিটার (৮২ মাইল) উত্তরে একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে এমন হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।
খালিজ টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, বেহেরা গভর্নরেটের প্রধান মরুভূমির রাস্তায় একটি বাস ও কায়রোগামী বেশ কয়েকটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

রাষ্ট্র পরিচালিত আল-আহরাম সংবাদপত্র পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, একটি গাড়ি থেকে জ্বালানি তেল পড়ে যাওয়ার কারণে কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
আল আহরামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৯টি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি যাত্রীবাহী বাসসহ ছয়টি গাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। এতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন দগ্ধ হয়ে মারা গেছে।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ একদিন আগেই মহাসড়কে ঘন কুয়াশার বিষয়ে সতর্ক করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ওই সড়কটির দ্রুততম লেনে একটি লরি উল্টে পড়ে আছে। একটি বড় বাস ও একটি মিনিবাস আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
খবরে বলা হয়েছে, ভাঙাচোরা রাস্তা ও সিগন্যালের কারণে মিশরে প্রায়ই ঘটে এ ধরনের দুর্ঘটনা।
আরব-আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিশরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শুধু ২০২১ সালেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন সাত হাজার মানুষ।

গাজায় নিহত বেড়ে ৮ হাজার, ইন্টারনেট সেবা দেবেন মাস্ক

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিশু। এছাড়া এ বর্বর হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯ হাজার ৭৩৪ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল ৫৩টি গণহত্যা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধের মধ্যে থাকা গাজায় ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনি উপত্যকা। এমন অবস্থায় সেখানে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক জরুরি সংস্থাগুলোর জন্য ইন্টারনেট সেবা স্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্টারলিংকের কর্ণধার ইলন মাস্ক। তবে মাস্ককে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সব চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার গাজা উপত্যকায় তাদের বিমান ও স্থল হামলা বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বলেছে যে ইসরায়েল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পরে গাজায় তাদের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা ও অবরোধের কারণে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দা খাদ্য, পানি এবং ওষুধের সংকটে ভুগছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অবিলম্বে একটি মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। ১২০টি দেশ জর্ডানের এ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

অপরদিকে যুদ্ধে ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ১,৪০০ জনেই রয়েছে। হামাস ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের পর আর তেমন কোনো আক্রমণ করেনি।
এদিকে গাজার উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে তীব্র লড়াই হয়েছে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনির সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেডস।
সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলি সৈন্য ও ট্যাঙ্ক গাজায় প্রবেশ করলে উত্তর গাজার বেইত হানুন এবং মধ্য গাজার বুরেজের কাছে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় বলে হামাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে যে গাজা উপত্যকায় তাদের স্থল অভিযান চলছে, তাদের সামরিক বাহিনী যুদ্ধের পর্যায়ে অগ্রসর হচ্ছে। শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পদাতিক, সাঁজোয়া, প্রকৌশল এবং আর্টিলারি বাহিনী এ সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে। একইসাথে ইসরায়েলি বিমান থেকে ভারী গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।’

হরতালের নামে নৈরাজ্য করলে ব্যবস্থা : ডিএমপি কমিশনার

হরতালের নামে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে পুলিশ আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
পুলিশের উপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলা ও আজকের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাবিবুর রহমান বলেন, হরতাল একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। ঠিক তেমনি হরতাল পালন না করাও জনগণের একটি অধিকার। হরতালের নামে অনেক ধরনের নৈরাজ্য চালানো হয়ে থাকে। আগামীকাল (রোববার) একটি দল হরতাল আহ্বান করেছে। হরতালের নামে কেউ যদি মানুষের স্বাধীন চলাফেরায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে পুলিশ আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শান্তিপূর্ণ সমাবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিএনপি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, আইন অমান্যকারীদের ধিক্কার জানাচ্ছি। যেসব পুলিশ সদস্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত, আহত হয়েছেন, তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুষ্কর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যাতে সংগঠিত হতে না পারে, সে জন্য সর্বশক্তি দিয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শনিবার রাতে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জনগণের জানমাল এবং সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান বাংলাদেশ পুলিশের আইনি দায়িত্ব। পুলিশ জনগণকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাগরিকরা চলাফেরার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হলে বা আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে নিকটস্থ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

রাজধানীতে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

রোববার (২৯ অক্টোবর) সারাদেশে হরতাল ডেকেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। হরতালে জনসাধারণের নিরাপত্তায় শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাতেই রাজধানীতে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রমনায় এক, মতিঝিল দুই ও পল্টনে দুই প্লাটুন বিজিবি টহলে থাকবে। এছাড়া সচিবালয়ে দুই ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ পালন করে বিএনপি। এই সমাবেশ থেকে রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জানা গেছে, নয়াপল্টনে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার সারাদেশে হরতাল কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

বিএনপির পর একই দিন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকা হয়েছে।

এদিন মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এছাড়া সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও আহত হন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রোববারের সব পরীক্ষা স্থগিত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রোববারের (২৯ অক্টোবর) সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থগিত পরীক্ষাগুলোর পরিবর্তিত সময়সূচি পরে জানিয়ে দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

রোববার সারাদেশে আ.লীগের শান্তি সমাবেশ

আগামীকাল রোববার সারাদেশে শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেরকে কোনো ছাড় নাই। আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এদের এই নৈরাজ্যের হরতাল কেউ মানবে না। এই অস্ত্র ভোতা হয়ে গেছে। এই ভোতা অস্ত্রে কাজ হবে না। আমরা আগামীকাল মহানগর, থানা, জেলা, উপজেলা- সারা বাংলাদেশে শান্তি সমাবেশ করব।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই নেতা বলেন, আমি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে। আমরা শান্তি চাই। নির্বাচনে, নির্বাচনের পরেও শান্তি চাই।

কাদের বলেন, সন্ত্রাসীদের সাথে খেলার মতো খেলতে হবে। এদেরকে শিক্ষা দিয়ে দিতে হবে। এদের স্বভাব আয়নার মতো পরিষ্কার। এদেরকে আর ক্ষমা করা যায় না। এদের বাড়াবাড়ির জবাব আমরা দেবো।

আওয়ামী লীগের টানা তিনবারের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেখি, কাল থেকে কে আপনাদের পাশে দাঁড়ায়। দুর্বলের পাশে কেউ থাকে না। নেতারা পালায়, পিছে পিছে কর্মীরাও পালায়।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, খেলা হবে। ফখরুল কই? বিএনপি কোথায়? কোথায় গেছে? মহাযাত্রা এখন মহা মরণযাত্রা। বিএনপির মহাযাত্রা এখন মরণযাত্রা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেমি ফাইনাল সামনে। তারপরে ফাইনাল। নির্বাচনে ফাইনাল খেলা। খেলা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল আমাদের নেত্রী উদ্বোধন করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র টানেল নদীর তলদেশে। এই টানেলের শুভ উদ্বোধন করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই নেতা বলেন, জবাব দিতে হবে। আজকে একজন সজ্জন মানুষ, প্রধান বিচারপতি, তার বাড়িতে কারা হামলা করেছে? এদের বিরুদ্ধে খেলা হবে। পুলিশের উপর হামলা করেছে, একজন পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছে। এদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপি সন্ত্রাসী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কত নোংরা দল, খুনি দল, সন্ত্রাসী দল। পুরনো চেহারা আজকে জাতির সামনে তারা তুলে ধরেছে। এদের বিরুদ্ধে খেলা হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর সংঘর্ষের সময় চট্টগ্রাম ছিলেন। তিনি দুপুরে খাননি। দুশ্চিন্তা। এমনটা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেত্রী বলেছেন, দেখি ওরা কি করে।’